Feeds:
Posts
Comments

The best time to plant a tree was 20 years ago. The second best time is now.

– Chinese Proverb

ক॰

সমস্যাটার শুরু প্রায় এক দশক আগে। ছুটাছুটির চাকরি। আজ এখানে তো কাল ওখানে। শেষমেষ ‘পীস কীপার’ হিসেবে পোস্টিং হলো কঙ্গোতে। ঘুরাঘুরিই বেশি। ঘুমের সময় ছাড়া বাকিটা হিসেব করলে – পুরোটাই রাস্তায়। নিজ দ্বায়িত্বের এলাকা, যাকে বলে ‘এরিয়া অফ রেস্পন্সিবিলিটি’ – ইঞ্চি ইঞ্চি করে না জানলে বিপদ। মানুষের জীবন বলে কথা। পুরো এলাকা থাকতে হবে নিজের নখদর্পণে। কন্সট্যান্ট ভিজিল্যান্স। পায়ে হাটা অথবা গাড়ি – পায়ের মাইলোমিটারে লাখ মাইল পার হয়েছে নিশ্চিত।

খ॰

রাস্তায় নামলেই হাজার চিন্তা কিলবিল করে মাথায়। একটা এদিকে হলে আরেকটা ওদিকে। মাথা মুন্ডু ছাড়া চিন্তাভাবনা। দিন কয়েক পর বেস ক্যাম্পে ফিরলে বসতাম ইউএন এর কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট নিয়ে। সভ্যতার সাথে একমাত্র ‘ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ’ – ওই স্যাটেলাইট লিংক। একসময়, প্লট করতে শুরু করলাম চিন্তাগুলোকে। ‘চ্যানেলাইজ’ করতে তো হবে কোথাও। একেকটা চিন্তা একেকটা ডট। কানেক্টিং দ্য ডট’স ব্যাপারটা বুঝলাম অনেক পরে। চল্লিশের আগে নাকি ব্যাপারটা আসে না মাথায়?

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

গ॰

আগের ঘটনা আরো চমত্‍প্রদ। কঙ্গোতে যাবার ঠিক আগ মূহুর্তে ফিরেছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিগন্যাল স্কুল থেকে। থাকতে হয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য। প্রায় নব্বই বর্গ মাইলের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেলিকম্যুনিকেশন ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। যায়গাটাও জর্জিয়ার একটা অজ পাঁড়া গাঁয়ে। সন্ধার পর কুপি জ্বলার মতো অবস্থা। স্কূল থেকে ফিরে কাজ না পেয়ে হাত দিলাম রান্নায়। কাঁহাতক আর খাওয়া যায় ফাস্ট ফুড! পিএক্স থেকে এটা কিনি, ওটা কিনি। বাসায় এসে ভয়াবহ ধরনের ‘টেস্ট এণ্ড ট্রায়াল’। অসুবিধা কি? গিনীপিগ তো নিজে। ক্ষান্ত দিলাম স্মোক ডিটেক্টরের পানির ঝাপটা খেয়ে। বার কয়েক। তবে, একেবারে ক্ষান্ত নয়, কমিয়ে দিলাম গতি। মনোযোগ সরালাম নতুন দিকে।

ঘ॰

বিশাল লাইব্রেরী। এটা ওটা ইস্যু করি, টাইম লিমিটও অসহনীয় লম্বা। পুরনো পত্রিকা, দুস্প্রাপ্য বই সব মাইক্রোফিশেএকদম নতুন বই লাইব্রেরীতে না থাকলেও সেটা কিনে এনে চেকআউট করিয়ে রাখতেন লাইব্রেরিয়ান। আমাজনের বেস্টসেলার লিস্ট দেখা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেলো ওই সময়ে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ‘বেস্টসেলার’গুলো লিখছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ। মানে, পেশাদার লেখক নন তারা। সাহস পেলাম। যাই লিখি, পাঠক পেতেই হবে বলেছে কে? মনের খোরাক মেটানোর জন্য লেখা। ওই বিরানব্বই থেকে। সেথ গোডিংয়ের গলা শুনি প্রায়ই। শিপ, বাডি! শিপ!

ঙ॰

দেখা গেলো ওই ‘বেস্টসেলার’দের কেউ ছিলেন স্টক এক্সচেঞ্জের হর্তাকর্তা, কেউ সিআইয়ের চীফ। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। সরকারী কর্মকর্তা। নেভী সীল। ফুটবল কোচ। জিমন্যাষ্ট। তারা লিখছেন পেছনের অনেকগুলো বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে। ব্যর্থতা থেকে সফলতার গল্প। যা আসলে সাহায্য করছে ওই পড়ুয়া মানুষদের। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। বিতর্কিত জিনিস নিয়ে যে লেখা হয়নি তা নয়। লিখেছেন রেচেল মোরানের মতো পেশাজীবীরা। মানে – লেখা হয়েছে প্রায় সব বিষয় নিয়ে। বের হয়ে এসেছে অনেক সমস্যার কথা। সেই ভুল থেকেও শিখছে দেশ। সমালোচনা নিতে পারার মানসিকতার দেশগুলো ওপরে উঠছে দ্রুত। আবার লিখছেন জাতির পিতারা। আজকের ‘আধুনিক’ সিঙ্গাপুরের পেছনে যিনি ছিলেন তারো বই আছে কয়েকটা। নেলসন ম্যানডেলা’র বইটা পড়েছেন নিশ্চয়। সাতাশ বছরের অবিচারের ঘৃণাটা মূহুর্তে গিলে ফেলার ঘটনাটা অজানাই থাকতো বইটা না পড়লে। পড়ছি সবই, বুঝতে পারছি ভালো মন্দ। মন্দটা ফেলে ভালো নিয়ে এগুচ্ছি সবাই আমরা, সময়ের বিবর্তনে। অন্যের কাছ থেকে শিখে। পেছনে লেগে নয়।

চ॰

জ্ঞান কিন্তু রি-ইউজেবল। ব্রিটেনের লেগেছে দুশো বছর প্রায়। শুধু শিখতেই। শিল্পবিপ্লব থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিখেছে ব্রিটেন থেকে। তাদের লোক পাঠিয়ে। নোটবই ভরে নিয়ে আসতো তাদের অভিজ্ঞতার কথা। জাহাজে করে। সেটা কাজে লাগিয়ে ওই ব্রিটেনের সাথে টক্কর দিয়েছে অনেক কম সময়ে। ‘লীড টাইম’ কমিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় একশো বছর। এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই শেখার চর্চাটা ধরে রেখেছে বলে তারা এখনো শীর্ষে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শত বিপত্তির মধ্যে উদ্ভাবনা দিয়ে আছে টিকে। নিজেদের দেশে মানুষ কম বলে বাইরের বাজার দখলে ব্যস্ত তারা। এখন বোকারাই বলে যুদ্ধের কথা, বাজার দখলে কে কাকে বাজার বানাতে পারে সেটাই হচ্ছে বড় যুদ্ধ। রক্তপাত ছাড়াই ‘আউটবাউন্ড’ ক্যাশফ্লো!

ছ॰

এশিয়ান দেশগুলো আরো বুদ্ধিমান। ইউরোপ আর অ্যামেরিকা থেকে শিখে সেটা কাজে লাগিয়েছে গত তিরিশ বছরে। এখন টক্কর দিচ্ছে সবার সাথে। হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অন্যের ‘ঠেকে শেখা’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়েছে বেশি। পাশ্চাত্যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা করেনি সেটা জানলেই তো হলো! তার সাথে মেশাও ‘লোকাল কন্ডিশন’। আমি এটাকে বলি, ‘ঘুটা’, মানে জ্ঞানের ডিফিউশন। মেলাও হাজারো জ্ঞানের অভিজ্ঞতা। গরীব দেশ হলেও কোন সরকারী কর্মকর্তাকে তো মানা করা হয়না বৈদেশিক ভ্রমনে না যেতে। অথচ কর্পোরেট হাউসে কৃচ্ছতা সাধনে প্রায় সবই চলছে ভিডিও কনফেরেন্সে। দেশের একটাই চাওয়া, শিখে আসা জ্ঞানটা কাজে লাগবে দেশের উন্নতিতে। প্রাথমিক জ্ঞানটা পাবার পর বাকিটা শেখার বাহন হচ্ছে ইন্টারনেট। আর সেকারণে ইন্টারনেট নিয়ে লাগা। জ্ঞান ছড়িয়ে আছে সব যায়গায়, দরকার তার প্রয়োগ।

ঝ॰

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেলেন জ্ঞান ‘ক’। এদিকে সিংগাপুর দিলো ‘খ’ জ্ঞান, ভিয়েতনাম থেকে নিয়ে এলেন ‘গ’। এখন – আমাদের স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্ডিকেটরের সাথে মিলিয়ে যেটা যখন কাজে লাগে সেটাই ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অনেকে এটাকে বলে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। মানে, যেটা কাজ করেছে অনেক যায়গায়। ‘ওয়েল টেস্টেড’। টেস্ট পেপার সলিউশনের মতো কিছুটা। দেখা গেছে – ওভাবে কাজটা করলে জিনিসটা মার যাবার সম্ভাবনা কম। টেস্ট এণ্ড ট্রায়ালের পর ফুলপ্রুফ হয়েই নাম হয়েছে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। দেশের ‘লোকাল কন্ডিশন’কে বেস্ট প্র্যাকটিসে ঘুঁটানোতেই রয়েছে মুন্সিয়ানা। ইন্টারনেটকে ছড়িয়ে দেবার ওই ধরনের ‘টেম্পলেট’ নিয়ে কাজ করেছি গত সাত সাতটা বছর।

ঞ॰

মনে আছে বৈজ্ঞানিক নিউটনের কথা? ‘আমি যদি আজ বেশি দেখে থাকি অন্যদের চেয়ে, সেটা পেরেছি পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের ভিত্তিতে’। উন্নতবিশ্বের আজকের যা উন্নতি তার সবটাই এসেছে ওই ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস’ কথাটার ওপর ভিত্তি করে। আজ জানি আমরা ট্রানজিস্টর কি – আর কিভাবে কোটি ট্রানজিস্টর থাকে একটা চিপসেটে। নতুন করে ওই ট্রাংজিস্টর উদ্ভাবন না করে বরং কোটি ট্রাংজিস্টরের চিপসেট দিয়ে আর কি কি করা যায় সেটাই ভাববার বিষয়। আর তাই আগের জ্ঞানের ‘ডিফিউশন’ দিয়ে নতুন উদ্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ওপরে উঠছে নতুন ইমার্জিং দেশগুলো। এটাকে বলা হয় লিপ-ফ্রগিং।

য॰

সামরিক বাহিনীর স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার বিটিআরসিতে আসা। টেকনোলজি নিয়ে একসময় লিখতাম কিছু পত্রপত্রিকায়। শুরুতেই ঝামেলা। ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট – নতুন যাই লিখি সেটা নিয়ে মাথা নাড়াচ্ছিলেন অনেকেই।

“ভালো, তবে সমস্যা অন্যখানে। এটা সম্ভব নয় এদেশে।”

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

বলেন কি? অবাক হয়ে তাকাই উনাদের দিকে। নীতিমালায় আটকানো আছে জিনিসগুলো। মানে আমরা আটকে আছি আমাদের জালে। জিনিসপত্র না জানার ফলে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। যুক্ত থাকার হাজার সুবিধার মূলে হচ্ছে মানুষের মুক্তি। সেটা প্রথমে আসবে অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে, জ্ঞান দেবে আমাদের প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা। সোশ্যাল মিডিয়ার বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করেছিলাম একটা এজেন্সিতে বসে। যুক্ত থাকার ফলে আজ যা দেখছেন, এটা আইসবার্গের ছোট্ট একটা টিপ। আরব বসন্ত, একটা উপসর্গ মাত্র। পালটাচ্ছে পৃথিবী, পাল্টাবো আমরাও। ভালোর দিকে। দরকার ইন্টারনেটের মতো কিছু টুলস।


The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

― Mark Twain

র॰

বইগুলো লিখছি কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে। বিটিআরসির সাত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে ঘোরার অন্তর্জালা থেকে মুক্তি পেতে এ ব্যবস্থা। নোটবই সেনাবাহিনীতে পোশাকের অঙ্গ হবার ফলে মিস করিনি খুব একটা। জিম রনের অমোঘ ‘নেভার ট্রাস্ট ইয়োর মেমরী’ বাণীটা খুব একটা বিচ্যুতি আনতে পারেনি ‘নোট টেকিং’য়ে। এখন যুগ হচ্ছে ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোটে’র। হাতির স্মৃতি বলে কথা – মাটিতে পড়ে না কিছুই। দেশ বিদেশের ফোরাম, যেখানে গিয়েছি বা যাইনি – হাজির করেছি তথ্য। টুকেছি সময় পেলেই। ভরে যাচ্ছিলো নোটবই। ‘এভারনোট’ আর ‘কীপের’ ভয়েস মেমোতে। পয়েন্ট আকারে। প্রোগ্রামিংয়ের মতো পয়েন্টারগুলো লিংক করা ছিলো মাথায়। ভুলে যাবার আগেই বইগুলোর ব্যবস্থা।

ল॰

আরেকটা সমস্যা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে – ওই ছোটবেলা থেকে। কোন জিনিস ধরলে সেটার শেষ না দেখলে ঘুম আসে না আমার। বিশাল বিপদ। আগে ভাবতাম সমস্যাটা আমার একার। ভুল ভাঙ্গলো দুনিয়া দেখতে দেখতে। ইনডাস্ট্রিতে একই অবস্থা। একেকটা রিসার্চ, সফল না হওয়া পর্যন্ত পড়ে আছে মাটি কামড়ে। মনে আছে, হেনরী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার তৈরির কথা? এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো। বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারটাও তৈরি হয়েছে কয়েকটা জেদি মানুষের জন্য। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে উজাড় করে দিয়েছেন তার জ্ঞানকে। বাকিটা আমাদের পালা।

শ॰

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজার বারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজারবারের ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজারটা স্টেপ।

ষ॰

টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় ভাসা ভাসা কাজের উপযোগিতা কম। রেগুলেশনেও একই অবস্থা। দরকার স্পেশালাইজেশন – বাজার বুঝতে। ঢুকতে হবে ভেতরে, অনেক ভেতরে। পুরোটাই অর্থনীতিবিদদের কাজ। ভবিষ্যত না দেখতে পারলে এ ব্যবস্যায় টিকে থাকা কঠিন। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর জাহাবাজ লোকেরাও মাঝে মধ্যে অত ভেতরে ঢুকতে পারেন না। স্পেশালাইজেশন বলে কথা। সেখানেই আসে টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং কোম্পানিগুলো। ওদের কাজ একটাই, আর এন্ড ডি, সারাবছর ধরে। আবার সেই কনসাল্টিং ফার্ম একই ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছে সব টেলিযোগাযোগ কোম্পানির জন্য। স্পেশালাইজড না হয়ে যাবেই বা কোথায় তারা? আর সেই সল্যুশনের জন্য মিলিয়ন ডলারের নিচে কথা বলেন না কেউই। আর বলবেন নাই বা কেন? এধরনের আর এন্ড ডির জন্য কম কষ্ট করতে হয়না তাদেরকে। প্রচুর রিপোর্ট পড়েছি এই কনসাল্টিং ফার্মগুলোর। রিপোর্টতো নয় যেনো হাতের রেখা পড়ছেন। ভবিষ্যত দেখা যায় রীতিমত। মিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং বলে কথা। টার্গেট দিন এক কোটি কর্মসংস্থানের। তৈরি করে দেবো প্রায়োগিক ফর্মুলা। হতে বাধ্য। জানতে হয় ভবিষ্যত দেখতে। বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি খানিকটা।

ট॰

তাই বলে সব কনসাল্টিং ফার্ম এক নয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, কনসাল্টিং ফার্মের দোষ না দেখে যিনি কাজ দিয়ে বুঝে নেবার কথা – তার কম্পিটেন্সিতে ঘাটতি থাকলে রিপোর্ট খারাপ হতেই পারে। আমি কিনছি রিপোর্ট, না বুঝে কিনলে কনসাল্টিং ফার্মের দোষ দিয়ে লাভ কি? গরীবদেশগুলোতে প্রচুর কনসালটেন্সি হয় বটে, তবে সে দেশগুলো সেগুলো ঠিক মতো বুঝে নেবার সামর্থ বা জ্ঞান থাকে না বলেই ঝামেলা হয়। ডোনারদের টাকায় কনসাল্টেন্সি হলে সেটার অবস্থা হয় অন্য রকম। রিপোর্ট নিজের মনে করে বুঝে নিতে পারলে সেটার দাম মিলিয়ন ডলারের বেশি। সে ধরনের রিপোর্ট বুঝে নিয়েছিলাম বেশ কয়েকটা। পোস্ট-ডক করা যাবে কয়েকটা।

ঠ॰

কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হলো বিশ্বখ্যাত অনেকগুলো টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং ফার্মের সাথে। এর সাথে যোগ হলো ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আর কমনওয়েলথ টেলিকম্যুনিকেশন অর্গানাইজেশনের (সিটিও) আরো অনেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্ট। ধারণা পেলাম তাদের কাজের। পড়তে থাকলাম আরো হাজারো রিপোর্ট। দামী সব রিপোর্ট, তবে তার দাম কোনো কোনো দেশ বা এজেন্সি দিয়ে দিয়েছে আগেই। পরিচয় হলো ওভাম, অ্যাকসেন্চার, কেপিএমজি, পিডাব্লিউসি, নেরা আর এনালাইসিস ম্যাসনের মতো তুখোড় তুখোড় ফার্মের সাথে। আবার নিজের প্রতিষ্ঠানেরই কাজ করতে পরিচয় হলো মার্কিন ফার্ম টেলিকমিউনিকেশনস ম্যানেজমেন্ট গ্রূপ, ইনকর্পোরেশন (টিএমজি)র সাথে। তাদের ধরনটাই বুঝতে সময় লেগেছিলো বেশ। তলই পাচ্ছিলাম না প্রথমে। বিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং কোম্পানি বলে কথা। পরিচয় হলো অনেকের সাথে। বন্ধুত্ব হলো অনেকের সাথে। হাতে ধরে দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ‘ফল্ট-লাইন’গুলো।

ড॰

একসময় তল পেলাম এই ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ফার্মগুলোর কাজের ধারার। পৃথিবী জুড়ে কাজ করার ফলে কোথায় কি সমস্যা সেটা তারা জানে ভালো। আর সেটা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেয়া ওদের একমাত্র কাজ বলে ওটাও সে জানে ‘অসম্ভব’ ভালো। গরীব দেশগুলোতে হাজার কোটি টাকার ম্যানেজমেন্ট কন্সাল্টেনসি করে টাকা বানালেও সেটার ব্যর্থতার দায় দেয়া যাবে না তাদের ওপর। ওই দেশের – যাদের ‘কন্সাল্টেনসি’টা বুঝে নেবার কথা তারা ‘ছাড়’ দিলে কাজ হবে কিভাবে? উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাড়াতাড়ি ওপরে উঠতে হলে লাগবে কন্সাল্টেনসি, তবে সেটা ‘পাই’ ‘পাই’ করে বুঝে নেবার মতো থাকতে হবে মানুষ। দু চারটা বৈদেশিক ভ্রমণে ব্যাপারটা উপেক্ষিত হলে জ্ঞান আর প্রজ্ঞাটা হারায় দেশ।

ঢ॰

ব্যাপারটা অনেকটা বিজনেস প্ল্যান কেনার মতো। ও আমাকে বানিয়ে দিলো একটা। না বুঝে দিয়ে দেবো পয়সা? সমস্যা হয় যখন সেটা হয় ‘সরকারী’ মানে জনগণের পয়সা। একারণে উন্নতদেশগুলো ছোট করে নিয়ে আসছে সরকারগুলোকে। যাই হয় সব পার্টনারশীপে। যারাই থাইল্যান্ড গিয়েছেন মুগ্ধ হয়েছেন তারা – বিশাল বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার দেখে। বেশিরভাগ ইনফ্রাস্ট্রাকচারই কিন্তু পিপিপি’র মডেলে করা। সরকারের অতো পয়সা থাকে না কোথাও। পিপিপি হচ্ছে গিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ। পয়সা যোগান দেবে বেসরকারী কোম্পানি – কাগজ দেবে সরকার, আইনগত ভিত্তি সহ। ‘উইন’ ‘উইন’ ব্যাপার। পয়সা লাগলো না সরকারের। কর্মসংস্থানও হলো। আমাদের পিপিপি নীতিমালা তৈরী হয়নি এখনো।


There is no ‘poor’ country, they are ‘poorly’ managed.

― Slightly modified

ণ॰

উন্নত দেশগুলোতে অনেক বড় বড় কাজে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না জনগণ। কারণ এই পিপিপি। যেকোনো দেশের উন্নতির ইনডিকেটর বোঝা যায় ওদেশের পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেম দেখে। মানে জনগন কতো সহজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারছেন – নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। ঢাকা শহরে সেটার অবস্থা আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেও খারাপ। অথচ ব্যবস্যা বান্ধব পিপিপি নীতিমালা থাকলে প্রাইভেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিতে পারতো সরকারের কাছে। তৈরী করতো ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’। ভাগ করে ফেলতো পুরো শহর – চার পাঁচ ভাগে। একেকটা ভাগের রুট নিয়ে দেন-দরবার করতো কনসেশন পিরিয়ডটা নিয়ে। এই রুটটা দাও আমাকে পঞ্চাশ বছরের জন্য। তৈরী করবো স্কাই ট্রেন। ইনফ্লেশন হিসেব ধরে ভাড়ার একটা চার্ট জমা দিতো সরকারকে।

স॰

সফটওয়্যারের মানুষ হিসেবে শূন্য ভার্সন থেকে শুরুতে বিশ্বাসী আমি। শুরু করতে হবে কোথাও। নিউটনের কথায় ফিরে আসবো আবার। ষ্টান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস। আমাদেরও এগুতে হবে পূর্বসূরীর অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে। গাছ রোপণ করার কথা ছিল বিশ বছর আগে। সেটা না হলে কি থাকবো বসে? বরং – লাগাবো আজই। বাংলাদেশের ‘যুক্ত’ হবার এজেন্সিতে চাকরি করার সুবাদে গরীব দেশ আমার ওপর যা ইনভেস্ট করেছে সেটা ফিরিয়ে দেবার জন্য নিয়েছি নগণ্য একটা প্রয়াস। নাম দিয়েছি প্রজেক্ট ‘গিভিং ব্যাক’। ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার ‘চিটকোড’ হিসেবে ধরুন ব্যাপারটাকে। ব্রডব্যান্ডে সফল দেশগুলোর ধারণা নিয়ে ‘আমাদের আঙ্গিকে’ কোডটাকে ‘ক্র্যাক’ করতে চেষ্টা করেছি মাত্র। আর, পয়সার জন্য ওর সাথে থাকবে ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ফান্ড। আর এসপিভিলাগবে এটাও

দরকার আপনার সুচিন্তিত মতামত। ওই মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাঠামোগত পরিবর্তন আনবো বইগুলোতে।

প্রি-প্রোডাকশন স্টেজ: কাজ চলছে এখনো

প্রথম বই: ইন্টারনেটের মুল্যঃ যে কারনে এখনো ধরাছোয়ার বাইরে

দ্বিতীয় বই: বাতাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দক্ষ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা পাল্টে দিতে পারে বাংলাদেশকে

তৃতীয় বই: রেগুলেট অর নট টু রেগুলেট? চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেটর ও বাংলাদেশ

* লিংকগুলো যুক্ত করা হয়েছে কয়েকটা ব্লগপোস্টের সাথে। পুরো বইগুলো আসবে আস্তে আস্তে – প্রিন্টে।


০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সাশান্দ্রা, আইভরি কোস্ট

The greatest leader is not necessarily the one who does the greatest things. He is the one that gets the people to do the greatest things.

- Ronald Reagan

৬৬৪.

আমাদের মতো দেশগুলোতে ব্রডব্যান্ডের আসল পেনিট্রেশন (এক মেগাবিটস/সেকেন্ড এবং তার ওপরে) কিন্তু অনেক কম। আইএসপিদের দরকারী ইনফ্রাস্ট্রাক্চার না থাকলে যা হয় আর কি। এদিকে ‘ওয়ারলেস ব্রডব্যান্ড’ ধরে রাখতে পারছে না তাদের নির্ধারিত গতি, স্পেকট্রামের অভাবে। এদিকে, কমছে না দাম। ব্রডব্যান্ড বাজারকে প্রণোদনা দেবার জন্য একেক দেশ একেক ধরনের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে থাকে তাদের নিজস্ব ‘লোকাল কন্ডিশন’ অথবা ‘সারকামস্টান্সের’ ওপর। একেক দেশের একেক ধরনের ইতিহাস, রেগুলেটরী স্ট্রাকচার, অর্থনৈতিক অবস্থা, দেশের সন্মিলিত ‘দর্শন’ আর সেটা থেকে কি চাইতে পারে দেশটা, জনগণের ভালোর জন্য। ওই দেশের রাজনৈতিক চর্চা আর ব্রডব্যান্ডকে রাজনৈতিকভাবে মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাজে কিভাবে লাগানো যায় সেটার হিসেবও আলাদা – দেশ ভেদে।

৬৬৫.

তবে, দেশগুলো যতো আলাদাই হোক না কেন, এই বইয়ে আলোচনা করা নীতিমালাগুলো ব্যবহার এগিয়েছে উন্নত দেশগুলো। তার সুফল দেখতে পাচ্ছেন আপনার চোখের সামনে। উন্নত দেশগুলোতে। প্রায়োগিক দিকটা কিছু এদিক ওদিক হতে পারে, এই যা। প্রথমত: সবাই মেনে নিয়েছে সরকার নয়, বরং বেসরকারী খাত এগিয়ে নিয়ে যায় এই ব্রডব্যান্ড বাজারটাকে। মনে আছে ডাব্লিউটিও’র টেলিকম রেফারেন্স পেপারটার কথা? এদিকে, বড় বড় নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাক্চার তৈরি করেছে আমাদের সরকারী কোম্পানী। যতো জনগণের টাকা ইনভেস্ট হয়েছে সেটার ‘আরওআই’, ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ খুবই নগণ্য। এদিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো হোলসেল সার্ভিস কিনছে বেসরকারী নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার থেকে। অথচ, ব্যাপারটা ‘ওপেন অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক’ নীতিমালা করে প্রাইভেট সেক্টরের ওপর ছেড়ে দিলে বেঁচে যেতো জনগণের ওই পয়সাটা। খরচ করা যেতো স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতে। অথবা সবার জন্য আবাসন।

৬৬৬.

একসময় ছিলো যখন সরকার করতো সবকিছু, তখনও একটা টেলিফোনের সংযোগ পেতে বসে থাকতে হতো বছরের পর বছর। প্রাইভেট সেক্টর আসার পর ওই সংযোগটা কেনা যায় দোকানে গেলেই। এছাড়া আমাদের মতো সরকারের টাকার দরকার অন্য খাতে। সবার জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন আর জ্বালানীর টাকা দেবে কে? সেটার যোগাড় যন্ত্র করতে হবে দেশকেই। বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ খাত বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেবার পর টাকা চায়নি কেউ। বাংলাদেশে তো নয়ই। সর্বোচ্চ ঘনত্বের দেশ হওয়াতে প্রতিটা ইঞ্চিতে রয়েছে এর ‘বিজনেস কেস’। আর সেকারণে সরকারকে টেলিযোগাযোগ খাতে টাকা আর না ঢেলে তৈরি করতে হবে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা। সোজা কথায়, ধরে নিয়ে আসতে হবে টাকাঅলাদের। তবে এটা সত্যি, ধরে নিয়ে আসার কোন ‘প্রভিশন’ না থাকাতে এমন ব্যবসায়িক পরিবেশ করতে হবে যাতে টাকা নিয়ে হাজির হয় কোম্পানীগুলো। যেমনটি ঘটছে মায়ানমারে।

[ক্রমশ:]

I prefer for government to err toward less regulation, lower taxation, and free markets. And I’m a radical free trader.

- Mark McKinnon

৬৬০.

‘বেশি ইন্টারনেট ছড়ানো’ দেশগুলোর কেসস্টাডি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ওদের ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশন’এ সাপ্লাই আর ডিমান্ড দুটো সাইডের ফ্যাক্টরগুলোকে কাজ করিয়েছে এক সাথে। সাপ্লাই সাইডে যখন তৈরি করেছে নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাক্চার, একই সাথে ওই ব্রডব্যান্ড সার্ভিসগুলোকে সবাই যাতে ব্যবহার করতে পারে সেটার নীতিমালা করতে ভোলে নি দেশগুলো। এতে বেড়েছে ব্রডব্যান্ডের গ্রহনযোগ্যতা। বেড়েছে সার্ভিসগুলোর পরিচিতি, সরকারী সব সার্ভিস চলে গেছে অনলাইনে। ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে গিয়ে এই ডিমান্ড সাইডের কাজ। আমাদের সাপ্লাই সাইডে বেশ কাজ হলেও ডিমান্ড সাইডে কাজ হয়েছে কম। ইন্টারনেটের সজলভ্যতা আসেনি এর দামের কারণে।

৬৬১.

সাপ্লাই আর ডিমান্ড সাইডের গল্পগুলোর মধ্যে ‘ইন্টারঅ্যাকশন’ না হলে বিপদ। দেখা গেছে সাপ্লাই সাইড ঠিকমতো কাজ করলে সেটাই বাড়িয়ে দেয় ডিমান্ড সাইড। আবার ডিমান্ড সাইড বেড়ে গেলে সাপ্লাইয়ের পাইপ মোটা হতে বাধ্য। ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লে ওর সরবরাহ না বাড়ার কোন কারণ নেই। তবে, এই ব্যাপারগুলোর ‘ইন্টারঅ্যাকশন’ ওনেক সময় এমনি এমনি হয় না। সেটার জন্য একটা পরিবেশ লাগে। ‘মার্কেট ফেইলুর’ মানে বাজার ঠিকমতো কাজ না করলে কাজ করবে না জিনিসগুলো। বাজারে একটা বড় প্রোভাইডার ধসিয়ে দিতে পারে পুরো বাজার। আর সেকারণে সময়ে সময়ে বাজারে ‘প্রতিযোগিতা’ আছে কিনা সেটা দেখার টূল ব্যবহার করে কম্পিটিশন এজেন্সি অথবা রেগুলেটর। এটা ঠিক যে, ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশন’ মানে এর ছড়ানোর জন্য দরকারী ‘ক্রিটিক্যাল মাস’ না হলে ব্যবসা টিকবে না। এখানে ‘ক্রিটিক্যাল মাস’ হচ্ছে একটা দরকারী ব্যবহারকারীর সংখ্যা। ধরুন, কয়েক লাখ। ঐটাই ব্যবসাকে দেবে একটা ‘টেকসই’ গ্রোথ।

৬৬২.

আবার দুটো ফ্যাক্টরই যদি একই সময়ে অর্থনীতিতে দেখা যায়, সেটা তার পুরো রেজাল্ট নাও দিতে পারে। যদি না দুটো সাইড পুরোপুরি ‘কোওর্ডিনেটেড’ না থাকে। দুটো সাইডের ‘সমন্বয়’ ঠিকমতো না হলে দেখা যাবে তৈরি হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার, অনেক দেরিতে। আবার সাপ্লাই সাইড ঠিকমতো তৈরি না হলে এটা ধাক্কা খাবে ডিমান্ড তৈরিতে। বাড়বে না ব্যবহারকারী। তৈরি হবে না ‘ক্রিটিক্যাল মাস’। তৈরি হবে না ‘টেকসই’ অর্থনীতি। আর সেকারণেই, ব্রডব্যান্ড বেশি ‘ছড়ানো’ দেশগুলো প্রথমেই হাত দেয় ‘কমপ্রিহেনসিভ’ নীতিমালাতে। পুরো দেশের ‘দর্শন’ চলে আসে ওর মধ্যে। সাপ্লাই আর ডিমান্ড সাইডের সব ধরনের সমন্বয় পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায় ওই নীতিমালাগুলো পড়লে। তবে দুটো দেশ এক ‘রুট’ – মানে এক রাস্তা না ধরলেও বেশ কয়েকটা মোটা দাগের ‘স্ট্র্যাটেজি’ মেনে নিয়েছে প্রায় সবাই। বিশ্বব্যাংক আর টেলিকম্যুনিকেশন ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের ডকুমেন্টেশনও তাই বলে। ব্রডব্যান্ড টূলকিটের হিসেবে ফিনল্যান্ড, ফ্রাণ্স, জাপান, ওমান, সিংগাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন না কোন ভাবে কাজ করিয়েছে এই বড় দাগের স্ট্র্যাটেজিগুলোকে।

ক॰ ‘ওপেন-অ্যাক্সেস’ হোলসেল নেটওয়ার্ক তৈরি
খ॰ বেসরকারি ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা তৈরি
গ॰ ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’র মতো ‘সবার জন্য ব্রডব্যান্ড’ ব্যাপারটা ঢোকানো হয়েছে সর্বোচ্চ নীতিমালায়
ঘ॰ ব্রডব্যান্ডের সব সার্ভিসের ডিমান্ড বাড়ানোর জন্য সবকিছুকে অনলাইনে নিয়ে এনে পাইপের দাম সস্তা করা
ঙ॰ পিপিপি, পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশীপ দিয়ে বড় বড় ইনফ্রাস্ট্রাক্চার তৈরিতে বেসরকারি খাতকে উদ্বুদ্ধ করা, এক কথায়, মধুর চাক বানানো
চ॰ আঞ্চলিকভাবে অথবা ‘নেশনওয়াইড’ ব্যবসায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের তাদের ব্যবসা তৈরিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দরকার মতো ভর্তুকি দেয়া
ছ॰ বড় হোলসেল প্রোভাইডার থেকে কিনে ছোট ছোট কোম্পানীগুলোকে সেই ‘রিসোর্স’ ‘রিসেল’ করার জন্য প্রণোদনা দেয়া, আর বড়রা না দিতে চাইলে সেটা বাধ্য করা
ঝ॰ * ‘লোকাল লুপ আনবান্ডলিং’য়ে বড়দের বাধ্য করা যাতে কিছু ব্যবসা করতে পারে ছোটরা

৬৬৩.

যে যাই বলুক, সাপ্লাই সাইডের নীতিমালা প্রণোদনা দেয় বেসরকারী খাতকে – ইনভেস্ট করো নেটওয়ার্কে। এখানে ইনভেস্ট করলে এটা ফ্রী! আর নেটওয়ার্কে ইনভেস্টমেন্ট মানে হাজার কোটি টাকার খেলা। ওই টাকার জন্য দরকার প্রাইভেট সেক্টরকে। ওদিকে ডিমান্ড সাইড নীতিমালা সরকারকে বাধ্য করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আর ব্রডব্যান্ড সার্ভিসগুলোর ওপর মানুষের গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে। এটা চলে লম্বা সময় ধরে, ফলে সরকারকে এটাকে তৈরি করতে হয় শুরুতেই।

[ক্রমশ:]

সময়ের গল্প, এক

Time is an illusion. Lunchtime doubly so.

- Douglas Adams, Humorist & sci-fi novelist (1952 – 2001)

০.

পৃথিবী জয় করতে চাই আমরা সবাই। হিসেব করে দেখা গেছে আমরা যারা পারছি না, তাদের বিশাল একটা ‘ছুতা’ হচ্ছে – সময়ের বড় অভাব। ভাবখানা এমন যে, সময় পেলেই করতে পারতাম সবই। হয়তোবা, তাই। তবে, সত্যি কথা হচ্ছে – হাতে সময় আছে ওই চব্বিশ ঘণ্টাই। আমাদের পূর্বপুরুষদেরও ছিলো ওই ‘একই সময়’। কিন্তু সময়ের বড় অভাব আমাদের। হালের সময়ে।

ইদানিং আরেকটা ভিমরতি ধরেছে আমাদের। সবসময় ‘ব্যস্ত ব্যস্ত’ ভাব।

আচ্ছা বলুনতো – নিজেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দেখাতে হলে কি করবো আমি?

এর উত্তর হতে পারে কয়েক দিক দিয়ে।

আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন – ‘কেমন আছেন আপনি?’

উত্তরে আমি বলবো হয়তোবা, ‘পাগল অবস্থা ভাই! দম ফেলার ফুসরতই পাচ্ছি না।’ অথচ আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন আমি আছি কেমন।

প্রশ্নটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যাই করেন না কেন উত্তর আসবে ওইটাই।

‘দেখাই যায় না আপনাকে, থাকেন কোথায় আপনি?’

অথবা,

‘ইদানিং ফোন টোন ধরেন না, ঘটনা কি?’

১.

গল্পের শুরু ২০০১য়ের দিকে। প্রথম বারের মতো গিয়েছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিছুটা লম্বা সময়ের জন্য। থাকতাম ওখানকার এক অজ পাড়া গাঁয়ে। শহর থেকে দূরের একটা অ্যাপার্টমেন্টে। ক্লাসের পর অফুরন্ত সময়। শুরু করলাম রান্না। সময় কাটাতে। কিনেও ফেললাম কিছু কূকিং ইউটেনসিলস। রেসিপি নামাই, মানে নামাই ইন্টারনেট থেকে – আর রান্না করি মনের সুখে। এদিকে, স্বাতী পাঠিয়ে দিলো সিদ্দিকা কবীরের বইটা, স্ক্যান করে। স্বীকার করতে বাধা নেই, রান্নার একটা দরকারী টূল হচ্ছে ‘এগ টাইমার’। কিচেন টাইমার বলেনও অনেকে। যাই বলেন – জিনিসটা হচ্ছে ডিম সিদ্ধ করার একটা টাইমার, তবে ওটা দিয়ে কাজ করতাম অনেক কিছুই। গ্রিল, বেকিং থেকে শুরু করে পাস্তা তৈরি – বাদ পড়তো না কিছুই। ডিমের মতো দেখতে – এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় রাখতো ওই জিনিসটা। ডিম নয় শুধু, টমেটোর আকৃতির টাইমারও দেখতাম মাঝে মধ্যে। ওই কাছের ওয়ালমার্টে।

২.

পাশের অ্যাপার্টমেন্টের সহপাঠী মাঝে মধ্যে আসতো সময় কাটাতে। উইকডে’র সন্ধাগুলোতে বিশেষ করে। সন্ধায় অন্যান্যরা বারে সময় কাটাতে গেলেও তাকে খুব একটা যেতে দেখিনি বাইরে। কথায় কথায় একদিন চোখে পড়লো ওই এগ টাইমারটা। ওর। ওটা থাকার কথা কিচেনে, সেদিন কেন জানি ওটা ছিলো রীডিং টেবিলে। প্রায় লাফ দিয়েই হাতে নিল ওটাকে। ‘পমোডোরো টেকনিক’ নিয়ে কাজ করছি কিনা জানতে চাইলো সে। এরপর আরো অনেক কিছু বললো – অনেকটাই হিব্রু মনে হলো আমার কাছে। টাইম ম্যানেজমেন্টের প্রথম টূলটা, মানে আমার কাছে প্রথম – শিখিয়ে দিলো হাতে কলমে। ওই সন্ধায়। খুলে গেলো মাথা।

৩.

পৃথিবীর ইঁদুর দৌড়ে পড়ে গেছি আমরা। যতো দিন যাচ্ছে ততোই যান্ত্রিক হয়ে পড়ছি নিজেরা। মাল্টি-টাস্কিং এখন একটা বাজওয়ার্ড। মানুষ একবারেই কাজ করতে চাচ্ছে অনেকগুলো – একসাথে। ফলে, শুরু হয়েছে ‘প্রায়োরিটি’র খেলা। গত এক দশক ধরে ‘হারভার্ড বিজনেস রিভিউ’ পড়ে মনে হয়েছে দুটো কথা। অর্গানাইজেশনগুলো পিছিয়ে পড়ছে তাদের কাজে। হাজারো মাইলস্টোন, ডেডলাইন পড়ছে প্রতিদিন। অটোমেশন মানুষকে স্বস্তি দিলেও এর মাত্রাতিরিক্ত ‘অ্যাবিউসিভ’ ব্যবহার ‘সময়’কে কেড়ে নিচ্ছে মানুষের কাছ থেকে। মানুষের ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’ নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে সমাজে। অর্গানাইজেশনগুলোর ভেতরের ‘ইন্ডিভিজুয়াল’ মানুষগুলোর সময়ের ঠিক ব্যবহার না জানার ফলাফল পড়ছে ওই অর্গানাইজেশনের ‘ওভারঅল’ পারফর্মেন্সের ওপর। আজ ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে শুরু হয়েছে হাজারো রিসার্চ।

৪.

ঠিক ধরেছেন! টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে লিখতে বসিনি এই বইটাতে। বরং সময়কে কিভাবে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসবেন সেটা নিয়ে গল্প করবো আপনাদের সাথে। অনেকটা বছরই ফাঁকি দিয়েছে ‘সময়’ – এই আমাকে। এখনো দেয় কখনো কখনো। সুযোগ পেলেই। তবে, ফাঁক ফোকরগুলো চিনতে পেরেছি বলে মনে হচ্ছে আমার। ‘সময়’কে হাতের নাগালে আনার শত শত টূলের মধ্যে সেরাগুলো নিয়ে হাজির হবো আপনাদের সামনে। তবে, টূল হাতে নেবার আগে আপনার চাওয়া পাওয়া নিয়ে আলাপ হবে শুরুতে। সব টূল কিন্তু সবার জন্য নয়। ‘আমাদের জন্য টূল’ না ‘টূলের জন্য আমরা’ সেটার গল্প থাকবে কিছুটা। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়বো না – এটা নিশ্চিত। তার আগে ব্যবচ্ছেদ করবো আমাদের সোনার হরিণ ‘সময়’কে।

রেডি তো আপনি?

[ক্রমশ:]

That’s life. What can I tell you?

- Meet Joe Black

৮৪.

হার্ট অ্যাটাকের পর অ্যান্থনি হপকিন্স ধারনা করছিলেন কিছু একটা। দর্শক হিসেবে আমরা ধারনা করছিলাম – সময় শেষ হয়ে আসছে তার। এটা ঠিক, যখন বুঝতে পারে সময় শেষ হয়ে আসছে মানুষটার, আকড়ে ধরতে চায় তার প্রিয়জনকে। আশেপাশের সবকিছুকে। গল্পটা অদ্ভুদ বলেই এই লম্বা মুভিটা দেখেছি বারকয়েক। তবে যতটা না দেখেছি মুভিটার গল্পের জন্য – তার থেকে বেশি দেখেছি মুভির অসাধারণ স্কোরগুলোর জন্য। সত্যি! সংগ্রহ করে রাখার মতো সাউন্ডট্র্যাক। স্কোরগুলোও লম্বা লম্বা। হা-পিত্যেষ করতে হয়না শেষের দিকে। ও হ্যা, সব সাউন্ডট্র্যাকের স্কোরগুলো শুনতে হবে মাঝরাতে। পৃথিবী ঘুমিয়ে যায় যখন। দরকার পিনপতন নিস্তব্ধতা। তা না হলে অর্কেস্ট্রার ট্রোমবন, সেলো অথবা ভায়োলার শব্দ শোনা দুষ্কর বটে। বেশি জ্ঞান দিয়ে ফেলছি নাকি আজ?

৮৫.

বাবা আর মেয়ে, এই চমত্কার ব্যাপারটা নিয়ে এগিয়েছে মুভিটা। ওর সাথে যোগ দিয়েছে ‘মৃত্যু’। মানে ‘মৃত্যু’ও একটা ক্যারেক্টার এখানে। ছোটবেলায় পড়া ওই ‘কুশল আর মৃত্যুবুড়ো’র মতো খানিকটা। মেয়ে হচ্ছে ‘ক্লেয়ার ফারলোনি’। ব্রিটিশ অ্যাক্সেন্ট তার। আমারও ভালো লাগে তাকে। মেয়ের মতো মেয়ে বটে। এদিকে কোটিপতি বাবা মেয়ের ভালোবাসার ভবিষ্যত নিয়ে বেশ চিন্তিত। ‘ড্রু’ স্মার্ট ছেলে। পছন্দ করবে সব বাবাই। তবুও বাবার মন বলছে অন্য কথা। মেয়েকে কাছে পেয়ে বলেও ফেললেন অ্যান্থনি। কি বললেন জানতে চাচ্ছেন তো? অনেক কষ্টে বাংলায় করলাম ওটাকে। কিন্তু, মনমতো হচ্ছে না যে? মনে হচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে কিছু জিনিস। হয়তোবা এর ‘প্রেমিস’টাই ভিন্ন বলে হচ্ছে এমনটা। সেটার জন্য ছবির ওই অংশটাও দেখলে মন্দ হবে না।

I know it’s a cornball thing, but love is passion, obsession, someone you can’t live without. If you don’t start with that, what are you going to end up with? I say fall head over heels. Find someone you love like crazy and who’ll love you the same way back. And how do you find him? Forget your head and listen to your heart…

Run the risk, if you get hurt, you’ll come back. Because the truth is, there is no sense living your life without this. To make the journey and not fall deeply in love –well, you haven’t lived a life at all. You have to try. Because if you haven’t tried, you haven’t lived…

Stay open. Who knows? Lightning could strike.

৮৬.

কফি শপে দেখা হয়েছিল আরেকটা ছেলের সাথে। আমাদের মেয়ে ক্লেয়ারের। ছেলেটা বলছিলো অদ্ভুদ অদ্ভুদ সব কথা। কিছুটা মিলেও যাচ্ছিলো বাবার ওই কথার সাথে। যে যাই বলুক, ওটা বোঝার জন্য দেখতে হবে মুভির ‘ওই’ অংশটা। মুভিটার এই ‘কফি শপে’র অংশটাই চুম্বকের মতো টানে আমাকে। এখনো। মুভির ভাষায় ‘লাইটনিং স্ট্রাইক’ হয় তাদের মধ্যে। তারা পছন্দ করা শুরু করে একে অপরকে – ভেতরে ভেতরে। একসময় বিদায় নেয় দুজন। সেটাও মজার। তবে, পরে ছেলেটা মারা যায় গাড়ি দুর্ঘটনায়।

৮৭.

একসময় ‘মৃত্যু’ দেখা করতে আসে তার বাবার সাথে, উনাকে নিয়ে যাবার খবর নিয়ে। তবে, ‘মৃত্যু’ দেখা করে ওই ছেলেটার দেহ নিয়ে। ঘটনা মোড় নেয় ভিন্ন দিকে যখন মেয়ের সাথে দেখা হয় ওই ‘মৃত্যু’র। বলছি না আর। তবে, বাবাকে নিয়ে যাবার সময় বেশ কিছু কথা হয় তাদের মধ্যে। মানে বাবা আর ‘মৃত্যু’র ভেতরে। অসাধারণ কিছু কথা। নতুন পার্সপেক্টিভ পাবেন ওখানে। বাবা ‘মৃত্যু’কে যখন বলেন, “দ্যাটস লাইফ, হোয়াট ক্যান আই টেল ইউ?”, ঠিক সেই সময় থমাস নিউম্যানের ‘দ্য নেক্সট প্লেস’ স্কোরের ‘হাই-পিচ’ গলিয়ে দেয় মন। চোখে কিছু একটা পড়ে তখন। হ্যা, আমার।

[ক্রমশ:]

এটা নিয়ে বছর পাঁচেক আগে লিখেছিলাম একবার

৭৭.

প্রথম সুযোগেই ফেলে দিলো হতচ্ছাড়াটা। ভালোই ব্যথা পেলাম পিঠে। তবে, রোখ চেপে গেল মাথায়। কষ্ট চেপে দাড়ালাম আবার। এই ঝেড়ে ফেলা তো নতুন নয় আর। এগিয়ে গেলাম লাগামটা ধরতে। ইন্সট্রাকটর এগিয়ে এলেন বরং। জিজ্ঞাসু চোখে তাকালাম তার দিকে। প্রশ্রয়ের হাসি ওনার চোখে মুখে।

মানুষের মতো ঘোড়ারও ‘পার্সোনালিটি’ না জানলে ও কিন্তু ফেলে দেবে আবারো।

বলেন কি? বিস্ময়ের রেশটা আটকে থাকলো না আমার কথায়। ঘোড়ার ‘পার্সোনালিটি’? নতুন ঠেকছে ব্যাপারটা।

ঘোড়া যে ‘সপ্রতিভ’ বা ‘ভীতু’ হতে পারে জানা ছিলো না আমার। আপনি জানতেন?

যেমন, আপনার মতো ইন্ট্রোভার্ট মানুষের হাতে পড়েছে এক্সট্রোভার্ট একটা ঘোড়া, বললেন ইন্সট্রাকটর, বিশ্বাস করুন – সত্যিই তাই। ওর মনের সাথে মিলিয়ে চলতে পারলে আপনাকে পায় কে আর!

বুঝলাম। তার মানে একেক ঘোড়া একেক মানসিকতার? মানুষের মতো একেক কিসিমের?

মুখ টিপে হাসলেন ইন্সট্রাকটর। প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলেন মনে হলো। তবে নিরাশ করলেন না আমাকে।

আজকের টিপস হচ্ছে ঘোড়ায় চড়ে হাঁটু চেপে ধরে রাখবেন ওর পিঠের সাথে। মানুষের মতো ঘোড়াও পছন্দ করে ‘কনফিডেণ্ট’ সত্তয়ারকে। ফেলে দেবে না আর।

৭৮.

টিম ম্যাকগ্র’র একটা কনসার্টে ‘একরকম’ ধরেই নিয়ে যায় স্কুলের বন্ধু। পাশের অ্যাপার্টমেন্টে থাকে সে। ২০০১এর ঘটনা। এর আগে রেডিওতে ‘টিম ম্যাকগ্র’ শুনলেও অতটা পছন্দ করতাম না কেন জানি। পছন্দ শুরু হয় ফেইথ হিলের সাথের গানগুলোতে। সাদার্নে থাকার কারণে কানট্রি রেডিও শুনতে শুনতে ‘শোনা’ শুরু করলাম প্রায় সবই। ‘ক্রস-ওভার’ মিলিয়ে। এর পরের গল্প আরো চমত্কার। হলিউডের এই ছাড়াছাড়ির দিনে ফেইথ আর টিম তাদের বিয়ে টিকিয়ে রেখেছেন প্রায় বিশ বছর। ভালো মানুষ। গানের ভাষা আরো গভীরের।

৭৯.

একটা মুভি দেখছিলাম কিছুদিন আগে। ফ্লিকা। হ্যা, একটা ঘোড়ার নাম। ঘোড়া নিয়ে কম মুভি দেখিনি। অনেক কিন্তু। আর ছোটবেলায় ওয়েস্টার্ন সিরিজের গল্পের সাথে ঘোড়া না আসলে ওটা কোনো গল্পই না। অনেক সুন্দর সুন্দর মুভি থাকতে হটাত্‍ ‘ফ্লিকা’ কেন? আসলেই তো! পড়ে আছি বন জঙ্গলে। এই আফ্রিকাতে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে মনে পড়ে আর্শিয়ার কথা। আর্শিয়া, মেয়ের নাম আমার। নামটা রেখেছে তার মা। প্রথম মেয়ে হওয়াতে অনেক আদরে বড় হলেও সেটাতে ভাগ বসায় ছোট ভাই। কয়েক বছরের মাথায়। কিছুটা পরিবর্তন দেখেছি ওর মধ্যে তখন। তবে – এটা নিয়ে কথা হয়নি কখনো। বলতে চেয়েছিলাম কয়েকবার, বলা হয়নি আর। দেশে ফিরলে বলবো এবার।

৮০.

মুভির ক্রেডিট লাইন দেখা আমার পুরোনো দিনের অভ্যাস। সত্যি বলতে সবচেয়ে সুন্দর সাউন্ডট্র্যাকটা থাকে ওই সময়ে। দেশের সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখতে গিয়ে হতাশ হয়ে যাই ওই ক্রেডিট লাইন চলার সময়। বেশিরভাগ সময় পুরো ক্রেডিট লাইন চালায় না সিনেপ্লেক্স অপারেটর। এছাড়া, সবাই ‘সিট’ ছেড়ে উঠে যায় বলে সাউন্ড ইফেক্ট পাওয়া যায় না মনের মতো করে। একা একা ‘ফ্লিকা’ দেখতে গিয়ে ক্রেডিট লাইনে এলো চমত্কার এই গানটা। মজার কথা, মুভিটাতে বাবা হিসেবে ছিলেন টিম ম্যাকগ্র নিজেই। ‘সারপ্রাইজ’ সাউন্ডট্র্যাকটা এলো তার গলা থেকেই। ভিজে এলো চোখ। মনে পড়লো একজনের কথা।

Gotta hold on easy as I let you go.
Gonna tell you how much I love you, though you think you already know.
I remember I thought you looked like an angel wrapped in pink so soft and warm.
You’ve had me wrapped around your finger since the day you were born.

৮১.

ছোটবেলা থেকেই ও বেশ শান্ত। মেয়ে বলে হয়তো। তবে তার ছোট ভাই অনেকটাই ‘ডোমিনেটিং’ হবার কারণে সবার ভালবাসায় বিশাল ভাগ বসায় সে। মুভিটা দেখে গল্পের ছায়াটা উড়িয়ে নিয়ে আসলো আর্শিয়ার কথা। প্রোটাগনিষ্ট মেয়েটা পুরোটাই আমার মেয়ের কপি। ওর মতোই মাঝে মধ্যে ‘রেবেলাস’ হয়ে যায় মেয়েটা। স্বাতী’র কথা ধরলে বলতে হয় – মেয়েটা হয়েছে আমার মতো। মানে, বুঝতে হবে ভবিষ্যত খারাপ মেয়ের। বিয়ের পরেই আমার ব্যপারে একটা ‘অ্যানালাইসিস’ তৈরি করে স্বাতী। ‘লোনার’। সারাজীবন আমি নাকি একা। ওই ক্যাডেট কলেজ থেকে। হাজারো মানুষের মধ্যে থাকলেও নাকি আমার জগত আলাদা। ওই জগতে প্রবেশাধিকার নেই কারো। ভয়ংকর কথা। আমি মানি আর না মানি – ব্যাপারটা খুব একটা তোলে না ইদানিং। স্বাতী। ছেড়ে দিয়েছে হয়তোবা – ভাগ্যের হাতে। তবে, আমি ভাবছি আর্শিয়া’র কথা। মেয়েটা আমার মতো হলে তো সর্বনাশ! এদিকে, বড় হচ্ছে মেয়েটা দিনে দিনে। আমি বাইরে বাইরে থাকি বলে পুরো সংসারের হাল ধরে আছে স্বাতী। তবে, মেয়ে ঝামেলায় পড়ে মায়ের শক্ত পাখনা থেকে বেরুতে গেলেই।

When you were in trouble that crooked little smile could melt my heart of stone.
Now look at you, I’ve turned around and you’ve almost grown.
Sometimes you’re asleep I whisper “I Love You!” in the moonlight at your door.
As I walk away, I hear you say, “Daddy Love You More!”.

৮২.

সেদিন ওর স্কুলের ছবি দেখে চিনতে পারিনি প্রথমে। অনেক বড় হয়ে গেছে মা’টা আমার। সেটাই ভয়ের শুরু। ছেড়ে দিতে হবে তো একদিন। যেভাবে তার মা এসেছে আমার কাছে। সব স্বাদ আহ্লাদ ছেড়ে। তার মা’কে দেখে রাখার কথা আমার। কিন্তু দেখে রাখে সে। আমার মতো উড়নচণ্ডী ছেলে এসে যদি চায় ওকে, কি হবে তখন? কবি’র মতো হৃদয়বান ছেলের সাহস যে হতে হবে আমার থেকে অনেক বেশি। যে দেখে রাখবে মেয়েটাকে। ও কি চায় জানা হয়নি আর।

Someday, some boy will come and ask me for your hand.
But I won’t say “yes” to him unless I know, he’s the half
that makes you whole, he has a poet’s soul, and the heart of a man’s man.
I know he’ll say that he’s in love.
But between you and me. He won’t be good enough!

৮৩.

পৃথিবী জয় করতে চেয়েছিলাম আমিও। পারিনি। স্বপ্ন থেকে গিয়েছে মাথার ভেতরেই। যাও মা, আটকাবো না তোমাকে। আমার হয়ে চষে ফেল পুরো পৃথিবীটাকে। পৃথিবী দেখলেই বুঝবে কি চাও তুমি। স্বপ্ন তৈরি হবে তখনই। তবে আগে দেখতে হবে এই নীল গ্রহটাকে। নিজের মতো করে। গাইডবই না দেখে। তোমাদের সময়ে যা হতে চাইবে সেটাই পারবে হতে। আমার ধারনা, অন্যকে স্বপ্ন দেখানো কঠিন। সেটাই করবে তুমি। অন্যের স্বপ্ন পূরণ করলেই হবে তোমার ইচ্ছে পূরণ। তবে যেখানেই যাও না কেন, বাসার রাস্তাটা কিন্তু ভুলো না মা! ওখানে অপেক্ষা করবে এই বুড়োবুড়ি। সত্যি!

* তোমার ডায়েরি নিয়ে যাবে তোমার স্বপ্নে। লিখতে হবে প্রতিদিন, মাত্র তিনশো শব্দ, মা।

You’re beautiful baby from the outside in.
Chase your dreams but always know the road that’ll lead you home again.
Go on, take on this whole world.
But to me you know you’ll always be, my little girl.

[ক্রমশ:]

The hungrier one becomes, the clearer one’s mind works— also the more sensitive one becomes to the odors of food.

― George S. Clason, The Richest Man in Babylon

৬৫৮.

এদিকে চমত্কার একটা কাজ করেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। তাদের যোগাযোগ আর আইসিটি মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে একটা ‘অ্যাডভাইজরী গ্রুপ’। সরকারী লোক নয় শুধু, সবাইকে নিয়ে এসেছে এক কাতারে। টেলিযোগাযোগ কোম্পানী থেকে শুরু করে ইনডাস্ট্রি অ্যাসোশিয়েশন, ইনভেস্টর, সম্পর্কিত দপ্তর থেকে সরকারী প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় – বাদ পড়েনি কিছুই। সবাইকে দিতে হয়েছে ‘কম্পিটেণ্ট’ সদস্য। ভারতের জাতীয় ব্রডব্যান্ড প্ল্যান অনুযায়ী একত্রীভূত ‘জাতীয় ফাইবার নেটওয়ার্ক’ দিয়ে প্রতিটা গ্রাম আর শহরকে কিভাবে যুক্ত করা যায় সেটাই এই অ্যাডভাইজরী গ্রুপের ভাবনা। লাস্ট মাইলে স্পেকট্রামকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটাও দেখছে তারা। মোদ্দা কথা, যুক্ত করতে হবে সবাইকে। মানুষের পয়সা থাকুক আর না থাকুক। ইন্টারনেট তো লাগবেই। আজ নয়তো কাল। ইন্টারনেটকে সস্তা না করলে হবে কিভাবে? আর এই কাজ করতে ভারতের এই সম্মিলিত ‘অ্যাডভাইজরী গ্রুপ’কে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহারকে ‘উদাহরণ’ হিসেবে টানা হয়েছে ব্রডব্যান্ড টূলকিটে। সত্যি বলতে, বেশ ভালোভাবেই। এতে অনেক সরকারী বেসরকারী এজেন্সিগুলোর ‘ক্রস-কাটিং’ ব্যাপারগুলো মেটানো গেছে সবার সাথে কথা বলে। নেটওয়ার্ক রোলআউট করতে লাগে অনেক টাকা, তবে সেটাকে সবাই মিলে করলে খরচ কমে আসে। গ্যাস পাইপ বসবে, একই সাথে চলে যাচ্ছে পানি, ফাইবার, তেল, বিদ্যুত্‍। সমন্বয় করার দ্বায়িত্ব ফোকাল পয়েন্টের। আর সেই সুবিধাটা নিয়েছে দেশটা।

৬৫৯.

ব্রডব্যান্ড প্রোমোশন এজেন্সি লাগবে কিনা – সেটা অনেকটাই নির্ভর করে দেশটার ‘লোকাল কন্ডিশনে’র ওপর। মানে ওই দেশের বর্তমান আইন ব্যবস্থা, সরকারী ‘প্রতিষ্ঠানগুলো’র কাজের ক্ষমতায়ন কতোখানি, ব্রডব্যান্ডে নেতৃত্ব দেবার মতো মানুষের ‘ক্যাপসিটি তৈরি’, আর সরকার এই এজেন্সিটাকে চালানোর জন্য পয়সা দিতে পারবে কিনা সেগুলো আসবে আস্তে আস্তে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য ব্যাপারটা ‘উচ্চাকাংখী’ মনে হলেও ব্রডব্যান্ড একটা দেশকে কোথায় নিতে পারে সেটা অনুধাবন করলে এই এজেন্সি জরুরী। এই এজেন্সি বসাতে জন্য যে প্রচুর পয়সা লাগবে তাও নয়। তথ্য, টেলিযোগাযোগ, আইটি আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একীভূত করলে যে পয়সাটা বাঁচবে তাতেই হয়ে যাবে এজেন্সিটা। প্রযুক্তি মানে ‘জেনারেল পারপাজ টেকনোলজি’র মতো জিনিসকে মানুষের জীবনে ঢুকিয়ে দিতে পারলে দেশে চলে আসবে ‘সুশাসন’ আর ‘স্বচ্ছতা’। সাধারণ মানুষের চাওয়া এগুলোই। ব্যাস, দেশকে আর তাকাতে হবে না পেছনে। তবে, ‘ব্রডব্যান্ড টূলকিট’ বলছে আরো একটা গল্প। সরকারে সেই ‘জ্ঞান’টা না থাকলে নেতৃত্ব দেবে কে? ব্রডব্যান্ডকে ঠেলে সামনে নেবার জন্য প্রয়োজন ‘প্রজ্ঞা’সহ নেতৃত্ব। সেটাকে দিতে হবে সরকারকেই।

[ক্রমশ:]

Singapore is building to be the world’s first Smart Nation, with fuller use of technology to live, work and play. Singapore has the opportunity to be a Smart Nation if we work together and successfully combine policy, people and technology, and boost all aspects to enhance our national capabilities – from infrastructure, industry and talent, to governance.

- Smart Nation Vision, 2005

৬৫৫.

‘ফোকাল পয়েন্ট’ ধারনাটা নতুন নয় কিন্তু। যারা এগিয়েছে ব্রডব্যান্ডে, তাদের সবারই আছে এই আলাদা অফিসটা। কাজ একটাই, সারাদিন ব্রডব্যান্ড নিয়ে চিন্তা করা। সরকারী সম্পর্কিত সব এজেন্সিগুলোকে ধাক্কা দিয়ে এক কাতারে নিয়ে আসা। ইনভেস্টর, ইনডাস্ট্রি, অপারেটররাও বাদ যাবে না সেই ধাক্কা থেকে। ‘প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিস’ থেকে বিভিন্ন ‘ওভারল্যাপিং’ প্রজেক্টের সমন্বয় সাধনের মতো জিনিসের সাথে ‘ব্লেম গেম’ ব্যাপারটা সরিয়ে আসল কাজ বের করে নিয়ে আসছে এই অফিস। ফিরে আসি সুইডেনের কথায়। তাদের ‘আইটি পলিসি স্ট্র্যাটেজি গ্রুপ’ প্রথমেই তৈরি করতে বলেছিল ‘আভ্যন্তরীণ একটা স্ট্র্যাটেজিক সমন্বয়কারী অফিস’। তার কাজ হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ডেভেলপেমেণ্টে জড়িত সব এজেন্সিকে এক টেবিলে এনে কাজের ধারাবাহিকতা ‘মনিটর’ করা। সব এজেন্সি মানে সরকারী, বেসরকারী – ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সবাই।

৬৫৬.

ভালো কথা, ব্রিটেনে তো পুরো একজন মন্ত্রী রয়েছেন এই ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ দেখভাল করার জন্য। ব্রাজিল এদিকে এগিয়ে আছে বেশ ভালোভাবে। তাদের এগিয়ে থাকার পেছনে রয়েছেন একজন ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ সচিব যাকে আলাদাভাবে বসানো হয়েছে ওই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে। জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটা নিয়েই পড়ে আছেন তিনি। ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ নিয়ে সব মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত প্রজেক্টেরগুলোর মাথা উনি। তবে, অনেকদেশে এই ব্রডব্যান্ড ডেভেলপেমেণ্টের দেখভাল করার কাজ দিয়ে রেখেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় অথবা রেগুলেটরের কাছে। এটার ভালো খারাপ দুটোই দেখেছি আমি। আমার মত হচ্ছে যে দেশগুলোর আভ্যন্তরীণ ‘গভার্ণেস’ খুবই শক্তিশালী, সেখানে এটা কাজ করে ভালো। এই কম্বিনেশনটা কাজ করে চমত্কার – যাদের রয়েছে ‘পোক্ত’ মানে ডিটেইল লেভেলে কাজ করা জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা। ‘পোক্ত’ ব্রডব্যান্ড নীতিমালার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্হ্য, জ্বালানী – দক্ষ প্রশাসন – থাকবে সবকিছু।

৬৫৭.

উদাহরণ হিসেবে নিয়ে আসি সিংগাপুরের কথা। ওদের দেশের জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়ে ‘স্ট্র্যাটেজিক’ লেভেলের একটা কোর্স করিয়েছিল আমাকে, বিটিআরসি। পাঁচ হাজার ডলারের মতো ছিলো শুধুমাত্র তার কোর্স ফি। সিংগাপুর একটা মাস্টার প্ল্যান করেছিলো অনেক আগে। নাম ‘ইণ্টেলিজেণ্ট নেশন ২০১৫’। প্ল্যানটা নিয়ে মাঠে নামে ২০০৫য়ে, যদিও সেটা তৈরি হয়েছিল অনেক আগে। দশ বছর ধরে প্রতিটা আইটেম ধরে ধরে এগিয়েছে তারা। দর্শন ছিলো, ‘অ্যান ইণ্টেলিজেণ্ট নেশন, আ গ্লোবাল সিটি, পাওয়ারড বাই ইনফো-কম’। তারা মনোযোগ দিয়েছিলো ‘ট্রাস্টেড’ আর ‘বুদ্ধিমান’ আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাক্চারের ওপর। সেই সাথে ব্যস্ত ছিল পুরো ‘ইকোসিষ্টেম’ তৈরিতে। ডিমান্ড আর সাপ্লাই সাইড নিয়ে তাদের কাজ দেখার মতো। বাজারে প্রতিযোগিতা ঠিক রেখে নতুন নতুন ‘স্টার্ট-আপ’ কোম্পানী মানে ইনভেস্টমেন্ট আনার ব্যপারে তাদের কাজ দেখলে তাক লাগবে সবার। ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য অনেক অফিস খুলেছে পৃথিবী জুড়ে। সেই সাথে তৈরি করেছে বিশাল ‘ট্যালেন্ট পুল’। বেড়েছে জাতীয় ‘সক্ষমতা’। দশ বছরের ধারাবাহিকতার ফলাফল – ‘স্মার্ট নেশন’।

[ক্রমশ:]

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 408 other followers

%d bloggers like this: