Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘napoleon hill’

“Life begins at the end of your comfort zone.” – Neale Donald Walsch
“Everything you want is just outside your comfort zone.” — Robert Allen, The One Minute Millionaire.

১৭.

বেতন পাচ্ছি, দুটো পাচটা খেতে পাচ্ছি, চলে তো যাচ্ছে। এই অবস্থার উন্নতির প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে বেশিরভাগ মানুষ না বলবেন। মানুষ মাত্রই কমফোর্ট জোনের বাইরে যেতে ভয় পান। আবার, পৃথিবীর সব ভালো জিনিস আমাদের কমফোর্ট জোনের ঠিক বাইরে। ভালই তো আছি, আর কি দরকার? জীবন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় নেই বাপু, পরে আম ছালা দুটোই যাবে।

১৮.

আমাদের নিজেদের জীবন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মানসিকতা না থাকার পেছনে মাসলোর তত্ত্ব আবার খাটানো যায়। মৌলিক চাহিদা, ভাত, কাপড় বা মাথা গোজার জায়গা না থাকলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার আবেদন না থাকারই কথা। তবে, সবকিছুতে মরিয়া বা বেপরোয়া হবার মানসিকতা অনেকসময় ভাগ্য বদলে দেয়। মানুষ কোনঠাসা হয়ে গেলে অনেক চমত্কার চমত্কার ফলাফল নিয়ে আসে। একারণে অভিবাসীরা, যারা ভাগ্যের অন্নেষণে বিদেশ বিভুইয়ে পাড়ি দেন, তারা সবার সাথে প্রতিযোগিতায় তাদের সেরা কাজ দিয়ে নিজের সাথে দেশটাকেও উপরে নিয়ে চলে। এখানে, আমেরিকা, দ্য ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি এসেছে ল্যান্ড অফ মাইগ্রান্ট থেকে। মরিয়া না হলে এটা সম্ভব নয়। তবে, ল্যান্ড অফ মাইগ্রান্ট ব্যাপারটি আসলে আমেরিকার মিত্র দেশটির জন্য বেশী প্রযোজ্য। পৃথিবীর সত্তুর ভাগ উদ্ভাবনী জিনিস আসে সেই দেশ থেকে। ‘ডেসপারেশন’ সেই দেশকে নিয়ে গেছে অন্য পর্যায়।

১৯.

মনে আছে সেই অকুতোভয় সেনাপতির কথা? অন্য দেশের পানিসীমায় প্রবেশ করে আবিষ্কার করলেন যে তার সৈন্য সামন্তের সংখ্যা তার শত্রুদেশের তুলনায় ভয়ংকরভাবে কম। ঘন্টা খানেকও টেকা যাবে কিনা তা নিয়ে আছে সন্দেহ। তীরে নেমেই পুড়িয়ে দিলেন সব জাহাজগুলো। সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমরা না জিতলে এই তীর ছাড়তে পারবো না। হয় জিতবো আমরা, না হয় আমরা শেষ সবাই!

তারা জিতেছিলো।

২০.
আমেরিকার “গ্রেট শিকাগো ফায়ার” এর কথা সবার মনে থাকবে অনেকদিন। বাংলাদেশের জন্মের ঠিক একশো বছর আগে এক বিশাল অগ্নিকান্ডে প্রায় নয় বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পুড়ে গিয়েছিলো। সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছিলো মানুষ। ব্যবসায়ীদের সব দোকান ছারখার হয়ে গিয়েছিল। পরদিন ভোরে ব্যবসায়ীরা এসে অগ্নিকান্ডের ভয়াভয়তায় নতুন জায়গায় চলে যাবে নাকি নতুন করে দোকান চালু করবে সেটা নিয়ে অনেক শলাপরামর্শ করলেন। সবাই শিকাগো ছেড়ে চলে গেলেন পরে। থেকে গেলেন একজন। ঠিক ধরেছেন। ধারণা করা যায়, কমফোর্ট জোনের বাইরের লোক, পাগল কিসিমের।

২১.

শূন্য থেকে আবার দোকানটা তৈরী করা হলো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আজ সেটা। মরিয়া হয়ে গেলে মানুষ কি করতে পারে তার সর্বতক্রিসঠ উদাহরণ হিসাবে দাড়িয়ে আছে মার্শাল ফিল্ড ডিপার্টমেন্ট স্টোর। দুহাজার ছয় সালে একে কিনে নেয় বিশ্বখ্যাত আরেক ব্র্যান্ড ‘মেসি’।

পৃথিবীর ভালো সব যা হয়েছে, তার সবকিছুই সেই অকুতোভয় মানুষগুলোর কমফোর্ট জোনের বাইরে ছিলো।

আপনার?

Advertisements

Read Full Post »

“Desire is the starting point of all achievement, not a hope, not a wish, but a keen pulsating desire which transcends everything.” – Napoleon Hill

১৫.

‘সবার হবে গাড়ি’, ন্যানোকে নিয়ে টাটার উচ্ছাসের শেষ নেই। আর হবে না কেন? এই দামে কে দেয় গাড়ি!

হেনরি ফোর্ডের  ‘সাধারণের জন্য গাড়ি”র স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল উনিশশো বিশ থেকে। গাড়ির দাম সাধারণের হাতের নাগালে আনার জন্য অসম্ভব পাগলামি তাকে ধরে বসলো। গাড়ির ‘ইঞ্জিন’ এই গাড়ির জন্য একটা বড় কস্ট কম্পোনেন্ট। সব জায়গায় খরচ নামিয়ে আনা সম্ভব হলেও ইঞ্জিনকে আর সস্তা করা যাচ্ছিলো না। ফোর্ড তার প্রকৌশলীদের প্রচন্ড চাপে রাখলেন। সেসময় সেভ্রলেট ছয় সিলিন্ডারের ইঞ্জিন বাজারে নিয়ে আসল। তখনকার সময় দুই তিনটা সিলিন্ডারের এক একটা লোহার ছাচ তৈরী করে তা নাট বল্টু দিয়ে জোড়া লাগাতে হতো। একারণে দাম কমানো যাচ্ছিলো না। আর ক্র্যাংকশ্যাফট ভেঙ্গে যাচ্ছিল। ফোর্ডের দাবি, তৈরী করো -এক ছাচে আটটা সিলিন্ডার! দাম কম, স্থায়িত্ব বেশি।

প্রকৌশলীদের উত্তর, অসম্ভব। মরে গেলেও সম্ভব নয়। আটটা সিলিন্ডার, তাও আবার এক ছাচে!

ফোর্ড জোর করে অনেকগুলো বিকল্প ব্লু-প্রিন্ট তৈরী করলেন কাগজের ওপরে। তা কাগজের উপরেই থাকলো প্রথম কয়েক মাস।

ফোর্ড বললেন, “পয়দা করো , টাকা পয়সা সমস্যা না।”

“কিন্ত”, প্রকোশলীদের তারস্বরে জবাব, “অসম্ভব!”

“লেগে থাকো”, ফোর্ডের স্বভাবচরিত জবাব, “শেষ না হওয়া পর্যন্ত। সময়ও ব্যাপার না।”

প্রকৌশলীরা নাওয়া খাওয়া ভুলে নেমে পড়লেন। ছয়মাস গড়ালো। না। আরো ছয়মাস, ছাচ ভেঙ্গে যাচ্ছে আগের মত। প্রকৌশলীরা তাদের জ্ঞানের সবকিছু চেষ্টা করলেন, কোনো কিছুতেই সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।

আরো এক বছর চলে গেল। ফোর্ড আবার খোজ নিলেন। প্রকৌশলী ক্যাম্পের একই উত্তর। “আমার চাইই – চাই”, ফোর্ডের একই গো।

প্রকৌশলীদেরও রোখ চেপে গেল। তাদেরও ফোর্ডের পাগলামিতে পেয়ে বসলো। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই যাদুমন্ত্রের মত সমাধান পেয়ে গেল। এক লোহার ছাচে আট সিলিন্ডারই হলো! ক্র্যাংকশ্যাফট ছোট হয়ে আসলো, এর ভেঙ্গে যাবার সমস্যা আর থাকলোনা। তৈরী হলো যুগান্তকারী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার।

ফোর্ডের জেদের সুফল পেল আবার সাধারণ জনগণ। তার সাফল্যগাথার পেছনে কয়েকটা নীতি কাজ করেছে। কোনো কিছুর জন্য অদম্য ‘আকাঙ্ক্ষা’ কাউকে আটকে রাখতে পারেনি। আপনাকে স্পষ্ট করে জানতে হবে – আপনি কি চান। নিজেকে সেটা দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে হবে। আপনি যা চাইবেন তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করলে তা পেতে বাধ্য।

১৬.

বর্তমান বিশ্বে ফোর্ডের এই আচরণ অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো।

বড় বড় দুরূহ, অসম্ভব জটিল আর লম্বা প্রজেক্টগুলোকে চালানোর জন্য এ কৌশল ছাড়া গতি নেই। প্রথমে প্রজেক্টটাকে ছোট ছোট ভাগে (মাইলস্টোন) ভাগ করে ডিপেন্ডেন্সি দেখে নেয়া হয়। ধরা যাক, বিন্দু ‘ক’ থেকে ‘খ’, ‘গ’ থেকে ‘ঘ’ আর ‘ঘ’ থেকে ‘ঙ’ করতে যে প্রযুক্তি প্রয়োজন তা বর্তমানে উপস্থিত অথবা, সময়ের মধ্যে তৈরী করে নেয়া যাবে। কিন্ত, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তার সমন্ধে কারো কোনো ধারণাই নেই। প্রজেক্ট শুরু হয়ে যাবে, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তা বাকি প্রজেক্ট এর গতি কমাবে না। সবসময়ে দেখা যায় (পরীক্ষিত বটে), বাকি অংশগুলো হবার সময় যেহেতু প্রজেক্টটা বের করে নিতেই হবে, অন্য অংশের উপলব্ধিগুলো জড়ো হয়ে অজানা অংশটুকুও বের করে নিয়ে আসে। আমি কি চাই, তা ঠিক মতো পিনপয়েন্ট করে – বিশ্বাস করে লেগে থাকলে তা পাওয়া যাবেই।

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজার বার ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজার স্টেপ। 

আপনার ভয় কি? সত্যি করে বলুনতো, আপনি এমন কিছু চেয়েছিলেন – বিশ্বাস করে লেগেও ছিলেন, কিন্ত পাননি?

সত্যি করে বলবেন কিন্তু।

Read Full Post »

“I have won hundreds of chess games, and lost thousands. You have to have the courage to fail.” – Garry Kasparov

১৩.

হাল ছেড়ে দিতে দেখি অনেককেই। আমাদের পারিপার্শিক অবস্থান এর জন্য কিছুটা দায়ী হতে পারে। অফিসে প্রতিদিনই অনেক মানুষের সাথে দেখা হয়। এর মধ্যে প্রায় বেশ বড় শতাংশ আবার ফিরে আসেন নতুন কিছু নিয়ে। যে উত্সাহ নিয়ে একেকটা বিজনেস কেস উপস্থাপন করেন, কল্পনায় তাদের জায়গায় নিজেকে বসানোর চেষ্টা করতে থাকি সে সময়ের জন্য। তারা প্রতিনিয়ত যে বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যান, তা অনুধাবন করার চেষ্টা করতে থাকি। চোখের সামনেই যে অল্পসংখ্যক কোম্পানিগুলো দেশ থেকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যাচ্ছে, হাল ছাড়তে দেখিনি কাউকে।

মেকানাস গোল্ড, প্রথম ক্লু। আর গোল্ড রাশের কথা মনে আছে আপনাদের অনেকেরই। নাপোলীয়ন হিলের বন্ধুর চাচাকে এইগোল্ড রাশে ধরেছিলো। বন্ধু ডার্বির চাচা ভাগ্গান্নেষে কলোরাডো পার হয়ে সোনার খোজে গেলেন অন্য সবার মতো। অনেক বুঝেশুনে জায়গা বেছে বেলচা শাবল নিয়ে খুড়তে শুরু করলেন তিনি। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুরতে ভাগ্যদেবী কিছুটা প্রসন্ন হলেন। পায়ের নিচে চকচকে আকরিকখন্ড পেতে শুরু করলেন। কিন্তু এটাকে তুলবে কে? চুপিসারি আবার গর্তগুলো বন্ধ করে রওয়ানা দিলেন দেশের বাড়ি মেরিল্যান্ডে।

দেশের কিছু আত্বীয়স্বজন আর এলাকার লোকজন মিলে টাকা তুলে যন্ত্রপাতি কিনে আবার রওয়ানা দিলেন আগের জায়গায়। এবার ডার্বি তার চাচার সঙ্গ নিলেন। আকরিক তুলে প্রথম গাড়ি পাঠানো হলো গলানোর কারখানায়। দেখা গেল এরকম ভালো আকরিক এ এলাকায় অন্যান্য খনিতেও পাওয়া যায়নি। আর কয়েকটা গাড়ি হলেই পুরো টাকা উঠে আসবে।

নুতন উদ্যমে শুরু হলো আবার খোড়াখুড়ি। ধারণা, এর পরের স্তরে  সোনার আকরিক পাওয়া যাবেই।

অবিশ্বাস্য ঘটনাটা ঘটল তখনই। আকরিক স্তরের সেই উল্টা রংধনুর তলানিতে স্বর্ণের যে স্তর থাকার কথা ছিল তা একবারে হাওয়া। স্বর্ণের খনির ভেতরে আকরিকের পরের স্তর না থাকাটাই অবিশ্বাস্য ঘটনা।

খোড়াখুড়ি চলতে থাকলো আরো অনেকদিন। আগের স্তরের লাইন ধরে এগোলো তারা। সপ্তাহ ঘুরতে শুরু করলো। সব চেষ্টাই বিফলে গেল।

হাল ছেড়ে দিল তারা।

কয়েকশো ডলারের বিনিময়ে তাদের সব যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দিয়ে ট্রেন ধরল নিজ বাড়ির দিকে। সবার মন অসম্ভব খারাপ। যিনি কিনলেন তিনি ততো উচ্চভিলাসী ছিলেন না। নিতান্তই সাধারণ গোছের মানুষ। তবে কি মনে করে কিছু প্রকৌশলীকে ডেকে খনিটা দেখালেন। প্রকৌশলীরা এই অবিশ্বাস্য ঘটনার কারণ বের করতে কিছু হিসেব করলেন। দেখা গেল আগের দল আকরিকের আস্তরের ‘ফল্টলাইন’ এর ব্যাপারে জানতেন না। ভূমিকম্প বা অন্য আস্তরের চাপে এই ‘ফল্টলাইন’ সরে যেতে পারে। হিসেব করে দেখা গেল আর তিন ফুট দুরেই ছিল সোনার স্তর। খুড়ে ঠিক তাই পাওয়া গেল। কোটি টাকা তুলে নিলেন সেই খনি থেকে।

১৪.

প্রশ্ন, এই অবস্থায় আমি ডার্বির জায়গায় হলে কি করতাম? ধারণা করছি, অনুশোচনায় বাকি জীবন পার করতাম। পাগলগারদে জীবন পার করাও  অস্বাভাবিক কিছু নয়।

বহু বছর পর জনাব ডার্বির খবর পাওয়া গেল। না, পাগল হন নি তিনি। স্বর্ণ খনি থেকে যত টাকা হারিয়েছিলেন তার অনেকগুন টাকা আয় করেছেন তার জীবনবীমা ব্যবসা থেকে। ভুলতে পারেননি এক মুহূর্তও – কি হারিয়েছিলেন মাত্র তিন ফুট দুরে থেকে। “আমি হয়তোবা সোনা থেকে তিন ফুট দুরে আটকে গিয়েছিলাম, ‘না বলা’ মানুষকে বীমা করাতে তো আমাকে আটকাতে পারবে না”, নাছরবান্দার চরম পরকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন তিনি। ডার্বি বছরেই কোটি টাকার বীমা করতেন, যাকে ধরতেন তাকে বীমা করিয়েই ছাড়তেন। বীমা কোম্পানীর উত্পত্তি হলো।

উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নতুন শিক্ষানবিশদের বুদ্ধিমত্তার সাথে অকৃতকার্য হবার পন্থা শেখায়। ফলে, বার বার, বিভিন্নভাবে অকৃতকার্য হবার ফলে কৃতকার্য হবার রাস্তা একসময় পেয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে সাফল্যের হার বাড়তে থাকে।

একটা সাফল্য আনতে অনেক ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। অনেক ব্যর্থতা যেকোনো জিনিস থেকে বের হয়ে যাবার জন্য যথেস্ট যৌত্তিকতা তৈরী করে বলে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়।

হাল ছাড়ছেন নাকি, আবার?

Read Full Post »

“A man who cannot reach a decision promptly, once he has all the necessary facts, cannot be depended upon to carry through any decision he may make.”

– Andrew Carnegie

 ৯.

গবেষণা ছাড়া কিছু করা যায়? আমার ধারণা, একেবারেই না৷ অনেক সময় শর্টকাট করে বেঞ্চমার্ক পদ্ধতি বেছে নিলেও তা আমাদের জন্য ঠিক মতো মেলে কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে৷ বেঞ্চমার্ক পদ্ধতি হচ্ছে অন্যদেরটা (পাশাপাশি জিডিপি) দেখে কপি করা, বিদেশী পরামর্শক আমাদের দেশকে ভালো ভাবে না বুঝে যখন অন্য দেশের টেমপ্লেটে ফেলে দেন৷ বিদেশী পরামর্শকের খুব একটা দোষ দেয়া যায় না, যেখানে আমরা জনবলের অভাবে রিপোর্টগুলো ঠিকমতো বুঝে নিতে পারি না৷ বিদেশী পরামর্শককে আমাদের স্টাটিসটিকাল পার্টিকুলারগুলো বোঝানোর মতো লোক নেই৷ বাংলাদেশ অনেক দেশ থেকেই অনেক আলাদা৷ আমাদের প্যারামিটারগুলো অন্য কারো সাথে মেলে না৷ যে কোনো ভালো পদ্ধতি বের করতে হলে গবেষণা প্রয়োজন৷ যত বেশী তথ্য ততো বেশী বিশ্লেষণ – সিদ্ধান্ত ততো ভালো না হয়ে যাবে কোথায়৷

১০.

কার্নেগী নিজেই গবেষনায় বিশ্বাসী ছিলেন৷ তিনি হিলকে দিয়ে সেই তত্ত্ব গবেষণা করাতে চাইলেন যার ব্যাপ্তি হবে বিশ বছরের মতো৷ কার্নেগী কিভাবে এত বড় হলেন তার ধারণা হিলকে দিলেও ওই সময়ের দুশোরও বেশী কোটিপতিদের সাক্ষাতকারের আয়োজনের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে ধারণা দিলেন৷ হেনরী ফোর্ড, প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট, রাইট ভাতৃদয়, গ্রাহাম বেল থেকে থমাস আলফা এডিসন কেউ সেই সাক্ষাতকার লিস্ট থেকে বাদ পড়েননি৷  কার্ণেগীর ধারণা, সব মানুষ বড় হবার পেছনে কিছু প্যাটার্নের মিল থাকবে যা তাদেরকে অন্য সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করে রেখেছে৷ আর এই প্যাটার্ন বের করতে পুরো যুক্তরাষ্ট্র চষে বেড়াতে হবে হিলকে৷ বিশ বছরের সেই সব তথ্যের সংকলনের গবেষণালব্ধ তত্ত্ব প্রকাশের যাবতীয় খরচসহ প্রস্তাবনা দিলেন কার্নেগী৷ কার্নেগী তার প্রগ্জ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে এই গবেষণা করাতে হিলকে পছন্দ করেছিলেন৷

১১.

হিলের লেখা “থিংক এন্ড গ্রো রিচ” এ বর্ণিত বড় বা বড়লোক হবার সুত্র কার্ণেগীর পৃষ্ঠপোষকতায় তার তত্ত্বকে আজকেও অম্লান রেখেছে৷ বইটা তখনকার সময়েরই হাজার কোটিপতি লোকের উপর পরীক্ষার ফলাফল যা পরবর্তীতেও আরো লাখো লোকের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে৷ কার্নেগী চাচ্ছিলেন এই সুত্রগুলো সবাই জানুক৷ এই ম্যাজিক তত্ত্ব যা কার্নেগীসহ অনেককে নিস্বঃ থেকে কোটিপতিতে রূপান্তর করেছে৷ কার্নেগী মূলতঃ এই জ্ঞানটা তাদেরই জন্য উন্মুক্ত করতে চাচ্ছিলেন যাদের সেই সময়ে জ্ঞান আহরণ করার সামর্থ্য ছিলনা৷ তখন এখনকার মতো ইন্টারনেট বা শিক্ষা ব্যবস্থা ছিলনা বললেই চলে৷ কার্নেগী বিশ্বাস করতেন এই তত্ত্ব ঠিক ভাবে স্কুল কলেজে পড়ানো হলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা পাল্টে যাবে৷ আর স্কুলের সময় অর্ধেকের চেয়ে কমে আসবে যার প্রতিফলন কার্নেগিমেলন উনিভার্সিটিতে পড়েছে৷

 ১২.

আমি হলে কার্ণেগীর মুখের কথা পড়ার আগেই প্রস্তাবটা লুফে নিতাম৷ তবে আমি তা আমার বর্তমান প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে বলছি৷ তবে আমার ধারণা, সেই উনিশশো আট সালে আমাকে বলা হলে আমি হয়তোবা সিদ্ধান্তহীনতায় পড়তাম৷ যুক্তরাষ্ট্র মহাদেশ চষে বেড়াতে হতো বিশ বছর ধরে৷ মোবাইল ফোন তো দুরের কথা, টেলিফোনও ঠিকমতো কাজ শুরু করেনি৷ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ভরসা করতে হতো বাস্পীয় ইঞ্জিনের উপর৷ মজার কথা, পরবর্তীতে জানা গিয়েছিলো যে হিল উনত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় তার মতামত দিয়েছিলেন৷ কার্ণেগীর জীবনী থেকে জানা গেছে যে সেটা এক মিনিটের বেশী হলেই কার্নেগী তার প্রস্তাবটি ফিরিয়ে নিতেন৷ তার মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও যে লোক সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে, তার কোনো সিদ্ধান্তের উপর ভরসা করা যায়না৷

Read Full Post »

%d bloggers like this: