Feeds:
Posts
Comments

Archive for December, 2012

দু বছরের বেশী হচ্ছে কিছু লিখিনি। লেখালেখি হয়নি মানে হচ্ছে ব্লগপোস্ট দেয়া হয়নি৷ কারণ কয়েকটা থাকতেই পারে, তবে এর আরো ভেতরে যেতে হলে আরো কিছুক্ষণ মাথা চুলকাতে হবে৷

প্রথমতঃ কোন প্ল্যাটফর্ম? বাংলা না ইংরেজি?

আমি প্রচুর লিখতাম৷ এখনো লিখি৷ তবে অফিসের কাজে৷ মূলতঃ ইংরেজিতে৷ ইমেইল অন্ত মানুষ বলতে আমাকে দেখিয়ে দিতে পারেন৷ উনিশশো নব্বই সাল থেকে এর সাথে হাতেখড়ি হলেও এর প্রতি ভালোবাসা কমেনি৷ ওয়াইল্ডক্যাট! বুলেটিন বোর্ড সার্ভিস আর মডেমের সুমধুর (আমার কাছে, অবশ্যই) হ্যান্ডশেকিং শব্দ এখনো কানে বাজে৷ ইমেইল আর এফটিপি মেইল ছিলো অফলাইন ইন্টারনেটের প্রাণ৷

banglaআর ইদানিং ইমেইলের উত্তর দিতে গেলেও তার জন্য বেশ সময় চলে যায়৷ যেহেতু বর্তমান ফ্রেমওয়ার্ক এ দেশের বাইরে প্রচুর ইমেইল যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়, সেখানে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ব্যাপারটা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়৷ অনেক ইমেইলের উত্তর কঠিনতর ভাষা প্রয়োগ দরকার পড়লেও তার উত্তরের জন্য সময় নেবে আরো বেশী৷ সেই ইমেইলের যথাযথ উত্তর প্রথমে লিখলেও ফেলে রাখি দু থেকে তিন ঘন্টার জন্য৷ অন্য কাজ করে ফিরে আসি আগের ফেলে রাখা অংশে৷ অর্ধেক কড়া ভাষা পড়ে গিয়ে যোগ হয় কূটনৈতিক শিষ্টাচার সম্বলিত মিষ্ট ভাষা৷ অনেকটা “টোন ডাউন” হিসেবে বলা যেতে পারে৷ আবার ফেলে রাখি সারাদিনের জন্য৷ অফিস ম্যানেজমেন্টে যেখানে অফিসে এক জায়গায় বসে থাকার সুযোগ কম, বাসায় এসে শেষ সমীকরণ মিলিয়ে ছেড়ে দেই অন্য টাইম জোনের মেইলগুলো৷

স্মার্টফোন জীবনকে সহজ করার মূলমন্ত্র নিয়ে এলেও এর মেট্রিক্স ভিন্ন৷ ইমেইল হয়ে গেছে ইনস্ট্যান্ট মেসেন্জারের মতো৷ ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স থেকে প্রডাক্টটিভিটি নিয়ে গেছে অন্য মাত্রায়৷ আমার বন্ধুরা যারা উন্নত বিশ্বে থাকেন, তারাও আমাদের (যারা ঢাকাতে থাকি) থেকেও বেশী সময় পরিবারের সাথে কাটান৷ প্রতিদিন রাস্তাতে তিন ঘন্টার বেশী কাটালে তিরিশ শতাংশ ইমেইলের উত্তর এই বিশেষ যন্ত্র থেকে দেয়া যায় এমনিতেই৷ ভালো মোবাইল এপ্লিকেশনগুলো মাইক্রোসফট আউটলুকের মতো ফরম্যাটিং করার সুযোগ দেবার ফলে কারো বোঝার উপায় নেই যে মেইলগুলো ফোন থেকে করা হচ্ছে৷ পুশ পুল মেইল এখন এসএমএসের থেকেও খারাপ(!) হয়ে গেছে৷ অফিসের বাকি নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখিগুলো প্রায়ই ইংরেজিতে করতে হয়৷

হটাৎ বাংলায় কেন?

আপনি ইংরেজি বা বাংলা ভাষা বাদ দিয়ে অন্য কোনো ভাষা জানলে এর উত্তরটা আরো পরিস্কার হবে৷ আরেকটি ভাষা, ম্যান্ডারিন বা জার্মান – ফ্রেঞ্চ জানলে ইন্টারনেটের কন্টেন্ট এর বৈপরীত্য বুঝতে পারবেন৷ এটাই হওয়া স্বাভাবিক৷ ঘটনার উত্পত্তিস্থল একই হলেও ভাষার ভিন্নতার জন্য পারসেপ্সন অন্য রকম হবে৷ আমি যেভাবে চিন্তা করবো, একজন সিঙ্গাপুরিয়ান তো সেভাবে না করার সম্ভাবনাই বেশী৷ কন্ট্রাস্ট বা বৈপরিত্য থাকাতে অন্য ভাষাগুলো তাদের নিজেদের আবেদন তৈরী করে নিয়েছে৷ বাংলাতে কন্টেন্ট বাড়তে থাকলে প্রথমে “ওয়ালড গার্ডেন” প্রভাব পড়লেও পরে টা নিজস্ব বিবেচনাবোধ পাবে৷ বর্তমানে অনেক বাংলা কন্টেন্ট অন্য ভাষা থেকে ভাবানুবাদ হলেও কিছুদিন পরে তা নিজের মতামত তৈরী করবে৷ পৃথিবীর ষষ্ট ভাষা হলেও এর কন্টেন্ট তুলনামূলকভাবে অনেক কম৷ বাংলাতে কন্টেন্ট বাড়ানো জরুরী, যত তাড়াতাড়ি এর এডপ্টশন হবে, ততো তাড়াতাড়ি ইংরেজি বা ফ্রেঞ্চ থেকে এর দুরত্ব কমবে৷

এছাড়া, এই বিশ্বায়নের যুগে বিশ্ব জয় করতে হলে বেশ কয়েকটি ভাষা জানা ভালো৷ আপনি বেশ অবাক হবেন যে বাচ্চারা একসাথে অনেকগুলো ভাষা শিখতে পারে৷ চেষ্টা করে দেখতে পারেন৷

নয়টা ইমেইল জুলুজুলু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আজকে আসতে হচ্ছে৷

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: