Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘raqueeb’

A year spent in artificial intelligence is enough to make one believe in God.

– Alan Perlis

সমস্যার শুরুটা ওখানে। ওখানে মানে ওই আইভরি কোস্টে। পরিবার ছাড়া একলার সংসার। ইউ এন কম্পাউন্ডে। মাঝে মধ্যে চলে আসে অফুরন্ত সময়। বিশেষ করে উইকেন্ডে। কী করি, কী করি? দেখতে চাইতাম দেশটাকে। তবে, হটাৎ করেই চলে এলো হতচ্ছাড়া ইবোলা ভাইরাস। আটকে গেলাম কম্পাউন্ডের ভেতর। সে অনেক কাহিনী।

তড়িঘড়ি করেই বের করে ফেললাম কাজ। বেশ কয়েকটা। এদিকে আউটসোর্স করে দিলাম খুঁটিনাটি তবে ফালতু কিছু কাজ। যেমন ধরুন, রুমের সব বাতি আর এসি। গানের সরঞ্জামাদি। সব নিয়ে এলাম আলাদিন দৈত্যর আওতায়। অর্ডার করি বাতাসে, হয়ে যায় কাজ। মশারির ভেতর থেকে অর্ডার চলে আমার। কে নেমে হেঁটে যাবে সুইচে? বরং, হাই তুলে বলি – ‘মেইন লাইট অফ।’ ‘ডিম লাইট অন।’

ব্যাপারটা তেমন কিছু না। ‘জ্যাসপার’ নামে একটা প্ল্যাটফর্ম আছে ‘গিটহাবে’। হোম অটোমেশন অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে নাম কুড়িয়েছে জিনিসটা বেশ। ‘ভয়েস রিকগনিশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনার কথা শুনবে সে। যা বলবেন সেটার একটা ‘অর্থপূর্ণ’ আউটকাম দেখানোই তার কাজ। পুরোটাই করা পাইথনে। আর সেখানেই এর কারিশমা। আমাদের আয়রন-ম্যানের ‘জারভিস’য়ের মতো খানিকটা।

ভেতরে আর না যাই। ধরুন, বাসার মূল বাতিটা জ্বালাবেন। বললাম, ‘মিনা’। মিনা হচ্ছে একটা কীওয়ার্ড। নাম ধরে ডাকলে কান খাড়া করবে ইন্টারফেস যন্ত্র। পরের শব্দগুলো হচ্ছে আরেক যন্ত্রের নাম, আর ‘কি করতে হবে’। এক কথায় ‘অ্যাকশন ওয়ার্ড’। বললাম – ‘মিনা, মেইন লাইট অফ’। ঘরে আছে আরো কিছু বাতি। আর সেজন্য ধরলাম বড় বাতিটাকে। কি কাজ? অন, জ্বলো।

তবে, পুরো ব্যাপারটা কিছুটা স্ট্যাটিক। এখানে যন্ত্রের নাম, ‘কাজ’ আর তার সিকোয়েন্সগুলো না জানলে বিপদ। ধরুন, বন্ধু এলো ঘুরতে। আমার বাসায়। সে তো জানবে না কোন জিনিসটার কি নাম দিয়েছি। বা, ওই যন্ত্রগুলোকে। আর কাজের কি ধরনের কীওয়ার্ড। সে হয়তোবা জানে ‘মিনা’র ব্যাপারটা। সে বলে বসলো – ‘মিনা, টার্ন দ্য লাইট অফ।’

মিনা কি কিছু করবে?

অথবা –

মিনা, কুড ইউ প্লীজ সুইচ অফ দ্য লাইট?

বা,

মিনা, স্লীপ টাইম।

এমন হতে পারে এই প্রতিটা ক্ষেত্রেই কাজ করতে পারে আমাদের ‘জ্যাসপার’। তবে, হ্যাঁ, কথা আছে একটা। যতো ধরনের কম্বিনেশন দরকার ওই কাজে, যদি সেটা দেয়া যায় ঢুকিয়ে। আগে থেকে। সেটা কোন ‘এফিসিয়েন্ট’ মডেল নয়। কেমন হতো – যন্ত্র যদি শিখতো নিজে থেকে? সময়ের সাথে।

[…]

Advertisements

Read Full Post »

When I give a minister an order, I leave it to him to find the means to carry it out.

— Napoleon Bonaparte

৬২৫.

দরকার কি এইসব ইন্টারনেট ‘ইকোসিষ্টেমে’র? একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই দেখতে পারবেন এগুলো একটা আরেকটার ওপর – পুরোপুরি ‘ইন্টার-ডিপেণডেণ্ট’। একটা ছাড়া আরেকটা অচল। অথচ, এই ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা জিনিষ নিয়ে কাজ করে সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট। সত্যিই তাই। কার সাথে কোনটার কি সম্পর্ক সেটা না জানলেই বিপদ। ইন্টারনেটের ট্রান্সমিশন মানে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। সার্ভিসগুলো কার? সেটা তো আসলে সবার। অনলাইন ক্লাস নিয়ে মাথাব্যথা হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ‘জেনারেল পারপাজ টেকনোলজি’ হিসেবে সবকিছুই দরকার সব মন্ত্রণালয়ের। ‘হেল্থকেয়ার’ নিয়ে ইন্টারনেটের সুবিধা নিচ্ছে পাশের দেশ ভারত। হাজার মানুষ প্লেন ভরে আসছে ওই দেশে ‘হেল্থকেয়ার’ ট্রিপে। প্রাথমিক ‘ডায়াগনস্টিকস’ হচ্ছে ইন্টারনেটের ওপর দিয়ে। থাইল্যান্ড আর সিংগাপুর তো শুরু করেছে অনেক আগেই।

৬২৬.

স্বাস্থ্য আর চিকিত্‍সা নিয়ে কাজ করবে সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়। ‘অ্যাপ্লিকেশন’ নিয়ে কাজ করছে আইসিটি মন্ত্রণালয় অনেক আগে থেকে। তবে কেউ জানে না কার করতে হবে – কতোটুকু অংশ। নাকি আবার ‘ডুপ্লিকেশন অফ ইফোর্ট’ হচ্ছে বার বার? বিটিআরসিতে থাকার সময় দেখেছি এধরনের কাজ – করছে সবাই। সবার দরকার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক, পয়সা ঢালছে কিন্তু সবাই। গরীব দেশে এটা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। এমনিতেই ফান্ডিংয়ের সমস্যা, সেখানে পয়সা যাচ্ছে নতুন নতুন জায়গায় – না জানার কারণে। ডোনার এজেন্সিরা সরকারের এই ‘সমন্বয়হীনতা’ ব্যাপারটা জেনেও দেনার ধার বাড়াচ্ছেন দিনে দিনে।

৬২৭.

ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড যাই বলেন সেটা যে শুধু হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নয় – সেটা থেকে বের হতে এই ‘ইকোসিষ্টেম’ ব্যবস্থা। সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার আগে কথা বলে নিতে হবে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে – জিনিসগুলো তাদের নেটওয়ার্ক নিতে পারবে কি না? টিএণ্ডটি’র যুগে ‘টেলিফোন মডেল’ থেকে বের হয়ে আসতে হবে আগে। একটা ফোনের জন্য একটা লাইন। আরেকটা ফোন লাগাতে চাইলে আরেকটা লাইন – আর ফ্যাক্স চাইলে আরেকটা। ওইটা ছিলো পুরনো টেলিযোগাযোগের ‘ওয়ালড গার্ডেন’ সমস্যা, সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা রিসোর্স। এখনকার যুগে লাইন আসবে একটা, ওইটার ওপর যা চাইবেন তাই করবেন। আবার সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন কিন্তু শুধুমাত্র আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি নয়, এটা সবার। শিক্ষা আর হেল্থকেয়ার অ্যাপ্লিকেশন কেন তৈরি করবেন তারা? ব্যবহারকারী মন্ত্রণালয় জানেন না – কিন্তু তার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছেন আরেকজন। ‘ইন-কম্পাটিবিলিটি’র শুরু ওখানেই। সনাতন ‘পুশ’ মানে ‘খাইয়ে দেয়া’র মডেল থেকে বের হয়ে আসতে হবে আমাদের। পয়সা ঢালো ‘সাপ্লাই সাইডে’, মানে দাম কমাও ইন্টারনেটের – ওতেই হবে সব – সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে হবে আমাদের।

৬২৮.

মানি, পুরনো শেখাটাকে ‘আন-লার্ন’ করা কষ্টের। সেটাকে মেনেই চিন্তা করতে হবে নতুন ‘কনসেপ্চুয়াল ফ্রেমওয়ার্ক’, বড় আকারে – সবাইকে নিয়ে। ব্যবহারকারীদের নিয়ে। টাকা দেয় তো তারাই। তাদের জন্যই তো সবকিছু। চারটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে মাইলস্টোনে ভাগ করলেই ‘ফোকাস’ এরিয়াগুলো বোঝা যাবে সরকারের দিক থেকে। ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে সেটার জন্য সরকারের কোন কোন এজেন্সি কাজ করবে সেটা বের করতে হবে আগে। সেটার ‘ফীডব্যাক’ লুপ যাবে সরকারী বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলোতে। সেটাকে ঘিরে ঘোরাতে হবে সরকারের সম্পর্কিত পলিসিগুলোকে। শুধুমাত্র ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়ে কাজ করতে গেলে পয়সা, সময় আর ‘ফোকাস’ নষ্ট হবে আরো বেশি। আমাদের মতো গরীব দেশের জন্য সেটা হয়ে যাবে বড় ধরনের বিলাসিতা। এখনকার ‘ব্রডব্যান্ড প্লান’ আগের মতো নেই আর। এটা শুরু হয় দেশের ‘দর্শন’ নিয়ে। দেশ কি চায়, সেটা বের করতে হয় আগে। টেকনোলজি বাদ, দেশের ‘প্রায়োরিটি’ বের করতে হয় খুটে খুটে। উদাহরণ দেখবেন নাকি একটা? ‘কানেক্টিং আমেরিকা’ বলে ওদের ন্যাশন্যাল ব্রডব্যান্ড প্ল্যানটা দেখলে পরিষ্কার হবে সবার। দেখুন তাদের দর্শনগুলো – প্রথম কয়েক লাইনে। সবকিছু আছে ওতে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, চিকিত্‍সা ব্যবস্থা, সরকারের কাজের জবাবদিহিতা, এনার্জি খাত, মানুষের নিরাপত্তা, আরো অনেক কিছু – কোন কিছু বাদ রাখে নি তারা। এক্সিকিউটিভ সামারিটা না পড়লে ব্যাপারটা না ধরতে পারার সম্ভাবনা বেশি। একটা দেশ কি চায়, সেটাই এনেছে এই প্ল্যানে। বিশাল ক্যানভাস।

৬২৯.

‘বিল্ডিং ব্রডব্যান্ড’ বইটাতে আমাদের মতো দেশগুলো কি ধরনের ভুল করতে পারে সেগুলোর বেশ কিছু ধারনা দিয়েছেন আগেভাগেই। ব্রডব্যান্ড মানে ইন্টারনেটের মতো প্রোডাক্টের ডিমান্ড তৈরি করার মতো ‘ব্যাপারটা’র ধারনা না থাকাতে পুরো ইনভেস্টমেন্ট চলে যায় ‘সাপ্লাই’ সাইডে। মানে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরি হলেই খুশি। কিভাবে বাড়াতে হবে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা, তৈরি করতে হবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন গ্রাহকবান্ধব অ্যাপ্লিকেশন – সেটা পলিসিতে না থাকাতে পুরো কাজটাই যায় ভেস্তে। ‘ইকোনোমি অফ স্কেল’ – ব্যবহারকারী বাড়লে কমবে দাম, আর দাম কমলে আসবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন ইনভেস্টমেন্ট। ইকোসিষ্টেমের তুখোড় সাইকেল হচ্ছে জিনিসটা। কম্পোনেণ্টগুলোর মধ্যে ‘ইন্টার-ডিপেনডেন্সি’ থাকাতে পুরো জিনিসটাকে ফেলতে হবে বড় ক্যানভাসে। ইংরেজিতে যাকে আমরা বলি ‘হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’, তাহলেই কাজ করবে পুরো ইকোসিষ্টেম। কম্পোনেণ্টগুলোর একটার ওপর আরেকটার নির্ভরশীলতা কাজ করে অনেকদিক থেকে। হাই-স্পীড ট্রান্সমিশনে ইনভেস্টমেন্ট আসা মানে ‘কোয়ালিটি অফ সার্ভিস’ বাড়বে আমাদের দরকারী সব সার্ভিসগুলোতে। আর সেটা বাড়িয়ে দেবে ‘ব্যান্ডউইডধ ইন্টেসিভ’ অ্যাপ্লিকেশন তৈরির মাত্রা। যতো বেশি অ্যাপ্লিকেশন, ততো বেশি টানবে নতুন নতুন গ্রাহকদের। নতুন গ্রাহকেরা চাপ তৈরি করবে নেটওয়ার্ক এক্সপ্যানশনের কাজে। ফলে বাড়বে ইন্টারনেট আর ব্রডব্যান্ডের ওপর নতুন ইনভেস্টমেন্ট। পুরো পৃথিবী বসে আছে পয়সা নিয়ে। ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার জন্য বসে আছে কোম্পানীগুলো।

৬৩০.

নতুন সার্ভিস আসা মানে নতুন কনটেন্ট তৈরির হিড়িক। কনটেন্ট তৈরি করছেন ব্যবহারকারীরা নিজেই। ইন্টারনেটের শুরুতে ডাউনলোডই ছিলো বেশি। আজ – পাল্টে গেছে দাবার গুটি। অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে গুগল আর ফেসবুকের মতো কোম্পানীগুলো। হাজার হাজার গিগাবাইটের ‘ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট’ আসছে আপনার আমার দিক থেকে। আমার আপনার ভিডিও, ছবি, ব্লগ পোস্ট দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট। ষাট হাজার ছবি আছে আমারই, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। আগে কনটেন্ট তৈরি করতো মিডিয়া কোম্পানীগুলো। এখন সেটা চলে এসেছে গ্রাহকদের হাতে। ফলে, দরকার হচ্ছে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক – ব্যবহারকারীর দোরগোড়ায়।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

If there weren’t such massive prejudice against Madonna’s display of her sexuality ‘Live to Tell’ would have probably been considered the greatest song ever written.

– Collected.

৩২.

ম্যাডোনার গান শুনতাম না বললে ভুল হবে। মিথ্যা বলা হবে বরং! আমার প্লে-লিস্টিতে ম্যাডোনার কয়েকটা গান থাকাতে বন্ধুদের অনেকে ‘মেয়েলি’ পছন্দ ঠাউরালেও ফেলতে পারিনি অ্যালবামটাকে। সত্যি বলতে – ম্যাডোনার এই অ্যালবামটাই আমার অনেক পছন্দের। বাকিগুলো কেন জানি টানেনি মনটাকে। শুরু হয়েছিলো কিন্তু টাইটেল ট্র্যাকটা দিয়ে। চমত্কার টেমপো, আহামরি ধরনের মিউজিক ভিডিও না হলেও দেখতে লাগতো ভালোই। ফিল্মফেয়ার আর রোজভ্যালি থেকে বন্ধুরা মিলে ভিএইচএস টেপ ভাড়া করে আনতাম সপ্তাহের জন্য। পছন্দের গানগুলো আবার ভিসিআরে রেকর্ড করে রাখতো বন্ধুরা। ছোটবেলার ‘ট্যাবু’র ধারণায় ‘লাইক আ ভার্জিন’ কিনিনি বাসায় আনতে পারবো না এই ভয়ে। অ্যালবাম কাভার বলে কথা। বর্ডারলাইনের ‘ইনট্রো’টা অন্য ধরনের হওয়াতে গানটা ছিলো পছন্দের মধ্যে। ওই ছোটবেলায়।

৩৩.

ওই বয়সে ‘পাপা ডোন্ট প্রিচে’র মতো মিউজিক ভিডিওটা আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় বলে লুকিয়ে দেখতে হতো না ওই অ্যালবামটার আরো কিছু গান। ‘ওপেন ইয়োর হার্ট’ গানটা পছন্দের হলেও ভিডিওটার জন্য ছিলো ওটা ‘নো নো’ লিস্টে। মানে দেখতে পারতাম না সবাই মিলে। তবে একটা গান শুনেছি হাজার বার, ওয়াকম্যানে টেনে টেনে। ছোটবেলার ওই প্রথম ওয়াকম্যানটাতে প্লে’র পাশাপাশি ছিল শুধুমাত্র ‘ফরওয়ার্ড’ অপশন। বুঝুন তাহলে! অ্যালবামটাও কেনা এই গানটার জন্য। আবার, মিউজিক ভিডিওটার জন্য সিনেমাটা দেখতে হয়েছে পরে। মুভিটার সাথে গানটা মিলেছিলো ভালো। তবে এই ব্যালাডটার জন্য যেই ভোকাল রেঞ্জ দরকার সেটা তৈরি হতে সময় লেগেছিল ম্যাডোনার। ওই সময়ে ম্যাডোনার গলায় এই গান – বিশ্বাস হচ্ছিলো না প্রথমে। ভিশন কোয়েস্ট মুভিতে ‘ক্রেজি ফর ইউ’ গানটা শোনার পর ভুল ভাঙতে থাকে আস্তে আস্তে।

৩৪.

আশির দশকে গান শুনেছেন অথচ স্যান পেদ্রো’র নাম শোনেননি এমন লোক পাওয়া দুষ্কর হবে বোধহয়। ধারনাটা ভুল কি? ‘লা ইসলা বনিতা’ শুরুই হয় এই জায়গার নামটা দিয়ে। স্বপ্নে যেখানে যাওয়া যায় যেই জায়গায় – সেটাই হচ্ছে স্যান পেদ্রো। স্প্যানিশ অর্থে দ্বীপের কথা বললেও এটা কোথায় সেটা বলেন নি কিন্তু ম্যাডোনাও। আইভরি কোস্টে আসার পর ম্যাপ নিয়ে বসতে গিয়ে পেলাম সাগর পাড়ের এই জায়গাটা। ওমা, একি! স্যান পেদ্রো দেখি এখানে। বেনিনের সহকর্মীর প্রশ্রয়ের হাসি। আইভরি কোস্টের প্রথম রাজধানী ছিলো এটা। ইবোলা ভাইরাসের জন্য মন খুলে মিশতে পারছি না মানুষের সাথে। তবে একটা জায়গায় যাবার সময় স্যান পেদ্রো’র ওপর দিয়ে যাবো জেনে মনটা ভালো হয়ে গেলো তখনি। শহরটার সাগরপাড়ে যেতেই মনে পড়লো গানটার কথা। হোয়াইট স্যান্ড বীচ। স্বপ্নের জায়গা বটে। আর স্বর্গের আবহাওয়ায় ভুলে গিয়েছিলাম কাজের কথা।

বাড়ি কিনবে নাকি এখানে?

সম্বিত ফিরলো স্হানীয় সহকর্মীর প্রশ্নে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

দু বছরের বেশী হচ্ছে কিছু লিখিনি। লেখালেখি হয়নি মানে হচ্ছে ব্লগপোস্ট দেয়া হয়নি৷ কারণ কয়েকটা থাকতেই পারে, তবে এর আরো ভেতরে যেতে হলে আরো কিছুক্ষণ মাথা চুলকাতে হবে৷

প্রথমতঃ কোন প্ল্যাটফর্ম? বাংলা না ইংরেজি?

আমি প্রচুর লিখতাম৷ এখনো লিখি৷ তবে অফিসের কাজে৷ মূলতঃ ইংরেজিতে৷ ইমেইল অন্ত মানুষ বলতে আমাকে দেখিয়ে দিতে পারেন৷ উনিশশো নব্বই সাল থেকে এর সাথে হাতেখড়ি হলেও এর প্রতি ভালোবাসা কমেনি৷ ওয়াইল্ডক্যাট! বুলেটিন বোর্ড সার্ভিস আর মডেমের সুমধুর (আমার কাছে, অবশ্যই) হ্যান্ডশেকিং শব্দ এখনো কানে বাজে৷ ইমেইল আর এফটিপি মেইল ছিলো অফলাইন ইন্টারনেটের প্রাণ৷

banglaআর ইদানিং ইমেইলের উত্তর দিতে গেলেও তার জন্য বেশ সময় চলে যায়৷ যেহেতু বর্তমান ফ্রেমওয়ার্ক এ দেশের বাইরে প্রচুর ইমেইল যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়, সেখানে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ব্যাপারটা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়৷ অনেক ইমেইলের উত্তর কঠিনতর ভাষা প্রয়োগ দরকার পড়লেও তার উত্তরের জন্য সময় নেবে আরো বেশী৷ সেই ইমেইলের যথাযথ উত্তর প্রথমে লিখলেও ফেলে রাখি দু থেকে তিন ঘন্টার জন্য৷ অন্য কাজ করে ফিরে আসি আগের ফেলে রাখা অংশে৷ অর্ধেক কড়া ভাষা পড়ে গিয়ে যোগ হয় কূটনৈতিক শিষ্টাচার সম্বলিত মিষ্ট ভাষা৷ অনেকটা “টোন ডাউন” হিসেবে বলা যেতে পারে৷ আবার ফেলে রাখি সারাদিনের জন্য৷ অফিস ম্যানেজমেন্টে যেখানে অফিসে এক জায়গায় বসে থাকার সুযোগ কম, বাসায় এসে শেষ সমীকরণ মিলিয়ে ছেড়ে দেই অন্য টাইম জোনের মেইলগুলো৷

স্মার্টফোন জীবনকে সহজ করার মূলমন্ত্র নিয়ে এলেও এর মেট্রিক্স ভিন্ন৷ ইমেইল হয়ে গেছে ইনস্ট্যান্ট মেসেন্জারের মতো৷ ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স থেকে প্রডাক্টটিভিটি নিয়ে গেছে অন্য মাত্রায়৷ আমার বন্ধুরা যারা উন্নত বিশ্বে থাকেন, তারাও আমাদের (যারা ঢাকাতে থাকি) থেকেও বেশী সময় পরিবারের সাথে কাটান৷ প্রতিদিন রাস্তাতে তিন ঘন্টার বেশী কাটালে তিরিশ শতাংশ ইমেইলের উত্তর এই বিশেষ যন্ত্র থেকে দেয়া যায় এমনিতেই৷ ভালো মোবাইল এপ্লিকেশনগুলো মাইক্রোসফট আউটলুকের মতো ফরম্যাটিং করার সুযোগ দেবার ফলে কারো বোঝার উপায় নেই যে মেইলগুলো ফোন থেকে করা হচ্ছে৷ পুশ পুল মেইল এখন এসএমএসের থেকেও খারাপ(!) হয়ে গেছে৷ অফিসের বাকি নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখিগুলো প্রায়ই ইংরেজিতে করতে হয়৷

হটাৎ বাংলায় কেন?

আপনি ইংরেজি বা বাংলা ভাষা বাদ দিয়ে অন্য কোনো ভাষা জানলে এর উত্তরটা আরো পরিস্কার হবে৷ আরেকটি ভাষা, ম্যান্ডারিন বা জার্মান – ফ্রেঞ্চ জানলে ইন্টারনেটের কন্টেন্ট এর বৈপরীত্য বুঝতে পারবেন৷ এটাই হওয়া স্বাভাবিক৷ ঘটনার উত্পত্তিস্থল একই হলেও ভাষার ভিন্নতার জন্য পারসেপ্সন অন্য রকম হবে৷ আমি যেভাবে চিন্তা করবো, একজন সিঙ্গাপুরিয়ান তো সেভাবে না করার সম্ভাবনাই বেশী৷ কন্ট্রাস্ট বা বৈপরিত্য থাকাতে অন্য ভাষাগুলো তাদের নিজেদের আবেদন তৈরী করে নিয়েছে৷ বাংলাতে কন্টেন্ট বাড়তে থাকলে প্রথমে “ওয়ালড গার্ডেন” প্রভাব পড়লেও পরে টা নিজস্ব বিবেচনাবোধ পাবে৷ বর্তমানে অনেক বাংলা কন্টেন্ট অন্য ভাষা থেকে ভাবানুবাদ হলেও কিছুদিন পরে তা নিজের মতামত তৈরী করবে৷ পৃথিবীর ষষ্ট ভাষা হলেও এর কন্টেন্ট তুলনামূলকভাবে অনেক কম৷ বাংলাতে কন্টেন্ট বাড়ানো জরুরী, যত তাড়াতাড়ি এর এডপ্টশন হবে, ততো তাড়াতাড়ি ইংরেজি বা ফ্রেঞ্চ থেকে এর দুরত্ব কমবে৷

এছাড়া, এই বিশ্বায়নের যুগে বিশ্ব জয় করতে হলে বেশ কয়েকটি ভাষা জানা ভালো৷ আপনি বেশ অবাক হবেন যে বাচ্চারা একসাথে অনেকগুলো ভাষা শিখতে পারে৷ চেষ্টা করে দেখতে পারেন৷

নয়টা ইমেইল জুলুজুলু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আজকে আসতে হচ্ছে৷

Read Full Post »

%d bloggers like this: