Feeds:
Posts
Comments

Archive for February, 2014

I start where the last man left off.

Thomas A. Edison

৩৫৩.

প্রয়োজন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। তার জন্য দরকার স্পেকট্রাম। বিশেষ করে ‘আইএমটি’ স্পেকট্রাম। আরো বেশি। আবার সব দেশের স্পেকট্রাম সমান, তাহলে অন্যরা সুবিধা নিচ্ছে কিভাবে? ওটার গল্পে যাবার আগে বলুনতো আইএমটির জন্য কতটুকু ফ্রিকোয়েন্সি দরকার? আমাদের দেশে? তিন গিগাহার্জের মধ্যে কতোটুকুই বা দেবেন এই আইএমটির জন্য? মানে মোবাইলের জন্য? এ ব্যাপারটা নির্ভর করছে দেশগুলোর ওপর। তবে, আসল রিপোর্ট পড়ে চোখ কপালে। মানে সেই দুহাজার সাত থেকেই। নামছে না নিচে। কার কতোটুকু মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সি প্রয়োজন সেটার হিসেব করার তুখোড় পদ্ধতি বলে দিয়েছে আইটিইউ-আর (রেডিও) এর রেকমেন্ডেশন এম.১৩৯০ আর এম.১৭৬৮. এই রেকমেন্ডেশনগুলোর পেছনে স্টাডিগ্রুপগুলোর অবদান ভোলার মতো নয়। মোটেই নয়। স্টাডিগ্রুপগুলোর চেয়ারম্যানদের মধ্যে অনেককেই চিনি আমি। ব্যক্তিগতভাবে। দেশগুলোর প্রশাসন থেকে যতো মানুষ আছে এই স্টাডি গ্রুপগুলোতে – তার থেকে বেশি মানুষ হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি থেকে। পৃথিবীর ডেভেলপমেন্ট তো ওদের হাতে।

৩৫৪.

দেশগুলোর সুবিধার জন্য এই রেকমেন্ডেশনগুলোতে দেয়া আছে হাজারো প্যারামিটার। আইএমটির টেরেস্ট্রিয়াল অংশগুলোর হিসেবের জন্য মানে ভবিষ্যতে কি কি ব্যান্ড আসতে পারে সেটার ধারণা আছে ওখানে। কান্ট্রি স্পেসিফিক না করে জেনেরিক ভাবেই রাখা হয়েছে হিসেব করার টুলগুলোকে। কোন রিজিওনে আছি আমরা আর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোন প্যারামিটারগুলো আমার দেশের সাথে যায় – সেটা হলেই বের করতে অতটা সমস্যা হবার কথা নয়। আমার ধারণা, যেকোনো ইউনিভার্সিটিকে দ্বায়িত্ব দিলে ওটা বের করে নিয়ে আসবে মাস দুয়েকের মধ্যে। কোন ধরনের সার্ভিস চালাচ্ছি আমরা, আর সেটার ট্রাফিক ভলিউম আর কোয়ালিটি অফ সার্ভিস (কিউওএস) কনস্ট্রেইন্টস ধরে নিতে হবে সবার শুরুতে। রিজিওনাল ট্রাফিক আর সময়ের পার্থক্য – স্পেকট্রামটা ‘টেকনোলজিক্যাল নিউট্রাল’ মানে প্রোভাইডারের ইচ্ছেমত ভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না; এধরনের গল্প থাকবে এর সাথে। ভবিষ্য আর চালু প্রযুক্তির ভেতরে কতোটুকু দক্ষতার অভাব আছে সেটা না জানলে চলবে কিভাবে? সাধারণ ‘জিএসএম’ আর ‘এলটিই’ প্রযুক্তির মধ্যে কোনটা কতোটা ‘স্পেকট্রাল এফিসিয়েন্ট’ সেটাও আসবে এই হিসেবে। স্পেকট্রাম ফেলে রাখলে কতো ক্ষতি তার হিসেব বের করতে পড়তে হবে আরেকটা রিপোর্ট।

স্পেকট্রাম রিকোযারমেন্ট প্ল্যানিং বইটা, সংগ্রহে রাখার মতো

স্পেকট্রাম রিকোযারমেন্ট প্ল্যানিং বইটা, সংগ্রহে রাখার মতো

৩৫৫.

স্পেকট্রামের ব্যান্ডউইডথ এর দরকারের হিসেব মানে তার এস্টিমেশন করতে তৈরী করা হয়েছে রিপোর্ট আইটিইউ-আর (রেডিও) এম.২০৭৮| এটা তৈরী করা হয়েছিলো দুহাজার ছয়ে। এটার একটা রিভিশন দরকার হয়ে পড়েছে এখন। এটা ডাব্লিউআরসি-০৭ এর ‘রেডিও এক্সেস টেকনিকস গ্রুপস’ সংক্ষেপে ‘আরএটিজি’র জন্য তৈরী করা হয়েছিলো ওসময়ে। ডাব্লিউআরসি-০৭ এর এজেন্ডা আইটেম ১.৪ মানতে গিয়ে তৈরী করা হলো চার চারটা ‘আরএটিজি’| এই আইএমটি আর আইএমটি-অ্যাডভান্সডএর ভবিষ্যত কার্যক্রম চালিয়ে নেবার জন্য এই ব্যবস্থা। ভাবছেন এতো কিছু জানি কিভাবে? আমার থেকে অনেক ভালো জানবেন আপনি – ‘আরএটিজি’এর ব্যাপারে। বিশ্বাস হচ্ছে না? নিচের বইটা ম্যানেজ করুন কোনভাবে! বেগ, বরো ওর স্টিল! ও হ্যা, ‘স্টিল’ বাদ। কারণ, আমারো আছে একটা।

৩৫৬.

আইটিইউ’র বাইরের অর্গানাইজেশনগুলো থেকে দুহাজার দশের পরের ডাটা নিয়ে হিসেব করা হয়েছিলো একটা। ব্যবহার করা হয়েছিলো ওই রেকমেন্ডেশনের অংকগুলোকে। বিশেষ করে আইটিইউ-আর এম.১৭৬৮| ওখানে নতুন আর পুরনো সার্ভিস নয়, খিচুড়ি সার্ভিসকেও নেয়া হয়েছিলো বিগ পিকচার পাবার জন্য। অনেক পরিপূরক সার্ভিসের সাথে ছিলো ‘আরএটিজি’গুলো। রিপোর্টের হিসেবে দুহাজার বিশের মধ্যে ‘আরএটিজি১’ আর ‘আরএটিজি২’এর জন্য আইএমটি’র স্পেকট্রাম প্রয়োজন ১,২৮০ মেগাহার্টজ! বলে কি? হ্যা, এটাই নুন্যতম! এখানে আছে ব্যবহৃত হয়েছে এমন ফ্রিকোয়েন্সি, ব্যবহার হবে ভবিষ্যতে, আরএটিজি১ সহ। এই এস্টিমেশনে স্পেকট্রামের ব্যান্ডউইডথএর প্রয়োজনীয়তা শুরু হয়েছে ১,২৮০ থেকে ১,৭২০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। এই রেঞ্জ হচ্ছে গিয়ে বড় আর ছোট মার্কেটের হিসেবে। এমনিতেই বোঝা যায়, বড় বাজারের জন্য স্পেকট্রাম দরকার ওপরের দিকে আর ছোট বাজারে নিচের দিকে। রিপোর্ট আইটিইউ-আর এম.২০৭২য়ে মার্কেট সেটিংসটা পড়ে দেখতে পারেন। বাংলাদেশের জন্য আপনারা কি ভাববেন জানি না, তবে আমাদের ইন্টারনেটের জন্য ফিক্সড ইনফ্রাস্ট্রাকচার অতটা না থাকার কারণে স্পেকট্রাম ডিপেন্ডেন্সি অনেক অনেক বেশি। আর – আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ আছে কোথায়? বাংলাদেশের আইএমটি’র কতো স্পেকট্রাম দরকার তার চুলচেরা হিসেব নিয়ে আসবো পরে।

আইএমটি (আরএটিজি১ আর ২) এর জন্য কতটুকু স্পেকট্রাম দরকার তার একটা এস্টিমেশন (মেগাহার্টজে)

আইএমটি (আরএটিজি১ আর ২) এর জন্য কতটুকু স্পেকট্রাম দরকার তার একটা এস্টিমেশন (মেগাহার্টজে)

৩৫৭.

অন্যরা কি বলছে তা শুনি বরং। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সাফ জানিয়েছে নুন্যতম ১,২০০ মেগাহার্জের কথা – দুহাজার পনেরোর মধ্যে। দুহাজার পনেরোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৯৫০ মেগাহার্টজ। নুন্যতম। ওর এনবিএন (ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক) তো ফাইবারের আখড়া। অতটা দরকার নেই ওদের স্পেকট্রাম। তাও প্রয়োজন ১,১০০ মেগাহার্টজ নুন্যতম – দুহাজার বিশের মধ্যে। আরেক কাঠি সরেস জাপান। দরকার ১,৫০০ মেগাহার্টজ – বিশ সালের মধ্যে। কোরিয়ারও দরকার ৯৮৮ মেগাহার্টজ – যাদের ফাইবারের নেটওয়ার্ক বিশ্বসেরা। আমেরিকার দরকার আরো বেশি। যা আছে তার সাথে যোগ করতে হচ্ছে ৫০০ মেগাহার্টজ। সবাই বুঝে গেছে একটা কথা। স্পেকট্রাম ধরে রাখলেই ক্ষতি দেশের। ব্যবহার করতে হবে স্পেকট্রাম, দক্ষতার সাথে। ওখানেই উৎকর্ষের কারুকাজ!

আসছি সামনেই।

[ক্রমশঃ]

রিপোর্টগুলোর লিংক দেবো কালই।

Read Full Post »

You generally hear that what a man doesn’t know doesn’t hurt him, but in business what a man doesn’t know does hurt.

E.S. Lewis

৩৫১.

মোবাইল ডাটা ট্রাফিক নিয়ে চিন্তা সবারই। ক্যারিয়ারগুলোর মাথা খারাপ হবার জোগাড়। গ্রাহকের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। আগে ছিলো স্ট্রিমিং অডিও – এখন চলছে ভিডিও, সাদামাটা ভিডিও নয়, এইচডি। কাল চলবে ৭২০পি, পরশু ১০২৪পি এইচডি ভিডিও। থ্রিডি আসবে পরের বছর – বিশাল স্কেলে। এতো গতি আসবে – দেবে কে? গতির সাথে বাড়াতে হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্কের ক্যাপাসিটি। বাড়ছে না স্পেকট্রাম। সেকারণে বাড়াতে হচ্ছে স্পেকট্রাল এফিসিয়েন্সি, মানে কম স্পেকট্রাম দিয়ে বেশি গতি। মোবাইল অপারেটরগুলো নিজেদের ডাটা সার্ভিস নিয়ে ফোরকাস্ট করতে যেয়ে খাচ্ছে হিমশিম। না করে উপায় কি? পয়সা ফেললেই তো আসবে টাকা। সবাই ব্যবহার করছে মোবাইল। ডিপেন্ডেন্সি তৈরী হয়ে গেছে এর মধ্যেই। অনেকে ডাটার দাম বাড়িয়ে রেখেছে কৃত্তিমভাবে। নেটওয়ার্ক এক্সপ্যানশনের জন্য যে টাকা প্রয়োজন তার জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মন ভেজানো সহজ নয় অত। আবার ডাটার দাম কমিয়ে দিলে ওর প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার না থাকলে সবার ডাটা ‘এক্সপেরিয়েন্স’ খারাপ হতে বাধ্য। মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন প্রিমিয়াম গ্রাহকেরা। অনেক সময় ব্যালান্সশিটে ইনভেস্টমেন্ট আর রিটার্ন মানে রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট বলে অন্য কথা। সেকথা নিয়ে আসব সামনে।

মোবাইল ডাটা ট্রাফিক বাড়ছে বছরকে বছর! দুহাজার দশ থেকে বিশ! তেত্রিশ গুন!

মোবাইল ডাটা ট্রাফিক বাড়ছে বছরকে বছর! দুহাজার দশ থেকে বিশ! তেত্রিশ গুন! হিসেব এক্সাবাইটে, সুত্র: এম ২২৪৩ আইটিইউ-আর রিপোর্ট

৩৫২.

ফোরকাস্টিং হচ্ছে আমার একটা প্রিয় পাসটাইম। সেটার সাথে আইটিইউ’র রিপোর্টগুলো ফিল-ইন-দ্য-ব্ল্যান্কস মেলাতে সাহায্য করে। অনেকটা ‘কানেক্টিং দ্য ডটসে’র মতো। হাজারো রিপোর্ট আর থিমেটিক প্রেজেন্টেশন দেখে হারানো ডট মেলাতে সমস্যা হয় না আমার। ঢাক পিটিয়ে ফেললাম এই সুযোগে। প্যাটার্ন দেখে ধারণা জন্মেছে কোনটা কাজ করবে বাংলাদেশে আর কোনটা নয়। আমরা পৃথিবীর বাইরের কোনো দেশ নই আর। ফিরে আসি ফোরকাস্টে। আজকের ডাটা বলছে দুহাজার বিশে বিশ্বের মোবাইল ডাটার ব্যবহার বেড়ে দাড়াবে একশো তিরিশ এক্সাবাইটে। এটা দুহাজার দশের ব্যবহৃত ডাটা থেকে তেত্রিশ গুন বেশি! ঠিকই ধরেছেন। তেত্রিশ গুন! দুহাজার বিশের মোবাইল ডাটা থেকে বিশ্বের গ্রোথ এরিয়া হিসেবে টপ চার্টে আছে এশিয়া। ৩৪.৩ শতাংশ। আমেরিকাস (দুই আমেরিকা মিলে) হচ্ছে গিয়ে ২১.৪% আর ইউরোপ ২২%| মোবাইল ডাটা বলে কথা। আমাদের অবশ্য ফিক্সড ইন্টারনেট ইনফ্রাস্ট্রাকচারও কম ওদের থেকে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The universe likes speed, don’t delay, don’t doubt. When the impulse is there – Act. That’s your job.

Joe Vitale

৩৪৭.

দুহাজার বারোর আইটিইউ’র ওয়ার্ল্ড রেডিও কমিউনিকেশন কনফারেন্সে শেষ হয় মোবাইল ব্রডব্যান্ডের ভবিষ্যত নিয়ে। বুঝে গেছেন সবাই – ভবিষ্যত মানেই মোবাইল ব্রডব্যান্ড। মোবাইল ব্রডব্যান্ড যেভাবে দেশগুলোর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে – সেখানে আইএমটি ব্যান্ড নিয়েই গল্প চলছে সারাদিন। সেকারণে চার বছরের জায়গায় তিন বছর পরেই হচ্ছে ডাব্লিউআরসি-১৫| সদস্য দেশগুলোকে বলা হয়েছে তাদের স্পেকট্রামের দরকারের ওপর নির্ভর করে হিসেব তৈরী করতে। বিশেষ করে দুহাজার বিশ আর তার পরের বছরগুলোর জন্য। ডাব্লিউআরসি-১২এর এজেন্ডা আইটেম ৮.২ সেটাই প্রমান করে।

৩৪৮.

ডাব্লিউআরসি-৭এর পর মোবাইলে মাল্টিমিডিয়া এপ্লিকেশনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ক্যারিয়ারগুলোর মাথা খারাপ। এতো ডাটা ট্রাফিক! হ্যান্ডেল করব কি ভাবে? খোদ মার্কিন মুল্লুকে এটিএন্ডটি’কে তার পুরো নেটওয়ার্ককেই আপগ্রেড করতে হলো আইফোন আসার পর। হতচ্ছাড়া আইফোন! কি বলেন? উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্রডব্যান্ড মানেই মোবাইলের ওপর দিয়ে ব্রডব্যান্ড। আমাদের দেশেও তাই। ফলে এই ‘আইএমটি’ ব্যান্ডই হচ্ছে আমাদের উদ্ধারকর্তা। সবার এক্সপেকটেশন গিয়ে পড়েছে এই মোবাইলের ওপর। সেভাবে কিন্তু নেটওয়ার্ক হয়নি তৈরী। টুজি নেটওয়ার্ক দিয়ে তো চলবে না আর থ্রিজি সার্ভিস। মাইক্রোওয়েভ সংযোগ দিয়ে যেখানে পার করা যেতো ভয়েস কল, সেখানে থ্রিজি বিটিএসে প্রয়োজন হচ্ছে ফাইবার ব্যাকহল। সবকিছুই ক্যাপিটাল ইনটেনসিভ অপারেশন। মানে কড়ি ফেল মাখো তেল। আবার সার্ভিসের দাম বেড়ে গেলে গ্রাহকদের মুখ ফিরিয়ে নেবার ভয়ও কম নয়। প্রাইসিং রাইট কিন্তু একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

৩৪৯.

এই আইএমটি’র ওপর হাজারো চাপের সাথে যোগ দিয়েছে সামাজিক সমৃদ্ধির ব্যাপারটা। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কোনো একটা জনগোষ্ঠীকে সামাজিকভাবে উন্নত করলেও এই আইএমটি’র ওপর ভর করেছে এর মানবিক দিকটা। মোবাইল টেলিমেডিসিন, দূরশিক্ষণ, সরকারী সব সার্ভিস ডেলিভারি দেবার চমত্কার মাধ্যম হচ্ছে এই মোবাইল। পশ্চাদপদ জনপদ আর শহরাঞ্চলে মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইডের দুরত্ব ঘোচানোর জন্য দরকার আরো আরো বেশি স্পেকট্রাম। আবার, স্পেকট্রাম বেশিদিন ধরে রাখাটাও খারাপ। পৃথিবীব্যাপী ‘হারমোনাইজড’ মানে সবাই যেটা ব্যবহার করছে সেই ব্যান্ড ধরে উন্মুক্তকরণ প্রক্রিয়া ওই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায় আরো। স্পেকট্রাম ব্যান্ডপ্ল্যান ধরে রিলিজ রোডম্যাপ জনগনের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলনের থেকেও বেশি সাহায্য করে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের। কবে কোন প্রযুক্তি আসবে আর কোনটায় পয়সা ঢালবে সেটা দেশ মানে রেগুলেটর থেকে ভালো জানে বিনিয়োগকারীরা। ওঠাতে হবে না টাকাটা? ওর বিজনেস হবে কি না সেটা নিয়ে ভাববে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীরা। কাঁচামাল হিসেবে স্পেকট্রাম ছাড়ার রোডম্যাপ আর ওই স্পেকট্রাম দিয়ে কি প্রযুক্তি ব্যবহার হবে সেটা বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে সবার লাভ। সেকেন্ডারি মার্কেটে স্পেকট্রাম বিক্রির ব্যাপারে আসছি সামনে।

৩৫০.

সমস্যা একটা। একেকটা ‘আইএমটি’ ব্যান্ডকে চার বছর পর পর ডাব্লিউআরসিতে সনাক্ত করে মানানো সবাইকে, আর সেটাকে প্রস্তুতকারকদের বুঝিয়ে বাজারজাত করা – দুটোর লিডটাইম কিন্তু অনেক বেশি। সেটার সাথে দেশগুলোতে ওই ব্যান্ডকে ফাঁকা করা আরেকটা চ্যালেঞ্জ! চোখ কান খোলা রাখলে আগে থেকে ধারণা করা ওরকম সমস্যা নয়। যেমনটি হয়েছিলো আমার ‘ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস এক্সেস’ লাইসেন্সটা ড্রাফট করার ক্ষেত্রে। আইটিইউ-আর (রেডিও) এর অনেকগুলো স্টাডিগ্রুপের রেকমেন্ডেশন আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলো ২.৩ আর ২.৬ গিগাহার্জের ভুল ব্যান্ডপ্ল্যান থেকে। স্টাডিগ্রুপগুলো কিন্তু অনেক আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারে ভবিষ্য ব্যান্ডগুলো। পৃথিবীর মাথাগুলো আছে না ওখানে? ছয় বছর আগের ব্যান্ডপ্ল্যান কাজ করছে আজো, এখানে – সেটাই আনন্দের!

আরো আনন্দ নিয়ে আসছি কাল!

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

An optimist sees an opportunity in every calamity; a pessimist sees a calamity in every opportunity.

Winston Churchill

৩৪৫.

স্পেকট্রামের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটা কাজ হয়েছিলো দুহাজার পাঁচে। প্রকাশ করেছিলো আইটিইউ-আর (রেডিও) বিভাগ, দুহাজার ছয়ে। রিপোর্টটার নাম নিয়ে গুগল করলেও পেয়ে যাবেন হয়তোবা। আর না হলে নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিন আপনার পছন্দমতো সময়ে। নাম হচ্ছে ITU-R M.2072। টিয়ে পাখির ভবিষ্যদ্বাণী নয় সত্যিকারের ডাটা নিয়ে ফোরকাস্টিং করা হয়েছিলো ওই সময়ে। মোবাইল ডাটা মানে আইএমটি-২০০০এর ট্রাফিক নিয়ে এস্টিমেট করা হয়েছিলো একটা। এখনকার সময়ের জন্য। ওটাতো শুধু ফেলই করেনি, ‘আইএমটি’র মোবাইল ডাটা তার থেকে বেড়েছে ছয়গুন!

দুহাজার পাঁচের ফোরকাস্ট আর এখনকার আসল ট্রাফিক - ছয়গুন বেশি!

দুহাজার পাঁচের ফোরকাস্ট আর এখনকার আসল ট্রাফিক – ছয়গুন বেশি!

৩৪৬.

মজার কথা হচ্ছে ওই রিপোর্টে দুহাজার বিশ সালের জন্য যা ফোরকাস্ট করা হয়েছিলো তার থেকে বেশি ডাটা বহন করছে মোবাইল অপারেটরটা। আরেকটা ফোরকাস্ট ছিলো ওখানে। ধারণা করা হয়েছিলো অপারেটরদের ভয়েস আর ডাটা ট্রাফিক সমান হয়ে যাবে – দুহাজার পনেরোতে। ডাটা ট্রাফিক ভয়েসকে পিছনে ফেলেছে সেই দুহাজার নয়ে। দুহাজার এগারোর নতুন একটা রিপোর্টে আরো অনেককিছুর গল্প এসেছে। চেখে দেখতে পারেন ওটাও। রিপোর্টটার নাম হচ্ছে ITU-R M.2243। মোবাইল ডাটা ট্রাফিক নিয়ে সত্যিকারের অনেক ডাটা দিয়ে ভর্তি এই রিপোর্টটা। উদাহরন নিয়ে আসি ইউরোপ আর জাপানের মোবাইল ব্রডব্যান্ডের ট্রাফিকের কিছু ডাটা নিয়ে। দুহাজার দশের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের ডাটা এনালাইসিস করে চোখ কপালে। গড় ডাটা ব্যবহার বেড়েছে বাহাত্তর গিগাবিটস/সেকেন্ড – এক অপারেটরে। পুরো ট্রাফিক ভলিউম হচ্ছে চব্বিশ হাজার টেরাবিটস/সেকেন্ড। ওই কয়েক মাসে ট্রাফিক বেড়েছে চৌদ্দগুনের মতো। দুহাজার দশে নেটওয়ার্কে স্মার্টফোন ছিলো মাত্র তেরো শতাংশ। ওই তেরো শতাংশই জেনারেট করেছে আটাত্তর শতাংশ ট্রাফিক! ভুল বকছি নাকি আবার? ছবি দেবো নাকি একটা? নাকি দুটো? সীইং ইজ বিলিভিং!

বিশ্বের মোবাইল ট্রাফিক - দুহাজার আট থেকে দশে, দুবছরে কি অবস্থা!

বিশ্বের মোবাইল ট্রাফিক – দুহাজার আট থেকে দশে, দুবছরে কি অবস্থা!

তথ্যসূত্র:

১. আইটিইউ রিপোর্ট ITU-R M.2072 (২০০৫), বাইশ মেগাবাইটের ফাইল
২. আইটিইউ রিপোর্ট ITU-R M.2243 (২০১১)

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The human heart, at whatever age, open only to the heart that opens in the return.

Marie Edgeworth

৩৪১.

কোথায় পাই বাড়তি ফ্রিকোয়েন্সি? ছোট্টবেলার সেই ‘মায়ের নোলক’ কবিতার মতো করে খোঁজার অবস্থা। সাধুবাদ দিতে হয় দুহাজার সাতে অনুষ্ঠিত ওই ডাব্লিউআরসি-০৭ কনফারেন্সকে। সেই মিটিংয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন, বাড়তি ফ্রিকোয়েন্সি খুঁজে বের করতে হবে – আইএমটি’র জন্য। ক্যান্ডিডেট ব্যান্ড দুটো। এক গিগাহার্জের নিচে আর দু গিগাহার্জের ওপর। সুবিধা হবে সবার জন্য। একেক দেশের কোথায় কোথায় ফ্রিকোয়েন্সি খালি আছে সেদিকে না যেয়ে ন্যারো ডাউন করা হলো এই দুটো ব্যান্ডে। আমার দেশে ৪৫০ মেগাহার্জ খালি আর অন্যদেশগুলোর ৩.৫ আর ৫.৬ গিগাহার্জ খালি থাকলেও সুবিধা হচ্ছে না বেশি। ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলোকে বানাতে হচ্ছে তিনটা আলাদা আলাদা ডিভাইস। দাম তো কমছে না আর। আবার সেগুলো সবদেশে যে চলবে সেটার নিশ্চয়তা কোথায়?

৩৪২.

ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলোর ছাফ জবাব, নিজেরা বসে ঠিক করে নাও কোন ব্যান্ডে চালাতে চাও ডিভাইসগুলো। দেশগুলো অন্যকিছু না বুঝলেও দামের ব্যাপারটা বোঝে ভালো। কম দামে কোটি ডিভাইস বানানোর স্বার্থে সবাই এলো এক টেবিলে। ঘষামাজা করলো পুরনো রেডিও রেগুলেশন। শক্ত সিগন্যাল দিলো বিশ্বের সব ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলোকে। নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ধরে। আপডেট করলো নিজেদের ন্যাশনাল ফ্রিকোয়েন্সি অ্যালোকেশন টেবিল। আগে থেকেই বলে দিলো ভবিষ্য আইএমটি ব্যান্ডগুলো। রেঞ্জ ধরে। এই নতুন আইএমটি ব্যান্ডের ব্যাপারে দেশগুলোর বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এর বাইরে যাবার ক্ষমতা আছে কম দেশের। ‘ওয়ান পিস মেড, কারিগর ডেড’ ঝামেলায় কেই বা পড়তে চায় বলুন?

৩৪৩.

এর পাশাপাশি এলো নতুন প্ল্যাটফর্ম, আইএমটি-অ্যাডভান্সড। দুহাজার আটে আইটিইউ-আর (রেডিও) বিভাগ নিয়ে এলো আইএমটির নতুন কিছু নির্দেশনা। বানিয়েছে কিন্তু সব দেশ মিলে। চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক। আর না বানিয়ে যাবে কোথায়? সবকিছুই তো আইপিতে। ফেলে দাও টিডিএম, অল-আইপি নেটওয়ার্ক! ডাটা, ভয়েস সব চলবে আইপির ওপর। কার ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে এটা না মানার। কারণ, সবার উইশলিস্টে ছিলো এই অল-আইপি নেটওয়ার্ক। আগে থেকেই। তবে, পুরনো নেটওয়ার্কের সাথে থাকতে হবে ব্যাকওয়ার্ড কম্পাটিবিলিটি।

৩৪৪.

স্পেকট্রামের দাম বেড়েছে হু হু করে। কম স্পেকট্রাম দিয়ে বেশি কাজ আদায় করার জন্য শুরু হয়ে গেল বিলিয়ন ডলারের গবেষণা। রেগুলেটররা যেভাবে দাম বাড়াচ্ছে স্পেকট্রামের, মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে অপারেটর আর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলোর। আর মাথার চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে আমার – স্পেকট্রাম প্রাইসিং পড়তে যেয়ে। স্পেকট্রাল এফিসিয়েন্সি মানে কম স্পেকট্রাম কিনে বেশি কাজ করানোর ধারনাও ঢোকানো হয়েছে এই ‘আইএমটি-অ্যাডভান্সড’ আলাপে। অব্যবহৃত স্পেকট্রাম ডাইনামিকভাবে ব্যবহার করার গবেষণালব্ধ ফলও সবার হাতের নাগালে। এক স্পেকট্রাম বহুজনের মধ্যে ভাগাভাগি করার গবেষণাও হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে। নন-লাইসেন্সড ওয়াইফাই স্পেকট্রামে ‘অফলোডিং’য়ের মতো কায়-কারবার চলে এসেছে থ্রিজির সাথে। গল্প তো শুরু হলো সবে!

দেশগুলোর কার কতো প্রয়োজন স্পেকট্রাম – সেটা নিয়ে হয়েছে বিস্তর গবেষণা। ওমা! সেটা না হবার কোন জো আছে? যে মাটিতে সোনা ফলে সেটার হিসেব রাখা তো আগে জরুরী! ফিরছি আজ রাতেই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The most fertile soil does not necessarily produce the most abundant harvest. It is the use we make of our faculties which renders them valuable.

Thomas W. Higginson

৩৩৭.

আইএমটি ব্যান্ডগুলো আসলে মোবাইল প্রযুক্তিনির্ভর স্পেকট্রাম ব্যান্ড। মোবাইল যোগাযোগ যেভাবে পাল্টাচ্ছে পৃথিবীকে, সেখানে আইএমটি ব্যান্ড নিয়ে চলছে হাজারো গল্প। মোবাইল ব্রডব্যান্ড যা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত, সেখানে এটাকে নিয়ে হইচই না হওয়াটাই অন্যায়। মোবাইল ফোন ছাড়া যেভাবে অনেকেরই জীবন অচল, এই আইএমটি ব্যান্ড ছাড়া টেলিকমিউনিকেশন অপারেটররাও নিরুপায়। দেশ চায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আর সেটার কাঁচামাল হচ্ছে এই আইএমটি ব্যান্ড! আর সেকারণে এর চাহিদা আকাশচুম্বী। আকাশচুম্বী জিনিসের দাম কি হবে আকাশচুম্বী? হিসেবে তাই বলে। আর সেকারণে তৈরী হয়েছে ফাঁদ। সেই ফাঁদে পা দিয়েছে অনেক দেশ। লঙ টার্ম ভিশনে এর গল্প কিন্তু অন্যরকম। ওটার দাম নিয়ে আছে অনেক অনেক গবেষণা। স্পেকট্রাম প্রাইসিংটা ঠিকমতো না হলে দেশের সম্মৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ব্রডব্যান্ড টেকআপে সময় নিয়ে নেয় বেশি। সেটা নিয়ে আসবো পরে।

৩৩৮.

ব্যান্ডগুলো আছে কোথায়? চমত্কার প্রশ্ন। আপনার মোবাইল চলে কোন কোন ব্যান্ডে? ৮০০, ৯০০, ১৮০০ মেগাহার্জ? ঠিক ধরেছেন। টুজি মানে দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যান্ড। থ্রিজি? ২১০০ মেগাহার্জে। ২৩০০ আর ২৬০০ মেগাহার্জ? এলটিই, লঙ টার্ম ইভোল্যুশন – পঞ্চম প্রজন্ম। এর সবকটাই আইএমটি-২০০০। ৭০০ মেগাহার্জ ঢুকেছে পরে। এক গিগাহার্জের নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনেকটা আশীর্বাদের মতো। এক বিটিএস দিয়ে সিগন্যাল পাঠানো যায় বহুদূরে। গ্রামের জন্য চিন্তা করেই তৈরী করেছেন সৃষ্টিকর্তা। শহরেও ইন-বিল্ডিং পেনিট্রেশন অনেক ভালো। এখানে দুটো হিসেব। কম খরচে বেশি মানুষের কাভারেজ অথবা বেশি ডাটা থ্রুপুট। চান কোনটা?

ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সের (ডাব্লিউআরসি) ফাইনাল অ্যাক্ট

ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সের (ডাব্লিউআরসি) ফাইনাল অ্যাক্ট-২০১২

৩৩৯.

অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশাল ভুখন্ড আর কম মানুষের জন্য খরচ কম পড়বে এক গিগাহার্জের নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো। আবার বেশি গতির ডাটার জন্য দরকার এক গিগাহার্জের ওপরের ব্যান্ড। আমার অভিজ্ঞতায় নিচের ব্যান্ডগুলো যে গতি দেয় সেটাই ব্যবহার করার সক্ষমতা অর্জন করিনি আমরা। এখনো। এক গিগাবিটস/সেকেন্ড গতি প্রয়োজন কজনের? সেটা দিলেও আসল ‘বোটল-নেক’ ধারনাটা আসবে ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) থেকে। আপনার গতি নির্ভর করছে আপনার প্রোভাইডার কতো ব্যান্ডউইডথ কিনছে তার ওপর। এছাড়াও সেই গতি নির্ভর করছে তার ওই বিটিএসে কতো ব্যান্ডউইডথ দেয়া আছে তার ওপর। আপনার থ্রিজির (এইচএসপিএ+) গতি ১৬৮ মেগাবিটস/সেকেন্ড সাপোর্ট করলেও ওর বিজনেস কেস আলাদা। কাভারেজ আর গতির ব্যাপারটা পড়তে হলে চলে যান দুজাহার বারোর ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সের (ডাব্লিউআরসি) ফাইনাল অ্যাক্টে। বিশেষ করে রিজলিউশন ২২৩ আর ২২৪এ।

৩৪০.

মজার কথা, এই স্পেকট্রামটাও ঘাপটি মেরে পড়ে ছিলো টেরেস্ট্রিয়াল টিভি ব্রডকাস্টিং ব্যান্ডের ভেতর। এনালগ টিভি সম্প্রচারে ফ্রিকোয়েন্সি লাগে অনেক বেশি। আমাদের বিটিভি এখন চলছে এই এনালগে। ডিজিটাল টেরেস্ট্রিয়াল সম্প্রচার অনেক অনেক বেশি এফিসিয়েন্ট। তাই ওর থেকে অনেক ভালো সার্ভিস দিয়েও স্পেকট্রাম লাগে অনেক কম – এই ডিজিটাল ব্রডকাস্টিংয়ে। ফলে, এই বাড়তি ফ্রিকোয়েন্সি খেয়ে ফেলেছে মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি আর রেগুলেটর। ৭০০ মেগাহার্টজের এনালগ ব্রডকাস্টিংয়ে আছে ৪৭০ থেকে ৮৬২ মেগাহার্জ। বলে কি? ওটাকে নিয়ে আসা হয়েছে মোবাইল যোগাযোগে। আইএমটি ব্যান্ডে স্পেকট্রামের অসম্ভব চাহিদা তৈরী হওয়ায় সত্যিকারের হারিকেন নিয়ে নেমে গিয়েছে সবাই।

কোথায় পাই সোনার ফ্রিকোয়েন্সি?

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Simplicity boils down to two steps: Identify the essential. Eliminate the rest.

Leo Babauta

৩৩০.

উনিশশো আশির মাঝামাঝি সময়ে আইটিইউ তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ধারণা পেলো ‘আইএমটি’র। আজ পৃথিবীর যতো চাহিদা স্পেকট্রামের, তার প্রায় বেশিরভাগ আসছে এই ‘আইএমটি’ কীওয়ার্ড থেকে। ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস অর্থাৎ ‘আইএমটি’ হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগের এমন একটা টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন যা মানবে সবাই। দেশের রেগুলেটর আর ন্যাশনাল ফ্রিকোয়েন্সি অ্যালোকেশন টেবিল, যন্ত্র প্রস্তুতকারক আর হ্যান্ডসেট তৈরীকারক – সবাই মানবে ব্যাপারটা। চারশো মেগাহার্টজ থেকে তিন গিগাহার্টজের এই রেঞ্জটাই সুপারিশ করেছিলো সবাই। না করে যাবে কোথায়? এটাই তো মধুরতম জায়গা।

৩৩১.

নিচের দিকের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো যায় আবার বেশি দূর। ইন-বিল্ডিং পেনিট্রেশনও অনেক ভালো! লাগে কম বিটিএস! ইনভেস্টমেন্ট খরচ কম। সাতশো মেগাহার্টজ তো আরো মধুরতম। ব্রডকাস্টিং ব্যান্ড থেকে বাগানো হচ্ছে আরো কিছু ফ্রিকোয়েন্সি। দশ বছরের বেশি সময় ধরে বেশ কষ্টকর কাজ ছিলো বৈকি। কেউ মানে তো কেউ মানে না। পরে, বিভিন্ন দেশের নিজ নিজ এজেন্ডা মেনে নিয়ে বের হলো এই যুগান্তরী সহযোগিতার একটা রোডম্যাপ। আইটিইউ’র বাইরের অনেকগুলো এজেন্সি ছিলো এটার সাথে। থ্রিজিপিপি, থ্রিজিপিপি২ আর ইউডাব্লিউসিসির নাম বলা যেতে পারে বিশেষভাবে। ওদের ব্যাপারে আরো জানতে চাইলে করুন গুগল!

৩৩২.

দুহাজার সালকে লক্ষ্য করে একাজটা শুরু হয় বলে এর বহুল ব্যবহৃত নাম হচ্ছে ‘আইএমটি-২০০০’| এই একটা স্ট্যান্ডার্ডই পাল্টে দিয়েছে পৃথিবীকে। একটা প্ল্যাটফর্ম থেকেই কনভার্জেন্সের কথা বলা হচ্ছিলো ওই সময়ে। ফিক্সড, মোবাইল, ভয়েস আর ভিডিও, ডাটা, ইন্টারনেট মানে সব ধরনের মাল্টিমিডিয়া সার্ভিস থাকবে এখানে। একটা নম্বর আর হ্যান্ডসেট নিয়ে দেশে বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর আজকের গ্লোবাল রোমিংয়ের গল্পও ছিলো ওই স্পেসিফিকেশনে। দু মেগাবিট/সেকেন্ড গতির কথা সর্বপ্রথম বলা হয়েছিলো ওই স্পেসিফিকেশনে। তখন দ্বিতীয় প্রজন্মের জিপিআরএস ডাটার গতি ছিলো ৯.৬ থেকে সর্বোচ্চ ২৮.৮ কেবিপিএস। প্রথম বাণিজ্যিক থ্রিজি সার্ভিস চালু করে এনটিটি ডোকোমো, জাপানে – দুহাজার এক সালে।

৩৩৩.

‘আইএমটি-২০০০’ কীওয়ার্ডটা পৃথিবীকে শুধুই পাল্টায়নি – মানুষের জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছে বটে। এর পেছনে তার মডুলার ডিজাইন আর ব্যাকওয়ার্ড কম্পাটিবিলিটি মানে পুরনো প্রযুক্তিকে যুক্ত করেছে নিমিষে। আপনার টুজি আর থ্রিজি সংযোগের হ্যান্ডওভার নিয়ে সমস্যা পেয়েছেন কখনো? যখন কথা বলছেন তখন টুজি আর ফেইসবুক চালাচ্ছেন থ্রিজি ওপর – ঝামেলা ছাড়াই। কারণ, এটা পাঁচটার মতো রেডিও এয়ার ইন্টারফেসের ওপর দিয়ে নিয়ে আসছে তিন তিনটা এক্সেস প্রযুক্তি। এফডিএমএ, টিডিএমএ আর সিডিএমএ থাকলে বাদ আর থাকে কি? মানে যে কোনো সার্ভিস আর এপ্লিকেশন চলবে এর ওপর। এর ব্যবহার বিশাল স্কেলে হওয়ায় দামও নেমেছে পানির কাছাকাছি। পৃথিবীতে সব কিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু ফোনকলের দাম কমে! ইন্টারনেটের দামও কমছে ধীরে ধীরে।

৩৩৪.

এই স্পেকট্রামের বিশ্বব্যাপী অ্যালোকেশন নিয়ে আলোচনা হয় আইটিইউতে। স্পেকট্রাম নিয়ে কাজ করে আইটিইউ’র বিশেষায়িত বিভাগ আইটিইউ-আর (রেডিও)| তিন চার বছর পর পর বিশাল স্নায়ুযুদ্ধ হয় দেশগুলোর ভেতরে – এই ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে। এটাকে সংক্ষেপে বলি আমরা ‘ডাব্লিউআরসি’| কনফারেন্সটা হয় আইটিইউ’র হেডকোয়ার্টার জেনেভাতে। এই স্পেকট্রামের গ্লোবাল অ্যালোকেশন নিয়ে। রেডিও রেগুলেশন যা মানছে আইটিইউ’র সদস্য দেশগুলো – সময় সময় তার পরিবর্তন পরিবর্ধন আর যা দরকার তার সব আলোচনা হয় এই ফোরামে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি আর স্যাটেলাইটের অরবিট নিয়ে দেন-দরবার এর সবই হয় এখানে।

৩৩৫.

দেশগুলো ছাড়াও বেসরকারী অর্গানাইজেশনগুলো থাকেন ওই মিটিংয়ে। কারণ ওরাই তো চালাচ্ছে এই বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি। দেশকে বিশেষায়িত জ্ঞান দিয়ে সাহায্য করে এই কোম্পানিগুলোই। রেডিওর বেজব্যান্ড চিপসেট কোন কোম্পানি আগে তৈরী করে বাজারে ঢোকার ‘আর্লি মুভার্স অ্যাডভান্টেজ’ নেবে সেটাই বর্তমান যুদ্ধ। দেশ দখল নয়, বাজার দখল নিতে পারবে যেই দেশের কোম্পানি, বিলিয়ন ডলার তাদের। দেশগুলোর যুদ্ধ এখানেই। এই মিটিংয়ের আউটকাম শুধুমাত্র প্রভাবিত করে না দেশগুলোর নীতিমালাকে – এর সাথে প্রযুক্তি ইন্ডাস্ট্রি আর যন্ত্র প্রস্তুতকারক থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ জড়িত। মোদ্দা কথা, স্পেকট্রাম দেশগুলোর এমন একটা অমূল্য সম্পদ তার সর্বোচ্চমানের ব্যবহারই হচ্ছে এই ফোরামের গল্প। তার সাথে আছে বাজার দখল করার ‘সাবলাইম’ জ্ঞানের যুদ্ধ।

৩৩৬.

উনিশশো তিরানব্বইয়ের ‘ডাব্লিউআরসি’ কনফারেন্সে টুজির স্পেকট্রাম অ্যালোকেশন নিয়ে সমস্যা না হলেও পরের মিটিংয়ে থ্রিজির নতুন ব্যান্ড খুঁজতে লেগে গেল দেশগুলো। হারিকেন দিয়ে খোঁজার মতো কিছুটা। শেষমেষ দুহাজার সালের ডাব্লিউআরসি’তে ২.১ গিগাহার্টজকে বানিয়ে দেয়া হলো থ্রিজি’র ক্যান্ডিডেট ব্যান্ড। ভালো ডাটা থ্রুপুট আর ব্যাকওয়ার্ড কম্পাটিবিলিটি দেখে ঘোষণা করা হলো ‘আইএমটি-২০০০’ ব্যান্ড। অনেকগুলো ব্যান্ডকেই ফেলা হলো ‘আইএমটি-২০০০’তে। দেশগুলোর কাছে এগুলো গেলো সুপারিশ হিসেবে। মানা – না মানা নির্ভর করছে দেশগুলোর ওপর। তবে না মেনে যাবে কোথায়? চলতে হবে না অন্যদের সাথে?

আসছি সামনে আইটিইউ’র রেডিও রেগুলেশনের অলিগলি নিয়ে! হোমওয়ার্ক হচ্ছে উপরের ভিডিওটা। না মানে দেখতে হবে শুধু, চোখ খুলে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

I buy more books than I can finish. I sign up for more online courses than I can complete. I fundamentally believe that if you are not learning new things, you stop doing great and useful things.

Satya Nadella, Microsoft’s New CEO

৩২৫.

আমাদের স্পেকট্রামের একটা বড় অংশ হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে এর সমন্বয় প্রক্রিয়া। স্পেকট্রামগুলো ব্যবহার হচ্ছে দেশের ভেতর, এর আবার আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথা আসছে কোথা থেকে? ভালো বলেছেন। স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি ছাড়া বাকি সবকিছুই চলার কথা দেশের ভৌগলিক সীমানার মধ্যে। সমন্বয়টা কেন প্রয়োজন সেটা কিন্তু আলোচনা করেছি আগেই। এক, আপনার হ্যান্ডসেটটা যদি শুধুমাত্র বাংলাদেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য তৈরী করা হতো তাহলে এর দাম কতো হতো বলে আপনার ধারণা? দুই, ওয়াইফাই রাউটারটা কি দুহাজার টাকার নিচে কিনতে পারতেন আজ?

৩২৬.

ওয়াইফাই রাউটার চলে ২.৪ আর ৫.৭ গিগাহার্টজের ব্যান্ডে। বাংলাদেশ যদি বলতো আমার দেশে ওয়াইফাই রাউটার চলবে অন্য ব্যান্ডে, তাহলে ওই রাউটার পেতেন কি না সেটা নিয়ে অনেক সন্দেহের অবকাশ আছে। পেলেও ওর ভেতরের চিপসেট, সার্কিট ডায়াগ্রাম আর তার উত্পাদন খরচ কোথায় উঠে যেতো সেটা বলাই বাহুল্য। সোজা কথা, আপনাকে চলতে হবে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে। ওদের দেশের ভেতরে কি ধরনের স্পেকট্রাম কি কাজে ব্যবহার হচ্ছে সেটার খোঁজ খবর নিয়ে। সেটা জানার সহজ উপায় হচ্ছে একটা আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী এজেন্সির সাথে কাজ করা।

৩২৭.

টেলিযোগাযোগ আর আইসিটির ব্যাপারগুলো এতটাই ডাইনামিক যে এর জন্য তৈরী করতে হয়েছে আলাদা ইউএন এজেন্সি। যাকে বলে স্পেশালাইজড ইউএন এজেন্সি। নাম হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন। ছোট্টভাবে যাকে বলি আমরা ‘আইটিইউ’| একশো তিরানব্বইটা দেশ আছে এর সাথে। সাতশোর বেশি কোম্পানি আর ইউনিভার্সিটিও নিয়েছে আইটিইউ’র মেম্বারশিপ। অনেক কাজ ওর। দেশগুলোর ভেতর স্পেকট্রামের হারমোনাইজেশন, মানে থ্রিজির জন্য যে ব্যান্ড হবে সেটা সব দেশকে সুপারিশ করা। মানা না মানা দেশের ব্যাপার। তবে ওই ‘ইকোনমি অফ স্কেলের’ কারণে বেয়াড়া সাহস দেখায় না দেশগুলো। তবে, ব্যতিক্রম আছে সব জায়গায়।

৩২৮.

দেশগুলোর ভেতর স্যাটেলাইট অরবিটগুলোর সমন্বয়, টেলিযোগাযোগ যন্ত্রগুলোর মানদন্ড মানে স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন বজায় রাখা হচ্ছে এর অনেক কাজের বড় বড় কাজ। স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন না থাকলে আজ আপনি ভয়েস কল আর ডাটা আদানপ্রদান করতেই পারতেন না বিভিন্ন নেটওয়ার্কের ভেতর। আন্ত:সংযোগ একটা বিশাল সমস্যা ছিলো এই কিছুদিন আগ পর্যন্ত। স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন না থাকার একটা ঘটনা বলি তাহলে। আপনার বৈদ্যুতিক সকেট নিয়ে কম ঝামেলায় পড়েছেন বিদেশ বিভুইঁয়ে? মনে পড়ে? নতুন দেশ – নতুন সকেট কিনতে কিনতে মাথা খারাপ। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেলার কিট কিনতে হয়েছে আলাদাভাবে। আইটিইউ’র স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন দিকটা দেখে আবার আইটিইউ-টি বিভাগ। আইটিইউ-টির সুপারিশগুলো আসে ওর বেশ কয়েকটা স্টাডিগ্রুপ থেকে। কোথায় কি লাগবে – যন্ত্রগুলোর মধ্যে ইন্টার-অপেরাবিলিটি নিয়ে কাজ করছে স্টাডিগ্রুপ তিন, যার সাথে বেশ একটা বড় সময় নিয়ে কাজ করতে হয়েছে এই আমাকে। সীইং ইজ বিলিভিং। দেখুন তাহলে ভিডিওটা।

৩২৯.

ব্যাপারটা অন্যভাবেও তো ঘটতে পারতো। আপনার আইফোনের চার্জার দিয়ে সামসাং গ্যালাক্সি চার্জ করা যাবে না কেন? দেশগুলো এখন বুঝে গিয়েছে এই মারপ্যাচগুলো। ইকুইপমেন্ট প্রস্তুতকারকদের নতুন নির্দেশনা দিচ্ছে খরচ কমানোর জন্য। আপনার বাসার ড্রয়ারে কতগুলো চার্জার আছে পড়ে? আমার কথা হচ্ছে, হ্যান্ডসেট বিক্রি হবে চার্জার ছাড়া। মানে চার্জারের দাম ছাড়া হ্যান্ডসেট। কেউ আলাদাভাবে কিনতে চাইলে তাকে দেয়া হবে ইউনিভার্সাল চার্জার। ওটা দিয়ে চলবে সব ফোন। পাওয়ার আউটপুট পিসির ইউএসবির সমান। পাঁচশো মিলি অ্যাম্পিয়ার আর পাঁচ ভোল্ট। কাজ চলছে দেশগুলোতে। করছি আমরাও। হেডফোনে কিন্তু স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন হয়ে গেছে ইকোসিস্টেমের চাপে পড়ে। ৩.৫ মিলিমিটারের কানেক্টর। অ্যাপেলের মতো নাক উঁচু কোম্পানিও সাহস করে না অন্য কানেক্টর নিয়ে কাজ করতে। বাজার বলে কথা।

ভাগ্যিস!

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

If you spend too much time thinking about a thing, you’ll never get it done.

Bruce Lee

৩১৭.

স্পেকট্রাম নিয়ে মাতামাতির পেছনে কারণ হাজারো। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্রডব্যান্ড কিভাবে কাজ করছে সেটা নিয়ে কম লেখা হয়নি। আমিও লিখেছি অনেকবার। যতো বেশি গতি, ততো বেশি ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান যাবে অনলাইনে। আর অনলাইন মানে যা চাইবেন তাই নিয়ে করতে পারবেন ব্যবস্যা। অনলাইন হচ্ছে বিশাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে সবাই সমান। বিশ্বাস হচ্ছে না? কি করতে চান আগে ঠিক করুন। আপনি কার্টুন আঁকেন ভালো। খুব ভালো কথা। টি-শার্ট বানিয়ে বিক্রি করুন বাসা থেকেই। অথবা, ভালো আর্টিকেল লেখেন। তাহলে আর্টিকেল লিখে বা অন্যের জন্য রিভিউ লিখে পয়সা বানান। ওর জন্য দরকার অনলাইন এক্সেস। একটা ফ্রি ওয়েবসাইট আর সোশ্যাল মিডিয়ার একটা একাউন্ট। সবই বিনামূল্যে। তবে এজন্য প্রয়োজন অনলাইন এক্সেস। সস্তায়। কীওয়ার্ড কিন্তু – সস্তা।

৩১৮.

প্রথম কথা হচ্ছে ক্যাপাসিটি। হাজারো মানুষকে দিতে হবে অনলাইন এক্সেস। ফাইবার অপটিক বিছিয়ে এগুলে সময় নেবে অনেক। প্রয়োজন ওয়ারলেস এক্সেস মানে আপনি যুক্ত হবেন বাতাসের ওপর। এক্সেস ডিভাইস কিনলেই আপনি কানেক্টেড। ওটিএ, ওভার দ্য এয়ার – প্লাগ ‘ন’ প্লে! এর জন্যই দরকার স্পেকট্রাম। দরকার সেধরনের স্পেকট্রাম যা হাজারো মানুষকে যুক্ত করতে পারবে একসাথে। একই জায়গায়। ওয়াকিটকির মতো হলে হবে না কিন্তু! ওইজন্যই বলা হচ্ছে ক্যাপাসিটির কথা। এমন স্পেকট্রাম যা কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে বেশি গতির সংযোগ দিতে পারবে। সেটা নিয়ে গবেষণা হয়েছে অনেক। বেশি স্পেকট্রাম দিলে সবই সম্ভব। তাহলে চ্যালেঞ্জ কোথায়? আগে আপনি তেত্রিশ কেবিপিএসের আইএসপির ডায়াল-আপ সার্ভিস ব্যবহার করতেন। মোবাইল আসাতে নয় কেবিপিএসের জিপিআরএস দিয়ে শুরু করেছিলেন কিন্তু। গত বত্সর আপনার দরকার ছিলো দুশো ছাপ্পান্ন কেবিপিএস, গতমাসে এক মেগাবিট – আজ দু মেগাবিট। গতি বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। স্পেকট্রাম তো বাড়ছে না আর।

৩১৯.

অত গতি চাইলে স্পেকট্রাম দরকার দুশো গুন। অতো বেশি স্পেকট্রাম নেই কোথাও। এর মধ্যে আছে স্যাটেলাইট, টিভি ব্রডকাস্টিং, পাবলিক সেফটি নেটওয়ার্ক (ও নিয়ে বিশাল আড্ডা হবে পরে), রেডিও, ন্যাভিগেশন আরো কতো কি। ধরে নিচ্ছি মোবাইল কমিউনিকেশন আমাদের জীবনকে আস্টে পিষ্টে আটকেছে ভালোভাবেই – তাই বলে অন্য ব্যাপারগুলো গুরুত্বহীন নয়। ফলে চলে এলো দক্ষতার সাথে স্পেকট্রামের ব্যবহারের কথা। এফিসিয়েন্ট ইউজ অফ স্পেকট্রাম। দরকার গবেষণা। যা তা গবেষণা নয়, বিলিয়ন ডলারের গবেষণা। হ্যান্ডসেটে বিলিয়ন ডলার – চিপসেটে আরেক বিলিয়ন ডলার – বেজস্টেশনে সমমানের ডলার, নেটওয়ার্ক রোলআউটে – আর বলবো না। ভেবে নিন।

৩২০.

সবাই শত শত বিলিয়ন ডলারের বিল করলে এন্ড ইউজার মানে প্রান্তিক ব্যবহারকারীর কি অবস্থা হবে? ও তো কিনতেই পারবে না। ওখানে চলে এলো একটা কীওয়ার্ড। ইকোনমি অফ স্কেল। ‘এক পিস মেড কারিগর ডেড’ ব্যাপারটার একদম উল্টো। বিলিয়ন ডলারের গবেষণা দিয়ে বানাতে হবে বিলিয়ন হ্যান্ডসেট। একরকমের বিলিয়ন চিপসেট। তাহলেই ওতো বড় লগ্নি কমাতে পারবে ব্যবহারকারীর খরচ। বিলিয়ন ডলারের গবেষণাকে ভাগ দিন ওর আউটকাম দিয়ে। আউটকাম হচ্ছে বিলিয়ন হ্যান্ডসেট আর ওয়ারলেস ডঙ্গল। প্রতিটা হ্যান্ডসেটের পেছনে গবেষনার খরচ পড়ছে এক ডলার করে। আর সেকারণেই হাজার টাকায় পাচ্ছেন মোবাইল হ্যান্ডসেট। ঘটনা অন্যখানে।

৩২১.

হ্যান্ডসেট, চিপসেট আর বেজস্টেশন বানালেন। সবগুলো যন্ত্র টিউন করা হয়েছে একটা স্পেকট্রামে। কে কিনবে এটা? আমার দেশে চলে স্পেকট্রাম ‘ক’, অন্যদেশে ‘খ’, ইউরোপে ‘গ’ আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ঘ’| ফেঁসে যাবেন আপনি। গবেষণায় দেউলিয়া হয়ে যাবে আপনার কোম্পানি। বিলিয়ন ডলারের গবেষণা ক,খ,গ,ঘ স্পেকট্রাম নিয়ে করতে গেলে দাম হবে আকাশচুম্বী, কেউ কিনবে না হ্যান্ডসেট। চারটা ফ্রিকোয়েন্সিতে টিউন করাতে গেলে খরচ শুধুই বাড়বে না, প্রতিটা হ্যান্ডসেটে শুধুমাত্র গবেষনার খরচই আসবে চার ডলার করে। দুশো পঞ্চাশ মিলিয়ন হ্যান্ডসেট করে এক এক গবেষণা। এক একটা চিপসেট। পেলেন না ইকোনমি অফ স্কেল। প্রোডাকশন খরচ বেড়ে গেলে গ্রাহকের ফিরিয়ে নেবে মুখ।

৩২২.

একারণেই পুরো পৃথিবী চায় কাজ করতে এক ফ্রিকোয়েন্সিতে। গবেষণা একবার। যন্ত্র বানাও কোটিবার। সেখানেই চলে আসে ‘স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন’, মানে চলবে সব জায়গায়। আজ হেডফোনের ৩.৫ মিলিমিটারের জ্যাকটা একেক দেশে একেকটা হলে কি হতো? জ্যাকটার তিনটা কন্টাক্ট পয়েন্টগুলো কয়েক মিলিমিটার সরে গেলেই বা কি হতো? সব কিছুর একটা মান নির্ধারণ করা থাকলে আমাদের জীবন কতো আনন্দের হতো, ভাবা যায়? স্পেকট্রামে এটাকে বলা হয় ‘হারমোনাইজেশন’, মানে যে স্পেকট্রামটা আমাদের দেশে মোবাইল কমিউনিকেশনে ব্যবহার হয় সেটা অন্য সব দেশের সাথে মিলিয়ে নিয়ে ব্যবহার শুরু করা। তা না হলে সীমান্তে শুরু হবে সমস্যা, হবে না রোমিং, আমাদের ব্যবহারকারীরা অন্য দেশে গিয়ে আর চালাতে পারবে না আমাদের হ্যান্ডসেট। চিন্তা করেছেন একবার? যে দেশেই যাচ্ছেন সে দেশেই কিনতে হচ্ছে নতুন করে হ্যান্ডসেট?

৩২৩.

যুতসই যুক্তি দেবো? তার আগে প্রশ্ন একটা। এ পর্যন্ত হ্যান্ডসেট পাল্টেছেন কটা? পাঁচটা – দশটা? ড্রয়ারে পড়ে থাকা ওগুলোর চার্জার কি করেছেন আপনি? ধারণা করা যায় কতো রিসোর্স নষ্ট করেছি আমি আপনি? চার্জারগুলো শুধুমাত্র পরিবেশ নষ্ট করেনি – কোটি কোটি টাকা খরচ করিয়েছে আমাদের। অযথাই। চার্জারগুলোর ‘স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন’ করলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতাম আমরা। ফোন বিক্রি হতো চার্জার ছাড়াই। যারা চাইতো – তারাই কিনতো আলাদা করে। চার্জারের আউটপুট ভোল্টেজ, জ্যাকের দৈর্ঘ্য প্রস্থ একধরনের হলে এক চার্জার দিয়েই জীবন পার। দেশগুলো বুঝতে পেরেছে অনেক পরে। মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির টাইপ অ্যাপ্রুভাল মানে ছাড়পত্রে বলে দিচ্ছে একথাগুলো। ইন্ডাস্ট্রির সায় আছে এতে। সেকারণে মাইক্রো-ইউএসবি চার্জার আসছে সব হ্যান্ডসেটে। ভোল্টেজ রেটিং পিসির ইউএসবির সমান। কিছুদিন পর চার্জার কিনতে হবে আলাদা। আমার কিন্ডলে তো চার্জারই দেয় নি। চার্জ করি পিসি থেকে। আইপডের একই অবস্থা। এমনিতেই হয় নি এগুলো।

৩২৪.

কোনো দেশ একা চলতে পারে না আজ। আর সেকারণে সামনেই আসছি ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ডিনেশন’ নিয়ে। এটা অন্য ধরনের যুদ্ধ। অন্যকে বাজার বানানোর যুদ্ধ! নিজ দেশের ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে নিয়ে দেশগুলো জড়িয়ে পড়ে বিশাল গেমপ্ল্যানে। যুদ্ধের আগমুহূর্ত পর্যন্ত ওদের এলায়েন্স ঠাহর করা দুস্কর। গেম থিয়রি নিয়ে পড়েছেন কখনো?

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

%d bloggers like this: