Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘স্পেকট্রাম’

Don’t tell me about your effort. Show me your results.

― Tim Fargo

৩৭৩.

পুরোনো কাসুন্দি না ঘেঁটে সামনে আগাই বরং। ডাব্লিউআরসি-০৭তে যা আলাপ হয়েছে সেটার ধারণায় আমাদের কতো স্পেকট্রাম লাগবে ২০২০ সাল নাগাদ, সেটার প্ল্যানিং করতে হবে আমাদেরই। এখনই। স্যাটেলাইট কম্যুনিটি খেপে আছে মোবাইল ইনডাস্ট্রির ওপর। তারা নাকি নিয়ে নিচ্ছে সব ফ্রিকোয়েন্সি। এদিকে ডিজিটাল টিভি’র মাইগ্রেশনের কারণে বেঁচে যাচ্ছে অনেক ফ্রিকোয়েন্সি, সেটার জন্যও চাপাচপি করছে মোবাইল ইনডাস্ট্রি। তবে দেশগুলো নেই বসে। তাদের ম্যানুফ্যাক্চারিং ইনডাস্ট্রি চাপ তৈরি করছে নিজ নিজ দেশের অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের ওপর। এ এক বিশাল যুদ্ধ। আইএমটি-২০০০তে সনাক্ত করা ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে মাত্র অর্ধেকটা ব্যবহারযোগ্য। বাকিটা দেশগুলো না বুঝে দিয়ে বসে আছে অন্য সার্ভিসে। এদিকে, স্পেকট্রাম না থাকায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে অপারেটররা। গ্রাহক বেশি, পাইপ (স্পেকট্রাম) কম। ব্যবসা করে খেতে হবে তো তাদের। দেশগুলোকে কাজ করতে হবে নতুন স্পেকট্রাম ব্যান্ড ছাড়ার ব্যপারে। অপারেটরদের দেবার ব্যপারে। ডাব্লিউআরসি-১৫এর আগে ২০২০ সালে কতো স্পেকট্রাম দরকার সেটার ‘এষ্টিমেশন’ নিয়ে কাজ করেছে আইটিইউ’র ‘ওয়ার্কিং পার্টি ৫ডি’। হিসেবে বের হলো দেশগুলোর দরকার ১৮০০ মেগাহার্টজ। নিদেনপক্ষে। তার আগের ‘এষ্টিমেশন’ বলছিলো ১১৭২ মেগাহার্টজের কথা। মোদ্দা কথা, খুঁজে পেতে বের করতে হবে আরো ৫০০ মেগাহার্টজের বেশি স্পেকট্রাম। কম নয়।

৩৭৪.

তবে, বলে নেই একটা কথা – এই মোবাইল ট্রাফিকের মোটা পাইপটা কিন্তু সনাতন নেটওয়ার্ক থেকে আসে না। বরং এটাকে যদি বলি এভাবে – মোট ট্রাফিকের ৮০ শতাংশই আসে মোবাইল হটস্পট অথবা ইনডোর কাভারেজ থেকে। হতে পারে সেটা ওয়াইফাই, ফেমটোসেল অথবা ওয়াইডব্যান্ডের ছোট ছোট সেল। অল্প যায়গায়। ‘ইনফরমা টেলিকমস এণ্ড মিডিয়া’ রিপোর্ট তাই বলে। মানুষ চায় বেশি ডাউনলোড স্পীড। সোজা কথায় – বেশি ‘থ্রুপুট’। বেশি ‘থ্রুপুট’ চাইলে মোবাইল বিটিএসগুলো থেকে ওয়াইফাই অথবা ছোট ছোট সেলগুলো কাজ করে ভালো। আর সেকারণে গ্রাহকদের এই অতিরিক্ত চাহিদা আর ভালো সার্ভিসের জন্য অপারেটরদের সাহায্য নিতে হয় সব ধরনের প্রযুক্তির।

৩৭৫.

বাংলাদেশে ‘ইউনিফাইড’ লাইসেন্সিং রেজীম না থাকায় সমস্যা হচ্ছে কিছুটা। যেমন যারা ‘অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডার’, গ্রাহকদের কাছে যেতে পারে যারা সরাসরি – যোগাযোগটা তারা স্পেকট্রাম দিয়ে দেবেন, না তার (ফাইবার) দিয়ে দেবেন সেটা ছেড়ে দেয়া হয় অপারেটরের কাছে। যাকে আমরা বলি ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ লাইসেন্সিং। আবার, অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডার (মোবাইল বা আইএসপি কোম্পানী) ঢুকতে পারবেন না হোলসেল প্রোভাইডারের আয়ত্ত্বাধীন ‘জুরিসডিকশনে’। ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ লাইসেন্সিং থাকলে অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডাররা ফাইবার দিয়ে গেলেন না স্পেকট্রাম দিয়ে গেলেন সেটা নির্ভর করবে অপারেটরের ওপর। কারণ তারা লাইসেন্স নিয়েছেন গ্রাহকের কাছে পৌছানোর জন্য। কি দিয়ে যাবে সেটা বিবেচ্য নয় রেগুলেটরের। ফলে তারা তৈরি করবে একটা ‘মিশ্র’ নেটওয়ার্ক। বাসা অফিসে ফাইবার। বাকি যায়গার জন্য কিনে নেবে স্পেকট্রাম। আর তাই স্পেকট্রামকে ‘ডি-লিঙ্ক’ করতে হবে লাইসেন্সিং থেকে। এগিয়ে গিয়েছে সবাই। লাইসেন্সিংয়ে।

৩৭৬.

রাস্তায় কাভারেজ দেবে মোবাইল বিটিএস (এইচএসপিএ/এলটিই)। বড় বড় শপিং মল, স্টেডিয়াম, বহুতল ফ্ল্যাট, বিশাল কণফারেন্স এরিনা – পুরো ‘থ্রুপুট’টাই ছেড়ে দেবে ওয়াইফাই অথবা ছোট ছোট সেলের ওপর। অনেক সময় এই ছোট ছোট সেলগুলো সার্ভিস দেয় ওই ফাইবারের ফিক্সড নেটওয়ার্কের মতো। গ্রাহকদের জানতেও হয় না কখন কোথায় সংযোগ পাচ্ছে। ওটা ছেড়ে দেয়া থাকে অপারেটরের ওপর। ফাইবার দিয়ে যাবে বিভিন্ন টিভি সার্ভিস। ‘অন ডিমান্ড ব্রডকাস্টিং’ অথবা নেটফ্লিক্সের মতো ‘ভিডিও অন ডিমান্ড’ সার্ভিস। ওগুলো খানিকটা ‘হেভি ইউসেজ’ সেগমেণ্টের জন্য। আর স্পেকট্রাম দিয়ে যাবে মোবাইল ডিভাইসের সংযোগগুলো। ট্রাফিক হবে কিছুটা ‘অ্যাসিমেট্রিক’, মানে ডাউনলোড বেশি হবে আপলোডের চেয়ে। স্পেকট্রাম দিয়ে কাজ করতে গেলে অপারেটরদের প্রয়োজন প্রায় সব ধরনের ফ্রিকোয়েন্সি। কিছু প্ল্যানিং নিয়ে আলাপ করি আপনাদের সুবিধার জন্য।

ক॰ ওপরের দিকের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো চমত্কার কাজ করে – বড় বড় ‘থ্রুপুট’এর জন্য। এগুলো দিয়ে বড় ক্যাপসিটি দেয়া যায় গ্রাহকদের। ওয়াইডব্যান্ড বলে ফিক্সড নেটওয়ার্কের কাছাকাছি স্পীড দিতে পারে গ্রাহকদের। এগুলো সাধারণত: ১ গিগাহার্টজ অথবা ৩ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে কাজ করে ভালো। তবে এদের ‘ইন-বিল্ডিং’ পেনিট্রেশন নিয়ে কিছু সমস্যা হয় শহরে। তবে, ঢাকার মতো শহরে – যেখানে ৪০০ – ৫০০ মিটার পর পর রেডিও প্ল্যানিং করা হয় মোবাইল বিটিএসের, সেখানে এই সমস্যা থাকার সম্ভাবনা কম।

খ॰ সুত্র অনুযায়ী, নিচের ফ্রিকোয়েন্সি সুন্দর কাজ করে দূর দুরান্তের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে। যেখানে মোবাইল কোম্পানীর ব্যবসা কম, যদিও বাংলাদেশে ও ধরনের যায়গা পাওয়া ভার – সেখানে এক বিটিএস দিয়ে অনেক বেশি যায়গা নিয়ে যুক্ত করতে পারে গ্রাহকদের। একারণে ৭০০ মেগাহার্টজ নিয়ে পুরো পৃথিবীতে হৈচৈ। ১ গিগাহার্টজের নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো এজন্যই ছেড়ে দেয়া জরুরী। বিটিআরসিতে থাকার সময় শুরু হয়েছিল কাজটা। ভয়েস চ্যানেলগুলো ৭০০ মেগাহার্টজে ‘অফলোড’ করে ৯০০, ১৮০০ আর ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যবহার করা যেতে পারে ডাটার জন্য। আর সামনে তো আসছেই ‘ভয়েস ওভার এলটিই’। ডাটা অল দ্য ওয়ে।

গ॰ ৪০০ মেগাহার্টজের নিচে গেলে ভালো – তবে, বড় হয়ে যাবে মোবাইল হ্যান্ডসেট। এছাড়া ডিজাইন সমস্যা আছে ওর নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলোতে। অস্ট্রেলিয়ান কম্যুনিকেশন্স এণ্ড মিডিয়া কমিশনের একটা হোয়াইট পেপার যদিও ব্যাপারটাকে নিয়েছে মেনে, তবে চ্যানেল ব্যান্ডউইডথ কমে এসে দাড়ায় ৬.২৫ কিলোহার্টজে।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

People who enjoy waving flags don’t deserve to have one.

― Banksy, Wall and Piece

‘স্পেকট্রাম’ নিয়ে লিখেছিলাম সিরিজ একটা। চলেছিলো সেটা সিরিজ ‘পনেরো’ পর্যন্ত। হটাত্‍ ওটা বন্ধ করে অন্য কিছু শুরু করায় কয়েকজন হুমকি দিয়েছিলেন – ওই যাত্রায়। সামনে যাব ছুটিতে। দেশে। হুমকিদাতাদের সাথে সম্পর্ক ‘সহজ’ করতে স্পেকট্রাম সিরিজের যাত্রা শুরু করলাম নতুন করে। শুরু হলো পর্ব ‘ষোল’।

৩৬৯.

জীবন পাল্টে দিচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট। কারণ প্রায় সবার হাতেই পৌঁছে যাচ্ছে ‘মোবাইল’ নামের চমত্কার যন্ত্রটা। ভুল বললে ‘লাঞ্চ’ খাওয়াবো আপনাদের। নইলে আপনারা খাওয়াবেন আমাকে। সত্যি বলতে, মোবাইল ডাটা ট্রাফিক এতোটাই বেড়ে গেছে যে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে অপারেটররা। ডাটা সার্ভিসের ‘কোয়ালিটি’ ঠিক রাখতে গিয়ে যে পরিমাণ স্পেকট্রাম দরকার – সবার সেটা না থাকায় বাড়িয়ে দিতে হয়েছে দাম। বলতে হবে ডিমান্ড সাপ্লাইয়ের গল্প? নতুন করে? দাম কমালে বাড়বে গ্রাহক, কমবে ওই সার্ভিসটার ‘কোয়ালিটি’। উপায় কি? দিতে হবে আরো স্পেকট্রাম – অপারেটরদের। প্রচুর স্পেকট্রাম এখনো ‘আন-অ্যালোকেটেড’ মানে অব্যবহৃত অবস্থায় আছে পড়ে। আবার, যাদের কাছে ‘অ্যালোকেটেড’ আছে – যথেষ্ট দক্ষতার সাথে ব্যবহার করছেন না তারা। একটু পেছনে তাকাই, কি বলেন?

৩৭০.

আইটিইউ’র মোবাইলের ওপর গ্লোবাল ডাটা ট্রাফিক নিয়ে একটা রিপোর্ট নিয়ে আলাপ করেছিলাম আগেও। আইটিইউ-আর এম.২২৪৩(০০/২০১১)এর হিসেবে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোবাইল ডাটা ব্যবহার বাড়বে আটগুণ! ওই প্রজেকশন দিয়ে ২০২০ সালে মোবাইল ডাটা ব্যবহার কতো বাড়তে পারে বলবেন কি? একটু সাহায্য করবো? বলেই ফেলি বরং। আমারো ধারণার বাইরে ছিলো ব্যাপারটা। বর্তমান ডাটার গ্রোথ পোটেনশিয়াল কার্ভ দেখে হিসেব করে দেখা গেছে – এটা বাড়বে এক হাজার গুণ! আর পাঁচ বছরে বাড়বে হাজার গুণ! অবিশ্বাস্য! চেয়ার থেকে পড়ে যাবার অবস্থা। আপনার নয়, আমার কথা বলছি আরকি। চিন্তা করছি, মোবাইল কোম্পানী খুলে ফেলবো নাকি? খুলে ফেলবো একটা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী – আমাদের আরজেএসসি থেকে। লিস্টিং করে ফেলবো স্টক এক্সচেঞ্জে পরের বছর। প্রতিটা ‘স্টক’ মানে শেয়ারের দাম হবে দশ টাকা। দরকার আমার ৮০০ কোটি টাকা।

৩৭১.

গুগল করুন ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’ – পাগল হয়ে যাবেন আপনি। অথবা – ‘বিওওটি’। এধরনের মেগাপ্রজেক্টের জন্য চোখ রাখতে পারেন থাইল্যান্ডের ‘বিটিএস মাস ট্রানজিট সিস্টেম’এর দিকে। স্কাই ট্রেনগুলো সব তাদের। এই গত বছরই জনগনের কাছ থেকে তুলেছে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি টাকা। এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডের প্রজেক্ট স্পন্সর হিসেবে বড় বড় কোম্পানি থাকলেও তারা জনগণকেও সম্পৃক্ত করে ওই মেগা-ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মালিকানা নেবার জন্য। স্কাই ট্রেনে ময়লা ফেলবে না জনগণ। কারণ, এটার মালিক সবাই। শেয়ারের দাম দশ টাকা হলে ক্ষতি কি? থাইল্যান্ডের একদম নতুন টেলিফোন কোম্পানি ‘ট্রু কর্প’ তুলেছে ১.৮ বিলিয়ন ডলার। এই ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’ থেকে। নতুন মোবাইল কোম্পানির ভেঞ্চারটার জন্য। একেকটা শেয়ারের দাম ছিলো দশ বাথ করে। স্বপ্ন দেখতে দোষ কি? পৃথিবীর সব উন্নতদেশগুলোর ইতিহাস ঘাটলে মিল পাওয়া যায় একটা যায়গায়। ‘স্যাকরিফাইস’ করেছে একটা জেনারেশন। করলাম না হয় আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে।

৩৭২.

এটা ঠিক যে আইটিইউতে বেশ কয়েক বছর লেগে যায় একেকটা স্পেকট্রাম ব্লককে প্রথমে ‘আইডেন্টিফাই’ মানে সনাক্ত করতেই। তারপর সেটাকে ‘অ্যালোকেট’ করা হয় আইটিইউ’র রিজিয়ন লেভেলে – সবার সম্মতি নিয়ে। আমরা পড়েছি ‘রিজিয়ন-৩’ এ। এরপর সেটাকে ‘অ্যাসাইন’ মানে ছেড়ে দেয়া হয় দেশের ওপর। এরপর ওই দেশ সেই ‘ব্লক’কে অপারেটরকে কবে দেয় সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে ওই দেশের অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের ওপর। ওয়ার্ল্ড অ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ রেডিও কণফারেন্স (ডাব্লিউএআরসি-৯২) ১৭১০ থেকে ১৯৩০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত ছাড় দেয় ‘মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সি’ হিসেবে। ওই ১৯৯২ সালে। স্পেনের মিটিংয়ে। ১৯৯৭ সালে ওয়ার্ল্ড রেডিও কণফারেন্স (ডাব্লিউআরসি-৯৭)তে নতুন আরো কিছু মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সি যোগ হয় এস-৫.৩৮৮ ‘টেক্সট’ দিয়ে। ওই ১৮৮৫-২০২৫ আর ২১১০-২২০০ মেগাহার্টজকে ছেড়ে দিতে বলা হয় আইএমটি-২০০০ ব্যান্ডের জন্য। রেজল্যুশন ২১২ (ডাব্লিউআরসি-৯৭) দেখলেই ধারনাটা হবে পানির মতো পরিষ্কার। আমাদের উপমহাদেশের দেশগুলো অপারেটরকে ওই ফ্রিকোয়েন্সিটা দিতে লাগিয়েছে মোটে ‘বারোটা’ বছর। ওই বছরগুলো ফ্রিকোয়েন্সিগুলো খেয়েছে ‘বাতাস’।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The European Commission has recommended that digital switchover should be completed by 1 January 2012.

– Commission Recommendation 2009/848/EC, of 28.10.2009

৬৪১.

মনে আছে বিটিভি’র যুগের কথা? নতুন জেনারেশনের কাছে ‘প্রস্তর’ যুগের গল্প মনে হতে পারে পুরো ব্যপারটাই। চ্যানেল ‘নয়ে’ সলিড গোল্ড আর সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান নিয়ে সময় কাটছিল ভালোই। ঢাকায় থাকার সুবাদে হাতে পেলাম বাড়তি আরেকটা চ্যানেল। চ্যানেল সিক্স। বিকাল ছয়টার কার্টুন না দেখলে ভাত হজম হতো না আমাদের। স্পাইডার ম্যান, ফ্যানটাস্টিক ফোর, রিচি রিচ, অ্যাকোয়া ম্যান – বলতে হবে আর? মনে আছে ‘গ্রীন হর্নেটে’র কথা? আর সবচেয়ে মজা হতো ভোটের সময় ম্যারাথন প্রোগ্রামে। গুড ওল্ড ডেজ!

৬৪২.

এই বিটিভি হচ্ছে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং। যাকে ব্যবহার করতে হয় মোবাইলের মতো কিছু ফ্রিকোয়েন্সী। ফলে, আপনার টিভি অনুষ্ঠান ধরতে পারে সাধারণ অ্যান্টেনা দিয়ে। রেডিও’র মতো অ্যান্টেনা। ওই হাড়ি পাতিল দরকার ছিলো অন্যদেশের চ্যানেল দেখার জন্য। ওইদিকে আর নাই বা গেলাম। অ্যানালগ ব্রডকাস্টিংয়ে স্পেকট্রাম লাগে প্রচুর। একেকটা চ্যানেল নিয়ে নেয় ৬ থেকে ৮ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইডথ। আর একই ব্যান্ডউইডথে ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং পাঠাবে বিশটার মতো চ্যানেল – সমান মানের। চিন্তা করেছেন কতো লাভ এখানে? আবার, ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং ব্যবহার করে ‘সিংগেল ফ্রিকোয়েন্সী নেটওয়ার্কস’, ফলে ওই এক ফ্রিকোয়েন্সী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা যাবে পুরো দেশজুড়ে। অ্যানালগেও সম্ভব, চেষ্টা করলে।

৬৪৩.

পৃথিবী জুড়ে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং ব্যবহার করছে ‘ইউএইচএফ’ আর ‘ভিএইচএফ’ ব্যান্ড। আল্ট্রা হাই ফ্রিকোয়েন্সীতে এর জন্য দেয়া আছে ৪৭০ থেকে ৮৭২ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। হাসছেন আপনি। তাইতো! ৭০০ মেগাহার্টজের গন্ধ পেয়ে গেছেন এর মধ্যে। সোনার খনি। সত্যিই তাই। আমাদের মতো জনবহুল দেশও ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ভাসিয়ে দেয়ার হিসেব নিয়ে আসবো সামনে। এজন্য এটার নাম হচ্ছে ডিজিটাল ডিভিডেন্ড। মানে ডিজিটাল ট্রান্সমিশনে গেলে কতো শত ফ্রিকোয়েন্সী খালি হয়, সেটা না দেখলে বিশ্বাস হবে না আপনার। গুগল করবেন নাকি একবার ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’ শব্দ জোড়া দিয়ে?

৬৪৪.

ভেরী হাই ফ্রিকোয়েন্সীতে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং চলছে ১৭৩ থেকে ২৩০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। বাংলাদেশে পুরোটাই ব্যবহার করছে বিটিভি। চ্যানেল একটা, কিন্তু রীলেগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে অন্য ফ্রিকোয়েন্সী। এখানে ‘অপটিমাইজ’ করা যেতো অনেক। নীতিমালায় বলা আছে এই পুরো ব্যান্ডটা ব্যবহার করবে বিটিভি। অথচ এই অ্যানালগ টেরেস্ট্রিয়ালের বাকি ব্যান্ডটা ভাড়া দিয়ে সরকার আয় করতে পারতো শত কোটি টাকা। আর বাঁচাতে পারতো একই পরিমাণ টাকা – স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ। আমাদের বেসরকারী টিভি চ্যানেল চলছে বাইরের দেশের ‘খরুচে’ স্যাটেলাইট দিয়ে। আর জনগণও দেখতো বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলো – বিনামূল্যে। ওই অ্যান্টেনা দিয়েই। স্পেকট্রামটা খালি পড়ে আছে দেশের জন্মকাল থেকে।

৬৪৫.

তবে, আমাদের ‘ন্যাশন্যাল ফ্রিকোয়েন্সী অ্যালোকেশন প্ল্যান’ টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিংয়ে বরাদ্দ দিয়েছে ৫২২ থেকে ৬৯৮ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী অ্যানালগ ট্রান্সমিশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ২০১৫তে। ১১৯টা দেশ মেনে নিয়েছে ১৭ জুন ২০১৫ তারিখটা। তবে উন্নত দেশগুলো ‘অ্যানালগ টু ডিজিটাল সুইচওভার’ করে নিয়েছে ওই ‘কাট-অফ’ তারিখের আগেই। সবাই নিজের ভালো বোঝে! আর সুবিধাও হাজার খানেক! আপনার বাড়ির পাশের পানের দোকানও ‘অ্যাড’ দিতে পারবে ওখানে।

৬৪৬.

আমার বইয়ের কাহিনী অন্যখানে। এই ‘ডিজিটাল ট্রানজিশনে’ সবচেয়ে লাভ দেশের মোবাইল ব্রডব্যান্ডের। অ্যানালগ থেকে বেঁচে যাওয়া ফ্রিকোয়েন্সী দিয়ে দেয়া যাবে দেশের ব্রডব্যান্ড গল্পে। এইজন্যই এটার নাম ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’। পাঁচ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ‘থ্রীজি’ সার্ভিস? হয় নাকি কখনো। আমাদের মতো শত কোটি মানুষের দেশে? আর ডিজিটাল টেলিভিশন মানুষের জীবন কি সহজ করে দেবে সেটা নিয়ে অপেক্ষা রাখে না বলার। এর ভ্যালু চেইন উচ্চমার্গের।

৬৪৭.

ফিরে আসি আমার গল্পে। স্পেকট্রাম। ইউরোপিয়ান কমিশন তাদের স্পেকট্রামের ওপর দিয়ে দেয়া সার্ভিসগুলোর দাম যোগ করতে গিয়ে পেল ২৫০ বিলিয়ন ইউরোর ওপরে। এটা পুরো ইউরোপের বাত্‍সরিক জিডিপির ২.২ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭০০ মেগাহার্টজ বিক্রি করে পেল ১৯.১ বিলিয়ন ডলার। সেই দুহাজার আটে। বিক্রি করেছিলো মাত্র ৫৬ মেগাহার্টজ। জার্মানী বিক্রি করলো ৬০ মেগাহার্টজ ওই দুহাজার দশে। ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে। পেয়েছিলো ৩.৫৭ বিলিয়ন ইউরো। ফ্রান্স ওই ৬০ মেগাহার্টজ বিক্রি করে আয় করেছিলো ২.৬ বিলিয়ন ইউরো।

৬৪৮.

দাম নিয়ে সবার বক্তব্য কি হবে সেটা না জানলেও একটা জিনিস বুঝি ভালোভাবে। এর দাম হওয়া উচিত্‍ ‘অপুরচুনিটি কস্ট’এর ভিত্তিতে। গ্রাহকদের ‘নাভিশ্বাস’ তুলে নয়। আমার দেশের ‘পারচেজিং প্যারিটি’ মানে কেনার ক্ষমতা আর জিডিপিকে তুলনা করা যাবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। লিখেছি আগে এব্যাপারটা নিয়ে। ভালো কথা, স্পেকট্রাম তুমি কার?

মজা জানেন কোথায়? কেন দাম উঠছে এতো? ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে (আমাদের ওয়াইম্যাক্স ব্যান্ড) দশ গুণ বেশি বেজস্টেশন লাগবে যদি একই জায়গা ‘কাভার’ করতে হয় ওই ৮০০ মেগাহার্টজ দিয়ে। মজা আছে আরো।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

It is truly rare for people to outmaneuver Big Telecom’s army of lobbyists, but together Canadians did it. Now that we’ve prevented big phone and cable companies from taking full control, it’s time to fix our broken telecom market for good. A first step is for Canadians to move to independent providers, then we need to shift policy so everyone has affordable choices for Internet access. Our future depends on it.

Steve Anderson, Executive Director, OpenMedia.ca

৬৩৬.

দেশগুলোর রেগুলেটরী এজেন্সি তৈরির পেছনে ‘গ্রাহকস্বার্থ’ দেখার ব্যাপারটা কাজ করে বেশি। গ্রাহক ঠিকমতো তার সার্ভিসটা পাচ্ছে কিনা বা যে টাকা দিয়ে কিনছে সেটা যথোপযুক্ত কিনা, এধরনের ‘নজরদারি’ করে থাকে রেগুলেটরী এজেন্সি। দেশের মানুষের ভালো দেখবে তারা, সেটাই থাকে মুখ্য। আর রেগুলেটরী এজেন্সি বাইরের সব ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে সেটাও আশা করে জনগণ। তবে বড় বড় ইনডাস্ট্রির জন্য রেগুলেশন সরকারের মাথা ব্যাথা হয়ে দাড়ায় অনেক সময়। অর্থনৈতিকভাবে এ ব্যাপারটা আরো প্রকট হয় যখন বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোর কাছে প্রচুর পয়সা থাকে। ফলে, তাদের কাছে চলে যায় সেরা মেধাগুলো, সেরা আইনজীবী, হাজারে হাজারে। সরকারও ধরে রাখতে পারে না তাদের ‘সেরা মেধাগুলো’ – তাদের বেতন স্ট্রাকচারের কারণে। ফলে রেগুলেটর জনগণের না হয়ে – হয়ে যায় ইনডাস্ট্রি’র ‘হস্তগত’। ‘রেগুলেটরী ক্যাপচার’ হচ্ছে এর আইনগত সংজ্ঞা। দাম বেড়ে যায় পণ্যের।

৬৩৭.

দেখা গেছে কোম্পানীগুলোর স্যাটেলাইট অফিস থাকে সরকারী অফিসের কাছাকাছি। লবিষ্টদের কথা আর নাই বা বললাম। ছোট কোম্পানী আর সাধারণ জনগণের দিকটা দেখা অনিবার্য হয়ে পড়ে ওই রেগুলেটরী এজেন্সি’র ওপর। তবে সেটা হয়ে ওঠে না সবসময়। দেখা যায় সরকারের নীতিনির্ধারণীতে থাকা মানুষগুলো পরিবেষ্টিত থাকে ওই বড় বড় কোম্পানীর ‘মেধাবী’ মানুষদের দিয়ে। ছোট কোম্পানীগুলো বা সাধারণ জনগণ তো তাদের নিজেদের ‘দিনকে দিনের’ সমস্যা মেটাতেই ব্যস্ত, তার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কিনা সেটার পেছনে দৌড়ানো হয় কমই। আপনি করবেন? আপনার পেটের দায় আগে – না আপনার ‘গ্রাহকস্বার্থ’? আর সেকারণে দেশগুলো তৈরি করে থাকে আলাদা ‘গ্রাহকস্বার্থ’ কমিশন।

৬৩৮.

প্রতিটা ইনডাস্ট্রির কিছু স্বার্থ থাকে যেটার জন্য সেই কোম্পানীটা যে কোন দৌড়ে যেতে আগ্রহী। এভিয়েশন ইনডাস্ট্রির দিকে তাকাই একবার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওই সেক্টরের রেগুলেটর হচ্ছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন, যাকে আমরা বলি ‘এফএএ’। তাদের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন’ মানে মন্ত্রণালয়ের একটা ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টে দেখা গেলো একটা নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সের ৪৬টা প্লেন আকাশে উড়ছিলো ‘সেফটি ইন্সপেকশন’ ছাড়াই। সাধারণ গাড়ির মতো প্রতিটা প্লেনের ‘ফিটনেস’ সার্টিফিকেট নিতে হয় একটা সময় পর পর। ওই এয়ারলাইন্সটাকে দুবছর ধরে এই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো তাদের রেগুলেটর। যাত্রীদের জানের ওপর বাজী রেখে ওই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো এফএএ’র অফিসাররা। এদিয়ে বাকি এয়ারলাইন্সগুলোর অডিট রিপোর্ট ঠিকমতো যাবার ফলে ‘গ্রাউন্ডেড’ হয়ে গেল শত শত প্লেন। শুরু হয়ে গেল ফ্লাইট ক্যান্সেলেশন। তাও আবার হাজার খানেক ফ্লাইট। ঘটনা প্রকাশ পেল যখন ওই এয়ারলাইন্সের একটা প্লেনকে ‘গ্রাউন্ডেড’ করতে যেয়ে। প্লেনের ‘ফিউজলাজে’ কয়েকটা ফাটল পাওয়াতে ইন্সপেকটর ‘ক’কে বলা হলো ‘রেগুলেটরের ভালো সম্পর্ক’ আছে ওই এয়ারলাইন্সের সাথে।

৬৩৯.

মার্কিন টেলিযোগাযোগ রেগুলেটর এফসিসি’কে কম কথা হয়নি। ‘এফসিসি’ বিশাল মিডিয়া ইনডাস্ট্রির ‘হস্তগত’ হয়ে আছে এধরনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিলো অনেকদিন থেকে। যাই রেগুলেশন করা হয় সেগুলো সাপোর্ট করছিলো ওই বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোকে। কর্পোরেট ‘কার্টেলাইজেশন’ আর কি। বড় বড় মিডিয়া ইনডাস্ট্রির যোগসাজসে ক্রমশ: খরচ বাড়ছিলো গ্রাহকদের। ছোট ফার্মগুলো টিকতে না পেরে গুটিয়ে ফেলছিলো তাদের ব্যবসা। নতুন কোম্পানীও আসতে পারছিলো না বাজারে। ফলে উদ্ভাবনা যাচ্ছিলো কমে। দিনের শেষে গ্রাহকের পছন্দের ‘বিকল্প পন্য’ আসছিলো কমে। মানে সোজা। ধরুন, আগে ছয়টা কোম্পানী দিতো মোবাইল সেবা, ‘মার্জার অ্যাকুইজিশন’ হয়ে কোম্পানী হয়ে গেলো তিনটা। পছন্দের সংখ্যা গেলো কমে। এদিকে রেডিও টেলিভিশন লাইসেন্স পাবার ক্ষেত্রে পাত্তাই পেল না ছোট কোম্পানীগুলো।

৬৪০.

ঘুরে আসবো নাকি কানাডা একবার? কানাডিয়ান রেডিও-টেলিভিশন এণ্ড টেলিকম্যুনিকেশনস কমিশন হচ্ছে ‘কনভার্জড’ রেগুলেটর। ব্রডকাস্টিং, মিডিয়া, টেলিযোগাযোগ – সবই তার আওতায়। এক কথায় আধুনিক রেগুলেটর। বেল কানাডা, সবচেয়ে বড় অপারেটর – একবার কিভাবে যেন হোলসেল ইন্টারনেট বিক্রির ওপর ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ সিষ্টেমটা নিয়েছিল পাস করে। খোদ রেগুলেটর থেকে। মানে বেল কানাডা থেকে হোলসেল ইন্টারনেট কিনতে গেলে পয়সা গুনতে হবে ব্যবহারের ওপর। কিনতে হবে গিগাবাইট ধরে। আইএসপিদের যদি এভাবে কিনতে হয়, তাহলে গ্রাহকদের অবস্থা বারোটা। মোবাইলের ব্যপারটা কিছুটা আলাদা। তাদের সীমিত রিসোর্স হচ্ছে স্পেকট্রাম। ফলে ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ দিয়ে গ্রাহকদের চাপটা কমিয়ে নিয়ে আসে নেটওয়ার্কের ওপর থেকে। রাগান্বিত গ্রাহক আর আইএসপিরা শুরু করলো অনলাইন পিটিশন। পাঁচ লাখ লোকের পিটিশন। রেগুলেটর আর ‘বেল কানাডা’র মিল-মিলাপের গল্প শুরু হলো মিডিয়াতে। চাপ তৈরি হলো পার্লামেন্টারী স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর। ডাক পড়লো কমিশনের চেয়ারম্যানের। পিছু হটলো রেগুলেটর

এতে দাম বাড়ে বৈকি। এখন উপায় কি? আবার, মেধাগুলোকেও রাখা যাচ্ছে না সরকারে। উপায় না থাকলে শুরুই বা কেন করলাম গল্পটা?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

What you do has far greater impact than what you say.

— Stephen Covey

৬৩১.

ইকনোমিস্টের একটা রিপোর্ট পড়ছিলাম দিন কয়েক আগে। ওদের ‘ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট’ থেকে প্রতিনিয়ত ‘স্পেশাল রিপোর্ট’ বের করে – বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যাকে নিয়ে। এটা ছিলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্রডব্যান্ডের ভবিষ্যতের ওপর। মোবাইল ব্রডব্যান্ড নিয়ে অনেক আশা থাকলেও সেটার কিছু সমস্যা পিছিয়ে দিচ্ছে দেশগুলোকে। অপারেটররা চাচ্ছে নেক্সট জেনারেশন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে – তবে সেটার কাঁচামাল হচ্ছে এই স্পেকট্রাম। আর সেটার ‘অ্যালোকেশন’ নিয়ে যতো সমস্যা। আগে ঠিকমতো ‘অ্যালোকেশন’ না দেয়াতে নতুন করে পাওয়া যাচ্ছে না স্পেকট্রাম। অথবা নতুন স্পেকট্রাম কিভাবে দেবে সেটার ‘মোডালিটি’ কি হবে সেটা জ্ঞান না থাকার কারণে সময় ক্ষেপণ হচ্ছে অনেক অনেক বেশি। স্পেকট্রামের দামটা কি হবে সেটা নিয়ে কালক্ষেপণ করছে অনেক দেশ। অথচ, এটার ব্যপারে ‘অপুরচুনিটি কস্ট’ বলে একটা হিসেব চলছে উন্নত দেশগুলোতে – অনেকদিন ধরে।

৬৩২.

অর্থনীতির সংজ্ঞাতে গেলে কিন্তু বিপদ। উদাহরণ টানি বরং – এই স্পেকট্রাম দিয়েই। স্পেকট্রামের ‘অপুরচুনিটি কস্ট’ বের করতে পারি দুভাবে। প্রথম প্রশ্ন, মোবাইল অপারেটর ‘ক’কে ওই স্পেকট্রামটা ছাড়া পুরোনো স্পেকট্রাম দিয়ে একই ভূখণ্ড আর গ্রাহকদের সার্ভিস দিতে গেলে তার বাড়তি খরচ করতে হবে কতো? মানে, তাকে বার বার ব্যবহার করতে হবে ওই পুরনো স্পেকট্রাম, কমিয়ে দিতে হবে ট্রান্সমিশন পাওয়ার, কিনতে হবে অনেক বেশি বেজস্টেশন। আরেকটা প্রশ্ন হতে পারে এধরনের – আমরা স্পেকট্রামটা যদি অন্য কোন সার্ভিসে দিতাম, তাহলে ওই নতুন মোবাইল কোম্পানীটা কতো টাকার সুবিধা পেত ওই সার্ভিসটা তৈরি করতে গিয়ে? এটাই ‘অপুরচুনিটি কস্ট’, যেখানে অপারেটরও খুশি আর গ্রাহককেও দিতে হচ্ছে না অকশনের উচ্চমূল্যের খেসারত। ‘থ্রীজি’ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয়া হলো এশিয়ার প্রথম দিকের দেশগুলোর প্রায় বারো বছর পর। সিংগাপুরের রেগুলেটর অপারেটরদের পুরোনো ‘টুজি’ স্পেকট্রামের ওপর সব টেকনোলজি চালাতে দিয়ে এগিয়ে গেলো সবার – অনেক অনেক আগে। বলছিলেন সেখানকার ডেপুটি চীফ এগজিকিউটিভ, লেয়ং কেঙ্গ থাই। এক ধাক্কায় তাদের অপারেটরগুলো চলে গেলো ‘টুজি’ থেকে ‘ফোরজি’তে। দিতে শুরু করলো সত্যিকারের মোবাইল ব্রডব্যান্ড।

৬৩৩.

রেগুলেটরের ভাষায় এটাকে বলে ‘টেকনোলজি নিউট্রালিটি’ – মানে স্পেকট্রাম কিনে নাও কোন ধরনের ‘ইফ’ আর ‘বাট’ ছাড়াই। ‘নো স্ট্রিংস অ্যাটাচড’। যে সময়ের জন্য কিনছো, ব্যবহার করো নিজের পছন্দমতো টেকনোলজি, বাজার যা চায়। বাজার ‘টুজি’, না ‘থ্রীজি’, না ‘ফাইভজি’, যা চাইবে সেটা দিতে পারবে ওই স্পেকট্রাম দিয়ে। এক কথায় অপারেটরকে স্বাধীনতা দেয়া স্পেকট্রামের ‘এফিশিয়েণ্ট’ ব্যবহারের ওপর। দুশো হার্টজ নাকি দশ মেগাহার্টজের চ্যানেল প্ল্যান, স্বাধীনতা অপারেটরদের। গ্রাহক বুঝে। আরেকটা উদাহরণ নিয়ে আসি আপনার সুবিধার জন্য। বাজার থেকে কিনলেন ফুলপ্যান্ট একটা। প্যান্টের পকেট চারটা, তার তিনটাই সেলাই করা। বলা হলো, ব্যবহার করতে পারবেন একটা, বাকিগুলো খুলতে লাগবে – পঞ্চাশ টাকা করে – প্রতিটা। পুরো প্যান্টের ‘এফিশিয়েণ্ট’ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হলো আপনাকে।

৬৩৪.

রেগুলেটরের কাছে এটা একটা কলমের খোঁচা হলেও, অপারেটরের কাছে এটা একটা বিশাল জিনিস। এটা একটা নতুন ধরনের ‘সিগন্যাল’ দেয় বাজারে। সেটা চলে যায় পুরো বিনিয়োগ দুনিয়ায়। আনকোরা নতুন মেসেজ। ‘নিশ্চয়তা’, রেগুলেটরী সার্টেনিটি। আর সেকারণে ‘ব্রডব্যান্ড ওয়ারলেস অ্যাক্সেস’ লাইসেন্সে ব্যাপারটা ঢোকাতে না পারলেও থ্রীজি লাইসেন্সের প্রথম ড্রাফটেই দেয়া হয়েছিল এই ‘নিউট্রালিটি’র ব্যাপারটা। অনেক রেগুলেটর এটাকে ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ বলে থাকেন। নীতিমালার নিশ্চয়তা চায় সবাই। অপারেটর, গ্রাহক, সবাই। জিএসএম অপারেটরদের অ্যাসোশিয়েশন, জিএসএমএ’র একটা স্টাডি বলে শুধুমাত্র এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিয়নের জিডিপি বাড়বে এক ট্রিলিয়ন ডলারে। ২০১৪ থেকে ২০২০য়ের মধ্যে। একটাই শর্ত, ‘এফিশিয়েণ্ট ইউজ অফ স্পেকট্রাম’। বেশি মনে হতে পারে, তবে, আমার ধারণায় এটা ছাড়িয়ে যাবে তাদের হিসেবকে। সেটা দেখাবো কাগজে কলমে। সামনে।

৬৩৫.

তবে মোবাইল ব্রডব্যান্ড সব সমস্যার ‘জীয়ন কাঠি’ – এটা ভাবা ভুল হবে। এমনটাই বলেছেন আরেকজন আইটিইউ কন্সাল্ট্যান্ট। মোবাইল ব্রডব্যান্ড ততোক্ষণ পর্যন্ত ভালো সার্ভিস দেবে যখন তার পাশাপাশি ভালো ‘ফিক্সড’ নেটওয়ার্ক থাকবে। ‘ফিক্সড লাইন অ্যাক্সেস’ আর ‘ওয়াই-ফাই’ না হলে এতো ডাটা ‘অফলোড’ একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার – তাও আবার শহরগুলোতে। স্মার্টফোন কিন্তু বাড়ছে হু হু করে। ফেমটোসেল আর ওয়াই-ফাই কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে অপারেটরদের। সিংগাপুরের রেগুলেটর সবার সাথে বসে তৈরি করছে ‘হেটনেট’। এই ‘হেটারোজেনাস নেটওয়ার্কে’ থাকছে ফিক্সড লাইন, মোবাইল অপারেটরের ডাটা, ওয়াইফাই আর ছোট ছোট সেলুলার নেটওয়ার্ক। গ্রাহকরা বুঝবেনই না কিভাবে ‘সিমলেস ট্রানজিশন’ হচ্ছে নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে। ওটা তো জানার দরকার নেই জনসাধারণের। এটা ছাড়া, এই বিশাল ডাটা ডিমান্ড মেটানো সম্ভব নয়, কারো একার পক্ষে। আর ঢাকা শহরের জন্য আমার প্রস্তাবনা কিছুটা ভিন্ন। সেটা প্রাসঙ্গিক নয় বলে এখানে আলাপ করছি না। কীওয়ার্ড, নেটকো মডেল।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Do you know what my favorite renewable fuel is? An ecosystem for innovation.

– Thomas Friedman

৬১৩.

ছোটবেলায় ইকোসিষ্টেম নিয়ে ভাবলেই মনে আসতো মানুষ, গরু, ছাগল, ঘাসপাতা, গাছের ছবি। ওগুলো ছিলো ডাঙার অংশে। বাতাস সূর্য আর পানি ছিলো ‘জীবনহীন’ কম্পোনেণ্ট। পানির অংশে তাকাতেই ভয় লাগতো আমার। কুমির, তিমি – ছবির আকারে বেশ বড়ই ছিলো আঁকাগুলো। আসল কথা হচ্ছে সবাই মিলে একটা ইকোসিষ্টেম। লাগবে সবাইকে। মানে ওই ব্যাকটেরিয়াটাকেও। কোন একটা কম্পোনেট বাদ পড়লেই বিপদ। ‘ফীডব্যাক লূপে’ হবে সমস্যা। খাদ্য চেইনেও একই সমস্যা। কেউ উত্পাদক – কেউ ভোক্তা। ঘাস ছাড়া চলে না গরুর। আবার গরু ছাড়া চলে না মানুষের। এই ‘ইন্টার-ডিপেনডেন্সি’ চিরকালের। ব্রডব্যান্ডের ইকোসিষ্টেম তো আরো ভয়াবহ। প্রতিটা কম্পোনেণ্ট শুধু একটা আরেকটার ওপর শুধু ‘ডিপেনডেন্ট’ না, একটা আরেকটার প্রবৃদ্ধির সহায়ক। বইয়ের ভাষায় বলে ফেললাম মনে হচ্ছে।

৬১৪.

ব্রডব্যান্ড ইকোসিষ্টেমে আছে কি? শুরুতেই নিয়ে আসি হাই-স্পীড নেটওয়ার্ককে। আমাদের নীতিনির্ধারকরা এটা বোঝেন ভালো। ইন্টারনেট ছড়াতে এটার পেছনেই খরচ করছেন কোটি কোটি টাকা। তাও আবার দিচ্ছেন বিটিসিএলকে। এই ইকোসিষ্টেমের ‘ইনভেস্টমেন্ট’ আসবে কিভাবে? ওই ‘পাজল’টা মেলাতে লেখা হয়েছে আরেকটা চ্যাপ্টার। পাইপ তো হলো, ভেতর দিয়ে আসা যাওয়ার জিনিস কোথায়? সেটা হচ্ছে সার্ভিস, যা তৈরি করতে আমরা আসলেই দুর্বল। কোটি টাকা দিয়ে বানালাম স্কুল, বই ছাড়া। অথচ এই ‘সেবা’র জন্যই সবকিছু। এই সার্ভিস হচ্ছে আমাদের ব্রডব্যান্ড ইকোসিষ্টেমের দ্বিতীয় কম্পোনেণ্ট। আবার সার্ভিসগুলো কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক। অ্যাপ্লিকেশন প্রোভাইডাররা বসবেন কোথায়? ভুল বুঝবেন না, এই কম্পোনেণ্টটাই বাঁচিয়ে রেখেছে নেটওয়ার্ক প্রোভাইডারকে। অ্যাপ্লিকেশন ছাড়া ইন্টারনেট কেন, আপনার স্মার্টফোনই তো অচল। এই বিলিয়ন ডলারের অ্যাপ্লিকেশন (নাকি অ্যাপ) হচ্ছে তিন নম্বর কম্পোনেণ্ট। টেলকো’রা প্রায় অভিযোগ করেন – কমছে তাদের আয়। টেলকো’র ব্যবসা আগে ছিলো ‘ওয়ালড গার্ডেন’ ধাঁচের। নিজ নিজ অ্যাপ্লিকেশন শুধুমাত্র নিজ গ্রাহকের জন্য। ইন্টারনেট ভেঙে ফেলেছে ওই ‘ওয়ালড গার্ডেন’য়ের ব্যবসা, থমাস ফ্রীডম্যানের ভাষায়, ওয়ার্ল্ড হ্যাজ বিকাম ফ্ল্যাট! একেবারে ফ্ল্যাট! ভিসা লাগে না আয় করতে। পাশাপাশি আয় বাড়ছে টেলকো’র হু হু করে। আর যতো বাড়ছে অ্যাপ্লিকেশন, ততো মোটা হচ্ছে পাইপ। মানে ব্যবসা হচ্ছে পাইপেরও। আর যাই করেন – মিটার লাগানো আছে তো পাইপে। তবে ‘নেট নিউট্রালিটি’র একটা ধকল যাবে সামনে। ওটা আরেকদিন!

কোনটা ফেলনা নয়। একটা ছাড়া চলবে না আরেকটা। নেটওয়ার্কে পয়সা ফেললেই হবে না - বাকিগুলোকে দেখভাল করতে হবে।

কোনটা ফেলনা নয়। একটা ছাড়া চলবে না আরেকটা। নেটওয়ার্কে পয়সা ফেললেই হবে না – বাকিগুলোকে দেখভাল করতে হবে।

৬১৫.

চার নম্বর কম্পোনেণ্টের কথা ভুলে যায় সবাই। আমরা মানে ‘ব্যবহারকারীরা’। গ্রাহক। ফেসবুকের ভাষায় ‘আম জনতা’। যে যাই বলুক – ভোক্তা ছাড়া ব্রডব্যান্ড ইকোসিষ্টেমের পুরোটাই অচল। দিচ্ছে কে পয়সাটা – দিনের শেষে? ভোক্তা। আমার ভাষায় ‘প্রাইস সেনসেটিভ’ ভোক্তা। ব্রডব্যান্ড ইকোসিস্টেমের সবচেয়ে নামী দামী কম্পোনেণ্টকে নিয়ে ভাবেন কম – নীতিনির্ধারণীতে বসা মানুষেরা। আমি নিজেই ওখানে ছিলাম বলেই বলছি ব্যাপারটা। বিশ্বাস করুন, সার্ভিসের দাম আর তার সহজলভ্যতাকে ঠিকমতো ‘টুইকিং’ করতে পারলে এটাই মোড় ঘুড়িয়ে দেবে পুরো ইকোসিস্টেমের। গ্রাহকের সাথে অ্যাপ্লিকেশনের সম্পর্ককে বাদ দিলে চলবে না কিন্তু। ইন্দোনেশিয়ায় যে ধরনের অ্যাপ্লিকেশন চলে বেশি সেটা আমাদের দেশে যে চলবে সেটার গ্যারান্টি দেবে কে? বাড়বে গ্রাহক একসময়। বাড়বে গ্রাহকের চাহিদা, বাড়বে ‘সফিস্টিকেশন’, আর সেটাই বাড়াবে ডিমান্ড। ডিমান্ড বাড়লে আসবে ‘ইনভেস্টমেন্ট’ নেটওয়ার্কে। তখন, পয়সা আসবে উড়ে উড়ে। মানে ঘুরতে থাকবে ইকোসিস্টেমের বৃত্তটা। একেকটা ‘কম্পোনেণ্ট’ ঠেলে ওপরে ওঠাবে তার পরের কম্পোনেণ্টটাকে। প্রতিটা কম্পোনেণ্টকে ঠিকমতো দেখভাল করলে আর তাকাতে হবে না পেছনে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Outstanding leaders go out of their way to boost the self-esteem of their personnel. If people believe in themselves, it’s amazing what they can accomplish.

— Sam Walton

৬০৮.

ইন্টারনেটের সফল দেশগুলোর নাম তো জানেন সবাই। ওদের ইতিহাস পড়ছিলাম এক এক করে। এদের প্রায় প্রত্যেকেই ইন্টারনেটের শুরুর দিকে জোর দেয় ডিমান্ড ‘ফ্যাসিলিটেশন’ – ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়ানো গল্প নিয়ে। সে কারণে তাদের আগের নীতিমালাগুলো ‘সাপ্লাই সাইড’ থেকে ‘ডিমান্ড তৈরি’ নিয়ে ব্যস্ত ছিলো বেশি। বাজার তৈরি করা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট মানুষের কি কি সুবিধা দিচ্ছে সেটা নিয়ে জোর প্রচারনা ছিলো সবসময়ে। সরকারী প্রতিটা অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে গিয়েছিলো ইন্টারনেটে। ইন্টারনেট মানে স্বচ্ছতা – নয় কোন দালালী – মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের নিশ্চিহ্ন করার যা যা ব্যবস্থা নিতে হয় সব করেছিলো দেশগুলো। ইন্টারনেটকে সহজলভ্য করার হাজারো পন্থা বের করেছিলো গনশুনানী করে। পার্টনার করে নিয়েছিলো ইনডাস্ট্রি স্টেকহোল্ডারদের। বলেছে – কমিয়ে দাও ইন্টারনেটের দাম – কি লাগবে তোমাদের? কোথায় কোথায় পাল্টাতে হবে নীতিমালাগুলোকে? দেখিয়ে দাও, ঠিক করে দিচ্ছি এক এক করে। যা যা পেরেছে ঠিক করে দিয়েছে রেগুলেটর।

৬০৯.

নিয়ে আসো আরো গ্রাহক বান্ধব সেবা, নিয়ে যাও ওই ‘বটম অফ দ্য পিরামিডে’র লোকটার কাছে। ওর কাছে পৌছানো মানে হচ্ছে সবার কাছে পৌছানো’র কাজটা হয়েছে ভালোভাবেই। পিরামিডের সবচেয়ে নিচের স্তরে যে মানুষগুলো আছে তাদের দেখভাল করবে কে? ওই দেখভাল করার জন্য ছাড় দাও অপারেটরদের, উইন উইন সিচ্যুয়েশন। আমরা দেখবো অপারেটরের কিছু দিক, তখন সেও দেখবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষটকে। কত ছাড়ে কতো সুবিধা – সেটা আবার দেখবে রেগুলেটর। রেগুলেটরের রোল পাল্টে গেছে অনেক আগেই – বুদ্ধিমান দেশগুলোতে। টেলিকম রেগুলেটর ইদানিং দেখছে শুধুমাত্র স্পেকট্রাম আর নাম্বারিং। বাকি সব চলে গেছে ‘কনজ্যুমার প্রোটেকশন’ আর ‘কম্পিটিশন’ এজেন্সির কাছে। গ্রাহকস্বার্থ ব্যাপারটা কতো বড় জিনিস সেটা বুঝেছি অনেকগুলো রেগুলেটরের ‘অ্যানুয়াল রিপোর্ট’ দেখে। সাইটে আছে দেয়া। ‘বুদ্ধিমান’ দেশগুলোতে গেলে ওটা ছিলো একটা ‘মাস্ট’ আইটেম – নিয়ে আসার।

৬১০.

আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি ভালো করেই – ইন্টারনেটে সফল দেশগুলোর অনেকেই মুখাপেক্ষী হয়ে ছিলো না অপারেটরদের ওপর। সরকারী টাকা খরচ হয়েছে ‘এসপিভি’র ওপর। তৈরি করেছে ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাক্চার। যুক্ত করেছে গ্রামগুলোকে শহরের সাথে, বিছিয়েছে হাজারো কিলোমিটারের ফাইবার অপটিক কেবল। এসপিভি, স্পেশাল পারপাজ ভেহিকেল। সবার অংশগ্রহণে একটা কোম্পানী। সরকারের একটা ‘স্টেক’ থাকলেও ম্যানেজমেন্টে হাত দেয় না। ওটা ছেড়ে দেয়া থাকে দক্ষ ম্যানেজমেন্টের ওপর। এটা নিয়ে লিখেছি অনেকবার। মনে আছে বিটি, ব্রিটিশ টেলিকমের কথা? ইনফ্রাস্ট্রাক্চার কোম্পানীর সংখ্যা দুটোই যথেষ্ট। পুরো দেশকে যুক্ত করবে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ – সব ব্যাকবোনে। অ্যাক্সেস কোম্পানীগুলো, হতে পারে মোবাইল, পিএসটিএন অথবা আইএসপি – তাদের ‘লাস্ট মাইলের’ আগের ‘মিডল মাইল’ নেবে ইনফ্রাস্ট্রাক্চার কোম্পানী থেকে। লাস্ট মাইলে এখনো দারুন কাজ করছে স্পেকট্রাম।

৬১১.

আসল কথাটা বলিনি এখনো। সরকারী ফান্ডের একটা বড় অংশ যায় ‘আর এণ্ড ডি’তে। মানে, ইউনিভার্সিটিতে। রিসার্চ ছাড়া দুনিয়া অচল। ইন্টারনেটকে কিভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে পুরো দেশে – এটা নিয়েই তৈরি হয় বিশাল বিশাল প্রজেক্ট। নীতিমালা বানানোর প্রজেক্ট। কোন নীতিমালায় পয়সা নষ্ট হবে কম। ওর মধ্যে থাকবে দেশীয় কনটেন্ট তৈরির জন্য বিশাল প্রণোদনা, কারণ তাহলে সবই ‘হোস্ট’ হবে দেশের ভেতর। এছাড়া ওই কনটেন্টগুলো পড়তে পারবে সবাই। মনে আছে জিপিটি’র কথা? ‘জেনারেল পার্পাজ টেকনোলজি’। বললে হবে না যে – “বুঝি না ইন্টারনেট”। দরকার পড়লে হাসপাতালের উচ্চপ্রযুক্তির জিনিসপত্র বুঝতে পারছি কিন্তু আমরা – তাহলে সাধারণ মোবাইল ব্যবহার করে পরীক্ষার ফী দিতে পারবো না কেন?

দরকার প্রযুক্তি ব্যবহার করার প্রায়োগিক বিদ্যা। এই প্রশিক্ষণ দিয়েছে ওই দেশগুলো – তাদের বয়স্কদের। চালিয়েছে ‘ডিজিটাল লিটারেসী প্রোগ্রাম’। ওর কিছু ‘স্যাম্পল’ও ছিলো আমার কাছে। দূরে নয়, সিঙ্গাপুরে গেলে পাবেন ভুরি ভুরি।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: