Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘সাইফার’

Quis Custodiet Ipsos Custodes. -> Who will watch the watchmen.

— Juvenal, circa 128 AD

২৬.

দেখা গেছে ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অক্ষরগুলো হচ্ছে ‘E’, ‘T’, ‘A’, ‘O’ আর ‘I’। পর্যায়ক্রমে। সবচেয়ে কম ব্যবহার হয় ‘Q’, ‘Z’ আর ‘X’। আবার ব্যাঞ্জনবর্ণের জোড়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলে ‘TH’। ঠিক বলেছি কিনা বলুন? আর স্বরবর্ণের জোড়া? ঠিক বলেছেন। ‘EA’। বাকীদের কথা বললে আসে OF, TO, IN, IT, IS, BE, AS, AT, SO, WE, HE, BY, OR, ON, DO, IF, ME, MY, UP অক্ষরজোড়ার কথা। রিপিটেড অক্ষরজোড়ার মধ্যে SS, EE, TT, FF, LL, MM and OO চলে বেশি। তিন অক্ষরের ভেতরে দেখলে THE, EST, FOR, AND, HIS, ENT, THA নাম আসে আগে। বেশি বলে ফেলছি নাকি? আমাদের হিসেব বলে – যদি গুপ্ত মেসেজে অক্ষর ‘E’ এর পর ‘T’ বারংবার মানে বেশীরভাগ সময়ে আসে তাহলে সেটা ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারের মেসেজ নয়। সেটা বরং ‘স্থান-বিনিময়’ মানে ট্রান্সপজিশন সাইফার। ওমা, এটা আবার এলো কোথা থেকে?

২৭.

‘স্থান-বিনিময়’ সাইফারটা কি? গল্প নিয়ে আসি বরং! বাসার প্লাস্টিকের পানির পাইপ যোগাড় করুন – এক ফুট লম্বা। পেন্সিল হলে হবে, তবে সেটা কিছুটা ছোট হয়ে যাবে আমাদের কাজের জন্য। পাইপের ওপর দড়ি যেভাবে পেচিয়ে পেচিয়ে এগোয় সেভাবে স্কচ টেপ পেচান। স্কচ টেপ না থাকলে ওধরনের ‘চিকন করে কাটা’ কাগজও পেচাতে পারেন। পেচানোর পর এর ওপর দিয়ে কলম দিয়ে লিখুন আপনার মেসেজ। লেখার পর খুলে ফেলুন কাগজটা। এরপর পাঠিয়ে দিন বন্ধুর কাছে। বন্ধু যদি ওই একই ব্যাসার্ধের পাইপ নিয়ে একই ভাবে পেচান, তাহলেই রক্ষা। মানে, পড়তে পারবেন মেসেজটা। কাগজটা পুরোপুরি খুলে ফেললে হযবরল হয়ে যাবে অক্ষরগুলো। আগের মতো করে না পেচালে দুর্বোধ্যই থেকে যাবে মেসেজটা। অক্ষরের এই ‘স্থান-বিনিময়’এর জন্যই এর নাম ‘ট্রান্সপজিশন’ সাইফার। অনেক সময় এই মেসেজ লিখতে পারেন ‘কলাম’ ধরে। একেকটা অক্ষর একেকটা কলাম। পরে পাল্টে দিলেন কলাম ঘরগুলো।

২৮.

মজার কথা হচ্ছে এই ‘ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালিসিস’ ধরতে পারে অনেক গল্প। কোন ভাষা, সেটাও ধরতে পারে এই অ্যানালিসিস। এই ইংরেজি অক্ষর দিয়েই ভাষা আছে অনেকগুলো। ধারণাই করতে পারবেন না – এই রোমান আর ল্যাটিন অক্ষর ব্যবহার হয় কতো ভাষায়! পুরো মেসেজে যদি একটা অক্ষর ২০%এর বেশি আসে, তাহলে সেটা ‘জার্মান’ হবার সম্ভাবনা বেশি। জানেন তো জার্মানে ‘E’ অক্ষরের ব্যবহার অনেক অনেক লম্বা। ইটালিয়ান হলে তিন অক্ষরের আধিক্য ১০% এরও বেশি। ‘নয় অক্ষরে’র ফ্রিকোয়েন্সিও কম নয়। ক্রিপ্টগ্রাফার কাজও কিন্তু যায় বেড়ে। ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারে অনেক সময় লম্বা মেসেজ হলে ভালো। বড় হলে প্যাটার্ন ধরা যায় সহজে। কয়েকবার এক জিনিস আসলে যা প্রথমে ধারনা করেছিলাম সেটা পোক্ত হয় বেশি। ছোট মেসেজে ধারনা করতে হয় বেশি। এক অক্ষরের ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারে ‘A’ আর ‘I’ ছাড়া অন্য কিছু আসার কথা নয়। দুটোই বসিয়ে দেখতে হবে কোনটাতে মেসেজটা অর্থবহ হয়। তাই বড় মেসেজে সুবিধা বেশি।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

It is oviously an attempt to convey secret information.

– Sherlock Holmes (“The Valley of Fear”)

২৩.

আমাদের জানামতে প্রথম সাইফার শুরু হয় খ্রিস্টজন্মেরও আটান্ন বছর আগে। প্রচলিত আছে যে সম্রাট জুলিয়াস সিজার ব্যাপারটা শুরু করেন তার সামরিক বাহিনীর ভেতর। তার কমান্ড স্ট্রাকচারের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এটাই ছিলো সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা। কাজের ধরণ দেখে অনেকে এর নাম করেন ‘শিফট’ মানে ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফার। ইতিহাসের সবচেয়ে সরল ‘এনক্রিপশন’ মেকানিজম এটা। ইংরেজিতেই উদাহরণ টানি বরং। মনে করুন, চিঠি লিখলেন বন্ধুকে। এসএমএসও হতে পারে। ইংরেজি শব্দ দিয়ে। বললেন, ‘MEET ME AT BOGA LAKE’। তবে কাগজে লেখার সময় সেটাকে বাম দিক থেকে তিন অক্ষর সরিয়ে সরিয়ে লিখবেন। ‘A’ অক্ষর বলতে চাইলে সেটা লিখবো ‘D’ হিসেবে। ‘B’ বোঝাতে চাইলে তিন অক্ষর সরিয়ে লিখবো অক্ষর ‘E’। বাম দিক থেকে তিন অক্ষরের ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারে মেসেজটা দাড়াবে ‘PHHN PH ERJD ODNH’। ডান দিক থেকে তেইশ অক্ষরের ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারের মেসেজ হবে এটাই। ছাব্বিশটা শব্দ না ইংরেজিতে?

২৪.

আপনার বন্ধুর সাথে মেসেজ আদান প্রদানের চুক্তি ছিলো ছোটবেলা থেকেই। অ্যালগরিদমটাও সহজ। যা লিখবেন তিন অক্ষর ডানে মানে পেছনে নিয়ে পড়বেন মেসেজটা। এখন এই খোলা মেসেজ অন্যরা পেলে হিব্রু মনে হবে তাদের কাছে। দোকানে গেলে কি হয় এখনো? পাড়ার দোকানের কথা বলছিলাম আরকি! সুপারস্টোর নয়। দোকানদার প্রতিটা আইটেমের ওপর কাগজ দিয়ে কোড লিখে রাখে দামের। দাম কতো বললে কোড দেখে হিসেব করে দাম বলে। সেটাও ‘শিফট’ মানে ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফার। তবে সেটা সংখ্যা থেকে ইংরেজি অক্ষরের। ধরুন, 1234567890 সংখ্যাগুলোকে ইংরেজিতে নিজের মতো পাল্টে দেই MAKEPROFIT অক্ষর দিয়ে। একটা খেলনার ওপর ‘KPT’ থাকলে ওর দাম কতো হবে? ৩৫০ টাকা? তবে যে যাই বলুক এই ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফার ভালো কাজ দিয়েছে সম্রাট সিজারকে। হিসেব বলে, নয় দশকের আগে এটাকে ভাঙার কথা চিন্তা করেনি কেউ। এটা ভাঙা সম্ভব হয় যখন আরব বিশ্বের একজন নামকরা দার্শনিক, গাণিতিক আবিষ্কার করেন ‘ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালিসিস’ বলে একটা নতুন জিনিস। মজার জিনিস বটে!

২৫.

এই ‘সিজার সাইফার’ এক-সংখ্যাভিত্তিক সাইফার বলে এর দুর্বলতা ধরতে পারেন আবু আল-কিনদি। তাও আবার নবম শতাব্দীতে। ৯০০ বছর পরে! এর পারমুটেশন কম্বিনেশনে অক্ষরের সংখ্যা বেশি হলেও এর আসল ব্যবহৃত অক্ষর কম। একটা ইংরেজি অভিধান খুলে বসুন এখুনি। সব অক্ষর কি ব্যবহার হচ্ছে সমানভাবে? অবশ্যই না। একটা টেবিল দেখি বরং। ইংরেজি অক্ষরগুলো এই ভাষায় কিরকম ব্যবহার হয় সেটা ধরতে পারলে তো কেল্লা ফতে। একজন উত্‍সাহী ক্রিপ্টগ্রাফার ইচ্ছা করলেই ধরতে পারবেন ইংরেজিতে কোন অক্ষরগুলো বেশি ব্যবহার হয় অথবা কম। এটাকে বলি আমরা ‘ক্রিপ্ট-অ্যানালিসিস’। ধরুন, একটা মেসেজ লিখলেন ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফার দিয়ে। আমি ছোট্ট একটা প্রোগ্রাম তৈরি করবো যা ওই গুপ্ত মেসেজের কোন কোন অক্ষর কতোবার ব্যবহার হয়েছে সেটা বের করবে। সোজা কিন্তু! তবে, এটার জন্য প্রোগ্রামও দরকার নেই, মেসেজ ছোট হলে – হাতে গুণে কাগজে লিখে রাখবো সামনে। এরপর গুপ্ত মেসেজটার একেকটা অক্ষর ধরে ধরে পাল্টে দেবো অভিধানে দেয়া সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অক্ষর দিয়ে। পর্যায়ক্রমে। তবে, মেশিনের মতো করে নয়।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

If you think cryptography is the answer to your problem, then you don’t know what your problem is.

– Peter G. Neumann, New York Times, February 20 2001.

১৫.

গল্প দিয়েই শুরু করি কি বলেন? শাফায়েত কিছু একটা জানাতে চাচ্ছে সালমাকে। দুজন আবার থাকে শহরের দুপ্রান্তে। যোগাযোগ করতে পাঠাতে হবে কিছু একটা – কাগজে লিখে। শাফায়েত ম্যাসেজটা লিখলো গোপন একটা কোড দিয়ে। গোপন কোডটা জানে মাত্র ওই দুজন। আগে থেকেই। পরে, ওর বন্ধুকে দিয়ে কাগজটা পাঠিয়ে দিলো সালমার বাসায়। সময়মতো সালমার জানালা দিয়ে জিনিসটা ফেলেও দিলো বন্ধুটা। কপাল ভালো হলে সেটা পাবে সালমা। কিন্তু গল্পে দরকার ‘টুইস্ট’। কপাল খারাপ, ওটা গিয়ে পড়লো সালমার ‘বদরাগী’ বড় ভাইয়ের হাতে। সব বড়ভাই বদরাগী হয় কিনা জানিনা, তবে সালমার ভাই ‘ওই সিনেমা’র মতোই বদরাগী। কাগজটা পেলেন ঠিকই তবে সেটার মাথামুন্ডু কিছু না বুঝে ফেলে দিলেন ওয়েস্ট পেপার বীনে। সালমা সবার চোখের আড়ালে তুলে নিয়ে এলো জিনিসটা – ওই বীন থেকে। আগে থেকে ‘শেয়ার’ করা কোড দিয়ে ম্যাসেজ উদ্ধার করলো মেয়েটা। আমার জীবনের গল্প দিলাম কিনা?

১৬.

এখানে যে পদ্ধতিতে শাফায়েত ম্যাসেজটা গোপন করলো সেটাকে বলে ‘এনক্রিপশন’। আর যেভাবে ম্যাসেজটা পাঠোদ্ধার করলো সালমা, সেটা ‘ডিক্রিপশন’। ধরুন, ওই কোড ছাড়া পাঠাতে গেলে কি করতে হতো শাফায়েতকে? একটা বাক্স কিনে লাগাতে হতো তালা। ওই চাবিটার দুই কপি থাকতো দুজনের কাছে। অথবা ‘কম্বিনেশন লক’ হলে সেটার তিন ডিজিটের সংখ্যাটা জানতো দুজনই। ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’তে ওই তালার চাবিকে প্রতিস্থাপন করছে একটা কোড। যাকে আমরা বলছি ‘সাইফার’। আবার যেই পদ্ধতিতে ‘এনক্রিপ্ট’ করা হচ্ছে সেটা হতে পারে কিছু গাণিতিক অ্যালগরিদম, তাই না? আর যে অ্যালগরিদম দিয়ে ওই তথ্যটা লুকানো হচ্ছে সেটাকেও বলা হচ্ছে ‘সাইফার’। ওই ‘সাইফার’ মানে যে অ্যালগরিদম দিয়ে ওই তথ্যকে লুকানো হয়েছে তার ‘ভার্চুয়াল তালা’টার চাবি কোথায়? ওই চাবিটাই হচ্ছে লুকানোর ‘কোড’। ওটা দিয়ে খোলা যাবে গুপ্ত তথ্যটা। তালার মতো ওই ‘চাবি’টাই (কোড) আসল।

১৭.

‘সাইফার’ ওই ম্যাসেজটাকে এমনভাবে ‘স্ক্র্যাম্বল’ আর ‘ডি-স্ক্র্যাম্বল’ মানে ‘ঘুটা’ দেয় যে সালমার ভাই আর শাফায়েতের বন্ধুর কাছে পুরো জিনিসটাই ঘোলাটে মনে হবে। এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ চলে আসছে হাজার বছর ধরে। এটা নিয়ে হয়েছে অনেক অনেক যুদ্ধ – বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। যুদ্ধের জয় পরাজয়ও নির্ভর করেছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র ওপর। এক দেশ পাঠিয়েছে ম্যাসেজ, সেটা হাতে পেয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে ‘ডিক্রিপ্ট’ করে আগে ভাগে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ‘অ্যালাইড ফোর্স’। ওই গল্প জানেন সবাই।

১৮.

আমি যেখানে কাজ করছি, ওই টেলিযোগাযোগ সেক্টরের পুরোটাই চলছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র ওপর। ফোন, ইন্টারনেট, ইমেইল, স্কাইপ, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফাইনান্সিয়াল ট্রান্জাকশন, এটিএম নেটওয়ার্ক, অনলাইনে কেনাকাটা – যাই চিন্তা করেন সেটার কোর জিনিস হচ্ছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’। এটা না থাকলে আপনার আমার ইমেইল পড়ে ফেলার কথা সবার। স্কাইপ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে অনেক। উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে ব্যাপারটা। এক ব্যাংক থেকে টাকা পাঠানো হবে আরেক ব্যাংকে। ভাড়া করলেন ‘স্টেট অফ দ্য আর্ট’ এসকর্ট সার্ভিস। পথে টাকা হাইজ্যাক হবার প্রশ্নই আসে না। এসকর্ট সার্ভিসের হাতে টাকা দেবার আগেই লূট হয়ে গেল টাকাগুলো ব্যাংক থেকে। দোষ দেবেন কাকে? এসকর্ট সার্ভিসকে? ভেবে দেখুন।

১৯.

পৃথিবীটাই চোর পুলিশের খেলা। ‘ক্লোজ’ ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ ব্যবহার করছেন যারা, মানে কোম্পানীগুলো – তাদের হাত পা বাধা। তবে, ধরুন – আপনি তৈরি করলেন একটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেম। কমপ্লায়েন্সের কারণে ওই সরকারকে দিতে হলো এর ‘কী’ মানে চাবিটা। অর্থাত্‍ দেশ মনিটর করতে পারবে এটা দিয়ে ‘এনক্রিপ্ট’ করা পাঠানো ফাইল অথবা ভয়েস কল। কিন্তু ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেমটা ওপেন সোর্স হবার কারণে যে কেউ নিজের মতো তৈরি করে নিতে পারবে আরেকটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেম। কি হবে তখন? অথবা, কয়েকটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেমের কম্বিনেশন? জার্মান পত্রিকা ‘দার স্পাইজেল’ কিছু ডকুমেন্ট পেয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএ’র। ডিফেন্স কনট্রাক্টর এডওয়ার্ড স্নোডেনের হাত দিয়ে। পরে মার্কিন পত্রিকাগুলোতেও কিছু ঘটনা আসে এ সুত্রে। অনেক ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ এখনো মাথা খারাপ করে দিচ্ছে তাদের এনএসএ’র। প্রযুক্তির উত্কর্ষতার সাথে সাথে সমস্যা আসবেই।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

There are no secrets better kept than the secrets that everybody guesses.

— George Bernard Shaw

০৭.

পড়ে আছি আফ্রিকাতে। আগেও ছিলাম এখানে। আরেকটা দেশে। বউ বাচ্চা ছেড়ে। পৃথিবীব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ছাপ পড়েছে এখানেও। অফিসের কাজ শেষে ‘স্কাইপিং’ করি বাসায়। বিনামূল্যে। বাচ্চারা মায়ের ফোন নিয়ে ওপরতলা নিচতলা করতে থাকে প্রতিনিয়ত। পুরো বাসার ‘ট্যুর’ হয়ে যায় ওদের অজান্তে। কোন রুমের আসবাবপত্র কোন রুমে যাচ্ছে কোন কিছুই এড়াচ্ছে না আমার চোখ। আর্শিয়ার ‘ফ্রোজেন’ আর নাবিলের ‘বিগ হিরো ৬’য়ের পোস্টার কোথায় লাগবে সেটার শালিসিতেও বসতে হলো এখানে বসে। দরকার লাগলে ঢুকে যাই নিজের বাসার নেটওয়ার্কে। চালু করি বাসার কম্পিউটার বা ওয়াইফাই রাউটারটা। টেনে আনি দরকারী ফাইল। বাসার গাড়িটাকে নিয়ে এসেছি হাতের নাগালে। ‘ভার্চুয়াল ফেন্সে’র বাইরে গেলেই মাথা গরম হয়ে যায় ফোনের। সঙ্গে আমারো। এই আফ্রিকায় বসে। ফ্রীজটা বাকি। হয়ে যাবে সেটাও।

০৮.

ফিরে তাকাই পেছনের দিনগুলোতে। অথচ, দশ পনেরো বছর আগে পকেট ফাঁকা করে ফেলতাম কথা বলতে। এই আফ্রিকা থেকে দেশে। তাও শুধু দরকারী কথা। তখন বউ অবশ্য বলতো মিষ্টি মিষ্টি কথা। পাল্টেছে সময়। এখনো বলে। কম। ভাগ্য ভালো, আমার শহরে আছে থ্রীজি সার্ভিস। হাজার টাকায় পাওয়া যায় দুর্দান্ত গতির ইন্টারনেট। হিসেব করে দেখলাম – ইন্টারনেট হচ্ছে আমাদের লাইফলাইনের মতো। ‘ইন্টারন্যাশনাল কল’ করার সাহস করি না আমি। মনের ভুলেও। আমার ধারনা, বাকিদের একই অবস্থা। ধন্যবাদ ‘সিম্ফনী’ আর ‘ওয়ালটন’কে। তাদের সুবাদে – সবার হাতে স্মার্টফোন। ভুল বললাম। একেকটা মিনি কম্পিউটার। আবারো ভুল বললাম। একেকটা শক্তিশালী কম্পিউটার। আমার নিজের ফোনটাই ল্যাপটপ থেকে তিনগুণ শক্তিশালী। স্ক্যান করছে আমার ভাউচার, পোস্ট-ইট পেপার, হাতে লেখা নোট, দরকারী কাগজ, দোকানের বিলের মতো আরো কতো কি! মেডিক্যাল রেকর্ড? ব্যাংক স্টেটমেন্ট? ব্যক্তিগত ছবি তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হাজারো কথা বলছি স্কাইপে। বন্ধুদের সাথে। যারা ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন টাইমজোনে। ইমেইলের পাশাপাশি ‘ইন্সট্যান্ট ম্যাসেঞ্জারে’ রয়েছে হাজারো কথা। সবকিছুই যাচ্ছে পছন্দের ‘ক্লাউড’ সার্ভিসে। ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড থেকে শুরু করে অনেককিছুর পাসওয়ার্ড ইদানিং থাকে ‘ক্লাউডে’।

০৯.

আপনি কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনার ইমেইল অন্য কেউ পড়ছে কি না? আপনার ফোন দিয়ে ‘থ্রেট’ কল গিয়েছে কখনো? ‘ভয়েস সিন্থেসিস’ করে দেখা গেলো গলা আপনার! আপনার কম্পিউটারের দরকারী ফাইলটা আরেকজন পড়ে চুপটি করে রেখে দিয়েছে কি না? আপনার উইনডোজের ‘ক্রিটিক্যাল’ সিষ্টেম ফাইল পাল্টে যায়নি যে তার গ্যারান্টি কি? বছর খানেক ধরে আপনার কম্পিউটারে যা কিছু টাইপ করেছেন সেটার ‘কী-লগার’ ফাইল যাচ্ছে কোথায় – জানেন আপনি? আপনার ল্যাপটপের ‘মাইক্রোফোন’ আর ‘ওয়েবক্যাম’ আপনার অজান্তে চালু থাকে কি না? আপনার ফোনের ক্যামেরা দুটো আর মাইক্রোফোন? ইন্টারনেট হচ্ছে ওধরনের একটা ‘গ্লোবাল দেশ’ যেখানে ‘কেউ’ চাইলে নজরদারী করতে পারে আপনার প্রতিটা মুহূর্ত। যাচ্ছেন কোথায়, কি বলছেন, কি করছেন। সব।

হতাশ?

১০.

‘এভরি ক্লাউড হ্যাজ আ সিলভার লাইনিং’! আছে সুখবর। এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ যেভাবে অন্যের পড়ার অযোগ্য করে দিতে পারে আপনার ফাইলকে, সেভাবে ‘নিশ্চিত’ করতে পারে আপনার ‘অনলাইন’ পরিচয়। মানে ‘থ্রেট’ ইমেইলটা করেননি আপনি। ভয়েস সিন্থেসিসে ‘সিগনেচার’ মিলেনি আপনার। কম্পিউটারের হাজারো ফাইলের (সিষ্টেম ফাইলসহ) যেকোন একটা পাল্টালে আগে জানবেন আপনি। আপনার প্রতিটা ডকুমেন্টকে রাখবে যথেষ্ট নিরাপত্তার সাথে। হাতের শক্তিশালী কম্পিউটার মানে স্মার্টফোনটা হাতছাড়া হওয়া মাত্র ‘মুছে’ যাবে সমস্ত ডাটা। অবশ্যই, আপনি চাইলে। ‘এনক্রিপ্ট’ করা থাকলে খুলতেও পারবে না – কি আছে ফোনে। খুশি তো? আপনি না জানলেও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার খাতিরে অপারেটিং সিষ্টেম কোম্পানীগুলো নিজে থেকে উইনডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, ‘আইওএস’এর সাথে ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ ব্যবহার করছে আগে থেকেই। তবে সেটার অনেকাংশ নির্ভর করে ব্যবহারকারীদের ওপর। আপনি কম্বিনেশন লক কিনলেন ঠিকই, তবে সেটা রাখলেন ‘ফ্যাক্টরি ডিফল্ট’ ০০০০। হবে কি কাজ? তালা দিয়ে দিয়েছে কোম্পানী, আপনি না লাগালে ওদের দোষ দিয়ে লাভ হবে কি? আর তারা তো দেবে বেসিক টূল, সেটা তো করবে না সব কাজ।

১১.

আমরা মানে ‘মর্টাল’রা ‘এনক্রিপশন’ আর ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ শব্দগুলোকে যে যেভাবে পারি – ব্যবহার করি। হাজার হোক, ফ্রী কানট্রি! কার ঘাড়ে দুটো মাথা আছে আপনার সাথে তর্ক করার? দুটোর ব্যাপারটা আলাদা হলেও এটাকে সঙ্গায়িত করা যেতে পারে ব্যকরণ দিয়ে। আবার জুলিয়াস সিজার যেটা ব্যবহার করতেন সেটাকে আমরা বলতাম জুলিয়াস ‘সাইফার’। তাহলে শব্দ এসে দাড়ালো তিনটাতে। ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ হচ্ছে ওই বিজ্ঞান যেটা আলোচনা করে ‘গোপন’ যোগাযোগ নিয়ে। এটা বিশেষ্য পদ। মানে নাম পদ। আমরা যদি ‘রুট’ওয়ার্ডে যাই, এটা হবে দুটো শব্দ। ‘ক্রিপ্টো’ আর ‘গ্রাফী’। ‘ক্রিপ্টো’ হচ্ছে গুপ্তকথা অথবা লুকানো কথা। আর ‘গ্রাফী’টা হচ্ছে ওই যোগাযোগটাকে লুকানোর একটা পদ্ধতি। মানে যেভাবে ওই গুপ্তকথাকে লুকিয়ে আরেকজনের কাছে পাঠানো হয় সেই বিজ্ঞানটাই আমাদের গল্প। আর ‘ক্রিপ্ট’ করাকে বলা হচ্ছে ‘এনক্রিপশন’। ‘এন’ মানে হচ্ছে ‘টু মেক’। তৈরি করা। তথ্যকে অন্যের জন্য ‘হিব্রু’ বানিয়ে ফেলা। নতুন গল্প দিচ্ছি না তো আবার? এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: