Feeds:
Posts
Comments

Archive for August, 2013

Oh no. Don’t smile. You’ll kill me. I stop breathing when you smile.

― Tessa Dare, A Lady of Persuasion

৬৯.

মাল্টিপ্লায়ারের ধারণা পেয়েছিলাম আন্দ্রিয়ার কাছ থেকে। আন্দ্রিয়া কুপার্স। আরে না! বেটি কুপার্স হলে তো বর্তে যেতাম! মেডিকেল স্টুডেন্ট। আগাস্টার মতো ভুতুড়ে শহরে যার সাথে দেখা হয় – সে হয় ডাক্তার নয়তো হেলথকেয়ার সিস্টেমের সাথে কোনো না কোনো ভাবে কানেক্টেড। ভুতুড়ে মানে সন্ধার পর কুপি ছাড়া বাকি সব লক্ষণই উপস্থিত। স্কুলে যাই হেঁটে হেঁটে। সাইকেল কিনিনি তখনো। আবার গাড়ির মানে প্রি-ওনড (আমাদের ভাষায় সেকেন্ড-থার্ডহ্যান্ড) গাড়ির দাম সাইকেলের থেকে সস্তা। বেশ দুরে স্কুল – পয়তাল্লিশ মিনিটের হাঁটা। মেয়েটা লক্ষ্য করেছে হয়তোবা। পিএক্সে দেখা হয়েছে কয়েকবার। পিএক্স হচ্ছে মিলিটারি বেজের ওয়াল-মার্ট। হাঁটতে খারাপ লাগে না। দুরের ব্লুবেরির বাগান দেখতে দেখতে চলে যেতাম স্কুলে। সেদিনের ব্যাগটা ভারী ছিল বোধহয়।

‘তোমার ওদিক দিয়েই যাচ্ছি আমি, কেয়ার ফর আ লিফ্ট?’ চশমা ছাড়াই মেয়েটাকে ভালো লাগছিলো বরং। চোখে চোখে রাখলো সে, মুখে চাপা হাসি।

অফ গার্ড অবস্থায় পেলো নাকি মেয়েটা আমাকে? ‘অসম্ভব ধন্যবাদ তোমাকে।’ ঝামেলা এড়াতে চাইলাম। বয়ফ্রেন্ড থাকবে তো অবশ্যই। দেখলে কি না কি হয়?

‘আই উড রাদার ওয়াক। জিজ্ঞাসা করার জন্য ধন্যবাদ।’

৭০.

পরে কি হলো তার থেকে আসি বরং আন্দ্রিয়া’র মাল্টিপ্লায়ারের গল্পে। স্বভাবতই খুব এক্সপেনসিভ হবার কারণে স্কলারশিপ ছাড়া মেডিকেল স্কুলে পড়া দুস্কর। মধ্যম আয়ের পরিবার থেকে মেডিকেল স্কুলে পড়তে এসে সর্ষে ফুল দেখা শুরু করলো শুরুতেই। গ্রান্ট আর স্কলারশিপ খুঁজতে খুঁজতে পাগল হয়ে যাবার জোগাড় আন্দ্রিয়ার। সেমুহুর্তে একটা ক্লাসিফাইড অ্যাড পেলো স্কুলের নোটিশবোর্ডে। যোগাযোগ পোস্টবক্সের মাধ্যমে। অ্যানোমিটি রাখতে চাইছে মহিলা। স্কুলের গ্রেড আর কি কি যেনো পাঠাতে বলেছিলো ওকে। শর্ত একটাই। পুরো স্কুলের খরচ দেবে মহিলা। প্রতিষ্ঠা পাবার পর তাকেও দুজন গরীব মেধাবীর খরচ যোগাতে হবে – মেড স্কুলে।

৭১.

ব্রডব্যান্ডের এমপ্লয়মেন্ট মাল্টিপ্লায়ার ঢালাওভাবে হিসেব করা কষ্টকর হলেও কান্ট্রি-স্পেসিফিক মাল্টিপ্লায়ার বের করে ফেলেছেন সেসব দেশের অর্থনীতিবিদগণ। অন্য দেশের উপর সরাসরি সেটা প্রয়োগ না করা গেলেও সম্ভাব্য এমপ্লয়মেন্ট গেইনের ধারণা পাওয়া যাবে ওটা থেকে।

একটা সহজ গড় এস্টিমেশনে দেখা যায় যে একটা সম্ভাব্য ব্রডব্যান্ড কাজ ২.৭৮টা পরোক্ষ মানে ইন্ডিউসড কাজ তৈরী করবে। একটা লোক যে অপারেটরে কাজ পাচ্ছে সে জেনারেট করছে ১.১৭টা স্পিলওভার মানে অতিরিক্ত কাজ। মানে ওই লোকটা মোবাইল অপারেটরে চাকরি পাবার ফলে তৈরী করছে স্পিলওভার মোবাইল রিচার্জ ব্যবস্যা। মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি আর সারাইয়ের কথা আর নাই বা তুললাম এখানে।

সে থেকে ধারণা করা যায় যে – সঠিকভাবে ব্রডব্যান্ডের ডেপ্লয় হলে এক ব্রডব্যান্ড কাজ থেকে ২.৫ থেকে ৪.০টা অতিরিক্ত কাজ বা চাকুরী তৈরী হবে। আবার বেশ কিছু সমীক্ষায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির হারেরও উপর এই ব্রডব্যান্ড কাজের প্রভাব বের করা গেছে। লাতিন আমেরিকার বারোটা দেশে হিসেব করে দেখা গেছে যে তাদের আট শতাংশ ব্রডব্যান্ড সংযোগ বাড়ার ফলে কর্মসংস্থানের হার সেভাবেই বেড়েছে।

গল্প মনে হচ্ছে?

Read Full Post »

A good traveler has no fixed plans, and is not intent on arriving.

– Lao Tzu

৬২.

অফিসের কোনার রুমটা আমার। ছোট হলেও খারাপ নয়। কাজটাই বড় কথা, রুম নয়। রুম বড় হবার সাথে প্রোডাক্টিভিটির সম্পর্ক আছে কিনা জানি না, মনে মনে কমপিট করি বড় রুমে যারা থাকছেন তাদের সাথে। প্রতিটা গাইডলাইন বা ডিরেক্টিভ বাজারে কি ধরনের প্রভাব ফেলছে সেটার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ – খারাপ নয়। বরং আমার কিউবিক স্কয়ার মিটারে প্রোডাক্টিভিটি আসবে বেশি। ছোট রুমের সুবিধা আছে বৈকি। মিটিংয়ে চাপাচাপি করে বসতে হয় বলে সবাইকে কাছাকাছি পাওয়া যায় – মানসিকভাবে। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স লেভেলটা কাজ করে ভালো। মন ছুতে জুড়ি নেই এর। অন্যের সিঙ্গারাটা মেরে দিলে তার খুনসুটি আর কোথায় পাবো বলুন?

৬৩.

ফিরে আসি প্রোডাক্টিভিটিতে। ব্রডব্যান্ড প্রোডাক্টিভিটি। ছয় বছর আগে টেলিযোগাযোগ খাতকে এই অফিসটা একটা স্বর্ণখনি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো বটে। গরীব দেশের টাকার প্রয়োজন আর সেটার একটা নতুন সোর্স পাওয়া কম কথা নয়। হাজার কোটি টাকা আসতে লাগলো এই খাত থেকে। নতুন লাইসেন্সিং, তার লাইসেন্সিং অ্যাকুইজিশন কস্ট, স্পেকট্রাম চার্জ, রেভিনিউ ভাগাভাগি আর বাত্‍সরিক ফী। মার্কেটে সেগমেন্টেশন মানে তৈরী হতে থাকলো নতুন বাজার। এক কোম্পানি দশটা কাজ করবে, না দশটা মিলে সেকাজ? কম্পিটিশন এজেন্সির কোনো ধরনের ওভারসাইট ছাড়া বাজার নষ্ট হবার গল্প নিয়ে আসব পরে। লাভ বাড়তে লাগলো লাফিয়ে লাফিয়ে। প্রতিবছর এই অফিসের সার্থকতা খুঁজতে যেয়ে এই হাজার কোটি টাকার প্রাপ্তি যোগ করতে থাকলাম সব রিপোর্টগুলোতে। খুশি সবাই। খাতের টার্গেটও বেড়ে গেল অনেকগুন। আনট্যাপড মার্কেট ছিল এতোদিন। এতো টাকা মাথা ঘুরিয়ে দিল সবাইকে। প্রতিটা প্রেজেন্টেশনের প্রথম দিকের স্লাইডগুলোতে ন্যাশনাল এক্সচেকারে কত টাকা জমা হলো সেটাই হয়ে গেল মুখ্য বিষয়। বার চার্ট, হিস্টোগ্রাম আর লাইন চার্টের এই উর্ধমুখী ট্রেন্ড যে কোনো নীতিনির্ধারণীদের মন কাড়তে বাধ্য। মন ভালো সবারই।

৬৪.

ইন্টেলিজেন্ট রিপোর্ট তৈরীতে সিদ্ধহস্ত(?) এই আমি বিভিন্ন দেশে নিজের দেশের উপর প্রেজেন্টেশন দেয়া শুরু করলাম। ভালই চলছিলো। টেলিডেনসিটি আর ইন্টারনেট পেনিট্রেশন খারাপ নয় আমাদের – মোবাইল পেনিট্রেশনও বেশ ভালো। তবে, খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে অসঙ্গতি পেলাম আমাদের ডেমোগ্রাফির আউটপুটে। মানুষের অসম্ভব ঘনত্ব, সমতল ভূমি, ক্যাপিটাল মেশিনারির উপর শূন্য শুল্ক, বিনামূল্যের স্পেকট্রাম আর মোবাইল পেনিট্রেশনের সাথে মেলানোর চেষ্টা করলাম অন্য দেশের স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটরগুলো। আমাদের জিডিপির কাছাকাছি দেশগুলোর ইনডিকেটরগুলো জোগাড় করা হলো এসক্যাপ, আইটিইউ আর বিশ্বব্যাঙ্ক ছাড়াও আরো অনেক সোর্স থেকে। রেজাল্ট? আমাদের ডেমোগ্রাফি বলছে – আরো ভালো করতে পারতাম আমরা।

৬৫.

মনোযোগ দিলাম অন্য দেশের প্রেজেন্টেশনগুলোর উপর। তাদের উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশনের ব্যাকগ্রাউন্ড পেপারগুলোও জোগাড় করতে থাকলাম বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে লাঞ্চ আর ডিনারের দাওয়াতের পাশাপাশি মন পেলাম অন্যদেশের বন্ধুদের। এক্সেস পেলাম নতুন ভান্ডারে, জ্ঞানের ভান্ডারে। কুঁচকে গেলাম কিছুটা। সরকারকে কতো টাকা তুলে দিচ্ছে তাদের অফিস – সেটাই বরং লুকিয়ে রাখছে সযত্নে। তাদের প্রেজেন্টেশনগুলো ঝলমল করছে অন্য কিছু ইনডিকেটর দিয়ে! কতো এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করেছে সে বছর আর কতো নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরী করেছে তার খুঁটিনাটি হিসেব বের করতেই ব্যস্ত তারা। কি করলে তৈরী হবে নতুন চাকরির ক্ষেত্র আর নতুন এমপ্লয়মেন্ট – সেটা নিয়েই উল্টে পাল্টে ফেলছে নীতিমালাগুলোকে। তাদের কোন নীতিমালার ফলে প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষ চাকুরী আর সেটার ক্ষেত্র তৈরী করতে পারছে তার হিসেব আবার সেই নতুন চাকরির ক্ষেত্র বা নতুন কোম্পানিগুলো কিভাবে দেশের জিডিপি বাড়াচ্ছে সেগুলোই আলোচনার বিষয়। অফিসের নামও পাল্টে ফেলছে তারা। বলছে না রেগুলেটরি বা নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বলছে ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি। হ্যা, ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি। ভুল বলেছি কি? স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটরগুলো জল এনে দেবে চোখে। পাল্টাতে থাকলাম আমিও। শুরু করলাম স্লাইডগুলো দিয়ে। ফেলে দিলাম টাকা পয়সার হিসেব, আমাদের প্রত্যক্ষ আয়। ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ তো নই আমি। বাতাস আর খাদ্যের মতো জ্ঞানেও রয়েছে সবার অধিকার। খাদ্যে ভর্তুকি দিলেও এখানে তো সেটা চাচ্ছে না কেউই। প্রমান? দেখুন এখানে। তৈরী করেছিলাম দুহাজার এগারোর শুরুতে। আরো আনছি সামনেই।

৬৬.

ব্রডব্যান্ড কিভাবে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করে সেটা নিয়ে স্টাডি রয়েছে হাজার খানেক। কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের ডকটর রাউল কাজের (katz) দুহাজার নয়ের এই পেপারটা হচ্ছে আমার পছন্দের – এক নম্বর। ক) ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার বসাতে গেলে যে প্রত্যক্ষ এমপ্লয়মেন্ট সেটাই হচ্ছে প্রথম ধাপ; মানে অপারেটরের চাকুরী করছে যারা, খ) বড় রাস্তার পাশে থাকা জনপদের যেভাবে ইকোনমিক একটিভিটি বেড়ে যায় সেভাবে ব্রডব্যান্ড সংযোগ ব্যবহার করে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক  কার্যক্রম শুরু হবে, ফলে সেই কাজকে তুলতে যেয়ে আরো অনেক চাকুরী তৈরী হবে; আমাজনের মতো বিলিয়ন ডলারের ই-কমার্স সাইট গড়ে উঠেছে এই ব্রডব্যান্ড থেকেই, বিডিজবস, এখনি আর বিক্রয়.কম কেই বা বাদ দেই কেন? গ) আর এই ব্রডব্যান্ড সংযোগ তৈরী করবে মানুষ মানুষের যোগসূত্র থেকে প্রভাবিত (ইন্ডিউসড) কার্যক্রম যার স্পিলওভার এফেক্ট হচ্ছে বিলিয়ন ডলারের বাজার, যাকে আজ আমরা বলি ফ্রিল্যান্সিং। আর আপনার কনসাল্টিং বিজনেসটাই বা বাদ যাবে কেন? বাসায় বসে টাকা আয় ব্যাপারটা নিয়ে এসেছে কিন্তু এই ব্রডব্যান্ড!

৬৭.

গল্পটা শেষ করতে চাইছিলাম এখানেই। তবে এই তিন ক্যাটাগরির গল্প না দেবার কারণে শাসিয়েছেন একজন ইনবক্সে। তিন ক্যাটাগরির এমপ্লয়মেন্ট টার্গেট কিন্তু ভিন্ন। অদক্ষ, দক্ষ আর অতিমাত্রায় দক্ষ মানুষগুলোর জন্য ব্রডব্যান্ড নিয়ে আসছে কয়েক ধরনের প্যাকেজ। ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার চাকুরী নিয়ে যারা আসছেন তাদের মধ্যে সিভিল কনস্ট্রাকশন, দিনমজুর, লো-টেক ফাইবার স্প্লাইসার থেকে শুরু করে মোবাইল অপারেটরের ইন্টেলিজেন্ট নেটওয়ার্কের কমপ্লেক্স বিলিংয়ের মতো কাজে অতিমাত্রায় দক্ষ মানুষও লাগছে এখানে। ইনডাইরেক্ট বা ইন্ডিউসড চাকুরিতে যারা ইন্টারনেটের সুবিধা নিয়ে সারা বিশ্বে ব্যবস্যা করছেন – তারা পড়ছেন। কোম্পানি খোলা হচ্ছে প্রতিমিনিটে – চাকুরী তৈরী হচ্ছে তার থেকে দ্রুত গতিতে। রেগুলেটরের কাজের বড় অংশ হচ্ছে নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরী করা আর সেই ব্যবস্যাকে টিকিয়ে রাখার জন্য তার টারশিয়ারী লাইফলাইন মানে সরকারী অন্য বিভাগ থেকে ঠিক মতো সাহায্য পাচ্ছে কিনা সেটা মনিটর করা। ব্যবস্যা একেবারেই না করতে পারলে তার জন্য এক্সিট রুট বলা থাকে তার লাইসেন্সে। উন্নত বিশ্বে রেগুলেটর অথবা ফাসিলিটেটর সাধারণত: থাকে অদৃশ্য রোলে। মার্কেট ঠিকমতো না চললেই ও দৃশ্যমান হয় – সহযোগিতার হাত নিয়ে। লাইসেন্স ক্যানসেলেশন অনেক পরের কথা। আবার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে কোটি টাকা ফাইন। কোম্পানি বন্ধ হয়না কখনো। দোষ করেছে কোম্পানি, গ্রাহকেরা নয়। আর – গ্রাহক স্বার্থরক্ষায় আছে অনেকগুলো সরকারী এজেন্সি!

৬৮.

ব্রডব্যান্ড দিয়ে কার্যক্ষেত্র তৈরীর ক্ষেত্রে স্পিলওভার মানে নেটওয়ার্ক ইফেক্টে যে কাজগুলো আসে সেগুলো অতিমাত্রার দক্ষ মানুষদের জন্য ধরা হয়। এধরনের এমপ্লয়মেন্ট এক দেশ থেকে আরেক দেশে কম বেশি হয়। স্বাস্থ্যসেবা আর শিক্ষা এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বিলিয়ন ডলারের এই দুই সেবা খাত বাড়ছেই তো বাড়ছে ব্রডব্যান্ডের মাল্টিপ্লায়ার হিসেবে। এছাড়া অর্থব্যবস্থা আর পুঁজি বিনিয়োগ পুরোটাই টিকে আছে ভালো সংযোগের উপর – যারা কর্মসংস্থান করছেন কোটি লোকের। ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের আজ কি ঘটছে সেটার খোঁজ নিয়েছেন কখনো? ‘ব্রডব্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ বা ‘এমপ্লয়মেন্ট মাল্টিপ্লায়ার’ নিয়ে গুগল করলে মাথা খারাপ হবে সবার। বলুনতো, কোথায় আছি আমরা?

আসছি সামনেই।

Read Full Post »

Efficiency is doing things right; effectiveness is doing the right things.

Peter Drucker

৫৮.

আমার সমস্যা দুটো। ভাসা ভাসা কাজ করতে পারি না মোটেই। আবার যেটাতে ঢুকবো সেটা শেষ না করলে ঘুমই আসবে না – দিনের পর দিন। পাবলিক সেক্টরে এটা আবার বড় সমস্যা। হাজারো কাজ, করতেই হবে ভাসা ভাসা – নাহলে বাকিগুলো করবেন কখন? আবার কোনো কাজের ভেতরে ঢুকতে হলে – ঢুকতে হবে নিজের সময়ে মানে মাঝরাতে না হয় শুক্রবারে। ইদানিং রাস্তার জ্যাম ভালোই কাজ দিচ্ছে। আড়াই ঘন্টা রাস্তায় প্রতিদিন, ধন্যবাদ অডিওবুক আর টেক্সট তো স্পীচ ইঞ্জিন!

৫৯.

টেলিযোগাযোগ ব্যবস্যায় ভাসা ভাসা কাজের উপযোগিতা কম। ঢুকতে হবে ভেতরে, অনেক ভেতরে। ভবিষ্যত না দেখতে পারলে এ ব্যবস্যায় টিকে থাকা কঠিন। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর জাহাবাজ লোকেরাও মাঝে মধ্যে অত ভেতরে ঢুকতে পারেন না। স্পেশালাইজেশন বলে কথা। সেখানেই আসে টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং কোম্পানিগুলো। ওদের কাজ একটাই, আর এন্ড ডি, সারাবছর ধরে। আবার সেই কনসাল্টিং ফার্ম একই ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছে সব টেলিযোগাযোগ কোম্পানির জন্য। স্পেশালাইজড না হয়ে যাবেই বা কোথায় তারা? আর সেই সল্যুশনের জন্য মিলিয়ন ডলারের নিচে কথা বলেন না কেউই। আর বলবেন নাই বা কেন? এধরনের আর এন্ড ডির জন্য কম কষ্ট করতে হয়না তাদেরকে। প্রচুর রিপোর্ট পড়েছি এই কনসাল্টিং ফার্মগুলোর। রিপোর্টতো নয় যেনো হাতের রেখা পড়ছেন। ভবিষ্যত দেখা যায় রীতিমত। মিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং বলে কথা। তাই বলে সব কনসাল্টিং ফার্ম এক নয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে কনসাল্টিং ফার্মের দোষ না দেখে যিনি কাজ দিয়ে বুঝে নেবার কথা – তার কম্পিটেন্সিতে ঘাটতি থাকলে রিপোর্ট খারাপ হতেই পারে। আমি কিনছি রিপোর্ট, না বুঝে কিনলে কনসাল্টিং ফার্মের দোষ দিয়ে লাভ কি? গরীবদেশগুলোতে প্রচুর কনসালটেন্সি হয় বটে, তবে সে দেশগুলো সেগুলো ঠিক মতো বুঝে নেবার সামর্থ বা জ্ঞান থাকে না বলেই ঝামেলা হয়। ডোনারদের টাকায় কনসাল্টেন্সি হলে সেটার অবস্থা হয় অন্য রকম। রিপোর্ট নিজের মনে করে বুঝে নিতে পারলে সেটার দাম মিলিয়ন ডলারের বেশি। সেটাও নিয়েছিলাম বেশ কয়েকটা।

৬০.

কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হলো বিশ্বখ্যাত অনেকগুলো টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং ফার্মের সাথে। এর সাথে যোগ হলো ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আর কমনওয়েলথ টেলিকম্যুনিকেশন অর্গানাইজেশনের (সিটিও) আরো অনেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্ট। ধারণা পেলাম তাদের কাজের। পড়তে থাকলাম আরো হাজারো রিপোর্ট। দামী সব রিপোর্ট, তবে তার দাম কোনো কোনো দেশ বা এজেন্সি দিয়ে দিয়েছে আগেই। পরিচয় হলো ওভাম, অ্যাকসেন্চার, কেপিএমজি, পিডাব্লিউসি, নেরা আর এনালাইসিস ম্যাসনের মতো তুখোড় তুখোড় ফার্মের সাথে। আবার নিজের প্রতিষ্ঠানেরই কাজ করতে পরিচয় হলো মার্কিন ফার্ম টেলিকমিউনিকেশনস ম্যানেজমেন্ট গ্রূপ, ইনকর্পোরেশন (টিএমজি)র সাথে। তাদের ধরনটাই বুঝতে সময় লেগেছিলো বেশ। তলই পাচ্ছিলাম না প্রথমে। বিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং কোম্পানি বলে কথা। পরিচয় হলো অনেকের সাথে। বন্ধুত্ব হলো জেমস প্যাট্রিজের (পাল্টে দিলাম নামটা) মতো আরো কয়েকজনের সাথে। ওখান থেকে জেনেছিলাম এই নতুন হ্যান্ডবুকটার কথা, লিখছে ওরা। আসছেই শিগগির! ওয়ার্ল্ডব্যাঙ্ক আর ইনফোডেভ আসলো পুরানো বন্ধুত্ব থেকে [আইসিটি রেগুলেশন টুলকিট আর রেগুলেটরি হ্যান্ডবুক যাদের হাত ধরে আসা], পয়সা দিলো ইউকে এইড আর কোরিয়ান ট্রাস্ট ফান্ড। ব্রডব্যান্ডের ব্যাপারে ওদের থেকে জানে কে বেশি এই পৃথিবীতে? ভুলে গিয়েছিলাম বইটার নাম। আমার অফিসার সঞ্জীব মনে করিয়ে দিলো সেদিন। ধন্যবাদ তাকে।

৬১.

পাগল হয়ে থাকলাম সেই সপ্তাহটা। পাগল করবো আপনাকে? গুগল করুন ‘ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজিস হ্যান্ডবুক’, পাচ্ছেন একদম বিনামূল্যে! ডিজিটাল বাংলাদেশ এজেন্ডা, মানে বাংলাদেশকে সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে পড়তে হবে এই হ্যান্ডবুক, লাইন-বাই-লাইন। ‘লিপফ্রগিং’ কাকে বলে এখানেই দেখবেন কিন্তু। অন্য দেশের হাজারো ভুল থেকে শিক্ষা পাবেন এখানেই। আমাদের ফল্টলাইনগুলোও কিন্তু চলে এসেছে এখানে। নীতিনির্ধারকদের জন্য আ মাস্ট, আর বাকিদের পড়তে হবে নীতিনির্ধারকদের শুধরানোর জন্য। বাংলাদেশ তো সবার, শুধু নীতিনির্ধারকদের নয়। উন্নতি করতে চাইলে পড়তে হবে সবারই। সরকার তো পড়বেই, আমরা পড়লেই পাল্টাবে দেশ!

বইটার ভেতরের গল্প নিয়ে আসছি সামনেই।

Read Full Post »

The most pathetic person in the world is someone who has sight but no vision. ― Helen Keller

৫১.

ইউএস নেভির ক্যারিয়ারের শেষের দিকে পানি থেকে আকাশেই থাকতে হচ্ছিল বেশি। ইউরোপ আর ওয়াশিংটন ডিসি – ওড়াওড়ির মধ্যেই ছিলাম বেশ কয়েক বছর। সারারাত ফ্লাই [রেড আই ফ্লাইট] করে ধরতে হতো সকালের ব্রিফিং, সেই ডিসিতে। তাও আবার অনেক নীতি নির্ধারণীদের সামনে। ব্রিফিং শেষ, উঠে চড়ো সেই উড়ুক্ক যানে। গন্তব্য ইতালি। এই আকাশ ভ্রমনের সময়টা আমার পরিবারের সাথে একসাথে থাকার প্রেশাস টাইম থেকেই নিচ্ছিল কেটে। কি আর করা? আমিই তো বেছে নিয়েছিলাম এই জীবন।

৫২.

ওরকম এক ক্লান্ত সন্ধার কথা। ব্রিফিং শেষে আটলান্টিক পাড়ি দেবার জন্য কোনরকমে সিট খুঁজে বসতেই ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হাজির। আবার কোন উটকো ঝামেলা? মুখ ব্যাজার করে তাকাতেই ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টএর কুন্ঠিত কিন্তু স্মিত হাসি। বিপদে পড়েই এসেছে মেয়েটা। আমাকে বাছলো কেন? গোবেচারা চেহারা আমার না পোশাক?

স্যার, অনুরোধ করা যাবে একটা?

প্লীজ, বি মাই গেস্ট। মুখের ব্যাজার ভাবটা কাটেনি তখনও।

একজন ভদ্রমহিলা তার সিট পাল্টাতে চাচ্ছেন। ধারণা করছি তার সহযাত্রীর ব্যাপারে তার কিছু রিজার্ভেশন আছে। আপনি সাহায্য করতে চাইলে খুবই কৃতার্থ হব আমরা।

আমার অবস্থা এমনিতেই খারাপ। আর খারাপের আছেই বা কি? মাথা ঝাঁকিয়ে সন্মতি দিলাম বরং। মেয়েটা পাশে দাঁড়িয়ে জায়গা করে দিলো। ভুবনমোহিনী হাসি দিতে ভুললো মোটেই। চাকরিটা বাঁচলো তো আজকের মতো। সিট ছেড়ে দিয়ে সামনে এগুতেই এক মহিলা দৌড়ে এসে আমার সিট দখল করে নিলো। বুঝলাম সামনের ফাঁকা সিটটাই হবে আমার। কিন্তু মহিলার মুখ ভূতের মতো ফ্যাকাশে হলো কিভাবে? ভয় পেয়েছে নাকি? সামনের এগুতেই সমস্যার মূল কারণ বোঝা গেলো।

৫৩.

যে সিটটা আগের মহিলা দৌড়ে ছেড়ে চলে গেলেন তার পাশের সিটে আগ্রহ করেই তাকালাম। উপবিষ্ট আরেক তরুনী – যার হাত বা পা বলতে কিছু নেই। তাকে অতটা ভয়ংকর না মনে হলেও আগের মহিলার ডিস্ট্রেসের কারণটা অনুধাবন করলাম।

‘হ্যালো’, তার দিকে তাকালাম, ‘আশা করছি ফ্লাইটের পুরো সময়টা নেভির এই বুড়ো লোকের সাথে কাটাতে আপনার আপত্তি থাকার কথা নয়?’

তরুনীটি মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো, হাসি মুখে – চোখই কথা বলছে বেশি।

দুজনের সেই ট্রান্স আটলান্টিক ফ্লাইটে কথাবার্তা কি হলো জানি না, তবে পাল্টে গেলো আমার জীবন – সেদিনের পর থেকে।

৫৪.

গল্পটা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করলেও এটা আমার নয়। লিংকড-ইন নেটওয়ার্কে ম্যানেজমেন্ট আর লিডারশিপ স্কিলের গুরু জন রায়ানের গল্প এটা। বাকিটা না বললে বকবেন তো আমাকেই।

অসম্ভব ইচ্ছা শক্তির আধার সেই তরুণী বলছিলো তার শৈশবের কথা। অঙ্গপ্রতঙ্গ ছাড়া জন্মানোর পর তার জায়গা হয় দত্তক এজেন্সিতে। পৃথিবীর সব মায়া জড়ো করে দত্তক নেন তাকে আরেক দম্পত্তি – তার জন্মের দুমাস পর। সেই দত্তক দম্পত্তির আরো সন্তানের সাথে কঠিন জীবন যুদ্ধে নামে সে। প্রকৃতির অসম প্রতিযোগিতায় ডুবতে ডুবতে সে মাথা ভাসিয়ে রেখেছিলো সবসময়। সামান্য একটা মাংসপিন্ড নয় সে – সেটা প্রমান করার সে আর তার নতুন পিতামাতা তাকে তার অন্য ভাইবোনদের থেকে আলাদাভাবে দেখেননি কখনো। ঈশ্বর প্রদত্ত্ব অন্যান্য অঙ্গ প্রতঙ্গ ব্যবহার করে কিভাবে অন্য সবার সাথে প্রতিদিনের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে হবে সেটা শিখে গিয়েছিলো সেই শৈশবে। সাধারণ মানুষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক পড়াশোনা, গাড়ি চালানো শেখা, ইউনিভার্সিটিতে যাওয়া আর তার সাথে ভালো ক্যারিয়ারের জন্য যা করা দরকার তার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি সে। সে এখন একজন প্রকৌশলী। সত্যি কথা বলতে আমরা যখন কথা বলছি তখন তার প্রথম আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগ দিতে যাচ্ছে সে।

৫৫.

বিমান থেকে নামার সময় নিজের কাছেই খারাপ লাগলো অল্পতে মন খারাপ করা নিয়ে। তরুণীটির অবিশ্বাস্য অধ্যবসায়, সাহস, তার ফোকাস করার ক্ষমতা আর জীবনের প্রতি অনমনীয় মনোভাব আমাকে অসম্ভব ভাবে অনুপ্রাণিত করলো।

তরুণীটির সাথে কথা বলার সময় নিজের ভবিষ্যত নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদন্ধে ছিলাম পড়ে। যতোই কথা বলছিলাম ততোই আমার ভবিষ্যত ধারনাটা পোক্ত হতে থাকলো। সেটা না হয় পরে রায়ানের কাছ থেকে শুনে নিতে পারবেন বোধকরি।

৫৬.

রায়ান গল্পটা যেভাবে শেষ করেছেন আমি যাবো না সেদিকে। আমার প্রেক্ষিত কিছুটা ভিন্ন। সৃষ্টিকর্তা আমাদের যাদের ভালো অঙ্গপ্রতঙ্গ দিয়েছেন সেটাকেও ঠিকমতো ব্যবহার করছি না – নিজের কাজে। আমরা কতো ভালো কাজ করতে পারি সেটা না করে বরং করছি সময় নস্ট। সরকারী ডেস্কে বসে জনহিতকর কতো কিছু করা সম্ভব সেটা আমার চেয়ে বেশি কে পারবে বলতে। ডিজিটাল ইকোনমির এজেন্ডা যে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নিয়েছে তা নয় কিন্তু। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে আমরা যা করছি সেই একই ধরনের ডিজিটাল ইকোনমির এজেন্ডা নিয়ে অনেক দেশ এগুচ্ছে – অনেক দ্রুত। আমি যেখানে কাজ করছি সেখানে ঠিক মতো কাজ করলে ডিজিটাল এজেন্ডায় নেতৃত্বের ভূমিকা নেয়া কঠিন কিছু নয়। সবচেয়ে আশার কথা আমার প্রতিষ্ঠানের সত্তুর শতাংশের বেশি মানুষের বয়স তিরিশের কম! কাজ করে উল্টিয়ে ফেলা যাবে এই বাংলাদেশকে! তৈরী করতে হবে সবকিছুর ‘ষ্টান্ডিং অপারেটিং প্রসিডিউর’ মানে গাইডলাইনস। প্রতিনিয়ত এই গোলপোস্ট পরিবর্তন (মানে নিয়মের ঘন ঘন পরিবর্তন) যাতে না করতে হয়, সেকারণেই এই গাইডলাইনস বা নীতিমালার প্রনয়ন। আমাদেরকে লিখতে জানতে হবে, প্রচুর লেখা – সবাইকে। এই লেখা থেকেই উত্থান হয়েছে উন্নত দেশগুলো! আমি কি ব্যবস্যা করতে পারবো আর কি পারব না আর পারলে সেটা কিভাবে করতে পারবো তার সব থাকতে হবে লিখিতভাবে। লেখা থাকে না বলেই কথাটি এসেছে – ঘোলা পানিতে মাছ শিকার। ইংরেজিতে কি আছে এধরনের শব্দ?

৫৭.

এই মানুষই তৈরী করেছে এ-থ্রিএইটির মতো ফেইল সেফ উড়ুক্কুযান, যার ফেইলুর ইজ নো অপশন। গাড়ি নষ্ট হলে রাস্তার পাশে দাড়াতে পারবে, এয়ারক্রাফট নষ্ট হলে মাঝপথে? মানুষই পারে একমাত্র নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করতে। করতে হবে আমাদেরকেই, অন্য কেউ তো এসে করে দিয়ে যাবে না। করার আছে অনেক কিছু, পারছি না করতে – এর থেকে কষ্টকর কিছু নেই। সবল হাত, লিখছি না কিছুই – এর থেকে হাত কামড়ানো অনেক ভালো! এতো পূর্ণাঙ্গ হাত পা, এতো তরুণ মাথা, এতো বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বুদ্ধি নিয়ে সেই অকুতোভয় তরুনীটির ধারে কাছে পারছি না কেন যেতে?

Read Full Post »

You can make more friends in two months by becoming interested in other people than you can in two years by trying to get other people interested in you.

– Dale Carnegie

৪৮.

প্রতি ঈদেই হয় এটা। নতুন কিছু নয় কিন্তু। এসএমএসে ভরে যায় ছোট ফোনটা। ভালো লাগতেই হবে। মনে করছে অনেকেই – এই অভাগাকে। পুলকিত না হবার কারণ দেখি না। তবে এসএমএসের ভলিউম কমছে প্রতি ঈদে। কারণটার জন্য রকেট সাইন্স পড়ার প্রয়োজন হবে না বোধকরি। আগের আগের ঈদে পাঁচশো [ধরে নিচ্ছি] এসএমএস আসলে গত ঈদে ছিলো চারশো। এই ঈদে তিনশো। রেসপন্স লিখছি না বলেই কমছে। যারা ফোনের পুরো এড্রেস বুক ধরেই পাঠান তারা হয়তোবা ব্যাপারটা খেয়াল করেন না বলে ড্রাসটিক্যালি কমেনি সেটা। এ লেখাটার পর পরের ঈদে একটাও এসএমএস না পাবার রিস্ক ফ্যাক্টর নিয়ে এগুচ্ছি কিন্তু আমি। ভুল বুঝবেন না দয়া করে। যারা এসএমএস আর ইমেইলে বিশ্বাসী তাদেরকে ছোট করার অভিপ্রায় নেই আমার। তাদের জন্য খোলা আমার দোর – আগের মতোই।

৪৯.

আমার পয়েন্ট অন্য জায়গায়। ইমেইল আর এসএসএসে গ্রিটিংস পাঠানোয় বিশ্বাসী নই আমি। সেটা বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে আপনজনের বরং। অফিসের কলিগ আর আপনার ক্লায়েন্ট হোক – দেখেছেন কি কল করে? ঈদের দিনে নয়, বরং শুরু করুন পাঁচ ছয়দিন আগে থেকে। মার্কিন ট্রেজারী সেক্রেটারি হ্যাঙ্ক পলসনের কথাই মনে হচ্ছিল কয়েকদিন ধরে। সেটা অন্য প্রসঙ্গে বলে সময় নষ্ট করবো না আজ। ফরচুন ম্যাগাজিনটার কথা মনে আছে আপনার? সেটার একটা কলামে প্যাট্রিশিয়া সেলার্স ইন্টারভিউয়ের জন্য ধরে নিয়ে আসতেন সব বিখ্যাত মানুষদের। ধারণা দিতে চাইতেন পাঠকদের প্যাট্রিশিয়া – বিখ্যাতরা কাজ করেন কিভাবে। সেবার নিয়ে আসলেন হ্যাঙ্ক পলসনকে। গোল্ডম্যান স্যাক্সএর বস থাকাকালীন সময় বছরের শুরুর সপ্তাহেই নতুন বছরের গ্রিটিংস জানাতেন সবাইকে – ফোন করে। গোল্ডম্যান স্যাক্সএর চিফ এক্সকিউটিভ অফিসার ছিলেন মাত্র – ষাটজন! টাইম ইজ মানি, সেটা খাটেনি এখানে। যার মিনিটে আয় মিলিয়ন ডলার। আমি তো কোন ছার্!

৫০.

আমার উৎকর্ষতার গুরু টম পিটার্স তো আরেক ধাপ উপরে। হোয়াইট হাউসে থাকার সময় আট থেকে নয় ঘন্টা টেলিফোনেই থাকতেন নিউ ইয়ার্স ইভে। প্রায় একশো মানুষকে ফোনে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন সাহায্যে করার জন্য – আগের বছরে। ওয়াশিংটন আর তার বাইরে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে থাকা দূতাবাসগুলোতে কথা বলেছিলেন সেই রাতেই। আন্তরিকতা ফেইক করতে বলছি না মোটেই। মন থেকে না আসলে ফোন করবেনই বা কেন আপনি। ঝামেলার কারণে এবছর কলই করিনি কিন্তু। আগের আর তার আগের বছর? মনে করুন তো আমার কথা? চেষ্টা করেছি কল করতে, ঈদ শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকে। আর কোথায় যেনো পড়েছিলাম – আন্তরিক না হলে ফোনে আপনার কথা শোনা যাবে কিন্তু মেগাফোনের মতো। সাধু সাবধান! ঈদেই যে কল করতে হবে সেটাই বা বললো কে? আমি?

বরং, ঈদ বানান সারা বছর! কল করুন প্রতিদিন – দু-তিন জন করে!

Read Full Post »

Good communication is as stimulating as black coffee, and just as hard to sleep after.

– Anne Morrow Lindbergh, Writer and Aviation Pioneer

The art of writing is the art of discovering what you believe.

– Gustave Flaubert

২১.

ফিরে আসি ইন্টারকানেকশন চার্জে। কেমন হয় একটা মডেল বের করলে? কস্ট বেসড মডেল। ইন্টারকানেকশন চার্জ কতো হওয়া উচিত – দক্ষ অপারেটর হলে এটা কতো হতে পারে তা ঠিকমতো বের করতেই একটা কস্ট মডেল। অর্থনীতির ভাষায় বের করা হবে ‘মিন এফিসিয়েন্ট অপারেটর’| ঘাবড়াবেন না, আমার উদ্ভাবিত কিছু নয়। সেই হ্যান্ডবুক থেকেই নেয়া। নতুন বা ছোট কোম্পানিগুলো যাতে বড় কোম্পানির পাশাপাশি বাজার দখলে নামতে পারে আর সেকারণে দাম উত্পাদন মূল্যের কাছাকাছি আছে কিনা তার ধারণা দেবে আমাদের কস্ট মডেল। আবার কোম্পানিগুলোর সিস্টেম লস বা বেশি মুনাফার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্যও কস্ট মডেল ব্যবহার করেন রেগুলেটররা। আসছি সেটা নিয়ে চ্যাপ্টার চারে। তবে, প্রতিযোগিতার বিকল্প প্রতিযোগিতা। আর সে জন্যই তো এতো গল্প।

InfodevImages_1057

২২.

বইটার জয়ন্তী বার্ষিকীতে এর দশতম এডিশন বের করে আইটিইউ। এই দুহাজার এগারোতে। আইটিইউ, ইনফোডেভ আর ওয়ার্ল্ডব্যাংকের সাইটে পাবেন সেটা বিনামূল্যে। বইটার সাফল্যে অনুপ্রানিত হয়ে সেই আইটিইউ আর ইনফোডেভ মানে ওয়ার্ল্ডব্যাঙ্ক মিলে তৈরী করেছে ইন্টারনেট ভিত্তিক ‘আইসিটি রেগুলেশন টুলকিট’ যার গোড়াপত্তন হয়েছে দুহাজার পাঁচ ছয়ে। টুলকিটটার মজা হচ্ছে এটা আপডেট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সার্চ ইঞ্জিনটা অসম্ভব ইন্টেলিজেন্ট, যা চাইবেন তা বের করে নিয়ে আসবে মুহুর্তে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী কর্তাব্যক্তি, রেগুলেটর, নিউজমিডিয়া, টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডারদের ম্যানেজমেন্ট আর সেক্টর এক্সপার্টদের জন্য তৈরী করা এই টুলকিট যেকোনো দেশের ডিজিটাল এজেন্ডা বাস্তবায়নে, আমার ধারনায় একমাত্র নলেজবেজ।

ফিরছি সামনেই।

Read Full Post »

Many can argue – not many converse.

– A. Bronson Alcott

১৯.

হোলসেল চার্জ হিসেবে ইন্টারকানেকশন চার্জ নির্ধারণ করার কথা রেগুলেটরের। দুটো কারণ থাকতে পারে এর পেছনে। আপনি ভালো ভাবে খেয়াল করলে দেখতে পারবেন যে এই ইন্টারকানেকশন চার্জ যা অন্য অপারেটরকে দিচ্ছে আপনার অপারেটর তা কিন্তু ওর নেটওয়ার্কে চড়ে আপনার বন্ধুকে পাবার খরচ। তারমানে, এই ইন্টারকানেকশন চার্জে হাত দিলে বাকিগুলো পরিবর্তন হতে থাকবে। আবার আপনার অপারেটর দক্ষ না হলে তার অদক্ষতার জন্য আপনি বাড়তি পয়সা গুনবেন কিনা? তার সিস্টেম লসের জন্য তো আর আপনি দায়ী নন। সেখানেও আসতে পারে রেগুলেটর। আপনি কিভাবে জানবেন সে দক্ষ নয়? আপনার পয়সা ঢালছে কোথায় তাহলে? পত্রিকায় প্রায় পড়ি ইন্টারনেট আর ফোনের কল রেট কমছে না কেন? বিশ্বব্যাপী দাম কমলে এখানে কমছে না কেন? রেগুলেটর করছেটা কি?

২০.

এক্সেস প্রাইসিংয়ের ক্ষেত্রে যেই সংযোগটা আপনার জন্য একেবারে দরকারী সেখানে কোম্পানি আপনাকে পেয়ে বসে ইচ্ছামতো বিল না করতে পারে সেজন্যই নিয়ন্ত্রণ করা হয় এক্সেস প্রাইসিং। বাধ্যতামূলক ওপেন এক্সেস প্রাইসিং থাকার ফলে আপনার অপারেটরের অদক্ষ অংশে তার প্রতিযোগী ঢুকে যেতে বাধ্য। অপারেটরদের বিলিংয়ে ‘ওভার দ্য টপ’ প্লেয়ারদের এক্সেস না থাকার ফলে বাজারে তৈরী হচ্ছে অ্যান্টি কম্পিটিটিভ আচরণ। ফলে, ছোট কোম্পানিগুলো তাদের আশানুরূপ রেভিনিউ পাচ্ছে না। সবকিছুর মতো সব কম্পোনেন্টের দাম থাকলে এ সমস্যা থাকার কথা নয়। সেখানে রেগুলেটর অপারেটরদের ইন-অ্যাপ অথবা ‘ডাইরেক্ট ক্যরিয়ার বিলিং’ মানে ‘ডিসিবি’ নিয়ে কথা বলতে পারে। অ্যাপ বিলিং নিয়ে পৃথিবীব্যাপী অনেক উদ্ভাবনা হওয়ায় বড় বড় অপারেটরদের দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে পিছিয়ে পড়তে হতে পারে তাদেরকেই। রেগুলেটর তার দেশের ভেতরে ব্যবহারযোগ্য সম্পদ (ফ্রিকোয়েন্সি, নাম্বারিং আর অপারেটরের নিজস্ব সম্পদ) দক্ষতার সাথে ব্যবহার করানোর জন্য যতো নিয়ম কানুন বের করবে ততো দেশের জন্য ভালো। ‘লোকাল লুপ আনবান্ডলিং’ মানে ‘এলএলইউ’ বাঁচিয়ে দিতে পারে হাজার কোটি টাকা – আমাদের দেশেই। চ্যাপ্টার পাঁচ দুরে নয় কিন্তু।

Read Full Post »

The less people know, the more they yell.

— Seth Godin

১৬.

আবার দু কোম্পানি যারা তাদের একে অপরের দরকারী সার্ভিস কিনতে বাধ্য সেটা দ্বিমুখী এক্সেস সমস্যা বটে। আপনাকে ‘ক’ মোবাইল কোম্পানির ইন্টারকানেকশন কিনতে বাধ্য কারণ আপনার গ্রাহক ‘ক’ কোম্পানির গ্রাহকের কাছে কল করবে। ফলে, দুটো কোম্পানির মধ্যে প্রতি মিনিটের পাইকারী দাম যা তাদের একে অপরের নেটওয়ার্কে যুক্ত হবার প্রতি মিনিটের খরচকে প্রভাবিত করবে। ধরে নিন আপনি ‘খ’ কোম্পানির গ্রাহক। ‘ক’ কোম্পানির আরেকজন গ্রাহক আপনাকে কল করতে হলে ‘খ’ কোম্পানির নির্ধারিত মুল্য পরিশোধ করেই আপনার ফোন পর্যন্ত পৌছাবে সে, তার আগে নয়। এখানে আবার আপনার কোম্পানিকে ‘ক’ কোম্পানির সংযোগস্থল থেকে আপনাকে পৌছানো পর্যন্ত একটা খরচ ধরবেন যা কিন্তু একটা দরকারী সংযোগ। এই খরচটাই হচ্ছে গিয়ে আন্তসংযোগ বা ইন্টারকানেকশন চার্জ। তিন বছর আগে আমাদের দেশে অন্য অপারেটর মানে যেখানে যুক্ত হচ্ছে সেখানে দিতে হতো নব্বই পয়সা। পরে রেগুলেটরের হস্তক্ষেপে তা কমে আসে ষাট পয়সায়। আরো একটু খোলাসা করি বরং।

১৭.

এখানে নিজের নেটওয়ার্কের মধ্যে কলের দাম নিয়ে আলাপ করছি না মোটেই। প্রতিযোগিতা মানে দুই বা তার অধিক কোম্পানির মধ্যে দাম নিয়ে দর কষাকষি। তবে যতই কোম্পানি হোক না কেন আপনার কোম্পানি আপনার কাছে ন্যাচারাল মনোপলি। সেকারণে আপনার কোম্পানি অন্যের নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে প্রথমেই দিয়ে দিচ্ছে ষাট পয়সা। এর সাথে তার নিজের নেটওয়ার্কের খরচ + লাভ দিয়ে সম্পূর্ণ কলটার দাম পড়ে। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে;

আপনি ‘খ’ কোম্পানির গ্রাহক;

‘ক’ কোম্পানিতে যুক্ত হবার ইন্টারকানেকশন চার্জ + ‘খ’ মানে নিজের কোম্পানির সংযোগের খরচ আর লাভ = কলের দাম

১৮.

আবার আমাদের দেশে প্রথম দিকে ইন্টারকানেকশন রেগুলেশন সঠিকভাবে প্রয়োগ না করার কারণে বড় অপারেটরের সংযোগ পাওয়া দুরূহ ছিলো নতুন বা ছোট কোম্পানিগুলোর। ফলে তৈরী হয় ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ বলে আরো কিছু কোম্পানি। সবাই সেখানে সংযুক্ত থাকার সুবাধে নিজেদের মধ্যে কল আদানপ্রদান আরো সহজ হয়ে পড়লো। একারণে তাদেরকে দিতে হয় ইন্টারকানেকশন চার্জের দশ শতাংশ।

সুত্র পাল্টে গেলো একটুখানি;

‘ক’ কোম্পানিতে যুক্ত হবার ইন্টারকানেকশন চার্জ + ‘খ’ মানে নিজের কোম্পানির সংযোগের খরচ আর লাভ + ইন্টারকানেকশন চার্জ = কলের দাম

Read Full Post »

The essence of communication is intention.

― Werner Erhard

১৪.

ইউরোপিয়ান কমিশনের ডিরেক্টিভ অনুযায়ী অপারেটর যার পঁচিশ শতাংশের বেশি মার্কেট শেয়ার, তাকে ‘সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। তার বিভিন্ন সার্ভিসের “রেফারেন্স ইন্টারকানেকশন অফার” মানে তার সব সার্ভিস কম্পোনেন্টে সংযোগ পাবার জন্য নির্দিষ্ট দাম আর তার প্রযোজ্য শর্ত রেগুলেটরি বডি থেকে অনুমোদন নিয়ে সবার জন্য করতে হবে উম্মুক্ত। তার প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর জন্য ওপেন এক্সেস মানে যেকোনো হোলসেল পয়েন্টে যুক্তিযুক্ত দামে যুক্ত হবার সুবিধা দিতে হবে। তার নেটওয়ার্কের পাইকারী আর খুচরা অংশগুলোর হিসেব রাখতে হবে আলাদা করে। তার হোলসেল মানে পাইকারী ব্যবস্যাগুলোর দাম স্বচ্ছতার সাথে তার উত্পাদিত মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে করতে হবে যাতে প্রতিযোগী কোম্পানিগুলো অসম প্রতিযোগিতায় না পড়ে। যেকোনো দাম তার উত্পাদিত মূল্যের কাছাকাছি আনার জন্য রেগুলেশনকে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করে থাকে দেশগুলো। ডাব্লিউটিও এর রেফারেন্স পেপারে অপারেটরদের মধ্যে সার্ভিসগুলোর আন্তসংযোগ আর তার দামের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য দেশগুলো চুক্তি করেন অঙ্গীকারপত্রে। টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে ডাব্লিউটিওর চুক্তিনামাগুলো পড়লে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। ইগনোরেন্স ইজ ব্লিস!

১৫.

আমাদের রেগুলেশনের মধ্যমনি হচ্ছে এক্সেস প্রাইসিং মানে কোথাও যুক্ত হবার খরচের হিসেব। সেটা পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম থেকে শুরু করে পানি, গ্যাস, বিদ্যুত, টেলিযোগাযোগ, ট্রেন আর রাস্তার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রতিযোগী কোম্পানিগুলো যারা নতুন আসে তাদের নাভিশ্বাস উঠে যায় অন্যের সাথে যুক্ত হবার কথা বললে। যে কোম্পানি আপাততঃ খালি মাঠে গোল দিচ্ছে সে কেনইবা নতুন কোম্পানিগুলোকে তার উপর দিয়ে নাম মাত্র মূল্যে মানে ‘কস্ট বেসড’ প্রাইসিংয়ে রাইড দেবে? আর সেকারণেই রেগুলেশন, দেশতো আর ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট নয়। গ্রাহকের কাছে যেকোনো সার্ভিস পুরোপুরি পৌছাতে গেলে নিদেনপক্ষে পক্ষে দু থেকে তিনটা ইনপুট লাগে বলেই তৈরী হয় এই এক্সেস সমস্যা। এটা গ্যাস, বিদ্যুত, পানি, রাস্তার উপর সমানভাবে প্রযোজ্য হলেও আসি টেলিকমে। গ্রাহক যার সাথে যুক্ত সেটা ন্যাচারাল মনোপলি, মানে তাকে লাগছেই। তাকে বাদ দিয়ে তো আর কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না। আবার আপনার ইন্টারনেটের জন্য আপনার প্রতিযোগিতামূলক ফোন কোম্পানি সাবমেরিন কেবল কোম্পানি থেকে ব্যান্ডউইদ্থ কিনছে যার বিকল্প তৈরী হয়নি এখনো। দরকারী আবার যার বিকল্প নেই সে সার্ভিসগুলোকে ‘বোটল-নেক’ বা ‘ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ বলা হয় প্রতিযোগিতার ভাষায়। সে যা দাম চাচ্ছে তা দিতে বাধ্য, কারণ ওর উত্পাদন খরচ জানেন না আপনি। এটা একমুখী এক্সেস সমস্যা। তার মানে প্রতি মেগাবাইট আইপি ট্রানজিটের উত্পাদনমুল্য জানতে হবে রেগুলেটরকে। সেটা জানার পন্থা নিয়ে আসছি সামনে।

Read Full Post »

The Tone is the Message.

― Kevin T. McCarney, The Secrets of Successful Communication: A Simple Guide to Effective Encounters in Business

১২.

আমাদের টেলিকমিউনিকেশন বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে ইউরোপিয়ান কমিশনের উনিশশো সাতানব্বইয়ের ডিরেক্টিভটা দেখা যেতে পারে। ওপেন নেটওয়ার্ক প্রভিশন মেনে নিয়ে চারটা বাজারের কথা আসে তখনই। দুহাজার তিনে সেটা গিয়ে দাড়ায় আঠারোটায়! টেলিযোগাযোগ বাজারের কথাই বলছি।

ক. ফিক্সড টেলিফোনী, ইনফ্রাস্ট্রাকচার সহ
খ. মোবাইল টেলিফোনী
গ. সব ধরনের লিজড লাইন মানে আন্তর্জাতিক সংযোগ
ঘ. ইন্টারকানেকশন মানে আন্তসংযোগ বাজার

১৩.

ওপেন নেটওয়ার্ক প্রভিশনে সবাই সবার নেটওয়ার্কে রাইড নিতে পারবে। এর জন্য যার যা দাম সেটা দিলেই হলো। তুমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী, তোমাকে দেব না, আর ঘুরাবো বছরের পর সেটা হবে না। আর চারটা বাজারের উপর বেশ কয়েকটা নীতিমালা প্রয়োগ করতে ভুললো না রেগুলেটর। দিতে হবে ওপেন নেটওয়ার্ক এক্সেস – সবাই সবার সাথে, নয় কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ, জানাতে হবে সংযোগের জন্য ধার্য্যকৃত দাম, প্রোডাক্টের উত্পাদন খরচের সাথে সমন্বয় করেই আসবে দাম বাজারে। আবার, এক কোম্পানি দুই তিন বাজারে থাকলে তার একাউন্টিং হতে হবে আলাদা। জানা কথা, পাইকারী কোম্পানি খুচরো বাজারে থাকলে বাকি খুচরো বিক্রেতা সেই দিনই বের হয়ে যাবে কিন্তু বাজার থেকে। বড় বিক্রেতারা ক্রস-সাবসিডাইজেশন করে বাকিদের যাতে না মেরে ফেলে সেকারণেই একাউন্টিং বিভাজন। ব্যালান্স শিট বলবে কথা। আই লাভ ব্যালান্স শিট!

ছবি আরেকটা হলে কেমন হয়?

উনিশশো আটানব্বইয়ের রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কে দেয়া 'সম্পর্কিত বাজারের' এনালাইসিসের ওয়ার্কফ্লো, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন

উনিশশো আটানব্বইয়ের রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কে দেয়া ‘সম্পর্কিত বাজারের’ এনালাইসিসের ওয়ার্কফ্লো, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: