Feeds:
Posts
Comments

The best time to plant a tree was 20 years ago. The second best time is now.

– Chinese Proverb

ক॰

সমস্যাটার শুরু প্রায় এক দশক আগে। ছুটাছুটির চাকরি। আজ এখানে তো কাল ওখানে। শেষমেষ ‘পীস কীপার’ হিসেবে পোস্টিং হলো কঙ্গোতে। ঘুরাঘুরিই বেশি। ঘুমের সময় ছাড়া বাকিটা হিসেব করলে – পুরোটাই রাস্তায়। নিজ দ্বায়িত্বের এলাকা, যাকে বলে ‘এরিয়া অফ রেস্পন্সিবিলিটি’ – ইঞ্চি ইঞ্চি করে না জানলে বিপদ। মানুষের জীবন বলে কথা। পুরো এলাকা থাকতে হবে নিজের নখদর্পণে। কন্সট্যান্ট ভিজিল্যান্স। পায়ে হাটা অথবা গাড়ি – পায়ের মাইলোমিটারে লাখ মাইল পার হয়েছে নিশ্চিত।

খ॰

রাস্তায় নামলেই হাজার চিন্তা কিলবিল করে মাথায়। একটা এদিকে হলে আরেকটা ওদিকে। মাথা মুন্ডু ছাড়া চিন্তাভাবনা। দিন কয়েক পর বেস ক্যাম্পে ফিরলে বসতাম ইউএন এর কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট নিয়ে। সভ্যতার সাথে একমাত্র ‘ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ’ – ওই স্যাটেলাইট লিংক। একসময়, প্লট করতে শুরু করলাম চিন্তাগুলোকে। ‘চ্যানেলাইজ’ করতে তো হবে কোথাও। একেকটা চিন্তা একেকটা ডট। কানেক্টিং দ্য ডট’স ব্যাপারটা বুঝলাম অনেক পরে। চল্লিশের আগে নাকি ব্যাপারটা আসে না মাথায়?

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

গ॰

আগের ঘটনা আরো চমত্‍প্রদ। কঙ্গোতে যাবার ঠিক আগ মূহুর্তে ফিরেছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিগন্যাল স্কুল থেকে। থাকতে হয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য। প্রায় নব্বই বর্গ মাইলের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেলিকম্যুনিকেশন ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। যায়গাটাও জর্জিয়ার একটা অজ পাঁড়া গাঁয়ে। সন্ধার পর কুপি জ্বলার মতো অবস্থা। স্কূল থেকে ফিরে কাজ না পেয়ে হাত দিলাম রান্নায়। কাঁহাতক আর খাওয়া যায় ফাস্ট ফুড! পিএক্স থেকে এটা কিনি, ওটা কিনি। বাসায় এসে ভয়াবহ ধরনের ‘টেস্ট এণ্ড ট্রায়াল’। অসুবিধা কি? গিনীপিগ তো নিজে। ক্ষান্ত দিলাম স্মোক ডিটেক্টরের পানির ঝাপটা খেয়ে। বার কয়েক। তবে, একেবারে ক্ষান্ত নয়, কমিয়ে দিলাম গতি। মনোযোগ সরালাম নতুন দিকে।

ঘ॰

বিশাল লাইব্রেরী। এটা ওটা ইস্যু করি, টাইম লিমিটও অসহনীয় লম্বা। পুরনো পত্রিকা, দুস্প্রাপ্য বই সব মাইক্রোফিশেএকদম নতুন বই লাইব্রেরীতে না থাকলেও সেটা কিনে এনে চেকআউট করিয়ে রাখতেন লাইব্রেরিয়ান। আমাজনের বেস্টসেলার লিস্ট দেখা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেলো ওই সময়ে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ‘বেস্টসেলার’গুলো লিখছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ। মানে, পেশাদার লেখক নন তারা। সাহস পেলাম। যাই লিখি, পাঠক পেতেই হবে বলেছে কে? মনের খোরাক মেটানোর জন্য লেখা। ওই বিরানব্বই থেকে। সেথ গোডিংয়ের গলা শুনি প্রায়ই। শিপ, বাডি! শিপ!

ঙ॰

দেখা গেলো ওই ‘বেস্টসেলার’দের কেউ ছিলেন স্টক এক্সচেঞ্জের হর্তাকর্তা, কেউ সিআইয়ের চীফ। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। সরকারী কর্মকর্তা। নেভী সীল। ফুটবল কোচ। জিমন্যাষ্ট। তারা লিখছেন পেছনের অনেকগুলো বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে। ব্যর্থতা থেকে সফলতার গল্প। যা আসলে সাহায্য করছে ওই পড়ুয়া মানুষদের। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। বিতর্কিত জিনিস নিয়ে যে লেখা হয়নি তা নয়। লিখেছেন রেচেল মোরানের মতো পেশাজীবীরা। মানে – লেখা হয়েছে প্রায় সব বিষয় নিয়ে। বের হয়ে এসেছে অনেক সমস্যার কথা। সেই ভুল থেকেও শিখছে দেশ। সমালোচনা নিতে পারার মানসিকতার দেশগুলো ওপরে উঠছে দ্রুত। আবার লিখছেন জাতির পিতারা। আজকের ‘আধুনিক’ সিঙ্গাপুরের পেছনে যিনি ছিলেন তারো বই আছে কয়েকটা। নেলসন ম্যানডেলা’র বইটা পড়েছেন নিশ্চয়। সাতাশ বছরের অবিচারের ঘৃণাটা মূহুর্তে গিলে ফেলার ঘটনাটা অজানাই থাকতো বইটা না পড়লে। পড়ছি সবই, বুঝতে পারছি ভালো মন্দ। মন্দটা ফেলে ভালো নিয়ে এগুচ্ছি সবাই আমরা, সময়ের বিবর্তনে। অন্যের কাছ থেকে শিখে। পেছনে লেগে নয়।

চ॰

জ্ঞান কিন্তু রি-ইউজেবল। ব্রিটেনের লেগেছে দুশো বছর প্রায়। শুধু শিখতেই। শিল্পবিপ্লব থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিখেছে ব্রিটেন থেকে। তাদের লোক পাঠিয়ে। নোটবই ভরে নিয়ে আসতো তাদের অভিজ্ঞতার কথা। জাহাজে করে। সেটা কাজে লাগিয়ে ওই ব্রিটেনের সাথে টক্কর দিয়েছে অনেক কম সময়ে। ‘লীড টাইম’ কমিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় একশো বছর। এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই শেখার চর্চাটা ধরে রেখেছে বলে তারা এখনো শীর্ষে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শত বিপত্তির মধ্যে উদ্ভাবনা দিয়ে আছে টিকে। নিজেদের দেশে মানুষ কম বলে বাইরের বাজার দখলে ব্যস্ত তারা। এখন বোকারাই বলে যুদ্ধের কথা, বাজার দখলে কে কাকে বাজার বানাতে পারে সেটাই হচ্ছে বড় যুদ্ধ। রক্তপাত ছাড়াই ‘আউটবাউন্ড’ ক্যাশফ্লো!

ছ॰

এশিয়ান দেশগুলো আরো বুদ্ধিমান। ইউরোপ আর অ্যামেরিকা থেকে শিখে সেটা কাজে লাগিয়েছে গত তিরিশ বছরে। এখন টক্কর দিচ্ছে সবার সাথে। হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অন্যের ‘ঠেকে শেখা’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়েছে বেশি। পাশ্চাত্যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা করেনি সেটা জানলেই তো হলো! তার সাথে মেশাও ‘লোকাল কন্ডিশন’। আমি এটাকে বলি, ‘ঘুটা’, মানে জ্ঞানের ডিফিউশন। মেলাও হাজারো জ্ঞানের অভিজ্ঞতা। গরীব দেশ হলেও কোন সরকারী কর্মকর্তাকে তো মানা করা হয়না বৈদেশিক ভ্রমনে না যেতে। অথচ কর্পোরেট হাউসে কৃচ্ছতা সাধনে প্রায় সবই চলছে ভিডিও কনফেরেন্সে। দেশের একটাই চাওয়া, শিখে আসা জ্ঞানটা কাজে লাগবে দেশের উন্নতিতে। প্রাথমিক জ্ঞানটা পাবার পর বাকিটা শেখার বাহন হচ্ছে ইন্টারনেট। আর সেকারণে ইন্টারনেট নিয়ে লাগা। জ্ঞান ছড়িয়ে আছে সব যায়গায়, দরকার তার প্রয়োগ।

ঝ॰

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেলেন জ্ঞান ‘ক’। এদিকে সিংগাপুর দিলো ‘খ’ জ্ঞান, ভিয়েতনাম থেকে নিয়ে এলেন ‘গ’। এখন – আমাদের স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্ডিকেটরের সাথে মিলিয়ে যেটা যখন কাজে লাগে সেটাই ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অনেকে এটাকে বলে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। মানে, যেটা কাজ করেছে অনেক যায়গায়। ‘ওয়েল টেস্টেড’। টেস্ট পেপার সলিউশনের মতো কিছুটা। দেখা গেছে – ওভাবে কাজটা করলে জিনিসটা মার যাবার সম্ভাবনা কম। টেস্ট এণ্ড ট্রায়ালের পর ফুলপ্রুফ হয়েই নাম হয়েছে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। দেশের ‘লোকাল কন্ডিশন’কে বেস্ট প্র্যাকটিসে ঘুঁটানোতেই রয়েছে মুন্সিয়ানা। ইন্টারনেটকে ছড়িয়ে দেবার ওই ধরনের ‘টেম্পলেট’ নিয়ে কাজ করেছি গত সাত সাতটা বছর।

ঞ॰

মনে আছে বৈজ্ঞানিক নিউটনের কথা? ‘আমি যদি আজ বেশি দেখে থাকি অন্যদের চেয়ে, সেটা পেরেছি পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের ভিত্তিতে’। উন্নতবিশ্বের আজকের যা উন্নতি তার সবটাই এসেছে ওই ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস’ কথাটার ওপর ভিত্তি করে। আজ জানি আমরা ট্রানজিস্টর কি – আর কিভাবে কোটি ট্রানজিস্টর থাকে একটা চিপসেটে। নতুন করে ওই ট্রাংজিস্টর উদ্ভাবন না করে বরং কোটি ট্রাংজিস্টরের চিপসেট দিয়ে আর কি কি করা যায় সেটাই ভাববার বিষয়। আর তাই আগের জ্ঞানের ‘ডিফিউশন’ দিয়ে নতুন উদ্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ওপরে উঠছে নতুন ইমার্জিং দেশগুলো। এটাকে বলা হয় লিপ-ফ্রগিং।

য॰

সামরিক বাহিনীর স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার বিটিআরসিতে আসা। টেকনোলজি নিয়ে একসময় লিখতাম কিছু পত্রপত্রিকায়। শুরুতেই ঝামেলা। ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট – নতুন যাই লিখি সেটা নিয়ে মাথা নাড়াচ্ছিলেন অনেকেই।

“ভালো, তবে সমস্যা অন্যখানে। এটা সম্ভব নয় এদেশে।”

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

বলেন কি? অবাক হয়ে তাকাই উনাদের দিকে। নীতিমালায় আটকানো আছে জিনিসগুলো। মানে আমরা আটকে আছি আমাদের জালে। জিনিসপত্র না জানার ফলে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। যুক্ত থাকার হাজার সুবিধার মূলে হচ্ছে মানুষের মুক্তি। সেটা প্রথমে আসবে অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে, জ্ঞান দেবে আমাদের প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা। সোশ্যাল মিডিয়ার বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করেছিলাম একটা এজেন্সিতে বসে। যুক্ত থাকার ফলে আজ যা দেখছেন, এটা আইসবার্গের ছোট্ট একটা টিপ। আরব বসন্ত, একটা উপসর্গ মাত্র। পালটাচ্ছে পৃথিবী, পাল্টাবো আমরাও। ভালোর দিকে। দরকার ইন্টারনেটের মতো কিছু টুলস।


The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

― Mark Twain

র॰

বইগুলো লিখছি কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে। বিটিআরসির সাত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে ঘোরার অন্তর্জালা থেকে মুক্তি পেতে এ ব্যবস্থা। নোটবই সেনাবাহিনীতে পোশাকের অঙ্গ হবার ফলে মিস করিনি খুব একটা। জিম রনের অমোঘ ‘নেভার ট্রাস্ট ইয়োর মেমরী’ বাণীটা খুব একটা বিচ্যুতি আনতে পারেনি ‘নোট টেকিং’য়ে। এখন যুগ হচ্ছে ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোটে’র। হাতির স্মৃতি বলে কথা – মাটিতে পড়ে না কিছুই। দেশ বিদেশের ফোরাম, যেখানে গিয়েছি বা যাইনি – হাজির করেছি তথ্য। টুকেছি সময় পেলেই। ভরে যাচ্ছিলো নোটবই। ‘এভারনোট’ আর ‘কীপের’ ভয়েস মেমোতে। পয়েন্ট আকারে। প্রোগ্রামিংয়ের মতো পয়েন্টারগুলো লিংক করা ছিলো মাথায়। ভুলে যাবার আগেই বইগুলোর ব্যবস্থা।

ল॰

আরেকটা সমস্যা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে – ওই ছোটবেলা থেকে। কোন জিনিস ধরলে সেটার শেষ না দেখলে ঘুম আসে না আমার। বিশাল বিপদ। আগে ভাবতাম সমস্যাটা আমার একার। ভুল ভাঙ্গলো দুনিয়া দেখতে দেখতে। ইনডাস্ট্রিতে একই অবস্থা। একেকটা রিসার্চ, সফল না হওয়া পর্যন্ত পড়ে আছে মাটি কামড়ে। মনে আছে, হেনরী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার তৈরির কথা? এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো। বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারটাও তৈরি হয়েছে কয়েকটা জেদি মানুষের জন্য। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে উজাড় করে দিয়েছেন তার জ্ঞানকে। বাকিটা আমাদের পালা।

শ॰

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজার বারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজারবারের ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজারটা স্টেপ।

ষ॰

টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় ভাসা ভাসা কাজের উপযোগিতা কম। রেগুলেশনেও একই অবস্থা। দরকার স্পেশালাইজেশন – বাজার বুঝতে। ঢুকতে হবে ভেতরে, অনেক ভেতরে। পুরোটাই অর্থনীতিবিদদের কাজ। ভবিষ্যত না দেখতে পারলে এ ব্যবস্যায় টিকে থাকা কঠিন। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর জাহাবাজ লোকেরাও মাঝে মধ্যে অত ভেতরে ঢুকতে পারেন না। স্পেশালাইজেশন বলে কথা। সেখানেই আসে টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং কোম্পানিগুলো। ওদের কাজ একটাই, আর এন্ড ডি, সারাবছর ধরে। আবার সেই কনসাল্টিং ফার্ম একই ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছে সব টেলিযোগাযোগ কোম্পানির জন্য। স্পেশালাইজড না হয়ে যাবেই বা কোথায় তারা? আর সেই সল্যুশনের জন্য মিলিয়ন ডলারের নিচে কথা বলেন না কেউই। আর বলবেন নাই বা কেন? এধরনের আর এন্ড ডির জন্য কম কষ্ট করতে হয়না তাদেরকে। প্রচুর রিপোর্ট পড়েছি এই কনসাল্টিং ফার্মগুলোর। রিপোর্টতো নয় যেনো হাতের রেখা পড়ছেন। ভবিষ্যত দেখা যায় রীতিমত। মিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং বলে কথা। টার্গেট দিন এক কোটি কর্মসংস্থানের। তৈরি করে দেবো প্রায়োগিক ফর্মুলা। হতে বাধ্য। জানতে হয় ভবিষ্যত দেখতে। বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি খানিকটা।

ট॰

তাই বলে সব কনসাল্টিং ফার্ম এক নয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, কনসাল্টিং ফার্মের দোষ না দেখে যিনি কাজ দিয়ে বুঝে নেবার কথা – তার কম্পিটেন্সিতে ঘাটতি থাকলে রিপোর্ট খারাপ হতেই পারে। আমি কিনছি রিপোর্ট, না বুঝে কিনলে কনসাল্টিং ফার্মের দোষ দিয়ে লাভ কি? গরীবদেশগুলোতে প্রচুর কনসালটেন্সি হয় বটে, তবে সে দেশগুলো সেগুলো ঠিক মতো বুঝে নেবার সামর্থ বা জ্ঞান থাকে না বলেই ঝামেলা হয়। ডোনারদের টাকায় কনসাল্টেন্সি হলে সেটার অবস্থা হয় অন্য রকম। রিপোর্ট নিজের মনে করে বুঝে নিতে পারলে সেটার দাম মিলিয়ন ডলারের বেশি। সে ধরনের রিপোর্ট বুঝে নিয়েছিলাম বেশ কয়েকটা। পোস্ট-ডক করা যাবে কয়েকটা।

ঠ॰

কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হলো বিশ্বখ্যাত অনেকগুলো টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং ফার্মের সাথে। এর সাথে যোগ হলো ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আর কমনওয়েলথ টেলিকম্যুনিকেশন অর্গানাইজেশনের (সিটিও) আরো অনেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্ট। ধারণা পেলাম তাদের কাজের। পড়তে থাকলাম আরো হাজারো রিপোর্ট। দামী সব রিপোর্ট, তবে তার দাম কোনো কোনো দেশ বা এজেন্সি দিয়ে দিয়েছে আগেই। পরিচয় হলো ওভাম, অ্যাকসেন্চার, কেপিএমজি, পিডাব্লিউসি, নেরা আর এনালাইসিস ম্যাসনের মতো তুখোড় তুখোড় ফার্মের সাথে। আবার নিজের প্রতিষ্ঠানেরই কাজ করতে পরিচয় হলো মার্কিন ফার্ম টেলিকমিউনিকেশনস ম্যানেজমেন্ট গ্রূপ, ইনকর্পোরেশন (টিএমজি)র সাথে। তাদের ধরনটাই বুঝতে সময় লেগেছিলো বেশ। তলই পাচ্ছিলাম না প্রথমে। বিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং কোম্পানি বলে কথা। পরিচয় হলো অনেকের সাথে। বন্ধুত্ব হলো অনেকের সাথে। হাতে ধরে দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ‘ফল্ট-লাইন’গুলো।

ড॰

একসময় তল পেলাম এই ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ফার্মগুলোর কাজের ধারার। পৃথিবী জুড়ে কাজ করার ফলে কোথায় কি সমস্যা সেটা তারা জানে ভালো। আর সেটা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেয়া ওদের একমাত্র কাজ বলে ওটাও সে জানে ‘অসম্ভব’ ভালো। গরীব দেশগুলোতে হাজার কোটি টাকার ম্যানেজমেন্ট কন্সাল্টেনসি করে টাকা বানালেও সেটার ব্যর্থতার দায় দেয়া যাবে না তাদের ওপর। ওই দেশের – যাদের ‘কন্সাল্টেনসি’টা বুঝে নেবার কথা তারা ‘ছাড়’ দিলে কাজ হবে কিভাবে? উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাড়াতাড়ি ওপরে উঠতে হলে লাগবে কন্সাল্টেনসি, তবে সেটা ‘পাই’ ‘পাই’ করে বুঝে নেবার মতো থাকতে হবে মানুষ। দু চারটা বৈদেশিক ভ্রমণে ব্যাপারটা উপেক্ষিত হলে জ্ঞান আর প্রজ্ঞাটা হারায় দেশ।

ঢ॰

ব্যাপারটা অনেকটা বিজনেস প্ল্যান কেনার মতো। ও আমাকে বানিয়ে দিলো একটা। না বুঝে দিয়ে দেবো পয়সা? সমস্যা হয় যখন সেটা হয় ‘সরকারী’ মানে জনগণের পয়সা। একারণে উন্নতদেশগুলো ছোট করে নিয়ে আসছে সরকারগুলোকে। যাই হয় সব পার্টনারশীপে। যারাই থাইল্যান্ড গিয়েছেন মুগ্ধ হয়েছেন তারা – বিশাল বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার দেখে। বেশিরভাগ ইনফ্রাস্ট্রাকচারই কিন্তু পিপিপি’র মডেলে করা। সরকারের অতো পয়সা থাকে না কোথাও। পিপিপি হচ্ছে গিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ। পয়সা যোগান দেবে বেসরকারী কোম্পানি – কাগজ দেবে সরকার, আইনগত ভিত্তি সহ। ‘উইন’ ‘উইন’ ব্যাপার। পয়সা লাগলো না সরকারের। কর্মসংস্থানও হলো। আমাদের পিপিপি নীতিমালা তৈরী হয়নি এখনো।


There is no ‘poor’ country, they are ‘poorly’ managed.

― Slightly modified

ণ॰

উন্নত দেশগুলোতে অনেক বড় বড় কাজে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না জনগণ। কারণ এই পিপিপি। যেকোনো দেশের উন্নতির ইনডিকেটর বোঝা যায় ওদেশের পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেম দেখে। মানে জনগন কতো সহজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারছেন – নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। ঢাকা শহরে সেটার অবস্থা আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেও খারাপ। অথচ ব্যবস্যা বান্ধব পিপিপি নীতিমালা থাকলে প্রাইভেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিতে পারতো সরকারের কাছে। তৈরী করতো ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’। ভাগ করে ফেলতো পুরো শহর – চার পাঁচ ভাগে। একেকটা ভাগের রুট নিয়ে দেন-দরবার করতো কনসেশন পিরিয়ডটা নিয়ে। এই রুটটা দাও আমাকে পঞ্চাশ বছরের জন্য। তৈরী করবো স্কাই ট্রেন। ইনফ্লেশন হিসেব ধরে ভাড়ার একটা চার্ট জমা দিতো সরকারকে।

স॰

সফটওয়্যারের মানুষ হিসেবে শূন্য ভার্সন থেকে শুরুতে বিশ্বাসী আমি। শুরু করতে হবে কোথাও। নিউটনের কথায় ফিরে আসবো আবার। ষ্টান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস। আমাদেরও এগুতে হবে পূর্বসূরীর অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে। গাছ রোপণ করার কথা ছিল বিশ বছর আগে। সেটা না হলে কি থাকবো বসে? বরং – লাগাবো আজই। বাংলাদেশের ‘যুক্ত’ হবার এজেন্সিতে চাকরি করার সুবাদে গরীব দেশ আমার ওপর যা ইনভেস্ট করেছে সেটা ফিরিয়ে দেবার জন্য নিয়েছি নগণ্য একটা প্রয়াস। নাম দিয়েছি প্রজেক্ট ‘গিভিং ব্যাক’। ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার ‘চিটকোড’ হিসেবে ধরুন ব্যাপারটাকে। ব্রডব্যান্ডে সফল দেশগুলোর ধারণা নিয়ে ‘আমাদের আঙ্গিকে’ কোডটাকে ‘ক্র্যাক’ করতে চেষ্টা করেছি মাত্র। আর, পয়সার জন্য ওর সাথে থাকবে ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ফান্ড। আর এসপিভিলাগবে এটাও

দরকার আপনার সুচিন্তিত মতামত। ওই মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাঠামোগত পরিবর্তন আনবো বইগুলোতে।

প্রি-প্রোডাকশন স্টেজ: কাজ চলছে এখনো

প্রথম বই: ইন্টারনেটের মুল্যঃ যে কারনে এখনো ধরাছোয়ার বাইরে

দ্বিতীয় বই: বাতাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দক্ষ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা পাল্টে দিতে পারে বাংলাদেশকে

তৃতীয় বই: রেগুলেট অর নট টু রেগুলেট? চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেটর ও বাংলাদেশ

* লিংকগুলো যুক্ত করা হয়েছে কয়েকটা ব্লগপোস্টের সাথে। পুরো বইগুলো আসবে আস্তে আস্তে – প্রিন্টে।


০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সাশান্দ্রা, আইভরি কোস্ট

Again, you can’t connect the dots looking forward; you can only connect them looking backward. So you have to trust that the dots will somehow connect in your future. You have to trust in something — your gut, destiny, life, karma, whatever. This approach has never let me down, and it has made all the difference in my life.

– Steve Jobs

২০.

এই ব্যাপারটাই হচ্ছে ‘কানেক্ট দ্য ডট’। আর সেটা বুঝেছি চল্লিশের পর এসে। অথচ, সেটা বিশ বছর আগে বুঝলে হয়তোবা যেতাম অন্যদিকে। তার মানে এই নয় যে আমি যেখানে আছি সেখানে সাফল্য পাইনি। তবে, এখন বুঝি, মনের টান থেকে যা যা করেছি সেগুলোর শুরুটা অথবা মাঝপথে হাজারটা বিপদে পড়লেও উতরে গিয়েছি মনের টানে। আসলে সেটা মনের টান নয় বরং ওই জ্ঞানগুলো ‘কানেক্ট’ করে আমাকে নিয়ে গেছে নিয়ে গেছে সাফল্যের কাছে।

২১.

এটা ঠিক যে বিশ বছর আগে গিয়ে কিন্তু যুক্ত করা যেতো না কাজগুলোকে। কোন কাজগুলো আপনাকে সাফল্য দিয়েছে সেটা বোঝা যাবে পরে এসে – পেছনে ফিরে। আর সেকারণে আজ আমার বয়স বিশ হলে আমার মন যেটা টানতো সেটা নিয়েই পড়ে থাকতাম বছরের পর বছর। আজ বুঝি, যেটা ভালোবেসে ছিলাম সেটাই পেরেছি করতে। অনেক ঝামেলার পরও। হয়তোবা বিপদে পড়েছিলাম – কিন্তু সেটা একটা সময়ের জন্য। সাফল্য পাওয়া মানুষগুলোকে ‘অ্যানালাইসিস’ করেও দেখা গেছে একই গল্প। আমার সাফল্য তাদের তুলনায় নগণ্য হলেও ট্রেন্ড বুঝতে অসুবিধা হয়নি কিন্তু।

২২.

আমার একটা নিজস্ব থিওরি আছে এ ব্যপারে। জীবনটাকে ধরে নিয়েছি একটা ক্যানভাস হিসেবে। জন্মেই ক্লীন স্লেট। কথা বলা, হাটতে শেখা হচ্ছে এক একটা বিন্দু। যতো নতুন নতুন জিনিস শিখবো ততো নতুন বিন্দু যোগ হবে ওই ক্যানভাসে। যতো বেশি জিনিস শিখবো ততো বিন্দুগুলো চলে আসবে একে অপরের কাছাকাছি। নিজে থেকে ‘কানেক্ট দ্য ডট’ করার প্রয়োজন হবে না তখন। আবার, একেকটা বিন্দু অন্য বিন্দুর যতো কাছাকাছি হবে ততো সেগুলোর কনটেক্সচুয়াল ইনফ্লুয়েন্স বাড়বে। আর সেকারণে আশেপাশের কয়েকটা বিন্দুর জ্ঞান থেকে তৈরি প্রজ্ঞা সমাধান দেবে বাকি ‘আন-রিজল্ভড’ সমস্যার। মনে আছে ওই রিসার্চটার কথা?

২৩.

বড় বড় দুরূহ, অসম্ভব জটিল আর লম্বা প্রজেক্টগুলোকে চালানোর কৌশল শুরু হয়েছে এই বিন্দু থেকে। প্রথমে প্রজেক্টটাকে ছোট ছোট ভাগে (মাইলস্টোন) ভাগ করে ডিপেন্ডেন্সি দেখে নেয়া হয়। ধরা যাক, বিন্দু ‘ক’ থেকে ‘খ’, ‘গ’ থেকে ‘ঘ’ আর ‘ঘ’ থেকে ‘ঙ’ করতে যে প্রযুক্তি প্রয়োজন তা বর্তমানে উপস্থিত অথবা, সময়ের মধ্যে তৈরী করে নেয়া যাবে। কিন্ত, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তার সমন্ধে কারো কোনো ধারণাই নেই। প্রজেক্ট শুরু হয়ে যাবে, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তা বাকি প্রজেক্ট এর গতি কমাবে না। সবসময়ে দেখা যায় (পরীক্ষিত বটে), বাকি অংশগুলো হবার সময় যেহেতু প্রজেক্টটা বের করে নিতেই হবে, অন্য অংশের উপলব্ধিগুলো জড়ো হয়ে অজানা অংশটুকুও বের করে নিয়ে আসে।

আমি কি চাই, তা ঠিক মতো পিনপয়েন্ট করে – বিশ্বাস করে লেগে থাকলে তা পাওয়া যাবেই। বিশ্বাস করলেই করা যাবে সবকিছু। ‘কানেক্ট দ্য ডট’ থেকে এটা না শিখলে পরে পস্তাবেন অনেকেই।

[ক্রমশ:]

১৫.

মনে আছে পত্রিকাগুলোর কথা? মানে, আমাদের ছোটবেলার ওই শিশুতোষ পত্রিকাগুলো? যেগুলো পাল্টে দিয়েছিল আমাদের এখনকার চিন্তা ভাবনা। শিশু? নবারুণ? কৈশোরে এসে পেলাম কিশোর পত্রিকা! যারা লিখতেন তারা জানতেনও কিভাবে জানি – কি চাই আমরা। ‘সুমন আর মিঠুর গল্প’, ‘কুশল আর মৃত্যু বুড়ো’? পরের দিকে – ‘দীপু নাম্বার টু’? মনে নেই তবে কোন যেন একটা পত্রিকার শেষ পাতায় থাকতো কিছু বিন্দু আঁকা। পেন্সিল দিয়ে টানতে হবে এক থেকে দুই, এর পর তিন – চার। নিরানব্বই পর্যন্ত! ধরতেই পারতাম না প্রথমে – কি দাড়াবে জিনিসটা? ওমা, কি সুন্দর পাখি! রং করবো নাকি একটু?

পয়তাল্লিশে এসে ফিরে তাকালাম একবার। পেছনে। জিরাবো কিছুক্ষণ। হিসেবপাতিও করবো কিছু। কি করতে পেরেছি আর কি আছে বাকি?

১৬.

এখন বুঝি, মনের অনেক টান অগ্রাহ্য করেছি সারাজীবন। ভয় পেয়েছি, আশেপাশের মানুষ কি বলে। এটা ওটা করতে চেয়েছি – পিছিয়ে এসেছি পরমূহুর্তে। যেতে চেয়েছি এখানে ওখানে। ‘পয়সা না থাকা’র খোঁড়া যুক্তিতে আটকে ছিলাম ওই সময়গুলোতে। দুহাজার সাতে এসে শুনলাম নামকরা ইউনিভার্সিটির একটা কমেন্সমেন্ট অ্যাড্রেস। ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে বের হবার দিন এক একজন বিখ্যাত মানুষকে ডাকা হয় তার অভিজ্ঞতা বলতে। দুহাজার পাঁচে দেয়া ওই বক্তৃতার সময় মানুষটাকে পছন্দ করতাম না তেমন একটা। ছোট্ট ছোট্ট তিনটা গল্প বলেছিল মানুষটা। গল্পগুলো দাগ কাটলো তার প্রায় ছয় বছর পর। বলতে পারেন চল্লিশে এসে বুঝতে পারলাম প্রতিটা লাইনের অর্থ।

১৭.

মানুষটা কেন জানি ‘সনাতন’ জিনিস মানেনি। আমরা কি পারতাম কলেজে না পড়ে ইচ্ছামতো জিনিস নিয়ে কাজ করতে? মন যা চায় সেটা করার মতো সাহস এখনো আসেনি আমার। অথচ, মনের টানে কলেজ ছেড়ে ইচ্ছেমতো জিনিস শিখে পৃথিবী পাল্টে দিয়েছে ওই মানুষটা। সে যখন ওই কাজগুলো শিখেছে তখন সে নিজেও জানতো না যে জিনিসগুলো তার কাজে লাগবে পৃথিবী পাল্টাতে। মানে ‘ডেলিবারেটলি’ জেনে কোন কিছু করেন নি উনি।

১৯.

মন চেয়েছে তাই করেছেন। বিশ্বাস ছিল যে জিনিসটা পাল্টে দেবে মানুষের অভিজ্ঞতার ব্যাপারগুলোকে। সেটা করতে গিয়ে অনেক সমস্যাতেও পড়েছিলেন উনি। সেটার ভয়ে কাজগুলো ফেলে পালায়নি মানুষটা। তখনও বোঝেননি কি করতে চলেছেন উনি। পৃথিবী জয় করলেন একসময়। অনেক কাজ করেলেন নিজের মতো করে। আর সেগুলোকে বিন্দু হিসেবে কানেক্ট করতে গিয়ে শেষ বয়সে এসে বুঝতে পারলেন আসল জিনিসটা।

[ক্রমশ:]

Everyone should learn how to program a computer, because it teaches you how to think.

– Steve Jobs

I’m 45. And, why should I even learn programming? Come on!

I know what you said, but even if you don’t invent the next Facebook or Google, knowing the basics of programming is life changing. Depending on whatever the challenge and the opportunity is there we really wanna leverage or make sure that we’re ahead in the game of life.

02.

First, learning to programming is not only about learning to that physical coding, it’s about learning how to learn. Mostly, for leading a structured life. Learning to code is about learning to search for the right and appropriate information, can I call it required data set? From the age of information overload.

03.

Second, it literally changes the outlook on a lot of things. At least, for now. Yes, It includes structured methods, smart techniques to deal with the problem. Learning to programming is a great practice for precise, disciplined, and abstract thinking. You know, a program either works, or it doesn’t. Come on, it’s digital landscape! Zero and one!

It could have bugs, maybe some are straightforward or subtle, but that requires a through analysis and concentration. And, believe me that make you learn to think! Who cares? But, you should care. You can even predict, how smart you become!

04.

Third, this is not primarily about getting the next generation to work as software engineers, it is about promoting functional thinking. The thinking is how software engineers solve problems. It does combine mathematics and logic, algorithms, and obviously teaches you a new way to think about the world. Mostly, how to deal with the problems everyday.

This functional thinking forces you how to tackle large problems .. by breaking them down into a sequence of smaller, more manageable problems. It allows you to deal complex problems in efficient ways that operate at huge scale.

05.

It also involves creating models of the real world with a suitable level of abstraction. You have guessed it right! And makes you focus on the most pertinent aspects. The more I learned about this coding, the more I got lit up. True! It helps you to get to the place where you wanted to go. Because, You should always consider what you are bringing to the table versus the procedure you are following up.

Yes, you should check out what that is. Trust me.

06.

The joy, and the pride takes you to a level when suddenly code works. It is, I don’t know – but sure, it feels like heaven.

Finally? Learning a language, whether programming or foreign, does format our brains with a new mindset. Who doesn’t need that? I guess, everybody!

Good bye.

War is ninety percent information.

– Napoleon Bonaparte

The famous French General didn’t even live into this information age, but he clearly understood what is it that required to have military success. When you’re battling for a competitive advantage in business, data visualization can be equally critical to your success. In fact, you have to see what is it that you’re doing – in advance.

11.

What that Data visualization is? What can it do? Can you skip this process? sure! There’s a distinct disconnect between what it is we mean to deliver and what actually end up being delivered. If a picture is worth a thousand words, the data visualization is worth at least a million. Does that ring a bell?

12.

What do they say about Data Visualization? Yes, they say it’s your secret weapon in storytelling and persuasion to get the job done. My life started being a communications professional. Getting your message across effectively, storytelling the only way to get the job done. I know, I heard you saying that. No, no, you gotta be kidding me!

13.

What does it take to see the future? This is it! The world is over supplied with data and information, visualizations are the only way to break through what is not needed, tell your story, and persuade people to action. Raw statistics can’t give you insights. If you’re showing in context, whether with a simple chart or more creatively in an interactive form, is the future of sharing information.

14.

Visualizations help people see things that were not obvious to them before. Visualizations are the universal message to share ideas with others. It lets people ask others, “Do you see what I see?” And does provide answers to “What would happen if we made an adjustment to that area?”

15.

Knowledge is power, but to make your knowledge of data actually powerful, you have to be able to display your findings in a coherent, compelling way. That’s where data visualization comes into play. With more data available than ever before, opportunities are getting even bigger.

Did you like it? Good bye.

[Cont.]

The most important thing in communication is hearing what isn’t being said. The art of reading between the lines is a life long quest of the wise.

― Shannon L. Alder

১০.

পড়াচ্ছি আবার। বাচ্চাদের স্কুল নয়, তবে সেটা হলেই ভালো হতো বরং। ‘স্বপ্ন’ দেখাবার একটা সুযোগ কেই বা ছাড়তে চায় বলুন? ঢেকি স্বর্গে গেলেও ভানে ধান। আমারো হয়েছে তাই। যেটাই দেখি সেখান থেকে ‘প্যাটার্ন’ বের করার বদঅভ্যাসটা যায়নি এখনো। কমিউনিকেশন প্রফেশনালদের এটা একটা সমস্যা বটে। আশেপাশের ‘এনভায়রনমেন্ট’ কি মেসেজ দিচ্ছে সেটা পাবার জন্য আলাদা প্রসেস চলতে থাকে মাথায়। বেশিরভাগ সময়ে ‘অন্যজন’ কিছু না করলেও সেটার মেসেজ কিন্তু অনেক অনেক বড়। মানুষের ‘হ্যান্ড জেসচার’ আর দাড়ানোর ‘পোসচার’ বলে দেয় অনেক কিছুই। অনেক সময়ে দেখেছি, মানুষ মুখে যা বলছে – তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বলছে অন্যকিছু। অনেক ‘প্যাটার্ন’ মানে বিভিন্ন ডাটাসেটের ভেতরে লুকানো মেসেজ বের করতে না পারলে মাটি হয়ে যায় রাতের ঘুম। কি যেন বলছিলাম? ও, হ্যাঁ – ক্লাসে ফেরার কথা।

১১.

ছাত্ররা ক্লাসে ঠিকমতো বুঝছে কিনা সেটা বোঝার জন্য একটা সময় পর পর পরীক্ষা নেই আমি। ‘স্পট’ টেস্ট। বলা নেই কওয়া নেই, হটাত করে। জায়গায় পরীক্ষা আর কি। তবে, সর্বোচ্চ দশ মিনিটের গল্প। প্রশ্ন তৈরী করি প্রায় প্রতিটা বিষয়কে স্পর্শ করে। যা যা পড়িয়েছি ওই সময়ের মধ্যে। ছাত্রদের এই পরীক্ষাগুলো নিয়ে ওরকম মাথাব্যথা থাকে না ‘ওয়েটেজ’ কম থাকে বলে। তবে, পরীক্ষার সময়ে কিন্তু ঠিকই মাথা ঘামাতে হয় তাদের। যেটা পরীক্ষায় না পারে সেটা কিন্তু জানতে পারে পরীক্ষার শেষে। আমার ‘মিশন’ সফল। মাঝে মধ্যেই ওই অনেক ‘স্পট’ আর ‘প্রগ্রেস’ টেস্টগুলোর রেজাল্ট ইনপুট দেই এক্সেলশীটে। ‘সাধারণ’, ‘নিরীহ’ ডাটা হিসেবে পড়ে থাকে আমার ক্লাউড ড্রাইভে।

১২.

একদিন কি মনে করে ডাটাসেটগুলো ফেলে দিলাম একটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুলে। প্লট করার পর মাথা খারাপ হবার যোগাড় আমার। দেখা গেল কয়েকটা বিষয়ে ছাত্ররা খারাপ করেছে বার বার। অথচ, আমি ভাবতাম তারা ব্যাপারগুলো বুঝেছে ভালো। অথচ, ওগুলো ঠিক সময়মতো না জানলে পরের চ্যাপ্টারগুলো ধরতে কষ্ট হতো ওদের। মানে হচ্ছে, আমিই ঠিকমতো বোঝাতে পারিনি ওদেরকে। ব্যাপারটা কিন্তু পরিস্কার হলো ওই ‘নিরীহ’ ডাটাগুলোকে ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুলে প্লটিংয়ে ফেলে দেবার পর! সপ্তাহের কোন দিনগুলোতে পরীক্ষা ভালো করছে সেটাও চলে এলো দিনের আলোর মতো। সকালে না দুপুরের পরীক্ষা – মনোসংযোগের ব্যাপারটাও চলে এলো ওর সাথে। ছাত্রদেরকে নতুনভাবে চিনতে শুরু করলাম ওর পর থেকে। কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও। ‘কানেক্ট’ করতে সুবিধাই হলো বরং।

১৩.

বিটিআরসিতে থাকতে বেশ কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে ‘মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস’ নিয়ে লম্বা লম্বা কাজ করতে হয়েছে একসময়। মোবাইল কোম্পানির গ্রূপগুলোর সাথে অনেক দেনদরবার করতে হয়েছে সার্ভিসটা চালু করার ব্যাপারে। বুঝেছিলাম, বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে এই মোবাইলে টাকা পাঠানোর গল্পটা। ‘প্লাস্টিক’ মানে কার্ড নিয়ে ব্যাংকগুলো খুব একটা এগোতে পারবে না বলেই বলছি একথা। একটা নিরব বিপ্লব চলছে আমাদের চোখের আড়ালে। এদিকে ইন্ডাস্ট্রির সবার সাথে আমার টার্মস খারাপ নয়। মাঝেমধ্যেই যাওয়া পড়ে উনাদের অফিসগুলোতে। নাহলে, কফি খাই একসাথে।

১৪.

বর্তমান কালের এই ‘এমএফএস’ সার্ভিসের কিছু ভিজ্যুয়ালাইজেশন দেখে আমিই বেকুব। বাংলাদেশের কোন কোন এলাকা থেকে সব টাকা ক্যাশ-ইন হয়ে চলে যাচ্ছে কয়েকটা জেলায়, চিন্তায় আসেনি কখনো। ঢাকাতে কোন এলাকার লোক বেশি ব্যবসায়ী, বুঝে গেলাম মুহুর্তেই। দিনের কোন সময়টাতে মানুষ বেশি টাকা পাঠাচ্ছে – সেটাই বলে দিচ্ছে তাদের কাজের ধরন আর ডেমোগ্রাফিক ইনফরমেশন। আবার, কোন জায়গাগুলো দিয়ে এক জেলার টাকা বের হয়ে যাচ্ছে আরেক জেলায়। টাকা ওঠানো নিয়ে ব্যবহারকারীদের অভ্যাস ইঙ্গিত দিচ্ছে অনেক নতুন কিছুর। ‘ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশনে’ কাদেরকে আনতে আমাদের কাজ করতে হবে সেটাও এড়ালো না চোখ। নোটপ্যাডে এন্ট্রি পড়ল কয়েকটা।

[ক্রমশঃ]

Visualization is the key to everything, at least for today. Here goes the third Youtube voice-over on ideas changing world. In this part of the ‘100 Seconds Dot’ series, I’ll cover what great organizations are doing today.

01.

Why is it that when your friends, your spouse, and especially your mother tells you, You need to stop working so much! — and then you kind of hesitate on responding? Ha ha, you know they have a point.

Perhaps, the place you are working might have to undergo some sort of redesigning on workload balancing.

02.

Okay, let’s do this! Assume that I’m your boss. Or revert as you desire. You might have to ask me some of these questions to review what’s going wrong.

  1. Does your organizational structure matches your  strategic intention?
  2. does it support delivering your goal?
  3. Does the workload is balanced among your leaders?
  4. Does our people getting the right amount of direction?
  5. What about the synergy across geographical organizational boundaries?
  6. if you answered no to many these questions I urge you to take a look at the organization design.

03.

Okay let’s do this. First, organization design shapes how groups of people get the job done – how they work together to create, produce, and sell goods and services. Organizations are social systems of integrated action among individuals whose interests, information, and knowledge differ.

04.

Organization design provides the framework for the delicate conversion of conflict into collaboration, the mobilization of resources and effort toward common goals, and coordination of action that facilitates the survival and success of an organization and its members.

05.

For example, in running a Special school, some people know how to teach others understand how to run the school administration while a third group of people might be excellent at innovating skill sets. All these people know and are interested in different often conflicting things – but they need to work together seamlessly to make the school successful.

06.

First, organization designed establishes the jobs roles and responsibilities of its members. who would teach the students, who suggests the innovative subjects and who administer the whole process?

Second, organization design needs to motivate its members to act in the collective interest. to define what it means to do the job well and then how to reward good performance. Finally, organization design helps companies to maintain a balance between routine and innovations. These organization design issues coordination cooperation and competence are often easy to resolve for small organizations.

07.

But it soon becomes more complex bigger organization which constantly evolving digital technologies open up the possibility for unconventional solutions that allow for new forms of working together.

Before redesigning, lets talk about what is affecting us?

08.

I believe in today’s world; change is the only constant. Creating competitive advantage is about getting the strategy right. It is also about mobilizing a high performing organization that can adapt to a changing world. As per the research done by Boston Consulting group, eighty percent of companies have reorganized in recent years but more than fifty percent have failed to achieve their strategic goals.

09.

Organizations struggle to know how to successfully execute their strategic intention and final deliverable.

They often don’t know what to do after they’ve successfully designed, tested, and validated their models and value propositions as per strategic intention.

As we will show, poor countries are poor because those who have power make choices that create poverty. They get it wrong not by mistake or ignorance but on purpose.

― Daron Acemoğlu, Why Nations Fail: The Origins of Power, Prosperity, and Poverty

০১.

বয়স পয়তাল্লিশ হলো গত মাসে। লুকিং ব্যাক, সময় খারাপ কাটে নি কিন্তু। তবে, এর মধ্যে পাল্টেছে দেখার আর বোঝার ‘পার্সপেক্টিভ’। বলতে গেলে অনেক অনেক বেশিই। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছেতেই হয়তোবা। দেখা হয়েছে অনেক বেশি। যাই দেখি এখন, ‘ডট কানেক্ট’ হয়ে যায় মুহুর্তে। আগের জ্ঞানের ছিটেফোঁটা থেকে চলে আসে ‘বিগ পিকচার’। ‘বিগিন এন্ড ইন মাইন্ড’ ব্যাপারটাও কাজ করছে সমান তালে। আর সেটার ‘এনালাইটিক্যাল ইঞ্জিন’ চলে ব্যাকগ্রাউন্ডে। চব্বিশ বছর ছুতে চললো চাকরির বয়স। কম তো ভুল করিনি এ পর্যন্ত! একেক ভুল থেকে তিনটা করে লেসন! আর সেটা নিয়েই আরেকটা সিরিজ। “পয়তাল্লিশ – ফিরে দেখা”। কিছুটা ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য শোল্ডার অফ জায়ান্টস’ মোডে। আগের গুনীজনদের প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে।

০২.

বই পড়ছিলাম একটা। গতকাল। অর্থনীতিবিদ টাইলার কোয়েনের লেখা। ‘অ্যাভারেজ ইজ ওভার’। ফারাক বাড়ছে ধনী আর দরিদ্রের। কমছে আমাদের মতো ‘ষ্টিডি’ মধ্য আয়ের রিজিওন। আর বেশি আয়ের মানুষগুলো কিন্তু বসে নেই। আয় করেই যাচ্ছে তারা। চমকটা কোথায়? পিরামিডের ওপরে থাকা মানুষগুলোর সাথে বাকিদের পার্থক্য একটা জায়গায়। পার্সপেক্টিভে। দুদলের মানুষের কাজের মধ্যে বিরাট ফারাক। পিরামিডের নিচের মানুষগুলো বসে আছেন পুরোনো প্রজ্ঞা নিয়েই। ডট যুক্ত করছেন কম। বেশি আয় করা মানুষ আর কোম্পানিগুলো শিখছে প্রতিনিয়ত। সঠিক সিধান্ত নেবার মেট্রিক্স, ডাটা এনালাইসিস, মেশিন ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সময় কমিয়ে নিয়ে আসছেন প্রথাগত কাজের লিডটাইম। আমাদের মাথার পাশাপাশি অনেক ছোট ছোট কাজ ছেড়ে দেয়া হয়েছে ‘স্ট্রাকচারড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমে’। আর না হলে সেটাকেও আউটসোর্স করে দেয়া হয়েছে আমাদের মতো দেশগুলোতে। সেই সময় বাঁচিয়ে সেটাকে ইনভেস্ট করছে পরের লার্নিংয়ে। ‘লো-টেক’ রুটিনমাফিক কাজে সময় নষ্ট করার বিলাসিতা সাজে না পিরামিডের ওপরের মানুষগুলোর।

০৩.

চব্বিশ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বলে কয়েকটা জিনিস। আমাদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানগুলো আটকে আছে প্রথাগত রুটিনমাফিক কাজ নিয়ে। ৮০ শতাংশ সময় নষ্ট হয় রুটিন আর ‘রিপিটেটিভ’ কাজগুলোর পেছনে। যে কাজটা আগেও হয়েছে আর সেটার কি ধরনের সিধান্ত হয়েছে সেটা জানা সত্ত্বেও সেটাকে প্রসেস করছি প্রতিদিন। নতুন করে। রুটিনমাফিক কাজগুলোর সিদ্ধান্তের পেছনে আগের মতো সময় দিচ্ছে আমাদের ম্যানেজাররা। ম্যানেজারদের সময় নষ্টের টাকা গুনছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রুটিন কাজগুলো সাধারণত: চলে কিছু ‘প্রিডিফাইনড’ রুলসেটের ওপর। আর সেগুলো আসে প্রতিষ্ঠানের ‘স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রোসিডিউর’ (এসওপি) থেকে। আর সেটাকে স্ট্যান্ডার্ড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমের ‘ডিসিশন ট্রি’তে ফেলে বিভিন্ন ইনপুটের দরকারী সিদ্ধান্তের সিকোয়েন্স আর তার কাজের আউটকাম নিয়ে আগে এনালাইসিস না করাতে এক কাজে আটকে থাকছি বছরের পর বছর।

০৪.

প্রতিদিনের ডে-টু-ডে অপারেশন্সে ব্যবহার করছি না আগের শেখা ‘প্রজ্ঞা’। কার্বন কপি সিস্টেমে ‘আগে কিভাবে হয়েছে?’ জিজ্ঞাসা করলেও সেই জ্ঞানটাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক মেমরি’তে না রাখার জন্য নিতে হচ্ছে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত। ফলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট ব্যস্ত থাকছে একই কাজে। মজার কথা হচ্ছে একই কাজে, এক ধরনের উপাত্তের ওপর সিধান্ত হচ্ছে একেক রকম। রুটিন কাজেই। আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে। সিদ্ধান্ত নেবার সময়ক্ষেপনের খরচ না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু কি হবে ভুল সিদ্ধান্তের? কে দায়ভার নেবে ওই বাড়তি খরচের? ‘রুল ভিত্তিক সিধান্ত’ মানে ‘এই’ ‘এই’ জিনিস হলে এই কাজ করতে হবে জেনেও সেটার পেছনে সময় নস্ট করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থা হলে নতুন নতুন উদ্ভাবনাতে সময় বের করবে কে? উদ্ভাবনা ছাড়া উপায় নেই বাঁচার।

মনে এলো আরেকটা বইয়ের কথা। ‘হোয়াই নেশনস ফেইল?’

উপায় কি এখন?

০৫.

উপায় বের করার আগে একটু ভেতরে ঢুকি কি বলেন? বিমান চালাতে পাইলটকে কত ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেটা নিয়েই আলাপ করি বরং। বিমান টেকঅফ থেকে শুরু করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত হাজারো ইনপুট প্যারামিটার থেকে ‘মানুষ পাইলট’রা যদি নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে যান, তাহলে বিমানের ওড়া হবে না আর। তাই বলে কি উড়ছে না বিমান? মানুষের জীবনের হাজারো ঝুঁকি ছেড়ে দেয়া হয়েছে এই ‘অটোমেটেড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমে’র ওপর। সম্ভাব্য কি কি ইনপুটে কি কি সিদ্ধান্ত হতে পারে, আর তার মধ্যে তার ফাইনাল ‘অবজেক্টিভ’ বিচার করে ওই সময়ের জন্য কোনটা ‘অপটিমাল’ হবে সেটার প্রসেস ফ্লো কিন্তু তৈরী করে দিয়েছে এই মানুষই। মানুষ তৈরী করে দিয়েছে পুরো রাস্তা, তবে সেটাকে চালানোর দ্বায়িত্ব দিয়েছে একটা সিস্টেমকে। যন্ত্রকে তো আর বলা হয়নি আমাদেরকে চালাতে, কি বলেন? আর যন্ত্রকে যদি আমার ‘লো-টেক’ কাজ আউটসোর্স না করি তাহলে ওটাকে তৈরী করলাম কেন?

০৬.

এদিকে দুবাই বা লন্ডন এয়ারপোর্টের ম্যানেজমেন্টকে ‘ম্যানুয়ালি’ প্রতিটা বিমান ওঠা নামার সিদ্ধান্ত নিতে বলা হলে কি যে হবে সেটা ‘ভিজ্যুয়ালাইজ’ আর নাই বা করি। অনেক দেশে মেট্রো আর সাবওয়ে সিস্টেমে দেয়া হচ্ছে না ড্রাইভার। কারণ, মানুষই ভুল করবে বরং। সামনে যতই চেষ্টা করুন, ‘ড্রাইভারলেস’ গাড়ি তো ঠেকাতে পারবো না আমি আপনি। আর সেটা কথা নয়, এই লো-টেক ‘শারীরিক’ জিনিস আর কতো দিন করবে মানুষ? অনেক জিনিসেরই বাজারে কি দাম কতো হবে সেটা কিন্তু তৈরী করে দেয় না মানুষ। বর্তমান সময়ে। বিমানের টিকেটের দাম কে ঠিক করে সেটাই দেখুন না চেখে? ব্যাংক তো বসে থাকে না আমার জন্য সারা রাত – তার অফিস খুলে? টাকা দেবার দ্বায়িত্বও ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু এটিএমএর ওপর। আমাকে যারা চেনেন, তারা বলবেন, ‘আপনি তো কম্পিউটারের লোক, এ কথা তো বলবেনই আপনি। সব সিদ্ধান্ত তো আর ছাড়া যাবে না মেশিনের ওপর।’

০৭.

মানছি আপনার কথা। তবে, আমাদের প্রতিষ্টানগুলো প্রতিদিন হাজারো ঘন্টা নষ্ট করছে এমন কিছু ‘অপারেশনাল’ সিদ্ধান্ত নিতে যেটা সহজেই ছেড়ে দেয়া যায় কিছু ‘রুল বেসড’ সিস্টেমের ওপর। ভুল বুঝবেন না, কম্পিউটারের কথা বলছি না এখানে। বরং, কম্পিউটার ধরতেও হবে না ওটা তৈরী করতে। যেগুলো আমাদের ম্যানেজারদের মাথায় আছে অথবা ‘আগে কিভাবে করা হয়েছে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে’ সেটাকে কাগজে সিকোয়েন্স আকারে বিভিন্ন ‘সিদ্ধান্তের শাখা’ ধরে লিখে পাঠিয়ে দিন নিচের দিকে। তারা ঠিকই পারবে ওই সব সিদ্ধান্তগুলো দিয়ে কাজ করতে যেগুলো এতোদিন নিচ্ছিলেন বড় বড় ম্যানেজাররা। সত্যি বলছি! ‘ডিসিশন ট্রি’র অ্যাকশন পয়েন্টের সত্যিকারের গ্রাফিকাল রিপ্রেজেন্টেশন একবার করেই দেখুন না কাগজে, অবাক হয়ে যাবেন নিজেই। নিজের হাত কামড়াবেন – এতোদিন কতো সময় নষ্ট করেছেন ফালতু কাজে।

[ক্রমশঃ]

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 710 other followers

%d bloggers like this: