Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘persistence’

“I have won hundreds of chess games, and lost thousands. You have to have the courage to fail.” – Garry Kasparov

১৩.

হাল ছেড়ে দিতে দেখি অনেককেই। আমাদের পারিপার্শিক অবস্থান এর জন্য কিছুটা দায়ী হতে পারে। অফিসে প্রতিদিনই অনেক মানুষের সাথে দেখা হয়। এর মধ্যে প্রায় বেশ বড় শতাংশ আবার ফিরে আসেন নতুন কিছু নিয়ে। যে উত্সাহ নিয়ে একেকটা বিজনেস কেস উপস্থাপন করেন, কল্পনায় তাদের জায়গায় নিজেকে বসানোর চেষ্টা করতে থাকি সে সময়ের জন্য। তারা প্রতিনিয়ত যে বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যান, তা অনুধাবন করার চেষ্টা করতে থাকি। চোখের সামনেই যে অল্পসংখ্যক কোম্পানিগুলো দেশ থেকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যাচ্ছে, হাল ছাড়তে দেখিনি কাউকে।

মেকানাস গোল্ড, প্রথম ক্লু। আর গোল্ড রাশের কথা মনে আছে আপনাদের অনেকেরই। নাপোলীয়ন হিলের বন্ধুর চাচাকে এইগোল্ড রাশে ধরেছিলো। বন্ধু ডার্বির চাচা ভাগ্গান্নেষে কলোরাডো পার হয়ে সোনার খোজে গেলেন অন্য সবার মতো। অনেক বুঝেশুনে জায়গা বেছে বেলচা শাবল নিয়ে খুড়তে শুরু করলেন তিনি। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুরতে ভাগ্যদেবী কিছুটা প্রসন্ন হলেন। পায়ের নিচে চকচকে আকরিকখন্ড পেতে শুরু করলেন। কিন্তু এটাকে তুলবে কে? চুপিসারি আবার গর্তগুলো বন্ধ করে রওয়ানা দিলেন দেশের বাড়ি মেরিল্যান্ডে।

দেশের কিছু আত্বীয়স্বজন আর এলাকার লোকজন মিলে টাকা তুলে যন্ত্রপাতি কিনে আবার রওয়ানা দিলেন আগের জায়গায়। এবার ডার্বি তার চাচার সঙ্গ নিলেন। আকরিক তুলে প্রথম গাড়ি পাঠানো হলো গলানোর কারখানায়। দেখা গেল এরকম ভালো আকরিক এ এলাকায় অন্যান্য খনিতেও পাওয়া যায়নি। আর কয়েকটা গাড়ি হলেই পুরো টাকা উঠে আসবে।

নুতন উদ্যমে শুরু হলো আবার খোড়াখুড়ি। ধারণা, এর পরের স্তরে  সোনার আকরিক পাওয়া যাবেই।

অবিশ্বাস্য ঘটনাটা ঘটল তখনই। আকরিক স্তরের সেই উল্টা রংধনুর তলানিতে স্বর্ণের যে স্তর থাকার কথা ছিল তা একবারে হাওয়া। স্বর্ণের খনির ভেতরে আকরিকের পরের স্তর না থাকাটাই অবিশ্বাস্য ঘটনা।

খোড়াখুড়ি চলতে থাকলো আরো অনেকদিন। আগের স্তরের লাইন ধরে এগোলো তারা। সপ্তাহ ঘুরতে শুরু করলো। সব চেষ্টাই বিফলে গেল।

হাল ছেড়ে দিল তারা।

কয়েকশো ডলারের বিনিময়ে তাদের সব যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দিয়ে ট্রেন ধরল নিজ বাড়ির দিকে। সবার মন অসম্ভব খারাপ। যিনি কিনলেন তিনি ততো উচ্চভিলাসী ছিলেন না। নিতান্তই সাধারণ গোছের মানুষ। তবে কি মনে করে কিছু প্রকৌশলীকে ডেকে খনিটা দেখালেন। প্রকৌশলীরা এই অবিশ্বাস্য ঘটনার কারণ বের করতে কিছু হিসেব করলেন। দেখা গেল আগের দল আকরিকের আস্তরের ‘ফল্টলাইন’ এর ব্যাপারে জানতেন না। ভূমিকম্প বা অন্য আস্তরের চাপে এই ‘ফল্টলাইন’ সরে যেতে পারে। হিসেব করে দেখা গেল আর তিন ফুট দুরেই ছিল সোনার স্তর। খুড়ে ঠিক তাই পাওয়া গেল। কোটি টাকা তুলে নিলেন সেই খনি থেকে।

১৪.

প্রশ্ন, এই অবস্থায় আমি ডার্বির জায়গায় হলে কি করতাম? ধারণা করছি, অনুশোচনায় বাকি জীবন পার করতাম। পাগলগারদে জীবন পার করাও  অস্বাভাবিক কিছু নয়।

বহু বছর পর জনাব ডার্বির খবর পাওয়া গেল। না, পাগল হন নি তিনি। স্বর্ণ খনি থেকে যত টাকা হারিয়েছিলেন তার অনেকগুন টাকা আয় করেছেন তার জীবনবীমা ব্যবসা থেকে। ভুলতে পারেননি এক মুহূর্তও – কি হারিয়েছিলেন মাত্র তিন ফুট দুরে থেকে। “আমি হয়তোবা সোনা থেকে তিন ফুট দুরে আটকে গিয়েছিলাম, ‘না বলা’ মানুষকে বীমা করাতে তো আমাকে আটকাতে পারবে না”, নাছরবান্দার চরম পরকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন তিনি। ডার্বি বছরেই কোটি টাকার বীমা করতেন, যাকে ধরতেন তাকে বীমা করিয়েই ছাড়তেন। বীমা কোম্পানীর উত্পত্তি হলো।

উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নতুন শিক্ষানবিশদের বুদ্ধিমত্তার সাথে অকৃতকার্য হবার পন্থা শেখায়। ফলে, বার বার, বিভিন্নভাবে অকৃতকার্য হবার ফলে কৃতকার্য হবার রাস্তা একসময় পেয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে সাফল্যের হার বাড়তে থাকে।

একটা সাফল্য আনতে অনেক ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। অনেক ব্যর্থতা যেকোনো জিনিস থেকে বের হয়ে যাবার জন্য যথেস্ট যৌত্তিকতা তৈরী করে বলে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়।

হাল ছাড়ছেন নাকি, আবার?

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: