Feeds:
Posts
Comments

The best time to plant a tree was 20 years ago. The second best time is now.

– Chinese Proverb

ক॰

সমস্যাটার শুরু প্রায় এক দশক আগে। ছুটাছুটির চাকরি। আজ এখানে তো কাল ওখানে। শেষমেষ ‘পীস কীপার’ হিসেবে পোস্টিং হলো কঙ্গোতে। ঘুরাঘুরিই বেশি। ঘুমের সময় ছাড়া বাকিটা হিসেব করলে – পুরোটাই রাস্তায়। নিজ দ্বায়িত্বের এলাকা, যাকে বলে ‘এরিয়া অফ রেস্পন্সিবিলিটি’ – ইঞ্চি ইঞ্চি করে না জানলে বিপদ। মানুষের জীবন বলে কথা। পুরো এলাকা থাকতে হবে নিজের নখদর্পণে। কন্সট্যান্ট ভিজিল্যান্স। পায়ে হাটা অথবা গাড়ি – পায়ের মাইলোমিটারে লাখ মাইল পার হয়েছে নিশ্চিত।

খ॰

রাস্তায় নামলেই হাজার চিন্তা কিলবিল করে মাথায়। একটা এদিকে হলে আরেকটা ওদিকে। মাথা মুন্ডু ছাড়া চিন্তাভাবনা। দিন কয়েক পর বেস ক্যাম্পে ফিরলে বসতাম ইউএন এর কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট নিয়ে। সভ্যতার সাথে একমাত্র ‘ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ’ – ওই স্যাটেলাইট লিংক। একসময়, প্লট করতে শুরু করলাম চিন্তাগুলোকে। ‘চ্যানেলাইজ’ করতে তো হবে কোথাও। একেকটা চিন্তা একেকটা ডট। কানেক্টিং দ্য ডট’স ব্যাপারটা বুঝলাম অনেক পরে। চল্লিশের আগে নাকি ব্যাপারটা আসে না মাথায়?

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

গ॰

আগের ঘটনা আরো চমত্‍প্রদ। কঙ্গোতে যাবার ঠিক আগ মূহুর্তে ফিরেছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিগন্যাল স্কুল থেকে। থাকতে হয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য। প্রায় নব্বই বর্গ মাইলের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেলিকম্যুনিকেশন ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। যায়গাটাও জর্জিয়ার একটা অজ পাঁড়া গাঁয়ে। সন্ধার পর কুপি জ্বলার মতো অবস্থা। স্কূল থেকে ফিরে কাজ না পেয়ে হাত দিলাম রান্নায়। কাঁহাতক আর খাওয়া যায় ফাস্ট ফুড! পিএক্স থেকে এটা কিনি, ওটা কিনি। বাসায় এসে ভয়াবহ ধরনের ‘টেস্ট এণ্ড ট্রায়াল’। অসুবিধা কি? গিনীপিগ তো নিজে। ক্ষান্ত দিলাম স্মোক ডিটেক্টরের পানির ঝাপটা খেয়ে। বার কয়েক। তবে, একেবারে ক্ষান্ত নয়, কমিয়ে দিলাম গতি। মনোযোগ সরালাম নতুন দিকে।

ঘ॰

বিশাল লাইব্রেরী। এটা ওটা ইস্যু করি, টাইম লিমিটও অসহনীয় লম্বা। পুরনো পত্রিকা, দুস্প্রাপ্য বই সব মাইক্রোফিশেএকদম নতুন বই লাইব্রেরীতে না থাকলেও সেটা কিনে এনে চেকআউট করিয়ে রাখতেন লাইব্রেরিয়ান। আমাজনের বেস্টসেলার লিস্ট দেখা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেলো ওই সময়ে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ‘বেস্টসেলার’গুলো লিখছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ। মানে, পেশাদার লেখক নন তারা। সাহস পেলাম। যাই লিখি, পাঠক পেতেই হবে বলেছে কে? মনের খোরাক মেটানোর জন্য লেখা। ওই বিরানব্বই থেকে। সেথ গোডিংয়ের গলা শুনি প্রায়ই। শিপ, বাডি! শিপ!

ঙ॰

দেখা গেলো ওই ‘বেস্টসেলার’দের কেউ ছিলেন স্টক এক্সচেঞ্জের হর্তাকর্তা, কেউ সিআইয়ের চীফ। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। সরকারী কর্মকর্তা। নেভী সীল। ফুটবল কোচ। জিমন্যাষ্ট। তারা লিখছেন পেছনের অনেকগুলো বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে। ব্যর্থতা থেকে সফলতার গল্প। যা আসলে সাহায্য করছে ওই পড়ুয়া মানুষদের। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। বিতর্কিত জিনিস নিয়ে যে লেখা হয়নি তা নয়। লিখেছেন রেচেল মোরানের মতো পেশাজীবীরা। মানে – লেখা হয়েছে প্রায় সব বিষয় নিয়ে। বের হয়ে এসেছে অনেক সমস্যার কথা। সেই ভুল থেকেও শিখছে দেশ। সমালোচনা নিতে পারার মানসিকতার দেশগুলো ওপরে উঠছে দ্রুত। আবার লিখছেন জাতির পিতারা। আজকের ‘আধুনিক’ সিঙ্গাপুরের পেছনে যিনি ছিলেন তারো বই আছে কয়েকটা। নেলসন ম্যানডেলা’র বইটা পড়েছেন নিশ্চয়। সাতাশ বছরের অবিচারের ঘৃণাটা মূহুর্তে গিলে ফেলার ঘটনাটা অজানাই থাকতো বইটা না পড়লে। পড়ছি সবই, বুঝতে পারছি ভালো মন্দ। মন্দটা ফেলে ভালো নিয়ে এগুচ্ছি সবাই আমরা, সময়ের বিবর্তনে। অন্যের কাছ থেকে শিখে। পেছনে লেগে নয়।

চ॰

জ্ঞান কিন্তু রি-ইউজেবল। ব্রিটেনের লেগেছে দুশো বছর প্রায়। শুধু শিখতেই। শিল্পবিপ্লব থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিখেছে ব্রিটেন থেকে। তাদের লোক পাঠিয়ে। নোটবই ভরে নিয়ে আসতো তাদের অভিজ্ঞতার কথা। জাহাজে করে। সেটা কাজে লাগিয়ে ওই ব্রিটেনের সাথে টক্কর দিয়েছে অনেক কম সময়ে। ‘লীড টাইম’ কমিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় একশো বছর। এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই শেখার চর্চাটা ধরে রেখেছে বলে তারা এখনো শীর্ষে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শত বিপত্তির মধ্যে উদ্ভাবনা দিয়ে আছে টিকে। নিজেদের দেশে মানুষ কম বলে বাইরের বাজার দখলে ব্যস্ত তারা। এখন বোকারাই বলে যুদ্ধের কথা, বাজার দখলে কে কাকে বাজার বানাতে পারে সেটাই হচ্ছে বড় যুদ্ধ। রক্তপাত ছাড়াই ‘আউটবাউন্ড’ ক্যাশফ্লো!

ছ॰

এশিয়ান দেশগুলো আরো বুদ্ধিমান। ইউরোপ আর অ্যামেরিকা থেকে শিখে সেটা কাজে লাগিয়েছে গত তিরিশ বছরে। এখন টক্কর দিচ্ছে সবার সাথে। হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অন্যের ‘ঠেকে শেখা’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়েছে বেশি। পাশ্চাত্যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা করেনি সেটা জানলেই তো হলো! তার সাথে মেশাও ‘লোকাল কন্ডিশন’। আমি এটাকে বলি, ‘ঘুটা’, মানে জ্ঞানের ডিফিউশন। মেলাও হাজারো জ্ঞানের অভিজ্ঞতা। গরীব দেশ হলেও কোন সরকারী কর্মকর্তাকে তো মানা করা হয়না বৈদেশিক ভ্রমনে না যেতে। অথচ কর্পোরেট হাউসে কৃচ্ছতা সাধনে প্রায় সবই চলছে ভিডিও কনফেরেন্সে। দেশের একটাই চাওয়া, শিখে আসা জ্ঞানটা কাজে লাগবে দেশের উন্নতিতে। প্রাথমিক জ্ঞানটা পাবার পর বাকিটা শেখার বাহন হচ্ছে ইন্টারনেট। আর সেকারণে ইন্টারনেট নিয়ে লাগা। জ্ঞান ছড়িয়ে আছে সব যায়গায়, দরকার তার প্রয়োগ।

ঝ॰

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেলেন জ্ঞান ‘ক’। এদিকে সিংগাপুর দিলো ‘খ’ জ্ঞান, ভিয়েতনাম থেকে নিয়ে এলেন ‘গ’। এখন – আমাদের স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্ডিকেটরের সাথে মিলিয়ে যেটা যখন কাজে লাগে সেটাই ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অনেকে এটাকে বলে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। মানে, যেটা কাজ করেছে অনেক যায়গায়। ‘ওয়েল টেস্টেড’। টেস্ট পেপার সলিউশনের মতো কিছুটা। দেখা গেছে – ওভাবে কাজটা করলে জিনিসটা মার যাবার সম্ভাবনা কম। টেস্ট এণ্ড ট্রায়ালের পর ফুলপ্রুফ হয়েই নাম হয়েছে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। দেশের ‘লোকাল কন্ডিশন’কে বেস্ট প্র্যাকটিসে ঘুঁটানোতেই রয়েছে মুন্সিয়ানা। ইন্টারনেটকে ছড়িয়ে দেবার ওই ধরনের ‘টেম্পলেট’ নিয়ে কাজ করেছি গত সাত সাতটা বছর।

ঞ॰

মনে আছে বৈজ্ঞানিক নিউটনের কথা? ‘আমি যদি আজ বেশি দেখে থাকি অন্যদের চেয়ে, সেটা পেরেছি পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের ভিত্তিতে’। উন্নতবিশ্বের আজকের যা উন্নতি তার সবটাই এসেছে ওই ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস’ কথাটার ওপর ভিত্তি করে। আজ জানি আমরা ট্রানজিস্টর কি – আর কিভাবে কোটি ট্রানজিস্টর থাকে একটা চিপসেটে। নতুন করে ওই ট্রাংজিস্টর উদ্ভাবন না করে বরং কোটি ট্রাংজিস্টরের চিপসেট দিয়ে আর কি কি করা যায় সেটাই ভাববার বিষয়। আর তাই আগের জ্ঞানের ‘ডিফিউশন’ দিয়ে নতুন উদ্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ওপরে উঠছে নতুন ইমার্জিং দেশগুলো। এটাকে বলা হয় লিপ-ফ্রগিং।

য॰

সামরিক বাহিনীর স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার বিটিআরসিতে আসা। টেকনোলজি নিয়ে একসময় লিখতাম কিছু পত্রপত্রিকায়। শুরুতেই ঝামেলা। ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট – নতুন যাই লিখি সেটা নিয়ে মাথা নাড়াচ্ছিলেন অনেকেই।

“ভালো, তবে সমস্যা অন্যখানে। এটা সম্ভব নয় এদেশে।”

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

বলেন কি? অবাক হয়ে তাকাই উনাদের দিকে। নীতিমালায় আটকানো আছে জিনিসগুলো। মানে আমরা আটকে আছি আমাদের জালে। জিনিসপত্র না জানার ফলে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। যুক্ত থাকার হাজার সুবিধার মূলে হচ্ছে মানুষের মুক্তি। সেটা প্রথমে আসবে অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে, জ্ঞান দেবে আমাদের প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা। সোশ্যাল মিডিয়ার বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করেছিলাম একটা এজেন্সিতে বসে। যুক্ত থাকার ফলে আজ যা দেখছেন, এটা আইসবার্গের ছোট্ট একটা টিপ। আরব বসন্ত, একটা উপসর্গ মাত্র। পালটাচ্ছে পৃথিবী, পাল্টাবো আমরাও। ভালোর দিকে। দরকার ইন্টারনেটের মতো কিছু টুলস।


The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

― Mark Twain

র॰

বইগুলো লিখছি কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে। বিটিআরসির সাত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে ঘোরার অন্তর্জালা থেকে মুক্তি পেতে এ ব্যবস্থা। নোটবই সেনাবাহিনীতে পোশাকের অঙ্গ হবার ফলে মিস করিনি খুব একটা। জিম রনের অমোঘ ‘নেভার ট্রাস্ট ইয়োর মেমরী’ বাণীটা খুব একটা বিচ্যুতি আনতে পারেনি ‘নোট টেকিং’য়ে। এখন যুগ হচ্ছে ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোটে’র। হাতির স্মৃতি বলে কথা – মাটিতে পড়ে না কিছুই। দেশ বিদেশের ফোরাম, যেখানে গিয়েছি বা যাইনি – হাজির করেছি তথ্য। টুকেছি সময় পেলেই। ভরে যাচ্ছিলো নোটবই। ‘এভারনোট’ আর ‘কীপের’ ভয়েস মেমোতে। পয়েন্ট আকারে। প্রোগ্রামিংয়ের মতো পয়েন্টারগুলো লিংক করা ছিলো মাথায়। ভুলে যাবার আগেই বইগুলোর ব্যবস্থা।

ল॰

আরেকটা সমস্যা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে – ওই ছোটবেলা থেকে। কোন জিনিস ধরলে সেটার শেষ না দেখলে ঘুম আসে না আমার। বিশাল বিপদ। আগে ভাবতাম সমস্যাটা আমার একার। ভুল ভাঙ্গলো দুনিয়া দেখতে দেখতে। ইনডাস্ট্রিতে একই অবস্থা। একেকটা রিসার্চ, সফল না হওয়া পর্যন্ত পড়ে আছে মাটি কামড়ে। মনে আছে, হেনরী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার তৈরির কথা? এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো। বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারটাও তৈরি হয়েছে কয়েকটা জেদি মানুষের জন্য। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে উজাড় করে দিয়েছেন তার জ্ঞানকে। বাকিটা আমাদের পালা।

শ॰

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজার বারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজারবারের ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজারটা স্টেপ।

ষ॰

টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় ভাসা ভাসা কাজের উপযোগিতা কম। রেগুলেশনেও একই অবস্থা। দরকার স্পেশালাইজেশন – বাজার বুঝতে। ঢুকতে হবে ভেতরে, অনেক ভেতরে। পুরোটাই অর্থনীতিবিদদের কাজ। ভবিষ্যত না দেখতে পারলে এ ব্যবস্যায় টিকে থাকা কঠিন। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর জাহাবাজ লোকেরাও মাঝে মধ্যে অত ভেতরে ঢুকতে পারেন না। স্পেশালাইজেশন বলে কথা। সেখানেই আসে টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং কোম্পানিগুলো। ওদের কাজ একটাই, আর এন্ড ডি, সারাবছর ধরে। আবার সেই কনসাল্টিং ফার্ম একই ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছে সব টেলিযোগাযোগ কোম্পানির জন্য। স্পেশালাইজড না হয়ে যাবেই বা কোথায় তারা? আর সেই সল্যুশনের জন্য মিলিয়ন ডলারের নিচে কথা বলেন না কেউই। আর বলবেন নাই বা কেন? এধরনের আর এন্ড ডির জন্য কম কষ্ট করতে হয়না তাদেরকে। প্রচুর রিপোর্ট পড়েছি এই কনসাল্টিং ফার্মগুলোর। রিপোর্টতো নয় যেনো হাতের রেখা পড়ছেন। ভবিষ্যত দেখা যায় রীতিমত। মিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং বলে কথা। টার্গেট দিন এক কোটি কর্মসংস্থানের। তৈরি করে দেবো প্রায়োগিক ফর্মুলা। হতে বাধ্য। জানতে হয় ভবিষ্যত দেখতে। বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি খানিকটা।

ট॰

তাই বলে সব কনসাল্টিং ফার্ম এক নয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, কনসাল্টিং ফার্মের দোষ না দেখে যিনি কাজ দিয়ে বুঝে নেবার কথা – তার কম্পিটেন্সিতে ঘাটতি থাকলে রিপোর্ট খারাপ হতেই পারে। আমি কিনছি রিপোর্ট, না বুঝে কিনলে কনসাল্টিং ফার্মের দোষ দিয়ে লাভ কি? গরীবদেশগুলোতে প্রচুর কনসালটেন্সি হয় বটে, তবে সে দেশগুলো সেগুলো ঠিক মতো বুঝে নেবার সামর্থ বা জ্ঞান থাকে না বলেই ঝামেলা হয়। ডোনারদের টাকায় কনসাল্টেন্সি হলে সেটার অবস্থা হয় অন্য রকম। রিপোর্ট নিজের মনে করে বুঝে নিতে পারলে সেটার দাম মিলিয়ন ডলারের বেশি। সে ধরনের রিপোর্ট বুঝে নিয়েছিলাম বেশ কয়েকটা। পোস্ট-ডক করা যাবে কয়েকটা।

ঠ॰

কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হলো বিশ্বখ্যাত অনেকগুলো টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং ফার্মের সাথে। এর সাথে যোগ হলো ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আর কমনওয়েলথ টেলিকম্যুনিকেশন অর্গানাইজেশনের (সিটিও) আরো অনেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্ট। ধারণা পেলাম তাদের কাজের। পড়তে থাকলাম আরো হাজারো রিপোর্ট। দামী সব রিপোর্ট, তবে তার দাম কোনো কোনো দেশ বা এজেন্সি দিয়ে দিয়েছে আগেই। পরিচয় হলো ওভাম, অ্যাকসেন্চার, কেপিএমজি, পিডাব্লিউসি, নেরা আর এনালাইসিস ম্যাসনের মতো তুখোড় তুখোড় ফার্মের সাথে। আবার নিজের প্রতিষ্ঠানেরই কাজ করতে পরিচয় হলো মার্কিন ফার্ম টেলিকমিউনিকেশনস ম্যানেজমেন্ট গ্রূপ, ইনকর্পোরেশন (টিএমজি)র সাথে। তাদের ধরনটাই বুঝতে সময় লেগেছিলো বেশ। তলই পাচ্ছিলাম না প্রথমে। বিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং কোম্পানি বলে কথা। পরিচয় হলো অনেকের সাথে। বন্ধুত্ব হলো অনেকের সাথে। হাতে ধরে দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ‘ফল্ট-লাইন’গুলো।

ড॰

একসময় তল পেলাম এই ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ফার্মগুলোর কাজের ধারার। পৃথিবী জুড়ে কাজ করার ফলে কোথায় কি সমস্যা সেটা তারা জানে ভালো। আর সেটা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেয়া ওদের একমাত্র কাজ বলে ওটাও সে জানে ‘অসম্ভব’ ভালো। গরীব দেশগুলোতে হাজার কোটি টাকার ম্যানেজমেন্ট কন্সাল্টেনসি করে টাকা বানালেও সেটার ব্যর্থতার দায় দেয়া যাবে না তাদের ওপর। ওই দেশের – যাদের ‘কন্সাল্টেনসি’টা বুঝে নেবার কথা তারা ‘ছাড়’ দিলে কাজ হবে কিভাবে? উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাড়াতাড়ি ওপরে উঠতে হলে লাগবে কন্সাল্টেনসি, তবে সেটা ‘পাই’ ‘পাই’ করে বুঝে নেবার মতো থাকতে হবে মানুষ। দু চারটা বৈদেশিক ভ্রমণে ব্যাপারটা উপেক্ষিত হলে জ্ঞান আর প্রজ্ঞাটা হারায় দেশ।

ঢ॰

ব্যাপারটা অনেকটা বিজনেস প্ল্যান কেনার মতো। ও আমাকে বানিয়ে দিলো একটা। না বুঝে দিয়ে দেবো পয়সা? সমস্যা হয় যখন সেটা হয় ‘সরকারী’ মানে জনগণের পয়সা। একারণে উন্নতদেশগুলো ছোট করে নিয়ে আসছে সরকারগুলোকে। যাই হয় সব পার্টনারশীপে। যারাই থাইল্যান্ড গিয়েছেন মুগ্ধ হয়েছেন তারা – বিশাল বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার দেখে। বেশিরভাগ ইনফ্রাস্ট্রাকচারই কিন্তু পিপিপি’র মডেলে করা। সরকারের অতো পয়সা থাকে না কোথাও। পিপিপি হচ্ছে গিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ। পয়সা যোগান দেবে বেসরকারী কোম্পানি – কাগজ দেবে সরকার, আইনগত ভিত্তি সহ। ‘উইন’ ‘উইন’ ব্যাপার। পয়সা লাগলো না সরকারের। কর্মসংস্থানও হলো। আমাদের পিপিপি নীতিমালা তৈরী হয়নি এখনো।


There is no ‘poor’ country, they are ‘poorly’ managed.

― Slightly modified

ণ॰

উন্নত দেশগুলোতে অনেক বড় বড় কাজে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না জনগণ। কারণ এই পিপিপি। যেকোনো দেশের উন্নতির ইনডিকেটর বোঝা যায় ওদেশের পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেম দেখে। মানে জনগন কতো সহজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারছেন – নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। ঢাকা শহরে সেটার অবস্থা আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেও খারাপ। অথচ ব্যবস্যা বান্ধব পিপিপি নীতিমালা থাকলে প্রাইভেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিতে পারতো সরকারের কাছে। তৈরী করতো ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’। ভাগ করে ফেলতো পুরো শহর – চার পাঁচ ভাগে। একেকটা ভাগের রুট নিয়ে দেন-দরবার করতো কনসেশন পিরিয়ডটা নিয়ে। এই রুটটা দাও আমাকে পঞ্চাশ বছরের জন্য। তৈরী করবো স্কাই ট্রেন। ইনফ্লেশন হিসেব ধরে ভাড়ার একটা চার্ট জমা দিতো সরকারকে।

স॰

সফটওয়্যারের মানুষ হিসেবে শূন্য ভার্সন থেকে শুরুতে বিশ্বাসী আমি। শুরু করতে হবে কোথাও। নিউটনের কথায় ফিরে আসবো আবার। ষ্টান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস। আমাদেরও এগুতে হবে পূর্বসূরীর অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে। গাছ রোপণ করার কথা ছিল বিশ বছর আগে। সেটা না হলে কি থাকবো বসে? বরং – লাগাবো আজই। বাংলাদেশের ‘যুক্ত’ হবার এজেন্সিতে চাকরি করার সুবাদে গরীব দেশ আমার ওপর যা ইনভেস্ট করেছে সেটা ফিরিয়ে দেবার জন্য নিয়েছি নগণ্য একটা প্রয়াস। নাম দিয়েছি প্রজেক্ট ‘গিভিং ব্যাক’। ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার ‘চিটকোড’ হিসেবে ধরুন ব্যাপারটাকে। ব্রডব্যান্ডে সফল দেশগুলোর ধারণা নিয়ে ‘আমাদের আঙ্গিকে’ কোডটাকে ‘ক্র্যাক’ করতে চেষ্টা করেছি মাত্র। আর, পয়সার জন্য ওর সাথে থাকবে ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ফান্ড। আর এসপিভিলাগবে এটাও

দরকার আপনার সুচিন্তিত মতামত। ওই মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাঠামোগত পরিবর্তন আনবো বইগুলোতে।

প্রি-প্রোডাকশন স্টেজ: কাজ চলছে এখনো

প্রথম বই: ইন্টারনেটের মুল্যঃ যে কারনে এখনো ধরাছোয়ার বাইরে

দ্বিতীয় বই: বাতাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দক্ষ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা পাল্টে দিতে পারে বাংলাদেশকে

তৃতীয় বই: রেগুলেট অর নট টু রেগুলেট? চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেটর ও বাংলাদেশ

* লিংকগুলো যুক্ত করা হয়েছে কয়েকটা ব্লগপোস্টের সাথে। পুরো বইগুলো আসবে আস্তে আস্তে – প্রিন্টে।


০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সাশান্দ্রা, আইভরি কোস্ট

The goal is to turn data into information, and information into insight.

– Carly Fiorina, former executive, president, and chair of Hewlett-Packard

অনেকেই বলেছেন মেশিন লার্নিং শিখতে চান তারা। কি দরকার, বলুন। আমার উত্তর – কিছুই দরকার নেই জানার, দরকার খালি ‘রাইট অ্যাটিচ্যুড’। লম্বা সময় ধরে লেগে থাকার ইচ্ছে। দরকার – শিখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। ইট’স আ ‘লঙ হল’ ফ্লাইট। মানুষ পারে না এমন কিছু নেই। আমার অভিজ্ঞতা বলে, ছেড়ে দেয় বেশির ভাগ মানুষ। একেবারে শেষে গিয়ে। পড়েছেন তো ওই গল্পটা? গুগল কীওয়ার্ড ‘থ্রী ফিট অ্যাওয়ে ফ্রম দ্য গোল্ড’। তবে, কি করতে চান ‘মেশিন লার্নিং’ দিয়ে সেটা না জানলে শেখাটা কষ্ট। শিখছেন না জেনে, সেটাই তো বড় কষ্ট। যেটা করি আমরা ইউনিভার্সিটিতে। কি করতে চান সেটাই বের করুন আগে। তারপর শিখুন। মন লাগবে কাজে।

ধার দেবো একটা আইডিয়া? জিনিসটা মাথায় ঘুরছে বেশ কয়েক মাস ধরে। ঢাকার ভাড়া বাসার মাসিক ভাড়ার প্রেডিকশন মডেল। আগেই বলে দেবো আপনার বাজেটে কোন এলাকার কোথায় যাবেন আপনি। কোন এলাকার কতো স্কয়ার ফিটে কতো ভাড়া হবে সেটাও চলে আসবে মেশিন লার্নিংয়ে। এছাড়াও হাজারো ভেক্টর আসবে এখানে। মেইন রাস্তা থেকে কতো দুরে, বাজার কতো কাছে, কাছের স্কুলের রেজাল্ট আর টাইমিং, কোচিংয়ের এক্সেসিবিলিটি, গৃহশিক্ষক থাকেন কোথায়, গ্যাস পানির সংযোগ, পার্ক কতো দুরে, এলাকাভিত্তিক বাসা পাল্টানোর প্যাকেজের দাম, ওই এলাকার রিকসা ভাড়া, রিকসা গ্যারেজ কতো দুরে – এ ব্যাপারগুলো আসবে আমাদের মডেলে। তাই বলে, এলাকাভিত্তিক হাইজ্যাকের ধরণ, লোডশেডিং কিছুই বাদ যাবে না কিন্তু ওখান থেকে।

[…]

It is a capital mistake to theorize before one has data.

– Sherlock Holmes

সাতচল্লিশ বছর বয়সে ‘মেশিন লার্নিং’ শিখতে গিয়ে বুঝলাম আরেকটা ব্যাপার। সামরিক বাহিনীতে একটা জিনিস মানি সবসময়। ‘অন দ্য জব ট্রেনিং’। একদম ‘আসল’ কাজ করতে করতে শেখা। ‘সিমুলেশন’ টিমুলেশন নয়। আসল প্রোডাকশন এনভায়রনমেন্টে এক্সেস দেয়া। বিপদ তো হবে কিছুটা। তবে সেটার আউটপুট তৈরিকৃত সমস্যা থেকে কম। লঙ টার্মে এটা কাজে দেয় ভালো। বই ক্লাস বাদ, আসল কাজ করতে করতেই শিখি আমরা। উই লার্ন বাই ডুইং ইট।

আর সেকারণে ডাটা সায়েন্টিস্টদের পছন্দের জায়গা ‘ক্যাগল.কম’। ক্যাগল শুরু কিন্তু ‘কে’ দিয়ে। রিয়েল ওয়ার্ল্ড সমস্যা দেয়া আচ্ছে ওখানে। এ মুহুর্তে দেখছি একটা ‘ক্যান্সার’ রিলেটেড সমস্যাটা চলছে এক নম্বরে। দিয়েছে ইন্টেল। পুরস্কার এক লাখ ডলার। ফেলে দিন, ক্লাসে নম্বর পাওয়ার জন্য ওই ভুঁয়া প্রজেক্ট। বরং খুঁজে বের করুন ‘আসল’ প্রজেক্ট। ব্যাপারটা এমন – কাজ করে সাহায্য করো মানবতাকে। ফাঁকে আয় করো কিছু পয়সা।

আমরা জীবনে অনেক প্রজেক্ট তৈরী করি ‘রিয়েল ওয়ার্ল্ড’ এপ্লিকেশন না জেনে। আর তাই শিখি না অনেক কিছুই। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার ‘মেন্টর’ আছেন বেশ কয়েকজন। একজন বলেছিলেন একটা কথা, প্রায় বিশ বছর আগে। ‘যাই শিখবেন – সেটার ‘রেভিনিউ ম্যাপিং’ করে নেবেন আগে। অতটুকুই শিখবেন যা বিক্রি করতে পারবেন মার্কেটপ্লেসে। পয়সাই অনুপ্রেরণা দেবে আরো কিছু শিখতে। বাড়তি সবকিছু নয়েজ।’

[…]

In God we trust. All others must bring data.

– W. Edwards Deming

৩৫ হাজার ফুট ওপরে মন কিছুটা দ্রবীভূত থাকে বোধহয়। সত্যি বলতে, অক্সিজেনের ব্যাপারটা জানি না। তবে, কেবিন প্রেসার কম থাকলে মাথার অনেক কিছু তরল হয় বলে ধারণা। মাথার ওপর পৃথিবীর চাপ কমে যাওয়াতে ভালো লাগা যেয়ে পড়ে ফালতু সব জায়গায়।

তো – কাহিনী কি? প্রচুর গান শুনি এখনো। মাটিতে রবি উইলিয়ামসের ‘মিসআন্ডারস্টুড’ হাজারবার শুনলেও মন কাটেনি অতো। তবে, আকাশের জুকবক্সের ওই গানটাই সইয়ে দিলো বিরক্তিকর সতেরো ঘন্টার একটানা পথ। সমস্যা একটাই। জার্নিতে পারি না ঘুমাতে। আর তাই পথে সময় কাঁটানোর রসদ নিয়েই উঠেছি উড়ুক্কুযানে।

বিমানে ওঠার আগে ল্যাপটপটা জমা নিয়ে নিলো ওরা। তবে, সমস্যা হয়নি তেমন। ফোনেই ইনস্টল করা আছে ‘আর ষ্টুডিও’! একটা মুভি, আর বাকি সময়টা গেলো মেশিন লার্নিংয়ে। দশ ডলার দিয়ে কিনেও ফেললাম একটা ওয়াই-ফাই প্যাকেজ। ওই আকাশে। ঢু মারলাম ক্যাগলে।

আমার ধারণা, সাত দশ বছর পর টিকবে না ইউনিভার্সিটি। যদি না তারা ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোকাসড’ হয়। বাইরের ইউনিভার্সিটিগুলো পুরোদমে ‘ইন্ডাস্ট্রি ফোকাসড’ থেকেও পাল্লা দিয়ে পারছে না ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার সাথে। এদিকে ইন্ডাস্ট্রি মানুষ নিচ্ছে তাদের মতো করে। ‘রিয়েল ওয়ার্ল্ড’ সমস্যা দিয়ে বলছে – করে দেখাও দেখি। পারলে চাকরি।

[…]

প্রচুর ‘লিফটে’ চড়তে হয় আমাদের। দেশের ‘স্পেস ম্যানেজমেন্ট’ করতে হলে অনেক অনেক তলার বাড়ি তৈরি হবে সামনে। সিঙ্গাপুর আর বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য সামান্য। বহুতলে যেতে হবে আমাদেরও। যতো তাড়াতাড়ি, ততো ভালো। আমাদের ওই ‘লিফট’, অনেকের ভাষায় ‘এলিভেটর’ হবে আমাদের জীবনের সঙ্গী। মানুষ কিন্তু বহুদিন আগেই ছেড়ে দিয়েছে এই জিনিসের দ্বায়িত্ব। ছেড়ে দিয়েছে যন্ত্রের ওপর। বলেছে, লিফটম্যানের দরকার নেই আর।

এক ফ্লোরে দশটা লিফট থাকলেও এক বাটনে চলে সবকিছু। কোনটা আগে আসবে সেটা নির্ভর করে যন্ত্রকে শেখানো লজিকের ওপর। কাছের লিফটটাই যে আসবে সেটা নয় কিন্তু। বরং কোনটাতে কতো বেশি রিকোয়েস্ট আছে তার ওপর। এটা কিন্তু জানে না আর লিফটের সামনের মানুষগুলো। জানে লিফট।

কি হতো আগে? দশটা লিফট। সবার বাটন আলাদা। আমাদের মতো মানুষ চাপ দিয়ে রাখতাম সবগুলোতে। যেটা আগে আসে। অথচঃ চিন্তা করি না, আমার জন্য ওই দশটা লিফট থামছে ওই ফ্লোরে। একটাতে উঠলেও বাকি নয়টা বেশ বড় একটা সময় নষ্ট করলো বাকি ফ্লোরের মানুষগুলোর। কতো বড় ইন-এফিসিয়েন্সি।

আবার, লিফটম্যান ছাড়া এই মানুষ চড়তো না লিফটে। আমি দেখেছি নিজে। প্রথম দিকে। ভয় পেতো – যদি আটকে যায় লিফটে? যদি দরজা না খোলে? যদি চলে যায় পাওয়ার? যদি পড়ে যায় নিচে? এটাই স্বাভাবিক। শুরুর দিকে। যন্ত্রকে বিশ্বাস বলে কথা। এখনো দেখি লিফটম্যান এই বাংলাদেশে। কষ্ট লাগে তখন। আপনি বলবেন – কিছু তো করে খেতে হবে তাকে। আমার কথা, আছে তো আরো অনেক কাজ। যেখানে দরকার ‘স্কিলসেট’। যেখানে দরকার মানুষকে। মাথা খাটানোয়। ওভাবে চলে আসে – তাদের কথা। রিকশা চালাচ্ছেন যারা। রিহাবিলেটেশন করা দরকার তাদের। অন্য স্কিলসেটে। মানুষের মতো কাজে।

[…]

Constant kindness can accomplish much. As the sun makes ice melt, kindness causes misunderstanding, mistrust and hostility to evaporate.

— Albert Schweitzer

এটা ঠিক যে ট্রান্সপোর্টেশন ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে লাগাচ্ছে কাজে, সফলতা চলে এসেছে তাদের হাতের মুঠোয়। প্রায় পুরোপুরি। তবে ভেতরের কাহিনী কিছুটা ভিন্ন। প্রযুক্তি এগিয়েছে যতোখানি – মানসিকতা আগায়নি ততোটা। কথা বলছিলাম আমাদের মানসিকতা নিয়ে। মানুষের। ধরা যাক এই আমাকেই।

মাস কয়েক আগের কথা। সান-ফ্রান্সিসকোর এক রাস্তা। চালাচ্ছিলো আমার বন্ধু। হঠাৎ চোখে পড়লো পাশের গাড়ির ওপর। একটা সেলফ ড্রাইভিং কার। বসে আছেন মহিলা একজন। ড্রাইভিং সিটে। হাত তুলে সিগন্যাল দিলেন আমাদের। বোঝাতে। ওই ভিডিওটার মতো। ‘লুক মা, নো হ্যান্ডস!’ স্টিয়ারিং হুইল ঘুরছে নিজে নিজে। ভয় পেলাম বরং। দুটো গাড়ির গতি তখন বেশ বেশি। যা হয় ইন্টারস্টেটের রাস্তায়। চিন্তা হলো – যদি বাড়ি দেয় গাড়িটা? বন্ধুকে বললাম পিছিয়ে পড়তে। সেফটির চিন্তায়। হাসলো বন্ধু। এক্সেলেটর ছেড়ে দিলো কিছুটা। মানে হচ্ছে, সেলফ ড্রাইভিং কার প্রজেক্টে একটা বড় টাকা খরচ হবে মাইন্ডসেট পাল্টাতে। এই পুরোনো আমাদের।

যন্ত্রকে বিশ্বাস করা যাবে কিনা সেটা নিয়েই চলবে গল্প। বহুদিন ধরে। কিছুটা ‘ইগো’র ব্যাপার আছে এখানে। আমাদের মানুষের। যন্ত্রের ‘মোরাল ভ্যালু’ নিয়ে উঠবে কথা। ধরুন, গাড়িতে আছেন আপনি। চলছে গাড়ি। হঠাৎ করেই চলে এলো একজন মানুষ। গাড়ির সামনে। ক্রসিংয়ের লাল বাতি জ্বলার আগেই। ওই মানুষটাকে কাটাতে হলে আপনাকে টার্ন করতে হবে বাঁয়ে। অথচঃ বাঁয়েই আছে আরেকটা লরি। ওখানে লাগলে আপনার বিপদ। এখন কি করবে যন্ত্র?

আমার উত্তর – যেভাবে ওকে ট্রেনিং করাবেন মডেলের ডাটা দিয়ে। সেখানে মোরাল ভ্যালুর একটা কনস্ট্যান্ট থাকবে আগে থেকে। ওই ‘ফাইন লাইন’ থেকে কতোটুকু বিচ্যুতি নেবেন সেটা থাকবে মানুষের কাছে। আমার ধারণা, মানুষকে এই যন্ত্রকে বিশ্বাস করানোর জন্য বিশাল ক্যাম্পেইন চলবে অনেকদিন ধরে। সেখানে এখন আছে ইন্ডাস্ট্রি। ট্রান্সপোর্টেশন, অ্যাভিয়েশন, হাই-টেক সবাই মিলে। সরকার আসবে কিছু পরে। সরকার তো কিছু নয়, এর পেছনে আছে কিছু মানুষ।

ভয় কাটবে একসময়। মানুষ আর যন্ত্রের চালানোর হিসেব নিয়ে বসবে মানুষ। কার ক্ষয়ক্ষতি কেমন। স্বাভাবিকভাবেই চলে আসবে যন্ত্রের আধিপত্য। ভয় পাবার কিছু নেই এখানে। এটা হবেই। আমার কথা একটাই। যেখানে যার কাজ করার কথা, সেখানে কাজ করবে সেই। ‘ড্রাইভিং ট্রাইভিং’ যন্ত্রের কাজ। অনেক শহরের পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেম চালায় মেশিন লার্নিং। শুরু হয়েছে ছোট ছোট মডেল দিয়ে। বড় বড় অ্যাভিয়েশন হাব চলছে ওই যন্ত্রের ওপর। লম্বা ফ্লাইটগুলো চলে গেছে অটো পাইলটে। সবাই জানে – মানুষের কাজ অন্য।

[…]

True love stories never have endings. – Richard Bach

কথা হয় অনেকের সাথে। এই সিরিজ লেখার পর থেকে। বিশেষ করে এই ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে। প্রশ্ন থাকে অনেকের। বেসিক কিছু বিষয় নিয়ে। একটা কমন প্রশ্ন নিয়ে বলি বরং। প্রশ্নটা কিছুটা এমন – ‘এআই’য়ের প্রসার বেশি কোন ‘ডোমেইনে’? বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক ‘ডোমেইন’য়ের ভাগটা আসে ওই একেকটা সেক্টর থেকে। অনেকের ভাষায় – ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ থেকে লাভ পাচ্ছে কোন ইন্ডাস্ট্রি? অথবা ‘এআই’য়ের সুবিধা নিচ্ছে কোন পার্টি? এই সময়ে?

চমৎকার প্রশ্ন। ‘কমিউনিকেশন সিকিউরিটি’ নিয়ে কাজ করি বলে এই জায়গার প্রসার চোখে পড়ে বেশি। আবার, পিছিয়ে নেই কিন্তু কম্পিউটার ‘গেমস ইন্ডাস্ট্রি’। আত্মীয় স্বজন ‘হেলথ কেয়ার’য়ে আছেন বলে শুনতে পাই ওদিকের হাজারো অ্যাপ্লিকেশনের গল্প। ওই ইন্ডাস্ট্রিকে ঘিরে। এদিকে ফাটিয়ে দিচ্ছে ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ ইন্ডাস্ট্রি। প্রচুর অ্যানিমেশন, আরো কতো কি! নায়ক নায়িকার নিখুঁত চেহারা দেখলে ধক করে ওঠে বুক।

যে যাই বলুক, আমার মতে – দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে একটা ইন্ডাস্ট্রিতে। ব্যাপারটাকে ‘সিরিয়াসলি’ নিয়েছে হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিগুলো। ভেতরে ভেতরে চালানো টেস্টগুলোর ‘রেজাল্ট’ অভাবনীয়। আর তাই বিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট আসছে মাইন্ডসেট পাল্টাতে। মানুষের। আমাদের রেগুলেটরদের। টেস্টগুলো দেখিয়েছে দুটো জিনিস। যন্ত্রের পারফরমেন্স ভালো আমাদের মতো মানুষ থেকে। আর, ওই যন্ত্রের কাছে ‘মানুষের নিরাপত্তা’ মানুষ থেকে অনেক ভালো।

ঠিক ধরেছেন। ট্রান্সপোর্টেশন ইন্ডাস্ট্রি। সেলফ ড্রাইভিং কার।

আর তাই শেখা হয়নি ড্রাইভিং। ভালোভাবে। চালানোর মতো। এই ঢাকার রাস্তায়। ড্রাইভিং হচ্ছে ‘লো-টেক’ কাজ। ওটা করবে যন্ত্র। আমাদের মতো করে। আর আমরা যাবো পৃথিবীর সমান ওই সাতটা গ্রহে। বেড়াতে। জানতে। উত্তর খুঁজতে – কেন এসেছি দুনিয়ায়?

সইছে না যে তর।

[…]

মিসলিডিং হেডলাইন? আমি জানি এটা বলবেন আপনি। তবে, উত্তরে – হ্যাঁ অথবা না। আবার, এটা ঠিক ব্যাপারটা হতে পারে দুটোই। ব্যাপারটা এমন, ধরুন – কিনতে চাইছেন আপনি ‘বিএমডাব্লিউ’। আমরা তো সবাই চাই বেস্ট জিনিস, এখন পরতায় না পেলে কি করা? ধরুন, মনে চাচ্ছে এই ‘বিএমডাব্লিউ’ই। তবে পয়সা আছে সুজুকি’র। ভুল বুঝবেন না। সুজুকি কিন্তু একমাত্র ব্র্যান্ড যারা গাড়িকে নিয়ে এসেছেন সবার পর্যায়ে। পয়সা আছেন কিন্তু পাচ্ছেন টয়োটা প্রিমিও’র লেটেস্ট মডেল। কেমন হয় জিনিসটা? বিশ্বাস হচ্ছে না? জানি, বিশ্বাস হওয়ার কথা না।

মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম একটা কাজে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে রাতে চলে যেতাম কিছু ‘স্পেশালাইজড’ স্টোরে। এটা ঠিক, অনেককিছু ‘অনলাইন’ হয়ে যাওয়াতে চাপ কমেছে বাজারগুলোতে। তাই বলে, স্টোরফ্রন্টের আবেদন থাকবে না – এটা হয় কখনো? একটা জিনিস দেখেশুনে, ‘সাক্ষাত’ হাতে ধরে সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলার মজাটা কিন্তু অন্যরকম। অনেকের তো বাতিকই আছে জিনিস দেখে শুনে কেনার। কয়েকটা দেখে একটা কেনার অভ্যাস আছে আমাদের অনেকের। খারাপ নয় ব্যাপারটা।

এখন আসি ‘স্পেশালাইজড’ গল্পে। যে দোকানে একটা দুটো আইটেমের হাজারো ভ্যারিয়েশন থাকে সেটাই ‘স্পেশালাইজড’ দোকান। তাই বলে শুধুমাত্র হেডফোনের জন্য দোকান? সত্যিই তাই। আর এই হেডফোনকে ঘিরেই রয়েছে বিশাল বড় একটা ইকোসিস্টেম। ‘ক্লিন’, ‘প্রিস্টিন’ আর মিনারেল ওয়াটারের অ্যাডের ওই ক্রিস্টালের মতো ‘স্বচ্ছ’ পানির কাছাকাছি শব্দের খোঁজে পাগলপারা এখনকার মানুষ। বর্তমান প্রযুক্তির উত্কর্ষের মাত্রা শব্দের ‘রিপ্রোডিউস’ করার যন্ত্রকে নিয়ে গেছে শিল্পের পর্যায়ে। ‘মিনিয়েচারাইজেশন’ মানে এক চিপে বিলিয়ন ট্রানজিস্টর চলে আসায় সবকিছু চলে এসেছে হাতের মুঠোয়।

আর তাই মোবাইল ফোনে চোখ পড়েছে পুরো ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ ইন্ডাস্ট্রির। অডিও ভিডিও, ইন্টারনেট, হাজারো সেন্সর, কি নেই এতে? আরো আছে কোটি অ্যাপ। কথা বলা বাদ দিয়েই। সব ভালো, তবে সবকিছুর অল্প অল্প জিনিস দিতে গিয়ে ‘উত্কর্ষ’ নামের জিনিসটা হারিয়েছে আমাদের হাতের মোবাইলটা। তাই বলে পার্সোনাল অডিওর ‘ইকোসিস্টেমে’ থাকবে না আমাদের হাতের মোবাইল যন্ত্রটা? বলেন কি? থাকবে অবশ্যই। তবে বাইপাস করবো ওটার ইন্টারনাল অডিও সিস্টেমকে। কারণ, মোবাইলের ‘স্টক’ মানে সঙ্গে দেয়া অডিও সিস্টেমটা বড্ড সেকেলে। এদিকে আমাদের ল্যাপটপের ইন্টারনাল সাউন্ডটাও কিন্তু সেভাবে পঁচা।

মনে আছে আমাদের পিসির শুরুর যুগটার কথা? পিসি মানে খালি মাদারবোর্ড। নো অনবোর্ড সাউন্ড, অথবা ইথারনেট কার্ড। তখন সাউন্ড কার্ড কিনতে হতো আলাদা করে। আর সাউন্ডের মূল খেলাটা দেখেছি আমরা। অডিওকে আলাদা করে প্রসেস করার জন্য দেয়া হতো আলাদা আলাদা প্রসেসর। শব্দও আসতো ওই রকম। এখন? এটা সত্যি প্রসেসরের গতি বেড়েছে বহুগুন। খরচ কমাতে সব চাপ দেয়া হয় ওই একটা দুটো প্রসেসরের ওপর। ফলাফল? সব কাজের কাজি, একক দক্ষতায় আনাড়ি।

ফিরে আসি ওই মালয়েশিয়ার গল্পে। বলছিলাম হেডফোনের ‘ইকোসিস্টেম’ নিয়ে। হেডফোন যদি শেষ আউটপুট ডিভাইস হয়, তাহলে মোবাইল হচ্ছে তার উত্পত্তি যন্ত্র। ধরুন, আপনাকে দেয়া হলো ষ্টুডিও ম্যাটেরিয়াল শব্দের ফাইল। চার মিনিটের একটা গান। কয়েক গিগাবাইটের। সিডি কোয়ালিটি নয়। বুঝতে হবে ফারাকটা। আপনি যখন ছবি তোলেন তখন তোলেন কিন্তু সবচেয়ে হাই-রেজোল্যুশনে। কারণ এডিটিংয়ের জন্য দরকার কিছু ‘হেডরুম’। মানে যেভাবেই এডিট করেন না কেন ওই পর্যাপ্ত পিক্সেল আপনাকে দিচ্ছে অনেক অনেক ইচ্ছেমতো ‘হাতড়ানো’র সুবিধা।

ষ্টুডিও কোয়ালিটি গানও একই জিনিস। ধরুন, আপনি একটা অর্কেস্ট্রা শুনছেন। হেডফোনে। আমার বাসাটা শহর থেকে দুরে হওয়ায় বাসার ভেতরের ‘অ্যামবিয়েন্ট’ শব্দ মাত্রা হচ্ছে ৩৫-৪০ ডিবি। মানে, সাধারণ সিডি’র ডাইনামিক রেঞ্জ (৯৬ ডিবি) শুনতেও হেডরুম থাকছে অনেক বেশি। অথচ, ওই একই অর্কেস্ট্রা যদি শুনতে চান গুলিস্তানে? আসেপাশের শব্দেই নয়েজ ফ্লোর চলে যাচ্ছে ৮০ ডিবিতে। বাকিটা শুনবেন কি করে? সাতরাতে নামলেন পানিতে। নেমেই বুঝলেন হাঁটু পানি। সাতরাবেন আপনি?

এর মানে হচ্ছে আপনার গানের নয়েজ ফ্লোর যতো নিচে, উপলব্দির মাত্রা ততো বেশি। মানে, গায়ের রোম দাড়াবে বেশি বেশি। সাদার ওপর কালো ফুটবে যতোটা, খয়েরি রঙের ওপর ওই কালোই কিন্তু ফুটবে না অতোটা। জীবনটাই ‘কনট্রাস্টে’র খেলা, গানই বা বাদ যাবে কেন? গানের এই কনট্রাস্ট বাড়াতে দরকার আলাদা একটা যন্ত্র। এই মোবাইল বা ল্যাপটপের ‘স্টক’ সাউন্ড ডিভাইস ‘বাইপাস’ করে লাগাবো ছোট্ট একটা যন্ত্র। সত্যি কথা বলতে এটা নিজেই একটা সাউন্ডকার্ড। মোবাইলের এক্সটার্নাল সাউন্ড কার্ড। চলে কম্পিউটারের সাথেও। দক্ষতার সাথে।

ধারণা বলে, প্রতিটা ‘কনভারশন’ মানে ডিজিটাল টু এনালগে সিগন্যাল ‘লস’ হয় কমবেশি। তবে যতো কম লস, ততো উপলব্দির মাত্রা বেশি। আর সেজন্যই দরকার এই ‘ডিজিটাল টু এনালগ’ কনভার্টার। সংক্ষেপে ‘ড্যাক’। আমাদের ফোন মানে, সোর্সের পরেই থাকে ‘ড্যাক’। আর ‘ক্লিন’ কারেন্ট দিয়ে সবচেয়ে কম ‘ডিস্টরশন’ আর ‘ইন্টারফেয়ারেন্স’ দিয়ে সিগন্যালকে মজবুত করে আমাদের হেডফোন অ্যাম্প। ঠিক ধরেছেন! ড্যাকের পর থাকে এই অ্যাম্প। একটা ‘রুল অফ থাম্ব’ আছে এর ব্যাপারে। বিশেষ করে অ্যাম্পের আউটপুট ইম্পিডেন্সে। যতো কম হবে আউটপুট ইম্পিডেন্স, ততো বেশি কন্ট্রোল করতে পারবে হেডফোনকে। হেডফোনের ইম্পিডেন্সের আটের এক ভাগেরও কম হতে হবে অ্যাম্পের ইম্পিডেন্স। না হলে শব্দ যাবে বিগড়ে।

আগে মোবাইলে লাগাতাম হেডফোন। সরাসরি। এখন মোবাইলে লাগাবো ‘ড্যাক’। তারপর ‘হেডফোন অ্যাম্প’। তারপরই জুড়ব আমাদের হেডফোন। সস্তা ‘রেফারেন্স’ জাতীয় কিছু একটা। ধরুন, অডিও টেকনিকা’র একটা মনিটরিং হেডফোন। এম৫০ গোত্রের। এরপর স্বচ্ছ পানির মতো কল কল করে আসবে গানের শব্দ। ধারণা করছি, মোবাইলের ‘প্লে’ বাটন চাপার সাথে সাথে পড়ে যাবেন আপনি। চেয়ার থেকে। প্রথমদিকে দাড়িয়ে শোনাটাই শ্রেয়। তবে রেকর্ডিং ষ্টুডিও আপনাকে যেভাবে শোনাতে চেয়েছেন সেটার ধাক্কাটা নিতে পারেন না অনেকেই। বিশেষ করে, প্রথম দিকে। ভেজাল খেয়ে খেয়ে পেট সয়ে গেলে আসল খাবারে যে সমস্যা হয় এটাও ওই ধরনের সমস্যা। এটা থেকে বের হতে আমার নিজেরই লেগেছে বড় একটা সময়। তবে, আপনাদের লাগবে কম। কারণটা বলছি পরে।

আমার একটা ধারণা ছিলো – কিসের ড্যাক – কিসের কি? সব কেনানোর ধান্ধা। কেনই বা দরকার হেডফোন অ্যাম্প? ভালো হেডফোন কিনলেই তো চলে। ইনভেস্টমেন্ট করলে সেটা আসবে ‘এন্ড প্রোডাক্টে’। মানে, হেডফোনে। ধারণাটা ভাঙ্গলো একটা হেডফোন অ্যাম্প দিয়ে শুনে। সাধারণত: গান শুনি কম ভলিউমে। খুব বেশি হলে ৩০ শতাংশে। তাহলে কেন দরকার অ্যাম্প? গানের যন্ত্রগুলোর সাউন্ড সেপারেশন, আর ‘সাউন্ডস্টেজ’ শুনেই পড়ে গেলাম চেয়ার থেকে। ইনস্ট্রুমেন্টগুলো এতদিন ছিলো মাথার মাঝখানে। এখন দেখি সেগুলো আসছে সবদিক থেকে। ভীষণ ভয় পেলাম প্রথমে। ধাতস্থ হবার আগেই পড়ে গেলাম নিচে। ভাগ্যিস, হাত দিয়ে ধরেছিলাম বলে রক্ষা।

তো ভলিউম বাড়াতে কিন্তু এই অ্যাম্প নয়। বরং পুরো হেডফোনকে ঠিকমতো দাবড়াতে লাগে এই অ্যাম্প। সেটার জন্য দরকার ওই ‘ক্লিন’ ‘ডিস্টরশন ফ্রি’ কিছু বেশি কারেন্ট। বেশি কারেন্ট মানে ভলিউম বেশি নয়, বরং পুরো ড্রাইভারটাকে প্রয়োজন মতো চালানোর জন্য দরকারী কারেন্ট। আবার বেশি ইম্পিডেন্সের হেডফোন চালাতে গেলে দরকার বেশি কারেন্ট। দেখা গেছে, ভালো হেডফোনগুলো সাধারণতঃ বেশি ইম্পিডেন্সের হয়।

জার্মানীর বেয়ারডাইনামিকের ডিটি ৯৯০ আমার প্রিয় হেডফোনের একটা। এটার আবার ভার্সন আছে তিনটা। মোবাইল ডিভাইসের আউটপুট পাওয়ার কম বলে সেটার জন্য আছে ৩২ ওহমসের একটা ভার্সন। এছাড়াও আছে ২৫০ আর ৬০০ ওহমসের দুটো এডিশন। হেডফোনের ইম্পিডেন্স নির্ভর করে ওটার ভয়েস কয়েলের ওপর। বিজ্ঞান বলে যতো প্যাঁচ, ততো চৌম্বক ক্ষেত্র। বেশি প্যাঁচ দিতে লাগবে ততো সুক্ষ তার। যতো সুক্ষ, ততো বাতাস কম ওই প্যাঁচগুলোর ভেতর। আর তাই কম ডিস্টরশন। ফলে, ততো ‘স্মুদ’ আওয়াজ। আর এই ৬০০ ওহমসের হেডফোনকে চালাতে লাগবে হেডফোন অ্যাম্প। আরেকটা কথা, অনেকের বাসায় তো আছে ৩০০০ ওয়াটের সাউন্ড সিস্টেম। তবে ‘পাসল্যাব’য়ের ৩০ ওয়াটের অ্যাম্পের কাছে কেন মুখ লুকোয় ওই ৩০০০ ওয়াটের সাউন্ড সিস্টেম?

‘ড্যাক’ আর ‘অ্যাম্প’ কেন দরকার সেটা নিয়ে কোন কনফিউশন নেই তো আর? প্রশ্ন করলাম নিজেকেই। ‘ড্যাক’ দরকার মিনারেল ওয়াটারের মতো ষ্টুডিওর ‘ক্লিন’ ‘প্রিস্টিন’ শব্দের জন্য। যেভাবে ‘গায়ক’ আসলেই চেয়েছেন আপনাকে শুনতে। আর ‘অ্যাম্প’ দরকার হেডফোনকে দাবড়ানোর জন্য, সেটার পুরো ক্ষমতায়। যথেস্ট পাওয়ার দিতে পারছে কিনা সেটার জন্য। ভলিউমের জন্য নয়। ‘ম্যাড়ম্যাড়ে’ শব্দ নয়, ‘পাঞ্চি’ বলে কথা। এছাড়াও কিছু গল্প আছে ‘পারফেক্শনিস্ট’দের জন্য।

মনে আছে স্পিকার ডিজাইনের কথা? শব্দের ওপর পুরো স্পিকার সাব-সিস্টেমের প্রভাব? ধরুন কিনলেন বিশ্বের এক নম্বর ড্রাইভার। প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত এই টুইটার আর উফার। মার্কেটিংয়ের ধারায় নয়। তবে, এক নম্বর ড্রাইভার কিনেও লাভ হয় না বেশিরভাগ সময়ে। যদি না সেটাকে ‘ইমপ্লিমেন্ট’ করা হয় ঠিকমতো। যদি না স্পিকার সাব-সিস্টেমের ডিজাইন করা হয় নিয়মমাফিক। ব্যাপারটা এমন, এলিডি প্যানেল নিলেন স্যামস্যাংয়ের, ফিড দিলেন ভিজিএ, কাজ হবে বলুন?

আমার একটা ফেভারিট পাসটাইম হচ্ছে নতুন সব ইলেকট্রনিকসের জিনিস খোলা। ছোটবেলার অভ্যাস। ফোনও আছে এর মধ্যে। কম পোড়াইনি ভেতরের বোর্ড। সমস্যা হয় না খুব একটা। আলিএক্সপ্রেস আছে কি করতে? বোর্ড পোড়াই একেকটা, সেই পার্টসটা নিয়ে আসি ওখান থেকে। আর সে কারণে আমার হাতের দুটো ফোনের প্রায় ৬০ শতাংশ কোন না কোন পুরোনো ফোন/আলি-এক্সপ্রেস থেকে নেয়া। মাঝখানে কষ্টে থাকে ফোনের কাস্টম রমগুলো। ফ্ল্যাসের ঝক্কি নিতে পারাও ফোনগুলোর একটা বড় ফিচার।

ফোন খোলার পেছনে কারণ কয়েকটা। বোঝা যায় ইন্ডাস্ট্রি যাচ্ছে কোন দিকে। কে ব্যবহার করছে কোন চিপসেট? আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার ‘কেন’? কার ‘অডিও ইমপ্লিমেন্টেশন’ নিচ্ছে তারা? আসল যুদ্ধের মতো মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলোর যুদ্ধ দেখার মতো। সামরিক বিদ্যার দৌড়ে বেশ ভালো করেই বোঝা যায় কার ‘ট্যাকটিকস’ কেমন। কে কখন কি ‘স্ট্রাটেজি’ নিচ্ছে সেটাও বোঝা যায় ওই ঘটনার পর। সত্যি বলছি। চেখে দেখতে পারেন সান জু’র ‘আর্ট অফ ওয়ার’ বইটা। ঠিক বলেছেন, আড়াই হাজার বছর আগের লেখা।

ভালো হার্ডওয়্যার দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে একেকটা কোম্পানি। তবে যে যাই দিক, যে করতে পারছে স্মার্ট ‘ইমপ্লিমেন্টেশন’, সেই যাচ্ছে এগিয়ে। স্মার্ট ‘ইমপ্লিমেন্টেশন’ মানে সফটওয়্যার আর হার্ডওয়্যারের অনন্য সমন্বয়। দেখুন ‘ওয়ানপ্লাস’, ‘শাওমি’ করছে কি এখন? কেন বিপদে পড়লো ‘নোকিয়া’? তার মানে কি শেষ ‘নোকিয়া’? আমার মন বলছে ঘুরে দাড়াবে কোম্পানিটা। শেষ কামড়ের জন্য। আমার জানা মতে, হার্ডওয়্যার ইমপ্লিমেন্টে সেরা ছিলো ওরা। মানুষের মন কেড়ে নিয়েছিলো ওদের ‘রক সলিড’ হার্ডওয়্যার ইমপ্লিমেন্টে। এদিকে অ্যান্ড্রয়েডের সস্তা সল্যুশন (বাজে হার্ডওয়্যার) নিয়ে বিরক্ত মানুষ। নষ্ট হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি। আমার রিডিং তাই বলে। অ্যান্ড্রয়েড তুখোড় সিস্টেম। তবে বাজে হার্ডওয়্যার বিরক্ত করছে মানুষকে। অন্ততঃ আমাদের দেশে। আর তাই গড়ে উঠেছে ফোন রিপেয়ার শপ। গলিতে গলিতে। সাপ্লাই আর ডিমান্ডের খেলা।

ব্র্যান্ডের ব্যাপারে আমার উপলব্দি কিছুটা ভিন্ন। ফোনগুলো ‘পাওয়ারফুল’ হচ্ছে অনেক অনেক বেশি। প্রতিটা নতুন নতুন মডেলে যোগ হচ্ছে অনেক দামী দামী অডিও ‘ড্যাক’। বিশেষ করে – দামী ফোনগুলোতে। কোয়ালকমের ‘স্ন্যাপড্রাগন’ প্রসেসরও ইমপ্লিমেন্ট করছে দারুন অডিও ফিচার। প্রতিদিন। এলজি, স্যামস্যাং, অ্যাপল নিজে থেকেই ‘ড্যাক’ নিচ্ছে ‘উলফসন’, ‘স্যাবর’ আর ‘সাইরাস লজিক’ থেকে। বলে রাখা ভালো এই কোম্পানিগুলোর ‘ড্যাক’ ইমপ্লিমেন্টশন চলছে দুনিয়া জুড়ে। ‘টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস’ই বা বাদ যাবে কেন? মোবাইলে হয়তোবা আসছে মোবাইলের ‘লো পাওয়ারড অডিও ইমপ্লিমেন্টেশন’, সেটাও অনেক ভালো।

আমার কথা অন্যখানে। স্মার্টফোন অডিও হচ্ছে ‘নিশ’ মার্কেট প্রোডাক্ট। ‘নিশ’ মার্কেট হচ্ছে এজন্যই, অডিওফাইলদের কেউ গান শোনার জন্য কেনে না স্মার্টফোন। অন্ততঃ আমি না। ‘কট্টর’ অডিওফাইল নই আমি। আবার অডিওফাইলরাও ব্যবহার করছেন ফোন দরকারে। তাহলে হলো কি? হাতের কাছে ফোন থাকে বলে ‘অডিও বাইপাস’ করছেন ওই ফোন থেকেই। তারপর সেটাকে পাঠাচ্ছেন ডেডিকেটেড ‘ড্যাক’ আর ‘অ্যাম্পে’। মানে ফোনে কি ‘ড্যাক’ আছে কি নেই সেটা নিয়ে মাথা ঘামান না অডিওফাইলরা। আর সেটা ভালো করে জানেন ফোন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলো। সত্যি বলছি! আর জানেন বলে লাখ টাকার ফোনে দেন ‘শ’ টাকার হেডফোন। ফোনের ‘ড্যাক’ ৮০ শতাংশ ‘পরিশুদ্ধ’ অডিও পাঠালেও সেটার অর্ধেকটাও নিতে পারে না আমাদের সাথে দেয়া ‘স্টক’ হেডফোন।

‘ড্যাক’ চিপসেট নিয়েও আছে গল্প। আমাদের সিডি প্লেয়ার থেকে শুরু করে ডেডিকেটেড ড্যাক/অ্যাম্প বোর্ডে যে চিপসেট থাকে সেগুলোর সাউন্ড সিগনেচার একেক রকমের। আসলেই তাই! বিশ্বাস করতাম না আগে। এমনকি এক কোম্পানির দুই ধরনের চিপসেট ইমপ্লিমেন্টেশনের সিগনেচার অনেকটাই আলাদা। যাবো কই?

তবে এটা সত্যি – ড্যাক/অ্যাম্প বোর্ডে ড্যাক চিপসেট নিয়ে মাথা ঘামাতাম না আগে। দেখতাম, শব্দের ‘মিষ্টি’ভাব অথবা ‘ওয়ার্ম’নেস অনেকটাই নির্ভর করতো অ্যাম্পের ওপর। তাই অ্যাম্প ইমপ্লিমেন্টেশনে মনোযোগ ছিল বেশি। স্পেসিফিকেশন দেখে ভালো লাগতো যে ড্যাক, দেখা গেলো সপ্তাহ শেষে ভালো লাগছে না আর। কাহিনী কি? মন খারাপ হবার কথা। জ্যাকসন ব্রাউনের ‘ইনাফ অফ দ্য নাইট’টাও আবেদন হারালো শেষে। যে ‘স্যাবর’ চিপসেটকে বলা হয় বিশ্বসেরা, তার অ্যানালাইটিক্যাল শব্দ শুনে মন টেকে না আর। দেখা গেলো ‘টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টে’র সস্তা ড্যাক চিপই টানছে মন। বার ব্রাউনও খারাপ নয়। একদিকে ‘উলফসন’ আর ‘সাইরাস লজিক’ ওদিকে ‘স্যাবর’ আর ‘একে’ চিপসেট। ‘এনালগ ডিভাইসেস’ না ‘ফিলিপস’? বেশি ক্লিনিক্যাল বলে ভালো লাগছে না আর। এশিয়ান বলে এই অবস্থা?

[…]

%d bloggers like this: