Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘writing’

It’s none of their business that you have to learn to write. Let them think you were born that way.

– Ernest Hemingway

৬৭.

বই লেখার খরচ আছে কিছুটা। ধরে নিচ্ছি আপনি একদম নিখরচায় লিখছেন। তবে এই লিখালিখির সময় লেখকদেরও তো খেতে পরতে হয়। উঠতি লেখকদের দিনের কাজের পাশাপাশি লিখালিখির জন্য অপেক্ষা করতে হয় গভীর রাতের জন্য। স্বপ্ন দেখার বদলে স্বপ্ন সফল করার জন্যই হয়তোবা পরিবারের সবাইকে ঘুম পাড়িয়ে বসতে হয় এই কাজে। বছরের পর বছর এটা কষ্টকর বৈকি। ছেড়ে দিতে হয় বড় কাজ, ছোট কাজ জুটিয়ে জেগে থাকেন লেখকরা স্বপ্ন নিয়ে। প্রতিষ্ঠিত হবার আগে সাহায্য নিতে পারেন সাধারণ মানুষের, যারা আপনাকেই তুলে নিয়ে আসবে অনেক মমতা দিয়ে – সাধারণের মাঝ থেকে। যেমনটা আমরা শুনে থাকি, জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স! সত্যি কথা। এযুগে হাজার হাজার বই লেখা হচ্ছে এই ক্রাউডসোর্সিং এর মাধ্যমে।

৬৮.

ফিরে আসি আমার কথায়। ধরে নেই (ধরে নিচ্ছি কিন্তু!) আমি একটা বই লিখছি ‘মাইন্ডম্যাপিং’ নিয়ে। প্রাথমিক খরচপাতি যা লাগে দাড়া করালাম তার হিসাব। আপনার যেকোনো জটিল কাজকে চাক্ষুষভাবে ‘স্ট্রাকচার্ড’ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বের করে দেবার জন্য এই বইটা কিভাবে সাহায্য করতে পারে তার একটা সারসংক্ষেপ তৈরী করে ফেললাম এর মধ্যে। তারপর গেলাম সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে। লিখলাম আমার পরিচয়, কেন দরকার হলো বইটা লেখার। বইটার ডেলিভারেবল – মানে বইটা কিভাবে সাহায্য করবে আপনাকে, তার বিত্তান্ত লিখে বা ভিডিও আপলোড করে জানিয়ে দিলাম সবাইকে। বোনাস হিসেবে আবার তুলে দিলাম প্রথম দু অধ্যায়। আমার এই কাল্পনিক ক্যাম্পেইনের কিছু উদাহরণ টেনে আনতে পারি আপনার সুবিধার জন্য।

৬৯.

২০ টাকা: ধন্যবাদ দেবো আপনাকে – ফেইসবুক বা টুইটারে।
৫০ টাকা: ‘মাইন্ডম্যাপ’ বইয়ের ফাইনাল ই-বুকের কপি পাবেন আপনি।
৬০ টাকা: পাচ্ছেন আমার অটোগ্রাফ করা ‘মাইন্ডম্যাপ’ বইয়ের ই-বুকের কপি ।
১০০ টাকা: ‘মাইন্ডম্যাপ’ বইয়ের প্রিন্ট কপি, মানে আসল বই।
১৫০ টাকা: আসল বই, আমার অটোগ্রাফসহ।
৩০০ টাকা: স্কাইপে দশ মিনিটের একটা কল – আমার সাথে। (১৫০ টাকার সুবিধাসহ +)
১,০০০ টাকা: + ধন্যবাদ দেবো বইয়ের “কৃতজ্ঞতা” সেকশনে।
৫,০০০ টাকা: + বসতে পারি একটা কফিশপে, আপনার সাথে।
১০,০০০ টাকা: + বইটার একটা চরিত্রই হতে পারে আপনার নামে।

৭০.

বুঝতে পারছি মন খুব খারাপ হয়ে গেছে আপনার। মানতেই পারছেন না মন থেকে। এগুলো করতেই হবে – বই লেখার জন্য? আচ্ছা, মন থেকে ফেলে দিন উপরের উদাহরণ – একেবারই। ফিরে আসি ‘ক্রাউডফান্ডিং’য়ে। ‘কেইলী’ গানটার কথা মনে কি আছে আপনার? পাগলকরা (এখনো পাগল আমি) এই গানটা এসেছিলো ব্রিটিশ ব্যান্ড ম্যারিলীয়ন থেকে। অথচঃ এই ব্যান্ডের পুরো ইউএস টুরের টাকা তুলে দিয়েছিলো তার ভক্তরাই। সাতানব্বই সালের দিকে এই ভক্তকুল ইন্টারনেটের মাধ্যমে তুলে দিয়েছিলো ষাট ষাট হাজার ডলার! আর এতে ছিলো না ব্যান্ডের কোনো যোগসূত্র। ক্রাউডফান্ডিং। হ্যাঁ। উনিশশো নিরানব্বই সাল থেকে আমার পিসির প্রসেসরের ক্রান্চিং পাওয়ার ভাগাভাগি করে নিচ্ছি ‘সেটি@হোম’ প্রজেক্টের সাথে। সবার প্রসেসরের মিলিত কাজের ফল পাচ্ছে ‘সেটি’, বার্কলির ‘সার্চ ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ প্রজেক্ট। আরো জানতে দেখুন ‘কন্টাক্ট’ মুভিটা।

৭১.

আঠারশো চুরাশি সালে মার্কিন জনগণ এক ডলার করে চাঁদা দিয়ে তৈরী করে দিয়েছিলো স্ট্যাচু অফ লিবার্টির বেদীটা। অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে ষাট লক্ষ্ ইউসেজ আর তার বাক্যের উদাহরণ যোগান দিয়েছেন কিন্ত সাধারণ মানুষ, প্রায় সত্তুর বছর ধরে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সবার মতামত চাওয়া হয়েছিল তখন। আমাদের দেশেও অনেক উদাহরণ আছে এরকম। মানুষের জন্য মানুষ করে বলেই মানুষ বড় কোনো অসুখে পড়লে তার বন্ধুরাই পত্রিকার মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করেন। ‘টু কিল আ মকিং বার্ড’এর বই বা মুভিটা আজকে পেতাম না যদি না তার বন্ধুরা চাঁদা তুলে তার এক বছরের খরচ তুলে দিতেন। নেলী হার্পার লী ছিলেন ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের সামান্য কেরানী – যিনি লিখতেন কাজের ফাঁকে। লেখার জন্য চাকরি ছেড়ে যেতে হয় সস্তা এপার্টমেন্টে। এই বইটা আজ অবিশ্বরনীয় হয়ে আছে। এটিকাসকে মনে রাখবে যারাই পড়েছে বইটা।

৭২.

ইন্টারনেটের যুগে এই ‘ক্রাউডফান্ডিং’ পাল্টে গেছে ‘ক্রাউডসোর্সিং’ নামে। যা করতে চান, বলুন মানুষকে। মানুষ মানে আমরা তুলে দেবো টাকা, লিখুন গান, চিত্রনাট্য অথবা তৈরী করুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্র। সবই সম্ভব। বিনা পয়সায় বিশ্বভ্রমন, তাও সম্ভব। বইয়ে আসি ফিরে। আমার অনেক বন্ধুকে লেখক বানিয়ে ছেড়েছে ব্রিটিশ সাইট আনবাউন্ড। একটু ঘুরে আসুন সাইট কিকস্টার্টারে। আগেই বলে দিচ্ছি, মাথা কিন্তু দেবে ঘুরিয়ে। একাধারে চলছে চল্লিশ হাজারের মতো প্রজেক্ট (বই বা অ্যালবাম বের করা হচ্ছে এক একটা প্রজেক্ট)| দুহাজার নয় থেকে চল্লিশ লক্ষ মানুষ তুলেছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মতো। জি। বাংলাদেশে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিটা কিভাবে আমাদের জীবনযাত্রা পাল্টে দিচ্ছে তা আমাদের বাসার গৃহকর্মীকে দেখলে বোঝা যায়। ‘বিকাশ’ গুগলের মতো ক্রিয়াপদে পরিনত হচ্ছে। প্লাস্টিক মানুষের হাতে হাতে আসছে চলে। মানুষ দেবে টাকা – লেখার জন্য। সত্যি বলছি। লিখুন নিজের জন্য। অন্যের জন্য নয়। আপনাকে আপনি পরিতৃপ্ত করতে পারলে অন্যকেও পারবেন।

৭৩.

অনুরোধ রাখবেন কি একটা? জ্ঞান চালাচালি করতে পারাটা এই ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তবে, অন্যের বই পয়সা না দিয়ে পড়াটা অন্যায়। আমি বই কিনে পড়লে অন্যেরাও পড়বেন আমারটা।

লিখছেন? মাঝরাতে না তো?

Advertisements

Read Full Post »

“Good God, I can’t publish this!”
Rejection letter for William Faulkner’s book, Sanctuary

৫৭.

ভেবেছেন প্রথম রাতেই দাও মেরে দেবেন। মাফ করবেন, ভুল হয়েছে – ইয়ে, রাত মানে প্রথম বইয়ে। লিখবেন বই একটা, আর তাই হবে বেস্টসেলার! ধারণাটা সবাই করে বটে, তবে সেটা কাজে আসে না বললেই চলে। বড় বড় লেখকদের শুরুটা কখনোই সুগম ছিলো না। নামকরা সেই লেখক বই লিখে ঘুরেছেন প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে, মন ভেজেনি তাদের। বড় বড় পাবলিশিং হাউজগুলো শালীনতা বজায় রেখে চিঠি লিখে জানিয়ে দেন তাদের অপারগতার কথা। মৌনতা অসম্মতির লক্ষণ জেনেও বুক বেঁধে অপেক্ষা করেন লেখকরা। যারা যত বেশি ‘প্রতাখ্যান’ মানে রিজেকশন লেটার পেতে থাকেন, ততো নতুন করে বুক বাঁধেন লেখকরা। এবার ওই গল্পে না দিয়ে কিছু নামকরা লেখকদের রিজেকশন লেটারের অংশবিশেষ তুলে ধরতে চাচ্ছিলাম, বাকিটার বিচারের ভার ছেড়ে দিলাম আপনার উপর।

৫৮.

‘এনিম্যাল ফার্ম’ নিয়ে কম কথা হয়নি। টাইম ম্যাগাজিনে উনিশশো তেইশ সাল থেকে দুহাজার পাঁচ পর্যন্ত একশো সেরা ইংরেজি সাহিত্যের মধ্যে ‘খোয়াড়’এর গল্প ছিলো অন্যতম। প্রচুর পুরস্কারের মাঝে এই উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে হিউগো অ্যাওয়ার্ড একে অমর প্রকাশনার কাছাকাছি নিয়ে যায়। ‘স্যাটায়ার’ কাকে বলে তা বোধহয় ‘গালিভার্স ট্রাভেলসে’র পরে এটা পেলাম। তেতাল্লিশ সালে লেখা জর্জ অরঅয়েলের এই পান্ডুলিপি চার প্রকাশকের কাছ থেকে ফিরে আসে। একজন লেখেন,

“পশুপাখির গল্প চলে না আমেরিকাতে”।

বলে কি ব্যাটা? পশুপাখি ছাড়া কোনো মুভি দেখছি না এখন!

৫৯.

অ্যান ফ্রাঙ্কের ডায়েরিটা পড়েননি এমন আছেন নাকি কেউ – এখনো? অ্যানের বইটা আসলে তিনটা ডায়েরির সমন্বিত রূপ। মাঝের ডায়েরিটা তার এরেস্ট হবার পর হারিয়ে যায়। পরবতীতে আবার লেখে সে। অ্যান তো ভাবেনি যে তাকে বই লিখতে হবে। তার যা মনে হয়েছে তাই লিখেছে সে। সে কারণে বইটার বেশ কয়েকটা এডিশন বের করতে হয়েছে। পরের দিকে অবশ্য সেটাকে বইয়ের মতো করে নিয়ে আসে সে। ডায়েরি লেখার পদ্ধতিটা ওই বয়সের মেয়ের জন্য অনেকটা আউট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, আর সে জন্য ওই বয়সে তার লেখনির ধার ভুলতে পারেনি পুরো বিশ্ব। ‘ডিয়ার কিটি’, কিন্তু তার ডায়েরিকে লক্ষ্য করে লেখা হয়নি, বরং ‘কিটি’ চরিত্রটা দাড়িয়েছে নিজের মতো করে, স্বকীয়তা নিয়ে, অ্যানের একজন খুব কাছের বন্ধু হয়ে। নাত্সি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সেই আটজনের গ্রুপ – দু পরিবার মিলে, ওর ভেতরে বেচে যান শুধুমাত্র অ্যানের বাবা। উনিশশো পয়তাল্লিশের এপ্রিলে ব্রিটিশ সৈন্যদল সেই ক্যাম্প আক্রমন করে সবাইকে মুক্ত করার দু সপ্তাহ আগেই মারা যায় অ্যান। অ্যানের লেখা নিয়ে তার বাবা পাবলিশিং হাউজে দৌড়াদৌড়ি করার সময় একজন লেখেন,

মেয়েটার (মানে অ্যান), আমার ধারণা; লেখার ভেতরের উপলব্ধিগুলো পাঠকদের অনুভূতিকে কৌতূহলী পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না।

জি, মানে আপনাকে নিয়ে আমাদের কৌতুহল কিন্ত আকাশচুম্বী, সত্যি বলছি!

৬০.

‘লর্ড অফ দ্য ফ্লাইস’ যারা পড়েননি, তারা সিনেমাটা দেখেছেন নিশ্চয়ই। বইটা শুধুমাত্র হিটই ছিলো না, এটাকে নিয়ে সিনেমা করা হয়েছে দু দুবার! মজার কথা হচ্ছে বইটা সাহিত্যে নোবেলজয়ী উইলিয়াম গোল্ডিংএর প্রথম বই হলেও এখানে সিম্বলিজম ব্যবহার করা হয়েছে অতিমাত্রায়। মানুষের আসল চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ করা হলেও পাশবিক ব্যাপারগুলো এসেছে এখানে। পরবর্তিতে প্রচুর লেখক তাদের বইয়ের প্লট হিসেবে ধার নিয়েছেন এখান থেকে। ‘ইউটু’র ‘শ্যাডোজ এন্ড টল ট্রিস’ গানটি এসেছে এর সাত নম্বর অধ্যায় থেকে। স্টিফেন কিং, ফ্যান্টাসি আর হরর লেখক তার অনেকগুলো বইয়ে এটার প্রভাবের কথা বলেছেন। তবে, শুরুতে বিশ বিশটা পাবলিশিং হাউস এই বইটাকে প্রকাশের অযোগ্য বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। একজন বললেন,

অযৌক্তিক সারশূন্য ফ্যান্টাসি, নিস্প্রভ আর বাজে (রাবিশ এর বাংলা যা হয় তাই)।

ভাগ্যিস, আপনার ছাপাখানার কালি নষ্ট করতে হয়নি!

নিয়ে আসছি আরো সামনে, কয়টা চান, বলুনতো? আসল কথায় আসি, লিখছেন তো আপনি?

Read Full Post »

“There is nothing to writing. All you do is sit down at a typewriter and bleed.” – Ernest Hemingway

৪৬.

বই পড়ার পাশাপাশি সংখ্যা নিয়ে খেলতাম অবসরে। সংখ্যা যে কিভাবে ভবিষ্যত দেখায় তার ধারণা বর্তমান প্রতিষ্ঠানে এসে আরো পোক্ত হলো। হাতের রেখার জ্যোতিষী থেকে সংখ্যা কত সুন্দর ভবিষ্যত দেখাতে পারে তা ‘ফোরকাস্টিং’ বা ‘প্রেডিকশন’ চার্ট না দেখলে বোঝানো যাবে না। এটা আরেকটা বিজ্ঞান। এটা দেখেছিলাম আমেরিকাতে তাদের সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নেবার সময়। যুদ্ধক্ষেত্রে বেশ দুরে যোগাযোগের জন্য এক ধরনের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় যা মহাকাশের আয়নোস্ফেয়ার ছাড়া চলে না। তরঙ্গটা সেই নব্বই কিলোমিটার দুরের আয়নোস্ফেয়ারে বাড়ি খেয়ে ফিরে আসে বলেই পৃথিবীর এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত যোগাযোগ করা সম্ভব হয় পিঠে বহনযোগ্য যন্ত্র থেকে। বিভিন্ন শর্টওয়েভ রেডিও স্টেশন (বিবিসি, ভিওএ … আর আমার প্রিয় ‘হ্যাপি স্টেশন’ – রেডিও নেদারল্যান্ডস), এমেচার রেডিও, সমুদ্রগামী জাহাজ, দুতাবাসগুলো ছাড়াও আরো অনেককিছুতেই এটার ব্যবহার রয়েছে।

৪৭.

আয়নোস্ফেয়ারে আয়ন পার্টিকলের ঘনত্ব কমানোর জন্য সৌর ঝড়ের জুড়ি নেই। কবে সৌর ঝড় হবে আর তা কোন কোন তরঙ্গকে সমস্যায় ফেলবে তার জন্য ভাগ্যের উপর মানুষ বসে নেই আর। শত বছর ধরে সূর্যিমামার ভাবভঙ্গি বুঝে তৈরী করা হয়েছে ‘ফ্রিকোয়েন্সি প্রেডিকশন চার্ট’| সংখ্যার খেলা। বছরের কোন সময়ে কোন ঘন্টায় কোন ধরনের তরঙ্গগুলো সুর্য খেয়ে ফেলবে তা বুঝে ফেলেছে মানুষ। তাই সৌর ঝড়কে পাশ কাটিয়ে কোন তরঙ্গ কতদূর যেতে পারবে তার হিসেব আজ মানুষের হাতের মুঠায়। মানুষের মতো জটিল জিনিসকে যেখানে প্যাটার্নে ফেলে কাজ করছে লেখকরা, সুর্য তো সেখানে কোন ছার্!

৪৮.

লেখার সাথে এর সম্পর্ক কি? সংখ্যায় ফিরে আসি আবার। পৃথিবীর মানুষের সংখ্যার হিসেবে গেলে মাথায় শর্টসার্কিট হবার সম্ভাবনা বেশি, অন্ততঃ আমার। বেশি সংখ্যা ধাতে সয় না। আর আমি তো ‘পাই’ নই। সেকারণে সেটাকে কমিয়ে আনছি একশতে। মানে, ধরা নেই পৃথিবীতে আছেই মানুষ একশ। বর্তমান হিসেবে তার ষাটজনই থাকে এশিয়াতে! ইউরোপে মাত্র এগারজন! আমেরিকাতে চৌদ্দ। বুঝতে পারছেন কোথায় যাচ্ছি আমরা? পৃথিবীর সব উন্নতি হবে এই এশিয়াতে। এর মধ্যে ইংরেজিতে কথা বলে কয়জন? যে ভাষায় পৃথিবীর প্রায় সব অর্থনৈতিক কাজ চলে? আন্দাজ করুনতো। এই একশজনেই।

৪৯.

পাঁচ, মাত্র পাঁচজন। জি। আর বাংলা? তিনজন। ঠিকই ধরেছেন, দুজন কম ইংরেজি থেকে। তাহলে কেন লিখবেন না বাংলাতে? ঘুমাতে হয় কিভাবে, আর চা বানানো থেকে শুরু করে কি বই নেই ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ বা স্পানিশ ভাষায়। সোয়েটারের বুননের মধ্যে কম বেশি ফাকা করার পদ্ধতিরও বই আছে ওই ভাষাগুলোতে। আমার মতো যাদের মাথার ঘিলু বলতে কিছু নেই সেই ‘ডামি’দের জন্যও আছে হাজার হাজার বই। সে তুলনায় বইই নেই বাংলাতে। শিক্ষিতদের হার নিয়ে কথা বলবেন তো? এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। জাতিগুলো তার আগের প্রজন্মের জ্ঞান মানে তাদের ঘাড়ের উপরে পা দিয়ে এগোয়, তার জন্য বই/জ্ঞান ছাড়া গতি নেই। সেটা নিয়ে আসছি সামনে।

লিখছেন তো?

Read Full Post »

“Any resemblance to people living or dead is purely coincidental… Especially you, Jenny Beckman… Bitch.” – The film begins with a disclaimer, (500) Days of Summer

প্রতিশোধ না নিলেই কি নয়?

২৩.

সোনার চামচ নিয়ে জন্মালে অন্য কথা। যা লিখবেন তাই বই বের হবে, সেটার জন্য কপালেরও প্রয়োজন পড়ে। নতুন লেখা নিয়ে গেলে তার গঞ্জনা অনেক। বর্তমানের হটসেলিং লেখকের মতো করে না লিখতে পারলে আরো সমস্যা। নতুন লেখার গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হতে সময় নেয় অনেক বেশী। আর গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হবার আগ পর্যন্ত দিনগুলো খুব কষ্টের। “ছাপানো যাবে না” আর অখ্যাত লেখকের জন্য একথাগুলোই প্রতিদিনের ঔষুধ। “লেখা না পারলে শিখে আসেন” ধরনের কথাও শুনতে হয়েছে অনেককে।

২৪.

আর এব্যাপারে ফ্র্যাংক সিনাত্রার মন্তব্য আরো ভয়ংকর। যে কারোর অপ্রতিরোধ্য “সাফল্যই হতে পারে তার সেরা প্রতিশোধ”| লেখকদের মধ্যে যারা অনেকবার মানে অনেকবার প্রত্যাখ্যাত পরবর্তিতে অভাবনীয় বই বিক্রি দিয়ে শোধ নিয়েছেন প্রকাশকদের সাথে। প্রতিশোধের আরেকটা গল্প হতে পারে স্কট ন্যুস্তাডারকে ঘিরে যিনি ‘ফাইভ হান্ড্রেড ডেজ অফ সামার’ মুভির একাধারে লেখক আর স্ক্রীনরাইটার। মুভিটা দেখে এক সপ্তাহ ঘোরের মধ্যে থেকে জেনীর খবর পেলাম। লেখকদের প্রতিশোধ কত ভয়ংকর হতে পারে তা মুভিটা দেখলেই বুঝতে পারবেন ভালো।

২৫.

জেনী বেকম্যানের সাথে দেখা লন্ডনে। আমাদের লেখক স্কট ন্যুস্তাডার নিউ ইয়র্ক ছেড়ে গিয়েছিলেন লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে পড়তে। আগের সম্পর্কটা বাজে ভাবে শেষ হওয়াতে পালাতে চাচ্ছিলেন নিউ ইয়র্ক থেকে। সম্পর্কের ‘রিবাউন্ড’ যে কি কষ্টের তা যারা পড়েছেন তারাই বলতে পারবেন ভালো। ‘রিবাউন্ড’ এর সময় বুক ফাকা হয়ে গেলে তার উপর দিয়ে তেলাপোকার হাটা, ঘুম ছাড়া রাতের পর রাত, সুইডিশ সিনেমার লম্বা দিনগুলোর কথা মনে হবে তখন। আচ্ছা, সুইডিশ সিনেমাগুলো এতো মন খারাপ করে দেয় কেন? ব্রায়ান আডামসের “হোয়েন ইউ লাভ সামওয়ান” গানটা লুপের মধ্যে পড়ে গেলে সব নিয়ামক এর মধ্যে উপস্থিত বলে ধরে নেয়া যায়। রিবাউন্ড ১০১।

২৬.

ধরে নেয়া যায় যে স্কট জেনীকে নিয়ে আরেকটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। এলএসইতে এলিভেটরে লুকানো ছোটখাটো রোমান্টিক লিড দিয়ে শুরু হয় তাদের ভালবাসা। তবে, জেনী সেটাকে কিভাবে নিয়েছিলো তা নিয়েই মুভিটা। যেকোনো সিনেমার শুরুতে বাস্তব চরিত্রের সাথে এই মুভির মিল একান্ত কাকতালীয় বলে লেখা দেবার পরও নতুন করে আরেকটা লাইন চলে আসে। জেনী এই হৃদয়বিদারক গল্পের শেষে স্কটকে ছেড়ে দিলেও স্কট তার প্রতিশোধের ফনা তোলে তার লেখনীতে।

মুভিটা মানুষ পাগলের মতো দেখেছে। কাকতালীয়ভাবে অনেকে তাদের জীবনের সাথে মিল পেয়েছেন।

আমার? আমার আবার কি?

Read Full Post »

“Life begins at the end of your comfort zone.” – Neale Donald Walsch
“Everything you want is just outside your comfort zone.” — Robert Allen, The One Minute Millionaire.

১৭.

বেতন পাচ্ছি, দুটো পাচটা খেতে পাচ্ছি, চলে তো যাচ্ছে। এই অবস্থার উন্নতির প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে বেশিরভাগ মানুষ না বলবেন। মানুষ মাত্রই কমফোর্ট জোনের বাইরে যেতে ভয় পান। আবার, পৃথিবীর সব ভালো জিনিস আমাদের কমফোর্ট জোনের ঠিক বাইরে। ভালই তো আছি, আর কি দরকার? জীবন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় নেই বাপু, পরে আম ছালা দুটোই যাবে।

১৮.

আমাদের নিজেদের জীবন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মানসিকতা না থাকার পেছনে মাসলোর তত্ত্ব আবার খাটানো যায়। মৌলিক চাহিদা, ভাত, কাপড় বা মাথা গোজার জায়গা না থাকলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার আবেদন না থাকারই কথা। তবে, সবকিছুতে মরিয়া বা বেপরোয়া হবার মানসিকতা অনেকসময় ভাগ্য বদলে দেয়। মানুষ কোনঠাসা হয়ে গেলে অনেক চমত্কার চমত্কার ফলাফল নিয়ে আসে। একারণে অভিবাসীরা, যারা ভাগ্যের অন্নেষণে বিদেশ বিভুইয়ে পাড়ি দেন, তারা সবার সাথে প্রতিযোগিতায় তাদের সেরা কাজ দিয়ে নিজের সাথে দেশটাকেও উপরে নিয়ে চলে। এখানে, আমেরিকা, দ্য ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি এসেছে ল্যান্ড অফ মাইগ্রান্ট থেকে। মরিয়া না হলে এটা সম্ভব নয়। তবে, ল্যান্ড অফ মাইগ্রান্ট ব্যাপারটি আসলে আমেরিকার মিত্র দেশটির জন্য বেশী প্রযোজ্য। পৃথিবীর সত্তুর ভাগ উদ্ভাবনী জিনিস আসে সেই দেশ থেকে। ‘ডেসপারেশন’ সেই দেশকে নিয়ে গেছে অন্য পর্যায়।

১৯.

মনে আছে সেই অকুতোভয় সেনাপতির কথা? অন্য দেশের পানিসীমায় প্রবেশ করে আবিষ্কার করলেন যে তার সৈন্য সামন্তের সংখ্যা তার শত্রুদেশের তুলনায় ভয়ংকরভাবে কম। ঘন্টা খানেকও টেকা যাবে কিনা তা নিয়ে আছে সন্দেহ। তীরে নেমেই পুড়িয়ে দিলেন সব জাহাজগুলো। সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমরা না জিতলে এই তীর ছাড়তে পারবো না। হয় জিতবো আমরা, না হয় আমরা শেষ সবাই!

তারা জিতেছিলো।

২০.
আমেরিকার “গ্রেট শিকাগো ফায়ার” এর কথা সবার মনে থাকবে অনেকদিন। বাংলাদেশের জন্মের ঠিক একশো বছর আগে এক বিশাল অগ্নিকান্ডে প্রায় নয় বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পুড়ে গিয়েছিলো। সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছিলো মানুষ। ব্যবসায়ীদের সব দোকান ছারখার হয়ে গিয়েছিল। পরদিন ভোরে ব্যবসায়ীরা এসে অগ্নিকান্ডের ভয়াভয়তায় নতুন জায়গায় চলে যাবে নাকি নতুন করে দোকান চালু করবে সেটা নিয়ে অনেক শলাপরামর্শ করলেন। সবাই শিকাগো ছেড়ে চলে গেলেন পরে। থেকে গেলেন একজন। ঠিক ধরেছেন। ধারণা করা যায়, কমফোর্ট জোনের বাইরের লোক, পাগল কিসিমের।

২১.

শূন্য থেকে আবার দোকানটা তৈরী করা হলো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আজ সেটা। মরিয়া হয়ে গেলে মানুষ কি করতে পারে তার সর্বতক্রিসঠ উদাহরণ হিসাবে দাড়িয়ে আছে মার্শাল ফিল্ড ডিপার্টমেন্ট স্টোর। দুহাজার ছয় সালে একে কিনে নেয় বিশ্বখ্যাত আরেক ব্র্যান্ড ‘মেসি’।

পৃথিবীর ভালো সব যা হয়েছে, তার সবকিছুই সেই অকুতোভয় মানুষগুলোর কমফোর্ট জোনের বাইরে ছিলো।

আপনার?

Read Full Post »

The girl doesn’t, it seems to me, have a special perception or feeling which would lift that book above the ‘curiosity’ level. – According to one publisher, “The Diary of Anne Frank”

১০.

লেখক জন্মায়, লেখক তৈরী করা যায় না।

এই মিথ্যা কিন্তু আজকের নয়। আর মিথ্যা চলছে হাজার বছর ধরে। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে যে গোয়েবলসের তত্ত্ব সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার হয়েছে এখানে। জার্মান রাজনীতিবিদ পল জোসেফ গোয়েবলস, হিটলারের দলের লোক যে তার কূটবিদ্যার জন্য খুব বিখ্যাত হয়েছিল। “তুমি যদি খুব বড় কোন মিথ্যা ক্রমাগত বলে যেতে থাক, মানুষ এক সময়ে তা বিশ্বাস করতে শুরু করবে”, তার কিছু উক্তির অন্যতম। লেখক শৈশব থেকে ওয়েস্টার্ন বইগুলোর নায়কের মতো পিস্তলের নল না কামড়ে কলম কামড়ে বড় হয়। ক্লাসে গরুর রচনা না লিখে তালগাছের কবিতা লেখে। বড় হয়ে এমনিতেই লেখক হয়ে যায়। এইসব অন্যমনস্ক লেখকদের কিছু বদোভ্যাস থাকে, সেটাতে অন্যেরা মেনে নেয়। তারা প্রায়শই উশৃঙ্খল জীবন যাপন করে থাকে। নিষিদ্ধ জিনিস না হলে মাথাই খোলে না।

১১.

এগুলোর কোনটাই ঠিক নয়। আর, লেখক জন্মায় না। মন থেকে চাইলে লেখক কেন – অনেক কিছু হওয়া যায়। লেখকসহ যারা অনেক দুরে গিয়েছেন তারা খুবই নিয়মানুবর্তিতায় বিশ্বাসী। তবে, লেখক তৈরী করার বই হিসেবে এটুকু বলা যায়, লেখক হওয়ার জন্য আপনাকে সময় দিতে হবে, লিখতে হবে। লেখক লিখবে, তাইতো স্বাভাবিক। কিভাবে লিখবেন তা আসবে সামনে। একজন বিশ্বখ্যাত লেখকের ঘটনা যিনি আইনজীবী হিসেবে তার জীবন শুরু করেছিলেন। হঠাত্ ঘটল এক মারাত্মক দুর্ঘটনা, যা প্রায় মেরে ফেলেছিলো তাকে। হাসপাতালের বিছানাতে শুয়ে তার দ্বিতীয় জীবনের দ্বারপ্রান্তে এসে মনে হলো তিনি একসময় লেখক হতে চেয়েছিলেন। লেখলেন, একবছর, দুবছর, তিন বছর! কেউ তার লেখা ছাপতে চাইল না। লিখেই চললেন তিনি।

১২.

যেকোনো কিছুর প্রথম দরকারী জিনিস হচ্ছে, নিয়মানুবর্তিতা। এর পুরো শিল্পকৌশল মানে লেখার ‘ক্রাফট’ শেখানোর দায়িত্ব আমার, তবে আপনার অধ্যবসায়, নিয়মিত অনুশীলন আর ধৈর্য বাড়ানোর জন্য আমার সাথে থাকতে হবে শেষ পর্যন্ত। বই লিখিয়ে ছাড়বো আপনাকে। আছেন তো?

১৩.

যারা বই লেখেন তাদের ‘ব্রেক’ এর জন্য প্রয়োজন বই প্রকাশকদের। প্রকাশকরাই বইটাকে আলোর মুখ দেখান। তারাই আমাদের মতো লেখকদের জন্য ঝুঁকি নেন। আমাদের বই বের করার জন্য লগ্নি করেন। তাদের এই মানসিক চাপ এবং পার্থিব তোপের উপর থেকে নতুন লেখকের বই বের করা দুস্কর হয়ে পরে। প্রচুর জমা পড়া পান্ডুলিপির ভেতর থেকে মুক্তা খুঁজে বের করে আনতে হয়। সেখানে লেখকদের জমা দেয়া পুরাতন লেখা নতুন করে লেখা, অধ্যবসায় (সবসময়ের জন্য প্রযোজ্য) আর অনুশীলন করার পাশাপাশি ধৈর্য সেটাকে বাঁচিয়ে দেয়।

১৪.

বড় বড় প্রকাশক চিঠি লিখে জানিয়ে দেন তাদের অপারগতার কথা। অনেকে কিছু বলেন না। লেখকরা যা বোঝার বুঝেও যোগাযোগ করতে থাকেন। এগুলোকে সাধারণতঃ ‘রিজেকশন’ বা প্রত্যাখ্যান পত্র বলা হয়।

উদাহরণ দরকার? হাজারটা? আর, মাফ করবেন – বুঝতে পারিনি। বড় বড় লেখকদের?

আসছি কালকেই।

Read Full Post »

“I left the fairy tales lying on the floor of the nursery, and I have not found any books so sensible since.” ― G.K. Chesterton

৬.

ছোটবেলার শিশু পত্রিকা, নবারুণ থেকে কিশোরবাংলা সাপ্তাহিক কোনটাই বাদ পড়েনি। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রগতি প্রকাশনের বইয়ের অসম্ভব আসক্তি স্কুলের বইকে পাশ কাটাচ্ছিল। স্কুলের লাইব্রেরির কার্ডে বেশী বই তুলতে না পারার কারণে বন্ধুদের কার্ড দিয়ে বই তোলার মজা কম ছিলো না। ক্যাডেট কলেজএ যেয়ে বইয়ের সাগরে পড়লাম। বাংলার পাশাপাশি অক্সফোর্ডের ওয়ার্ল্ড ক্লাসিকসের চার আলমীরা বই শেষ করতে ছয় বছর কিন্তু অনেক সময়। টেকনোলজি নিয়ে কাজ করার সুবাদে যেকোনো ম্যানুয়াল পড়তে আমার না নেই। ইন্টারনেটের প্রথম দিকে কোনো সমস্যায় পড়লে বুলেটিনবোর্ড বা থ্রেডেড নিউজগ্রুপে, (যা বর্তমানের ওয়েব ফোরামের আদ্দিকালের ভার্সন) পোস্ট করলে মাঝে মধ্যে উত্তর হিসেবে “আরটিএফএম” চলে আসত, যার অর্থ হচ্ছে সময় নষ্ট করো না তো বাবু, “রিড দোজ ফ্রিকিং ম্যানুয়াল”! একসময় দেখা গেল এই ম্যানুয়ালই হয়ে গেল আমার সবসময়ের সঙ্গী। যেকোনো যন্ত্র আমাকে চালাতে দিন, ম্যানুয়ালের ধরন দেখে বলে দেয়া যাবে কতদিন দরকার। ম্যানুয়াল লেখা যে কিধরনের শিল্প তা না দেখলে বোঝানো যাবে না। বলা যায়, যে সভ্যতা যতো সুন্দর ম্যানুয়াল বের করে, সে তত উন্নত। এয়ারবাসের এ-থ্রীএইটির ম্যানুয়াল (কাগজের ম্যানুয়াল সব কম্পিউটারে পরিবর্তিত করা হয়েছে) এর খুটিনাটি বিশ্লেষণ দেখলে আপনার মাথা খারাপ হয়ে যেতে পারে। একটা কথা বলে রাখি, ঢাকায় এ-থ্রীএইটি আসছে খুব শিগগির!

৭.

মানুষ মাত্রই প্যাটার্ন এনালিস্ট। ছোটবেলায় ক্রিপ্টোগ্রাফির কয়েকটা বই হাতে পড়েছিলো বলে অফিসিয়ালি ব্যাপারটা মাথায় গেথে যায়। পরবর্তিতে যা পড়তাম বা দেখতাম তার একটা নকশা তৈরী করে ফেলতাম মনে মনে। দেখা যেত সমপ্যাটার্নের বিভিন্ন জিনিস গোত্রগুলোতে ভাগ করতে সময় লাগতো না। মানুষকেও প্যাটার্নের মধ্যে ফেলে দেবার পর বই পড়া আরো সহজ হয়ে গেলো। চোখ বন্ধ করে আপনার প্রিয় বইয়ের প্রধান চরিত্রের কথা মনে করুন। লেখক তার পাতার ভাজে ভাজে সেই  চরিত্রের নকশা ফেলে গেছেন।  মাফ করবেন, আমি ডেক্সটারের মতো ফিনকি দিয়ে ছড়িয়ে পড়া রক্তের ‘টর্ক’ এনালিস্ট নই। তবে, এর গল্প আগানোর প্যাটার্ন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে – যা নিয়ে আসব সামনে। তবে জেফ লিন্ডসের “ডার্কলি ড্রিমিং ডেক্সটার” নামের এই অসাধারণ বইটা থেকে যা স্ক্রিপ্ট লেখা হয়েছে তা মানুষকে টিভির সামনে আটকে রেখেছে অনেকদিন। স্ক্রিপ্ট টীম থেকে গল্প আছে সামনেই।

৮.

বইয়ের ব্যাপারে প্যাটার্ন জিনিসটা আরো সহজ হয়ে এলো। চার পাঁচ হাজার বই পড়ার পর অনেকগুলো ধারণা মাথায় এলো। ফর্মুলার দিক থেকে অনেক বইকে কিছু কিছু গোত্রে ফেলানো যাচ্ছিল সহজেই। প্যাটার্নের প্যাচে পড়ে গেলাম আবার। রাত দিন স্বপ্নে প্যাটার্ন দেখি। এরপরের ঘটনা আরো চমত্কার। আগাস্টার মতো অজপাড়াগাঁ থেকে ক্রিসমাসের বিশ বাইশ দিনের লম্বা ছুটিতে বিগ এপলে চলে আসলাম। দুহাজার সালের দিকের কথা। যা দেখি তাতেই মুগ্ধ হই। এমটিএর (সাবওয়ে) মাসিক পাশ ধরে পুরো নিউ ইয়র্ক চষতে চষতে যেয়ে হাজির হলাম আট মাইল লম্বা (তখনকার সময়ের আট এখন আঠারো মাইল) বইতে দোকান, স্ট্র্যান্ডএ। বুক সাইনিং ইভেন্ট আর বিভিন্ন বুক রিডিং শুনতে শুনতে গোথাম রাইটার্স ওয়ার্কশপের পরিচিতি পেলাম। যে কেউ চাইলেই গল্প লিখতে পারে তার চাক্ষুস প্রমান পেলাম কয়েকজন বন্ধুদের প্ররোচনায়। সেটা আটকে ছিলো অনেকগুলো বছরের ধুসর স্মৃতিতে। কয়েকরাত ধরে সেই প্ররোচনাটা ফিরে আসছে, বার বার। আমাকে লিখতেই হবে, গল্প লেখার গল্প! কারণ, গল্প লিখবেন এবার আপনারা!

৯.

‘শিশু’র “সুমন ও মিঠুর গল্প” জীবনের প্রথম উপন্যাস হলেও  ‘কুশল আর মৃত্যুবুড়ো’ আমাকে প্রায় বছরখানেক আচ্ছন্ন রেখেছিলো। গল্পের সেই শক্তির ধারে কুপোকাত ছেলেটা বইয়ের লেখা সবকিছু বিশ্বাস করা শুরু করেছিলো। দিনের পর দিন শিশু পত্রিকার সেই উপন্যাসে সমুদ্রের নিচের বেশ কয়েকটা আঁকা ছবির মুগ্ধতা কাটছিলো না তার। বাবা মা কি ভাবছিলো তা না জানলেও উদ্বিগ্ন মনে হয়েছিলো তখন। এখন নিজের মেয়েকে যখন কোনো বইয়ে ডুবে থাকতে দেখি, মনে পড়ে সেই সব দিনের কথা। মেয়ে বা ছেলেটা গল্পের বই নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তাদের রুমে আলো বন্ধ করতে গেলে নিজের দিনগুলোর কথা মনে পড়তে থাকে। মাঝে মধ্যে বালিশের পাশ থেকে বই সরিয়ে রাখতে গেলে ওদের সেই বইয়ের স্বপ্নে ভেসে যাওয়া বুঝতে পারি। বই আর সরাতে পারি না। যদি বই থেকে স্বপ্ন যাওয়া বন্ধ করে দেয়?

কুশলের একা ফিরে যাওয়া ভুলতে পারিনি এখনও।

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: