Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘write’

“Life begins at the end of your comfort zone.” – Neale Donald Walsch
“Everything you want is just outside your comfort zone.” — Robert Allen, The One Minute Millionaire.

১৭.

বেতন পাচ্ছি, দুটো পাচটা খেতে পাচ্ছি, চলে তো যাচ্ছে। এই অবস্থার উন্নতির প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে বেশিরভাগ মানুষ না বলবেন। মানুষ মাত্রই কমফোর্ট জোনের বাইরে যেতে ভয় পান। আবার, পৃথিবীর সব ভালো জিনিস আমাদের কমফোর্ট জোনের ঠিক বাইরে। ভালই তো আছি, আর কি দরকার? জীবন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় নেই বাপু, পরে আম ছালা দুটোই যাবে।

১৮.

আমাদের নিজেদের জীবন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মানসিকতা না থাকার পেছনে মাসলোর তত্ত্ব আবার খাটানো যায়। মৌলিক চাহিদা, ভাত, কাপড় বা মাথা গোজার জায়গা না থাকলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার আবেদন না থাকারই কথা। তবে, সবকিছুতে মরিয়া বা বেপরোয়া হবার মানসিকতা অনেকসময় ভাগ্য বদলে দেয়। মানুষ কোনঠাসা হয়ে গেলে অনেক চমত্কার চমত্কার ফলাফল নিয়ে আসে। একারণে অভিবাসীরা, যারা ভাগ্যের অন্নেষণে বিদেশ বিভুইয়ে পাড়ি দেন, তারা সবার সাথে প্রতিযোগিতায় তাদের সেরা কাজ দিয়ে নিজের সাথে দেশটাকেও উপরে নিয়ে চলে। এখানে, আমেরিকা, দ্য ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি এসেছে ল্যান্ড অফ মাইগ্রান্ট থেকে। মরিয়া না হলে এটা সম্ভব নয়। তবে, ল্যান্ড অফ মাইগ্রান্ট ব্যাপারটি আসলে আমেরিকার মিত্র দেশটির জন্য বেশী প্রযোজ্য। পৃথিবীর সত্তুর ভাগ উদ্ভাবনী জিনিস আসে সেই দেশ থেকে। ‘ডেসপারেশন’ সেই দেশকে নিয়ে গেছে অন্য পর্যায়।

১৯.

মনে আছে সেই অকুতোভয় সেনাপতির কথা? অন্য দেশের পানিসীমায় প্রবেশ করে আবিষ্কার করলেন যে তার সৈন্য সামন্তের সংখ্যা তার শত্রুদেশের তুলনায় ভয়ংকরভাবে কম। ঘন্টা খানেকও টেকা যাবে কিনা তা নিয়ে আছে সন্দেহ। তীরে নেমেই পুড়িয়ে দিলেন সব জাহাজগুলো। সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমরা না জিতলে এই তীর ছাড়তে পারবো না। হয় জিতবো আমরা, না হয় আমরা শেষ সবাই!

তারা জিতেছিলো।

২০.
আমেরিকার “গ্রেট শিকাগো ফায়ার” এর কথা সবার মনে থাকবে অনেকদিন। বাংলাদেশের জন্মের ঠিক একশো বছর আগে এক বিশাল অগ্নিকান্ডে প্রায় নয় বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পুড়ে গিয়েছিলো। সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছিলো মানুষ। ব্যবসায়ীদের সব দোকান ছারখার হয়ে গিয়েছিল। পরদিন ভোরে ব্যবসায়ীরা এসে অগ্নিকান্ডের ভয়াভয়তায় নতুন জায়গায় চলে যাবে নাকি নতুন করে দোকান চালু করবে সেটা নিয়ে অনেক শলাপরামর্শ করলেন। সবাই শিকাগো ছেড়ে চলে গেলেন পরে। থেকে গেলেন একজন। ঠিক ধরেছেন। ধারণা করা যায়, কমফোর্ট জোনের বাইরের লোক, পাগল কিসিমের।

২১.

শূন্য থেকে আবার দোকানটা তৈরী করা হলো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আজ সেটা। মরিয়া হয়ে গেলে মানুষ কি করতে পারে তার সর্বতক্রিসঠ উদাহরণ হিসাবে দাড়িয়ে আছে মার্শাল ফিল্ড ডিপার্টমেন্ট স্টোর। দুহাজার ছয় সালে একে কিনে নেয় বিশ্বখ্যাত আরেক ব্র্যান্ড ‘মেসি’।

পৃথিবীর ভালো সব যা হয়েছে, তার সবকিছুই সেই অকুতোভয় মানুষগুলোর কমফোর্ট জোনের বাইরে ছিলো।

আপনার?

Advertisements

Read Full Post »

The girl doesn’t, it seems to me, have a special perception or feeling which would lift that book above the ‘curiosity’ level. – According to one publisher, “The Diary of Anne Frank”

১০.

লেখক জন্মায়, লেখক তৈরী করা যায় না।

এই মিথ্যা কিন্তু আজকের নয়। আর মিথ্যা চলছে হাজার বছর ধরে। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে যে গোয়েবলসের তত্ত্ব সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার হয়েছে এখানে। জার্মান রাজনীতিবিদ পল জোসেফ গোয়েবলস, হিটলারের দলের লোক যে তার কূটবিদ্যার জন্য খুব বিখ্যাত হয়েছিল। “তুমি যদি খুব বড় কোন মিথ্যা ক্রমাগত বলে যেতে থাক, মানুষ এক সময়ে তা বিশ্বাস করতে শুরু করবে”, তার কিছু উক্তির অন্যতম। লেখক শৈশব থেকে ওয়েস্টার্ন বইগুলোর নায়কের মতো পিস্তলের নল না কামড়ে কলম কামড়ে বড় হয়। ক্লাসে গরুর রচনা না লিখে তালগাছের কবিতা লেখে। বড় হয়ে এমনিতেই লেখক হয়ে যায়। এইসব অন্যমনস্ক লেখকদের কিছু বদোভ্যাস থাকে, সেটাতে অন্যেরা মেনে নেয়। তারা প্রায়শই উশৃঙ্খল জীবন যাপন করে থাকে। নিষিদ্ধ জিনিস না হলে মাথাই খোলে না।

১১.

এগুলোর কোনটাই ঠিক নয়। আর, লেখক জন্মায় না। মন থেকে চাইলে লেখক কেন – অনেক কিছু হওয়া যায়। লেখকসহ যারা অনেক দুরে গিয়েছেন তারা খুবই নিয়মানুবর্তিতায় বিশ্বাসী। তবে, লেখক তৈরী করার বই হিসেবে এটুকু বলা যায়, লেখক হওয়ার জন্য আপনাকে সময় দিতে হবে, লিখতে হবে। লেখক লিখবে, তাইতো স্বাভাবিক। কিভাবে লিখবেন তা আসবে সামনে। একজন বিশ্বখ্যাত লেখকের ঘটনা যিনি আইনজীবী হিসেবে তার জীবন শুরু করেছিলেন। হঠাত্ ঘটল এক মারাত্মক দুর্ঘটনা, যা প্রায় মেরে ফেলেছিলো তাকে। হাসপাতালের বিছানাতে শুয়ে তার দ্বিতীয় জীবনের দ্বারপ্রান্তে এসে মনে হলো তিনি একসময় লেখক হতে চেয়েছিলেন। লেখলেন, একবছর, দুবছর, তিন বছর! কেউ তার লেখা ছাপতে চাইল না। লিখেই চললেন তিনি।

১২.

যেকোনো কিছুর প্রথম দরকারী জিনিস হচ্ছে, নিয়মানুবর্তিতা। এর পুরো শিল্পকৌশল মানে লেখার ‘ক্রাফট’ শেখানোর দায়িত্ব আমার, তবে আপনার অধ্যবসায়, নিয়মিত অনুশীলন আর ধৈর্য বাড়ানোর জন্য আমার সাথে থাকতে হবে শেষ পর্যন্ত। বই লিখিয়ে ছাড়বো আপনাকে। আছেন তো?

১৩.

যারা বই লেখেন তাদের ‘ব্রেক’ এর জন্য প্রয়োজন বই প্রকাশকদের। প্রকাশকরাই বইটাকে আলোর মুখ দেখান। তারাই আমাদের মতো লেখকদের জন্য ঝুঁকি নেন। আমাদের বই বের করার জন্য লগ্নি করেন। তাদের এই মানসিক চাপ এবং পার্থিব তোপের উপর থেকে নতুন লেখকের বই বের করা দুস্কর হয়ে পরে। প্রচুর জমা পড়া পান্ডুলিপির ভেতর থেকে মুক্তা খুঁজে বের করে আনতে হয়। সেখানে লেখকদের জমা দেয়া পুরাতন লেখা নতুন করে লেখা, অধ্যবসায় (সবসময়ের জন্য প্রযোজ্য) আর অনুশীলন করার পাশাপাশি ধৈর্য সেটাকে বাঁচিয়ে দেয়।

১৪.

বড় বড় প্রকাশক চিঠি লিখে জানিয়ে দেন তাদের অপারগতার কথা। অনেকে কিছু বলেন না। লেখকরা যা বোঝার বুঝেও যোগাযোগ করতে থাকেন। এগুলোকে সাধারণতঃ ‘রিজেকশন’ বা প্রত্যাখ্যান পত্র বলা হয়।

উদাহরণ দরকার? হাজারটা? আর, মাফ করবেন – বুঝতে পারিনি। বড় বড় লেখকদের?

আসছি কালকেই।

Read Full Post »

“I left the fairy tales lying on the floor of the nursery, and I have not found any books so sensible since.” ― G.K. Chesterton

৬.

ছোটবেলার শিশু পত্রিকা, নবারুণ থেকে কিশোরবাংলা সাপ্তাহিক কোনটাই বাদ পড়েনি। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রগতি প্রকাশনের বইয়ের অসম্ভব আসক্তি স্কুলের বইকে পাশ কাটাচ্ছিল। স্কুলের লাইব্রেরির কার্ডে বেশী বই তুলতে না পারার কারণে বন্ধুদের কার্ড দিয়ে বই তোলার মজা কম ছিলো না। ক্যাডেট কলেজএ যেয়ে বইয়ের সাগরে পড়লাম। বাংলার পাশাপাশি অক্সফোর্ডের ওয়ার্ল্ড ক্লাসিকসের চার আলমীরা বই শেষ করতে ছয় বছর কিন্তু অনেক সময়। টেকনোলজি নিয়ে কাজ করার সুবাদে যেকোনো ম্যানুয়াল পড়তে আমার না নেই। ইন্টারনেটের প্রথম দিকে কোনো সমস্যায় পড়লে বুলেটিনবোর্ড বা থ্রেডেড নিউজগ্রুপে, (যা বর্তমানের ওয়েব ফোরামের আদ্দিকালের ভার্সন) পোস্ট করলে মাঝে মধ্যে উত্তর হিসেবে “আরটিএফএম” চলে আসত, যার অর্থ হচ্ছে সময় নষ্ট করো না তো বাবু, “রিড দোজ ফ্রিকিং ম্যানুয়াল”! একসময় দেখা গেল এই ম্যানুয়ালই হয়ে গেল আমার সবসময়ের সঙ্গী। যেকোনো যন্ত্র আমাকে চালাতে দিন, ম্যানুয়ালের ধরন দেখে বলে দেয়া যাবে কতদিন দরকার। ম্যানুয়াল লেখা যে কিধরনের শিল্প তা না দেখলে বোঝানো যাবে না। বলা যায়, যে সভ্যতা যতো সুন্দর ম্যানুয়াল বের করে, সে তত উন্নত। এয়ারবাসের এ-থ্রীএইটির ম্যানুয়াল (কাগজের ম্যানুয়াল সব কম্পিউটারে পরিবর্তিত করা হয়েছে) এর খুটিনাটি বিশ্লেষণ দেখলে আপনার মাথা খারাপ হয়ে যেতে পারে। একটা কথা বলে রাখি, ঢাকায় এ-থ্রীএইটি আসছে খুব শিগগির!

৭.

মানুষ মাত্রই প্যাটার্ন এনালিস্ট। ছোটবেলায় ক্রিপ্টোগ্রাফির কয়েকটা বই হাতে পড়েছিলো বলে অফিসিয়ালি ব্যাপারটা মাথায় গেথে যায়। পরবর্তিতে যা পড়তাম বা দেখতাম তার একটা নকশা তৈরী করে ফেলতাম মনে মনে। দেখা যেত সমপ্যাটার্নের বিভিন্ন জিনিস গোত্রগুলোতে ভাগ করতে সময় লাগতো না। মানুষকেও প্যাটার্নের মধ্যে ফেলে দেবার পর বই পড়া আরো সহজ হয়ে গেলো। চোখ বন্ধ করে আপনার প্রিয় বইয়ের প্রধান চরিত্রের কথা মনে করুন। লেখক তার পাতার ভাজে ভাজে সেই  চরিত্রের নকশা ফেলে গেছেন।  মাফ করবেন, আমি ডেক্সটারের মতো ফিনকি দিয়ে ছড়িয়ে পড়া রক্তের ‘টর্ক’ এনালিস্ট নই। তবে, এর গল্প আগানোর প্যাটার্ন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে – যা নিয়ে আসব সামনে। তবে জেফ লিন্ডসের “ডার্কলি ড্রিমিং ডেক্সটার” নামের এই অসাধারণ বইটা থেকে যা স্ক্রিপ্ট লেখা হয়েছে তা মানুষকে টিভির সামনে আটকে রেখেছে অনেকদিন। স্ক্রিপ্ট টীম থেকে গল্প আছে সামনেই।

৮.

বইয়ের ব্যাপারে প্যাটার্ন জিনিসটা আরো সহজ হয়ে এলো। চার পাঁচ হাজার বই পড়ার পর অনেকগুলো ধারণা মাথায় এলো। ফর্মুলার দিক থেকে অনেক বইকে কিছু কিছু গোত্রে ফেলানো যাচ্ছিল সহজেই। প্যাটার্নের প্যাচে পড়ে গেলাম আবার। রাত দিন স্বপ্নে প্যাটার্ন দেখি। এরপরের ঘটনা আরো চমত্কার। আগাস্টার মতো অজপাড়াগাঁ থেকে ক্রিসমাসের বিশ বাইশ দিনের লম্বা ছুটিতে বিগ এপলে চলে আসলাম। দুহাজার সালের দিকের কথা। যা দেখি তাতেই মুগ্ধ হই। এমটিএর (সাবওয়ে) মাসিক পাশ ধরে পুরো নিউ ইয়র্ক চষতে চষতে যেয়ে হাজির হলাম আট মাইল লম্বা (তখনকার সময়ের আট এখন আঠারো মাইল) বইতে দোকান, স্ট্র্যান্ডএ। বুক সাইনিং ইভেন্ট আর বিভিন্ন বুক রিডিং শুনতে শুনতে গোথাম রাইটার্স ওয়ার্কশপের পরিচিতি পেলাম। যে কেউ চাইলেই গল্প লিখতে পারে তার চাক্ষুস প্রমান পেলাম কয়েকজন বন্ধুদের প্ররোচনায়। সেটা আটকে ছিলো অনেকগুলো বছরের ধুসর স্মৃতিতে। কয়েকরাত ধরে সেই প্ররোচনাটা ফিরে আসছে, বার বার। আমাকে লিখতেই হবে, গল্প লেখার গল্প! কারণ, গল্প লিখবেন এবার আপনারা!

৯.

‘শিশু’র “সুমন ও মিঠুর গল্প” জীবনের প্রথম উপন্যাস হলেও  ‘কুশল আর মৃত্যুবুড়ো’ আমাকে প্রায় বছরখানেক আচ্ছন্ন রেখেছিলো। গল্পের সেই শক্তির ধারে কুপোকাত ছেলেটা বইয়ের লেখা সবকিছু বিশ্বাস করা শুরু করেছিলো। দিনের পর দিন শিশু পত্রিকার সেই উপন্যাসে সমুদ্রের নিচের বেশ কয়েকটা আঁকা ছবির মুগ্ধতা কাটছিলো না তার। বাবা মা কি ভাবছিলো তা না জানলেও উদ্বিগ্ন মনে হয়েছিলো তখন। এখন নিজের মেয়েকে যখন কোনো বইয়ে ডুবে থাকতে দেখি, মনে পড়ে সেই সব দিনের কথা। মেয়ে বা ছেলেটা গল্পের বই নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তাদের রুমে আলো বন্ধ করতে গেলে নিজের দিনগুলোর কথা মনে পড়তে থাকে। মাঝে মধ্যে বালিশের পাশ থেকে বই সরিয়ে রাখতে গেলে ওদের সেই বইয়ের স্বপ্নে ভেসে যাওয়া বুঝতে পারি। বই আর সরাতে পারি না। যদি বই থেকে স্বপ্ন যাওয়া বন্ধ করে দেয়?

কুশলের একা ফিরে যাওয়া ভুলতে পারিনি এখনও।

Read Full Post »

“I’ll tell you a secret.

Old storytellers never die.

They disappear into their own story.” ― Vera Nazarian, The Perpetual Calendar of Inspiration

এই বই লেখার দরকার পড়লো কেন?

২.

প্রশ্নটা আমারও। বসলেই গল্প লেখা যায়। তা অবশ্যই যায়। এখানে দ্বিমত করার সুযোগ কম। আমার প্রস্তাবনা অন্য জায়গায়। বাংলা লেখালিখি বাড়ছে। আমাদের দেশে মানুষ আরো অনেকদিন কাগজের বই পড়বে। একুশের বইমেলা আরো অনেকদিন চলবে, আমরাও বইমেলায় আড্ডা আর বই কিনতে যাব। তবে, পাড়ার গল্পের বইয়ের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগে। টেক্সটবইয়ের দোকান কিছু আছে, তারা হয়তোবা বাছাই করা নামকরা লেখকের কিছু বই রাখে। নিউমার্কেটের গল্পের দোকানের পরিবর্তে অন্য দোকান হয়েছে, বই না চললে আর কতদিন ভর্তুকি দিয়ে চালাবেন। খোদ আমেরিকাতে বর্ডারের (নামকরা বইয়ের দোকান) অনেক দোকানের ‘ক্লিয়ারেন্স সেল’এ প্রচুর বই কিনেছি, অনেক দোকান সামনে হয়তোবা বন্ধ হয়ে যাবে। ব্রিটেনে ‘ওয়াটারস্টোন’ এখনো চুটিয়ে ব্যবসা করলেও তা কমে আসবে, সামনে। ভবিষ্যত অন্ধকার মনে হচ্ছে, তাইনা?

৩.

আব্রাহাম মাসলোর তত্ত্ব অনুযায়ী আমরা হয়তোবা মৌলিক চাহিদার ধাপগুলোতে পড়ে আছি এখনো, তবে পৃথিবীর সমস্ত রিসার্চ বলছে, ভবিষ্যতে যা হবার তা বিশ্বের এঅংশেই হবে। ‘ব্রিক’এর পাশাপাশি সেভেন পার্সেন্ট ক্লাবে আমাদের ঢোকা শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিত্সাসেবা, ভালো পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন সুবিধা ইত্যাদি বাড়লেই মানুষের নতুন কিছু করার বা জানার আগ্রহ বাড়বে। মানুষের ফুল্ফিলমেন্টএর প্রথম শর্ত এটা। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে পানির সরবরাহ বা কিভাবে অফিসে যাবেন তা নিশ্চিত করা না গেলে নতুন কিছু করা বা জানার চেষ্টা স্বভাবতই কমতে থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে আমরা প্রচুর পড়ব সামনে। পড়তেই হবে।

৪.

গল্পের আবেদন চিরন্তন। লক্ষ বছর আগের কথা। মানুষের পূর্বপুরুষের গলার কাছে হাইয়য়েড হাড় ধীরে ধীরে নিচে নামতে থাকলে স্বরযন্ত্রের উদ্ভব হয়। নতুন পৃথিবী তৈরী সময় লাগেনি এরপর। নিয়ান্ডার্থাল আর তার আগের পূর্বপুরুষ শিম্পাঞ্জির মতো সামান্য কিছু শব্দ তৈরী করলেও স্বরযন্ত্রের এই সামান্য পরিবর্তন মানুষকে আরো অনেক জটিল শব্দ ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়। তৈরী হয় ভাষা, মানুষকে আর পিছনে ফিরতে হয়নি তারপর। যোগাযোগের পূর্বসূত্র হিসাবে এই ভাষা গুহার চিত্রকর্ম পাশে জায়গা করে নেয়। মানুষ যতো উন্নত হতে থাকে, একসাথে থাকার জন্য গল্পের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। দলগতভাবে উন্নত হবার তরে ‘শেখার’ আবেদনে গল্পের পর গল্প তৈরী হতে থাকে, তা মানুষকে আরো পরিশীলিত করতে থাকে। বর্তমানের জটিল জীবনধারাতে এর প্রযোজ্যতা আরো বেশী। ছোটবেলা থেকে যে যতো বেশী গল্পে প্রবেশাধিকার পায়, সে তত উন্নত জীবনযাত্রায় যেতে পারে, পরীক্ষিত।

৫.

মানুষ কি পড়া কমিয়ে দিয়েছে? বাংলাদেশে বইয়ের দোকান অদৃশ্য হবার পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম ইন্টারনেটের দিকে বেশী ঝুকে পড়াতে এই সমীক্ষা কিছুটা পড়তির দিকে। তবে, তা সাময়িক। এটা বাড়তে বাধ্য। বর্তমান প্রজন্মকে বই পড়ার দিকে নিতে হলে লেখার কিছু ধ্যানধারণা পাল্টাতে হবে। আর সে কারণে এই বই। পরে আসব সেটা নিয়ে। এই গতবছরের প্রথমে বৃটেনের আমাজনের (অনলাইন বই বিক্রেতা) প্রিন্ট বই থেকে ইলেকট্রনিক বইয়ের সেল বেড়েছে বেশী। আমাজন, (ইউকে) একশো প্রিন্ট বইয়ের বিপরীতে একশোচৌদ্দটা ইলেকট্রনিক বই বিক্রি করেছে। দুটো মিলিয়ে আমার মতো বইখাদকের সংখ্যা বেড়েছে বৈকি। কিন্ডল আসার আগে ‘আমাজন শর্ট’ বলে ছোট গল্পের পিডিএফ ভার্সন বিক্রি করতো। আমি নিজেই কিনেছি অনেক। দাম পঞ্চাশ সেন্টের কম হওয়াতে বিক্রি হতো প্রচুর। সাবান বা শ্যাম্পুর মিনি প্যাকের মার্কেটিং স্ট্রাটেজি এখানে ভালই চলছিলো। অনলাইনে কেনাকাটার পেছনে গ্রাহকদের মানসিকতা পরীক্ষা করতে বেশী দুরে যাবার দরকার নেই। ধরা যাক, আমি পত্রিকাতে একটা বইয়ের নাম দেখে কেনার সিদ্ধান্ত নিলাম। সে বইটা কিনতে আমাকে কতো সময় দিতে হবে? সব বই আবার সব দোকানে পাওয়া যায় না। পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন আর ট্যাক্সিতে যেয়ে বইটা নিতে গেলে কস্ট-বেনিফিটের বেড়াজালে বইটা হয়ত আর কেনা হবে না। ইদানিং অনলাইনে বই কেনাকাটা করা যায়, চার/পাঁচ দিন পরে শিপিং খরচ যোগ করে সেই বই পড়ার মানসিকতা নাও থাকতে পারে। প্রচুর বই কিনেছি কিন্ডলে, সেই মুহুর্তের টেম্পটেশন ধরে রাখতে পারিনি। বই কেনার পরবর্তী মুহুর্তে বই পড়ার এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা কোথায় পাবেন? প্রিভিউ থেকে প্রথম তিন অধ্যায় পড়ার পর বাকি অধ্যায় পড়ার জন্য আপনি প্রলুব্ধ হলে কেনা কোনো সমস্যা নয়। আমাদের দেশে এই প্লাটফর্ম না থাকলেও তা আসতেও সময় নেবে না। যে দেশে স্মার্টফোন সহজলভ্য হয়ে আসছে, ট্যাবলেট কিনছেন সবাই, ইবুক রিডার আসছে সামনে, সেখানে বই বিক্রি শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।

Read Full Post »

“Your tale, sir, would cure deafness.” ― William Shakespeare, The Tempest

গল্প কেন?

১.

লিখতেই যদি হবে গল্প কেন? আমারও প্রশ্ন ছিলো তাই।

মানুষের সমস্যার অন্ত নেই। আমরা ছোটবেলা থেকে অনেক কিছু হতে চাই, কেউ তা হতে পারি, বেশিরভাগই পারি না। আমি ফ্ল্যাশ গর্ডন হতে চেয়েছিলাম। হাসলেন?

ডেল আর্ডেনের সাথে কথা বলতে চেয়েছি। আরো ভয়ঙ্কর ব্যাপার!

গল্প মানুষকে বাস্তবতা থেকে পালাতে সাহায্যই করে না, সে তার মনের মাধুরী মিশিয়ে যেখানে যেতে চায়, সেখানে উড়িয়ে পাঠিয়ে দেয়।

টাইম মেশিন বাস্তবে সম্ভব নয়, বলে অনেকে – তবে গল্পই টাইম মেশিন!

মানুষকে এই অসম্ভব আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না একদমই।

লিখুন আপনার গল্প, মানুষের গল্প, নিয়ে যান অচেনার দেশে – পালাতে সাহায্য করুন কঠিন বাস্তবতা থেকে।

Read Full Post »

It took me fifteen years to discover I had no talent for writing, but I couldn’t give it up because by that time I was too famous. – Robert Benchley

মাসের উপন্যাস

১৮.

কোথায় যেন পড়েছিলাম, দেশ দেখতে হলে হেঁটে দেখতে হবে। হাঁটতে সমস্যা নেই, আমেরিকা বলেই সমস্যা। ভ্যাটিকান তো না। কম সময়ে এদেশ দেখতে আকাশ পথে জুড়ি নেই, তবে পকেট ঠনঠনে হলে অন্য কথা। রাস্তায় জনপদ দেখতে দেখতে ‘… কলা বেচার মতো’ গেলে ‘গ্রেহাউন্ড’ বাসের তুলনা হয়না। আবার সস্তা আর সময় বেশী লাগে বলে সবাই এটাতে চড়েননা। ইস্ট কোস্ট থেকে একবার ওয়েস্ট কোস্টএ গেলে এর অলিগলি চিনে যাওয়া অসম্ভব কিছু না।

১৯.

একবার এক তুষার ঝড়ে আটকা পড়লাম জ্যাকসনভিলে, ফ্লোরিডার বেশ বড় শহরের একটা। কথা ছিলো দুঘন্টার লেওভারের পর পরের শহর ধরবো। আমার জন্মের মাসে ঝামেলা হওয়াটা স্বাভাবিকের মতো হয়ে যাওয়াতে বইয়ের বস্তাটা খুলে বসলাম। সামারের সাথে দেখা হয়ে গেলো আবার। বাসে পাশে বসেছিল বলে টুকটাক কথার প্রেক্ষিতে আবার হয়তোবা ওয়েটিং রুমে আমার পাশে বসলো। একই রাশির বলে একাত্মতা খুঁজে পেয়েছিলো নাকি? পৃথিবীর প্রায় মেয়েরা রাশিফল বিশ্বাস করে, জানা ছিলো না।

২০.

আগে জানলে ল্যাপটপটা নিয়ে আসতে ভুল করতো না, ক্ষোভের সাথে মুখ খুললো সে। সময় দিলাম তাকে ফিরতি প্রশ্ন করার আগে। প্রায় বারো বছর আগে এই সামারের মুখে শুনেছিলাম ‘নামোরাইমো’র কথা। ন্যাশনাল নভেল রাইটিং মানথ (মাস) এর সংক্ষিপ্তরূপ এটা। পহেলা নভেম্বর থেকে তিরিশে নভেম্বরের রাত এগারোটা উনষাট পর্যন্ত লিখতে হবে পঞ্চাশ হাজার বা তার বেশী শব্দ। ল্যাপটপটা থাকলে সেই রাতটাও সে কাজে লাগাতে পারতো।

২১.

‘নামোরাইমো’তে আপনাকে লিখতে হবে পঞ্চাশ হাজারের বেশী শব্দ, নো ম্যাটার হোয়াট! প্রচুর ভুল হবে, এডিটিং করা একেবারে মানা। এক মাসে এতো শব্দ লেখার মানে হচ্ছে আপনাকে সজ্ঞানে ভুল করতে বাধ্য করা। ভুল হবে, আর সেটাই স্বাভাবিক। এই কনটেস্টএ কোনো বিচারক নেই, আর না আছে কোনো সমালোচক। মাসের শেষে উপন্যাসটা আপলোড করবেন ‘নামোরাইমো’র সিস্টেমে, শব্দ গুনেই ফেলে দেবে সেটা। মনে হতে পারে, বাজে লেখাকে (যেটা কেউ পড়েও না) প্রমোট করছে এই কনটেস্ট? আসলে কারো না পড়াটাই যেকোনো উঠতি লেখকের জন্য সবচেয়ে বড় আশির্বাদ। আমাদের ভেতরের ‘আমি’ আমাদেরকে হুমায়ুন আহমেদ হতে বাধা দেয়। আমরা প্রথম নভেল থেকে “বেস্ট সেলার” হবার চেষ্টা করি। আমাদের প্রতি পদে পদে আটকে ফেলি পারফেক্টশনিস্টদের মতো। এক লাইন লেখি আর দশ বার এডিট করি। আর এই নভেল পড়ে অন্যরা কি ভাববে সে চিন্তায় মাসের পর মাস না লিখে ফেলে রাখি।

২২.

এই এক মাসে আপনার ভেতরের ‘আমি’কে (অন্ত: এডিটর) বেঁধে রেখে লিখতে হবে। তা না হলে, ও কিছুক্ষণ পর পর “তুমি লেখক পদার্থ না” বা “তোমার দ্বারা লেখা হবে না” বলতেই থাকবে। মনের মাধুরী মিশিয়ে আকাশ কুসুম লিখবেন একমাস, কেউ পড়বে না সেই লেখা, এই মনের শক্তিতে। এক মাস পর এই পদ্ধতি আপনাকে বদলে দিতে বাধ্য। একবার প্রথম খসড়া দাড়িয়ে গেলে, আপনি পরবর্তী উপন্যাস লেখার অলিগলি চিনে গেলেন।

সামার এর কথা মনে পড়ছিল বেশ ‘ফাইভ হান্ড্রেড ডেজ অফ সামার’ দেখার সময়। বুকের ভেতরে তেলাপোকার হাঁটার ব্যাপারটা নিয়ে সন্দেহ উবে গিয়েছিলো।

Read Full Post »

“There is no greater agony than bearing an untold story inside you.” ― Maya Angelou

কিভাবে বই লিখতে চাইবেন না?

১৬.

খ্যাতি বা টাকার জন্য। পয়সার জন্য বই লেখা শুরু করলে তা খুব একটা কাজ করে না। নন-ফিকশন (গল্প উপন্যাস নয়) থেকে সেই লেখার মানের উপর তার কাটতি হতে পারে, কিন্তু তা প্রথমেই ধনী করে দেবে না আপনাকে। আপনি লিখতে পারেন মনের তাড়নায়, মানুষকে বা দেশের পরিবর্তনের আশায়। যুক্তিযুক্ত কারণ থাকলে বইয়ের কাটতি বাড়বে। বইয়ের মার্কেটিং এর বিতর্কে না যেয়ে বলতে পারি, আগের যুগের অধিকাংশ সৃষ্টিশীল শিল্পী তার জীবদ্দশায় কি পেয়েছিলেন সে ব্যাপারেও না যেয়ে এটা বলা যায়, ভালো কিছু লিখলে আর তার উপর বিশ্বাস করলে পার পেয়ে যাবেন। টাকা পয়সা রোজগার, বই লেখার একটা সম্ভাব্য আউটকাম হতে পারে, কিন্ত তা মূল উদ্দেশ্য হলে ব্যর্থ হতে পারে। লিখতে হবে মনের তাড়নায়, বাকিটা আসবে এমনিতেই। কথায় আছে না, ডু হোয়াট ইউ লাভ এন্ড মানি উইল ফলো!

১৭.

মানুষের জীবন পরিবর্তনের আশায় যদি কিছু লিখতে চান, তার জন্য প্রথম দিকেই পাল্টা কিছু আশা করবেন না। সেথ গোডিং (লিঞ্চপিন), ম্যালকম গ্ল্যান্ডওয়েল (ব্লিংক), জ্যাক ক্যানফিল্ড, স্টিভেন পিংকার, থমাস ফ্রিডম্যান, ফরিদ জাকারিয়া এর শুরুর জীবনটা এত “রোজী” ছিলো না। তাদের নিজেদের ইউজারবেজ (মন্ত্রমুগ্ধ পাঠক) তৈরী করতে সময় লেগেছে বছরের পর বছর। লিখে যান, আমি আছি আপনার সাথে। আপনার মন চাইলে – নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে বের হয়ে আসতে পারবেন।

লেখা শুরু করলে তার অভিজ্ঞতা আপনাকে বলে বোঝাতে পারবনা, বুঝতে চাইলে লেখতে হবে নিজেকে। একটা কথা চুপি চুপি বলে রাখি আগে ভাগেই, লেখা শুরুর আগের ‘আপনি’ পাল্টে যাবেন লেখা শুরুর পরে। যতই লেখতে থাকবেন ততোই পাল্টাতে থাকবেন ভেতরে ভেতরে, সিড়ির একেক ধাপ পার হয়ে “সেল্ফ একচুয়ালাইজেশন” অংশে পৌছাতে সময় আসবে কমে। ‘শুদ্ধ’ মানুষ বা ‘সাদা’ মানুষ হবার যে কয়েকটা পথ রয়েছে, এটা সেই সাধারণ মানুষ মানে আমাদের “না নেওয়া পথ”।

‘দ্য রোড নট টেকেন’? ধন্যবাদ আপনাকে প্রশ্নটা করার জন্য।

জর্জ স্ট্রেইট, মেলিসা এদারিজের দুটো অ্যালবাম আছে ‘দ্য রোড লেস ট্রাভেলড’ নামে। শুনবেন কিন্তু।

লিখছেন তো?

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: