Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘Bangla’

You have taught me very important lesson, Xiao Dre. Life will knock us down, but we can choose whether or not to stand back up.

Being still and doing nothing are two very different things.

– Mr. Han [The Karate Kid ,2010]

২০৫.

কয়েকদিন ধরেই শব্দটা ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়। বার বার। রেলেভেন্স। মানে প্রাসঙ্গিকতা। বুড়ো হয়ে যাচ্ছি আমি। সবকিছুর সাথে নিজেকে ‘রেলেভেন্ট’ রাখা যে কতো কষ্টকর সেটা বুঝতে পারছি হাড়ে হাড়ে। হাজারো কথাবার্তা পড়ি পত্রপত্রিকায়। কথা বলি অনেক মানুষের সাথে। রেলেভেন্সের প্রকট অভাব। নিজেরও একই সমস্যা। জন মায়ারের ‘কন্টিনিউয়াম’ অ্যালবামটা কিনেছিলাম জাপান থেকে। এক বন্ধুর পাল্লায় পড়ে। মায়ারের কনসার্টটা দেখিয়েছিলো ওই। শুনেছিলামও কয়েকবার অ্যালবামটা। নাউ, ইট ইজ গ্যাদারিং ডাস্ট। এর মানে নয় যে অ্যালবামটা ভালো না, বরং ওর্থ এভরি পেনি! হয়তো ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম অন্যকিছুতে।

২০৬.

স্বাতী ওর বোনের মেয়ের বিয়ের আয়োজনে কয়েকদিন ধরেই ব্যস্ত। আজ সকাল থেকে বাচ্চ্চাগুলো নিয়ে সকাল থেকেই গায়েব। বাসায় ছিলাম একাই। দুটো বইও নিয়ে বসেছিলাম সকালে। দুপুরে বোকার বাক্সটা খুলতেই আটকে গেলাম। সাধারণতঃ টিভি জিনিসটা দেখা হয় কম। অ্যাকশন আর হরর মুভি – একেবারে নো নো! ‘কারাটে কিড’ মুভিগুলোর সিকুয়েল ‘অ্যাকশন/কুংফু’ জাতের হওয়াতে ওদিকে মাড়াতাম না কখনোই। কারাটে কিড, মানে প্রথম মুভিটা খানিকটা দেখেছিলাম এলিজাবেথ শু’র জন্য। হাজার হোক ছোটবেলার ক্রাশ বলে কথা। দুই নম্বরটাও খানিকটা দেখেছিলাম ‘গ্লোরি অফ লাভ’ সাউন্ডট্রাকটার জন্য। প্রাক্তন শিকাগো’র পিটার সেটেরা আমার বুক ভরে আছে এখনো। গান করো ভালো কথা – মাথা খারাপ করে দিয়ো না বাপু। আমার হাজার হাজার ‘ওয়েস্টেড’ আওয়ার্স এর পেছনে দায়ী এই গায়কও শামিল।

২০৭.

ঘাপলা লাগালো কারাটে কিড – দুহাজার দশের নতুন সেক্যুয়েলটা নিয়ে। তাও আবার ‘না পছন্দে’র জ্যাকি চ্যান আছে এর মধ্যে। রিমোটটা আবার ফ্লিপ করতে গিয়েও আটকে দিলো জন মায়ার। পাগল নাকি? এখানে কেন? মানে এই গানটা? মুভিটার পাঁচ মিনিট নয় সেকেন্ডের অংশটা আটকে দিলো সারাদিনের জন্য। বারো বছরের ড্রে পার্কার আর তার মা কাজের ট্রান্সফারের ধাক্কায় চলে আসে বেইজিংয়ে। ডেট্রয়েট থেকে বিমানে ওঠার পর থেকেই মা ধাতস্ত করতে চাচ্ছিলেন ছোট ড্রেকে। ‘তোমার নাম কি’ অথবা ‘তুমি কেমন আছ’ এধরনের ছোটখাটো ম্যান্ডারিন চাইনিজ প্র্যাকটিস করাচ্ছিলেন ওর মা – বাসা থেকে। খানিকটা আগ বাড়িয়ে কিছুটা পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ তৈরী করলেন তার মা – বিমানে বসে। তাও আবার তার পাশের চীনা চেহারার একটা ছেলের সাথে।

নিমরাজি ড্রে চাপে পড়ে নাক বোচকা ছেলেটার সাথে শুরু করলো কথাবার্তা।

ড্রে [আড়স্ট ম্যান্ডারিন চাইনিজে]: তোমার নাম কি? তুমি আছ কেমন?

ছেলেটা [খাঁটি মার্কিন অ্যাকসেন্টে, কিছুটা অবাক হয়েই]: ডুড, আমি ডেট্রয়েট থেকে!

ড্রে প্রচন্ড অকওয়ার্ড অবস্থায় পড়লেও মানিয়ে নেবার চেষ্টা করলো ওমুহুর্তে। বোঝাই যাচ্ছে পরের লাইনটা হাতড়ে বেড়াচ্ছে সে।

ড্রে: হোয়াটস আপ! লজ্জিত গলা ওর।

ছেলেটা মার্কিন কায়দায় ভ্রূকুটি করে জানালো – ভালো আছে সে।

পরিচালকের মুন্সিয়ানা শেষ হয়নি তখনো।  তেরো ঘন্টার ফ্লাইটে ড্রে’র অস্থিরতা চমত্কারভাবে ফুটিয়ে এনেছেন ওর ঘুমানোর দৃশ্যের ওপর দিয়ে। ট্রান্স-আটলান্টিক ফ্লাইটে সকালের আলো জানালা দিয়ে ঢোকানোর দৃশ্য যা তা ব্যাপার নয়। ড্রে’কে ফ্লাইট এটেন্ডেন্টের দেখভাল – ওর ঘুম থেকে ওঠা – মায়ের প্রশ্রয়ের হাসি – জানালায় সূর্য – মায়ারের গান; সব ফুটে এলো ওই আটান্ন সেকেন্ডে। পরিচালনায় নিচ্ছেন কবে আমায়?

২০৮.

মুভিটার পরিচালকদের মুন্সিয়ানা বোঝা গেলো ওই পাঁচ মিনিট আট সেকেন্ডের মাথায়। মায়ারের গিটারের শব্দ শুরু হয়ে গেলো অন দ্যাট ভেরি মোমেন্ট। অব্যর্থ নিশানা। ধারণা করছি হৃদয় এফোড় ওফোড় হয়ে গেলো সকল দর্শকদের। হৃদয় চুইয়ে ফোঁটা ফোঁটা আবেগ পড়ছিল আগে থেকেই। আটকাতে পারলাম না আর। বসে গেলাম পুরোটা দেখার জন্য। মনে এলো রেলেভেন্সের কথা। মনে হলো গানটা লেখা হয়েছে এই মুহুর্তের জন্য। আবার সবকিছুর সাথে অনেককিছু না গেলেও কিছু জিনিস এমনিই এমন ‘রেলেভেন্ট’ যে একটার কথা চিন্তা করলে আরেকটা চলে আসে এমনিতেই।

২০৯.

গানটা আসলে লেখা হয়েছিলো মুভির জন্য। তবে কারাটে কিডের জন্য নয়। পরিচালনায় কয়েকজনের সাথে আছেন উইল স্মিথ। মনে আছে ‘পার্স্যুট অফ হ্যাপিনেস’ মুভিটার কথা? উইল স্মিথের সাথে ছিলো ওর নিজের ছেলে জেইডেন স্মিথ। মন খারাপ করা একটা মুভি। সেই জেইডেনও আছে এখানে। কারাটে কিড মুভিটা কিন্তু দাঁড়িয়ে আছে ওর সহজ আর প্রেডিকটেবল প্লটলাইনের ওপর। লক্ষ্য করে দেখবেন ওর ডায়ালগগুলোও খুবই সহজবোধ্য। আর সহজবোধ্যতার জন্য এর ভেতরের মেসেজ টেনেছে আমাকে। ক্যাডেট কলেজ আর মিলিটারি একাডেমীর কুংফু ক্লাবের সদস্য থাকার ফলে ওর মেসেজ পানির মতো পরিস্কার।

২১০.

কুংফু একটা ওয়ে অফ লাইফ, এটা কখনই মারামারি বা জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না। জীবনের সেরা সিদ্ধান্তগুলো নেবার সময় কুংফুর ধারণাগুলো কাজে লেগেছে আমার। কুংফুর আসল ব্যবহার কিন্তু শান্তির জন্য, মনে আছে খৃস্টপূর্ব তিনশো পঁচাত্তরের ফ্লাভিয়াস রেনাটাসের কথা? ইফ ইউ ওয়ান্ট পিস, প্রিপেয়ার ফর ওয়ার? শান্তির জন্য রক্তারক্তির আউটকাম কখনই ভালো হয়নি। জীবনের সবকিছুই যুদ্ধ, আর সেকারণে একে বলে জীবনযুদ্ধ। আর যুদ্ধের কোনকিছুই রক্তারক্তির ওপর ছিলো না। যুদ্ধের আশিভাগই থাকে স্টেট অফ মাইন্ডের ওপর। মনস্তাত্ত্বিক।

২১১.

ফাইনাল টুর্নামেন্টে আগের প্রতিযোগী ড্রে’র পা ভয়ংকরভাবে মচকে দিলেও ও রিঙ্গে ফিরতে চাচ্ছিলো অদ্ভুদ কোনো কারণে। ডাক্তারের নিষেধ সত্ত্বেও হ্যানকে [জ্যাকি চান, ওর কুংফুর শিক্ষক] অনুনয় করছিলো বার বার।

হ্যান: কারণ, আমি তোমাকে আরো মার খেতে দেখতে চাই না।

ড্রে: মিস্টার হ্যান, প্লিজ, ছেড়ে দিন আমাকে, প্লিজ।

হ্যান: লক্ষী ড্রে, বলতো কেন? কেন ফিরতে চাচ্ছো ওই হতচ্ছাড়া রিঙ্গে? এতটাই দরকার কেন?

ড্রে: আমি এখনো ভীত পুরো জিনিষটা নিয়ে। কি হবে জানিনা – আজ রাতে। তবে আর ভীত থাকতে চাইনা [সারাজীবনের জন্য] – আজ রাতের পর থেকে।

২১২.

চোখ বেয়ে পানি আর আটকাতে পারলাম না এ অংশে। জীবনের হাজারো জিনিস নিয়ে ভীত এই মানুষ তার জীবনে যা করতে চায় – তার কিয়দংশও পারে না করতে। আমিও পারিনি। অন্যেরা কি মনে করবে – ওটা আমি পারবো কি – এই সেলফ ডাউটে পার করে সারা জীবন। বুকে হাত দিয়ে বলুন, যা করতে চেয়েছেন সারাজীবন – তা পেরেছেন কি? না পারলে – কি আটকে রেখেছে আপনাকে? পার হয়ে গিয়েছে বয়স? আমিও পারিনি বলে এখনো পারবোনা সেটা বলিনি তো আমি। পার হয়ে গিয়েছে বয়স? হয়েছে কি তাতে? পার হয়নি মনের বয়স। বিশ বছরের যুবকের আশি বছরের মানসিকতা দেখেছি অনেকের মধ্যে। তার দোষ দেখিনা সেখানে। পারিপার্শ্বিকতা আটকে রেখেছে ওকে, তাকে ছাড়ানোর দায়িত্ব আমাদের। জীবন আমাদের পরখ করছে প্রতিনিয়ত: – ঠেলে ফেলে দিচ্ছে কমফোর্ট জোনের বাইরে। পরোক্ষভাবে সাহায্য করছে যুদ্ধে জয়ী হতে। যতবার উঠে দাড়াই ওই জুজুবুড়ির ভয়কে পেছনে ফেলে, ততো অজেয় হয়ে উঠি আমরা।

আচ্ছা, ভালো কথা – জন মায়ারের গানটা শুনেছেন তো?

Even if your hands are shaking
And your faith is broken
Even as the eyes are closing
Do it with a heart wide open

Say what you need to say …

Advertisements

Read Full Post »

“I can shake off everything as I write; my sorrows disappear, my courage is reborn.” ― Anne Frank

৯.

বই লেখার সুবিধা কি?

বই লেখে পয়সা পাওয়া যায়, খ্যাতিও তো কম হয় না। তবে, এ উত্তরগুলো আসলে কোনো উত্তর নয়। ভালো উত্তরের জন্য ঘুরে আসি সামনে। উত্তরগুলো নতুন কিছু নয়, আমাদের সবার তা জানা।

১০.

প্রতিষ্ঠানের নলেজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করছিলাম বেশ কিছুদিন ধরে। এই বয়সে নতুন কিছু নিয়ে কাজ করা যাবে কিনা – তা নিয়ে সন্দিহান হওয়া অস্বাভাবিক নয়। নতুন কাজ নেবার অর্থ হচ্ছে নতুন কিছু শেখা। প্রতিদিন শিখছি। ভালোভাবেই শিখছি। নিজে শিখছি প্রতিদিন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নিজের শেখা বা তার প্রতিনিয়ত বেড়ে ওঠা, পড়তে যেয়ে জানলাম, ও আরেকটা রকেট সাইন্স! যে কোনো নতুন বিষয় নিয়ে বই লেখা মানে হচ্ছে নতুন কিছু শেখা, তাই বই লেখতে চাই, আরো। গত তিন বছর ধরে পড়ছি, এয়ারবাস এর এথ্রীএইটি নিয়ে লিখবো বলে। এর মাঝে স্বপ্ন নিয়ে শিখলাম অনেক কিছু। কারণ, কারো স্বপ্নই এই দোতলা পাখিটাকে উড়িয়েছে।

ডিম আর মুরগীর ব্যাপার। শিখতে হলে লিখতে হবে। লিখতে হলে শিখতে হবে। আসুন, আর দেরী কেন?

১১.

মানুষ লেখে ভালো কিছুর হওয়ানোর জন্য। ভালো কিছু করার জন্য। খারাপ কিছুকে বন্ধ করার জন্য। ফর আ বেটার কজ। মানুষ কিন্তু আদ্যোপান্ত ভালো, ভালোকে ওঠাতে চায়, খারাপকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। আর সেটার জন্য লেখার বিকল্প নেই। এধরনের বই লেখতে হলে আপনার “কজ”এর বাইরে যেয়ে একটা পক্ষপাতশূন্য অবস্থান থেকে তাকে বিশ্লেষণ করতে হবে। মানুষের মন জয় করতে জানতে হবে। মানুষের মনের অলিগলি ভালো ভাবে না জেনে আবেগের ভুল অবস্থান নিয়ে এগোলে হীতে বিপরীত হতে পারে। সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ বা সতীদাহ প্রথা উঠে গেছে শক্তিশালী লেখার কারণে। আবার সম অধিকারের জন্য আইন হয়েছে এই লেখার জন্য। “ইকুয়াল অপুর্চুনিটি প্রোভাইডার” কথাটা এমনিতেই আসেনি। কথায় আছে, লেখনী বন্দুকের নল থেকে অনেক অনেক শক্তিশালী।

১২.

লেখকরা সাধারণতঃ কোনো ঘটনায় উদ্বুদ্ধ বা তার ভুক্তভুগী হয়ে সেটার মানসিক তাড়নায় লেখেন। তা পরিবর্তন করে দেয় পৃথিবীকে। যেভাবে দিয়েছিল এলেক্স হেইলীর ‘রুটস্” বইটা।

১৩.

গাই কাওয়াসাকির কথা মনে আছে? সফল উদ্যোক্তা, অসম্ভব ভালো বক্তা, লেখক আর এপলএর প্রথমদিকের মানুষ যিনি ম্যাকিন্টশ কম্পুটারের সেলস টীমে ছিলেন। বই লেখার আসল কারণ খুড়তে খুড়তে তার ঘাড়ের উপর পড়লাম। মানুষের জীবনে প্রতিনিয়ত তাত্পর্য বা ভ্যালু যোগ করতে বই লেখা প্রয়োজন। বই পাঠক বা লেখক বই পড়ে বা লিখে যা উপকার পান তার কিছুটা (সত্যি, কিছুটাই – সবটা নয়!) নিচে দেয়া যেতে পারে।

জ্ঞানের বৃদ্ধি: নতুন ব্যবসা শুরু করতে ওই ধরনের জ্ঞান দরকার, কোটি বই আছে তার জন্য। হারভার্ড বিজনেস রিভিউ এর বইগুলো কত মানুষের জীবন পাল্টে দিয়েছে তার হিসেব নিয়েছেন কখনো? বিজ্ঞানের বই সবাই পড়ছি, মানুষের কষ্ট কমানোর জন্য দিন দিন। পুরনো ইতিহাস পড়ে জ্ঞান নিচ্ছি সামনের দিনগুলোকে আরো ভালোভাবে সামলানোর জন্য। ইয়ান মার্টেলের চোখ দিয়ে দেখবার চেষ্টা করছি …. আচ্ছা, ভালো কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, রিচার্ড পার্কার লোকালয়ে এসে আর পেছনে তাকালো না কেন? সে কি চিন্তা করছিলো ওই মুহুর্তগুলোতে?

উপলব্ধি বা বোধশক্তির উদয় হয়: বই পড়েই মানুষকে চিনেছি। হাজার খানেক বই পড়ে মানুষকে বুঝতে যেয়ে কিছুটা গুলিয়ে ফেলেছিলাম। আরো হাজার খানেক বই পড়লাম, পর্দা ফিকে হয়ে আসতে শুরু করতে শুরু করলো। “ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স” এর উপর কিছু বই পড়ার পর সবকিছু মালুম হওয়া শুরু করলো। আপনার নিজের মত অন্যের মত হিসেবে (যাতে তার ওনারশিপ থাকে, আর সেই মতটি কোনো কালেই ছিলো না আপনার) বের নিয়ে আসাটা শিখেছি বইয়ের গল্পের বাড়তি উপলব্ধি থেকে।

গান বা মুভি দেখার মতো আনন্দ দেয়: ছোটবেলায়, শিশু পত্রিকার জন্য মাস ধরে বসে থাকতাম। এরপর এলো নবারুণ, তারপর কিশোর পত্রিকা! ইউলিসিসের জাহাজে করে ঘুরে বেড়াতাম সারা পৃথিবী – আহা, পেনিলোপ! ফ্ল্যাশ গর্ডনের কথা নাই বা নিয়ে আসলাম, ডেল আর্ডেনকে নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। আমার মেয়ে ইনিড ব্লাইটনের বই নিয়ে পড়ে আছে। কি মজা পায়, কে জানে? আমরা যা হতে চাই, বই পড়ে তাই হতে পারি। স্বাতী মাঝে মধ্যেই বই পড়ে হাসে, হাসির বই আর দেখেছেন কি? উন্মাদের কপি বের করবো?

১৪.

আমার প্রথম টীমের জনবল চমত্কার হলেও ঠিকমত কাজ আগাচ্ছিলো না। সবাই ভালো, তবে স্ব স্ব ক্ষেত্রে, একক ভাবে। একসাথে কাজ করার বিষয়টা তাদেরকে হতবিহবল করে ফেলছিলো। টীমওয়ার্ক জিনিসটা তাদের কাছেও আনকোরা। প্রথম মানুয়ালটা লেখা হয়েছিল সেই পারস্পরিক সহযোগিতার ভাবভঙ্গী থেকে। লেখার সময় আমাদের সংস্কৃতি, বাঙালী মনোভাব থেকে লেখতে গিয়েই অনেক নতুন জিনিস শিখেছিলাম। কবিরাজ বিদ্যার মতো টোটকা দিতে দিতে সমস্যার আসল অষুধ পাওয়া গিয়েছিল পরে। লিখতে না শুরু করলে এটা জানা কষ্টকর ছিলো, বৈকি।

১৫.

মনের শান্তির জন্য অনেকে লিখে থাকেন। দেখা গেছে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষজন তাদের ভাবনাগুলো কাগজে পাঠিয়ে মনের উপর চাপ কমিয়ে নিয়ে এসেছেন। মনের সমস্যা ঠিকমত লিখতে পারলে এর সমাধান বের করা সহজ। নিজের মধ্যে সবকিছু না রেখে লিখে সমস্যা উগড়ে দেবার ব্যাপারে লেখালিখি অসাধারণ কাজ করে। জার্নাল বা ডায়রিতে লেখা, ছোট ছোট কবিতা মনের শান্তিই শুধু আনে না, মনের সৃজনী কুটুরিটা খুলে দেয়। আত্মজীবনী, নিজের জীবনের ধারাবাহিক ঘটনা, সেটা ভালো বা খারাপ হোক – মাঝে মাঝে মানুষকে অমরত্ব দেয়।

আচ্ছা, অ্যান ফ্রাঙ্ক তার ডায়রিটা কেন লিখেছিল?

Read Full Post »

“Desire is the starting point of all achievement, not a hope, not a wish, but a keen pulsating desire which transcends everything.” – Napoleon Hill

১৫.

‘সবার হবে গাড়ি’, ন্যানোকে নিয়ে টাটার উচ্ছাসের শেষ নেই। আর হবে না কেন? এই দামে কে দেয় গাড়ি!

হেনরি ফোর্ডের  ‘সাধারণের জন্য গাড়ি”র স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল উনিশশো বিশ থেকে। গাড়ির দাম সাধারণের হাতের নাগালে আনার জন্য অসম্ভব পাগলামি তাকে ধরে বসলো। গাড়ির ‘ইঞ্জিন’ এই গাড়ির জন্য একটা বড় কস্ট কম্পোনেন্ট। সব জায়গায় খরচ নামিয়ে আনা সম্ভব হলেও ইঞ্জিনকে আর সস্তা করা যাচ্ছিলো না। ফোর্ড তার প্রকৌশলীদের প্রচন্ড চাপে রাখলেন। সেসময় সেভ্রলেট ছয় সিলিন্ডারের ইঞ্জিন বাজারে নিয়ে আসল। তখনকার সময় দুই তিনটা সিলিন্ডারের এক একটা লোহার ছাচ তৈরী করে তা নাট বল্টু দিয়ে জোড়া লাগাতে হতো। একারণে দাম কমানো যাচ্ছিলো না। আর ক্র্যাংকশ্যাফট ভেঙ্গে যাচ্ছিল। ফোর্ডের দাবি, তৈরী করো -এক ছাচে আটটা সিলিন্ডার! দাম কম, স্থায়িত্ব বেশি।

প্রকৌশলীদের উত্তর, অসম্ভব। মরে গেলেও সম্ভব নয়। আটটা সিলিন্ডার, তাও আবার এক ছাচে!

ফোর্ড জোর করে অনেকগুলো বিকল্প ব্লু-প্রিন্ট তৈরী করলেন কাগজের ওপরে। তা কাগজের উপরেই থাকলো প্রথম কয়েক মাস।

ফোর্ড বললেন, “পয়দা করো , টাকা পয়সা সমস্যা না।”

“কিন্ত”, প্রকোশলীদের তারস্বরে জবাব, “অসম্ভব!”

“লেগে থাকো”, ফোর্ডের স্বভাবচরিত জবাব, “শেষ না হওয়া পর্যন্ত। সময়ও ব্যাপার না।”

প্রকৌশলীরা নাওয়া খাওয়া ভুলে নেমে পড়লেন। ছয়মাস গড়ালো। না। আরো ছয়মাস, ছাচ ভেঙ্গে যাচ্ছে আগের মত। প্রকৌশলীরা তাদের জ্ঞানের সবকিছু চেষ্টা করলেন, কোনো কিছুতেই সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।

আরো এক বছর চলে গেল। ফোর্ড আবার খোজ নিলেন। প্রকৌশলী ক্যাম্পের একই উত্তর। “আমার চাইই – চাই”, ফোর্ডের একই গো।

প্রকৌশলীদেরও রোখ চেপে গেল। তাদেরও ফোর্ডের পাগলামিতে পেয়ে বসলো। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই যাদুমন্ত্রের মত সমাধান পেয়ে গেল। এক লোহার ছাচে আট সিলিন্ডারই হলো! ক্র্যাংকশ্যাফট ছোট হয়ে আসলো, এর ভেঙ্গে যাবার সমস্যা আর থাকলোনা। তৈরী হলো যুগান্তকারী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার।

ফোর্ডের জেদের সুফল পেল আবার সাধারণ জনগণ। তার সাফল্যগাথার পেছনে কয়েকটা নীতি কাজ করেছে। কোনো কিছুর জন্য অদম্য ‘আকাঙ্ক্ষা’ কাউকে আটকে রাখতে পারেনি। আপনাকে স্পষ্ট করে জানতে হবে – আপনি কি চান। নিজেকে সেটা দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে হবে। আপনি যা চাইবেন তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করলে তা পেতে বাধ্য।

১৬.

বর্তমান বিশ্বে ফোর্ডের এই আচরণ অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো।

বড় বড় দুরূহ, অসম্ভব জটিল আর লম্বা প্রজেক্টগুলোকে চালানোর জন্য এ কৌশল ছাড়া গতি নেই। প্রথমে প্রজেক্টটাকে ছোট ছোট ভাগে (মাইলস্টোন) ভাগ করে ডিপেন্ডেন্সি দেখে নেয়া হয়। ধরা যাক, বিন্দু ‘ক’ থেকে ‘খ’, ‘গ’ থেকে ‘ঘ’ আর ‘ঘ’ থেকে ‘ঙ’ করতে যে প্রযুক্তি প্রয়োজন তা বর্তমানে উপস্থিত অথবা, সময়ের মধ্যে তৈরী করে নেয়া যাবে। কিন্ত, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তার সমন্ধে কারো কোনো ধারণাই নেই। প্রজেক্ট শুরু হয়ে যাবে, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তা বাকি প্রজেক্ট এর গতি কমাবে না। সবসময়ে দেখা যায় (পরীক্ষিত বটে), বাকি অংশগুলো হবার সময় যেহেতু প্রজেক্টটা বের করে নিতেই হবে, অন্য অংশের উপলব্ধিগুলো জড়ো হয়ে অজানা অংশটুকুও বের করে নিয়ে আসে। আমি কি চাই, তা ঠিক মতো পিনপয়েন্ট করে – বিশ্বাস করে লেগে থাকলে তা পাওয়া যাবেই।

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজার বার ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজার স্টেপ। 

আপনার ভয় কি? সত্যি করে বলুনতো, আপনি এমন কিছু চেয়েছিলেন – বিশ্বাস করে লেগেও ছিলেন, কিন্ত পাননি?

সত্যি করে বলবেন কিন্তু।

Read Full Post »

“Read a thousand books, and your words will flow like a river.”
― Lisa See, Snow Flower and the Secret Fan

১.
লাইব্রেরীর এই শেষ দিকের ফাকা জায়গাটা আমার অনেক দিনের পছন্দ৷ মাইক্রোফিশ কম্পার্টমেন্টগুলো পার হয়ে আসতে হয় এজায়গাটায়৷ খুব একটা লোকজনও আসে না বলে এজাগাটায় শান্তি শান্তি ভাব৷ সবার চোখ এড়িয়ে এদিকের কার্পেট মোড়া মেঝেতে বসেই ভালো সময় কাটানো যায়৷ দরকারের সময় অনেক বই বালিশের কাজ করে বটে৷

ঘুমাই আমি? আচ্ছা, শুয়ে শুয়ে পড়তে কার না ভালো লাগে?

সেদিন দুটো বই হাতে করে আমার পরিচিত সেই জায়গায় যেতেই চখ্খুচড়কগাছ৷ স্কুলের পরিচিত আরেকজন বসে আছে আমার পরিচিত জায়গার কয়েক ফুট দুরে৷ চোখাচোখি হতে সেই পরিচিত স্মিত, প্রশ্রয়ের হাসি৷ বই খুলে বসতেই সে উঠে পড়ল৷ হেটে এসে আমার সামনে হাটু গেড়ে বসতেই একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম৷ সে আমার অস্বস্তিটা নিয়ে মজা পাচ্ছে কিনা সেটাও বুঝতেও পারছি না৷

তোমার ব্লগ পড়ে মনে হয়েছে তুমি এটা পছন্দ করবে৷ এত মুভি দেখলে কবে?

রিডিং গ্লাসের উপর দিয়ে আমার চোখের দিকে তাকালো৷ চোখের এতটা ভেতর পর্যন্ত দেখা যেতে পারে আমার জানা ছিলনা মোটেই৷ আইরিসগুলোকে বিশ্বব্রহ্মান্ডের ছবির মতো মনে হচ্ছে৷

বইটার দিকে তাকাতেই নামটা আমার পছন্দ হয়ে গেলো৷ নামের দ্বিতীয় অংশে চোখ পড়তেই ভালোলাগাটা ফিকে হতে শুরু হলো৷

স্ক্রীনরাইটিং এর উপর?

চোখ নাচালো সে৷ রহস্যেই থাকতে চাইছে সে৷

ছেড়ে দিলাম তাকে৷ আফসোস হলো পরে, স্টারবাকস ছিলো পাশেই৷

এটা হচ্ছে মোটামুটি সেই দু হাজার সালের দিকের কথা৷ শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই উনিশতম রিপ্রিন্ট চলছে রবার্ট মাকির এই বইটার৷ হার্ভার্ড, ইয়েল আর ইউসিএলএ এর মতো ইউনিভার্সিটিতে পাঠ্যবইয়ের রেফারেন্স বই হিসেবে একে বিবেচনা করা হয়৷ তার এই বইটার সেমিনারে যাবার সৌভাগ্য এখনো হয়ে ওঠেনি৷ তার হাতে তৈরী হলিউডের সেলুলয়েডের নির্মাতারা আজকে উনপঞ্চাশটা অস্কার আর একশোসত্তুরটা এমি নিয়ে এসেছে৷

২.
পুরনো বইয়ের বাক্সগুলো ঘাটতে যেয়ে বইটা পেলাম আজকে৷ প্রথম এডিশন, উনিশশোসাতানব্বইয়ের প্রিন্ট৷ এর মুখবন্ধের প্রায় প্রতিটি লাইন আমার মুখস্ত৷ মাফ করবেন, বইয়ের আগাগোড়া পড়া আমার অনেকদিনের পুরনো বদঅভ্যাস৷ তার ছায়া থেকে নিচের গল্প৷

৩.
ছোটবেলায় যখন পড়তে শেখা শুরু করলাম, ইশপের গল্পগুলোর সাথে পরিচয় করে দিতে শুরু করলেন বাবা৷ উনি আশা করছিলেন যে এই পৌরাণিক উপকথাগুলো আমার ছোটবেলার দুষ্টমি যদি কিছুটা কমায়৷ প্রায় প্রতি সন্ধায় বসতেন আমার পছন্দের গল্পগুলো শুনতে৷ “আঙ্গুর ফল টক”, গল্পটা আমার প্রিয় জেনে মাথা নাড়াতেন৷

গল্পটার মানে বলতে পারবে, রবার্ট?

আমি সেই গল্পের গোটা গোটা লেখা আর চমত্কার রঙের আকা দেখতে দেখতে মুগ্ধ হয়ে তার মর্মোদ্ধার করার চেষ্টা করতাম৷ তবে, ধীরে ধীরে সেই গোটা গোটা লেখা আর ছবির ভেতরের গল্পগুলো বুঝতে শুরু করলাম৷ সেই ভেতরের গল্পই আসল গল্প৷

ইউনিভার্সিটিতে ঢোকার আগে আমার ধারণা হলো ডেন্টিস্টরা পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ৷ সুতরাং ডেন্টিস্ট হচ্ছি আমি৷

ডেন্টিস্ট? মা হাসলেন৷

সত্যি? অবিশ্বাসের চোখে তাকালেন, হাসিমুখ তার৷

আচ্ছা, ধরো ওরা যদি পৃথিবীর সব দাতের সমস্যা সারিয়ে দেয়? কি হবে তখন এই ডেন্টিস্টদের?

বাবা, মানুষের আনন্দের দরকার – সবসময়ই৷ আমি দিব্যদৃষ্টিতে তোমার ভবিষ্যতের দেখতে পারছি৷

একটু থামলেন মা৷

তুমি কিন্ত যাচ্ছ শো বিজনেসে!

[বইটার অনেকগুলো চ্যাপ্টার আমাজনেই পড়তে পারবেন৷]

Story

Story

Read Full Post »

দু বছরের বেশী হচ্ছে কিছু লিখিনি। লেখালেখি হয়নি মানে হচ্ছে ব্লগপোস্ট দেয়া হয়নি৷ কারণ কয়েকটা থাকতেই পারে, তবে এর আরো ভেতরে যেতে হলে আরো কিছুক্ষণ মাথা চুলকাতে হবে৷

প্রথমতঃ কোন প্ল্যাটফর্ম? বাংলা না ইংরেজি?

আমি প্রচুর লিখতাম৷ এখনো লিখি৷ তবে অফিসের কাজে৷ মূলতঃ ইংরেজিতে৷ ইমেইল অন্ত মানুষ বলতে আমাকে দেখিয়ে দিতে পারেন৷ উনিশশো নব্বই সাল থেকে এর সাথে হাতেখড়ি হলেও এর প্রতি ভালোবাসা কমেনি৷ ওয়াইল্ডক্যাট! বুলেটিন বোর্ড সার্ভিস আর মডেমের সুমধুর (আমার কাছে, অবশ্যই) হ্যান্ডশেকিং শব্দ এখনো কানে বাজে৷ ইমেইল আর এফটিপি মেইল ছিলো অফলাইন ইন্টারনেটের প্রাণ৷

banglaআর ইদানিং ইমেইলের উত্তর দিতে গেলেও তার জন্য বেশ সময় চলে যায়৷ যেহেতু বর্তমান ফ্রেমওয়ার্ক এ দেশের বাইরে প্রচুর ইমেইল যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়, সেখানে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ব্যাপারটা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়৷ অনেক ইমেইলের উত্তর কঠিনতর ভাষা প্রয়োগ দরকার পড়লেও তার উত্তরের জন্য সময় নেবে আরো বেশী৷ সেই ইমেইলের যথাযথ উত্তর প্রথমে লিখলেও ফেলে রাখি দু থেকে তিন ঘন্টার জন্য৷ অন্য কাজ করে ফিরে আসি আগের ফেলে রাখা অংশে৷ অর্ধেক কড়া ভাষা পড়ে গিয়ে যোগ হয় কূটনৈতিক শিষ্টাচার সম্বলিত মিষ্ট ভাষা৷ অনেকটা “টোন ডাউন” হিসেবে বলা যেতে পারে৷ আবার ফেলে রাখি সারাদিনের জন্য৷ অফিস ম্যানেজমেন্টে যেখানে অফিসে এক জায়গায় বসে থাকার সুযোগ কম, বাসায় এসে শেষ সমীকরণ মিলিয়ে ছেড়ে দেই অন্য টাইম জোনের মেইলগুলো৷

স্মার্টফোন জীবনকে সহজ করার মূলমন্ত্র নিয়ে এলেও এর মেট্রিক্স ভিন্ন৷ ইমেইল হয়ে গেছে ইনস্ট্যান্ট মেসেন্জারের মতো৷ ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স থেকে প্রডাক্টটিভিটি নিয়ে গেছে অন্য মাত্রায়৷ আমার বন্ধুরা যারা উন্নত বিশ্বে থাকেন, তারাও আমাদের (যারা ঢাকাতে থাকি) থেকেও বেশী সময় পরিবারের সাথে কাটান৷ প্রতিদিন রাস্তাতে তিন ঘন্টার বেশী কাটালে তিরিশ শতাংশ ইমেইলের উত্তর এই বিশেষ যন্ত্র থেকে দেয়া যায় এমনিতেই৷ ভালো মোবাইল এপ্লিকেশনগুলো মাইক্রোসফট আউটলুকের মতো ফরম্যাটিং করার সুযোগ দেবার ফলে কারো বোঝার উপায় নেই যে মেইলগুলো ফোন থেকে করা হচ্ছে৷ পুশ পুল মেইল এখন এসএমএসের থেকেও খারাপ(!) হয়ে গেছে৷ অফিসের বাকি নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখিগুলো প্রায়ই ইংরেজিতে করতে হয়৷

হটাৎ বাংলায় কেন?

আপনি ইংরেজি বা বাংলা ভাষা বাদ দিয়ে অন্য কোনো ভাষা জানলে এর উত্তরটা আরো পরিস্কার হবে৷ আরেকটি ভাষা, ম্যান্ডারিন বা জার্মান – ফ্রেঞ্চ জানলে ইন্টারনেটের কন্টেন্ট এর বৈপরীত্য বুঝতে পারবেন৷ এটাই হওয়া স্বাভাবিক৷ ঘটনার উত্পত্তিস্থল একই হলেও ভাষার ভিন্নতার জন্য পারসেপ্সন অন্য রকম হবে৷ আমি যেভাবে চিন্তা করবো, একজন সিঙ্গাপুরিয়ান তো সেভাবে না করার সম্ভাবনাই বেশী৷ কন্ট্রাস্ট বা বৈপরিত্য থাকাতে অন্য ভাষাগুলো তাদের নিজেদের আবেদন তৈরী করে নিয়েছে৷ বাংলাতে কন্টেন্ট বাড়তে থাকলে প্রথমে “ওয়ালড গার্ডেন” প্রভাব পড়লেও পরে টা নিজস্ব বিবেচনাবোধ পাবে৷ বর্তমানে অনেক বাংলা কন্টেন্ট অন্য ভাষা থেকে ভাবানুবাদ হলেও কিছুদিন পরে তা নিজের মতামত তৈরী করবে৷ পৃথিবীর ষষ্ট ভাষা হলেও এর কন্টেন্ট তুলনামূলকভাবে অনেক কম৷ বাংলাতে কন্টেন্ট বাড়ানো জরুরী, যত তাড়াতাড়ি এর এডপ্টশন হবে, ততো তাড়াতাড়ি ইংরেজি বা ফ্রেঞ্চ থেকে এর দুরত্ব কমবে৷

এছাড়া, এই বিশ্বায়নের যুগে বিশ্ব জয় করতে হলে বেশ কয়েকটি ভাষা জানা ভালো৷ আপনি বেশ অবাক হবেন যে বাচ্চারা একসাথে অনেকগুলো ভাষা শিখতে পারে৷ চেষ্টা করে দেখতে পারেন৷

নয়টা ইমেইল জুলুজুলু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আজকে আসতে হচ্ছে৷

Read Full Post »

mitocw1

Yes, MIT had always been an inspiration to me. Back to the time when I used to access newsgroups, I guess it was in 1996; MIT’s RTFM* ftp servers had been hosting older postings even after actual news server purged its contents. Accessing offline ftp servers through FTPmail worked like charm. Bangladesh first got connected to online Internet in the year 1998.

The same MIT did even something more. MIT’s OpenCourseWare, which has the motto “unlocking knowledge, empowering minds,” has offered free access to MIT course materials from 2002, the same year I went to visit MIT’s Media Lab.

I wrote it for our Bengali daily “Prothom Alo” in 2005 but got it published a year later. It is in Bangla.

* RTFM = Read The F**king Manual, but I would say, Read The Fine Manual.

banner1

Please click on the rightmost windowing button below for a better visibility.

Read Full Post »

Successful military operations actually requires continuous input of intelligence and that’s what I did while writing about “Inter-connection regulation”. We have to gather intense intel on the enemy’s motive and the terrain itself, and factor that into our battle plan.

interconnectionIt was way back then when I was posted back to Ghatail Cantonment after I had done my time over Congo. Peaceful place without Internet [How could you?], my family stayed back in Dhaka, my daughter just got in to a school of Dhaka. Evenings used to stand still, no family, used to bleed inside … then I preferred wasting that to libraries. Somehow, I picked up inter-connection issue as small operators were at the mercy of dominant operators. I started digging the existing regulation. And, the by-product?

Duh! “This write-up?” You smiled back.

Inter-connection Regulation [Mirror]

It was published in Daily Prothom-Alo way back before I joined BTRC last to last year. Datewise, It was written in 2005. Who knew, I’ll join the same department which as well looks after “Inter-connection” itself!

And the hardest part
Was letting go, not taking part …
And the strangest thing
Was waiting for that bell to ring …

I could feel it go down
Bittersweet, I could taste in my mouth
Silver lining the cloud …
I wish that I could work it out

Listening To: Coldplay: The Hardest Part, from the album “X&Y”.
Reading: Transport Wars: MPLS-TP vs PBB-TE; John C. Tanner.

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: