Feeds:
Posts
Comments

The best time to plant a tree was 20 years ago. The second best time is now.

– Chinese Proverb

ক॰

সমস্যাটার শুরু প্রায় এক দশক আগে। ছুটাছুটির চাকরি। আজ এখানে তো কাল ওখানে। শেষমেষ ‘পীস কীপার’ হিসেবে পোস্টিং হলো কঙ্গোতে। ঘুরাঘুরিই বেশি। ঘুমের সময় ছাড়া বাকিটা হিসেব করলে – পুরোটাই রাস্তায়। নিজ দ্বায়িত্বের এলাকা, যাকে বলে ‘এরিয়া অফ রেস্পন্সিবিলিটি’ – ইঞ্চি ইঞ্চি করে না জানলে বিপদ। মানুষের জীবন বলে কথা। পুরো এলাকা থাকতে হবে নিজের নখদর্পণে। কন্সট্যান্ট ভিজিল্যান্স। পায়ে হাটা অথবা গাড়ি – পায়ের মাইলোমিটারে লাখ মাইল পার হয়েছে নিশ্চিত।

খ॰

রাস্তায় নামলেই হাজার চিন্তা কিলবিল করে মাথায়। একটা এদিকে হলে আরেকটা ওদিকে। মাথা মুন্ডু ছাড়া চিন্তাভাবনা। দিন কয়েক পর বেস ক্যাম্পে ফিরলে বসতাম ইউএন এর কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট নিয়ে। সভ্যতার সাথে একমাত্র ‘ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ’ – ওই স্যাটেলাইট লিংক। একসময়, প্লট করতে শুরু করলাম চিন্তাগুলোকে। ‘চ্যানেলাইজ’ করতে তো হবে কোথাও। একেকটা চিন্তা একেকটা ডট। কানেক্টিং দ্য ডট’স ব্যাপারটা বুঝলাম অনেক পরে। চল্লিশের আগে নাকি ব্যাপারটা আসে না মাথায়?

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

গ॰

আগের ঘটনা আরো চমত্‍প্রদ। কঙ্গোতে যাবার ঠিক আগ মূহুর্তে ফিরেছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিগন্যাল স্কুল থেকে। থাকতে হয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য। প্রায় নব্বই বর্গ মাইলের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেলিকম্যুনিকেশন ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। যায়গাটাও জর্জিয়ার একটা অজ পাঁড়া গাঁয়ে। সন্ধার পর কুপি জ্বলার মতো অবস্থা। স্কূল থেকে ফিরে কাজ না পেয়ে হাত দিলাম রান্নায়। কাঁহাতক আর খাওয়া যায় ফাস্ট ফুড! পিএক্স থেকে এটা কিনি, ওটা কিনি। বাসায় এসে ভয়াবহ ধরনের ‘টেস্ট এণ্ড ট্রায়াল’। অসুবিধা কি? গিনীপিগ তো নিজে। ক্ষান্ত দিলাম স্মোক ডিটেক্টরের পানির ঝাপটা খেয়ে। বার কয়েক। তবে, একেবারে ক্ষান্ত নয়, কমিয়ে দিলাম গতি। মনোযোগ সরালাম নতুন দিকে।

ঘ॰

বিশাল লাইব্রেরী। এটা ওটা ইস্যু করি, টাইম লিমিটও অসহনীয় লম্বা। পুরনো পত্রিকা, দুস্প্রাপ্য বই সব মাইক্রোফিশেএকদম নতুন বই লাইব্রেরীতে না থাকলেও সেটা কিনে এনে চেকআউট করিয়ে রাখতেন লাইব্রেরিয়ান। আমাজনের বেস্টসেলার লিস্ট দেখা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেলো ওই সময়ে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ‘বেস্টসেলার’গুলো লিখছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ। মানে, পেশাদার লেখক নন তারা। সাহস পেলাম। যাই লিখি, পাঠক পেতেই হবে বলেছে কে? মনের খোরাক মেটানোর জন্য লেখা। ওই বিরানব্বই থেকে। সেথ গোডিংয়ের গলা শুনি প্রায়ই। শিপ, বাডি! শিপ!

ঙ॰

দেখা গেলো ওই ‘বেস্টসেলার’দের কেউ ছিলেন স্টক এক্সচেঞ্জের হর্তাকর্তা, কেউ সিআইয়ের চীফ। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। সরকারী কর্মকর্তা। নেভী সীল। ফুটবল কোচ। জিমন্যাষ্ট। তারা লিখছেন পেছনের অনেকগুলো বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে। ব্যর্থতা থেকে সফলতার গল্প। যা আসলে সাহায্য করছে ওই পড়ুয়া মানুষদের। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। বিতর্কিত জিনিস নিয়ে যে লেখা হয়নি তা নয়। লিখেছেন রেচেল মোরানের মতো পেশাজীবীরা। মানে – লেখা হয়েছে প্রায় সব বিষয় নিয়ে। বের হয়ে এসেছে অনেক সমস্যার কথা। সেই ভুল থেকেও শিখছে দেশ। সমালোচনা নিতে পারার মানসিকতার দেশগুলো ওপরে উঠছে দ্রুত। আবার লিখছেন জাতির পিতারা। আজকের ‘আধুনিক’ সিঙ্গাপুরের পেছনে যিনি ছিলেন তারো বই আছে কয়েকটা। নেলসন ম্যানডেলা’র বইটা পড়েছেন নিশ্চয়। সাতাশ বছরের অবিচারের ঘৃণাটা মূহুর্তে গিলে ফেলার ঘটনাটা অজানাই থাকতো বইটা না পড়লে। পড়ছি সবই, বুঝতে পারছি ভালো মন্দ। মন্দটা ফেলে ভালো নিয়ে এগুচ্ছি সবাই আমরা, সময়ের বিবর্তনে। অন্যের কাছ থেকে শিখে। পেছনে লেগে নয়।

চ॰

জ্ঞান কিন্তু রি-ইউজেবল। ব্রিটেনের লেগেছে দুশো বছর প্রায়। শুধু শিখতেই। শিল্পবিপ্লব থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিখেছে ব্রিটেন থেকে। তাদের লোক পাঠিয়ে। নোটবই ভরে নিয়ে আসতো তাদের অভিজ্ঞতার কথা। জাহাজে করে। সেটা কাজে লাগিয়ে ওই ব্রিটেনের সাথে টক্কর দিয়েছে অনেক কম সময়ে। ‘লীড টাইম’ কমিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় একশো বছর। এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই শেখার চর্চাটা ধরে রেখেছে বলে তারা এখনো শীর্ষে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শত বিপত্তির মধ্যে উদ্ভাবনা দিয়ে আছে টিকে। নিজেদের দেশে মানুষ কম বলে বাইরের বাজার দখলে ব্যস্ত তারা। এখন বোকারাই বলে যুদ্ধের কথা, বাজার দখলে কে কাকে বাজার বানাতে পারে সেটাই হচ্ছে বড় যুদ্ধ। রক্তপাত ছাড়াই ‘আউটবাউন্ড’ ক্যাশফ্লো!

ছ॰

এশিয়ান দেশগুলো আরো বুদ্ধিমান। ইউরোপ আর অ্যামেরিকা থেকে শিখে সেটা কাজে লাগিয়েছে গত তিরিশ বছরে। এখন টক্কর দিচ্ছে সবার সাথে। হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অন্যের ‘ঠেকে শেখা’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়েছে বেশি। পাশ্চাত্যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা করেনি সেটা জানলেই তো হলো! তার সাথে মেশাও ‘লোকাল কন্ডিশন’। আমি এটাকে বলি, ‘ঘুটা’, মানে জ্ঞানের ডিফিউশন। মেলাও হাজারো জ্ঞানের অভিজ্ঞতা। গরীব দেশ হলেও কোন সরকারী কর্মকর্তাকে তো মানা করা হয়না বৈদেশিক ভ্রমনে না যেতে। অথচ কর্পোরেট হাউসে কৃচ্ছতা সাধনে প্রায় সবই চলছে ভিডিও কনফেরেন্সে। দেশের একটাই চাওয়া, শিখে আসা জ্ঞানটা কাজে লাগবে দেশের উন্নতিতে। প্রাথমিক জ্ঞানটা পাবার পর বাকিটা শেখার বাহন হচ্ছে ইন্টারনেট। আর সেকারণে ইন্টারনেট নিয়ে লাগা। জ্ঞান ছড়িয়ে আছে সব যায়গায়, দরকার তার প্রয়োগ।

ঝ॰

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেলেন জ্ঞান ‘ক’। এদিকে সিংগাপুর দিলো ‘খ’ জ্ঞান, ভিয়েতনাম থেকে নিয়ে এলেন ‘গ’। এখন – আমাদের স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্ডিকেটরের সাথে মিলিয়ে যেটা যখন কাজে লাগে সেটাই ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অনেকে এটাকে বলে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। মানে, যেটা কাজ করেছে অনেক যায়গায়। ‘ওয়েল টেস্টেড’। টেস্ট পেপার সলিউশনের মতো কিছুটা। দেখা গেছে – ওভাবে কাজটা করলে জিনিসটা মার যাবার সম্ভাবনা কম। টেস্ট এণ্ড ট্রায়ালের পর ফুলপ্রুফ হয়েই নাম হয়েছে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। দেশের ‘লোকাল কন্ডিশন’কে বেস্ট প্র্যাকটিসে ঘুঁটানোতেই রয়েছে মুন্সিয়ানা। ইন্টারনেটকে ছড়িয়ে দেবার ওই ধরনের ‘টেম্পলেট’ নিয়ে কাজ করেছি গত সাত সাতটা বছর।

ঞ॰

মনে আছে বৈজ্ঞানিক নিউটনের কথা? ‘আমি যদি আজ বেশি দেখে থাকি অন্যদের চেয়ে, সেটা পেরেছি পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের ভিত্তিতে’। উন্নতবিশ্বের আজকের যা উন্নতি তার সবটাই এসেছে ওই ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস’ কথাটার ওপর ভিত্তি করে। আজ জানি আমরা ট্রানজিস্টর কি – আর কিভাবে কোটি ট্রানজিস্টর থাকে একটা চিপসেটে। নতুন করে ওই ট্রাংজিস্টর উদ্ভাবন না করে বরং কোটি ট্রাংজিস্টরের চিপসেট দিয়ে আর কি কি করা যায় সেটাই ভাববার বিষয়। আর তাই আগের জ্ঞানের ‘ডিফিউশন’ দিয়ে নতুন উদ্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ওপরে উঠছে নতুন ইমার্জিং দেশগুলো। এটাকে বলা হয় লিপ-ফ্রগিং।

য॰

সামরিক বাহিনীর স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার বিটিআরসিতে আসা। টেকনোলজি নিয়ে একসময় লিখতাম কিছু পত্রপত্রিকায়। শুরুতেই ঝামেলা। ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট – নতুন যাই লিখি সেটা নিয়ে মাথা নাড়াচ্ছিলেন অনেকেই।

“ভালো, তবে সমস্যা অন্যখানে। এটা সম্ভব নয় এদেশে।”

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

বলেন কি? অবাক হয়ে তাকাই উনাদের দিকে। নীতিমালায় আটকানো আছে জিনিসগুলো। মানে আমরা আটকে আছি আমাদের জালে। জিনিসপত্র না জানার ফলে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। যুক্ত থাকার হাজার সুবিধার মূলে হচ্ছে মানুষের মুক্তি। সেটা প্রথমে আসবে অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে, জ্ঞান দেবে আমাদের প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা। সোশ্যাল মিডিয়ার বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করেছিলাম একটা এজেন্সিতে বসে। যুক্ত থাকার ফলে আজ যা দেখছেন, এটা আইসবার্গের ছোট্ট একটা টিপ। আরব বসন্ত, একটা উপসর্গ মাত্র। পালটাচ্ছে পৃথিবী, পাল্টাবো আমরাও। ভালোর দিকে। দরকার ইন্টারনেটের মতো কিছু টুলস।


The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

― Mark Twain

র॰

বইগুলো লিখছি কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে। বিটিআরসির সাত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে ঘোরার অন্তর্জালা থেকে মুক্তি পেতে এ ব্যবস্থা। নোটবই সেনাবাহিনীতে পোশাকের অঙ্গ হবার ফলে মিস করিনি খুব একটা। জিম রনের অমোঘ ‘নেভার ট্রাস্ট ইয়োর মেমরী’ বাণীটা খুব একটা বিচ্যুতি আনতে পারেনি ‘নোট টেকিং’য়ে। এখন যুগ হচ্ছে ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোটে’র। হাতির স্মৃতি বলে কথা – মাটিতে পড়ে না কিছুই। দেশ বিদেশের ফোরাম, যেখানে গিয়েছি বা যাইনি – হাজির করেছি তথ্য। টুকেছি সময় পেলেই। ভরে যাচ্ছিলো নোটবই। ‘এভারনোট’ আর ‘কীপের’ ভয়েস মেমোতে। পয়েন্ট আকারে। প্রোগ্রামিংয়ের মতো পয়েন্টারগুলো লিংক করা ছিলো মাথায়। ভুলে যাবার আগেই বইগুলোর ব্যবস্থা।

ল॰

আরেকটা সমস্যা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে – ওই ছোটবেলা থেকে। কোন জিনিস ধরলে সেটার শেষ না দেখলে ঘুম আসে না আমার। বিশাল বিপদ। আগে ভাবতাম সমস্যাটা আমার একার। ভুল ভাঙ্গলো দুনিয়া দেখতে দেখতে। ইনডাস্ট্রিতে একই অবস্থা। একেকটা রিসার্চ, সফল না হওয়া পর্যন্ত পড়ে আছে মাটি কামড়ে। মনে আছে, হেনরী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার তৈরির কথা? এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো। বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারটাও তৈরি হয়েছে কয়েকটা জেদি মানুষের জন্য। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে উজাড় করে দিয়েছেন তার জ্ঞানকে। বাকিটা আমাদের পালা।

শ॰

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজার বারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজারবারের ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজারটা স্টেপ।

ষ॰

টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় ভাসা ভাসা কাজের উপযোগিতা কম। রেগুলেশনেও একই অবস্থা। দরকার স্পেশালাইজেশন – বাজার বুঝতে। ঢুকতে হবে ভেতরে, অনেক ভেতরে। পুরোটাই অর্থনীতিবিদদের কাজ। ভবিষ্যত না দেখতে পারলে এ ব্যবস্যায় টিকে থাকা কঠিন। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর জাহাবাজ লোকেরাও মাঝে মধ্যে অত ভেতরে ঢুকতে পারেন না। স্পেশালাইজেশন বলে কথা। সেখানেই আসে টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং কোম্পানিগুলো। ওদের কাজ একটাই, আর এন্ড ডি, সারাবছর ধরে। আবার সেই কনসাল্টিং ফার্ম একই ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছে সব টেলিযোগাযোগ কোম্পানির জন্য। স্পেশালাইজড না হয়ে যাবেই বা কোথায় তারা? আর সেই সল্যুশনের জন্য মিলিয়ন ডলারের নিচে কথা বলেন না কেউই। আর বলবেন নাই বা কেন? এধরনের আর এন্ড ডির জন্য কম কষ্ট করতে হয়না তাদেরকে। প্রচুর রিপোর্ট পড়েছি এই কনসাল্টিং ফার্মগুলোর। রিপোর্টতো নয় যেনো হাতের রেখা পড়ছেন। ভবিষ্যত দেখা যায় রীতিমত। মিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং বলে কথা। টার্গেট দিন এক কোটি কর্মসংস্থানের। তৈরি করে দেবো প্রায়োগিক ফর্মুলা। হতে বাধ্য। জানতে হয় ভবিষ্যত দেখতে। বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি খানিকটা।

ট॰

তাই বলে সব কনসাল্টিং ফার্ম এক নয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, কনসাল্টিং ফার্মের দোষ না দেখে যিনি কাজ দিয়ে বুঝে নেবার কথা – তার কম্পিটেন্সিতে ঘাটতি থাকলে রিপোর্ট খারাপ হতেই পারে। আমি কিনছি রিপোর্ট, না বুঝে কিনলে কনসাল্টিং ফার্মের দোষ দিয়ে লাভ কি? গরীবদেশগুলোতে প্রচুর কনসালটেন্সি হয় বটে, তবে সে দেশগুলো সেগুলো ঠিক মতো বুঝে নেবার সামর্থ বা জ্ঞান থাকে না বলেই ঝামেলা হয়। ডোনারদের টাকায় কনসাল্টেন্সি হলে সেটার অবস্থা হয় অন্য রকম। রিপোর্ট নিজের মনে করে বুঝে নিতে পারলে সেটার দাম মিলিয়ন ডলারের বেশি। সে ধরনের রিপোর্ট বুঝে নিয়েছিলাম বেশ কয়েকটা। পোস্ট-ডক করা যাবে কয়েকটা।

ঠ॰

কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হলো বিশ্বখ্যাত অনেকগুলো টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং ফার্মের সাথে। এর সাথে যোগ হলো ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আর কমনওয়েলথ টেলিকম্যুনিকেশন অর্গানাইজেশনের (সিটিও) আরো অনেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্ট। ধারণা পেলাম তাদের কাজের। পড়তে থাকলাম আরো হাজারো রিপোর্ট। দামী সব রিপোর্ট, তবে তার দাম কোনো কোনো দেশ বা এজেন্সি দিয়ে দিয়েছে আগেই। পরিচয় হলো ওভাম, অ্যাকসেন্চার, কেপিএমজি, পিডাব্লিউসি, নেরা আর এনালাইসিস ম্যাসনের মতো তুখোড় তুখোড় ফার্মের সাথে। আবার নিজের প্রতিষ্ঠানেরই কাজ করতে পরিচয় হলো মার্কিন ফার্ম টেলিকমিউনিকেশনস ম্যানেজমেন্ট গ্রূপ, ইনকর্পোরেশন (টিএমজি)র সাথে। তাদের ধরনটাই বুঝতে সময় লেগেছিলো বেশ। তলই পাচ্ছিলাম না প্রথমে। বিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং কোম্পানি বলে কথা। পরিচয় হলো অনেকের সাথে। বন্ধুত্ব হলো অনেকের সাথে। হাতে ধরে দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ‘ফল্ট-লাইন’গুলো।

ড॰

একসময় তল পেলাম এই ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ফার্মগুলোর কাজের ধারার। পৃথিবী জুড়ে কাজ করার ফলে কোথায় কি সমস্যা সেটা তারা জানে ভালো। আর সেটা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেয়া ওদের একমাত্র কাজ বলে ওটাও সে জানে ‘অসম্ভব’ ভালো। গরীব দেশগুলোতে হাজার কোটি টাকার ম্যানেজমেন্ট কন্সাল্টেনসি করে টাকা বানালেও সেটার ব্যর্থতার দায় দেয়া যাবে না তাদের ওপর। ওই দেশের – যাদের ‘কন্সাল্টেনসি’টা বুঝে নেবার কথা তারা ‘ছাড়’ দিলে কাজ হবে কিভাবে? উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাড়াতাড়ি ওপরে উঠতে হলে লাগবে কন্সাল্টেনসি, তবে সেটা ‘পাই’ ‘পাই’ করে বুঝে নেবার মতো থাকতে হবে মানুষ। দু চারটা বৈদেশিক ভ্রমণে ব্যাপারটা উপেক্ষিত হলে জ্ঞান আর প্রজ্ঞাটা হারায় দেশ।

ঢ॰

ব্যাপারটা অনেকটা বিজনেস প্ল্যান কেনার মতো। ও আমাকে বানিয়ে দিলো একটা। না বুঝে দিয়ে দেবো পয়সা? সমস্যা হয় যখন সেটা হয় ‘সরকারী’ মানে জনগণের পয়সা। একারণে উন্নতদেশগুলো ছোট করে নিয়ে আসছে সরকারগুলোকে। যাই হয় সব পার্টনারশীপে। যারাই থাইল্যান্ড গিয়েছেন মুগ্ধ হয়েছেন তারা – বিশাল বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার দেখে। বেশিরভাগ ইনফ্রাস্ট্রাকচারই কিন্তু পিপিপি’র মডেলে করা। সরকারের অতো পয়সা থাকে না কোথাও। পিপিপি হচ্ছে গিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ। পয়সা যোগান দেবে বেসরকারী কোম্পানি – কাগজ দেবে সরকার, আইনগত ভিত্তি সহ। ‘উইন’ ‘উইন’ ব্যাপার। পয়সা লাগলো না সরকারের। কর্মসংস্থানও হলো। আমাদের পিপিপি নীতিমালা তৈরী হয়নি এখনো।


There is no ‘poor’ country, they are ‘poorly’ managed.

― Slightly modified

ণ॰

উন্নত দেশগুলোতে অনেক বড় বড় কাজে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না জনগণ। কারণ এই পিপিপি। যেকোনো দেশের উন্নতির ইনডিকেটর বোঝা যায় ওদেশের পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেম দেখে। মানে জনগন কতো সহজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারছেন – নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। ঢাকা শহরে সেটার অবস্থা আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেও খারাপ। অথচ ব্যবস্যা বান্ধব পিপিপি নীতিমালা থাকলে প্রাইভেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিতে পারতো সরকারের কাছে। তৈরী করতো ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’। ভাগ করে ফেলতো পুরো শহর – চার পাঁচ ভাগে। একেকটা ভাগের রুট নিয়ে দেন-দরবার করতো কনসেশন পিরিয়ডটা নিয়ে। এই রুটটা দাও আমাকে পঞ্চাশ বছরের জন্য। তৈরী করবো স্কাই ট্রেন। ইনফ্লেশন হিসেব ধরে ভাড়ার একটা চার্ট জমা দিতো সরকারকে।

স॰

সফটওয়্যারের মানুষ হিসেবে শূন্য ভার্সন থেকে শুরুতে বিশ্বাসী আমি। শুরু করতে হবে কোথাও। নিউটনের কথায় ফিরে আসবো আবার। ষ্টান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস। আমাদেরও এগুতে হবে পূর্বসূরীর অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে। গাছ রোপণ করার কথা ছিল বিশ বছর আগে। সেটা না হলে কি থাকবো বসে? বরং – লাগাবো আজই। বাংলাদেশের ‘যুক্ত’ হবার এজেন্সিতে চাকরি করার সুবাদে গরীব দেশ আমার ওপর যা ইনভেস্ট করেছে সেটা ফিরিয়ে দেবার জন্য নিয়েছি নগণ্য একটা প্রয়াস। নাম দিয়েছি প্রজেক্ট ‘গিভিং ব্যাক’। ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার ‘চিটকোড’ হিসেবে ধরুন ব্যাপারটাকে। ব্রডব্যান্ডে সফল দেশগুলোর ধারণা নিয়ে ‘আমাদের আঙ্গিকে’ কোডটাকে ‘ক্র্যাক’ করতে চেষ্টা করেছি মাত্র। আর, পয়সার জন্য ওর সাথে থাকবে ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ফান্ড। আর এসপিভিলাগবে এটাও

দরকার আপনার সুচিন্তিত মতামত। ওই মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাঠামোগত পরিবর্তন আনবো বইগুলোতে।

প্রি-প্রোডাকশন স্টেজ: কাজ চলছে এখনো

প্রথম বই: ইন্টারনেটের মুল্যঃ যে কারনে এখনো ধরাছোয়ার বাইরে

দ্বিতীয় বই: বাতাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দক্ষ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা পাল্টে দিতে পারে বাংলাদেশকে

তৃতীয় বই: রেগুলেট অর নট টু রেগুলেট? চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেটর ও বাংলাদেশ

* লিংকগুলো যুক্ত করা হয়েছে কয়েকটা ব্লগপোস্টের সাথে। পুরো বইগুলো আসবে আস্তে আস্তে – প্রিন্টে।


০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সাশান্দ্রা, আইভরি কোস্ট

Quis Custodiet Ipsos Custodes. -> Who will watch the watchmen.

— Juvenal, circa 128 AD

২৬.

দেখা গেছে ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অক্ষরগুলো হচ্ছে ‘E’, ‘T’, ‘A’, ‘O’ আর ‘I’। পর্যায়ক্রমে। সবচেয়ে কম ব্যবহার হয় ‘Q’, ‘Z’ আর ‘X’। আবার ব্যাঞ্জনবর্ণের জোড়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলে ‘TH’। ঠিক বলেছি কিনা বলুন? আর স্বরবর্ণের জোড়া? ঠিক বলেছেন। ‘EA’। বাকীদের কথা বললে আসে OF, TO, IN, IT, IS, BE, AS, AT, SO, WE, HE, BY, OR, ON, DO, IF, ME, MY, UP অক্ষরজোড়ার কথা। রিপিটেড অক্ষরজোড়ার মধ্যে SS, EE, TT, FF, LL, MM and OO চলে বেশি। তিন অক্ষরের ভেতরে দেখলে THE, EST, FOR, AND, HIS, ENT, THA নাম আসে আগে। বেশি বলে ফেলছি নাকি? আমাদের হিসেব বলে – যদি গুপ্ত মেসেজে অক্ষর ‘E’ এর পর ‘T’ বারংবার মানে বেশীরভাগ সময়ে আসে তাহলে সেটা ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারের মেসেজ নয়। সেটা বরং ‘স্থান-বিনিময়’ মানে ট্রান্সপজিশন সাইফার। ওমা, এটা আবার এলো কোথা থেকে?

২৭.

‘স্থান-বিনিময়’ সাইফারটা কি? গল্প নিয়ে আসি বরং! বাসার প্লাস্টিকের পানির পাইপ যোগাড় করুন – এক ফুট লম্বা। পেন্সিল হলে হবে, তবে সেটা কিছুটা ছোট হয়ে যাবে আমাদের কাজের জন্য। পাইপের ওপর দড়ি যেভাবে পেচিয়ে পেচিয়ে এগোয় সেভাবে স্কচ টেপ পেচান। স্কচ টেপ না থাকলে ওধরনের ‘চিকন করে কাটা’ কাগজও পেচাতে পারেন। পেচানোর পর এর ওপর দিয়ে কলম দিয়ে লিখুন আপনার মেসেজ। লেখার পর খুলে ফেলুন কাগজটা। এরপর পাঠিয়ে দিন বন্ধুর কাছে। বন্ধু যদি ওই একই ব্যাসার্ধের পাইপ নিয়ে একই ভাবে পেচান, তাহলেই রক্ষা। মানে, পড়তে পারবেন মেসেজটা। কাগজটা পুরোপুরি খুলে ফেললে হযবরল হয়ে যাবে অক্ষরগুলো। আগের মতো করে না পেচালে দুর্বোধ্যই থেকে যাবে মেসেজটা। অক্ষরের এই ‘স্থান-বিনিময়’এর জন্যই এর নাম ‘ট্রান্সপজিশন’ সাইফার। অনেক সময় এই মেসেজ লিখতে পারেন ‘কলাম’ ধরে। একেকটা অক্ষর একেকটা কলাম। পরে পাল্টে দিলেন কলাম ঘরগুলো।

২৮.

মজার কথা হচ্ছে এই ‘ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালিসিস’ ধরতে পারে অনেক গল্প। কোন ভাষা, সেটাও ধরতে পারে এই অ্যানালিসিস। এই ইংরেজি অক্ষর দিয়েই ভাষা আছে অনেকগুলো। ধারণাই করতে পারবেন না – এই রোমান আর ল্যাটিন অক্ষর ব্যবহার হয় কতো ভাষায়! পুরো মেসেজে যদি একটা অক্ষর ২০%এর বেশি আসে, তাহলে সেটা ‘জার্মান’ হবার সম্ভাবনা বেশি। জানেন তো জার্মানে ‘E’ অক্ষরের ব্যবহার অনেক অনেক লম্বা। ইটালিয়ান হলে তিন অক্ষরের আধিক্য ১০% এরও বেশি। ‘নয় অক্ষরে’র ফ্রিকোয়েন্সিও কম নয়। ক্রিপ্টগ্রাফার কাজও কিন্তু যায় বেড়ে। ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারে অনেক সময় লম্বা মেসেজ হলে ভালো। বড় হলে প্যাটার্ন ধরা যায় সহজে। কয়েকবার এক জিনিস আসলে যা প্রথমে ধারনা করেছিলাম সেটা পোক্ত হয় বেশি। ছোট মেসেজে ধারনা করতে হয় বেশি। এক অক্ষরের ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারে ‘A’ আর ‘I’ ছাড়া অন্য কিছু আসার কথা নয়। দুটোই বসিয়ে দেখতে হবে কোনটাতে মেসেজটা অর্থবহ হয়। তাই বড় মেসেজে সুবিধা বেশি।

[ক্রমশ:]

It is oviously an attempt to convey secret information.

– Sherlock Holmes (“The Valley of Fear”)

২৩.

আমাদের জানামতে প্রথম সাইফার শুরু হয় খ্রিস্টজন্মেরও আটান্ন বছর আগে। প্রচলিত আছে যে সম্রাট জুলিয়াস সিজার ব্যাপারটা শুরু করেন তার সামরিক বাহিনীর ভেতর। তার কমান্ড স্ট্রাকচারের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এটাই ছিলো সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা। কাজের ধরণ দেখে অনেকে এর নাম করেন ‘শিফট’ মানে ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফার। ইতিহাসের সবচেয়ে সরল ‘এনক্রিপশন’ মেকানিজম এটা। ইংরেজিতেই উদাহরণ টানি বরং। মনে করুন, চিঠি লিখলেন বন্ধুকে। এসএমএসও হতে পারে। ইংরেজি শব্দ দিয়ে। বললেন, ‘MEET ME AT BOGA LAKE’। তবে কাগজে লেখার সময় সেটাকে বাম দিক থেকে তিন অক্ষর সরিয়ে সরিয়ে লিখবেন। ‘A’ অক্ষর বলতে চাইলে সেটা লিখবো ‘D’ হিসেবে। ‘B’ বোঝাতে চাইলে তিন অক্ষর সরিয়ে লিখবো অক্ষর ‘E’। বাম দিক থেকে তিন অক্ষরের ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারে মেসেজটা দাড়াবে ‘PHHN PH ERJD ODNH’। ডান দিক থেকে তেইশ অক্ষরের ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফারের মেসেজ হবে এটাই। ছাব্বিশটা শব্দ না ইংরেজিতে?

২৪.

আপনার বন্ধুর সাথে মেসেজ আদান প্রদানের চুক্তি ছিলো ছোটবেলা থেকেই। অ্যালগরিদমটাও সহজ। যা লিখবেন তিন অক্ষর ডানে মানে পেছনে নিয়ে পড়বেন মেসেজটা। এখন এই খোলা মেসেজ অন্যরা পেলে হিব্রু মনে হবে তাদের কাছে। দোকানে গেলে কি হয় এখনো? পাড়ার দোকানের কথা বলছিলাম আরকি! সুপারস্টোর নয়। দোকানদার প্রতিটা আইটেমের ওপর কাগজ দিয়ে কোড লিখে রাখে দামের। দাম কতো বললে কোড দেখে হিসেব করে দাম বলে। সেটাও ‘শিফট’ মানে ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফার। তবে সেটা সংখ্যা থেকে ইংরেজি অক্ষরের। ধরুন, 1234567890 সংখ্যাগুলোকে ইংরেজিতে নিজের মতো পাল্টে দেই MAKEPROFIT অক্ষর দিয়ে। একটা খেলনার ওপর ‘KPT’ থাকলে ওর দাম কতো হবে? ৩৫০ টাকা? তবে যে যাই বলুক এই ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফার ভালো কাজ দিয়েছে সম্রাট সিজারকে। হিসেব বলে, নয় দশকের আগে এটাকে ভাঙার কথা চিন্তা করেনি কেউ। এটা ভাঙা সম্ভব হয় যখন আরব বিশ্বের একজন নামকরা দার্শনিক, গাণিতিক আবিষ্কার করেন ‘ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালিসিস’ বলে একটা নতুন জিনিস। মজার জিনিস বটে!

২৫.

এই ‘সিজার সাইফার’ এক-সংখ্যাভিত্তিক সাইফার বলে এর দুর্বলতা ধরতে পারেন আবু আল-কিনদি। তাও আবার নবম শতাব্দীতে। ৯০০ বছর পরে! এর পারমুটেশন কম্বিনেশনে অক্ষরের সংখ্যা বেশি হলেও এর আসল ব্যবহৃত অক্ষর কম। একটা ইংরেজি অভিধান খুলে বসুন এখুনি। সব অক্ষর কি ব্যবহার হচ্ছে সমানভাবে? অবশ্যই না। একটা টেবিল দেখি বরং। ইংরেজি অক্ষরগুলো এই ভাষায় কিরকম ব্যবহার হয় সেটা ধরতে পারলে তো কেল্লা ফতে। একজন উত্‍সাহী ক্রিপ্টগ্রাফার ইচ্ছা করলেই ধরতে পারবেন ইংরেজিতে কোন অক্ষরগুলো বেশি ব্যবহার হয় অথবা কম। এটাকে বলি আমরা ‘ক্রিপ্ট-অ্যানালিসিস’। ধরুন, একটা মেসেজ লিখলেন ‘প্রতিস্থাপন’ সাইফার দিয়ে। আমি ছোট্ট একটা প্রোগ্রাম তৈরি করবো যা ওই গুপ্ত মেসেজের কোন কোন অক্ষর কতোবার ব্যবহার হয়েছে সেটা বের করবে। সোজা কিন্তু! তবে, এটার জন্য প্রোগ্রামও দরকার নেই, মেসেজ ছোট হলে – হাতে গুণে কাগজে লিখে রাখবো সামনে। এরপর গুপ্ত মেসেজটার একেকটা অক্ষর ধরে ধরে পাল্টে দেবো অভিধানে দেয়া সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অক্ষর দিয়ে। পর্যায়ক্রমে। তবে, মেশিনের মতো করে নয়।

[ক্রমশ:]

There is no security on this earth. There is only opportunity.

– General Douglas MacArthur

২০.

‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র অ্যালগরিদম নিয়ে কথা বলি বরং। ডাটাকে লুকানোর জন্য যা যা করা দরকার সেটা লেখা থাকবে এই অ্যালগরিদমে। এটা এক ধরনের ‘স্টেপ বাই স্টেপ ইন্সট্রাকশন সেট’ যা ঘুরালে হারিয়ে যাবে ডাটা। আবার ওটাকে উল্টাভাবে ব্যবহার করলে ‘চিচিংফাক’। মানে ডাটা হাজির। তবে সেটাকে জানতে হবে যারা লুকাবে আর খুলবে ওই দরকারী ডাটাটাকে। উদাহরণ নিয়ে আসি বরং। একটা লেখা পাঠাতে হবে দূরে। বাহক সেটা মানুষ অথবা ইন্টারনেট যাই হোক না কেন – আপত্তি থাকার কথা নয় কারো। লেখাটা ‘এনক্রিপ্ট’ করে পাঠানোর সময় অন্যের হাতে পড়লেও সমস্যা হচ্ছে না এমূহুর্তে। যার লেখাটা পাবার কথা নয়, সে সেটা পেলেও অ্যালগরিদম তো আর জানে না ওই লোক। ইমেইলে পাঠানোর সময় অন্যের হাতে পড়তে পারে ওই গুপ্ত লেখাটা। চাবি তো নেই আর তার কাছে। ছোট্ট একটা ‘অ্যালগরিদম’ তৈরি করি এখানে।

ধাপ – ১। লেখার সব ‘ক’ অক্ষরগুলো পাল্টে দিতে হবে সংখ্যা ‘৪’ দিয়ে। ধাপ – ২। লেখার ভেতরে সব ‘ব’ অক্ষর মুছে দিতে হবে ঢালাও ভাবে। ধাপ – ৩। লেখার শেষ দিক থেকে শুরু করে পুরো লেখাটা নতুন করে ‘রি-রাইট’ করতে হবে শুরু থেকে। (মানে, শেষ থেকে একটা একটা করে অক্ষর নিয়ে সেটাকে নতুন করে বসাতে হবে প্রথম দিক থেকে)

২১.

অনেক আগের একটা ধারনা দিয়ে শুরু করলাম আজ। তবে বর্তমান ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ এর থেকে হাজার কোটিগুণ শক্ত ‘অ্যালগরিদম’ দিয়ে বানানো। আপনার সামান্য জিমেইলই ব্যবহার করছে ওপেনএসএসএল, সিকিউরড সকেট লেয়ার, যা ভাঙা অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। ট্রান্সপোর্ট লেয়ার তো আরো শক্ত! তবে ওয়েব সার্ভিসগুলোর মধ্যে যারা ‘ডিফি-হেলম্যান’ অ্যালগরিদম ব্যবহার করছেন না, তাদের ছাড়া বাকীদের বেশীরভাগ ট্রাফিকই হাজারটা কম্পিউটিং রিসোর্স দিয়ে ‘ডিক্রিপ্ট’ করা সম্ভব যদি সার্ভারের ‘মাস্টার প্রাইভেট কী’ হাতে পায় কেউ। তবে সেটা পাওয়াও অসম্ভব ওই সার্ভার থেকে। তাহলে মানুষ পায় কিভাবে? ধরুন, এমন ঘটনা ঘটলো যেখানে মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তখন একটা কোর্ট অর্ডারই ওই কোম্পানীকে বাধ্য করে সার্ভারের ‘মাস্টার প্রাইভেট কী’ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাদের হাতে দিতে। তবে সেটাও এখন বিপদের মুখে।

২২.

মনে আছে এডওয়ার্ড স্নোডেনের ডকুমেন্টের কথা? ২০১৩ সালে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাওয়া ওই ডকুমেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনএসএ’র কাজ নিয়ে কথা ওঠায়। ‘ন্যাশন্যাল সিকিউরিটি এজেন্সি’ ওই তিরিশ দিনে প্রসেস করেছিল ১৮১,২৮০,৪৬৬টা ইমেইল রেকর্ড। এতে বিপদে পড়ে জিমেইল আর ইয়াহু কর্তৃপক্ষ। সবাই একে অপরের দোষারোপ করে স্টেটমেন্ট দেয় কাগজে। এর পরেই ‘এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি পাল্টায় গুগল। এখন প্রতিটা ইমেইল ‘এনক্রিপ্ট’ হয়ে যাওয়া আসা করে জিমেইল সার্ভার থেকে। ‘সিকিউরড এইচটিটিপি’ ব্যবহার করছে প্রথম থেকেই। তবে সেটা ‘কমপ্লিমেণ্টেড’ হলো আরো উন্নতর প্রযুক্তি দিয়ে। ফলে প্রতিটা সেশনের জন্য সে তৈরি করবে নতুন নতুন চাবি। আগে ‘এনক্রিপ্ট’ হতো গ্রাহক আর সার্ভারের মধ্যে যোগাযোগগুলো। নিজেদের ডাটাসেন্টারগুলোর মধ্যে যোগাযোগগুলোও ‘এনক্রিপ্ট’ করা শুরু করেছে সার্ভিস প্রোভাইডাররা। বিপদে পড়েছে এখন দেশগুলো।

তবে যে যাই করুক, সবকিছুর শুরু হচ্ছে ওই পুরানো সংখ্যা আর সম্ভাব্যতা মানে ‘প্রোবাবিলিটি’ তত্ত্বের ওপর।

[ক্রমশ:]

Net neutrality is the founding principle of the internet. It guarantees that all data packets are treated equally. This principle guarantees that the internet will remain diverse, innovative, and free. Telecoms companies want to change that. They want to establish new business models based on discrimination and restrictions. We cannot give up the economic and social value of the internet just to help a handful of companies to make more money.

Act now to tell your representatives to protect our rights and freedoms. The best way to do this is by calling a Member of the European Parliament (MEP). But you can also send them a Fax, a letter or an E-Mail – we provide you with all the information and calling them is free of charge.

– Statement from ‘SaveTheInternet.EU’

EU-save-the-internet১৪.

আমাদের মতো দেশে ‘সংযোগ বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করবেন সবাই। এই আমাকে। কথা ঠিক আপনার। বিনি পয়সায় দিলে ক্ষতি কি শুনি? নাই মামার থেকে কানা মামা তো ভালো, তাই না? সত্যি তাই। তবে, আসলে কি তাই? ‘জিরো ইন্টারনেট’ ব্যাপারটা বিভ্রান্তিকর। আমাদের বিশাল একটা শতাংশের মানুষ ভাবে, ফেসবুকই ইন্টারনেট। অথচ, ফেসবুকে সত্যের পাশাপাশি চলছে হাজারো গল্প। সত্যি কি সবই? হতাশ হই, বিশাল একটা জনগোষ্ঠী পড়ে আছে এই এক সাইটে। আমরা বড় হচ্ছি ফেসবূককে ‘ইন্টারনেট’ ভেবে। পুরো জনগোষ্ঠীর কতোটা সময় নষ্ট হচ্ছে একটা ফুলপ্রুফ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের অভাবে।

১৫.

কুপের মতো ব্যাপারটা। যা হয়তোবা আসল ইন্টারনেটের ‘শূন্য দশমিক’ কিছু শতাংশ হতে পারে। অথবা নামমাত্র আরো ২৮টা সাইট। বের হতে পারছে না ওই গন্ডি থেকে। সবার কথা একটাই, কয়েকটা সাইটকে এই ‘এক্সক্লুসিভ’ সুযোগ না দিয়ে সবাইকে দিন অ্যাক্সেস। আগের মতো। বরং চার্জ করুন একটা সহনীয় মাত্রায়। আমাদের মধ্যম আয়ের মানুষদের কথা মাথায় রেখে। আজ যা ইন্টারনেট গ্রাহক, তা তৈরি হয়েছে এই ‘অসহনীয়’ চার্জের ভেতরে থেকেই। কমিয়ে দিলে সুবিধা হয় সবার। ‘চ্যারিটি’ করতে বলছে না কেউ।

১৬.

এই ফাঁকে ছোট্ট একটা গল্প পাড়ি, কি বলেন? ‘আসল ইন্টারনেট’ কিন্তু ভয়াবহ রকমের বড়। আমরা যা দেখি, মানে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন যেগুলোকে খুঁজে পেতে নিয়ে আসে সেটাও কিন্তু আসল ইন্টারনেটের একটা ছোট্ট ছোট্ট ভগ্নাংশ। ওর একটা নাম আছে। ডীপ ওয়েব। ‘ডীপনেট’ বলেন অনেকে। আমরা বলি ‘অদৃশ্য’ অথবা ‘লুকানো’ ইন্টারনেট। সার্চ ইঞ্জিনকে মাছ ধরার জাল হিসেবে তুলনা করে পৃথিবীর সব সমুদ্রকে যেভাবে ছেঁকে আনা সম্ভব নয়, সেভাবে হাজারো জিনিস থেকে যায় আমাদের দৃষ্টির বাইরে। সিকিউরিটি স্পেশ্যালিস্টের মাথা ব্যাথা শুরু ওখানেই।

১৭.

এডওয়ার্ড স্নোডেনের কাগজ ঘাটলে পরিষ্কার হবে আরো। সার্চ ইঞ্জিনের মাতবরী ওই ‘সারফেস’ ওয়েব পর্যন্ত। আইসবার্গের চূড়াটাই হাতের নাগালে তাদের। আচ্ছা, ডীপ ওয়েব মানে ডার্ক ওয়েব – যা তৈরি হাজারো বেনামী নেটওয়ার্ক নিয়ে (ধরুন টর নেটওয়ার্ক, টেইলস, আইটুপি – যেটা নেটওয়ার্কের ভেতরের নেটওয়ার্ক … বেহুস হয়ে যাবার যোগাড়) – কতো বড় হতে পারে আমাদের ‘সারফেস’ ইন্টারনেট থেকে? অনেক আগের একটা এষ্টিমেশন থেকে জানা যায় ‘ডীপ ওয়েব’ নিদেনপক্ষে ৪০০ থেকে ৫৫০ গুণ বড়। তাও সেটা অনেক বছর আগের হিসেব। এখন যোগ হয়েছে আরো অনেক কিছু। ভয় ধরানো পেশা নয় আমার। ফিরে আসি – সাধারণ ইন্টারনেটের ‘অস্তিত্বে’র গল্প নিয়ে।

[ক্রমশ:]

In effect, they can become gatekeepers — able to handpick winners and the losers in the market and to favour their own sites, services and platforms over those of others. This would crowd out competition and snuff out innovative new services before they even see the light of day.

– Tim Berners Lee

save7১১.

ফ্রীডম অফ স্পীচ? কি হবে সেটার? বলেন ‘জিনিসপত্র’ যা ইচ্ছা, উত্তর দেবো কথায়। হাতাহাতি নয়। সমস্যা একটা যায়গায়। আমরা কেন জানি গুলিয়ে ফেলি ‘হেট স্পীচ’, ‘ফ্রীডম অফ স্পীচ’এর সাথে। খোঁচাখুচি করেন ভালো কথা, বিদ্বেষ নয়। ‘বিষেদগার’ অন্য জিনিস। আর সবার স্বাধীনতা আছে তার নিজ জিনিস নিয়ে। একটা ঘটনা বলি বরং। কয়েক দিন আগের কথা। পুরো ইন্টারনেট গরম এটা নিয়ে। উন্নত বিশ্বে মহিলারা যে কতো বেশি নিগৃহীত হন সেটার ঘটনা একটা। মহিলা টেলিভিশন রিপোর্টারদের নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছে জিনিসটা। গুগল করুন, ‘এফএইচআরআইটিপি’ দিয়ে। সঙ্গে ‘সিবিসি’ কীওয়ার্ড ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন তাহলে। শেষ ঘটনা ‘সিবিসি নিউজ’এর রিপোর্টার শ্যনা হান্টকে নিয়ে।

১২.

লাইভ রিপোর্টারদের চলন্ত ঘটনায় আর যাই হোক না কেন সেটাকে সপ্রতিভভাবে চালিয়ে নেয়ার প্রশিক্ষণ তাদেরকে কাবু না করলেও ব্যাপারটা রীতিমতো কষ্টের। ভিডিও দেখে মনে হলো সেটা। বিশেষ করে মহিলা রিপোর্টারদের। একটা খেলার পর দর্শকদের মতামত নিতে গিয়ে বিপদে পড়েন হান্ট। তবে তার সাহসের তারিফ করি। দর্শক তার ‘বাক স্বাধীনতা’ ব্যবহার করে যা ইচ্ছা তাই বললেও সেটা তার নেটওয়ার্ক ‘নিজস্ব স্বাধীনতা’ ব্যবহার করে ছেড়ে দেয় ইউটিউবে। বিতর্কের ঝড় ওঠে ওই ইউটিউব চ্যানেলে। সেটা ছড়িয়ে পড়ে ‘মেইন স্ট্রিম’ মিডিয়াতে।

১৩.

তারপরের ঘটনাটা আরো মজার। দর্শকদের চাকরিদাতা কোম্পানীও ‘নিজস্ব স্বাধীনতা’ ব্যবহার করে চাকরি খেয়েছে তাদের। একারণে আমার পছন্দ এই ইউটিউব। মানে, ইন্টারনেট। আপনার তথাকথিত ‘স্বাধীনতা’ ব্যবহার করলেই তো আর হবে না। আমারো তো রয়েছে ‘স্বাধীনতা’। আমার স্বাধীনতা এই ইন্টারনেট। আর তাই এই ‘জিরো ইন্টারনেট’ নিয়ে দিচ্ছি এতো গল্প। ইন্টারনেট হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‘ইকুয়ালাইজার’। দেয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফীল্ড’। ভাঙতে দেয়া যায় না একে। তাও আবার এই ‘জিরো ইন্টারনেট’ দিয়ে বৈষম্য তৈরি করে?

[ক্রমশ:]

You can fool some of the people all of the time, and all of the people some of the time, but you can not fool all of the people all of the time.

– Abraham Lincoln

save6০৯.

বুকে হাত দিয়ে বলুনতো আজ ‘ইউটিউব’ বা ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশী ইনকরপোরেটেড কোম্পানী হলে বছরে বন্ধ হতো কতো বার? কতো কনটেন্ট মুছে যেতো প্রতিদিন? আমার কথা একটাই। আপনার ভালো না লাগলে ওই সাইটে যাওয়া কেন বার বার? আর, ও মিথ্যে বললে কি উড়ে যাচ্ছে আপনার ‘ঠুনকো’ ইমেজ? ‘রেড লাইট এরিয়া’র মতো প্রতিটা ‘পর্নোসাইট’ বন্ধ করতে উঠে পড়ে লাগেনি পৃথিবী। সময়ের দাম আছে মানুষের। ‘নিষিদ্ধ’ কনটেন্টের সাইটে না যাবার জন্য নিজের ওপর ভরসা নেই কেন আমাদের? কেন সরকারকে বলা – ‘এটা ওইটা বন্ধ করেন’? রাস্তায় নামলেই দুর্ঘটনা হয় বলে ঘরে বসে থাকেন আপনি? আর, ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষ থাকবেই। সবার মত তো আর এক হবে না। তাহলে, অন্যের মুখ বন্ধ করতে যাওয়া কেন? ওতো আপনার বাড়া ভাতে ছাই ফেলেনি। আপনার মতের বিরুদ্ধে কথা বলেছে হয়তোবা। এই যা! আর – উত্তরে দাড়া করান আপনার মতামত। এমনও তো হতে পারে সে ঠিক। গ্যালিলিওকেও তো মিথ্যেবাদী বলেছিল মানুষ।

১০.

আর সেকারণে আমার ভয় এই ‘জিরো ইন্টারনেট’ নিয়ে। আজ যা জিরো, সামান্য গুটিকয়েকের জন্য, কাল আপনাকে তারাই ফেলে দিতে পারে ‘স্লো’ জোনে। পরশুদিন ‘নো জোন’। মানে, পাওয়া যাচ্ছে না আপনার সাইট – দেশ থেকে। ‘ইন্টারনেট’ বৈষম্য করেনি কখনো। বৈষম্য তৈরি করে না প্রযুক্তি, তৈরি করি আমরা। মানুষেরা। একে ওকে ‘শূন্য ট্যারিফ’ – আর বাকিদের নয়, সেটাই মূলনীতির বাইরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসি নিয়ে হাজারো গল্প থাকলেও দেশের ভেতরে এই ‘সহিষ্ণুতা’ তাদেরকে ‘মাতবরী’ করতে দেবে অনেক কটা বছর। সহিষ্ণুতা মানে ‘অন্যের মতামতকে নেবার ক্ষমতা’। কারণ – তারা জানে ভিন্ন মতের মাহত্ব। আর সেকারণে ওই দেশের ফাউন্ডিং ফাদাররা তৈরি করেছিলেন ‘বিল অফ রাইটস’ বলে একটা কাগজ। সাদামাটা কথা। দেখবেন নাকি পড়ে একবার? ওই ১৭৮৭ সালে থমাস জেফারসন কি বলেছিলেন মনে আছে কি? “[A] bill of rights is what the people are entitled to against every government on earth, general or particular, and what no just government should refuse.”

[ক্রমশ:]

There is one Internet. It must be fast, it must be robust, and it must be open. The prospect of a gatekeeper choosing winners and losers on the Internet is unacceptable.

– Tom Wheeler, Chairman – FCC

save5০৭.

ইন্টারনেটে সবকিছু আছে বলেই এখানে সহিষ্ণুতাটা লাগেও বেশি। নব্বইয়ের দিকে ‘ইউজনেট’ ব্যবহার করতে হতো আমাদের। যেকোন সমস্যার জন্য। বিশেষ করে ‘ইউনিক্স’ অপারেটিং সিষ্টেমটা নিয়ে কাজ করার সময়। আমরা জানি ‘সহিষ্ণুতা’র দাম কেমন। আর সেকারণে হাতে কলমে কাজ শিখিয়েছে ওই অপরিচিত ‘বন্ধুসুলভ’ মানুষগুলো। পৃথিবী চষে বেড়ানোর সময় দেখা হয়েছে তাদের অনেকের সাথে। তারা জানেন ইন্টারনেট তৈরি হয়েছে ওই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে। যারা ইন্টারনেট বোঝেন না তারাই সারাদিন আমাকে (বিটিআরসিতে থাকাকালীন) বলতেন এটা বন্ধ করেন, ওইটা বন্ধ করেন। অথবা, ‘ইউটিউব’ বন্ধ করতে এতো সময় নিচ্ছেন কেন? সত্যি বলতে, আমাদের নীতিনির্ধারণীতে বসে থাকা মানুষগুলোও বন্ধ করতে চাননা সবকিছু। জনপ্রতিনিধিরা থাকেন বিপদে। ‘অসম্ভব’ চাপ তৈরি করেন ‘ইন্টারনেট’ না বোঝা আশেপাশের মানুষজন। এই আমরাই। ‘সূর্যের চেয়ে বালি গরম’এর মতো ব্যাপারটা। ফেসবুকে আমাদের কমেন্ট দেখলে মনে হয় ‘শিষ্ঠাচার’ ১০১ কোর্স দরকার অনেকের। কেন জানি সমালোচনা নিতে পারিনা আমরা। তবে, আশাবাদী আমি। ‘সত্যিকারের শিক্ষা’র সাথে সাথে পাল্টাবে এই ট্রেন্ড।

০৮.

ধরুন, সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়েছেন আপনি। একা পেয়ে ‘বাঘমামা’ আঁচড় দিয়ে বসলো আপনাকে। ঢাকায় ফেরত্‍ এসে গরম হয়ে বললেন, আচড় দিলো কেন সে? প্রথম কথা হচ্ছে, আপনার ‘স্বাধীনতা’ নিয়ে ঢুকে গিয়েছিলেন গহীন বনে। বাঘমামা তার ‘স্বাধীনতা’ ব্যবহার করে আঁচড় দিয়ে দিয়েছে – এই যা! আগুন তো সবকিছু পুড়িয়ে দিতে পারলেও সেটাকে তো আর ‘ব্যান’ করেননি আপনার সুবিধার জন্য। হাজারো হ্যাকিংয়ের ঘটনা চলছে বিশ্ব জুড়ে, কই কেউ তো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নেই বসে। সেটাতো – চোরের ওপর রাগ করে মাটিতে বসে ভাত খাওয়ার মতো। ইন্টারনেটে কে কি বললো, সেটাকে আটকাতে যাওয়া কেন? রাস্তায় তো পাগলও অনেক কিছু বলে, সেটাকে ছাড় দিলে ইন্টারনেটকে নয় কেন? রেগুলেটর হিসেবে অনেক ব্যাপার নিয়ে ‘আলাপ’ করে মধ্যপন্থী অবস্থান নিয়েছিলাম আমার ওই সাত সাতটা বছরে।

[ক্রমশ:]

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 474 other followers

%d bloggers like this: