Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘literature’

It’s like Tolstoy said. Happiness is an allegory, unhappiness a story.

― Haruki Murakami, Kafka on the Shore

ট্রেন স্টেশনে ঢুকেই চক্ষুচড়কগাছ! প্রায় সবার হাতেই অন্য ধরনের একটা কাগজ। এগোলাম একটু। খটকা লাগছিল প্রথম থেকেই। নিউজ পেপার নয়। পত্রিকা তো নয়ই। সামনে পড়লো একজন বয়স্ক মহিলা। সাহস করে ঘাড়ের ওপর দিয়েই দেখার চেষ্টা করলাম। অল্প বয়স্কদের ওপর দিয়ে তাকানো বিপদজনক। একবার হলো কী, এই চট্টগ্রামের ঘটনা।

বিরক্ত চোখে থাকলেন আপনি। ‘আরে শুরু করলেন ট্রেন স্টেশনে – থাকেন তো ওখানে। পরে শুনবো ওই কাহিনী।’

মাফ করবেন। ট্রেন স্টেশনে থাকি বরং। হ্যাঁ, যা বলছিলাম। ছোট কাগজ। ‘এ-ফোর’ সাইজ থেকে বেশ ছোট। আবার, পেপারব্যাক বইয়ের সমান না। বরং একটু বড়। হেডলাইন পড়েই বুঝলাম কাহিনী কী। ছোট গল্প। আশেপাশে তাকালাম সময় নিয়ে। ইংরেজির ‘হার্ড লুক’এর মতো করে। অনেকের হাতেই এই কাগজ। একেকটা দু তিন পাতার। সোর্স কী – মানে পেল কোথায়? বইয়ের দোকান থেকে পায়নি তো?

এটা ঠিক, স্মার্ট কখনোই ছিলো না এই বান্দা। তবে বেকুব হয়ে থাকার সুবিধা অনেক। মানুষ এগিয়ে আসে সাহায্যে। ভুল ভাঙ্গাতে। হলো এবারো। আমার ধারণা ওই বয়স্ক মহিলা বুঝতে পারছিলেন আমার অবস্থা।

‘মসিয়ে’, ভদ্রমহিলা তাকালেন আমার দিকে। মনে হলো – স্মিত হাসলেন আমার অবস্থা দেখে। ‘অবাক কান্ড হয়েছে এখানে। আজ। লাগবে আপনার?’ নিজের হাতের কাগজটা দেখিয়ে বললেন উনি।

মাথা নাড়ালাম আড়ষ্ট হাসি দিয়ে। ‘আসুন আমার সাথে।’ বললেন মহিলা।

পিছু নিলাম ওনার। অনেকে আসছেন ওই দিক থেকেই। ভিড় নয় তবে বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা আছে ওখানে।

ওখানেই পাবেন আপনার গল্পগুলো! অসাধারণ, তাই না? বললেন মহিলা।

মহিলার চোখের লীড নিয়ে তাকালাম ওই দিকটাতে। দুটো ভেণ্ডিং মেশিন দাড়িয়ে আছে ওদিকে। ধন্যবাদ জানিয়ে এগোলাম যন্ত্রগুলোর কাছে। যতোই এগোই যন্ত্রগুলোর কাছে – ততোই বাড়ছে আমার হাঁটার গতি।

কমলা রঙের গোলাকৃতি এই ভেণ্ডিং মেশিনটা অনেকটাই অন্য মেশিনগুলোর মতো, তবে একটা পার্থক্য বোঝা গেলো কাছে থেকে। মাত্র তিনটা বোতাম। এক মিনিট, দুই আর পাঁচ মিনিট। টাকা পয়সার কথা বলেনি কোথাও।

বলে কী? এই একটা ভেণ্ডিং মেশিন পাওয়া গেলো পয়সা ছাড়া। চাপ দিলাম দুই মিনিটের বোতামে। বেরিয়ে এলো দুই পাতার একটা ছোট গল্প।


গল্পের মানুষগুলো কাল্পনিক হলেও ঘটনা কিন্তু একদম সত্যি। ফ্রান্সের ট্রেন স্টেশনগুলোতে বসানো হয়েছে এই গল্পের ভেণ্ডিং মেশিন। বিনে পয়সায় গল্প পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছে ওদের ট্রেন অপারেটর ‘এসএনসিএফ’। ‘এসএনসিএফ’ ব্যবহার করার সুযোগ হয়েছে অনেকবার। প্রতিবারই নতুন কিছু না কিছু দেখেছি ওটাতে উঠে। এবারের গল্পটা বেশ ইউনিক। অনেক গভীর।

এই মোবাইলের যুগে এটা একটা স্বস্তির বাতাস। বোঝা যাচ্ছে – ট্রেন অপারেটর একটা নতুন কালচার চালু করতে চাচ্ছে এই গল্প পড়া নিয়ে। ব্যস্ততার মধ্যে মানুষ যাতে কিছু কোয়ালিটি সময় পায় সেটার ব্যবস্থা করেছে এই অপারেটর। কোয়ালিটি সময়ের সাথে কোয়ালিটি লিটারেচার দিতে এপর্যন্ত লাখের বেশি গল্প ডিস্ট্রিবিউট করেছে এই প্রোগ্রামের সলিউশন প্রোভাইডার ‘শর্ট এডিশন’।

দশ বছর হবে হয়তোবা। আমাজন থেকে ছোট গল্প কিনতাম চল্লিশ সেন্ট করে। তিন – পাঁচ পাতার। দেশীয় ক্রেডিট কার্ড ঝামেলা করলে বন্ধুরাই কিনে দিতো জিনিসটা। পরে মেইল করে দিতো পিডিএফ ফাইলটা। তখনই মনে হয়েছিল এই মডেলটার কথা। পাঁচ টাকায় একেকটা গল্প। কয়েকজনের সাথে এটা নিয়ে কথা বলেছিলাম অনেকবার। সবার কথা, মানুষের পড়া কমে গেছে অনেকাংশে। সত্যি। পরে আর এগোয়নি জিনিসটা।

২০১৩তে ফ্রান্সকে নাম দেয়া হয়েছিল ‘লেখকদের দেশ’ হিসেবে। এটা এসেছিল বড় একটা ‘নেশনওয়াইড’ সার্ভের পর। জানা গেলো প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ বইয়ের পাণ্ডুলিপি লিখেও ফেলে রাখে বছরের পর বছর। বই হিসেবে আলোর মুখ দেখেনা আরো বড় একটা শতাংশ। শর্ট এডিশনের ডিরেক্টরের কথাটা ভালো লেগেছে আমার। ‘আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই গল্পকে। মানুষের মাঝে। উত্সাহ দিতে চাই পড়া আর গল্প লেখার ওপর। প্রোমোট করতে চাই আমাদের লেখকদের। গল্পের বিশাল একটা আবেদন আছে আমাদের জীবনে।’ ঠিক তাই। একটা জার্নির আগে আরেকটা জার্নির পরশ দিতেই এ ব্যবস্থা।

পাঁচ হাজারের বেশি গল্প লেখক লিখেছেন এই প্রোগ্রামে। বুঝুন তাহলে – অনেক লেখক তৈরি হবে এভাবে। সামনের বছরগুলোতে। ট্রেনে মানুষের সময়ের ওপর ভিত্তি করে এক, দুই আর পাঁচ মিনিটের গল্প নিয়েই আজ আমার এই গল্প। আমিও চাইবো এধরনের একটা প্রোগ্রাম চালাতে। কী বলেন?

Advertisements

Read Full Post »

“My inner critic who had begun piping up about how hopeless I was and how I didn’t know to write.” – Mary Garden

৭৭.

লেখতে গেলেই হবে ভুল। আর ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। প্রথমেই কেউ বেস্টসেলার লেখেন না। হবু লেখকরা লেখার শুরুতে প্রচন্ড চাপে থাকেন। চাপ মানে যে সে চাপ না, বড় লেখক হবার চাপ। আর সে কারনে অনেকে শুরুই করতে পারেন না লেখা। মনে মনে চিন্তা করতে থাকেন লেখার কথা, আসল লেখা শুরু হয় না আর। যায়, মাস – বছর। তিন বছর। মানুষ নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় ক্রিটিক। পারফেক্টশনিস্ট হতে যেয়ে ভেস্তে যায় সবকিছু। হবু লেখকদের তার ক্যারিয়ারের শুরুতে ভেতরের ক্রিটিকটাকে না মারতে পারলে সে আর পারবে না এগুতে। মেরে ফেলা মানে একেবারে গলা টিপে মেরে ফেলা। ন্যানোরাইমো মানে ‘ন্যাশনাল নভেল রাইটিংয়ের মাস’ (আগে লিখেছি এ ব্যাপারে, এক মাসের ভেতরে লিখতে হবে পঞ্চাশ হাজারের বেশি শব্দের উপন্যাস) প্রোগ্রামের ভেতরে বাচ্চাদের একটা বই দেখেছিলাম আমি। সেই প্রোগ্রামের ক্যাম্পে গল্প লেখার শুরুতে [ওই বইয়ের] প্রথম পাতায় দেয়া আছে একটা বড় চাবি টেপা বোতামের ছবি। ছবি লাগবে? বলে দিচ্ছি, বাচ্চাদের বই কিন্ত! তবে, তার পরের লেখাগুলো আরো সুন্দর! পড়ব?

৭৮.

উপন্যাস লেখার শুরুতে ছোট একটা কাজ করতে হবে যে বাবু তোমাকে। রেডি তো? বেঁধে ফেলতে হবে কিন্তু মনের ভেতরের ক্রিটিকটাকে। ঘ্যান ঘ্যান করা ছাড়াও প্রতি পদে পদে তোমার লেখার বারোটা বাজাবে সে। ঘাড়ের উপর দিয়ে বানান আর ব্যাক্যগুলোর ভুল বের করতে করতে পাগল করে ফেলবে তোমাকে। আর মাঝে মধ্যে ওর মুড খারাপ থাকলে পঁচাতে ওস্তাদ সে। সে চাইলে কিন্তু লেখা থেকে উঠিয়েও দিতে পারে সে, তোমাকে।

কথাটা শুনতে হাসি লাগলেও চোখ বন্ধ করো তো তোমরা। ভাবতে থাক তোমার ভেতরের ক্রিটিক মানুষটার কথা। বলতো, সে মেয়ে না ছেলে? দেখতে কেমন সে? হাতে কি তার ডিকশনারি? বাব্বা, অনেক ভেবে ফেলেছো দেখি! তোমাকে রুলার দিয়ে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে নাকি সে? চোখ বন্ধ রেখে ওর পুরো ছবিটা মাথাতে পেয়েছো তো তোমরা? চোখ খোলো এবার! দেরী না করে নিচের সুইচটা চাপ দাও তো, বাবুরা!

story1

সতর্কীকরণ বাণী: সুইচটা চাপ দেবার সাথে সাথে তোমার ভেতরের ক্রিটিকটা বাবা বাবা বলে বের হয়ে যাবে মাথা থেকে। খপ করে ধরে ফেলবো ওকে – আর পাচার করে দেবো ক্রিটিক ধরার বোতলে। তার পর পাঠিয়ে দেবো আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রুফরিডিংয়ের কাজে। আমাদের ওয়েবসাইটে এখন অনেক কাজ! প্রমিস, ওকে ফেরৎ দেবো তিরিশ দিন পরে – উপন্যাস লেখার শেষে। উপন্যাস লেখার পর এডিটিংয়ের কাজে লাগবে কিন্তু ওকে।

অভিনন্দন, তোমাকে! সুইচটা চেপেছো ভালোমতোই কিন্তু। ভেতরের ক্রিটিকটা বিরক্ত করবে না আর তোমাকে। লিখতে থাকো মন খুলে!

Read Full Post »

“I went for years not finishing anything. Because, of course, when you finish something you can be judged.” – Erica Jong

৭৪.

মানুষ লেখে কেনো? নিজের মনের ধারণা অন্যের সাথে ভাগাভাগি করার জন্য হয়তোবা। মস্তিস্কে মাঝে মধ্যে যে আলোর ছটা মানে ইলুমিনেশন হয় তা নেভাতে দরকার লেখা। লেখা রয়েছে হাজার রকমের – আবার লেখার ধারাও আছে অনেক ধরনের, কে কোনটা লিখবে তা নির্ভর করছে যিনি লিখবেন তার উপর। আমি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন নিয়ে লিখতে চাইতে পারি যদি সেটার ব্যাপারে আমার ব্যাপক ধারণা থাকে। ব্যাপক ধারণা থাকলেই যে সবাই সব কিছু লিখবেন তাও কিন্তু নয়। আমার লেখতে লাগে ভালো, আর সেই নিউক্লিয়ার সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে আসলে না লেখে যাব কই। তখন দরকার হবে বেশ কিছু বন্ধু যারা ছিলো সেই যন্ত্রদানবে। তাও সম্ভব এযুগে।

৭৫.

প্রশ্নে আসি, কি ধরনের লেখা পছন্দ করেন আপনি? চিন্তায় পড়ে গেলেন নাকি? হয়তোবা উত্তরটা আপনার জানা। আমি ‘হরর’ পছন্দ করি না বলে আমার দ্বারা ওটা লেখা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে, কোন ভুত কার ঘাড়ে কখন চড়বে তা তো আগে থেকে বলাটা দুস্কর। দেখা গেলো এই আমিই লিখছি পেত্নী কাহিনী। আর ‘রিং” এর ‘সামারা’র মতো আমার লেখা পেত্নী তাড়া করে ফিরছে আপনাদের। এইমাত্রই দেখছিলাম স্নোহোয়াইটের ‘মিরর মিরর’ মুভিটা, পুরোনো লেখাটাকে নতুন করে কিভাবে উপস্থাপন করতে হয় তা দেখতে ফিরতে হবে সব রূপকথাতে। আবার প্রতিটা রুপকথাই কিন্তু আসল ঘটনার প্রতিচ্ছবি মানে আসল জীবন থেকে নেয়া। আসল জীবনে ফিরতে অনীহা বলে মজা পাই রূপকথাতে। ফিরে আসি প্রশ্নে আবার। একটু ঘুরিয়ে।

কেন লেখতে চান?

৭৬.

রাইটিং ওয়ার্কশপে প্রথম প্রশ্নটা এধরনের হয় কিছুটা। সবাই শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে প্রশ্নকর্তার দিকে। উত্তরটা এতটাই পরিস্কার যে তার উত্তর দেবার প্রয়োজন বোধ করেননা অনেকে। ‘লিখতে ভালবাসি’ বলে উত্তরটা সবার মনে মুখিয়ে থাকলেও পরের প্রশ্নে সবার গোলকধাঁধা কেটে যায়। লেখতে যদি এতটাই ভালবাসেন তাহলে গত বছরগুলোতে লিখেছেন কি? ভালোবেসে কয়টা পান্ডুলিপি বের করেছেন আপনি?

সমস্যা এখানেই। ভালবাসি লিখতে, কিন্তু লিখতে বসা হয়নি ওভাবে।

Read Full Post »

It’s none of their business that you have to learn to write. Let them think you were born that way.

– Ernest Hemingway

৬৭.

বই লেখার খরচ আছে কিছুটা। ধরে নিচ্ছি আপনি একদম নিখরচায় লিখছেন। তবে এই লিখালিখির সময় লেখকদেরও তো খেতে পরতে হয়। উঠতি লেখকদের দিনের কাজের পাশাপাশি লিখালিখির জন্য অপেক্ষা করতে হয় গভীর রাতের জন্য। স্বপ্ন দেখার বদলে স্বপ্ন সফল করার জন্যই হয়তোবা পরিবারের সবাইকে ঘুম পাড়িয়ে বসতে হয় এই কাজে। বছরের পর বছর এটা কষ্টকর বৈকি। ছেড়ে দিতে হয় বড় কাজ, ছোট কাজ জুটিয়ে জেগে থাকেন লেখকরা স্বপ্ন নিয়ে। প্রতিষ্ঠিত হবার আগে সাহায্য নিতে পারেন সাধারণ মানুষের, যারা আপনাকেই তুলে নিয়ে আসবে অনেক মমতা দিয়ে – সাধারণের মাঝ থেকে। যেমনটা আমরা শুনে থাকি, জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স! সত্যি কথা। এযুগে হাজার হাজার বই লেখা হচ্ছে এই ক্রাউডসোর্সিং এর মাধ্যমে।

৬৮.

ফিরে আসি আমার কথায়। ধরে নেই (ধরে নিচ্ছি কিন্তু!) আমি একটা বই লিখছি ‘মাইন্ডম্যাপিং’ নিয়ে। প্রাথমিক খরচপাতি যা লাগে দাড়া করালাম তার হিসাব। আপনার যেকোনো জটিল কাজকে চাক্ষুষভাবে ‘স্ট্রাকচার্ড’ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বের করে দেবার জন্য এই বইটা কিভাবে সাহায্য করতে পারে তার একটা সারসংক্ষেপ তৈরী করে ফেললাম এর মধ্যে। তারপর গেলাম সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে। লিখলাম আমার পরিচয়, কেন দরকার হলো বইটা লেখার। বইটার ডেলিভারেবল – মানে বইটা কিভাবে সাহায্য করবে আপনাকে, তার বিত্তান্ত লিখে বা ভিডিও আপলোড করে জানিয়ে দিলাম সবাইকে। বোনাস হিসেবে আবার তুলে দিলাম প্রথম দু অধ্যায়। আমার এই কাল্পনিক ক্যাম্পেইনের কিছু উদাহরণ টেনে আনতে পারি আপনার সুবিধার জন্য।

৬৯.

২০ টাকা: ধন্যবাদ দেবো আপনাকে – ফেইসবুক বা টুইটারে।
৫০ টাকা: ‘মাইন্ডম্যাপ’ বইয়ের ফাইনাল ই-বুকের কপি পাবেন আপনি।
৬০ টাকা: পাচ্ছেন আমার অটোগ্রাফ করা ‘মাইন্ডম্যাপ’ বইয়ের ই-বুকের কপি ।
১০০ টাকা: ‘মাইন্ডম্যাপ’ বইয়ের প্রিন্ট কপি, মানে আসল বই।
১৫০ টাকা: আসল বই, আমার অটোগ্রাফসহ।
৩০০ টাকা: স্কাইপে দশ মিনিটের একটা কল – আমার সাথে। (১৫০ টাকার সুবিধাসহ +)
১,০০০ টাকা: + ধন্যবাদ দেবো বইয়ের “কৃতজ্ঞতা” সেকশনে।
৫,০০০ টাকা: + বসতে পারি একটা কফিশপে, আপনার সাথে।
১০,০০০ টাকা: + বইটার একটা চরিত্রই হতে পারে আপনার নামে।

৭০.

বুঝতে পারছি মন খুব খারাপ হয়ে গেছে আপনার। মানতেই পারছেন না মন থেকে। এগুলো করতেই হবে – বই লেখার জন্য? আচ্ছা, মন থেকে ফেলে দিন উপরের উদাহরণ – একেবারই। ফিরে আসি ‘ক্রাউডফান্ডিং’য়ে। ‘কেইলী’ গানটার কথা মনে কি আছে আপনার? পাগলকরা (এখনো পাগল আমি) এই গানটা এসেছিলো ব্রিটিশ ব্যান্ড ম্যারিলীয়ন থেকে। অথচঃ এই ব্যান্ডের পুরো ইউএস টুরের টাকা তুলে দিয়েছিলো তার ভক্তরাই। সাতানব্বই সালের দিকে এই ভক্তকুল ইন্টারনেটের মাধ্যমে তুলে দিয়েছিলো ষাট ষাট হাজার ডলার! আর এতে ছিলো না ব্যান্ডের কোনো যোগসূত্র। ক্রাউডফান্ডিং। হ্যাঁ। উনিশশো নিরানব্বই সাল থেকে আমার পিসির প্রসেসরের ক্রান্চিং পাওয়ার ভাগাভাগি করে নিচ্ছি ‘সেটি@হোম’ প্রজেক্টের সাথে। সবার প্রসেসরের মিলিত কাজের ফল পাচ্ছে ‘সেটি’, বার্কলির ‘সার্চ ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ প্রজেক্ট। আরো জানতে দেখুন ‘কন্টাক্ট’ মুভিটা।

৭১.

আঠারশো চুরাশি সালে মার্কিন জনগণ এক ডলার করে চাঁদা দিয়ে তৈরী করে দিয়েছিলো স্ট্যাচু অফ লিবার্টির বেদীটা। অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে ষাট লক্ষ্ ইউসেজ আর তার বাক্যের উদাহরণ যোগান দিয়েছেন কিন্ত সাধারণ মানুষ, প্রায় সত্তুর বছর ধরে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সবার মতামত চাওয়া হয়েছিল তখন। আমাদের দেশেও অনেক উদাহরণ আছে এরকম। মানুষের জন্য মানুষ করে বলেই মানুষ বড় কোনো অসুখে পড়লে তার বন্ধুরাই পত্রিকার মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করেন। ‘টু কিল আ মকিং বার্ড’এর বই বা মুভিটা আজকে পেতাম না যদি না তার বন্ধুরা চাঁদা তুলে তার এক বছরের খরচ তুলে দিতেন। নেলী হার্পার লী ছিলেন ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের সামান্য কেরানী – যিনি লিখতেন কাজের ফাঁকে। লেখার জন্য চাকরি ছেড়ে যেতে হয় সস্তা এপার্টমেন্টে। এই বইটা আজ অবিশ্বরনীয় হয়ে আছে। এটিকাসকে মনে রাখবে যারাই পড়েছে বইটা।

৭২.

ইন্টারনেটের যুগে এই ‘ক্রাউডফান্ডিং’ পাল্টে গেছে ‘ক্রাউডসোর্সিং’ নামে। যা করতে চান, বলুন মানুষকে। মানুষ মানে আমরা তুলে দেবো টাকা, লিখুন গান, চিত্রনাট্য অথবা তৈরী করুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্র। সবই সম্ভব। বিনা পয়সায় বিশ্বভ্রমন, তাও সম্ভব। বইয়ে আসি ফিরে। আমার অনেক বন্ধুকে লেখক বানিয়ে ছেড়েছে ব্রিটিশ সাইট আনবাউন্ড। একটু ঘুরে আসুন সাইট কিকস্টার্টারে। আগেই বলে দিচ্ছি, মাথা কিন্তু দেবে ঘুরিয়ে। একাধারে চলছে চল্লিশ হাজারের মতো প্রজেক্ট (বই বা অ্যালবাম বের করা হচ্ছে এক একটা প্রজেক্ট)| দুহাজার নয় থেকে চল্লিশ লক্ষ মানুষ তুলেছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মতো। জি। বাংলাদেশে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিটা কিভাবে আমাদের জীবনযাত্রা পাল্টে দিচ্ছে তা আমাদের বাসার গৃহকর্মীকে দেখলে বোঝা যায়। ‘বিকাশ’ গুগলের মতো ক্রিয়াপদে পরিনত হচ্ছে। প্লাস্টিক মানুষের হাতে হাতে আসছে চলে। মানুষ দেবে টাকা – লেখার জন্য। সত্যি বলছি। লিখুন নিজের জন্য। অন্যের জন্য নয়। আপনাকে আপনি পরিতৃপ্ত করতে পারলে অন্যকেও পারবেন।

৭৩.

অনুরোধ রাখবেন কি একটা? জ্ঞান চালাচালি করতে পারাটা এই ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তবে, অন্যের বই পয়সা না দিয়ে পড়াটা অন্যায়। আমি বই কিনে পড়লে অন্যেরাও পড়বেন আমারটা।

লিখছেন? মাঝরাতে না তো?

Read Full Post »

“I’m sorry Mr. Kipling, but you just don’t know how to use the English language.”

One rejection letter to Nobel laureate Rudyard Kipling who wrote ‘The Jungle Book’.

৬১.

‘দ্য গ্রীন মাইল’ মুভিটা দেখে থাকলে স্টিফেন কিং নামটা ভোলার কথা নয়। সত্যি বলতে, ‘ড্রিমক্যাচার’ বই আর মুভিটা কম খ্যাতি দেয় নি তাকে। আমেরিকাতে এই ‘কিং’ এক কথায় ফ্যান্টাসির কিং বটে। লেখতে চাই বললেই যে বইটা পৃথিবীর সবাই দেখিয়ে দেবে সেই ‘অন রাইটিং’ বইটা কিন্তু এই কিং সাহেবেরই লেখা। নিউ ইয়র্কের সেই রাইটিং ওয়ার্কশপে মনের ভুলে বইটা কোথায় পাওয়া যায় জিগ্যেস না করতেই পরের দিন বইটার ছয় ছয় কপি পেয়েছিলাম! তার প্রথম বই “ক্যারি’ লেখার পর ডজন খানেক রিজেকশন স্লিপ পেলেও তা পরম যত্নে ঝুলিয়ে রেখেছেন তার শোবার ঘরে। তার মধ্যে একজন বলেছিলেন,

“নেতিবাচক আকাশকুসুম সাইন্স ফিকশনে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। বিক্রি হয় না সেগুলো।”

৬২.

বিখ্যাত ব্রিটিশ এসপিওনাজ লেখক ‘জন ল্যা ক্যারে’ ছদ্দনামে লেখা শুরু করার পেছনে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থায় এমআই ফাইভ আর এমআই সিক্স ক্যারিয়ার জিওপারডি করতে চান নি। তার প্রথম বা মতভেদে তৃতীয় পান্ডুলিপি ‘দ্য স্পাই হু কেম ইন ফর্ম দ্য কোল্ড’ জমা দেবার পর এক পাবলিশার আরেকজনের কাছে পাঠানোর সময় লেখেন,

“স্বাগতম জন ল্যা ক্যারেতে (মনে হচ্ছে নামেই শো!) – তার তো কোনো ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছিনা!”

জন গ্রিশামের বই আর তার মুভিগুলো গিলেছি একসময়। অসাধারণ শৈলী, গল্পের খাঁজে গল্প। ভালো ব্যাকস্টোরি। ফাস্ট পেসড, মানে গল্প কিভাবে আগে বাড়ে তা দেখতে হলে পড়তে হবে ‘আ টাইম তো কিল’| হারপার লী’র ‘টু কিল আ মকিংবার্ডের’ প্রচ্ছন্ন একটা প্রভাব এই বইটার উপর থাকলেও এর আবেদন আমার চোখ ভিজিয়ে দিয়েছিলো বটে। সাদা দুজন বর্ণবাদী লোক দশ বছরের কালো আফ্রিকান-আমেরিকান হেইলিকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর গাছে লটকিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। গল্পটা এতটাই মানুষকে মুগ্ধ করেছিলো যে এর মুভিটা দেখেছে কোটি লোকে। আর, এই বইটা ফিরিয়ে দিয়েছিলো বারো বারোটা পাবলিশিং হাউস, সঙ্গে ষোলোজন এজেন্ট।

৬৩.

ক্যাচ টোয়েন্টি-টু পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছি কিন্তু দিন রাত! মানে, আপনি এক সমস্যা থেকে বের হবার জন্য যে কাজটা করলেন তা আরেকটা সমস্যা তৈরী করলো। আবার সেটা সমাধান করতে যেয়ে ফিরে আসলেন আগের জায়গায়। বোমারু বিমান চালক ‘জন ইওসারিয়ান’ অনেকদিন ধরে গ্রাউন্ডেড হতে চাচ্ছিলেন। বিপদজনক কমব্যাট ফ্লাইট চালাতে গিয়ে কম পাইলটই আসেন ফিরে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পাবার একমাত্র উপায় যদি ফ্লাইট সার্জন তাকে ‘পাগল’ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। আবার, ‘পাগল’ ছাড়া নিশ্চিত মৃত্যু জেনে কোনো মানুষই এই বিপদজনক কমব্যাট ফ্লাইট চালাতে চাইবে না। ‘পাগল’ হিসেবে মূল্যায়িত হবার জন্য মেন্টাল ফিটনেস সার্টিফিকেট চাওয়াটা আবার তার সুস্থতা প্রমান করে। মানে, মুক্তি নেই যুদ্ধে যাওয়া ছাড়া। এই ‘ক্যাচ টোয়েন্টি-টু’ কথাটার জন্মদাতা মার্কিন লেখক জোসেফ হেলারকেও পাগল ঠাউরেছিলো তার এডিটর। তার ভাষায়,

“কোনো ধারণাই পাচ্ছি না কি বলতে চাইছে সে [হেলার]| লেখক মনে হয় মজা করতে চাইছে, নাকি স্যাটায়ার – কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক লেভেলের জন্য এই ‘কৌতুক’ মার্কা লেখা প্রযোজ্য নয়।”

Read Full Post »

“Good God, I can’t publish this!”
Rejection letter for William Faulkner’s book, Sanctuary

৫৭.

ভেবেছেন প্রথম রাতেই দাও মেরে দেবেন। মাফ করবেন, ভুল হয়েছে – ইয়ে, রাত মানে প্রথম বইয়ে। লিখবেন বই একটা, আর তাই হবে বেস্টসেলার! ধারণাটা সবাই করে বটে, তবে সেটা কাজে আসে না বললেই চলে। বড় বড় লেখকদের শুরুটা কখনোই সুগম ছিলো না। নামকরা সেই লেখক বই লিখে ঘুরেছেন প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে, মন ভেজেনি তাদের। বড় বড় পাবলিশিং হাউজগুলো শালীনতা বজায় রেখে চিঠি লিখে জানিয়ে দেন তাদের অপারগতার কথা। মৌনতা অসম্মতির লক্ষণ জেনেও বুক বেঁধে অপেক্ষা করেন লেখকরা। যারা যত বেশি ‘প্রতাখ্যান’ মানে রিজেকশন লেটার পেতে থাকেন, ততো নতুন করে বুক বাঁধেন লেখকরা। এবার ওই গল্পে না দিয়ে কিছু নামকরা লেখকদের রিজেকশন লেটারের অংশবিশেষ তুলে ধরতে চাচ্ছিলাম, বাকিটার বিচারের ভার ছেড়ে দিলাম আপনার উপর।

৫৮.

‘এনিম্যাল ফার্ম’ নিয়ে কম কথা হয়নি। টাইম ম্যাগাজিনে উনিশশো তেইশ সাল থেকে দুহাজার পাঁচ পর্যন্ত একশো সেরা ইংরেজি সাহিত্যের মধ্যে ‘খোয়াড়’এর গল্প ছিলো অন্যতম। প্রচুর পুরস্কারের মাঝে এই উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে হিউগো অ্যাওয়ার্ড একে অমর প্রকাশনার কাছাকাছি নিয়ে যায়। ‘স্যাটায়ার’ কাকে বলে তা বোধহয় ‘গালিভার্স ট্রাভেলসে’র পরে এটা পেলাম। তেতাল্লিশ সালে লেখা জর্জ অরঅয়েলের এই পান্ডুলিপি চার প্রকাশকের কাছ থেকে ফিরে আসে। একজন লেখেন,

“পশুপাখির গল্প চলে না আমেরিকাতে”।

বলে কি ব্যাটা? পশুপাখি ছাড়া কোনো মুভি দেখছি না এখন!

৫৯.

অ্যান ফ্রাঙ্কের ডায়েরিটা পড়েননি এমন আছেন নাকি কেউ – এখনো? অ্যানের বইটা আসলে তিনটা ডায়েরির সমন্বিত রূপ। মাঝের ডায়েরিটা তার এরেস্ট হবার পর হারিয়ে যায়। পরবতীতে আবার লেখে সে। অ্যান তো ভাবেনি যে তাকে বই লিখতে হবে। তার যা মনে হয়েছে তাই লিখেছে সে। সে কারণে বইটার বেশ কয়েকটা এডিশন বের করতে হয়েছে। পরের দিকে অবশ্য সেটাকে বইয়ের মতো করে নিয়ে আসে সে। ডায়েরি লেখার পদ্ধতিটা ওই বয়সের মেয়ের জন্য অনেকটা আউট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, আর সে জন্য ওই বয়সে তার লেখনির ধার ভুলতে পারেনি পুরো বিশ্ব। ‘ডিয়ার কিটি’, কিন্তু তার ডায়েরিকে লক্ষ্য করে লেখা হয়নি, বরং ‘কিটি’ চরিত্রটা দাড়িয়েছে নিজের মতো করে, স্বকীয়তা নিয়ে, অ্যানের একজন খুব কাছের বন্ধু হয়ে। নাত্সি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সেই আটজনের গ্রুপ – দু পরিবার মিলে, ওর ভেতরে বেচে যান শুধুমাত্র অ্যানের বাবা। উনিশশো পয়তাল্লিশের এপ্রিলে ব্রিটিশ সৈন্যদল সেই ক্যাম্প আক্রমন করে সবাইকে মুক্ত করার দু সপ্তাহ আগেই মারা যায় অ্যান। অ্যানের লেখা নিয়ে তার বাবা পাবলিশিং হাউজে দৌড়াদৌড়ি করার সময় একজন লেখেন,

মেয়েটার (মানে অ্যান), আমার ধারণা; লেখার ভেতরের উপলব্ধিগুলো পাঠকদের অনুভূতিকে কৌতূহলী পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না।

জি, মানে আপনাকে নিয়ে আমাদের কৌতুহল কিন্ত আকাশচুম্বী, সত্যি বলছি!

৬০.

‘লর্ড অফ দ্য ফ্লাইস’ যারা পড়েননি, তারা সিনেমাটা দেখেছেন নিশ্চয়ই। বইটা শুধুমাত্র হিটই ছিলো না, এটাকে নিয়ে সিনেমা করা হয়েছে দু দুবার! মজার কথা হচ্ছে বইটা সাহিত্যে নোবেলজয়ী উইলিয়াম গোল্ডিংএর প্রথম বই হলেও এখানে সিম্বলিজম ব্যবহার করা হয়েছে অতিমাত্রায়। মানুষের আসল চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ করা হলেও পাশবিক ব্যাপারগুলো এসেছে এখানে। পরবর্তিতে প্রচুর লেখক তাদের বইয়ের প্লট হিসেবে ধার নিয়েছেন এখান থেকে। ‘ইউটু’র ‘শ্যাডোজ এন্ড টল ট্রিস’ গানটি এসেছে এর সাত নম্বর অধ্যায় থেকে। স্টিফেন কিং, ফ্যান্টাসি আর হরর লেখক তার অনেকগুলো বইয়ে এটার প্রভাবের কথা বলেছেন। তবে, শুরুতে বিশ বিশটা পাবলিশিং হাউস এই বইটাকে প্রকাশের অযোগ্য বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। একজন বললেন,

অযৌক্তিক সারশূন্য ফ্যান্টাসি, নিস্প্রভ আর বাজে (রাবিশ এর বাংলা যা হয় তাই)।

ভাগ্যিস, আপনার ছাপাখানার কালি নষ্ট করতে হয়নি!

নিয়ে আসছি আরো সামনে, কয়টা চান, বলুনতো? আসল কথায় আসি, লিখছেন তো আপনি?

Read Full Post »

“There is nothing to writing. All you do is sit down at a typewriter and bleed.” – Ernest Hemingway

৪৬.

বই পড়ার পাশাপাশি সংখ্যা নিয়ে খেলতাম অবসরে। সংখ্যা যে কিভাবে ভবিষ্যত দেখায় তার ধারণা বর্তমান প্রতিষ্ঠানে এসে আরো পোক্ত হলো। হাতের রেখার জ্যোতিষী থেকে সংখ্যা কত সুন্দর ভবিষ্যত দেখাতে পারে তা ‘ফোরকাস্টিং’ বা ‘প্রেডিকশন’ চার্ট না দেখলে বোঝানো যাবে না। এটা আরেকটা বিজ্ঞান। এটা দেখেছিলাম আমেরিকাতে তাদের সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নেবার সময়। যুদ্ধক্ষেত্রে বেশ দুরে যোগাযোগের জন্য এক ধরনের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় যা মহাকাশের আয়নোস্ফেয়ার ছাড়া চলে না। তরঙ্গটা সেই নব্বই কিলোমিটার দুরের আয়নোস্ফেয়ারে বাড়ি খেয়ে ফিরে আসে বলেই পৃথিবীর এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত যোগাযোগ করা সম্ভব হয় পিঠে বহনযোগ্য যন্ত্র থেকে। বিভিন্ন শর্টওয়েভ রেডিও স্টেশন (বিবিসি, ভিওএ … আর আমার প্রিয় ‘হ্যাপি স্টেশন’ – রেডিও নেদারল্যান্ডস), এমেচার রেডিও, সমুদ্রগামী জাহাজ, দুতাবাসগুলো ছাড়াও আরো অনেককিছুতেই এটার ব্যবহার রয়েছে।

৪৭.

আয়নোস্ফেয়ারে আয়ন পার্টিকলের ঘনত্ব কমানোর জন্য সৌর ঝড়ের জুড়ি নেই। কবে সৌর ঝড় হবে আর তা কোন কোন তরঙ্গকে সমস্যায় ফেলবে তার জন্য ভাগ্যের উপর মানুষ বসে নেই আর। শত বছর ধরে সূর্যিমামার ভাবভঙ্গি বুঝে তৈরী করা হয়েছে ‘ফ্রিকোয়েন্সি প্রেডিকশন চার্ট’| সংখ্যার খেলা। বছরের কোন সময়ে কোন ঘন্টায় কোন ধরনের তরঙ্গগুলো সুর্য খেয়ে ফেলবে তা বুঝে ফেলেছে মানুষ। তাই সৌর ঝড়কে পাশ কাটিয়ে কোন তরঙ্গ কতদূর যেতে পারবে তার হিসেব আজ মানুষের হাতের মুঠায়। মানুষের মতো জটিল জিনিসকে যেখানে প্যাটার্নে ফেলে কাজ করছে লেখকরা, সুর্য তো সেখানে কোন ছার্!

৪৮.

লেখার সাথে এর সম্পর্ক কি? সংখ্যায় ফিরে আসি আবার। পৃথিবীর মানুষের সংখ্যার হিসেবে গেলে মাথায় শর্টসার্কিট হবার সম্ভাবনা বেশি, অন্ততঃ আমার। বেশি সংখ্যা ধাতে সয় না। আর আমি তো ‘পাই’ নই। সেকারণে সেটাকে কমিয়ে আনছি একশতে। মানে, ধরা নেই পৃথিবীতে আছেই মানুষ একশ। বর্তমান হিসেবে তার ষাটজনই থাকে এশিয়াতে! ইউরোপে মাত্র এগারজন! আমেরিকাতে চৌদ্দ। বুঝতে পারছেন কোথায় যাচ্ছি আমরা? পৃথিবীর সব উন্নতি হবে এই এশিয়াতে। এর মধ্যে ইংরেজিতে কথা বলে কয়জন? যে ভাষায় পৃথিবীর প্রায় সব অর্থনৈতিক কাজ চলে? আন্দাজ করুনতো। এই একশজনেই।

৪৯.

পাঁচ, মাত্র পাঁচজন। জি। আর বাংলা? তিনজন। ঠিকই ধরেছেন, দুজন কম ইংরেজি থেকে। তাহলে কেন লিখবেন না বাংলাতে? ঘুমাতে হয় কিভাবে, আর চা বানানো থেকে শুরু করে কি বই নেই ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ বা স্পানিশ ভাষায়। সোয়েটারের বুননের মধ্যে কম বেশি ফাকা করার পদ্ধতিরও বই আছে ওই ভাষাগুলোতে। আমার মতো যাদের মাথার ঘিলু বলতে কিছু নেই সেই ‘ডামি’দের জন্যও আছে হাজার হাজার বই। সে তুলনায় বইই নেই বাংলাতে। শিক্ষিতদের হার নিয়ে কথা বলবেন তো? এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। জাতিগুলো তার আগের প্রজন্মের জ্ঞান মানে তাদের ঘাড়ের উপরে পা দিয়ে এগোয়, তার জন্য বই/জ্ঞান ছাড়া গতি নেই। সেটা নিয়ে আসছি সামনে।

লিখছেন তো?

Read Full Post »

%d bloggers like this: