Feeds:
Posts
Comments

Archive for September, 2015

If you think it’s expensive to hire a professional to do the job, wait until you hire an amateur.

– Red Adair

০৭.

উনিশশো আটানব্বই নিরানব্বইয়ের কথা। মাইক্রোসফট ফুলফিলমেন্ট সাবসক্রিপশনের আওতায় ‘ডেভেলপারস নেটওয়ার্কে’র অনেক সিডি আসতো আমার নামে। বিনামূল্যে। বেশ কয়েকটা পরীক্ষায় পাশ করার পুরস্কার হিসেবে আসতো ওগুলো। অনেক অনেক সিডি। এতো সিডি যে তা নিয়ে অস্থির থাকতো কাস্টম’স। এর মধ্যে ‘ওয়াইটুকে’ নিয়েই থাকতো হাজার ‘প্যাচ’ আর নতুন নতুন লাইব্রেরী। দুহাজার সাল এলে কি হবে সেটা নিয়েই অস্থির ছিল পৃথিবী। এয়ারলাইন্স থেকে হাসপাতাল, ব্যাংক, পানি, গ্যাস, বিদ্যুত্‍ নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাবে না তো? নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যাণ্ট নিতে পারবে তো ওই দুই ডিজিটের ঘাপলা? শেষমেষ ওরকম কিছুই হয়নি। প্রস্তুতি ভালো ছিলো হয়তোবা। আসলে কি হয়েছিল সেটা বিবেচ্য নয়। মোদ্দা কথা, ভীষণ বিপদে ছিলাম ওই দু বছর। ঝামেলা কিন্তু কমেনি, বরং বেড়েছে বছর কে বছর। আর বিপদে পড়ছে সরকারগুলো। প্র্জ্ঞার অভাবে। প্রতিনিয়ত।

০৮॰

সময় যাচ্ছে যতো, পাল্টে যাচ্ছে পৃথিবী। বাড়ছে জটিল জিনিস, ‘কনফিউশন’ তো পদে পদে। বাড়ছে মানুষ – সেহারে কমছে রিসোর্স। অনিশ্চয়তা যোগ হয়েছে এর সাথে। আগে যে জিনিসের ওপর আমাদের ডিরেক্ট কনট্রোল ছিলো সেটাও নির্ভর করছে হাজারো এক্সটার্নাল ফ্যাক্টরের ওপর। চাষী হিসেবে যা চাষ করতাম সেটাই ছিল সবকিছু। আমার ওপর নির্ভর করতো আমার সবকিছু। ভালোই ছিল দিনকাল। ছোটবেলায় পয়লা ক্লাস থেকে হেঁটে যেতাম স্কুলে। বাবা মাও ছিলেন নিশ্চিন্তে। ছুটি শেষে ক্যাডেট কলেজে পৌছে একটা চিঠি দিতাম ছেড়ে। সেটাও আসতো সপ্তাহ পরে।

০৯.

আর এখন? ক্লাস টেনের ছাত্রদের পাঠাতে হয় গাড়ি দিয়ে। মা’রা বসে থাকেন স্কুলে। না হলে নিদেনপক্ষে ড্রাইভারের সাহায্য নিতে হচ্ছে ও’কাজে। মোবাইলে প্রতি মূহুর্তে যোগাযোগ থাকলেও সবাই থাকে দু:চিন্তায়। গাড়ি’র নিরাপত্তার ব্যাপারটা ছেড়ে দেয়া হয়েছে যন্ত্রের ওপর। এর অর্থ হচ্ছে আমাদের হাতে মানে ‘কনট্রোলে’ থাকা জিনিসগুলো চলে যাচ্ছে বাইরে। আগের মতো ‘লেইড ব্যাক’ মোডে থাকলে চলবে না আমাদের। বাসার প্রতিটা কাজে সাহায্য দরকার পড়ছে অনেকের। অন্যের সাহায্য আর ‘পরামর্শ’ ছাড়া বাসার কাজ, বাসার ‘হেলপিং হ্যাণ্ড’ সরবরাহ, নিজের ট্যাক্সটা দেয়া, ব্যবসা, অফিস, দরকারী কাগজ/পারমিট বের করে দেয়াতে সাহায্য করা – সবকিছু অচল! আর সেখানেই ঢুকছে দরকারী মানুষগুলো। মানে, যে জানে ওই কাজগুলো। তবে বিস্তর ফাঁক রয়েছে ‘লবিষ্ট’ আর পরামর্শকদের কাজে।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

The single most powerful element of youth is that you don’t have the life experiences to know what can’t be done.

Your life should be a story you are excited to tell.

― Adam Braun, The Promise of a Pencil: How an Ordinary Person Can Create Extraordinary Change

০১.

সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। আফ্রিকাতে বছরখানেকের বেশি নিরবিচ্ছিন্ন সময় দেবার জন্য। দেশ থেকে অনেক অনেক দূরে। দিনের কাজের শেষে অফুরন্ত সময়। ইউএন স্টাফ হিসেবে অন্যদেরকেও পাওয়া যায় না সহজে। উই হ্যাড টু ট্রাভেল আ লট! হেলিকপ্টার, বীচক্রাফ্ট, আর তুখোড় তুখোড় গাড়ি। মনে করবেন না এয়ার ট্রাভেল হেভি মজার। ট্রান্সপোর্ট হেলিকপ্টার আর বীচক্রাফ্টের রোলিং সহ্য করে নিয়েছিলাম নতুন নতুন যায়গা দেখার লোভে। কি করা যায়? বাকি সময়? প্রজেক্ট ‘কোরআন’এর পাশাপাশি নামিয়ে ফেললাম অনেকগুলো বই – এই বেকুব মাথায়। না, পাইরেসি নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপ ফেরত বন্ধুদের বই না নিয়ে দেখা করতে আসা বারণ। বইয়ের দাম দেয়া নিয়েও ঝামেলা হয় প্রচুর। টাকা নিয়ে তো আর ঘোরা হয় না সবসময়। পরে দেখলাম চেক দিলে সেটা জমা দেয় না অনেকে। ভীষণ বিপদ। বই পড়তে গিয়েও যে বিপদ সেটা জানা ছিলো না আগে। কিণ্ডলেও জমা হতে থাকলো অনেক বই।

০২.

ওয়ারেন বাফেট দাড়িয়ে আছেন ১৬৫টা উত্‍সুক ছাত্রদের সামনে। বোধহয় কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। বক্তৃতা শেষ। ইনভেস্টমেন্ট ক্যারিয়ার নিয়ে। হাত তুললো একজন। ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার ‘চিটকোড’ কি? বাফেট তার সাথে আনা ট্রেড পেপারের অনেকগুলো রিপোর্ট বের করে নিলেন হাতে। তিনি কি বললেন সেটা অনুবাদ করলে ভুল বুঝতে পারেন আমাকে। আর, ‘টাইপো’ হিসেবে বকার সুযোগ দিতে চাইনা আপনাকে। তিনি যা বললেন সেটাকেই তুলে দিলাম দাড়ি কমা সহ। “Read 500 pages like this every day. That’s how knowledge works. It builds up, like compound interest. All of you can do it, but I guarantee not many of you will do it.” ব্যাংকের ইন্টারেস্ট খুব একটা না বুঝলেও একটা জিনিস বুঝি ভালো ভাবে। ‘কম্পাউণ্ড’ ইন্টারেস্ট। ইট বিল্ডস আপ। আগে বুঝতাম না অনেক কিছুই। ‘কানেক্টিং দ্য ডটে’র গল্প দিয়ে দিব্যদৃষ্টির মতো জিনিস পরিষ্কার হচ্ছে প্রতিদিন। পড়তে পড়তেই। ওমা, পড়লেই হবে? সংসার চালাবে কে?

০৩.

শেষ হলো আফ্রিকা অধ্যায়। শুরু হলে শেষ হবে জানা কথা, তবে শুরুটাই ছিল আসল। ‘স্টার্টিং ইজ হাফ দ্য ব্যাটেল’ নিয়ে সমস্যা হলেও সেটাও শেষ হলো একসময়। ফিরে এলাম দেশে। কষ্টের অ্যাসাইনমেন্ট শেষে এক মাসের ছুটি। এক মাস!?! অবিশ্বাস্য, তাই না? হেভি মজার। তবে, কয়েকদিন যেতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লো আমার ব্যাংকার বউ ‘স্বাতী’ আর বাচ্চারা। স্কুল বলে কথা। কি করি, কি করি! ইউনিক্স প্রোগ্রামিং নিয়ে লিখেছিলাম অনেক অনেক আগে। ঘষা মাজা করে সেটাও দাড়া হলো সপ্তাহের মাথায়।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Never give people unsolicited advice. If they want your opinion, they’ll ask for it. And only those who ask for it and pay for it will value it.

– Bob Bly

০০॰

বোকারা শেখে দেখে। আর বাকিরা নাকি শেখে ‘ঠেকে’। আর – আমার মতো নিম্ন-বুদ্ধিবৃত্তির মানুষ শেখে না কিছুতেই। সেটাও কিন্তু ‘উপলব্ধি’ নয় আমার নিজের। আশেপাশের মানুষদের। মানুষ সামাজিক জীব বলে কথা।

দুহাজারের ঘটনা। মিউনিখের এক ডাক্তারের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে দিলো আমার ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। চোখের ওপর অনেক পড়াশোনা ওই ডাক্তারের।

চেম্বারে ঢুকতেই চোখ ছানাবড়া!

দরজায় কি যেন লেখা। তাও আবার বড় বড় করে। চশমা ঠিক করে নিলাম।

০১.

জিনিসটা জার্মান ভাষায়। ‘বিনা পয়সার উপদেশ নিতে নেই।’ বঙ্গানুবাদ করলে এটাই দাড়ায় মোটামুটি। হক কথা। আমি তো পয়সা না দিয়ে উপদেশ নিচ্ছি না ওর। কিন্তু, এই ‘গালগল্প’ পড়ার জন্য তো পয়সা দিতে হয়নি আমাকে। ইন দ্য ফার্স্ট প্লেস – এটা তো ‘সাব্সক্রাইব’ই করার কথা না আমার। ‘বিনা পয়সা’র উপদেশ বলে কথা। কাটাকাটি। তবে মনে রাখলাম জিনিসটা। বলা তো যায় না কখন লাগে কি কাজে। মাথা মানে ‘পরামর্শ’ বেচে যে পয়সা পাওয়া যায় সেটার একটা ‘প্রিমিটিভ’ ধারনা পেলাম ওখানে। আবার, কথা বলে মন ভালো করার জন্য পয়সা নিচ্ছে ডাক্তাররা। ‘কন্সাল্টেশন ফী’ নাকি সেটার নাম।

কি ‘কন্সাল্ট’ করে তারাই জানে ভালো।

০২.

দুহাজার আটের ঘটনা। হংকংয়ে একটা থ্রীজি-এলটিই’র কণফারেন্সে একটা সিগন্যাল পেলাম ‘বিগ এইটে’র দুটো ফার্ম থেকে। এখন সেগুলো ‘মার্জার অ্যাকুইজেশনে’র পর দাড়িয়েছে ‘বিগ ফোর’য়ে। কফি ব্রেকের সময় লাঞ্চের ‘ইনভাইটেশন’ দিয়ে বসলো একজন। রাতে আরেকজন। ও ধরনের ‘সিগন্যাল’ ইন্টারপ্রেট করার মতো ‘ম্যাচ্যুরিটি’ মানে পরিপক্বতা ছিলো না তখন। জাপানের সিগন্যালটা আরো বড় ধরনের। আইটিইউ’র মিটিংয়ে স্পেকট্রামের ওপর একটা প্রেজেন্টেশন দেবার পর বাংলাদেশের থ্রীজি স্পেকট্রামের ‘মার্কেট সাইজিং’ নিয়ে কথা বললো কয়েকজন। পৃথিবী চলে ‘সংখ্যা’র ওপর। ‘গেসিং’ মানে অনুমানের ওপর নির্ভর না করে ‘এষ্টিমেশন’, প্রোজেকশন, ফাইনান্সিয়াল ক্যাপিটাল তোলার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের রিস্ক মিটিগেশন নিয়ে যা গল্প হয় তার বেশিরভাগ আসে এই সংখ্যার ভেতরের ‘ইনসাইট’ থেকে।

০৩.

ধরুন, একজন বললেন বাংলাদেশের মতো বাজারে কতোগুলো মোবাইল অপারেটর ‘অপটিমাল’? নট টু মাচ, নট টু লিটল। মানে, একটা সংখ্যা চাওয়া হচ্ছে মার্কেট সাইজিংয়ের ওপর। ‘কান টানলে মাথা আসে’ হিসেবে ‘মার্কেট শেয়ার’ আর ‘গ্রোথ ক্যালকুলেশন’ চলে আসবে এর সাথে। বাজারের ‘প্রতিযোগিতা’র ইনডেক্স কেমন সেটা জানতেই তো দরকার অনেক হিসেব। অনেকেই বলবেন – মুক্তবাজার অর্থনীতি, যার ইচ্ছা আসবে – না পোষালে চলে যাবে, সংখ্যার আবার দরকার কি? তাহলে তো শিখলাম ঠেকে। অন্ধভাবে একটা বাজারে এসে ‘বাড়ি’ (বাসা না কিন্তু) খাবার জন্য তো আর হাজার মিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট করবে না একটা কোম্পানী। দেশের নীতিনির্ধারকরাও বসে থাকবেন না ‘দেখা যাক কি হয়’ মোডে। মুখে বলবেন না হয়তোবা, তবে সবারই একটা ‘ইন্টার্নাল ক্যালকুলেশন’ থাকবে এই সংখ্যাটার ব্যপারে। ব্যবসায় এসে ‘ভুল’ সংখ্যার ‘প্রফিট মার্জিন’ আর ‘রিটার্ন অন ক্যাপিটাল’এর ওপর বসে থাকলে সবারই ক্ষতি। কোম্পানীর হাজার মিলিয়ন ডলারের গচ্চা, আর দেশের গ্রাহকের ভোগান্তি। সরকারও বিব্রত। শেষ মেষ বিপদে সবাই। আসল কথা, ভুল উপাত্ত থেকে আসে ভুল সিদ্ধান্ত।

০৪.

আর উপাত্ত না থাকলে?

বলেন কি? কোটি কোটি ‘পাবলিক ডোমেন’ ডাটা উড়ছে আকাশে বাতাসে। আর সরকারের কাছে কোন উপাত্তটা নেই বলবেন কি? কোন উপাত্ত থেকে কি ধরনের ‘ইন্টেলিজেন্স’ নিংড়ে নেবেন সেটা নির্ভর করে সদিচ্ছার ওপর। ‘দক্ষতা’ কিনতে পাওয়া যায় মার্কেটপ্লেসে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের পেছনের ইতিহাসটা ঘাটলেই পরিষ্কার হবে সবকিছু। দুর্ভিক্ষের ইমেজ থেকে বের হয়ে গেছে অনেক আগেই। অভিজ্ঞ ‘পরামর্শ’ নিয়ে।

০৫.

বড় বড় কার্পোরেশন নয় শুধু, অনেক দেশের সরকারযন্ত্রের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পৃথিবী হারাচ্ছে কোটি কোটি ডলার। প্রজেক্টের শুরুর ‘প্রজেক্টেড কস্ট স্ট্রাকচার’ কখনই মেলে না শেষের খরচের সাথে। শেষ মেষ, ‘কস্ট ওভাররান’। অথচ, এতো উপাত্ত থাকার পরও ভুল করছে সরকারগুলো। ভুল হবে মানুষের সিদ্ধান্ত – তাই বলে এতো? মানুষের নিজস্ব আবেগ আর ভাবাদর্শ ভাসিয়ে নিয়ে যায় সবকিছু। ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিষ্টেম’ থিওরি তো আজকের নয়, তবুও ভুল করছে অর্গানাইজেশনগুলো। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটাই শুধরে নিয়েছে এখন তাদের হাজারো টেস্টেড প্রসেসের মধ্য দিয়ে গিয়ে। ‘স্ট্রীমলাইন’ হয়ে গেছে অনেক প্রসেস। তা না হলে শেয়ারহোল্ডাররা বসে আছেন কি করতে? ইনভেস্টমেণ্টের প্রতিটা পাই পাই পয়সার হিসেব দিতে হয় তাদের।

০৬.

সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অদক্ষতা কমানোর জন্য ‘এনলাইটেনড’ দেশগুলো ছোট করে নিয়ে আসছে তাদের কাজের পরিধি। ‘অপারেশনস’য়ে নয় আর, শুধুমাত্র ‘রেগুলেটরী ওভারসাইট’ কাজকর্মে ফোকাস করছে সরকারগুলো। প্রাইভেট সেক্টরকে ওঠানোর জন্য তৈরি করছে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা। আটকাতে নয়। সময়ের সাথে সাথে জটিল হয়ে দাড়াচ্ছে সরকার আর অর্গানাইজেশনের কাজের আউটকামগুলো। এদিকে দক্ষতার সাথে তার পারিশ্রমিক না মেলার কারণে মেধাবী কর্মীবাহিনী হারাচ্ছে সবাই। ‘স্পেশ্যালিস্ট’ কাজগুলো করবে কে তাহলে? সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের নির্ভুল সিদ্ধান্তের পেছনে মানে ‘ব্যাকঅফিস’এর কাজটা আসবে কোথা থেকে?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: