Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘লেখা’

আপনার কথা আর গুগলের “জিবোর্ড’ দিয়ে কিভাবে লিখবেন, সেটা দেখুন এই ভিডিওতে। সম্ভব আপনার পুরানো ফোনেও! বাংলায় কনটেন্ট লিখুন আর বাংলাকে নিয়ে যান তার উচ্চতায়। নিজের যোগ্য জায়গায়। শেয়ার করুন, অনেকেই জানতে চাচ্ছেন কিভাবে কাজ করতে হবে এই “জিবোর্ড” দিয়ে। টাইপিংএর যুগ শেষ হলো বলে!

বাংলা ভাষাভাষী অনেক হলেও সে হিসেবে বাংলা কনটেন্ট অনেক কম ইন্টারনেটে। আমি নিজে লেখালেখি করি অনেক কাল ধরে। ইংরেজিতে ‘ডিকটেশন’ দিয়ে লেখালিখির কাজ চললেও বাংলায় অনেকটা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিলাম অনেক কটা বছর।

তাই বলে যে চেষ্টা করিনি যে তা নয়। অনেকগুলো টুলের কোড দেখতাম বসে বসে – কি করে বানানো যায় বাংলার ‘টেক্সট টু স্পীচ’ <> ‘স্পীচ টু টেক্সট’ ইঞ্জিন। তবে, সবকিছুকে উড়িয়ে দিয়েছে গুগলের এই নতুন কীবোর্ড। এক কথায় অসাধারণ। মেশিন লার্নিংয়ের কায়-কারবার।

অনেকে বলেছিলেন – করবো কিভাবে? মানে, আমাদের ফোনে? তার উত্তরে এই ভিডিও। শেয়ার করুন, যাতে সবাই লিখতে পারেন মন খুলে। তৈরি করতে হবে অনেক অনেক বাংলা কনটেন্ট! টেক্কা দিতে হবে সবার সাথে। এই বাংলা নিয়ে!

Advertisements

Read Full Post »

You don’t have to burn books to destroy a culture. Just get people to stop reading them.

― Ray Bradbury

৯৬.

বই পড়তে ভালবাসি। অস্ফুট স্বরেই বললাম।

এ আবার নতুন কি? ভুরু কুঁচকে তাকালেন আপনি।

‘বই পড়তে ভালবাসে সবাই’, আপনার তড়িত্‍ জবাব, ‘ছোটবেলায় দেখতেন যদি আমাদের’।

বুঝলাম, ভুল হয়ে গেছে বাক্য গঠনে। বাকি পড়ে গেছে একটা শব্দ। যোগ করলাম সেটা।

৯৭.

হাউ এবাউট স্টার্টিং ওভার? এভরিওয়ান নীডস আ সেকেন্ড চান্স!

বই পড়তে ভালবাসি, এখনো।

মানি আপনার কথা। সত্যি কথা বলতে আমাদের জীবন জটিলতর হচ্ছে দিন দিন। বই পড়ার সময় কোথায়?

সত্যিই তাই। তবে সময় যে নেই এটা বললে ভুল হবে হয়তোবা।

মোবাইল ফোন আর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে আমি আপনি কতটা সময় দেই ধারণা আছে কি সেটার? পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ততম লোকটা কে বলুনতো? তার তো বই ধরারই কথা না।

৯৮.

১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০| তুষারপাত হচ্ছে। দিনটা বেশ ঠান্ডা। জন্ম নিলো উরসুলা টড, অ্যামবিলিক্যাল কর্ড গলায় পেঁচিয়ে। মারা গেলো সে অবস্থায়। গল্পটার শুরু এভাবে। কেইট অ্যাটকিনসনের ‘লাইফ আফটার লাইফ’ বইটা নিয়ে আটকে আছি কয়েকদিন ধরে। গতবছর ‘লাইফ অফ পাই’ বইটা পড়ে যা মজা পেয়েছি সেটা সিনেমা দিয়ে মেটানো যাবে কি? বইটার কথা যখন উঠলোই, সেটা নিয়ে আসছি সামনে।

তার আগে আসি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ধারা নিয়ে। আমার মুখচোরা ব্যাপারটা সার্বজনীন সাবলাইম ইনফো হলেও ঝামেলায় কম পড়িনি জীবনে। ইন্টারভিউয়ে দশ লাইনের প্রশ্নের উত্তর হয় এক পঞ্চমাংশ! আমার থাম্ব-রুল, আপাতত:| নতুন একটা গল্প ফাদি তাহলে।

৯৯.

ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময় একজন পত্রমিতা ছিলো আমার – সুদুর গ্রীস থেকে। সে তিন পাতা লিখলে আমার উত্তর এক পাতা। একবার উপহার পাঠালো বই একটা। অ্যামেরিকায় এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে গিয়েছিলো সে। মনে করে কয়েকটা বই নিয়ে এসেছে আমার জন্য। পাগলাটে ছিলো মেয়েটা। আমি পাগল ছিলাম কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর এখানে নয় বোধকরি।

টিপ্পনি কাটলো ফিরতি চিঠিতে।

‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নোট কই?

এটা আবার কি?

এই যে তোমার জন্য বই পাঠালাম একটা, এর ধন্যবাদনামা কই?

এটা সত্যি, আমি ভীষণ খুশি হয়েছিলাম বইটা পেয়ে। খুশি জানানোর কি আছে? তাও আবার লেখায়? পাগল নাকি? ও পাগল হলেও আমি তো নই আর।

লিখতে হয়, বুদ্ধু! না লিখলে সে জানবে কিভাবে?

তাই নাকি? আসলেই তো সত্যি। ওসময়ে ছিলো না টেলিফোনও। ছিলো হয়তোবা, কিন্তু আওতার বাইরে।

বই নিয়ে এসেছি তিনটা, তোমারই জন্য। পেতে চাও কিনা বলো?

পেতে চাই না মানে? তবে ভদ্রতা করলাম ওর সাথে। লিখতে লিখতেই অনেক ভদ্রতা শিখেছি এর মধ্যে। ওর থেকেই। ওকে আর সেটা হয়নি কখনো।

অন্য কাউকে দিয়ে দাও বরং! পোস্টেজ খরচ অনেক পড়বে তোমার। আগেরটার জন্য যে কতো খরচ করেছ সেটা জানালে না তো আর।

লাইনে এসেছো ভদ্রবাবু! ধন্যবাদ তোমাকে। তোমার জন্যই নিয়ে এসেছি এগুলো। অন্যকে দেয়া যাবে না। তবে পেতে চাইলে কষ্ট করতে হবে কিছুটা। রাজি?

আবারো ভদ্রতা করলাম কয়েকটা চিঠিতে। ব্যাক টু স্কয়ার ওয়ান! ‘কষ্টটা’ কিছুটা পরিস্কার হলো বরং। ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নোট লিখতে হবে প্রতিটার জন্য! কি যন্ত্রণা! পত্রমিতা না প্রিন্সিপাল? যন্ত্রণা হলেও উত্তর পাবার জন্য দিন গুনতাম এই আমিই।

ফিরে আসি ‘লাইফ অফ পাই’ বইটা নিয়ে। কিছুদিন আগে ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নোট একটা হস্তগত হলো – এক লোকের। লিখেছে এক লেখককে। লোকটা তার মেয়ের সাথে পড়েছে বইটা, অনেক ব্যস্ততার মধ্যে।

'থ্যাঙ্ক ইউ' নোট - ভালোই লিখেছে লোকটা ...

‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নোট – ভালোই লিখেছে লোকটা …

ব্যস্ততার মধ্যে বই না ধরতে পারলে মনে হয় লোকটার কথা। বন্ধ করি পিসিটা, ফোনটাকে রাখি হাতের নাগালের বাইরে। ফিরে আসি বইয়ে। মাথার কোথায় যেনো একটা ‘ইলুমিনেশন’ কাজ করে। এন্ডরফিনসের সরবরাহ বেড়ে যায় বোধহয়।

চারটা বই হস্তগত করেছি আপাতত।

এই ঈদের ছুটির জন্য। সৃষ্টিকর্তা মহান।

ঈদ মোবারক!

অক্টোবর, ১৭, ২০১৩; ঈদের পরের দিন

পুনশ্চ: অনেকেই জানতে চেয়েছেন ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নোটটার ব্যাপারে। ভুল হয়েছে আমারই, বলা উচিত ছিলো তখনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা লিখেছিলেন চিঠিটা, লাইফ অফ পাই’য়ের লেখক ইয়ান মার্টেলকে। মুগ্ধ হয়েই। গুনীজনকে কদর দিতে জুড়ি নেই মার্কিনীদের। ভাবানুবাদ জুড়ে দেয়া হলো সঙ্গে।

জনাব মার্টেল –

‘লাইফ অফ পাই’ বইটা শেষ করে উঠলাম এইমাত্র। মেয়েকে নিয়ে পড়েছি আমি। পশুপাখিকে নিয়ে গল্পগুলো আমাদের দুজনেরই খুবই পছন্দের।

আনন্দদায়ক বইটা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে আরো সুদৃঢ় করেছে। আরো মুগ্ধ হয়েছি গল্পটা বলার ক্ষমতা দেখে।

ধন্যবাদ আপনাকে।

সাক্ষরিত,

বারাক ওবামা

Read Full Post »

It is a truth universally acknowledged, that a single man in possession of a good fortune, must be in want of a wife.

— Jane Austen, Opening line of ‘Pride and Prejudice’ (1813)

৯০.

নোটবইটা বের করতে হলো আবার। অসমাপ্ত গল্পটা শেষ করতে নয়, বরং ওর প্রথম লাইনটা ধার করতে।

অন্যান্য দিনের মতো ঘুমুতে গেলাম একই সময়ে, এবার কালাসনিকভটা মাথার কাছে নিয়ে।

এবার বের করুন আপনার প্রথম লাইনটা। না থাকলে লেখুন একটা কিছু। কৌতুহলোদ্দিপক হলে ভালো। লেখার প্রথম লাইন নিয়ে যতো সমস্যা। সারাদিন মাথায় ঘুরতে থাকে আইডিয়া, শুধুমাত্র অফিস সময় ছাড়া। অফিস সময়ে কাজের চাপে সব যাই ভুলে। নাইন টু ফাইভ, টোটালি রাইটার্স ব্লক! অফিস থেকে সবাই যাবার পর ছটার পর থেকে আস্তে আস্তে খুলতে থাকে মাথা। তবে ওসময়ে লেখার মতো মাথায় থাকে না কিচ্ছু। বাসায় ফিরি নয়টায়। লিখতে বসি এগারটায়। বসতে গেলে চলে আসে হাজারো সমস্যা। পার্থিব সমস্যা। বাসার সমস্যা, পানির সমস্যা, কাল বাচ্চাদের স্কুলের সময়ের সমস্যা, ড্রাইভারের সমস্যা। উঠে যেতে হয় মিনিট কয়েক পর পর। ছোটবেলায় পড়তে বসলেই চলে আসতো হাজারো ঘুম, এখন লিখতে বসলেই আসে হাজারো সমস্যা। আর প্রথম লাইন বের করতে গেলে শুরু হয় মাথা ব্যথা।

৯১.

তবে হলফ করে বলতে পারি একটা কথা। প্রথম লাইনটা কখনো আসেনি লিখতে বসে। চড়ুই পাখির মতো আসে আর যায় – ওসময়ে। পুরোপুরি আসে না কখনো। আমার ধারনা, প্রথম লাইনটা আসে একবারে অসময়ে। চমত্কারভাবে। বাজারে গিয়েছি ছুটির দিনে, গড়গড় করে আসছে প্রথম দিকের লাইনগুলো। রিকশায় যাচ্ছি কোথাও, রাস্তা পার হচ্ছি, করছি গোছল, উঠছি সিড়ি বেয়ে, ঘুমানোর সময় চোখ বন্ধ হবার ঠিক আগের মুহুর্তে, টিভি দেখার সময়ে। প্রথম লাইন আসে সব উদ্ভট সময়ে। হাসপাতালে গিয়েছি – লাইনের অর্গল খুলে যায় ওসময়ে। আসল কথা হচ্ছে – হাতের কাছে লেখালিখির জিনিস না থাকলেই এসে হাজির হয় প্রথম লাইন। অনেক কষ্টে পেলেন না হয় কাগজ, কলম পাবেন না কখনো। আর কলম পেলেও সেটা লিখতে চাইবে না। আর সেকারণে হাজারো প্রথম লাইন হারিয়ে যায় সময়ের সাথে।

৯২.

লেখকদের কাগজ কলম রাখতে হবে সাথে – সবসময়। বাসার সব রুমে, গাড়িতে, শোবার ঘরে বিছানার পাশে। বাজারে গেলে কাগজ কলম রাখতে হবে পকেটে। ও আমার হয় না বলে মোবাইল হ্যান্ডসেটে রেখেছি ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোট’ অ্যাপ। কাগজ কলমের মতো যুতসই না হলেও শর্টহ্যান্ডে কিছু লেখালিখি রাখা যায়। ছোট নোটবই সাথে রাখতে পারলে মন্দ নয়। মনে করে রাখাটাই সমস্যা – আর আমার মতো মিনিটে মিনিটে হারানোর অভ্যাস থাকলে তো কথাই নেই। মিলিয়ন ডলারের আইডিয়া হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত! মিটিং ওয়ার্কসপে গিয়েছি – লিখেছি ন্যাপকিনে, পোস্ট-ইটে। পরে এসে টুকে নিয়েছি কম্পিউটারে।

৯৩.

মনে আছে কি এইমি বেন্ডারের কথা? ছোটগল্পের একটা চমত্কার সংকলন নিয়ে দুনিয়া মাতিয়েছিলেন উনিশশো আটানব্বইয়ের দিকে। ‘দ্য গার্ল ইন দ্য ফ্ল্যামাবল স্কার্ট’ ছোটগল্পের এই সংকলনের লেখিকা তার ছোটগল্প শুরু করেন সেই প্রথম লাইন দিয়েই। তার কথায় অনেক লাইনই কাজ করে না প্রথম লাইন হিসেবে, সেগুলো কার্যকর নয় হয়তোবা। তবে যে লাইনটা তার পরের লাইনগুলোকে এমনিতেই টেনে নিয়ে আসে সেগুলো নিয়ে কাজ করেন এইমি। অনেক সময় সেই প্রথম লাইনেই একটা চরিত্রের স্বর ফুটে ওঠে – ফলে প্রথম লাইন থেকে একটা চরিত্র বের করা অসম্ভব কিছু না।

৯৪.

শক্তিশালী প্রথম লাইন কিন্তু একজন লেখককে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠার লেখার অনুপ্রেরণা যোগায়। পাঠক যেভাবে পাতার পর পাতা উল্টাতে থাকে মনের কৌতুহল মেটানোর জন্য – তার থেকে বেশি শক্তি দরকার হয় লেখকের। আর সেকারণে প্রথম লাইনটা এতো গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি নাই বা আসে সেই প্রথম লাইনটা? বইয়ের দোকানে ঢু মারুন। বইগুলোর প্রথম লাইনগুলো লক্ষ্য করুন। প্রথম প্যারাগ্রাফটা পড়ুন। আইডিয়া আসতে বাধ্য। খবরের কাগজে অনেক গল্পের খোরাক থাকে। আমি নিজেই অনেক গল্পের প্লট পেয়েছি পুরনো খবরের পাতা থেকে। টিভির অ্যাডগুলো লক্ষ্য করুন, পাবেন সেখানে।

৯৫.

একটা সাবধানবাণী না দিলেই নয়। প্রথম লাইনটা গল্পের লিড দিলেও ওর ভালবাসায় পড়া যাবে না কিন্তু। অনেক সময় প্রথম লাইন দিয়ে শুরু করলেও পরে ওই লাইনটাকে ফেলে দিতে হতে পারে। গল্পের প্রয়োজনে প্রথম লাইনটা একটা সময়ে কাজে দিলেও পরে সেই গল্পেরই প্রয়োজনে পাল্টাতে হতে পারে। এটাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিতে হবে। আমি নিজেই পাল্টেছি প্রথম লাইনটাকে, অনেকবার। তবে শুরু করাটাই প্রথম লাইন জেনারেট করা থেকে অনেক কষ্টের।

শুরু তো করতে হবে কোথাও থেকে? কি বলেন?

Read Full Post »

They shoot the white girl first.

— Toni Morrison, Opening line of “Paradise” (1998)

৮৫.

কোথায় যেনো পড়েছিলাম বই পড়ুয়ারা নাকি মাছের মতো। মেজাজ গরম হলো তখনি। শেষ পর্যন্ত মাছ? টিউবলাইটই তো ভালো ছিলো। বন্ধুদের কাছে নামের কি শেষ আছে? সেদিন কে জানি দিলো নাম আরেকটা, এসএম। স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট? না, সাবমেরিন! সে গল্প আরেকদিন! তবে, বইই তো পড়ছি, কারো ক্ষতি তো করছি না। মাছের গবেষণায় বসলাম। ভুল বুঝেছি খামোকাই। বই পড়ুয়ারা সাদামাটা মাছ নয়, স্মার্ট মাছ। বলেছে আরেক স্মার্ট লেখিকা, কে এম ওয়েইল্যান্ড, আমার বই পড়ার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ‘গুডরিডে’র বন্ধু। বই পড়ুয়ারা ভালো ভাবেই জানেন লেখকদের। বড়শি নিয়ে বসে আছে সবাই। মানে সব লেখক। লেখকদের লেখা শেখার শুরুতে যে কয়েকটা বাজ্জওয়ার্ড জানতে হয় তার মধ্যে ‘হুক’ অন্যতম। বই মেলায় পড়ুয়াদের লক্ষ্য করেছেন কখনো?

৮৬.

মাছের কথায় আসি। স্মার্ট মাছ কিন্ত জানে লেখকরা বড়শিতে আদার লাগিয়ে বসে আছে তার বইয়ে। মাছটাকে ধরতেই হবে বইয়ের প্রথম কয়েক পাতায়। সেটার জন্য বড়শির সুতা কখন ছাড়বে আর টানবে সেখানেই লেখকের মুন্সীয়ানা। ‘হুক’ লাগানোর আগেই যদি আমরা যারা স্মার্ট মাছ বইটাকে ছেড়ে দেই সেখানে লেখকের ব্যর্থতা। স্মার্ট মাছ ধরা কিন্তু সহজ নয়। এই মাছ আসলে পড়েছে অনেক বই। প্রথম কয়েক পাতায় ‘হুক’টা ঠিকমতো না গাথলে ফসকে যাবার সম্ভাবনা বেশি। স্মার্ট লেখক তার ‘হুক’টাকে কিভাবে স্মার্ট মাছের গলায় আটকাবেন শক্ত করে সেটার গল্প আজ। ‘স্মার্ট’ মাছ বুঝতেই পারবেনা যে ও কখন পুরো ‘হুক’টা গিলে ফেলেছে – খেসারত দিতে হবে পুরো বইটা শেষ করে। তার মানে বইয়ের প্রথম কয়েক পাতায় পাঠকদের ধরে রাখার জন্য লেখক যে ছলচাতুরী করেন সেটার নামই ‘হুক’| অফিসিয়াল নাম কিন্তু।

৮৭.

লেখা শেখার প্রথম অস্ত্র, এই ‘হুক’ ব্যবহার করেই আমাদেরকে ধরাশায়ী করেন স্মার্ট লেখকেরা। প্রথম পাতাগুলোতে আমাদেরকে ‘হুক’ড না করা গেলে বইয়ের বাকি সময়ে সাঁতার কাটতে চাইবে না কেউই। পরের দিকের গল্প যতোই চমত্কার হোক না কেন, স্মার্ট মাছ ছুড়ে ফেলবে বই। এখানেও রয়েছে অনেক গবেষণা। আর এই ‘হুক’ আসে হাজার স্টাইলে, হাজার রকমের ফর্মে। তবে, সবকিছুর পেছনে থাকে একটাই ষড়যন্ত্র। মিনিম্যালিস্ট ভার্সনে বলতে গেলে লেখক স্মার্ট মাছকে কৌতুহলী করে তোলে ওই প্রথম কয়েক পাতায়। অথবা, প্রথম লাইনেই। বলেন কি? কিউরিসিটি কিল্ড দ্য ক্যাট। পিরিয়ড। মাছ আদার খাবে কেন, কৌতুহলী না হলে? সবাই কি বেকুব আমার মতো? কিছু না পেলে কাগজের ঠোঙ্গাও পড়ে।

৮৮.

জামার পেছনে হাত পড়তেই ভেজা ভেজা লাগলো শীলার। শিউরে উঠলো সে।

নোটবইয়ের একটা অসমাপ্ত গল্পের প্রথম দুটো লাইন তুলে দিলাম এখানে। পাঠকদের এটা কৌতুহলী করে তুলবে কি? সেটা আপনারাই বলবেন ভাল করে। স্মার্ট মাছের মতো চিন্তা করলে অনেক কিছুই হতে পারে এখানে। শীলা, ও আবার কে? ওর জামাটা কেনই বা ভেজা? কিভাবে ভিজলো? কোথায় ভিজেছে ওর? বৃষ্টির পানি? শিউরে ওঠার কি আছে? না কি আবার রক্ত? রক্ত আসলো কোথা থেকে? পাঠকের কৌতুহলী হবার বেশ কিছু এলিমেন্ট আছে এখানে। আচ্ছা, আরেকটা ছোট গল্পের ওপেনিং লাইন হিসেবে কোনটা পছন্দ আপনার?

তুমি কি ভালোবাসো আমাকে? মেয়েটার প্রশ্ন।

অথবা

‘তুমি কি’ মেয়েটার অস্ফুট স্বর, ‘ভালোবাসো আমাকে?’

৮৯.

আমার ধারনায় ছোটবেলার সবচেয়ে মোটা বইটা হাতে নিয়েছিলাম সেই কৌতুহলের বসে। মোটা বইগুলোর মধ্যে এই সাতশো পাতার ওজনদার বইটা আমাকে দমাতে পারেনি – ওই প্রথম লাইনটার জন্য। দুর্দান্ত! মার্কিন সাহিত্যে অমর হয়ে আছে বইটা অনেক কিছুর জন্য। আমার মতো বেকুব মাছদের কাছে কিন্তু ওই প্রথম লাইনটার জন্য।

কল মি ইসমাইল।*

* আসল উচ্চারণ, ইসমেল। ‘আমার নাম ইসমেল’ দিয়ে শুরু করলে কি ওরকম লাগতো? প্রথম প্যারাগ্রাফটা আজ না পড়ে যাবেন না কোথাও। ভয়ঙ্করভাবে সুন্দর! ইসমেলের পুরো চরিত্রটা ফুটে এসেছে ওই প্যারাগ্রাফে। সাগর ওকে কেন ডাকে? সেটার উত্তরও ওখানে।

Read Full Post »

“A photograph is a secret about a secret. The more it tells you the less you know.”

— Diane Arbus

১৩.

ভবিষ্যত গ্রোথ দেখাতে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনকে দেখিয়ে দেয় সবাই। অন্যদের বাড়ার সুযোগ নেই বললে ভুল হবে, বরং আমাদের বাড়ার সম্ভাবনা অন্যদের থেকে অনেক অনেক বেশি। অন্যরা গ্রো করেছে আগেই ফলে আমাদের সুযোগ বেড়েছে। আগে গ্রো করিনি বলে আর্লি মুভার্স অ্যাডভান্টেজ না পেলেও অন্যের জ্ঞান নিয়ে আগানো সহজ। উন্নত দেশগুলো যে জিনিসগুলো ঠেকে শিখেছে বা সময় নিয়ে শিখেছে – সেতুলনায় আমাদের ভাগ্য ভালই বলতে হবে। অন্যদের ভুল আর সময় ক্ষেপণ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের বেড়ে ওঠার সময় কমিয়ে নিয়ে আশা সম্ভব। উন্নতদেশের মতো কাঠামোগত সুবিধা আমাদের না থাকলেও আমাদের বিভাজন কমছে দ্রুত। বিভাজন কমাবে তথ্য আর সে থেকে আহরিত জ্ঞান, নতুন ধরনের যুদ্ধ, যে আগে আহরণ করতে পারবে জ্ঞান তার মুঠোয় সবকিছু। সেই জ্ঞান দিচ্ছে ইন্টারনেট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসে ইন্টারনেটে যে তথ্য পাবেন তা পাওয়া যাচ্ছে আমাদের গ্রামেও। জ্ঞানের সমানাধিকারের নিয়ে চলছে কাজ। মাঝখানে ‘নেট নিউত্রালিটি’ নিয়ে কিছু বড় বড় টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লবি করছিলো এর বিপক্ষে। তাদের যুক্তি হচ্ছে – যতো ফেলবেন কড়ি ততো কনটেন্ট বা ওয়েবসাইট। মানে স্যাটেলাইট চ্যানেলের মতো। টাকা তিনশো, যেমন আমি – পাই চল্লিশ চ্যানেল। ভাগ্যবানরা পান দুশো, বেশি টাকা দেন বলে। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো মনে হচ্ছে। বর্তমান ইন্টারনেটে যতো কম টাকায় প্যাকেজ হোক না কেন সব সাইটে অধিকার রাখেন যাবার। ভবিষ্যত খুব একটা সুমধুর যে তাও বলা যাচ্ছে না এখুনি। কনটেন্ট কোম্পানি টাকা বানাচ্ছে মাথা খাটিয়ে, টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলোর নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর সময় নেই আর। ক্যারিয়ারগুলোর পাইপ বেচার সময় শেষ, টাকা সব কনটেন্টের ভেতর।

১৪.

বড় উড়ুক্কু যন্ত্রটা ভিজলো তো ভিজলোই – তা আবার বার্সেলোনাতে। এ-থ্রিএইটির মেইডেন ফ্লাইট নামছে এই এয়ারপোর্টে। মাফ করবেন আমার এ-থ্রিএইটির প্রীতি দেখে। ম্যানুয়াল যতো ঘাঁটি এর ততই অবাক হই এর স্বয়ংক্রিয় ন্যাভিগেশনের বিস্তৃতি দেথে। পাইলট না হলে কি এর ব্যাপারে জানতে নেই নাকি? তেইশটা ফ্লাইট চালায় এমিরেটস একাই – ঢাকায়। তাদের অপারেটিং কস্ট কমিয়ে নিয়ে আসা যাবে এক তৃতীয়াংশে, মাত্র আটটা এ-থ্রিএইটি দিয়ে। কম দূরুত্বে আসবে কি দানব পাখিটা? বলেন কি? চায়না সাদার্ন এ-থ্রিএইটি চালায় সাংহাই থেকে গুয়াংঝো, দু ঘন্টার ফ্লাইট। হংকং থেকে ব্যাংকক, থাই এয়ারওয়েজ আর এমিরেটস। সমস্যা অন্যখানে। আরেকদিন কথা বলা যাবে এটা নিয়ে। ফিরে যাই বার্সেলোনাতে। এমিরেটস এরুটে প্রতিদিন একটা এ-থ্রীথার্টির ফ্লাইট চালালেও মোবাইল ওয়ার্ল্ড কনগ্রেসে যাবার শেষ কানেক্টিং ফ্লাইটে বড়টা না দিয়ে যাবে কোথায়? ওকে ব্যবস্যা করে খেতে হবে না নাকি? ষাট থেকে আশি হাজার মানুষের মিলনস্থল হচ্ছে গিয়ে মোবাইল ওয়ার্ল্ড কনগ্রেস, জিএসএমএর মেগা অনুষ্ঠান। অনুমানের ভিত্তিতে টিকেট কাটলেও শেষ ফ্লাইটটা যে এ-থ্রিএইটি দিয়ে দেবে তার জন্য আলাদা প্রেডিকশন ক্ষমতা লাগে না। বিজনেস ডিসিশন। এ-থ্রিএইটিটা ট্যাক্সিওয়ে ছেড়ে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জের দিকে ঘুরতে ঘুরতেই দুটো বিশাল ওয়াটার ক্যানন শত গ্যালন পানি ছিটিয়ে বরণ করে নিলো পাখিটাকে। শাম্পেইনের বোতল খুলে আর বেলুন উড়িয়ে মেইডেন ফ্লাইটের পুরো অনুষ্ঠানটা দেখা গেলো এয়ারক্রাফটের ফ্রন্ট আর বেলি ক্যামেরা দিয়ে – এর ভেতরে বসেই। পাখিটার পেট থেকে বেরুতেই শেষ বিকেলের আলোয় সদ্যস্নাত জিনিসটা ঝিকমিক করে উঠলো। মানুষ বানায় কিভাবে এতবড় যন্ত্র? আমরা পারবো কবে? ল্যাপেল পিনটার ছবিটাও পোস্ট করতে হবে নাকি?

১৫.

মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে এবছরের সবসেরা মোবাইল এপ্লিকেশন ‘ওয়েজ’ নজর কেড়েছিল অনেকের মতো আমারো। হাজারো এপ্লিকেশনের মধ্যে ড্রপবক্স আর ফ্লিপবোর্ডকে পেছনে ফেলে প্রথম সারিতে আসার পেছনে কাজ করছে ক্রাউডসৌর্সিংএর মতো শক্তিশালী ‘বাজওয়ার্ড’| কোটি মানুষের প্রতি সেকেন্ড ইনপুটের উপর ভিত্তি করে ‘ওয়েজ’ এপ্লিকেশনটা একটা জীবন্ত সোশ্যাল জিপিএস নেটওয়ার্ক। রাস্তার মোড়ে মোড়ে নিখুত আর রিয়েলটাইম স্টেটাস আপডেট ইনপুটের উপরে ভিত্তি করে একজন চালক প্রায় চোখ বন্ধই করে চালাতে পারবেন গাড়ি। মানুষের আসল ফিডব্যাকের উপর নির্ভর করে এর বিগ ডাটা দামী হয়ে গেছে এতটাই যে গুগল একে কিনে নিয়েছে একশো তিরিশ কোটি ডলারে। ফেইসবুক ফেল! কোন রাস্তায় জ্যাম আর কোনটায় দুর্ঘটনা ঘটেছে সব আপডেট পাচ্ছেন সেকেন্ডের মধ্যে। সাধারণ জিপিএস এপ্লিকেশন থেকে এটা এতটাই চমত্কার যে চোদ্দটা দেশের পুরো বেজ ম্যাপ তাদের হাতের মুঠোয়। রোড ট্র্যাপ আর পুলিশ ওত পেতে রয়েছে কোথায় তাও পাবেন এখানে। সস্তায় পেট্রল পাম্প কোন মোড়ে তার আপডেট না পেলে মানুষ এটা ব্যবহার করবেই বা কেন? আপনার গাড়ির গতি আর তার অবস্থান তথ্য থেকে বের করে নেবে আপনার প্রয়োজন মাফিক আউটপুট। মানুষ সম্মিলিতভাবে এই ক্রাউডসৌর্সিং দিয়ে [আগের পোস্টগুলো পড়ুন] কতো দামী তথ্যভান্ডার তৈরী করতে পারে তা বোঝাতে আর কষ্ট করবো না আজ আর। আর ভবিষ্যত এখানেই। আমাদের বাংলাদেশেই রয়েছে তিন কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যা অনেক দেশের জনগনের মোট সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের গ্রোথ আসবে না তো আসবে কার? ক্রিটিক্যাল মাসের কাছাকাছি পৌছে গেছি আমরা, সত্যি! আমাদের ক্রাউডসৌর্সিং এপ্লিকেশন আসছে কবে? আর বিগ ডাটা, সেটা তো আছে আমাদেরই কাছে।

তৈরী করবেন নাকি কিছু? লাগবে সাহায্য?

Read Full Post »

“The mind is the limit. As long as the mind can envision the fact that you can do something, you can do it, as long as you really believe 100 percent.”

Arnold Schwarzenegger

“There is no passion to be found playing small – in settling for a life that is less than the one you are capable of living.”

Nelson Mandela

১৭.

অফিসের নতুন লোক নিয়োগ প্রক্রিয়াতে সংযুক্ত থাকতে হয়েছিলো কিছুদিন আগে। টেলিকম আর কম্পিউটার প্রকৌশলীদের ইন্টারভিউ নেবার সময় মনটা ভার হয়ে উঠছিলো কিছুক্ষণ পর পরই। চটপটে ছেলেমেয়েগুলো পারছে না কথা বলতে। অসীম সম্ভাবনার সামনে এসে গুটিয়ে নিচ্ছে নিজেকে। বিশ বছরের সরকারী চাকুরীর অভিজ্ঞতায় আমাদের এই জিনিসটা মিস করছি অনেকদিন ধরে। সদ্য উনিভার্সিটি পাস করা যে ছেলেমেয়েগুলো ইন্টারভিউ দেবার জন্য আসছে তাদের প্রায় সবারই আস্থা, প্রত্যয় বা সংকল্পের অভাব ধরা পড়ছে বার বার – প্রকটভাবে। প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলেও আটকে যাচ্ছে বার বার। তার জন্য দেয়া দশ মিনিটে তাকে ‘সেল’ করার কোনো ধারণা না থাকার কারণে চুপ করে থাকছে বসে – তার জীবনের ‘প্রিমিয়াম’ সেগমেন্টে। শারীরিক ভাষা থেকে উত্তরটা জানে বলে [আমি] বুঝতে পারলেও বলছে না – আস্থার ওভাবে। ওই বয়সে একই সমস্যা ছিলো আমারও। ক্যাডেট কলেজের হাজারো এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটি পার করলেও ‘বিগ পিকচার’ পাবার সেই প্রশিক্ষণ ছিলো না আমার। যেকোনো জিনিসকে তার ছোট গন্ডির মতো করে না মেপে বড় পরিসর থেকে চিন্তা করলে সবকিছুই মনে হবে অন্য রকম। এই বড় করে চিন্তা না করতে পারাটা আমাদেরকে পিছনে ফেলে দিচ্ছে অন্য দেশগুলো থেকে। এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে আমাদের অংশগ্রহণ সে কারণে অন্যদের থেকে অনেক কম। পৃথিবী জয় করার মানসিকতা আসতে হবে ছোট বেলা থেকে। সংকল্প তৈরী করার কারখানা হতে হবে স্কুলগুলোকে। মানসিকভাবে পৃথিবীকে অধিগ্রহণ করার প্রত্যয় তৈরী করে দিতে হবে এই সময় থেকে। প্রতিমাসে দেশের সফল মানুষগুলোকে মুখোমুখি করতে করতে হবে ক্লাসরুমে – সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। মাসে এক ঘন্টা। রাজি আছি আমি – বিনামূল্যে। আপনি?

১৮.

গ্রামীণফোন আর প্রথমআলোর উদ্যোগে ‘ইন্টারনেট উত্সবের’ প্রোগ্রামের প্রথম দিকে যুক্ত থাকার কারণে এধরনের একটা উপলব্ধি এসেছিলো। আসলে, সেটা মনে দাগ কেটে গিয়েছিলো – গভীরভাবে। প্রতিযোগিতাটা ছিলো খুবই সহজ। আপনার প্রশ্নের উত্তর ফোনের ইন্টারনেট ঘেঁটে বের করতে হবে – সবচেয়ে কম সময়ে। মোবাইল অপেরা ব্রাউজার পার্টনার থাকাতে এটার লোকালাইজড ভার্সন দিচ্ছিল বিনামূল্যে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শতাধিক স্কুল থেকে হাজারো ছাত্রদের মধ্যে পঞ্চাশ রত্নকে ছেঁকে তাঁরা নিয়ে এসেছিলেন ঢাকার গ্রামীণফোনের কর্পোরেট হেডকোয়ার্টার – জিপিহাউজে। আমি সেই পঞ্চাশ রত্নের মুখের ভাষা পড়ার চেষ্টা করছিলাম – নতুন পরিবেশে। আস্থা, সংকল্প আর প্রত্যয়ে টইটুম্বুর সবাই, বিশ্বজয়ে প্রস্তুত সবাই। পরিবেশটার প্রতিটা ইট ইন্ফিউজ করেছে সবাইকে। আবার, সেই হাজার হাজার ছাত্র যারা পারেনি আসতে – তারা শিখে নিয়েছে ইন্টারনেটের ক্ষমতায়নের কথা। জিপিহাউসের সেই কয়েকদিন ওয়ার্কশপ পাল্টে দিয়েছে তাদেরকে – সারা জীবনের জন্য। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সেই বালক বা বালিকা প্রতিযোগিতার পর তার নিজ নিজ গ্রামে ফিরে গেলেও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থান তাকে দমাতে পারবে না আগের মতো। মনে মনে সেই হাউজের চাকুরিরত অন্যান্য চৌকস মানুষগুলোর সাথে তুলনা করে ফেলেছে সে – এই ভাবনাটা কি কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে তাদের কাছ থেকে – এভার! এখন বসে আছে সময়ের অপেক্ষায় – স্লীপার এজেন্টদের মতো। ভালো রেজাল্ট, ভালো কলেজে ভর্তি হবার জন্য। তারা দেখেছে বিজয়ীরা কিভাবে গিয়েছে টেলিনর আর অপেরার নরওয়েজিয়ান হেডকোয়ার্টারে। কঠোর মানসিক প্রশিক্ষণের মধ্যে তৈরী হচ্ছে ওরা – বিশ্বজয়ে। আর না হলে, সেই হাউজে, চাকুরী নিয়ে – প্রত্যয়ের হাতছানিতে। বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিন এই পঞ্চাশ রত্নের – দশ বছর পর! এর মধ্যে পুরে যাবে ইন্টারনেটের ‘ক্রিটিকাল মাস’এর প্রয়োজনীয় প্যারামিটার।

১৯.

নতুন বইটা নেড়েচেড়ে দেখছিলাম। আমাদের ক্যাডেট কলেজের এক বড় ভাই রেকমেন্ড করেছিলেন বলে সুদূর আমেরিকা থেকে আনানো। লেখা হয়েছে অবশ্যি – উনিশশো উনষাট সালে। বই পড়ার ব্যাপারে আমার একটা বদঅভ্যাস হচ্ছে ডেডিকেশন আর মুখবন্ধ পড়ে কয়েকদিনের জন্য ফেলে রাখা। আমার ধারণা (ভুল হবার সম্ভাবনা শতভাগ) জনপ্রিয় লেখকরা প্রায় সবাই গল্প দিয়ে শুরু করেন মুখবন্ধ। সেখানে তার বইটা লেখার মোটিভেশনের কথা আসে চলে। সেটা মাথায় জমতে দেই কয়েকদিন ধরে। টিউবলাইট ইফেক্ট বলতে পারেন অনেকটা। আর, স্টোরিটেলিং এর ক্ষমতা উপেক্ষা করা অসম্ভব। ‘দ্য ম্যাজিক অফ থিঙ্কিং বিগ’ বইটার শুরুর গল্প মনে ধরেছে আমার। লেখক বইটা লেখার কয়েক বছর আগে একটা সেলস মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। সেই সভার ব্যাপারে খুবই উদ্দীপিত মনে হচ্ছিলো কোম্পানিটির মার্কেটিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্টকে। কিছু একটা মেসেজ দিতে চাচ্ছিলেন তিনি – সবাইকে। একজন ‘সাধারণ চেহারার’ সেলস রেপ্রিজেন্টেটিভ দাড়িয়েছিলেন তার সাথে – স্টেজে। কারণ, সেবছর কোম্পানিতে ষাট হাজার ডলার এনে দিয়েছিলেন উনি। অন্য রেপ্রিজেন্টেটিভদের গড়পরতা বাত্সরিক আয় বারো হাজার ডলারের কাছাকাছি।

২০.

অন্য রেপ্রিজেন্টেটিভদের হ্যারির (স্টেজের সেই সাধারণ চেহারার রেপ্রিজেন্টেটিভের নাম) সাথে তুলনা করতে বলছিলেন সেই ভাইস প্রেসিডেন্ট। সবার এমন কি নেই যেটা আছে হ্যারির কাছে? তার পাঁচগুন আয়ের রহস্যটা জানতে চাইলেন সবার কাছে। ও কি সবার থেকে পাঁচগুণ চালাক? বরং কোম্পানির পরীক্ষায় দেখা গেছে সে মধ্যমানের বুদ্ধিমান। ও কি তাহলে সবার থেকে কাজ করেছে বেশি? কোম্পানির হিসেবে ও বরং ছুটি নিয়েছে বেশি – অন্য সবার থেকে। হ্যারির সেলসের জায়গাটা কি অন্যদের থেকে ভালো। তাও নয়। ওর কি পড়াশোনার ডিগ্রী বেশি? না। স্বাস্থ্যও ভালো নয় অতটা। তবে অন্য সবার থেকে একটা জায়গায় আলাদা এই হ্যারি। হ্যারি অন্য সবার থেকে পাঁচগুন বড় করে চিন্তা করতে পারে। তারপর সেই ভাইস প্রেসিডেন্ট দেখালেন কিভাবে সফলতা মগজের আয়তনের উপর নির্ভর না করে তা করে বড় করে চিন্তা করার আয়তনের উপর। মানুষের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তার চিন্তা করার পরিধিটা। যার পরিধি যতো বড় সে উঠে গেছে ততো উপরে। বড় করে চিন্তা করলেই যদি সফলতা আসে তাহলে সবাই সেটা পারছেনা কেনো? মানুষ মাত্রই তার পারিপার্শ্বিক থেকে তার চিন্তা করার ক্ষমতা তৈরী করে বলে সে সেটার মধ্যে হয়ে পড়ে সীমাবদ্ধ। আর সেই চিন্তাটা সহজাত কারণে বের হতে পারে না সেই ছোট গন্ডি থেকে। আবার আমাদের ছোট পারিপার্শ্বিক অবস্থাই আটকে রাখছে ছোট চিন্তায়। ভেবেই হচ্ছি নাকাল – এতো সফল মানুষের মধ্যে পাওয়া কি যাবে জায়গা? প্রথম ক্যাটাগরিতে হাজার মানুষের আনাগোনা, দিতে পারবো তো টেক্কা? বরং আসল গল্প হচ্ছে আমরাই পড়ে আছি দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে – কোটি মানুষের ভিড়ে। বড় চিন্তা করার ভয়ে মানুষ পড়ে থাকে নিচে। আচ্ছা, বলুনতো – পাঁচ লক্ষ টাকার উপর আয় করে কজন? সেই সাথে বিশ হাজার টাকার নিচে? অনেক এইচআর ম্যানেজারের সাথে পরিচয় থাকাতে এব্যাপারটা আমার কাছে পানির মতো পরিস্কার। অনেকে আমাকে তাদের উপরের ম্যানেজমেন্টের জন্য লোকদের নাম দিতে বলেন – হাতড়ে বেড়াই আমিও, তাদের সাথে। উপযুক্ত মানুষ কম। বেশিরভাগ মানুষ বড় করে চিন্তা করতে পান ভয়, আছি যেখানে – আছি ভালইতো। এর মাঝেই আছে ‘ব্লু ওশান’!

আরেকটা বইয়ের কথা বললাম না তো?

Read Full Post »

“The idea that the future is unpredictable is undermined every day by the ease with which the past is explained.”

― Daniel Kahneman, Thinking, Fast and Slow

“I may be surprised. But I don’t think I will be.”

― Andrew Strauss

১.

আগে অবাক হতাম, এখন ছেড়ে দিয়েছি অনেক কিছুই। অবাক হবার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে হয়তোবা। ধরুন, লিখছি একটা বিষয় নিয়ে – অনেকের মতো রিসার্চের জন্য সাহায্য নিতে হয় গুগলের। পিএইচপি দিয়ে তৈরী করা সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করছিলাম বহুবছর আগে – তাও আবার একটা অফিসেরই ভেতরে। আমার পালা দুটো স্পাইডার (ক্রলারও বলেন অনেকে) ইনডেক্সিং করতো অফিস ডকুমেন্টগুলো – সারাদিন ধরে। সেই আদি ধারণা থেকে গুগলের সার্চ আলগরিদম আন্দাজ করা কষ্টকর তো বটে। কাজের সুবিধার জন্য আমার সার্চ প্যাটার্ন (যা সার্চ করেছি এপর্যন্ত, দশ বছর হবে কি?) গুগলকে রাখতে বলেছি মনে, আর তার ফলাফল ভয়াবহ। এর মধ্যে ‘গুগল ইনস্ট্যান্ট’ আগুনে ঢেলেছে ঘি। ইনস্ট্যান্ট সার্ভিসটা কোটি মানুষের ‘সার্চ ফ্রেজ’ মানে যে বাক্য দিয়ে মানুষ সচরাচর কিছু একটা খোজে তা মুখস্ত করে বসে বসে। আবার আপনি সার্চ করার মুহুর্তে ভবিষ্যদ্বাণী করার মতো লিখে দেয় আগেই। আপনি সার্চ করার বাক্যের প্রথম শব্দটা কোনো রকমে লিখলেই হলো। আপনার আশেপাশের লোকজন এধরনের কিওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকলে তার প্রস্তাবনার লিস্টি সহ আপনার কাছে উপস্থিত করবে গুগল। সেদিন ষ্টারমুভিজে ‘মিরর মিরর’ মুভিটা দেখার পরপরই গুগলে মিররের শুধুমাত্র ‘এমআইআর’ লিখতেই পুরো মুভিটার সাজেশনই নয় – তার ডান পাশের স্নিপেটে চলে এলো এর পুরো মুভির আদ্যপান্ত। কনটেক্সট ও ছাড়া ভালো কে বুঝবে? গুগলের কথা বলছি। দশ বছরের ব্যবহৃত সার্চ টার্ম ও জানে বলে আমার খোজার ফলাফলকে ন্যারো ডাউন করে নিয়ে এসেছে আমার চাহিদার উপর ভিত্তি করে।

২.

অবাক হবার কিছু নেই। ধারণা করছি, ওই সময়ে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নে ষ্টারমুভিজ সিনেমাটা ব্রডকাস্ট করছিলো বলে অনেকেই মুভিটা সমন্ধে জানতে চেয়েছে গুগলের কাছে। তার একদিন আগে মেয়ের জন্য জিমেইলে ‘স্নোহোয়াইট’ সম্পর্কিত কিছু ইমেইল চালাচলি করেছিলাম হয়তোবা। আমার দশ বছরের সার্চ প্যাটার্ন গুগল মনে রাখাতে তার সাজেশন এতটাই টার্গেটেড হয় তা দেখলে অবাক না হবার জো নেই। ও আমাকে চেনে আমার থেকে বেশি। বেশি অবাক হলে কাজে সমস্যা হয় বলে ছেড়ে দিয়েছি ইদানিং। আমার সব লেখালিখির জিনিসপত্র গুগলের বিভিন্ন সার্ভিসে থাকার কারণে এটা কতোটা নিখুঁত হয় তা আপনার অজানা নয় আপনার। ফ্লাইট ডিটেলস আর স্টক মার্কেট? বাংলা টাইপিং এর জন্য গুগল ইনপুট টুলস ব্যবহার করাতে ইংরেজিতে একটা বাংলা শব্দ লেখা শুরু করতেই যা সাজেশন দেয়া শুরু করে তা ইর্ষনীয় বটে। এই টুল যতই ব্যবহার করছি, আরো স্মার্ট হচ্ছে দিনকে দিন – আমার লেখার (মানে ইনপুটের) ভিত্তিতে। আমি যে শব্দটা যেই ইংরেজি শব্দে লিখেছি আগে, মনে রেখে দেয় টুলটা। অনেকটা টেক্সট তো স্পীচ সফটওয়্যারের ট্রেনিং পিরিয়ডের মতো। মানে, নিজের চোখে দেখছি মেশিন লার্নিং। আর ইংরেজি শব্দ এমন ভাবে বাংলায় ম্যাপিং করেছে তার জন্য নিজেকে দেখতে হবে চেখে। ইংরেজি বানানে কোনো কিছু লেখলে তার সরাসরি বাংলা উচ্চারণ ছাড়াও অভিধানের কাজ করছে সময় সময়। যেমন, ইংরেজিতে ‘আমেরিকান’ শব্দটা লেখতেই ‘মার্কিন’ শব্দটা বের করে দিচ্ছে বাংলায়।

৩.

বই পড়ার সময় পাতায় পাতায় দরকারী লাইনে দাগানো আমার ছোট বেলার অভ্যাস। আমাজনের কিন্ডল এ কেনা সব বইয়ে পৃথিবীর বাকি পাঠকদের হাইলাইটগুলোর অংশ দেখে বুঝতে পারি আমার ফারাকটা। পিসিতে কাজ করার পর মোবাইল ফোনে কাজ করতে গেলে অবাক হবার চেষ্টা করি – ও আমার সব বদ অভ্যাসগুলো রেখেছে মনে। ফোনটা [নয় সালের] পুরোনো হলেও এন্ড্রয়েডের সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেমে নতুনভাবে ইনস্টল করতেই পুরোনো সব সেটিংস, ফোনবুক এন্ট্রি, গুগলের কোন কোন সার্ভিস ব্যবহার করছিলাম তার সকল যোগসূত্র, কি কি এপ্লিকেশন ইনস্টল করেছিলাম তা নিমিষেই নিয়ে আসলো গুগল ক্লাউড থেকে। মানে, গুগল জানে সবকিছু! আমার প্রিয় রংটাও। ‘গুগল কীপ’ [ড্রাইভের অংশ] সাহায্য করছে পরের বইটা লেখার ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে।

৪.

‘পার্সোনালাইজেশন’ কাকে বলে সেটা দেখতে যেতে হবে আমাজনের সাইটে। প্রতিদিন প্রায় বিভিন্ন জিনিসের জন্য ওখানে ঢু মারার ফলে আমাকে চিনে গেছে বন্ধুদের থেকে বেশি। আমার কেনাকাটার রেকর্ড আর তার ব্রাউজিং রেকর্ড ঘেঁটে যা রেকমেন্ডেশন তৈরী করে তা ইর্ষনীয়। না কিনে যাবেন কোথায়? ওই জিনিষটা যারা কিনেছেন উনারাই আর কি কি কিনেছেন তার প্রস্তাবনা দিচ্ছে পাশেপাশে। আবার আমার কেনাকাটার রেকর্ড দেখে অন্যেরা প্রভাবিত হলে তারা কি কিনেছেন তাও দেয়া আছে পাশে। বিশেষ দিনগুলোতে কি কি কিনেছেন সেটা মনে রাখবে বছর ধরে। পরের বছর নতুন কিছু মনে করিয়ে দিতে পিছুপা হবে না সে। কুকি দিয়ে ট্রাক করছে আমার ব্রাউজিং হিস্ট্রি, আমার একান্ত গোপনীয় জিনিসও জানে সে। তবে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো আমাকে কখনো জানাবে না কি কি জানে সে আমার ব্যাপারে।

৫.

দোকানের জানালা পার হতেই পাঞ্জাবিটা পরলো চোখে। মনেও ধরলো আপনার। দামটাই মনকে সায় দিলো না বরং। হাঁটতে শুরু করলেন আগের মতো। আপনি হয়তোবা জানেন না যে জানালাতে লাগানো ওয়াইফাই সেন্সর আপনার স্মার্টফোনতাকে স্ক্যান করে নিয়েছে এর মধ্যে। কতোজন দাড়িয়েছিলেন সেই ডিসপ্লের সামনে, কতোজন এরপর দোকানে ঢুকেছেন আর কতোজন ঢোকেননি – তার হিসেব চলে যাচ্ছে স্টোর ম্যানেজারের কাছে। কতোক্ষণ দাড়িয়েছিলেন ক্রেতা তার উপর নির্ভর করছে দামটা যুতসই হয়েছে কিনা। দোকান যদি এটাই না বের করতে পারে তাহলে বিক্রি ব্যবসায় কেনো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো রিটেল শপে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘ইউক্লিড এনালাইটিক্স’ এর প্রযুক্তি – যারা সিলিকন ভ্যালির আরেকটা স্টার্টআপ। ক্রেতার কোন কোন তথ্য নেয়া যাবে আর নেয়া যাবেনা সেটার উপর সুবিধাজনক অবস্থান আসাতে ফ্লাডগেট খুলেছে ‘বিগ ডাটা’র ব্যাপারে। বিজনেস মডেল পাল্টে যাচ্ছে রাতের মধ্যে। ফিনান্সিয়াল টাইমসের বই ‘ডিকোডিং বিগ ডাটা’ বইটা শুরু হয়েছে এভাবেই।

৬.

সোশ্যাল মিডিয়া আসার পর ডাটার ভলিউম নিয়ে বিপাকে সবাই। যেভাবে বাড়ছে ডাটা সেটাকে প্রসেস করাটা সমস্যা হলেও ভবিষ্যত এখানেই। বিজনেস হাউস, হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে সরকারও এই ডাটার দিকে তাকিয়ে আছে। গুগলের আগের চিফ এক্ষিকিউটিভ এরিক স্মিদ দুহাজার দশ সালেই বলেছিলেন নতুন এই ডাটা তৈরীর ব্যাপারে। মাত্র দুদিনে তৈরী হচ্ছে পাঁচ এক্সাবাইটের মতো যা দিয়ে ধারণ করা যাবে দুলক্ষ পঞ্চাশ হাজার বছরের ডিভিডি কোয়ালিটি ভিডিও। আর দু হাজার তেরোতে সেটাই তৈরী হচ্ছে প্রতি দশ মিনিটে। ‘খেতে যাচ্ছেন গুলশানে’ থেকে ‘রক্ত দরকার বন্ধুর জন্য’ বা সহমর্মীদের কাছ থেকে টাকা তোলা থেকে শুরু করে আপনার ‘পিনপয়েন্ট লোকেশন’ সবই যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। আপনার আপলোড করা কোন কোন ছবিতে আপনি বা আপনার বন্ধুরা আছেন তাদের মুখ স্ক্যান করে তথ্য যাচ্ছে এই বিগ ডাটাতে। ছবিটা কোথায় তোলা হয়েছে তা বলে দিতে হয়না আর। ও জানে সব। প্রচুর ডাটা, প্রচুর সম্ভাবনা।

৭.

রাতে ঘুমের সমস্যা হওয়াতে ফোনটাকেও শুইয়েছিলাম আমার সাথে। ভোরে বলে দিলো ঠিক কতক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম রাতে, কোন কোন লেভেলে। তাও চলে গেছে ‘বিগ ডাটা’তে। হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রি মুখিয়ে আছে সামনের বছরগুলোতে। যারা মোবাইল হেলথ ট্র্যাকার পরতে সন্মত হচ্ছেন তাদের জন্য প্রিমিয়াম কমিয়ে দিচ্ছেন ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলো। সব যাচ্ছে বিগ ডাটাতে। আগে গাড়ির ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলো যেভাবে জিপিএস লাগালেই কিস্তি কমিয়ে দিতো – তার উন্নততর ভার্সন এটা। চালু করা টিভির সামনে এক দম্পতি ঝগড়া করাতে পরবর্তী কমার্শিয়াল ব্রেকে চলে আসলো স্থানীয় ম্যারেজ কাউন্সিলরের বিজ্ঞাপন। ভেরাইজন তার পেটেণ্ট ডাটাবেসে এই প্রযুক্তি পাশ করিয়ে নিয়েছে বেশ আগে। মা তার সন্তানের একটা ইনফেকশনের খবর জানতে পেরেছেন চব্বিশ ঘন্টা আগে, দৃশ্যমান লক্ষণ হাতে পাবার আগেই। সবই যাচ্ছে ‘বিগ ডাটা’য়।

৮.

আসি মোবাইল ইন্ডাস্ট্রির বিগ ডাটাতে। লেডি গাগাকে ব্যক্তিগতভাবে [প্রথম দিকে] পছন্দ না করলেও তার ‘বিগ ডাটা’র উপরে ভরসা মুগ্ধ করেছে আমাকে। লেডি গাগার ভক্তদের  ব্র্যাকেটটা দেখতে অনুনয় করছি। ‘স্পটিফাই’ এপ্লিকেশনের ‘বিগ ডাটা’র ক্লাউড থেকে কোটি মানুষের প্লে-লিস্ট দেখে তার পরবর্তী কনসার্টে কোন কোন গান গাইবেন তা ঠিক করতে পারাটা কিন্তু উচ্চমার্গের। ভক্তরা তার ব্যক্তিগত সময়ে ফোনে বা পিসিতে গানের যে ‘একান্ত’ প্লেলিস্ট ব্যবহার করেন; সংগীতশিল্পী তার আন্দাজ পেলে ভক্তের মনের ভেতরে ঢোকা কষ্টকর নয়। নির্বাচন পূর্ব সার্ভে আর বিগ ডাটা সম্পর্কযুক্ত।

‘বাবা’, আমার মেয়ে দাড়িয়ে আছে হাসিমুখে ‘মা খেতে ডেকেছে, বাবা – গুহা থেকে’। ‘গুহা’ মেয়ের মা’র তৈরী করা আমার ঘরের [দেখতে কিন্তু স্টোররুমের মতো] সমার্থক শব্দ। এই শব্দটাও এসেছে বিগ ডাটা থেকে। চিন্তা করছি, মেয়ের মা আবার আমার ‘বিগ ডাটা’ কি না?

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: