Feeds:
Posts
Comments

The best time to plant a tree was 20 years ago. The second best time is now.

– Chinese Proverb

ক॰

সমস্যাটার শুরু প্রায় এক দশক আগে। ছুটাছুটির চাকরি। আজ এখানে তো কাল ওখানে। শেষমেষ ‘পীস কীপার’ হিসেবে পোস্টিং হলো কঙ্গোতে। ঘুরাঘুরিই বেশি। ঘুমের সময় ছাড়া বাকিটা হিসেব করলে – পুরোটাই রাস্তায়। নিজ দ্বায়িত্বের এলাকা, যাকে বলে ‘এরিয়া অফ রেস্পন্সিবিলিটি’ – ইঞ্চি ইঞ্চি করে না জানলে বিপদ। মানুষের জীবন বলে কথা। পুরো এলাকা থাকতে হবে নিজের নখদর্পণে। কন্সট্যান্ট ভিজিল্যান্স। পায়ে হাটা অথবা গাড়ি – পায়ের মাইলোমিটারে লাখ মাইল পার হয়েছে নিশ্চিত।

খ॰

রাস্তায় নামলেই হাজার চিন্তা কিলবিল করে মাথায়। একটা এদিকে হলে আরেকটা ওদিকে। মাথা মুন্ডু ছাড়া চিন্তাভাবনা। দিন কয়েক পর বেস ক্যাম্পে ফিরলে বসতাম ইউএন এর কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট নিয়ে। সভ্যতার সাথে একমাত্র ‘ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ’ – ওই স্যাটেলাইট লিংক। একসময়, প্লট করতে শুরু করলাম চিন্তাগুলোকে। ‘চ্যানেলাইজ’ করতে তো হবে কোথাও। একেকটা চিন্তা একেকটা ডট। কানেক্টিং দ্য ডট’স ব্যাপারটা বুঝলাম অনেক পরে। চল্লিশের আগে নাকি ব্যাপারটা আসে না মাথায়?

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

গ॰

আগের ঘটনা আরো চমত্‍প্রদ। কঙ্গোতে যাবার ঠিক আগ মূহুর্তে ফিরেছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিগন্যাল স্কুল থেকে। থাকতে হয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য। প্রায় নব্বই বর্গ মাইলের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেলিকম্যুনিকেশন ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। যায়গাটাও জর্জিয়ার একটা অজ পাঁড়া গাঁয়ে। সন্ধার পর কুপি জ্বলার মতো অবস্থা। স্কূল থেকে ফিরে কাজ না পেয়ে হাত দিলাম রান্নায়। কাঁহাতক আর খাওয়া যায় ফাস্ট ফুড! পিএক্স থেকে এটা কিনি, ওটা কিনি। বাসায় এসে ভয়াবহ ধরনের ‘টেস্ট এণ্ড ট্রায়াল’। অসুবিধা কি? গিনীপিগ তো নিজে। ক্ষান্ত দিলাম স্মোক ডিটেক্টরের পানির ঝাপটা খেয়ে। বার কয়েক। তবে, একেবারে ক্ষান্ত নয়, কমিয়ে দিলাম গতি। মনোযোগ সরালাম নতুন দিকে।

ঘ॰

বিশাল লাইব্রেরী। এটা ওটা ইস্যু করি, টাইম লিমিটও অসহনীয় লম্বা। পুরনো পত্রিকা, দুস্প্রাপ্য বই সব মাইক্রোফিশেএকদম নতুন বই লাইব্রেরীতে না থাকলেও সেটা কিনে এনে চেকআউট করিয়ে রাখতেন লাইব্রেরিয়ান। আমাজনের বেস্টসেলার লিস্ট দেখা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেলো ওই সময়ে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ‘বেস্টসেলার’গুলো লিখছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ। মানে, পেশাদার লেখক নন তারা। সাহস পেলাম। যাই লিখি, পাঠক পেতেই হবে বলেছে কে? মনের খোরাক মেটানোর জন্য লেখা। ওই বিরানব্বই থেকে। সেথ গোডিংয়ের গলা শুনি প্রায়ই। শিপ, বাডি! শিপ!

ঙ॰

দেখা গেলো ওই ‘বেস্টসেলার’দের কেউ ছিলেন স্টক এক্সচেঞ্জের হর্তাকর্তা, কেউ সিআইয়ের চীফ। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। সরকারী কর্মকর্তা। নেভী সীল। ফুটবল কোচ। জিমন্যাষ্ট। তারা লিখছেন পেছনের অনেকগুলো বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে। ব্যর্থতা থেকে সফলতার গল্প। যা আসলে সাহায্য করছে ওই পড়ুয়া মানুষদের। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। বিতর্কিত জিনিস নিয়ে যে লেখা হয়নি তা নয়। লিখেছেন রেচেল মোরানের মতো পেশাজীবীরা। মানে – লেখা হয়েছে প্রায় সব বিষয় নিয়ে। বের হয়ে এসেছে অনেক সমস্যার কথা। সেই ভুল থেকেও শিখছে দেশ। সমালোচনা নিতে পারার মানসিকতার দেশগুলো ওপরে উঠছে দ্রুত। আবার লিখছেন জাতির পিতারা। আজকের ‘আধুনিক’ সিঙ্গাপুরের পেছনে যিনি ছিলেন তারো বই আছে কয়েকটা। নেলসন ম্যানডেলা’র বইটা পড়েছেন নিশ্চয়। সাতাশ বছরের অবিচারের ঘৃণাটা মূহুর্তে গিলে ফেলার ঘটনাটা অজানাই থাকতো বইটা না পড়লে। পড়ছি সবই, বুঝতে পারছি ভালো মন্দ। মন্দটা ফেলে ভালো নিয়ে এগুচ্ছি সবাই আমরা, সময়ের বিবর্তনে। অন্যের কাছ থেকে শিখে। পেছনে লেগে নয়।

চ॰

জ্ঞান কিন্তু রি-ইউজেবল। ব্রিটেনের লেগেছে দুশো বছর প্রায়। শুধু শিখতেই। শিল্পবিপ্লব থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিখেছে ব্রিটেন থেকে। তাদের লোক পাঠিয়ে। নোটবই ভরে নিয়ে আসতো তাদের অভিজ্ঞতার কথা। জাহাজে করে। সেটা কাজে লাগিয়ে ওই ব্রিটেনের সাথে টক্কর দিয়েছে অনেক কম সময়ে। ‘লীড টাইম’ কমিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় একশো বছর। এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই শেখার চর্চাটা ধরে রেখেছে বলে তারা এখনো শীর্ষে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শত বিপত্তির মধ্যে উদ্ভাবনা দিয়ে আছে টিকে। নিজেদের দেশে মানুষ কম বলে বাইরের বাজার দখলে ব্যস্ত তারা। এখন বোকারাই বলে যুদ্ধের কথা, বাজার দখলে কে কাকে বাজার বানাতে পারে সেটাই হচ্ছে বড় যুদ্ধ। রক্তপাত ছাড়াই ‘আউটবাউন্ড’ ক্যাশফ্লো!

ছ॰

এশিয়ান দেশগুলো আরো বুদ্ধিমান। ইউরোপ আর অ্যামেরিকা থেকে শিখে সেটা কাজে লাগিয়েছে গত তিরিশ বছরে। এখন টক্কর দিচ্ছে সবার সাথে। হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অন্যের ‘ঠেকে শেখা’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়েছে বেশি। পাশ্চাত্যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা করেনি সেটা জানলেই তো হলো! তার সাথে মেশাও ‘লোকাল কন্ডিশন’। আমি এটাকে বলি, ‘ঘুটা’, মানে জ্ঞানের ডিফিউশন। মেলাও হাজারো জ্ঞানের অভিজ্ঞতা। গরীব দেশ হলেও কোন সরকারী কর্মকর্তাকে তো মানা করা হয়না বৈদেশিক ভ্রমনে না যেতে। অথচ কর্পোরেট হাউসে কৃচ্ছতা সাধনে প্রায় সবই চলছে ভিডিও কনফেরেন্সে। দেশের একটাই চাওয়া, শিখে আসা জ্ঞানটা কাজে লাগবে দেশের উন্নতিতে। প্রাথমিক জ্ঞানটা পাবার পর বাকিটা শেখার বাহন হচ্ছে ইন্টারনেট। আর সেকারণে ইন্টারনেট নিয়ে লাগা। জ্ঞান ছড়িয়ে আছে সব যায়গায়, দরকার তার প্রয়োগ।

ঝ॰

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেলেন জ্ঞান ‘ক’। এদিকে সিংগাপুর দিলো ‘খ’ জ্ঞান, ভিয়েতনাম থেকে নিয়ে এলেন ‘গ’। এখন – আমাদের স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্ডিকেটরের সাথে মিলিয়ে যেটা যখন কাজে লাগে সেটাই ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অনেকে এটাকে বলে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। মানে, যেটা কাজ করেছে অনেক যায়গায়। ‘ওয়েল টেস্টেড’। টেস্ট পেপার সলিউশনের মতো কিছুটা। দেখা গেছে – ওভাবে কাজটা করলে জিনিসটা মার যাবার সম্ভাবনা কম। টেস্ট এণ্ড ট্রায়ালের পর ফুলপ্রুফ হয়েই নাম হয়েছে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। দেশের ‘লোকাল কন্ডিশন’কে বেস্ট প্র্যাকটিসে ঘুঁটানোতেই রয়েছে মুন্সিয়ানা। ইন্টারনেটকে ছড়িয়ে দেবার ওই ধরনের ‘টেম্পলেট’ নিয়ে কাজ করেছি গত সাত সাতটা বছর।

ঞ॰

মনে আছে বৈজ্ঞানিক নিউটনের কথা? ‘আমি যদি আজ বেশি দেখে থাকি অন্যদের চেয়ে, সেটা পেরেছি পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের ভিত্তিতে’। উন্নতবিশ্বের আজকের যা উন্নতি তার সবটাই এসেছে ওই ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস’ কথাটার ওপর ভিত্তি করে। আজ জানি আমরা ট্রানজিস্টর কি – আর কিভাবে কোটি ট্রানজিস্টর থাকে একটা চিপসেটে। নতুন করে ওই ট্রাংজিস্টর উদ্ভাবন না করে বরং কোটি ট্রাংজিস্টরের চিপসেট দিয়ে আর কি কি করা যায় সেটাই ভাববার বিষয়। আর তাই আগের জ্ঞানের ‘ডিফিউশন’ দিয়ে নতুন উদ্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ওপরে উঠছে নতুন ইমার্জিং দেশগুলো। এটাকে বলা হয় লিপ-ফ্রগিং।

য॰

সামরিক বাহিনীর স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার বিটিআরসিতে আসা। টেকনোলজি নিয়ে একসময় লিখতাম কিছু পত্রপত্রিকায়। শুরুতেই ঝামেলা। ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট – নতুন যাই লিখি সেটা নিয়ে মাথা নাড়াচ্ছিলেন অনেকেই।

“ভালো, তবে সমস্যা অন্যখানে। এটা সম্ভব নয় এদেশে।”

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

বলেন কি? অবাক হয়ে তাকাই উনাদের দিকে। নীতিমালায় আটকানো আছে জিনিসগুলো। মানে আমরা আটকে আছি আমাদের জালে। জিনিসপত্র না জানার ফলে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। যুক্ত থাকার হাজার সুবিধার মূলে হচ্ছে মানুষের মুক্তি। সেটা প্রথমে আসবে অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে, জ্ঞান দেবে আমাদের প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা। সোশ্যাল মিডিয়ার বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করেছিলাম একটা এজেন্সিতে বসে। যুক্ত থাকার ফলে আজ যা দেখছেন, এটা আইসবার্গের ছোট্ট একটা টিপ। আরব বসন্ত, একটা উপসর্গ মাত্র। পালটাচ্ছে পৃথিবী, পাল্টাবো আমরাও। ভালোর দিকে। দরকার ইন্টারনেটের মতো কিছু টুলস।


The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

― Mark Twain

র॰

বইগুলো লিখছি কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে। বিটিআরসির সাত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে ঘোরার অন্তর্জালা থেকে মুক্তি পেতে এ ব্যবস্থা। নোটবই সেনাবাহিনীতে পোশাকের অঙ্গ হবার ফলে মিস করিনি খুব একটা। জিম রনের অমোঘ ‘নেভার ট্রাস্ট ইয়োর মেমরী’ বাণীটা খুব একটা বিচ্যুতি আনতে পারেনি ‘নোট টেকিং’য়ে। এখন যুগ হচ্ছে ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোটে’র। হাতির স্মৃতি বলে কথা – মাটিতে পড়ে না কিছুই। দেশ বিদেশের ফোরাম, যেখানে গিয়েছি বা যাইনি – হাজির করেছি তথ্য। টুকেছি সময় পেলেই। ভরে যাচ্ছিলো নোটবই। ‘এভারনোট’ আর ‘কীপের’ ভয়েস মেমোতে। পয়েন্ট আকারে। প্রোগ্রামিংয়ের মতো পয়েন্টারগুলো লিংক করা ছিলো মাথায়। ভুলে যাবার আগেই বইগুলোর ব্যবস্থা।

ল॰

আরেকটা সমস্যা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে – ওই ছোটবেলা থেকে। কোন জিনিস ধরলে সেটার শেষ না দেখলে ঘুম আসে না আমার। বিশাল বিপদ। আগে ভাবতাম সমস্যাটা আমার একার। ভুল ভাঙ্গলো দুনিয়া দেখতে দেখতে। ইনডাস্ট্রিতে একই অবস্থা। একেকটা রিসার্চ, সফল না হওয়া পর্যন্ত পড়ে আছে মাটি কামড়ে। মনে আছে, হেনরী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার তৈরির কথা? এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো। বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারটাও তৈরি হয়েছে কয়েকটা জেদি মানুষের জন্য। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে উজাড় করে দিয়েছেন তার জ্ঞানকে। বাকিটা আমাদের পালা।

শ॰

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজার বারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজারবারের ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজারটা স্টেপ।

ষ॰

টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় ভাসা ভাসা কাজের উপযোগিতা কম। রেগুলেশনেও একই অবস্থা। দরকার স্পেশালাইজেশন – বাজার বুঝতে। ঢুকতে হবে ভেতরে, অনেক ভেতরে। পুরোটাই অর্থনীতিবিদদের কাজ। ভবিষ্যত না দেখতে পারলে এ ব্যবস্যায় টিকে থাকা কঠিন। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর জাহাবাজ লোকেরাও মাঝে মধ্যে অত ভেতরে ঢুকতে পারেন না। স্পেশালাইজেশন বলে কথা। সেখানেই আসে টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং কোম্পানিগুলো। ওদের কাজ একটাই, আর এন্ড ডি, সারাবছর ধরে। আবার সেই কনসাল্টিং ফার্ম একই ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছে সব টেলিযোগাযোগ কোম্পানির জন্য। স্পেশালাইজড না হয়ে যাবেই বা কোথায় তারা? আর সেই সল্যুশনের জন্য মিলিয়ন ডলারের নিচে কথা বলেন না কেউই। আর বলবেন নাই বা কেন? এধরনের আর এন্ড ডির জন্য কম কষ্ট করতে হয়না তাদেরকে। প্রচুর রিপোর্ট পড়েছি এই কনসাল্টিং ফার্মগুলোর। রিপোর্টতো নয় যেনো হাতের রেখা পড়ছেন। ভবিষ্যত দেখা যায় রীতিমত। মিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং বলে কথা। টার্গেট দিন এক কোটি কর্মসংস্থানের। তৈরি করে দেবো প্রায়োগিক ফর্মুলা। হতে বাধ্য। জানতে হয় ভবিষ্যত দেখতে। বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি খানিকটা।

ট॰

তাই বলে সব কনসাল্টিং ফার্ম এক নয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, কনসাল্টিং ফার্মের দোষ না দেখে যিনি কাজ দিয়ে বুঝে নেবার কথা – তার কম্পিটেন্সিতে ঘাটতি থাকলে রিপোর্ট খারাপ হতেই পারে। আমি কিনছি রিপোর্ট, না বুঝে কিনলে কনসাল্টিং ফার্মের দোষ দিয়ে লাভ কি? গরীবদেশগুলোতে প্রচুর কনসালটেন্সি হয় বটে, তবে সে দেশগুলো সেগুলো ঠিক মতো বুঝে নেবার সামর্থ বা জ্ঞান থাকে না বলেই ঝামেলা হয়। ডোনারদের টাকায় কনসাল্টেন্সি হলে সেটার অবস্থা হয় অন্য রকম। রিপোর্ট নিজের মনে করে বুঝে নিতে পারলে সেটার দাম মিলিয়ন ডলারের বেশি। সে ধরনের রিপোর্ট বুঝে নিয়েছিলাম বেশ কয়েকটা। পোস্ট-ডক করা যাবে কয়েকটা।

ঠ॰

কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হলো বিশ্বখ্যাত অনেকগুলো টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং ফার্মের সাথে। এর সাথে যোগ হলো ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আর কমনওয়েলথ টেলিকম্যুনিকেশন অর্গানাইজেশনের (সিটিও) আরো অনেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্ট। ধারণা পেলাম তাদের কাজের। পড়তে থাকলাম আরো হাজারো রিপোর্ট। দামী সব রিপোর্ট, তবে তার দাম কোনো কোনো দেশ বা এজেন্সি দিয়ে দিয়েছে আগেই। পরিচয় হলো ওভাম, অ্যাকসেন্চার, কেপিএমজি, পিডাব্লিউসি, নেরা আর এনালাইসিস ম্যাসনের মতো তুখোড় তুখোড় ফার্মের সাথে। আবার নিজের প্রতিষ্ঠানেরই কাজ করতে পরিচয় হলো মার্কিন ফার্ম টেলিকমিউনিকেশনস ম্যানেজমেন্ট গ্রূপ, ইনকর্পোরেশন (টিএমজি)র সাথে। তাদের ধরনটাই বুঝতে সময় লেগেছিলো বেশ। তলই পাচ্ছিলাম না প্রথমে। বিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং কোম্পানি বলে কথা। পরিচয় হলো অনেকের সাথে। বন্ধুত্ব হলো অনেকের সাথে। হাতে ধরে দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ‘ফল্ট-লাইন’গুলো।

ড॰

একসময় তল পেলাম এই ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ফার্মগুলোর কাজের ধারার। পৃথিবী জুড়ে কাজ করার ফলে কোথায় কি সমস্যা সেটা তারা জানে ভালো। আর সেটা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেয়া ওদের একমাত্র কাজ বলে ওটাও সে জানে ‘অসম্ভব’ ভালো। গরীব দেশগুলোতে হাজার কোটি টাকার ম্যানেজমেন্ট কন্সাল্টেনসি করে টাকা বানালেও সেটার ব্যর্থতার দায় দেয়া যাবে না তাদের ওপর। ওই দেশের – যাদের ‘কন্সাল্টেনসি’টা বুঝে নেবার কথা তারা ‘ছাড়’ দিলে কাজ হবে কিভাবে? উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাড়াতাড়ি ওপরে উঠতে হলে লাগবে কন্সাল্টেনসি, তবে সেটা ‘পাই’ ‘পাই’ করে বুঝে নেবার মতো থাকতে হবে মানুষ। দু চারটা বৈদেশিক ভ্রমণে ব্যাপারটা উপেক্ষিত হলে জ্ঞান আর প্রজ্ঞাটা হারায় দেশ।

ঢ॰

ব্যাপারটা অনেকটা বিজনেস প্ল্যান কেনার মতো। ও আমাকে বানিয়ে দিলো একটা। না বুঝে দিয়ে দেবো পয়সা? সমস্যা হয় যখন সেটা হয় ‘সরকারী’ মানে জনগণের পয়সা। একারণে উন্নতদেশগুলো ছোট করে নিয়ে আসছে সরকারগুলোকে। যাই হয় সব পার্টনারশীপে। যারাই থাইল্যান্ড গিয়েছেন মুগ্ধ হয়েছেন তারা – বিশাল বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার দেখে। বেশিরভাগ ইনফ্রাস্ট্রাকচারই কিন্তু পিপিপি’র মডেলে করা। সরকারের অতো পয়সা থাকে না কোথাও। পিপিপি হচ্ছে গিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ। পয়সা যোগান দেবে বেসরকারী কোম্পানি – কাগজ দেবে সরকার, আইনগত ভিত্তি সহ। ‘উইন’ ‘উইন’ ব্যাপার। পয়সা লাগলো না সরকারের। কর্মসংস্থানও হলো। আমাদের পিপিপি নীতিমালা তৈরী হয়নি এখনো।


There is no ‘poor’ country, they are ‘poorly’ managed.

― Slightly modified

ণ॰

উন্নত দেশগুলোতে অনেক বড় বড় কাজে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না জনগণ। কারণ এই পিপিপি। যেকোনো দেশের উন্নতির ইনডিকেটর বোঝা যায় ওদেশের পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেম দেখে। মানে জনগন কতো সহজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারছেন – নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। ঢাকা শহরে সেটার অবস্থা আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেও খারাপ। অথচ ব্যবস্যা বান্ধব পিপিপি নীতিমালা থাকলে প্রাইভেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিতে পারতো সরকারের কাছে। তৈরী করতো ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’। ভাগ করে ফেলতো পুরো শহর – চার পাঁচ ভাগে। একেকটা ভাগের রুট নিয়ে দেন-দরবার করতো কনসেশন পিরিয়ডটা নিয়ে। এই রুটটা দাও আমাকে পঞ্চাশ বছরের জন্য। তৈরী করবো স্কাই ট্রেন। ইনফ্লেশন হিসেব ধরে ভাড়ার একটা চার্ট জমা দিতো সরকারকে।

স॰

সফটওয়্যারের মানুষ হিসেবে শূন্য ভার্সন থেকে শুরুতে বিশ্বাসী আমি। শুরু করতে হবে কোথাও। নিউটনের কথায় ফিরে আসবো আবার। ষ্টান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস। আমাদেরও এগুতে হবে পূর্বসূরীর অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে। গাছ রোপণ করার কথা ছিল বিশ বছর আগে। সেটা না হলে কি থাকবো বসে? বরং – লাগাবো আজই। বাংলাদেশের ‘যুক্ত’ হবার এজেন্সিতে চাকরি করার সুবাদে গরীব দেশ আমার ওপর যা ইনভেস্ট করেছে সেটা ফিরিয়ে দেবার জন্য নিয়েছি নগণ্য একটা প্রয়াস। নাম দিয়েছি প্রজেক্ট ‘গিভিং ব্যাক’। ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার ‘চিটকোড’ হিসেবে ধরুন ব্যাপারটাকে। ব্রডব্যান্ডে সফল দেশগুলোর ধারণা নিয়ে ‘আমাদের আঙ্গিকে’ কোডটাকে ‘ক্র্যাক’ করতে চেষ্টা করেছি মাত্র। আর, পয়সার জন্য ওর সাথে থাকবে ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ফান্ড। আর এসপিভিলাগবে এটাও

দরকার আপনার সুচিন্তিত মতামত। ওই মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাঠামোগত পরিবর্তন আনবো বইগুলোতে।

প্রি-প্রোডাকশন স্টেজ: কাজ চলছে এখনো

প্রথম বই: ইন্টারনেটের মুল্যঃ যে কারনে এখনো ধরাছোয়ার বাইরে

দ্বিতীয় বই: বাতাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দক্ষ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা পাল্টে দিতে পারে বাংলাদেশকে

তৃতীয় বই: রেগুলেট অর নট টু রেগুলেট? চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেটর ও বাংলাদেশ

* লিংকগুলো যুক্ত করা হয়েছে কয়েকটা ব্লগপোস্টের সাথে। পুরো বইগুলো আসবে আস্তে আস্তে – প্রিন্টে।


০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সাশান্দ্রা, আইভরি কোস্ট

Most good programmers do programming not because they expect to get paid or get adulation by the public, but because it is fun to program.

– Linus Torvalds

ভুলেই গিয়েছিলাম প্রায়।

বিশাল একটা দিন আজ। ১২ই সেপ্টেম্বর। প্রোগ্রামারস’ ডে।

আমাদের প্রতিটা মুহূর্তকে এগিয়ে নিতে এই প্রোগ্রামারদের অবদান আমরা জানি সবাই। সামান্য লিফটের বাটন থেকে শুরু করে প্রতিটা রিমোট কনট্রোল, হাতের মুঠোফোন থেকে টিভি, জীবনরক্ষাকারী সব মেডিকেল ইকুইপমেণ্টের পেছনে রয়েছে শত থেকে হাজার লাইনের কোড। আমাদের এই মুঠোফোনের অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিষ্টেমেই আছে দেড় কোটি লাইনের কোড। আর সেকারণে যন্ত্রটা যেকোন মানুষ থেকে ভালো চেনে আমাদের। আমাদের ভালোমন্দ – পছন্দ অপছন্দ জানে অনেকটাই। জানবে আরো বেশি। সামনে। কারণ একটাই। জিনিসটা আমাদের সাহায্যকারী একটা অংশ।

সৃষ্টিকর্তা তার গুণগুলোকে অল্প অল্প করে দিয়েছেন মানুষকে। এর মধ্যে ‘জিনিস তৈরি’ করার ক্ষমতাটা অতুলনীয়। উদ্ভাবন করার ক্ষমতা। সেইগুণ দিয়ে অনেকটাই অজেয় হয়ে উঠছে মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে প্রোগ্রামিংয়ে কিছুটা এক্সপোজড থাকার কারণে ভবিষ্যত দেখার ‘ছোটখাট একটা উইনডো’ তৈরি হয় আমাদের সামনে। তাও সবসময় নয়, মাঝে মধ্যে। খেয়াল করলে দেখবেন, মানুষ নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবার অনেক ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছে যন্ত্রের হাতে। আমিও চাই তাই। কয়েকটা লিফটের মধ্যে কোনটা ‘কতো তলায় থাকার সময়’ কোন কলে আপনার কাছে আসবে সেটাতো ছাড়িনি লিফটম্যানের হাতে। ‘লিফটম্যান’ বলে অপমান করা হয়েছে মানুষকে। আমাদের অনেক ‘অনেক’ কাজ রয়েছে সামনে।

চেয়ে দেখুন, সামান্য ড্রাইভিং থেকে শুরু করে বড় বড় উড়ুক্কযান চলে গেছে অটো-পাইলটে। সামনে আরো যাবে। সোজা হিসেব। মানুষ দেখেছে, একটা সীমার মধ্যে বেশ কয়েকটা সিদ্ধান্তের ভেতরে “কী প্রেক্ষিতে কে কী করবে” সেটা আগে থেকে ঠিক করে দিলে যন্ত্র কাজটা করে নির্ভুলভাবে। মানুষের মধ্যে অনেক ‘বায়াসিং’ বিভ্রান্ত করলেও যন্ত্র সেটা করে ঠিক করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় কিছু নয় কিন্তু। মানুষের ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিষ্টেম’কে ওয়ার্কফ্লোতে ফেলে যন্ত্রকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে বাড়তি কিছু জিনিস। তেমনি এই মানুষেরই তৈরি ‘সুপারভাইজড লার্নিং’ দিয়ে নিজের কাজের ফীডব্যাক নিয়ে শিখছে নতুন নতুন জিনিস। মানুষকে চিনতে। আরো ভালোভাবে।

মানুষ এখনো অসহায় – অনেক কিছুর কাছে। জলোচ্ছাস, ভূমিকম্প, আর হাজারো রোগ আসবে সামনে। এগুলো ঠেলেই এগুতে হবে – আরো অনেক। সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে জ্ঞান দিয়েছেন ‘এক্সপ্লোর’ করতে। জানতে। যেতে হবে লাইট ইয়ার্স দূরের নতুন নতুন গ্রহাণুপুঞ্জে। যদি জানতাম আমরা, সৃষ্টিকর্তা কী অভূতপূর্ব জিনিস ছড়িয়ে রেখেছেন নক্ষত্রপুঞ্জে। আর সেকারণেই অফলোড করতে হবে আরো অনেক সময়ক্ষেপণকারী ‘সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা’। আমাদের সহায়তাকারী যন্ত্রের কাছে। দরকার কোটি কোটি … কোটি লাইন লেখার ‘উদ্ভাবনাশক্তি’ সম্পন্ন প্রোগ্রামার। সামনের দিনগুলোতে। যন্ত্রকে শিখিয়ে দেবার জন্য। ওর পর, শিখিয়ে দেয়া হবে মানুষের ভেতরের ‘সুপারভাইজড লার্নিং’ সিকোয়েন্স। যন্ত্রকে। যাতে, ও নিজে থেকেই লিখতে পারে কোড।

মানুষের কাজ অন্যকিছু। সেটা বের করবে এই মানুষই।

মোদ্দা কথা, যন্ত্রকে ভয় নেই। মানুষই মাত্রই ‘চিন্তা’ করতে পারে। যন্ত্র নয়। সৃষ্টিকর্তাই মানুষকে তৈরি করেছেন ওই সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারা দিয়ে। তাকে খুঁজতে। জানতে তাকে। আরো ভালোভাবে।

যেতে হবে বহুদূর।

ঈদ মুবারক।

[ক্রমশ:]

গড গেভ মি ইউ

God gave me you for the ups and downs
God gave me you for the days of doubt
And for when I think I lost my way
There are no words here left to say, it’s true
God gave me you

– Blake Shelton

ব্লেক শেলটনকে ভালো লাগার শুরুটা অনেক আগে থেকেই। প্রথম অ্যালবামটা অতটা না টানলেও পরেরগুলো মন ভালো করে দিচ্ছিলো আস্তে আস্তে। গলা সুন্দর। ভরাট। যুক্তরাষ্ট্রের সাদার্ন সাইডে থাকার বড় সুবিধা ছিলো একটাই। শত শত কান্ট্রি স্টেশন। রেডিও এয়ারপ্লে মানেই ‘কান্ট্রি ওয়েস্টার্ন’ আর ‘ক্রস-ওভার’। ক্লাসিক কান্ট্রি নয়। সময়ের সাথে মনও গেছে পাল্টে। ক্লাসিক টানে না আর।

‘ক্রস-ওভার’ হচ্ছে পপ আর কান্ট্রি’র মিশ্রণ। অন্যদের কেমন লাগে সেটা অতটা না জানলেও নিজের ভালো লাগে বলে সই। ব্লেকের সাথে পুরোনো রোমান্স ফিরে এলো ওর ২০১১এর অ্যালবামটা শুনতে গিয়ে। নামটাও অদ্ভুত। তবে সুন্দর। রেড রিভার ব্লূ। মজার কথা হচ্ছে আমার ছেলের পছন্দ কেমন করে জানি মিলে গেছে একটা গানে। আমার সাথে।

সুন্দর গান একটা। না শুনলে বোঝাতে পারবো না কী মিস করছেন আপনারা। ‘গড গেভ মি ইউ’ গানটার পেছনের গল্পটা আরো সুন্দর। যতদূর মনে পড়ে, এটা লিখেছিলেন ডেভ বার্নস বলে আরেকজন ‘ক্রিশ্চিয়ান’ ঘরানার গায়ক। ঠিক তাই। ডেভ বার্নস। গানটা লিখেছিলেন তার স্ত্রী’র কথা মনে করে। নতুন গায়ক হিসেবে জীবনের উঁচু নিচু রাস্তায় চলতে গিয়ে স্ত্রী’র পুরো সময়ের সাপোর্ট তাকে ভাবাচ্ছিল অনেকদিন ধরেই। শেষে একদিন লণ্ডনের রাস্তায় চলতে চলতে মনে এলো এর লাইনগুলো। সত্যিই তাই। গানের প্রতিটা পরতে পরতে ফুটে উঠেছে কৃতজ্ঞতা।

তবে, আর্টিস্টদের স্ত্রী’রা দজ্জাল হয় বেশি। সেটার আবার বেশীরভাগ হয় ওই মানুষটার কারণে। ভক্তদের ছোঁক ছোঁক করার কারণে হয়তোবা। ট্রেন্ড দেখলে বোঝা যায় ব্যাপারটা। ফিরে আসি হাঁটার প্রসঙ্গে। যতো লেখক আছেন, তাদের মাথায় সব আইডিয়া ঢোকে হাঁটতে হাঁটতে। কেউ হাঁটে রাস্তায়। কেউবা পার্কে। সব কিন্তু বাইরেই। বিশ্বাস হচ্ছে না? বড় বড় লেখকদের তাদের লেখা নিয়ে জানতে চাইলে হাঁটার কথাই বলেন।

বার্নসের গানটা প্রভাবিত করে শেলটনকে। গানটার কারণেই মিরাণ্ডা ল্যামবার্টকে প্রস্তাব দেন এই গায়ক। গার্লফ্রেণ্ড ল্যামবার্টকে চিনবেন সবাই। কান্ট্রি’র আরেক উজ্জল ‘নক্ষত্র’ গায়িকা। পিস্তল অ্যানিজ’এর তিনজনের একজন। তাদের বিয়ের আগের রাতের ফুটেজটা জুড়ে দেয়া আছে সেলটনের এই মিউজিক ভিডিওতে। মিরান্ডাকে এই বিয়েটাকে নিয়ে অনেক আশাবাদী হবার কথা শোনা গিয়েছিলো অনেকগুলো ‘গসিপ’ ম্যাগাজিনে। শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেনি তারা। একসাথে।

‘কোরা’র গল্প

But my favorite is the one I read once in a magazine or book whose name I can’t remember: there’s a house in a prairie, it’s dark outside and a violent storm is raging. Inside it’s bright and warm. Somebody opens a window and a bird flies in, crosses the room and flies out the other window, back into the night.

We’re this bird.

– Roberto Motta

০১.

মন ভালো না থাকলে লিখি। আলতু ফালতু। মনে যা আসে। ‘আ গ্রেট এস্কেপ ফ্রম ডিফিকাল্ট ওয়ার্ল্ড।’ কে কী বললো সেটা কেয়ার করলে সেটাও হতো না হয়তো। আমার ওয়াল, আমার জিনিস। আর ‘ওয়াল’ তো এলো অনেক পরে। আগে তো ছিলো ব্লগ। প্রথম ব্লগ পোস্টটা ছিলো দুহাজারে। আছে এখনো। আগেরগুলো হারিয়ে গেছে ওয়েব্যাক মেশিনে। ঠিক বলেছেন। ওটাই হচ্ছে আমাদের মানে প্রস্তরযুগের মানুষদের ‘ইন্টারনেট’ আর্কাইভ।

০২.

ফেসবুক নয়, বরং ‘কোরা’তে অ্যাডিক্ট আমি। নেই কোন ফ্রেণ্ডের ঝামেলা। কে যেন হুমকি দিলো, ‘রেকোয়েস্ট অ্যাক্সেপ্ট না করলে খুলে দেবো লুঙ্গি’। বললাম, ‘ভাই ওটা পরি না যে? কি হপে এখন?’ উত্তর যা আসলো সেটা অলেখ্য। এখন ম্যাসেঞ্জার খুলি না ভয়ে। ‘কোরা’ই ভালো।

০৩.

হাজারো প্রশ্ন করে মানুষ। প্রতিদিন। উত্তর পড়ে তারও বেশি। ব্যাপারটা অনেক ফুলফিলিং। মানুষ লেখে কম্যুনিকেট করতে। ইণ্টেলেকচুয়াল গ্রিডের সাপ্লাই বলেন অনেক। যাই হোক, অনেকে শুধুই পড়ে। উত্তরগুলো। যেমন আমি। বেশিরভাগ নিজেরই প্রশ্ন। অন্য কেউ করেছে। এই যা! মাথায় অদৃশ্য আলোর ঝিকিমিকি করে ওই সময়টাতে। বুঝি, অনেকের জন্য হয়তোবা ‘কমপ্লিট ওয়েস্ট অফ ইফোর্ট’।

০৪.

একজন লিখলো, আমার বেড়াল ভেগে গেছে পাশের বাড়ির বেড়ালীর সাথে। কী করবো? পুলিশে যাব? উত্তরও আসলো আরো অনেক বেগে। অনেকের অভিযোগ একই। বরং গুরুতর অভিযোগ এলো আরো কিছু। এক্সের সাথে চলে গেছে নিজের বেড়াল। ফ্রী কান্ট্রি। যে যার সাথে যাবে স্বেচ্ছায়। প্রাপ্তবয়স্ক বেড়াল বলে কথা। আর মতামত লেখার সময় ‘নো ক্যাট ওয়াজ হার্মড’।

০৫.

জীবনের ‘পারপাজ’ নিয়ে প্রশ্ন হয় অনেক। ওগুলো আরো মজার। পড়লে পাল্টে যায় জীবনের পার্সপেক্টিভ। উন্নত দেশগুলো কেন উন্নত সেটার কিছুটা আভাস পাওয়া যায় ওখানে। ‘মিনিমালিস্ট লিভিং’ নিয়ে পড়ছিলাম কিছুদিন। সুখী হবার অনেক উপকরণ নিয়ে আলোচনা শুনলে মুগ্ধ হতে বাধ্য। ‘হায়ার লিভিং’, মানুষ কী করলে অমরত্ব পেতে পারে সেটা নিয়েও অনেক আলাপ হয় ওখানে। আসল কথা, মানুষের মনের গভীরের অনেক অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এই মর্তের মানুষ।

০৬.

হাই-টেক উত্তর আসে ওই ইনডাস্ট্রির মাথাগুলো থেকে। নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কী ধরনের ব্যবসা এখন জনপ্রিয় সেটাও বলছেন অনেক বাঘা বাঘা লোকেরা। কোন ব্যবসা টিকবে আর কোনটা নয় সেটা ভালো বোঝা যায় ওখানে গেলে। দেশকে উন্নতির শিখরে নেবার অনেক উত্তরও লিখছে মানুষ। বছর ধরে। মানুষের মন কতো ক্রিয়েটিভ হতে পারে সেটা বোঝা যায় কোরা’তে গেলে।

[ক্রমশ:]

কোরা’র কন্সালট্যান্ট দরকার হলে যোগাযোগ করতে পারেন এখানে। ওহ, আচ্ছা। না। কোরা’র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এখনো নিয়োগ দেয়নি ওরা। দেবে হয়তোবা। অসম্ভব কিছু নয় এযুগে।

#wideangle-rh

** শুনছিলাম: অ্যাশলী মনরো’র ‘দ্য ব্লেড’। ওই গানের ইনফ্লুয়েন্সে খারাপ হয়েছে লেখা। না শুনলে ভালো হতো আরো।

০১.

সত্যি বলতে – পছন্দ হয়নি প্রথম দেখাতে। মানে টিভিতে। পরে রোলিং স্টোনের সাইটে। ব্লণ্ডদের নিয়ে অনেক জোকস আছে, মনে হলো ওটাতেও পড়ে না সে। বেশবাসে বেশ খোলামেলা। চোখ সরিয়ে নিতে হয় মাঝে মধ্যে। বুঝি, কালচারাল ইস্যু। আগে দেখতাম প্রচুর মিউজিক ভিডিও। কমিয়ে দিয়েছি সেটা। এখন গানটা ভালো লাগলেই দেখি ভিডিওটা। ‘প্রোভাইডেড’, যদি থাকে।

০২.

পরের দেখাটা হলো অস্টিন সিটি লিমিটসের একটা প্রোগ্রামে। সত্যিকারের মিউজিক দেখা যায় ওখানে। লাইভে। আর কিছু না হলেও এই প্রোগ্রামটা দেখি নিয়ম করে। বাংলাদেশে থাকলেও মিস হয়না খুব একটা। এইচডি স্ট্রীমিং আছে কী করতে? সময়টা বেকায়দা হলেও সমস্যা হয়না খুব একটা। রেকর্ডে চলে যায় লাইভ প্রোগ্রামটা। লিনাক্স স্ক্রিপ্টিং আছে কী করতে?

০৩.

ওই অস্টিন সিটি লিমিটসে এসেছিলেন ‘ডন হেনলি’। নতুন অ্যালবামের সাথে পুরোনো কয়েকটা গান গেয়ে মাত করে ফেললেন ভেন্যুটা। এর মধ্যেই তিনি ডেকে আনলেন আরো কয়েকজন গানের গুরুকে। ট্রিশা ইয়ারউড, মার্টিনা ম্যাকব্রাইড। এরপর এলো সে। আগের মতোই কিছুটা খোলামেলা। ডুয়েটের গানটা কিছুটা ‘ব্লু-গ্র্যাস’ হলেও ভালোই মনে হলো আমার। তবে মন কাড়েনি অতোটা।

০৪.

প্রচুর গান শুনেছি একসময়। বিয়ের আগে। ধরুন, গড়ে ছয় ঘণ্টা দিনে। কাজ করছি, পেছনে চলছে কিছু একটা। লো ভলিউমে। সবাই যখন কিনলো টিভি, আপগ্রেড করলাম পুরানো অ্যাম্পটাকে। ওই ব্যাচেলর সময়টাতে। এখন শুনি সিলেক্টিভ কিছুটা। গড়ে দু-তিন ঘণ্টা করে হয়তোবা। যেটাই করি না কেন, একটা অভ্যাস পাল্টেনি এখনো। যখন শুনি, শুনি একটা অ্যালবাম ধরে। একটা অ্যালবামই চড়ানো থাকে মাস ধরে।

০৫.

যেমন এখন আছে ‘দ্য ব্লেড’টা। মনে হলো অনেকদিন ধরেই শুনিনি এরকম কিছু। মজার কথা, অর্ধেক গানই রেডিও ফ্রেণ্ডলী। মন টানতে বাধ্য। মনে হয় আকাশে উড়ছি। হ্যান্ড গ্লাইডারের মতো পাতলা কিছুতে। চোখ বন্ধ হয়ে আসে এমনিতেই। গানের কম্পোজিশনে ‘মেলানকোলি’র আভাস বেশ গাঢ়। বাবাকে মিস করছে বোধহয়। উনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার তেরোতে।

০৬.

আরেক মজার কথা হচ্ছে এটার প্রোডিউসার হচ্ছেন মহারথী ‘ভিন্স গিল’। তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে ওই ‘ভালো না’ লাগাটা কেটে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। প্রথম দেখার সেই ইম্প্রেশনটাও উবে যাচ্ছে মনের অজান্তে। মাথার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে মেয়েটা। কিভাবে জানি। এখন মনে হচ্ছে ‘ইফ লাভ ওয়াজ ফেয়ার’ গানটা দিয়ে।

[ক্রমশ:]

আজকে আবার কিসের দিন? মানে, এই তেইশে অগাস্ট। অনেকে লিখেছেন আজকে।

হ্যাঁ, ইন্টারনেট ডে। বলেছেন কেউ কেউ।

হুম। সেটাতো অক্টোবরের উনত্রিশে।

তাই তো! ওহো বুঝেছি। তাহলে ‘ইন্টারনট ডে’। নট? মানে খট খট?

সেটা আবার কী?

এটা একটা শব্দের যৌগ। ‘বিশাল’ আর ‘আকার’ যোগ করে হয় বিশালাকার। ওরকম আরকি।

বুঝলাম। তাহলে ‘নট’ আসলো কোথা থেকে?

ওটা এসেছে ‘অ্যাস্ট্রোনাট’ থেকে। ইন্টারনেট থেকে ‘ইন্টার’ আর অ্যাস্ট্রোনাটের  ‘নট’।

নট কেন? হবে তো নাট? আপনার প্রশ্ন।

আসলে ‘নাট’ বললে এসে যায় অন্যকিছু। মানুষ রাগলে বলে ওই কথা। তাই বাদ সেটা।

মানুষ সারাজীবনই অভিযাত্রী। ভুল বলেছি? পৃথিবী চষে বেড়িয়েছে মানুষ। সত্যের খোঁজে। নতুন কিছু জানতে। উল্টে পাল্টে দেখেছে পৃথিবী। এরপর গিয়েছে চাঁদে। তারপর? আরো, আরো দূরে।

আসলেই তাই! ইন্টারনেট মানুষকে নিয়ে গেছে অনেক অনেক দূরে। জ্ঞান পিপাসার্ত মানুষ বশে নিয়ে এসেছে প্রযুক্তিকে। অভিযাত্রীর মতো সত্যের খোঁজে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করছে এই মানুষ। নিমিষেই চলে যাচ্ছে পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। সেজন্যই এসেছে ‘অ্যাস্ট্রোনাট’ শব্দটা।

০৬ আগস্ট। ১৯৯১ সাল। টিম বারনার্স লী পোস্ট দিলেন নিউজগ্রুপে। বরাবরের মতো। তবে এটা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ নিয়ে একটা প্রজেক্ট নিয়ে। ওহো, বলাই হয়নি ব্যাপারটা। ‘নিউজগ্রুপ’ ছিলো আমাদের মানে প্রস্তরযুগের ফেসবূক। মতামত জানতে সবাই ধারস্ত হতো এই নিউজগ্রুপে। ছিলোও হাজার হাজার গ্রুপ। একেক বিষয় নিয়ে একেকটা গ্রুপ। আমার প্রিয়টা ছিল শর্টওয়েভ নিয়ে।

তবে, ‘ওয়েব’ নয় সেটা। আলাদা অ্যাপ্লিকেশন। ‘এনএনটিপি’। আর উনার গ্রুপটার নাম ছিল অল্ট॰হাইপারটেক্সট!

আজকের দিন মানে ২৩ আগস্ট। খুলে দেয়া হয় সবচেয়ে প্রথম ওয়েবসাইটটা। সবার জন্য।

আর এখন?

ইন্টারনেটের সবচেয়ে ‘সবচেয়ে’ জনপ্রিয় জিনিস হচ্ছে এই ওয়েব। আমাদের মতো টেকি(!) লোকদের ভাষায় এটা ‘পোর্ট ৮০’। ‘এইচটিটিপি’। যে যাই বলুক জিনিস কিন্তু একটাই।

সত্যিই তাই। এজন্যই আজকের দিন হচ্ছে ওই ‘ইন্টারনট ডে’!

Learn to get in touch with the silence within yourself, and know that everything in life has purpose. There are no mistakes, no coincidences, all events are blessings given to us to learn from.

– Elisabeth Kubler-Ross, the author “On Death and Dying”

বইটার নাম দেখেই নাক সিটকেছিলাম বোধহয়। না হলে কিনলাম না কেন? আটানব্বইয়ের কথা। ‘চিকেন স্যুপ ফর দ্য সৌল।’ ‘ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড’ অর্থে গেলে হয় ‘আত্মার জন্য মুরগীর ঝোল’। বলে কী? এই বই কিনে পয়সা নষ্ট করার মানুষ না আমি।

দশ বছর পরের কথা। বুদ্ধিশুদ্ধি হয়েছে আরো। এবার যেতে হলো ওয়েস্ট কোস্টে। ‘সানি’ সান-ফ্রান্সিসকোতে। উঠলাম একটা পারিবারিক ধরনের হোটেলে। মানে, নিজের বড় বাসাকে পাল্টে নিয়েছে একেকটা গেস্টরুম ধরে। বুড়ো-বুড়ি মাথার ওপর থেকে চালালেও ব্যবসাটার খুঁটিনাটি সবকিছু বড় মেয়ের হাতে। আমার থেকে কিছুটা ছোট হবে। হোটেল ব্যবসায় যতোটুকু আন্তরিক হওয়া উচিত তার থেকেও বেশি আন্তরিক ছিলো মেয়েটা। বিশেষ করে এশিয়ানদের প্রতি। সে গল্প আরেকদিন।

সকালের বিনিপয়সার ব্রেকফাস্ট করতে যেতে হতো একটা বড় হলওয়ে দিয়ে। মজার কথা হচ্ছে পুরো হলওয়ের দুপাশটা অনেকগুলো বইয়ের ‘শেলফ’ দিয়ে ভর্তি। হাজারো বই। তার চেয়ে ভালো লাগতো ওই বইগুলোর গন্ধ। সকালের কফি, মাফিন আর বেকনের গন্ধ ছাপিয়ে বইয়ের গন্ধ খারাপ লাগতো না মোটেই।

আচ্ছা, ড্যাফনি – কিছু বই নিতে পারি রুমে? সন্ধার পর বেশ কিছু সময় নষ্ট হয় এমনিতেই। তোমাদের টিভি’র চ্যানেল মাত্র কয়েকটা।

ভাঙ্গাচোরা হলেও দুটো পয়েন্ট দাড়া করিয়েছি বলে শান্তি শান্তি লাগছিল মনে।

চোখ মটকালো মেয়েটা। মনে হচ্ছে হলিউড ফেল। ফেল তো হবেই। আমরা তো হলিউড স্টেটে। ব্লণ্ডদের নামে যে দুর্ণাম সেটাও উতরে যাচ্ছে সে।

ওমা! টিভি দেখবে কোন দুঃখে? আমাদের নাইটলাইফ পৃথিবী সেরা! তুমি চাইলেই পরিচয় করিয়ে দিতে পারি আমার কিছু বন্ধুবান্ধবীদের সাথে। ফোন দেবো ওদের?

এ আবার কী বিপদ ডেকে আনছি এই সকালে! মিনমিন করে কয়েকটা বই চাইতে যেয়ে এ বিপদে পড়বো জানলে ওমুখো হয় কী কেউ? শেষমেষ হাতে পায়ে ধরে রক্ষা পেলাম ওর বন্ধুদের হাত থেকে। নাইটক্লাবে গেলে ডেজিগনেটেড ড্রাইভার হিসেবে ফ্রী সোডাটাই যা লাভ।

এই ড্যাফনি’র হাত ধরে আবার এলো ‘চিকেন স্যুপ ফর দ্য সৌল’ সিরিজের দুটো বই। আমার নেয়া কয়েকটা বইয়ের মধ্যে কিছুটা জোর করেই ঢুকিয়ে দিলো বই দুটো। কথা না বাড়িয়ে বইগুলো নিলাম ওর হাত থেকে। দিন কয়েক পর এক উইকেন্ডে বন্ধুর বাসায় দাওয়াতে যেতে হলো আমাকে। ট্রেনে যেতে যেতে কী পড়বো বলে মনে হতে নিয়ে নিলাম ওই দুটো বই।

প্রথম গল্পেই ঝাপসা হয়ে গেল চোখ। জীবনের ‘ডার্কেষ্ট আওয়ার’গুলোতে সাধারণ মানুষগুলোর অসাধারণ গল্পগুলো পড়তে পড়তে মনটা ভিজে রইলো পুরো সময়টা ধরে। ছোট্ট ছোট্ট সত্যিকারের গল্প। আসলেই, খুব সুন্দর করে লেখা। চিকেন স্যুপ যেমন করে পেটের জন্য সহনীয়, গল্পগুলোও তাই। মনের জন্য।

ট্রেন স্টেশনে এসেছিল বন্ধু আমাকে নেবার জন্য। ও ঠিক ধরে ফেললো ব্যাপারটা। ক্যাডেট কলেজ থেকে দেখছে না আমাকে? হাতের বইটা হিন্ট দিয়েছে হয়তোবা। মজার কথা, ওই সিরিজের বেশ কয়েকটা বই বের হলো ওর বাসা থেকেও। সেই থেকে জ্যাক ক্যানফিল্ডের বিশাল ভক্ত আমি।

‘চিকেন স্যুপ ফর দ্য সৌল’ সিরিজের প্রথম দিকের একটা গল্প হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা একজন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে। ঠিক ধরেছেন, উনি হচ্ছেন আব্রাহাম লিন্কন। অধ্যবসায় মানে ‘নাছোড়বান্দাভাবে জিনিস চালিয়ে’ নেবার ব্যাপারটা মনে হয় এসেছে উনার কাছ থেকে। আরেক রবার্ট ব্রূস। চরম দারিদ্র থেকে উঠে আসা এই মানুষটা সারা জীবন বিফলতা ছাড়া কিছু দেখেননি বলে আমার ধারনা। তার জীবনের টাইমলাইন কিন্তু তাই বলে।

আট আটটা ইলেকশনে হারলে ওই পথ আর মাড়ায় কেউ? দুবার ব্যবসা করতে গিয়ে খুইয়েছিলেন সব। বিয়ের পর হারান তার প্রিয়তমাকে। আরো কয়েকটা বিপদে পড়ে বড় ধরনের নার্ভাস ব্রেকডাউন হয় তার। বিছানায় পড়ে ছিলেন ছয়মাস। চাকরি হারান কয়েকবার। কিন্তু হাল ছাড়েননি কখনো। আর সেই লেগে থাকাই তাকে নিয়ে গেছে সর্বোচ্চ জায়গায়। আর ওই বিফলতা তাকে শিখিয়েছে নম্র আর বিশাল হতে।

[ক্রমশ:]

The hungrier one becomes, the clearer one’s mind works— also the more sensitive one becomes to the odors of food.

George S. Clason, The Richest Man in Babylon

ইন্টারনেট নিয়ে আমার কৌতুহল ওই অফলাইন ইন্টারনেট থেকে। নব্বইয়ের সেই “ওয়াইল্ডক্যাট” বুলেটিন বোর্ড সার্ভিস টানে এখনো। অফলাইন পুশ-পুল এফটিপি, এনএনটিপি পোর্ট দিয়ে নিউজ সার্ভিস – দৃক, প্রদেষ্টা, কাইফনেট সব অনেক অনেক আগের জিনিস। একটা কমোডোর ১২৮ নিয়ে খোঁচাখুচির ফল যা হয় আরকি! একটা জিনিস খেয়াল করতাম, ইউইউসিপি (ইউনিক্স টু ইউনিক্স) প্রটোকল দিয়েও সবাই কানেক্ট করতো কাছাকাছি প্রোভাইডারদেরকে। এরপর এলো আসল ইন্টারনেট, আমাদের সব ডাটা যেতো গোটা পৃথিবী জুড়ে। মানে – যুক্তরাষ্ট্র হয়ে!

সেটাও অনেক অনেক দিন। এরপর ঘুরতো সিঙ্গাপুর হয়ে। এখন?

স্যানোগ-৪ ই হবে হয়তোবা, ২০০৫ এর কথা। সুমন ভাইয়ের কাছ থেকে পেয়েছিলাম কিছু ডকুমেন্ট। যেটা বেশি টেনেছিলো – ‘আই-এক্স’, ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ নামের একটা গল্প। তখন কী জানতাম বিটিআরসিতে পোস্টিং হবে ওর দুবছর পর? “আই-আই-জি”, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে লাইসেন্সে অনেকটা মারামারি করে করে ঢুকিয়েছিলাম ‘এক্সচেঞ্জ’ ব্যাপারটা। সুমন ভাইয়ের সাহায্য নিয়ে।

সেটা কাগজে ঢুকলেও বাস্তবে আনতে কষ্ট হচ্ছিলো অনেক। মানে, আই-আই-জি’রা সবাই ডাটা পিয়ারিং করবে দেশের ভেতর। একটা ব্যাপার ঠিক। এটা কিছুটা ব্যবসায়িক স্বার্থেই চলে। জোরাজুরির কিছু নেই। লাইসেন্সিং দরকার নেই। ‘বিডিআইএক্স’ হলো। আইএসপিদের কল্যাণে। মোবাইল অপারেটররা কানেক্ট করছিলো না। নন-লাইসেন্সিং এনটিটিতে কানেক্ট করে কী না কী হয়? এক সময় সেটারও লাইসেন্স এলো।

এখন দেশের ভেতরেই থাকছে প্রচুর ডাটা। বড় বড় ডাউনলোড সার্ভারগুলো ‘ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ’ হয়ে যাচ্ছে একেকটা আইএসপিতে। লাভ অনেক। আইএসপিদের বিদেশী ‘আইপি ট্রানজিট’ কিনতে হচ্ছে কম। আসল কথা হচ্ছে দেশে হোস্টিং বেশি হলে একসময় অন্যদেশ ‘আইপি ট্রানজিট’ কিনবে আমাদের থেকে। ওটা অনেক পরে হলেও একসময় করতে হবে। ব্যালান্স করতে হবে না ট্রাফিক? ধরুন, বিদেশ থেকে কিনলেন ৩০ জিবিপিএস। ওরা যদি সমপরিমাণ নেয় আমাদের থেকে – তাহলে সেটা হবে “সেটলমেন্ট ফ্রী”। কেউ কাউকে পয়সা দেবে না। মানেও হয় না।

অনেক অনেক আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটা গ্রামে থাকার সময় ব্যবহার করতাম ‘ডিএসএল’ সার্ভিস। বেসিক ফোনের সাথে এসেছিলো ওটা। একবার ফোনে সমস্যা হলো, কিন্তু ‘ডিএসএল’ ডাউন হয়নি কখনোই! এখন তো ফোনের ওই কপারলাইন দিয়ে গিগাবিট ইথারনেটও চলছে অনেক জায়গায়। সেটা আরেকদিন!

বিটিসিএলএর ডিএসএল সার্ভিস নিলাম কয়েকদিন আগে। ওর আগে পাড়ার আইএসপি ছিলো বাসায়। পাড়ার আইএসপি’র সার্ভিস ছিলো রকেটের মতো। ‘গুগল ক্যাশে’ ইঞ্জিন থেকে শুরু করে ডাউনলোড সার্ভার, কী নেই তাদের! অনেকের বাসা পর্যন্ত ফাইবার টেনেছে তারা। বিদ্যুত্‍ চমকালেও যাবে না রাউটার। নতুন ‘ডিএসএল’ নেবার পরও ডাউনলোড ম্যানেজারে পুরানো আইএসপি’র একটা লিংক রয়ে গিয়েছিলো কোনো একটা কারণে। পিসি চালু করতেই লিংকটা মুছতে গিয়ে দেখলাম ঢাকা থেকে ঢাকার ওই দুই কিলোমিটার দূরত্বের ট্রাফিক ঘুরে আসছে ওই বিদেশ থেকে। মানে, এখনো যেতে হবে অনেকদূর!

আমার বাসা থেকে দুই আইএসপি’র ট্রাফিকের রাউটিং। এর থেকেও অনেক অনেক কমপ্লেক্স রাউটিং আছে অনেক জায়গায়। আমার কথা একটাই। দেশের ট্রাফিক বিদেশী ডলারের কেনা “আইপি ট্রানজিট” দিয়ে গেলে দাম বাড়বে বৈকি।  ইন্টারনেটের।

[এটা একটা উদাহরণ, কাউকে উদ্দেশ্য করে নয়, আমরাও শিখছি প্রতিদিন]

1 5 ms 3 ms 2 ms Routing.Home.Inside [192.168.x.x]
2 1615 ms 1675 ms 2003 ms 123.49.x.x
3 1920 ms 1534 ms 1852 ms 123.49.13.x
4 931 ms 995 ms 892 ms 44.44.44.2 [এটা যাচ্ছে স্যান-দিয়াগো, অ্যামেচার রেডিও]
5 1399 ms 1458 ms 1571 ms 123.49.13.82
6 1400 ms 701 ms 729 ms 123.49.1.14 [বিটিসিএলের মধ্যেই অনেকগুলো হপ]
7 1062 ms 1115 ms 1189 ms 121-1-130-114.mango.com.bd [114.130.1.121]
8 1562 ms 1555 ms 1466 ms aes-static-133.195.22.125.airtel.in [125.22.195.133]
9 1456 ms 1536 ms 1591 ms 182.79.222.249 [ভারতে যেয়ে ঘুরে আসছে ট্রাফিক]
10 1878 ms * 1009 ms aes-static-118.1.22.125.airtel.in [125.22.1.118]
11 1479 ms 1605 ms 1444 ms 103-9-112-1.aamratechnologies.com [103.9.112.54]
12 1007 ms 1611 ms 1727 ms 103-9-112-1.aamratechnologies.com [103.9.113.130]
13 1619 ms 1596 ms 1810 ms 103.x.x.x
14 1774 ms 1058 ms 1222 ms x.x.82.x
15 1373 ms 1423 ms 1410 ms site1.myoldisp.com [x.x.28.x]

[ক্রমশ:]

%d bloggers like this: