Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘spirituality’

“My inner critic who had begun piping up about how hopeless I was and how I didn’t know to write.” – Mary Garden

৭৭.

লেখতে গেলেই হবে ভুল। আর ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। প্রথমেই কেউ বেস্টসেলার লেখেন না। হবু লেখকরা লেখার শুরুতে প্রচন্ড চাপে থাকেন। চাপ মানে যে সে চাপ না, বড় লেখক হবার চাপ। আর সে কারনে অনেকে শুরুই করতে পারেন না লেখা। মনে মনে চিন্তা করতে থাকেন লেখার কথা, আসল লেখা শুরু হয় না আর। যায়, মাস – বছর। তিন বছর। মানুষ নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় ক্রিটিক। পারফেক্টশনিস্ট হতে যেয়ে ভেস্তে যায় সবকিছু। হবু লেখকদের তার ক্যারিয়ারের শুরুতে ভেতরের ক্রিটিকটাকে না মারতে পারলে সে আর পারবে না এগুতে। মেরে ফেলা মানে একেবারে গলা টিপে মেরে ফেলা। ন্যানোরাইমো মানে ‘ন্যাশনাল নভেল রাইটিংয়ের মাস’ (আগে লিখেছি এ ব্যাপারে, এক মাসের ভেতরে লিখতে হবে পঞ্চাশ হাজারের বেশি শব্দের উপন্যাস) প্রোগ্রামের ভেতরে বাচ্চাদের একটা বই দেখেছিলাম আমি। সেই প্রোগ্রামের ক্যাম্পে গল্প লেখার শুরুতে [ওই বইয়ের] প্রথম পাতায় দেয়া আছে একটা বড় চাবি টেপা বোতামের ছবি। ছবি লাগবে? বলে দিচ্ছি, বাচ্চাদের বই কিন্ত! তবে, তার পরের লেখাগুলো আরো সুন্দর! পড়ব?

৭৮.

উপন্যাস লেখার শুরুতে ছোট একটা কাজ করতে হবে যে বাবু তোমাকে। রেডি তো? বেঁধে ফেলতে হবে কিন্তু মনের ভেতরের ক্রিটিকটাকে। ঘ্যান ঘ্যান করা ছাড়াও প্রতি পদে পদে তোমার লেখার বারোটা বাজাবে সে। ঘাড়ের উপর দিয়ে বানান আর ব্যাক্যগুলোর ভুল বের করতে করতে পাগল করে ফেলবে তোমাকে। আর মাঝে মধ্যে ওর মুড খারাপ থাকলে পঁচাতে ওস্তাদ সে। সে চাইলে কিন্তু লেখা থেকে উঠিয়েও দিতে পারে সে, তোমাকে।

কথাটা শুনতে হাসি লাগলেও চোখ বন্ধ করো তো তোমরা। ভাবতে থাক তোমার ভেতরের ক্রিটিক মানুষটার কথা। বলতো, সে মেয়ে না ছেলে? দেখতে কেমন সে? হাতে কি তার ডিকশনারি? বাব্বা, অনেক ভেবে ফেলেছো দেখি! তোমাকে রুলার দিয়ে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে নাকি সে? চোখ বন্ধ রেখে ওর পুরো ছবিটা মাথাতে পেয়েছো তো তোমরা? চোখ খোলো এবার! দেরী না করে নিচের সুইচটা চাপ দাও তো, বাবুরা!

story1

সতর্কীকরণ বাণী: সুইচটা চাপ দেবার সাথে সাথে তোমার ভেতরের ক্রিটিকটা বাবা বাবা বলে বের হয়ে যাবে মাথা থেকে। খপ করে ধরে ফেলবো ওকে – আর পাচার করে দেবো ক্রিটিক ধরার বোতলে। তার পর পাঠিয়ে দেবো আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রুফরিডিংয়ের কাজে। আমাদের ওয়েবসাইটে এখন অনেক কাজ! প্রমিস, ওকে ফেরৎ দেবো তিরিশ দিন পরে – উপন্যাস লেখার শেষে। উপন্যাস লেখার পর এডিটিংয়ের কাজে লাগবে কিন্তু ওকে।

অভিনন্দন, তোমাকে! সুইচটা চেপেছো ভালোমতোই কিন্তু। ভেতরের ক্রিটিকটা বিরক্ত করবে না আর তোমাকে। লিখতে থাকো মন খুলে!

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: