Feeds:
Posts
Comments

Archive for November, 2014

The European Commission has recommended that digital switchover should be completed by 1 January 2012.

– Commission Recommendation 2009/848/EC, of 28.10.2009

৬৪১.

মনে আছে বিটিভি’র যুগের কথা? নতুন জেনারেশনের কাছে ‘প্রস্তর’ যুগের গল্প মনে হতে পারে পুরো ব্যপারটাই। চ্যানেল ‘নয়ে’ সলিড গোল্ড আর সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান নিয়ে সময় কাটছিল ভালোই। ঢাকায় থাকার সুবাদে হাতে পেলাম বাড়তি আরেকটা চ্যানেল। চ্যানেল সিক্স। বিকাল ছয়টার কার্টুন না দেখলে ভাত হজম হতো না আমাদের। স্পাইডার ম্যান, ফ্যানটাস্টিক ফোর, রিচি রিচ, অ্যাকোয়া ম্যান – বলতে হবে আর? মনে আছে ‘গ্রীন হর্নেটে’র কথা? আর সবচেয়ে মজা হতো ভোটের সময় ম্যারাথন প্রোগ্রামে। গুড ওল্ড ডেজ!

৬৪২.

এই বিটিভি হচ্ছে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং। যাকে ব্যবহার করতে হয় মোবাইলের মতো কিছু ফ্রিকোয়েন্সী। ফলে, আপনার টিভি অনুষ্ঠান ধরতে পারে সাধারণ অ্যান্টেনা দিয়ে। রেডিও’র মতো অ্যান্টেনা। ওই হাড়ি পাতিল দরকার ছিলো অন্যদেশের চ্যানেল দেখার জন্য। ওইদিকে আর নাই বা গেলাম। অ্যানালগ ব্রডকাস্টিংয়ে স্পেকট্রাম লাগে প্রচুর। একেকটা চ্যানেল নিয়ে নেয় ৬ থেকে ৮ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইডথ। আর একই ব্যান্ডউইডথে ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং পাঠাবে বিশটার মতো চ্যানেল – সমান মানের। চিন্তা করেছেন কতো লাভ এখানে? আবার, ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং ব্যবহার করে ‘সিংগেল ফ্রিকোয়েন্সী নেটওয়ার্কস’, ফলে ওই এক ফ্রিকোয়েন্সী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা যাবে পুরো দেশজুড়ে। অ্যানালগেও সম্ভব, চেষ্টা করলে।

৬৪৩.

পৃথিবী জুড়ে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং ব্যবহার করছে ‘ইউএইচএফ’ আর ‘ভিএইচএফ’ ব্যান্ড। আল্ট্রা হাই ফ্রিকোয়েন্সীতে এর জন্য দেয়া আছে ৪৭০ থেকে ৮৭২ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। হাসছেন আপনি। তাইতো! ৭০০ মেগাহার্টজের গন্ধ পেয়ে গেছেন এর মধ্যে। সোনার খনি। সত্যিই তাই। আমাদের মতো জনবহুল দেশও ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ভাসিয়ে দেয়ার হিসেব নিয়ে আসবো সামনে। এজন্য এটার নাম হচ্ছে ডিজিটাল ডিভিডেন্ড। মানে ডিজিটাল ট্রান্সমিশনে গেলে কতো শত ফ্রিকোয়েন্সী খালি হয়, সেটা না দেখলে বিশ্বাস হবে না আপনার। গুগল করবেন নাকি একবার ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’ শব্দ জোড়া দিয়ে?

৬৪৪.

ভেরী হাই ফ্রিকোয়েন্সীতে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং চলছে ১৭৩ থেকে ২৩০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। বাংলাদেশে পুরোটাই ব্যবহার করছে বিটিভি। চ্যানেল একটা, কিন্তু রীলেগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে অন্য ফ্রিকোয়েন্সী। এখানে ‘অপটিমাইজ’ করা যেতো অনেক। নীতিমালায় বলা আছে এই পুরো ব্যান্ডটা ব্যবহার করবে বিটিভি। অথচ এই অ্যানালগ টেরেস্ট্রিয়ালের বাকি ব্যান্ডটা ভাড়া দিয়ে সরকার আয় করতে পারতো শত কোটি টাকা। আর বাঁচাতে পারতো একই পরিমাণ টাকা – স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ। আমাদের বেসরকারী টিভি চ্যানেল চলছে বাইরের দেশের ‘খরুচে’ স্যাটেলাইট দিয়ে। আর জনগণও দেখতো বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলো – বিনামূল্যে। ওই অ্যান্টেনা দিয়েই। স্পেকট্রামটা খালি পড়ে আছে দেশের জন্মকাল থেকে।

৬৪৫.

তবে, আমাদের ‘ন্যাশন্যাল ফ্রিকোয়েন্সী অ্যালোকেশন প্ল্যান’ টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিংয়ে বরাদ্দ দিয়েছে ৫২২ থেকে ৬৯৮ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী অ্যানালগ ট্রান্সমিশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ২০১৫তে। ১১৯টা দেশ মেনে নিয়েছে ১৭ জুন ২০১৫ তারিখটা। তবে উন্নত দেশগুলো ‘অ্যানালগ টু ডিজিটাল সুইচওভার’ করে নিয়েছে ওই ‘কাট-অফ’ তারিখের আগেই। সবাই নিজের ভালো বোঝে! আর সুবিধাও হাজার খানেক! আপনার বাড়ির পাশের পানের দোকানও ‘অ্যাড’ দিতে পারবে ওখানে।

৬৪৬.

আমার বইয়ের কাহিনী অন্যখানে। এই ‘ডিজিটাল ট্রানজিশনে’ সবচেয়ে লাভ দেশের মোবাইল ব্রডব্যান্ডের। অ্যানালগ থেকে বেঁচে যাওয়া ফ্রিকোয়েন্সী দিয়ে দেয়া যাবে দেশের ব্রডব্যান্ড গল্পে। এইজন্যই এটার নাম ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’। পাঁচ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ‘থ্রীজি’ সার্ভিস? হয় নাকি কখনো। আমাদের মতো শত কোটি মানুষের দেশে? আর ডিজিটাল টেলিভিশন মানুষের জীবন কি সহজ করে দেবে সেটা নিয়ে অপেক্ষা রাখে না বলার। এর ভ্যালু চেইন উচ্চমার্গের।

৬৪৭.

ফিরে আসি আমার গল্পে। স্পেকট্রাম। ইউরোপিয়ান কমিশন তাদের স্পেকট্রামের ওপর দিয়ে দেয়া সার্ভিসগুলোর দাম যোগ করতে গিয়ে পেল ২৫০ বিলিয়ন ইউরোর ওপরে। এটা পুরো ইউরোপের বাত্‍সরিক জিডিপির ২.২ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭০০ মেগাহার্টজ বিক্রি করে পেল ১৯.১ বিলিয়ন ডলার। সেই দুহাজার আটে। বিক্রি করেছিলো মাত্র ৫৬ মেগাহার্টজ। জার্মানী বিক্রি করলো ৬০ মেগাহার্টজ ওই দুহাজার দশে। ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে। পেয়েছিলো ৩.৫৭ বিলিয়ন ইউরো। ফ্রান্স ওই ৬০ মেগাহার্টজ বিক্রি করে আয় করেছিলো ২.৬ বিলিয়ন ইউরো।

৬৪৮.

দাম নিয়ে সবার বক্তব্য কি হবে সেটা না জানলেও একটা জিনিস বুঝি ভালোভাবে। এর দাম হওয়া উচিত্‍ ‘অপুরচুনিটি কস্ট’এর ভিত্তিতে। গ্রাহকদের ‘নাভিশ্বাস’ তুলে নয়। আমার দেশের ‘পারচেজিং প্যারিটি’ মানে কেনার ক্ষমতা আর জিডিপিকে তুলনা করা যাবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। লিখেছি আগে এব্যাপারটা নিয়ে। ভালো কথা, স্পেকট্রাম তুমি কার?

মজা জানেন কোথায়? কেন দাম উঠছে এতো? ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে (আমাদের ওয়াইম্যাক্স ব্যান্ড) দশ গুণ বেশি বেজস্টেশন লাগবে যদি একই জায়গা ‘কাভার’ করতে হয় ওই ৮০০ মেগাহার্টজ দিয়ে। মজা আছে আরো।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

It is truly rare for people to outmaneuver Big Telecom’s army of lobbyists, but together Canadians did it. Now that we’ve prevented big phone and cable companies from taking full control, it’s time to fix our broken telecom market for good. A first step is for Canadians to move to independent providers, then we need to shift policy so everyone has affordable choices for Internet access. Our future depends on it.

Steve Anderson, Executive Director, OpenMedia.ca

৬৩৬.

দেশগুলোর রেগুলেটরী এজেন্সি তৈরির পেছনে ‘গ্রাহকস্বার্থ’ দেখার ব্যাপারটা কাজ করে বেশি। গ্রাহক ঠিকমতো তার সার্ভিসটা পাচ্ছে কিনা বা যে টাকা দিয়ে কিনছে সেটা যথোপযুক্ত কিনা, এধরনের ‘নজরদারি’ করে থাকে রেগুলেটরী এজেন্সি। দেশের মানুষের ভালো দেখবে তারা, সেটাই থাকে মুখ্য। আর রেগুলেটরী এজেন্সি বাইরের সব ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে সেটাও আশা করে জনগণ। তবে বড় বড় ইনডাস্ট্রির জন্য রেগুলেশন সরকারের মাথা ব্যাথা হয়ে দাড়ায় অনেক সময়। অর্থনৈতিকভাবে এ ব্যাপারটা আরো প্রকট হয় যখন বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোর কাছে প্রচুর পয়সা থাকে। ফলে, তাদের কাছে চলে যায় সেরা মেধাগুলো, সেরা আইনজীবী, হাজারে হাজারে। সরকারও ধরে রাখতে পারে না তাদের ‘সেরা মেধাগুলো’ – তাদের বেতন স্ট্রাকচারের কারণে। ফলে রেগুলেটর জনগণের না হয়ে – হয়ে যায় ইনডাস্ট্রি’র ‘হস্তগত’। ‘রেগুলেটরী ক্যাপচার’ হচ্ছে এর আইনগত সংজ্ঞা। দাম বেড়ে যায় পণ্যের।

৬৩৭.

দেখা গেছে কোম্পানীগুলোর স্যাটেলাইট অফিস থাকে সরকারী অফিসের কাছাকাছি। লবিষ্টদের কথা আর নাই বা বললাম। ছোট কোম্পানী আর সাধারণ জনগণের দিকটা দেখা অনিবার্য হয়ে পড়ে ওই রেগুলেটরী এজেন্সি’র ওপর। তবে সেটা হয়ে ওঠে না সবসময়। দেখা যায় সরকারের নীতিনির্ধারণীতে থাকা মানুষগুলো পরিবেষ্টিত থাকে ওই বড় বড় কোম্পানীর ‘মেধাবী’ মানুষদের দিয়ে। ছোট কোম্পানীগুলো বা সাধারণ জনগণ তো তাদের নিজেদের ‘দিনকে দিনের’ সমস্যা মেটাতেই ব্যস্ত, তার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কিনা সেটার পেছনে দৌড়ানো হয় কমই। আপনি করবেন? আপনার পেটের দায় আগে – না আপনার ‘গ্রাহকস্বার্থ’? আর সেকারণে দেশগুলো তৈরি করে থাকে আলাদা ‘গ্রাহকস্বার্থ’ কমিশন।

৬৩৮.

প্রতিটা ইনডাস্ট্রির কিছু স্বার্থ থাকে যেটার জন্য সেই কোম্পানীটা যে কোন দৌড়ে যেতে আগ্রহী। এভিয়েশন ইনডাস্ট্রির দিকে তাকাই একবার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওই সেক্টরের রেগুলেটর হচ্ছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন, যাকে আমরা বলি ‘এফএএ’। তাদের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন’ মানে মন্ত্রণালয়ের একটা ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টে দেখা গেলো একটা নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সের ৪৬টা প্লেন আকাশে উড়ছিলো ‘সেফটি ইন্সপেকশন’ ছাড়াই। সাধারণ গাড়ির মতো প্রতিটা প্লেনের ‘ফিটনেস’ সার্টিফিকেট নিতে হয় একটা সময় পর পর। ওই এয়ারলাইন্সটাকে দুবছর ধরে এই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো তাদের রেগুলেটর। যাত্রীদের জানের ওপর বাজী রেখে ওই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো এফএএ’র অফিসাররা। এদিয়ে বাকি এয়ারলাইন্সগুলোর অডিট রিপোর্ট ঠিকমতো যাবার ফলে ‘গ্রাউন্ডেড’ হয়ে গেল শত শত প্লেন। শুরু হয়ে গেল ফ্লাইট ক্যান্সেলেশন। তাও আবার হাজার খানেক ফ্লাইট। ঘটনা প্রকাশ পেল যখন ওই এয়ারলাইন্সের একটা প্লেনকে ‘গ্রাউন্ডেড’ করতে যেয়ে। প্লেনের ‘ফিউজলাজে’ কয়েকটা ফাটল পাওয়াতে ইন্সপেকটর ‘ক’কে বলা হলো ‘রেগুলেটরের ভালো সম্পর্ক’ আছে ওই এয়ারলাইন্সের সাথে।

৬৩৯.

মার্কিন টেলিযোগাযোগ রেগুলেটর এফসিসি’কে কম কথা হয়নি। ‘এফসিসি’ বিশাল মিডিয়া ইনডাস্ট্রির ‘হস্তগত’ হয়ে আছে এধরনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিলো অনেকদিন থেকে। যাই রেগুলেশন করা হয় সেগুলো সাপোর্ট করছিলো ওই বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোকে। কর্পোরেট ‘কার্টেলাইজেশন’ আর কি। বড় বড় মিডিয়া ইনডাস্ট্রির যোগসাজসে ক্রমশ: খরচ বাড়ছিলো গ্রাহকদের। ছোট ফার্মগুলো টিকতে না পেরে গুটিয়ে ফেলছিলো তাদের ব্যবসা। নতুন কোম্পানীও আসতে পারছিলো না বাজারে। ফলে উদ্ভাবনা যাচ্ছিলো কমে। দিনের শেষে গ্রাহকের পছন্দের ‘বিকল্প পন্য’ আসছিলো কমে। মানে সোজা। ধরুন, আগে ছয়টা কোম্পানী দিতো মোবাইল সেবা, ‘মার্জার অ্যাকুইজিশন’ হয়ে কোম্পানী হয়ে গেলো তিনটা। পছন্দের সংখ্যা গেলো কমে। এদিকে রেডিও টেলিভিশন লাইসেন্স পাবার ক্ষেত্রে পাত্তাই পেল না ছোট কোম্পানীগুলো।

৬৪০.

ঘুরে আসবো নাকি কানাডা একবার? কানাডিয়ান রেডিও-টেলিভিশন এণ্ড টেলিকম্যুনিকেশনস কমিশন হচ্ছে ‘কনভার্জড’ রেগুলেটর। ব্রডকাস্টিং, মিডিয়া, টেলিযোগাযোগ – সবই তার আওতায়। এক কথায় আধুনিক রেগুলেটর। বেল কানাডা, সবচেয়ে বড় অপারেটর – একবার কিভাবে যেন হোলসেল ইন্টারনেট বিক্রির ওপর ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ সিষ্টেমটা নিয়েছিল পাস করে। খোদ রেগুলেটর থেকে। মানে বেল কানাডা থেকে হোলসেল ইন্টারনেট কিনতে গেলে পয়সা গুনতে হবে ব্যবহারের ওপর। কিনতে হবে গিগাবাইট ধরে। আইএসপিদের যদি এভাবে কিনতে হয়, তাহলে গ্রাহকদের অবস্থা বারোটা। মোবাইলের ব্যপারটা কিছুটা আলাদা। তাদের সীমিত রিসোর্স হচ্ছে স্পেকট্রাম। ফলে ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ দিয়ে গ্রাহকদের চাপটা কমিয়ে নিয়ে আসে নেটওয়ার্কের ওপর থেকে। রাগান্বিত গ্রাহক আর আইএসপিরা শুরু করলো অনলাইন পিটিশন। পাঁচ লাখ লোকের পিটিশন। রেগুলেটর আর ‘বেল কানাডা’র মিল-মিলাপের গল্প শুরু হলো মিডিয়াতে। চাপ তৈরি হলো পার্লামেন্টারী স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর। ডাক পড়লো কমিশনের চেয়ারম্যানের। পিছু হটলো রেগুলেটর

এতে দাম বাড়ে বৈকি। এখন উপায় কি? আবার, মেধাগুলোকেও রাখা যাচ্ছে না সরকারে। উপায় না থাকলে শুরুই বা কেন করলাম গল্পটা?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Formal education will make you a living; self-education will make you a fortune.

― Jim Rohn

০১.

লিঙ্কডইন নেটওয়ার্কে ফেসবুকের মতো ‘পোকিং’ ফীচার না থাকলেও মাঝে মধ্যে বাজিয়ে দেখে হেড-হান্টাররা। ধরুন, এই অধমকেই। মানে আপনার সিভি’র কাছে যে নস্যি! আসল আফ্রিকান ‘হেড-হানটিং’ হলে পালিয়ে বেড়াতাম এর মধ্যেই। এটা সেধরনের নয় বলে রক্ষা। পৃথিবী পাল্টে গেছে অনেক। পাঁচ বছর আগের গল্প দিয়ে চাকরি পাওয়া কঠিন এখন। আর যারা দেবে চাকরি, তারাও পাল্টেছেন তাদের পজিশন। পুরোপুরি – রিপজিশন! তারা এখন অনেক ফোকাসড, তারা জানেন – আসলে কি চায় কোম্পানী। তিন বছর আগে যেভাবে চাকরি পেয়েছেন – সেটা কিন্তু নেই আর। সত্যি বলছি। গতানুগতিক চাকরি দিতে চান না তারা, কথা হয় নির্দিষ্ট কাজ ওঠানো নিয়ে। তাহলে ‘হেড-হানটিং’ নিয়ে কথা বলি দু একটা, কি বলেন?

০২.

‘হেড-হানটিং’য়ের গল্পটা তখনই আসে যখন কোম্পানীটা একটা ‘নির্দিষ্ট’ কাজের জন্য মানুষ চায়। ‘প্রিটি মাচ স্পেসিফিক।’ সাধারণত: এই প্রসেসটা শুরু হয় ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের মাথাদের ‘হায়ার’ করার জন্য। সোজা কথায়, পিরামিডের ওপরের দিকের মানুষ খুঁজতেই এই ‘মাথা’ নিয়ে টানাটানি। সে কি ধরনের হবে সেটার একটা ‘ম্যাপিং’ তৈরি করে নেয় কোম্পানীটা। আরেকটা ব্যাপার বলে রাখি আগেভাগে, পেপারে বা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে কাজগুলো করা হয় না – বেশির ভাগ সময়ে। আবার, অনেক সময় ওই কোম্পানীর ‘এইচআর’ও জানে না কি হচ্ছে কোথায়? হতে পারে – প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানী থেকে নিয়ে আসতে হবে একজনকে, অথবা যার কাজের প্রোফাইল সাধারণের মতো নয়। রিক্রুটিং এজেন্সির কাজের বাইরের কাজ এটা। কোম্পানী তখন খোঁজে হেড-হান্টারদের। যাদের ব্যবসা মানুষের নাড়িনক্ষত্র নিয়ে। হেড-হান্টাররা সাধারণত: লূকোছাপা করেন কম, তাদের কথাবার্তা আর যোগাযোগ অনেকটাই ‘পার্সোনালাইজড’ আর সরাসরি ধরনের।

০৩.

কেন হেডহানটিং? কোম্পানী চায় কি? মানে ম্যানেজাররা চান কি? যেকোন কাজকে ‘আইডেন্টিফাই’ করে ওই সমস্যার সমাধান। ওই সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে যতো কম ‘রিসোর্সে’র ব্যবহার আর সেটা তাদের বটমলাইনে পজিটিভ ইমপ্যাক্ট আনছে কি না। এগুলোই দেখার বিষয়। সোজা কথায় ম্যানেজারদের কাজ মাপার ‘ইয়ার্ডস্টিক’ হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে তারা কতটুকু সফলতা পাচ্ছে ক। কোম্পানীর খরচ কমাতে, খ। দিনের শেষে কতো লাভ হলো। ওর সাথে সাথে ‘হেড-কাউন্ট’ চলে আসে। যেখানে এই কাজটা করতে চারজন লাগে, সেটাকে খরচ কমাতে গিয়ে হাত পড়ে হেড-কাউন্টে। ফলে কমে যায় মানুষ। আর কোম্পানী খোঁজে ওই লোক যে ওই বাড়তি কাজটাও পারে। আগে যেটা তার ‘টার্মস অফ রেফারেন্সে অমুক জিনিস থাকলে ‘অ্যাডেড’ অ্যাডভাণ্টেজ – সেটা যোগ হয়ে যায় মূল কাজে। মানে পুরানো কাজের ‘চোথা’ দিয়ে এগুতে পারছে না কোম্পানীগুলো। হেড-হান্টারদের লাগছে ওই ‘কাস্টোমাইজড’ কাজের গল্প বানিয়ে ওই লোকটাকে খুঁজে বের করতে।

০৪.

কোম্পানীর বড় লেভেলের এগজিকিউটিভ খুঁজতে বড় ধরনের ‘ক্যাম্পেন’ করতে হয় না হেড-হান্টারদের। যারা ওই কোম্পানীটার জন্য এগজিকিউটিভকে খুঁজছেন তাদের অনেকেরই নিজস্ব ফার্ম থাকে। রিক্রুটমেন্ট কন্সাল্ট্যান্টদের মতো তুলনা করা যাবে না তাদের। আপনি চাকরি পেলেন নাকি পেলেন না সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না ওই ফার্ম। আপনাকে বলে দেবে কিভাবে চাকরি খুঁজতে হয় অথবা ওই কোম্পানীতে চাকরি করতে হলে এই এই কাজ করতে হবে। তার ফী নির্ধারিত। হেড-হান্টারদের গল্প কিন্তু আলাদা। তারা ওই কোম্পানীর মানুষটাকে খুঁজে দিতে পারলেই পায় পয়সা। মানে খেটে – রেজাল্ট দেখিয়ে আয় করতে হয় তাদের। ব্যাপারটা কিছুটা কমিশন ভিত্তিক হয়। তাদের ফী – সেটা ‘কন্টিজেন্সী’ অথবা ‘রিটেইনড’ মানে কাজ ভিত্তিক বা বড় ধরনের রিক্রুটমেন্ট ভিত্তিক যাই হোক না কেন সেটা বেতনের ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত দেখা যায়। কোম্পানীর ওই এগজিকিউটিভের রোল কি হবে, তার ব্যাকগ্রাউণ্ড নিয়ে গবেষণা থেকে শুরু করে কোন কোন কোম্পানী থেকে মানুষ টানা যায় সেটার লিস্ট তৈরি করতে সাহায্য করে হেড-হান্টাররা।

০৫.

আচ্ছা, হেড-হান্টাররা তাদের লিস্ট বানায় কি করে? আমার ধারনা, গ্লোবাল নেটওয়ার্কিং। ‘ক্যারিয়ার মীট’ কোনটাই মিস করে না তারা। রিসার্চেও তুখোড় তারা। বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোশিয়েশন থেকে ‘ইনহাউস’ তথ্য পায় তারা। আর তো রয়েছে ইন্টারনেট। চাকরির বাজার নিয়ে বেশ কিছু ডিরেক্টরি বের হয় প্রতি বছর। সবশেষে তো আছে লিংকডইন! মানুষ নিয়েই তাদের কাজ। কোন কোম্পানীতে কোন মানুষটা আছে – সে কি রকম ভাবে আছে – সব জানতে হয় তাদের। এদিকে কোন কোম্পানী কি চাইবে সেটাও ধারনা করতে হয় আগে থেকে। ইদানিং কোম্পানীগুলো পড়া বাদ দিয়েছে মানুষের ‘রেজিউমে’। ওই ‘হিব্রু’ থেকে কি পাওয়া যাবে সেটা নিয়ে সন্দিহান তারা। এখন ফোকাস হচ্ছে নির্দিষ্ট কাজগুলোকে তুলে দেয়া – একটা সময়ের মধ্যে। বলতে হবে আর ‘কেপিআই’এর গল্প? আপনারা আরো ভালো জানেন আমার থেকে।

০৬.

প্রথম কলটা পাই প্রায় পাঁচ বছর আগে। ইউরোপের একটা ফার্ম। পরপরই চলে এলো পুরোপুরি ‘পার্সোনালাইজড’ একটা ইমেইল। বোঝা গেলো আমাকে অনেক ভালোভাবেই চেনে সে। কবে কোথায় ছিলাম সেটা জানে ‘ইন ডেপ্থ’! তবে, কি কি কাজ করেছি সেটা নিয়ে কথা বলতে চায় সে। কিভাবে আমাকে চেনে বলতেই হাসলো মেয়েটা। বোঝা গেল – বলতে চাইছে না সে। তবে, পরের দিকে জানিয়েছিল – একটা নামকরা টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি কোম্পানী থেকে পেয়েছিল আমার কনট্যাক্ট ডিটেলস। একটা রেগুলেটরের পক্ষ হয়ে কাজ করছে সে। কোন রেগুলেটর? এখন নয়, শর্টলিস্টিং হলে জানাবে সে। এটা চায় তো ওটা চায়। কণফারেন্স কল তো পানিভাত। আমি আগ বাড়িনি আর। এধরনের অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে এর পরে। বাজার ‘যাচাই’ করতে কে না চায় বলুন? মানে, আপনার দাম উঠলো কতো? মনে কিছু করবেন না, নিজেকে বিক্রি করতে পারাটা আর্টের পর্যায়ে চলে গেছে ইদানিং। ঘণ্টায় দশ টাকা আয় করার মানুষ থেকে শুরু করে লক্ষ টাকার মানুষ আছে এই আমাদের দেশেই। মানে সেই মানুষটা ওই মূল্যটা পাচ্ছে বাজার থেকে। আপনার কাজ থেকে কোম্পানী ঘণ্টায় বিশ লাখ টাকা আয় করলে আপনাকে লাখ টাকা দিতে বাধা কোথায়? মনে নেই জিম রনের সেই কথা?

We get paid for bringing value to the marketplace. It takes time to bring value to the marketplace, but we get paid for the value, not the time.

— Jim Rohn

০৭.

আইডিয়া হলো কিছু। পরের দিকে ‘নক’ করলেই বলতাম – চাকরি খুঁজছি না এ মূহুর্তে। তবে ছোট বড় কিছু কাজ নিয়ে কথা বলতো হেড-হান্টাররা। ‘তোমার একটা প্রেজেন্টেশন দেখলাম এই নীতিমালাটা নিয়ে। ওই সাইটে। ওই দেশকে নীতিমালাটা তৈরি করে দিচ্ছি আমরা, কেয়ার টু জয়েন?’

বলুনতো কোথায় কাটাবেন সময়? ফেসবুক না লিংকডইন? প্রায়োরিটি কোথায়? টাকা কিন্তু উড়ছেই। ধরতে পারাটাই কায়দা।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: