Feeds:
Posts
Comments

Archive for March, 2015

If your actions inspire others to dream more, learn more, do more and become more, you are a leader.

— John Quincy Adams

২২.

গুগল হেডকোয়ার্টারের মানুষগুলোর ওয়ার্কিং সিডিউল এতটাই ‘ফ্লেক্সিবল’ যেখানে তারা সময় পায় চিন্তা করতে। চিন্তা করার অনেক সুন্দর সুন্দর যায়গাও তৈরি করা আছে অফিসের বাইরে। পা বাড়ালেই গাছের ওপর ছোট্ট ছোট্ট বাসা। কোন চিন্তাই ‘ফালতু’ না বলে তাদেরকে প্রচুর সময় দেয়া হয় – নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসতে। মোদ্দা কথা – ‘যা ইচ্ছা চিন্তা’ করার জন্য ‘পয়সা’ দেয়া হয় তাদের। মানুষের ভেতরের জিনিসটা বের করে আনতে পারে বলেই আজ তারা এতো বড় কোম্পানী। চিন্তার খোরাকের জন্য পুরো পৃথিবীর ‘মাথাওলা’ লোকদের ধরে নিয়ে যায় তাদের গল্প শোনার জন্য। মেডিটেশনের প্রোগ্রাম চলছে এর মধ্যেই। তারা জানে ভালো করে, মন ভালো থাকলে হয় সবই। বাড়ে সুন্দর চিন্তা করার ক্ষমতা, ভালো মানসিক স্বাস্থ্য আর ‘ইমোশনাল ইণ্টেলিজেন্স’। মনে আছে ড্যানিয়েল গোল্ডম্যানের কালজয়ী বইটার কথা? এটা ঠিক, চোখ বন্ধ করলে সবকিছু দেখা যায় পরিষ্কার ভাবে। আমার নিজস্ব মতামত, তবে চেষ্টা করে দেখতে পারেন নিজে। ঝামেলায় পড়লে মাথা ঠান্ডা করে বসে থাকি পার্কে। চোখ বন্ধ হয়ে আসে আপনা আপনি। বুঝতে পারি, ‘আলোর ছটা’র রেশ পাই মাথায়। ‘ইল্যুমিনেশন’ বলে নাকি ওটাকে। কে জানে?

২৩.

মনে আছে ‘ওয়াইয়ার্ড ম্যাগাজিন’এর কথা? প্রযুক্তির উত্কর্ষতা নিয়ে নিয়ে সেই উনিশশো তিরানব্বই থেকে পৃথিবী কাপাচ্ছে ম্যাগাজিনটা। কম্পিউটার, কম্যুনিকেশনস, বিজনেস, টেকনোলজি লীডারশিপ – কি নিয়ে লেখেনি তারা? অনেক টেকনোলজি ‘টার্ম’ ‘লিটারেলি’ উদ্ভাবন করেছে তারা। প্রতিবার এয়ারপোর্ট পার হলেই চোখে পড়ে ওটার রঙচঙা কাভারটা। ম্যাগাজিনটার একজন ফাউন্ডার হচ্ছে কেভিন কেলী। বই লিখেছেন কয়েকটা। সিলিকন ভ্যালীর নামকরা লোক। এক নামে চেনে তাকে সবাই। উনার শেষ বইটা লিখেছেন নতুন টেকনোলজি নিয়ে। তবে উনি সেটা লিখেছেন ল্যাপটপ, টিভি আর স্মার্টফোন ছাড়াই। সিলিকন ভ্যালীর অনেকের মতো তিনি চলে যান অফলাইনে। বাকিরা যান চব্বিশ অথবা আটচল্লিশ ঘন্টার জন্য। পুরোপুরি। এক এক সপ্তাহে। মাথাকে কাজ করতে দেন নিজের মতো। সিলিকন ভ্যালী ওই দিনটার নাম দিয়েছে ‘ইন্টারনেট স্যাবাথ’। আমি নাম দিয়েছি ‘ইন্টারনেট রোজা’। ছুটি হিসেব করলে বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ইন্টারনেট আর ফোনের কাছে না গেলে হয় না? গল্প বেশি দিয়ে ফেললাম মনে হচ্ছে! তবে, আমি যাই অফলাইনে – আট ঘন্টার মতো। প্রতিদিন।

২৪.

উন্নত দেশগুলোতে ‘আন-প্লাগিং ডে’ উদযাপন শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। ‘লুক আপ’ মানে ‘তাকাও ওপরে’ দিয়ে সার্চ করলেই বুঝবেন কি হচ্ছে পৃথিবীতে। সুন্দর সুন্দর গানও বেরিয়েছে ইউটিউবে। যেখানেই যাই সবাই তাকিয়ে আছে তার মোবাইল ডিভাইসটার দিকে। ‘সেল্ফ অ্যাবজর্ভড’। ‘সেল্ফ প্রোমোশনে’ মগ্ন সবাই। বাদ দেই কেন আমাকে? আমিও করতাম একই জিনিস। ধীরে ধীরে শিখলাম কিভাবে ‘দাস’ বানাতে হবে প্রযুক্তিকে। সীমারেখা টানলাম নিজ থেকে। নয়তো দাসখত লেখাতে হবে আমাকেই। ওই যন্ত্রগুলোর কাছে। শিখলাম ‘রি-ক্লেইম’ করতে একসময়। সিংগাপুরের মতো। পুরো ইস্ট কোস্ট পার্কটাই তৈরি করেছে সমুদ্র থেকে মাটি তুলে এনে। ওটার সি-বীচটাও মানুষের তৈরি। সত্যি তো, কেই বা চায় না ফিরে পেতে নিজেকে? গত চুয়াল্লিশ বছরে কম ইনপুট নেয়নি মাথাটা আমার। হাজারো বই, গোয়িং প্লেসেস, হাজারো মানুষের সাথে সখ্যতা – কি দিয়েছে আমাকে? আমি কি দিয়েছি পৃথিবীকে? নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অন্যকে মাড়িয়ে দিলাম নাকি আবার? অন্যদের স্বপ্নের কি হবে? কেমন হয় অন্যদের স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকতে? স্বপ্ন পূরণের স্কূল?

২৫.

ইণ্টেল একটা পরীক্ষা চালিয়েছিলো ‘কোয়াইট আওয়ার্স’ নামে। প্রতি বৃহস্পতিবার, চার ঘন্টার জন্য – তাদের তিনশো ইঞ্জিনিয়ার আর ম্যানেজারদেরকে বলা হয়েছিল বন্ধ রাখতে সবকিছু। ফোন আর ইমেইল বন্ধের সাথে সাথে অফিসের দরজায় ঝোলানো হয়েছিল ‘ডু নট ডিসটার্ব’ সাইন। কারণ, ওটা হচ্ছে তাদের ‘চিন্তা’ করার সময়। ওই পাইলট টেস্টটার আউটপুট এতো ভালো হয়েছিল যে পরে তারা আট সপ্তাহের একটা প্রোগ্রাম তৈরি করে ‘সোজাসাপটা চিন্তাভাবনা’ নিয়ে। কতো সহজে একটা কাজ বের করে নিয়ে আসবেন সেটার জন্য ওই প্রোগ্রামটা চমত্কার কাজ করেছিল ম্যানেজারদের মধ্যে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

True intelligence operates silently. Stillness is where creativity and solutions to problems are found.

― Eckhart Tolle, Stillness Speaks

১৯.

এখন তো বড় বড় টিভি বানাচ্ছে স্যামস্যাং। ওরকম একটা বড় টিভির এলইডি প্যানেলের খুব কাছে দাড়ালে ছোট ছোট ডট ছাড়া আর কিছু দেখার কথা নয়, কি বলেন? সেকেন্ডে শতবার পাল্টানো ওই স্ক্রীনে কি হচ্ছে সেটা বোঝার উপায় আছে কি? ওই জায়ান্ট স্ক্রীন থেকে দূরে দাড়ালেই বরং পুরো ক্যানভাসটা ভেসে আসবে চোখে। আমাদের জীবনটাও ক্যানভাস একটা। ‘বিগ পিকচার’ পেতে হলে সচরাচর জীবন থেকে নিতে হবে ‘ব্রেক’। ওয়ান্স আ হোয়াইল। যেকোন সমস্যার সমাধানে ওই সমস্যা থেকে বের হয়ে সমাধান করার মতো। আপনাকে তো সময় পার করার জন্য পাঠানো হয়নি এই নশ্বর পৃথিবীতে। মনে আছে স্টিভ জবসের ‘পুট আ ডেণ্ট ইন দ্য ইউনিভার্স’ কথাটা? ‘মহাবিশ্বে টোল খাওয়ানোর জন্য এসেছি আমরা। সেটা না হলে এখানে থাকাই বা কেন?’ জীবনের হাজারটা জিনিস ‘ঘটতে থাকে’ এই আমাদেরই মাথার ভেতর, কি বলেন? আমাদের স্মৃতি, কল্পনা, ইন্টারপ্রেটেশন, জল্পনা, ভাবনাচিন্তা আর স্বপ্ন চলছে প্রতিমূহুর্তে – আমাদের মনে। তার মানে হচ্ছে, আপনার জীবনকে পাল্টাতে হলে প্রথমেই পাল্টাতে হবে আপনার মনকে। আপনাকে মানে নিজেকে না চিনলে মনকে কিভাবে নিয়ে আসবেন হাতের নাগালে?

২০.

সমাজ নিয়ে যারা কাজ করেন তারাই তো সমাজ বিজ্ঞানী, তাই না? তাদের একটা নতুন গবেষণা পড়ছিলাম দিন কয়েক আগে। যদিও এটা তৈরি করা হয়েছে ‘মার্কিনী’দের ওপর, আমি এখানে কোন ভিন্নতা দেখিনা – আমাদের সাথে। গত পঞ্চাশ বছর ধরে যে হিসেব পাওয়া গেছে সেখানে আমরা আসলেই কাজ করছি কম। মানে, কমে গেছে আমাদের ‘কোয়ালিটি’ কাজের সময়। আমরা মনে করছি, অনেক বেশি কাজ করছি আগে থেকে, তবে আউটপুট বলছে অন্য কথা। কারণ, আমরা সময় নষ্ট করছি ‘ফালতু’ কাজে। যতো বেশি ‘টাইম সেভিং’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছি সময় বাচানোর জন্য, ততো কমছে ‘নিজেদের’ সময়। আমরা সেকেন্ডে যোগাযোগ করতে পারছি পৃথিবীর ওপর প্রান্তের মানুষের সাথে, তবে ওই প্রসেসে হারিয়ে ফেলছি নিজের সাথের যোগসূত্র। নিজেকে চেনার সময় নেই বলতে গেলেই চলে।

২১.

চুপি চুপি বলি একটা কথা। বলবেন না তো কাউকে? জনাব পিকো আয়ারের মতো অনেক দেশ ঘোরার সুযোগ হয়েছিল আমার। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানীগুলোতে। সান-ফ্রান্সিসকো, সিলিকন ভ্যালি, টোকিও, সিংগাপুর, মিউনিখ, লণ্ডনের সিলিকন রাউন্ডাবাউট, হায়দারাবাদ, ঢাকার বেশ কিছু প্রযুক্তি কোম্পানীগুলোকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। যারা আমাদেরকে প্রযুক্তির হাজারটা অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছেন ‘সময়’, তারাই বরং বিশ্বাস করেন প্রযুক্তির ব্যবহার ‘সীমিত’ করতে। তারা ‘এগজ্যাক্টলি’ জানেন, কখন বন্ধ করতে হবে ওই যন্ত্রপাতির ব্যবহার। ফেসবূক তৈরি করে মার্ক জুকারবার্গ পড়ে থাকেন না ফেসবুক নিয়ে – অন্তত: আমাদের মতো। গুগলের হাজারো প্রোডাক্ট নিয়ে বসে থাকেন না তাদের প্রতিষ্ঠাতারা। বরং মানুষকে অমরত্ব দেবার প্রজেক্টে ঢালছেন বিলিয়ন ডলার। প্রযুক্তি তৈরি করেন যারা তারা ভালো ভাবেই জানেন কখন বন্ধ করতে হবে ওটার ব্যবহার। গূগলের মূল প্রোডাক্ট ‘সার্চ ইঞ্জিন’ হলেও তাদের প্রযুক্তিবিদরা ব্যস্ত ‘ইনার সার্চ ইঞ্জিন’ নিয়ে। নিজেকে না চিনলে অন্যদের চিনবেন কিভাবে? অন্যদের না চিনলে অন্যদের জন্য ‘প্রোডাক্ট’ তৈরি করবেন কিভাবে? বিশ্বাস হচ্ছে না কথাটা? গুগল হেডকোয়ার্টারে তো গিয়েছেন অনেকে, জিজ্ঞাসা করুন তাদেরকে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Don’t tell me about your effort. Show me your results.

― Tim Fargo

৩৭৩.

পুরোনো কাসুন্দি না ঘেঁটে সামনে আগাই বরং। ডাব্লিউআরসি-০৭তে যা আলাপ হয়েছে সেটার ধারণায় আমাদের কতো স্পেকট্রাম লাগবে ২০২০ সাল নাগাদ, সেটার প্ল্যানিং করতে হবে আমাদেরই। এখনই। স্যাটেলাইট কম্যুনিটি খেপে আছে মোবাইল ইনডাস্ট্রির ওপর। তারা নাকি নিয়ে নিচ্ছে সব ফ্রিকোয়েন্সি। এদিকে ডিজিটাল টিভি’র মাইগ্রেশনের কারণে বেঁচে যাচ্ছে অনেক ফ্রিকোয়েন্সি, সেটার জন্যও চাপাচপি করছে মোবাইল ইনডাস্ট্রি। তবে দেশগুলো নেই বসে। তাদের ম্যানুফ্যাক্চারিং ইনডাস্ট্রি চাপ তৈরি করছে নিজ নিজ দেশের অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের ওপর। এ এক বিশাল যুদ্ধ। আইএমটি-২০০০তে সনাক্ত করা ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে মাত্র অর্ধেকটা ব্যবহারযোগ্য। বাকিটা দেশগুলো না বুঝে দিয়ে বসে আছে অন্য সার্ভিসে। এদিকে, স্পেকট্রাম না থাকায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে অপারেটররা। গ্রাহক বেশি, পাইপ (স্পেকট্রাম) কম। ব্যবসা করে খেতে হবে তো তাদের। দেশগুলোকে কাজ করতে হবে নতুন স্পেকট্রাম ব্যান্ড ছাড়ার ব্যপারে। অপারেটরদের দেবার ব্যপারে। ডাব্লিউআরসি-১৫এর আগে ২০২০ সালে কতো স্পেকট্রাম দরকার সেটার ‘এষ্টিমেশন’ নিয়ে কাজ করেছে আইটিইউ’র ‘ওয়ার্কিং পার্টি ৫ডি’। হিসেবে বের হলো দেশগুলোর দরকার ১৮০০ মেগাহার্টজ। নিদেনপক্ষে। তার আগের ‘এষ্টিমেশন’ বলছিলো ১১৭২ মেগাহার্টজের কথা। মোদ্দা কথা, খুঁজে পেতে বের করতে হবে আরো ৫০০ মেগাহার্টজের বেশি স্পেকট্রাম। কম নয়।

৩৭৪.

তবে, বলে নেই একটা কথা – এই মোবাইল ট্রাফিকের মোটা পাইপটা কিন্তু সনাতন নেটওয়ার্ক থেকে আসে না। বরং এটাকে যদি বলি এভাবে – মোট ট্রাফিকের ৮০ শতাংশই আসে মোবাইল হটস্পট অথবা ইনডোর কাভারেজ থেকে। হতে পারে সেটা ওয়াইফাই, ফেমটোসেল অথবা ওয়াইডব্যান্ডের ছোট ছোট সেল। অল্প যায়গায়। ‘ইনফরমা টেলিকমস এণ্ড মিডিয়া’ রিপোর্ট তাই বলে। মানুষ চায় বেশি ডাউনলোড স্পীড। সোজা কথায় – বেশি ‘থ্রুপুট’। বেশি ‘থ্রুপুট’ চাইলে মোবাইল বিটিএসগুলো থেকে ওয়াইফাই অথবা ছোট ছোট সেলগুলো কাজ করে ভালো। আর সেকারণে গ্রাহকদের এই অতিরিক্ত চাহিদা আর ভালো সার্ভিসের জন্য অপারেটরদের সাহায্য নিতে হয় সব ধরনের প্রযুক্তির।

৩৭৫.

বাংলাদেশে ‘ইউনিফাইড’ লাইসেন্সিং রেজীম না থাকায় সমস্যা হচ্ছে কিছুটা। যেমন যারা ‘অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডার’, গ্রাহকদের কাছে যেতে পারে যারা সরাসরি – যোগাযোগটা তারা স্পেকট্রাম দিয়ে দেবেন, না তার (ফাইবার) দিয়ে দেবেন সেটা ছেড়ে দেয়া হয় অপারেটরের কাছে। যাকে আমরা বলি ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ লাইসেন্সিং। আবার, অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডার (মোবাইল বা আইএসপি কোম্পানী) ঢুকতে পারবেন না হোলসেল প্রোভাইডারের আয়ত্ত্বাধীন ‘জুরিসডিকশনে’। ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ লাইসেন্সিং থাকলে অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডাররা ফাইবার দিয়ে গেলেন না স্পেকট্রাম দিয়ে গেলেন সেটা নির্ভর করবে অপারেটরের ওপর। কারণ তারা লাইসেন্স নিয়েছেন গ্রাহকের কাছে পৌছানোর জন্য। কি দিয়ে যাবে সেটা বিবেচ্য নয় রেগুলেটরের। ফলে তারা তৈরি করবে একটা ‘মিশ্র’ নেটওয়ার্ক। বাসা অফিসে ফাইবার। বাকি যায়গার জন্য কিনে নেবে স্পেকট্রাম। আর তাই স্পেকট্রামকে ‘ডি-লিঙ্ক’ করতে হবে লাইসেন্সিং থেকে। এগিয়ে গিয়েছে সবাই। লাইসেন্সিংয়ে।

৩৭৬.

রাস্তায় কাভারেজ দেবে মোবাইল বিটিএস (এইচএসপিএ/এলটিই)। বড় বড় শপিং মল, স্টেডিয়াম, বহুতল ফ্ল্যাট, বিশাল কণফারেন্স এরিনা – পুরো ‘থ্রুপুট’টাই ছেড়ে দেবে ওয়াইফাই অথবা ছোট ছোট সেলের ওপর। অনেক সময় এই ছোট ছোট সেলগুলো সার্ভিস দেয় ওই ফাইবারের ফিক্সড নেটওয়ার্কের মতো। গ্রাহকদের জানতেও হয় না কখন কোথায় সংযোগ পাচ্ছে। ওটা ছেড়ে দেয়া থাকে অপারেটরের ওপর। ফাইবার দিয়ে যাবে বিভিন্ন টিভি সার্ভিস। ‘অন ডিমান্ড ব্রডকাস্টিং’ অথবা নেটফ্লিক্সের মতো ‘ভিডিও অন ডিমান্ড’ সার্ভিস। ওগুলো খানিকটা ‘হেভি ইউসেজ’ সেগমেণ্টের জন্য। আর স্পেকট্রাম দিয়ে যাবে মোবাইল ডিভাইসের সংযোগগুলো। ট্রাফিক হবে কিছুটা ‘অ্যাসিমেট্রিক’, মানে ডাউনলোড বেশি হবে আপলোডের চেয়ে। স্পেকট্রাম দিয়ে কাজ করতে গেলে অপারেটরদের প্রয়োজন প্রায় সব ধরনের ফ্রিকোয়েন্সি। কিছু প্ল্যানিং নিয়ে আলাপ করি আপনাদের সুবিধার জন্য।

ক॰ ওপরের দিকের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো চমত্কার কাজ করে – বড় বড় ‘থ্রুপুট’এর জন্য। এগুলো দিয়ে বড় ক্যাপসিটি দেয়া যায় গ্রাহকদের। ওয়াইডব্যান্ড বলে ফিক্সড নেটওয়ার্কের কাছাকাছি স্পীড দিতে পারে গ্রাহকদের। এগুলো সাধারণত: ১ গিগাহার্টজ অথবা ৩ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে কাজ করে ভালো। তবে এদের ‘ইন-বিল্ডিং’ পেনিট্রেশন নিয়ে কিছু সমস্যা হয় শহরে। তবে, ঢাকার মতো শহরে – যেখানে ৪০০ – ৫০০ মিটার পর পর রেডিও প্ল্যানিং করা হয় মোবাইল বিটিএসের, সেখানে এই সমস্যা থাকার সম্ভাবনা কম।

খ॰ সুত্র অনুযায়ী, নিচের ফ্রিকোয়েন্সি সুন্দর কাজ করে দূর দুরান্তের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে। যেখানে মোবাইল কোম্পানীর ব্যবসা কম, যদিও বাংলাদেশে ও ধরনের যায়গা পাওয়া ভার – সেখানে এক বিটিএস দিয়ে অনেক বেশি যায়গা নিয়ে যুক্ত করতে পারে গ্রাহকদের। একারণে ৭০০ মেগাহার্টজ নিয়ে পুরো পৃথিবীতে হৈচৈ। ১ গিগাহার্টজের নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো এজন্যই ছেড়ে দেয়া জরুরী। বিটিআরসিতে থাকার সময় শুরু হয়েছিল কাজটা। ভয়েস চ্যানেলগুলো ৭০০ মেগাহার্টজে ‘অফলোড’ করে ৯০০, ১৮০০ আর ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যবহার করা যেতে পারে ডাটার জন্য। আর সামনে তো আসছেই ‘ভয়েস ওভার এলটিই’। ডাটা অল দ্য ওয়ে।

গ॰ ৪০০ মেগাহার্টজের নিচে গেলে ভালো – তবে, বড় হয়ে যাবে মোবাইল হ্যান্ডসেট। এছাড়া ডিজাইন সমস্যা আছে ওর নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলোতে। অস্ট্রেলিয়ান কম্যুনিকেশন্স এণ্ড মিডিয়া কমিশনের একটা হোয়াইট পেপার যদিও ব্যাপারটাকে নিয়েছে মেনে, তবে চ্যানেল ব্যান্ডউইডথ কমে এসে দাড়ায় ৬.২৫ কিলোহার্টজে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

People who enjoy waving flags don’t deserve to have one.

― Banksy, Wall and Piece

‘স্পেকট্রাম’ নিয়ে লিখেছিলাম সিরিজ একটা। চলেছিলো সেটা সিরিজ ‘পনেরো’ পর্যন্ত। হটাত্‍ ওটা বন্ধ করে অন্য কিছু শুরু করায় কয়েকজন হুমকি দিয়েছিলেন – ওই যাত্রায়। সামনে যাব ছুটিতে। দেশে। হুমকিদাতাদের সাথে সম্পর্ক ‘সহজ’ করতে স্পেকট্রাম সিরিজের যাত্রা শুরু করলাম নতুন করে। শুরু হলো পর্ব ‘ষোল’।

৩৬৯.

জীবন পাল্টে দিচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট। কারণ প্রায় সবার হাতেই পৌঁছে যাচ্ছে ‘মোবাইল’ নামের চমত্কার যন্ত্রটা। ভুল বললে ‘লাঞ্চ’ খাওয়াবো আপনাদের। নইলে আপনারা খাওয়াবেন আমাকে। সত্যি বলতে, মোবাইল ডাটা ট্রাফিক এতোটাই বেড়ে গেছে যে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে অপারেটররা। ডাটা সার্ভিসের ‘কোয়ালিটি’ ঠিক রাখতে গিয়ে যে পরিমাণ স্পেকট্রাম দরকার – সবার সেটা না থাকায় বাড়িয়ে দিতে হয়েছে দাম। বলতে হবে ডিমান্ড সাপ্লাইয়ের গল্প? নতুন করে? দাম কমালে বাড়বে গ্রাহক, কমবে ওই সার্ভিসটার ‘কোয়ালিটি’। উপায় কি? দিতে হবে আরো স্পেকট্রাম – অপারেটরদের। প্রচুর স্পেকট্রাম এখনো ‘আন-অ্যালোকেটেড’ মানে অব্যবহৃত অবস্থায় আছে পড়ে। আবার, যাদের কাছে ‘অ্যালোকেটেড’ আছে – যথেষ্ট দক্ষতার সাথে ব্যবহার করছেন না তারা। একটু পেছনে তাকাই, কি বলেন?

৩৭০.

আইটিইউ’র মোবাইলের ওপর গ্লোবাল ডাটা ট্রাফিক নিয়ে একটা রিপোর্ট নিয়ে আলাপ করেছিলাম আগেও। আইটিইউ-আর এম.২২৪৩(০০/২০১১)এর হিসেবে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোবাইল ডাটা ব্যবহার বাড়বে আটগুণ! ওই প্রজেকশন দিয়ে ২০২০ সালে মোবাইল ডাটা ব্যবহার কতো বাড়তে পারে বলবেন কি? একটু সাহায্য করবো? বলেই ফেলি বরং। আমারো ধারণার বাইরে ছিলো ব্যাপারটা। বর্তমান ডাটার গ্রোথ পোটেনশিয়াল কার্ভ দেখে হিসেব করে দেখা গেছে – এটা বাড়বে এক হাজার গুণ! আর পাঁচ বছরে বাড়বে হাজার গুণ! অবিশ্বাস্য! চেয়ার থেকে পড়ে যাবার অবস্থা। আপনার নয়, আমার কথা বলছি আরকি। চিন্তা করছি, মোবাইল কোম্পানী খুলে ফেলবো নাকি? খুলে ফেলবো একটা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী – আমাদের আরজেএসসি থেকে। লিস্টিং করে ফেলবো স্টক এক্সচেঞ্জে পরের বছর। প্রতিটা ‘স্টক’ মানে শেয়ারের দাম হবে দশ টাকা। দরকার আমার ৮০০ কোটি টাকা।

৩৭১.

গুগল করুন ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’ – পাগল হয়ে যাবেন আপনি। অথবা – ‘বিওওটি’। এধরনের মেগাপ্রজেক্টের জন্য চোখ রাখতে পারেন থাইল্যান্ডের ‘বিটিএস মাস ট্রানজিট সিস্টেম’এর দিকে। স্কাই ট্রেনগুলো সব তাদের। এই গত বছরই জনগনের কাছ থেকে তুলেছে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি টাকা। এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডের প্রজেক্ট স্পন্সর হিসেবে বড় বড় কোম্পানি থাকলেও তারা জনগণকেও সম্পৃক্ত করে ওই মেগা-ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মালিকানা নেবার জন্য। স্কাই ট্রেনে ময়লা ফেলবে না জনগণ। কারণ, এটার মালিক সবাই। শেয়ারের দাম দশ টাকা হলে ক্ষতি কি? থাইল্যান্ডের একদম নতুন টেলিফোন কোম্পানি ‘ট্রু কর্প’ তুলেছে ১.৮ বিলিয়ন ডলার। এই ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’ থেকে। নতুন মোবাইল কোম্পানির ভেঞ্চারটার জন্য। একেকটা শেয়ারের দাম ছিলো দশ বাথ করে। স্বপ্ন দেখতে দোষ কি? পৃথিবীর সব উন্নতদেশগুলোর ইতিহাস ঘাটলে মিল পাওয়া যায় একটা যায়গায়। ‘স্যাকরিফাইস’ করেছে একটা জেনারেশন। করলাম না হয় আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে।

৩৭২.

এটা ঠিক যে আইটিইউতে বেশ কয়েক বছর লেগে যায় একেকটা স্পেকট্রাম ব্লককে প্রথমে ‘আইডেন্টিফাই’ মানে সনাক্ত করতেই। তারপর সেটাকে ‘অ্যালোকেট’ করা হয় আইটিইউ’র রিজিয়ন লেভেলে – সবার সম্মতি নিয়ে। আমরা পড়েছি ‘রিজিয়ন-৩’ এ। এরপর সেটাকে ‘অ্যাসাইন’ মানে ছেড়ে দেয়া হয় দেশের ওপর। এরপর ওই দেশ সেই ‘ব্লক’কে অপারেটরকে কবে দেয় সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে ওই দেশের অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের ওপর। ওয়ার্ল্ড অ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ রেডিও কণফারেন্স (ডাব্লিউএআরসি-৯২) ১৭১০ থেকে ১৯৩০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত ছাড় দেয় ‘মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সি’ হিসেবে। ওই ১৯৯২ সালে। স্পেনের মিটিংয়ে। ১৯৯৭ সালে ওয়ার্ল্ড রেডিও কণফারেন্স (ডাব্লিউআরসি-৯৭)তে নতুন আরো কিছু মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সি যোগ হয় এস-৫.৩৮৮ ‘টেক্সট’ দিয়ে। ওই ১৮৮৫-২০২৫ আর ২১১০-২২০০ মেগাহার্টজকে ছেড়ে দিতে বলা হয় আইএমটি-২০০০ ব্যান্ডের জন্য। রেজল্যুশন ২১২ (ডাব্লিউআরসি-৯৭) দেখলেই ধারনাটা হবে পানির মতো পরিষ্কার। আমাদের উপমহাদেশের দেশগুলো অপারেটরকে ওই ফ্রিকোয়েন্সিটা দিতে লাগিয়েছে মোটে ‘বারোটা’ বছর। ওই বছরগুলো ফ্রিকোয়েন্সিগুলো খেয়েছে ‘বাতাস’।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

If you think cryptography is the answer to your problem, then you don’t know what your problem is.

– Peter G. Neumann, New York Times, February 20 2001.

১৫.

গল্প দিয়েই শুরু করি কি বলেন? শাফায়েত কিছু একটা জানাতে চাচ্ছে সালমাকে। দুজন আবার থাকে শহরের দুপ্রান্তে। যোগাযোগ করতে পাঠাতে হবে কিছু একটা – কাগজে লিখে। শাফায়েত ম্যাসেজটা লিখলো গোপন একটা কোড দিয়ে। গোপন কোডটা জানে মাত্র ওই দুজন। আগে থেকেই। পরে, ওর বন্ধুকে দিয়ে কাগজটা পাঠিয়ে দিলো সালমার বাসায়। সময়মতো সালমার জানালা দিয়ে জিনিসটা ফেলেও দিলো বন্ধুটা। কপাল ভালো হলে সেটা পাবে সালমা। কিন্তু গল্পে দরকার ‘টুইস্ট’। কপাল খারাপ, ওটা গিয়ে পড়লো সালমার ‘বদরাগী’ বড় ভাইয়ের হাতে। সব বড়ভাই বদরাগী হয় কিনা জানিনা, তবে সালমার ভাই ‘ওই সিনেমা’র মতোই বদরাগী। কাগজটা পেলেন ঠিকই তবে সেটার মাথামুন্ডু কিছু না বুঝে ফেলে দিলেন ওয়েস্ট পেপার বীনে। সালমা সবার চোখের আড়ালে তুলে নিয়ে এলো জিনিসটা – ওই বীন থেকে। আগে থেকে ‘শেয়ার’ করা কোড দিয়ে ম্যাসেজ উদ্ধার করলো মেয়েটা। আমার জীবনের গল্প দিলাম কিনা?

১৬.

এখানে যে পদ্ধতিতে শাফায়েত ম্যাসেজটা গোপন করলো সেটাকে বলে ‘এনক্রিপশন’। আর যেভাবে ম্যাসেজটা পাঠোদ্ধার করলো সালমা, সেটা ‘ডিক্রিপশন’। ধরুন, ওই কোড ছাড়া পাঠাতে গেলে কি করতে হতো শাফায়েতকে? একটা বাক্স কিনে লাগাতে হতো তালা। ওই চাবিটার দুই কপি থাকতো দুজনের কাছে। অথবা ‘কম্বিনেশন লক’ হলে সেটার তিন ডিজিটের সংখ্যাটা জানতো দুজনই। ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’তে ওই তালার চাবিকে প্রতিস্থাপন করছে একটা কোড। যাকে আমরা বলছি ‘সাইফার’। আবার যেই পদ্ধতিতে ‘এনক্রিপ্ট’ করা হচ্ছে সেটা হতে পারে কিছু গাণিতিক অ্যালগরিদম, তাই না? আর যে অ্যালগরিদম দিয়ে ওই তথ্যটা লুকানো হচ্ছে সেটাকেও বলা হচ্ছে ‘সাইফার’। ওই ‘সাইফার’ মানে যে অ্যালগরিদম দিয়ে ওই তথ্যকে লুকানো হয়েছে তার ‘ভার্চুয়াল তালা’টার চাবি কোথায়? ওই চাবিটাই হচ্ছে লুকানোর ‘কোড’। ওটা দিয়ে খোলা যাবে গুপ্ত তথ্যটা। তালার মতো ওই ‘চাবি’টাই (কোড) আসল।

১৭.

‘সাইফার’ ওই ম্যাসেজটাকে এমনভাবে ‘স্ক্র্যাম্বল’ আর ‘ডি-স্ক্র্যাম্বল’ মানে ‘ঘুটা’ দেয় যে সালমার ভাই আর শাফায়েতের বন্ধুর কাছে পুরো জিনিসটাই ঘোলাটে মনে হবে। এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ চলে আসছে হাজার বছর ধরে। এটা নিয়ে হয়েছে অনেক অনেক যুদ্ধ – বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। যুদ্ধের জয় পরাজয়ও নির্ভর করেছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র ওপর। এক দেশ পাঠিয়েছে ম্যাসেজ, সেটা হাতে পেয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে ‘ডিক্রিপ্ট’ করে আগে ভাগে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ‘অ্যালাইড ফোর্স’। ওই গল্প জানেন সবাই।

১৮.

আমি যেখানে কাজ করছি, ওই টেলিযোগাযোগ সেক্টরের পুরোটাই চলছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র ওপর। ফোন, ইন্টারনেট, ইমেইল, স্কাইপ, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফাইনান্সিয়াল ট্রান্জাকশন, এটিএম নেটওয়ার্ক, অনলাইনে কেনাকাটা – যাই চিন্তা করেন সেটার কোর জিনিস হচ্ছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’। এটা না থাকলে আপনার আমার ইমেইল পড়ে ফেলার কথা সবার। স্কাইপ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে অনেক। উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে ব্যাপারটা। এক ব্যাংক থেকে টাকা পাঠানো হবে আরেক ব্যাংকে। ভাড়া করলেন ‘স্টেট অফ দ্য আর্ট’ এসকর্ট সার্ভিস। পথে টাকা হাইজ্যাক হবার প্রশ্নই আসে না। এসকর্ট সার্ভিসের হাতে টাকা দেবার আগেই লূট হয়ে গেল টাকাগুলো ব্যাংক থেকে। দোষ দেবেন কাকে? এসকর্ট সার্ভিসকে? ভেবে দেখুন।

১৯.

পৃথিবীটাই চোর পুলিশের খেলা। ‘ক্লোজ’ ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ ব্যবহার করছেন যারা, মানে কোম্পানীগুলো – তাদের হাত পা বাধা। তবে, ধরুন – আপনি তৈরি করলেন একটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেম। কমপ্লায়েন্সের কারণে ওই সরকারকে দিতে হলো এর ‘কী’ মানে চাবিটা। অর্থাত্‍ দেশ মনিটর করতে পারবে এটা দিয়ে ‘এনক্রিপ্ট’ করা পাঠানো ফাইল অথবা ভয়েস কল। কিন্তু ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেমটা ওপেন সোর্স হবার কারণে যে কেউ নিজের মতো তৈরি করে নিতে পারবে আরেকটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেম। কি হবে তখন? অথবা, কয়েকটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেমের কম্বিনেশন? জার্মান পত্রিকা ‘দার স্পাইজেল’ কিছু ডকুমেন্ট পেয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএ’র। ডিফেন্স কনট্রাক্টর এডওয়ার্ড স্নোডেনের হাত দিয়ে। পরে মার্কিন পত্রিকাগুলোতেও কিছু ঘটনা আসে এ সুত্রে। অনেক ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ এখনো মাথা খারাপ করে দিচ্ছে তাদের এনএসএ’র। প্রযুক্তির উত্কর্ষতার সাথে সাথে সমস্যা আসবেই।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

It is not that we have so little time but that we lose so much. … The life we receive is not short but we make it so; we are not ill provided but use what we have wastefully.

― Seneca the Younger, On the Shortness of Life

১০.

ভবিষ্যতের ‘ডট’ দেখতে চাইলে বসতে হবে ঠান্ডা মাথায়। ভুল বললাম, শুধু ঠান্ডা মাথায় নয়, সবকিছু ফেলে বসতে হবে স্থির হয়ে। নো মোবাইল ফোন, নো ইন্টারনেট, নো বূক – একদম খালি হাতে। মনে আছে ফরাসী গণিতবিদ ব্লেইজ প্যাসকালের কথা? তার একটা কথা এখন ঘুরছে সবার মুখে মুখে। ইদানিং। এই মহাব্যস্ত ইঁদুর দৌড়ের সময়ে। “মানুষের অসুখী হবার পেছনে কারণ একটাই। ঠান্ডা মাথায় বসতে পারে না নিজের যায়গায়।” বলে কি ব্যাটা? চাকরির গত তেইশ বছর কি করলাম আমি?

১১.

চষে বেড়িয়েছি অনেক শহর। এই পৃথিবীতে। ‘ডট’এর খোঁজে। এখন বুঝতে পারি শান্তির ‘টাচবেজ’ হচ্ছে স্থির হয়ে বসা, বাসায়। একা। ফিরে আসি অ্যাডমিরাল রিচার্ড বার্ডের কথায়। উনাকে একটা মিশনে থাকতে হয়েছিল অ্যান্টার্কটিকায়। বলতে গেলে একাই। শূন্যর সত্তুর ডিগ্রী নিচের তাপমাত্রায়। পাঁচ মাসের মতো। শুনবেন উনার উপলব্ধি? পৃথিবীর অর্ধেক ‘কনফিউশন’ মানে এলোমেলো অবস্থার সৃষ্টি শুধুমাত্র না জানার কারণে, আসলে আমরা চলতে পারি কতো কমে! সাধারণ জীবনযাত্রায় আমাদের তেমন কিছু লাগে না বললেই চলে। তাহলে এতো ইঁদুর দৌড় কেন? সেটাতো প্রশ্ন আমারও।

১২.

মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগলে ‘টেড’এর বক্তৃতাগুলো শুনি মাঝে মধ্যে। সত্যিকারের ইন্সপায়ারিং! বিখ্যাত মানুষগুলোর সারাজীবনের জ্ঞান উগড়ে দেন মাত্র আঠারো মিনিটে। কে নেই ওখানে? পৃথিবীর “হু’জ হু”দের প্ল্যাটফর্ম ওটা। কে জানে আমিও দেবো কোন একদিন। হাসছেন? ‘গোল’ সেটিংয়ে ওটা রাখতে অসুবিধা কোথায়? দিলাম নাকি দিলাম না – সেটা হয়তোবা বলে দেবে সময়। আর কিছু না থাকলে আমাদের জন্য রয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টিভি স্টেশন। ইউটিউব।

১৩.

শুনছিলাম পিকো আয়ারের কথা। এই ‘টেড’এ। ‘দ্য আর্ট অফ স্টিলনেস।’ অসাধারণ। পড়ছিলাম তার বইটাও। বক্তৃতার নামে নাম। সাবটাইটেল ‘অ্যাডভেঞ্চারস ইন গোয়িং নোহোয়ার’। নিজেকে খুঁজতে পাড়ি দিতে হবে না পাহাড় পর্বত, বসতে হবে স্থির হয়ে কোথাও, থাকতে হবে ‘অ্যাপ্রেসিয়েটিভ’ মানে ‘সপ্রশংস উপলব্ধিপূর্ণ’ চোখ। বাংলায় কঠিন করে ফেললাম নাকি আবার? সোজা কথা – দুনিয়ার ইঁদুর দৌড় থেকে নিতে হবে ‘ব্রেক’! এরপর চালু করতে হবে মনের গভীরের ‘অভিজ্ঞতাপূর্ণ’ স্লাইডশো। খুঁজে পেতে বের করতে হবে আপনার মন ভালো ছিলো কোন কোন মূহুর্তে। ডটগুলো যোগ হতে শুরু করবে ওই ‘স্থির’ হবার পর থেকে। একটু সময় নিয়ে।

১৪.

আচ্ছা, কেমন হয় প্রতিদিন থেকে বের করে নিলেন মিনিট দশেক সময়? অথবা প্রতি মাসে দিন কয়েক? আমার জানা মতে বেশ কিছু মানুষ চিনি যারা আসলেই ‘হাওয়া’ হয়ে যান কয়েক বছরের জন্য। তিন বছর পর ফোন। ছিলেন কোথায়? আফ্রিকার একটা গ্রামে। পুরোপুরি অফলাইন। নিজেকে খুঁজতে। জানতে, কি লাগে ভালো? মন আসলে চায় কি? শান্তি কোথায়? কি করলে ভালো হয়ে যায় মন? সুখী মনে হয় নিজেকে। পুরানো ‘ডট’গুলো দেখিয়েছে নতুন পথের সন্ধান। মনের গহীনে ‘ডাইভ’ দিয়েছিলেন ওই কটা বছর। এসেই ছেড়ে দিলেন ইউনিভার্সিটি’র চাকরি। আবার ডুব। দিন কয়েক আগে এলো একটা ইমেইল। থাইল্যান্ডের একটা গ্রামে স্কুলে পড়াচ্ছেন উনি। হয়তোবা ওটাই শান্তি দিয়েছে তাঁকে। কে জানে।

১৫.

তবে, আমাদের কষ্টটা অন্য যায়গায়। এতো বেশি ইনফর্মেশন আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ‘ফীড’ করছে বর্তমান প্রযুক্তি, আমাদের মাথা আর পারছে না প্রসেস করতে। না পারছে ফেলে দিতে। এই বিলিয়ন বিলিয়ন ওয়েবসাইট, হাজার হাজার টিভি চ্যানেল, ইউটিউবের বিলিয়ন ভিডিও, ফোন, এসএমএস, হাজারো ফোনের কনট্যাক্টস (আমার ফোনের ‘কনট্যাক্টস’ই দেখলাম পনেরো হাজারের মতো – থ্যাংকস টু ক্যামকার্ড), ফেসবুক, লিঙ্কডইন সময় নিয়ে যাচ্ছে আমাদের। ভুল বললাম নাকি? সেকেন্ডে বিলিয়ন কনটেন্ট আপলোড হচ্ছে ইন্টারনেটে। মানুষ তো বাড়ছে না ওই হারে। একটা বই পড়তে যেই সময় লাগে, ওর মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরো লাইব্রেরী অফ কংগ্রেসের পাঁচগুণ কনটেন্ট এসে হাজির হয় আপনার আমার সামনে। এই পোস্টটা পড়ার সময় আপনি যতো তথ্য দিয়ে ‘বম্বার্ড’ হচ্ছেন, শেক্সপিয়েরের পুরো জীবনের ইনপুট অতখানি হবে নাকি সন্দেহ। কারণ, ওনার সময়ে ইমেইল আসতো না মিনিটে মিনিটে। ফোনে হতো না ‘কল ওয়েটিং’। ইন্সট্যান্ট ম্যাসেঞ্জার? হাসছেন আপনি।

১৬.

‘ইণ্টারাপশন সায়েন্স’ নিয়ে অনেক গল্প হচ্ছে ইদানিং। আপনারা বসেছেন কাজে, ওখানে ব্যাঘাত হচ্ছে কয়বার, সেটা নিয়ে শুরু হয়েছে গবেষণা। বড় বড় গবেষণা। আবার কাজে ফিরতে পারছেন কিনা – আর ফিরতে পারলেও কতো সময় নিচ্ছে আবার মনো:সংযোগ করতে, সেখানে কেমন ক্ষতি হচ্ছে কোম্পানীগুলোর অথবা আপনার নিজের – এটার হিসেব নিয়েই তাদের গল্প। ফোন, ইমেইল, স্মার্টফোন, স্ট্যাটাস আপডেট অথবা আপনার অফিস সহকর্মী অযথাই আপনার অফিসে আসলে শুরু হয় এই সমস্যার। যারা পাইলট, সার্জন অথবা নার্সদের মতো প্রফেশনাল, তাদের কাজে ব্যাঘাত মানে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা। আপনি যদি একটা হাসপাতাল চালান, তবে আপনার অপারেশন থিয়েটারে কি ফোন নিয়ে যেতে দেবেন আপনি? আমি হলে দিতাম না। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের বাইরে কাজ করছেন একজন ‘ক্রু’, তার জন্য একটা ম্যাসেজ আছে জরুরী, ক্যান দ্যাট ওয়েট? তার কাজ শেষ হবার পর্যন্ত? মনো:সংযোগ বিচ্যুতি’র জন্য আধাঘণ্টার খরচ সামলাবে কে শুনি?

১৭.

ওই গবেষনার আউটপুট দেখে তো আমি থ! ‘নলেজ ওয়ার্কার’ মানে যারা আমরা মাথা বেঁচে খাই তারা প্রতি তিন মিনিটে পাল্টায় তাদের কাজ। টাস্ক সুইচিং। আর একবার ওই কাজ ব্যাহত হলে আগের যায়গায় ফিরতে গড় সময় লাগে আধা ঘন্টার মতো – এই আমাদের। অফিসে বসা লোকদের নিয়ে গবেষনার রেজাল্ট আরো মজার। গড়ে আমদের প্রতি এগারো মিনিট পর পর মনো:সংযোগের ব্যাঘাত ঘটায় এই ‘অলওয়েজ অন’ প্রযুক্তি। আর ওই এক বিচ্যুতির পর ‘পুরোনো’ মানে আসল কাজে ফিরতে গড় সময় নেয় মানুষ – মিনিট পঁচিশ। সাচ আ ওয়েস্ট অফ টাইম! আপনার ব্যবস্যায়িক প্রতিষ্ঠান চালাবেন কিভাবে? বেশিরভাগ কোম্পানীতে সোস্যাল মিডিয়া বন্ধ অফিস সময়ে, কিন্তু তার স্মার্টফোনের জন্য কি নীতিমালা? ফোন বা ইমেইলের নোটিফিকেশন অ্যালার্টের ‘ফ্রিকোয়েন্সি’ কেমন? আর সেটা কি শব্দ করে?

১৮.

আর যতো বেশি ইনপুট আসবে আমাদের দিকে, ততো কম সময় পাবো আসল কাজটা করতে। এই যে আমি লিখছি, তিন চার লাইন পর পর উঠতে হচ্ছে দরকারী কাজে। হয়তোবা বাজছে ফোন, কেউ বা ম্যাসেজ দিচ্ছে বিভিন্ন ইন্সট্যান্ট ম্যাসেঞ্জারে। ওয়াশিং মেশিনের ‘বীপ’ অথবা কিচেন টাইমারের রিং উপেক্ষা করতে পারছি না এই লেখার সময়ও। পিকো’র কথা একটাই – প্রযুক্তি আমাদেরকে দিয়েছে অনেককিছুই তবে ওগুলোর ‘অপটিমাইজড’ ব্যবহার মানে কতটুকু করলেই আমাদের কাজ চলে সেই বোধশক্তিটা দেয়নি খুব একটা। আগে তথ্য সংগ্রহটা ছিলো কষ্টের। আর এখন হাজারো তথ্যের মধ্যে আমাদের কোনটা ‘আসলেই’ দরকার সেটা বেছে নেবার প্রজ্ঞাটা অনেক জরুরী।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The mystery of human existence lies not in just staying alive, but in finding something to live for.

― Fyodor Dostoyevsky, The Brothers Karamazov

০১.

কর্মজীবন পড়লো তেইশে। তেইশ বছর লম্বা সময় বটে। বয়সও পয়তাল্লিশ হলো বলে। অন্যদের ব্যপারে পুরোপুরি না জানলেও মাঝে মধ্যে ‘ভাসমান’ মনে হতো নিজেকেই। কাজ করছি ঠিকই, মন লাগিয়ে – পাগলের মতো। তবে উঁকি দিতো প্রশ্নটা। মাঝে মধ্যে।

‘আমি কেন এখানে?’

অথবা,

কি চেয়েছি জীবনে? আসলেই কি এটা চেয়েছি জীবনে? যা করছি এখন – সেটাই কি চেয়েছিলো আমার ভেতরের সত্তা?

অথবা,

পৃথিবীতে আসার পেছনে কারণ কি আমার? হোয়াট ইজ দ্য পারপাজ অফ বীইং হিয়ার?

০২.

শিক্ষাজীবন শেষ হবে বলে বলে শেষ হচ্ছে না এখনো। শেষ হবে কি কোনদিন? এদিকে, চালাতে হবে সংসার। আর সে জন্যই কি কর্মজীবন? কর্মজীবনে যাই করেছি বা করছি সেটাতে দিয়েছি মন প্রাণ ঢেলে। নিজেকে প্রশ্নগুলো করা হয়নি কখনো। করবো কিভাবে প্রশ্ন? ‘ইট’স লাইক ডে ইন – ডে আউট’। ক্লান্ত, কিন্তু ডানা মেলে রাখা। ফ্লোটিং মোডে। প্রতিদিন আছড়ে পড়ি একেক যায়গায়। ওখান থেকে ওড়ার আবার আপ্রান্ত চেষ্টা। ‘স্টেইং অ্যাফ্লোট’ হচ্ছে জীবনের লক্ষ্য। আপনারটা না জানলেও আমারটা জানছি ধীরে ধীরে। তবে, যাই করি না কেন, নিজের ভেতরের সাথে নিরন্তর ‘যুদ্ধ’ চলছে বেশ আগে থেকেই। ‘কি চেয়েছি আমি’, অথবা ‘এটাই কি চেয়েছিলাম জীবনে’ এধরনের প্রশ্ন বের করে দিতাম মাথা থেকে। আছি তো ভালোই। বউ বাচ্চা নিয়ে। কিন্তু, দুত্তরি ছাই – এটাই কি চেয়েছিলাম এই আমি?

০৩.

দুহাজার আটে একটা খোঁচা খেয়েছিলাম রান্ডি পাউশের ‘দ্য লাস্ট লেকচার’ থেকে। ভিডিওটা দেখে গিয়েছিলামও ভুলে। পরে একটা ট্রানজিটে এয়ারপোর্ট থেকে কিনে ফেললাম বইটা। আগেও লিখেছিলাম ব্যাপারটা নিয়ে। বাইরের ইউনিভার্সিটিগুলোতে ‘শেষ বক্তৃতা’ নামে একটা ‘চল’ প্রচলিত আছে। ছাত্ররা তাদের প্রিয় ফ্যাকাল্টির ‘শেষ একটা বক্তৃতা’ শোনার জন্য ভার্সিটিকে অনুরোধ করে। বক্তৃতা দেবার আগে প্রফেসরদের ধরে নিতে বলা হয় জীবনের শেষ বক্তৃতা হিসেবে। ধরুন, কাল যদি আর না আসে, তাহলে কি উপদেশ রেখে যেতে চাইবেন তার ছাত্রদের জন্য?

০৪.

কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর রান্ডি পাউশের গল্পটা জানেন সবাই। তার হাতে সময় ছিল না বললেই চলে। টার্মিনাল ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। প্রথম ক্যান্সারের আক্রমন থেকে পালাতে পারলেও পরেরটা আর ক্ষমা করেনি তাঁকে। এই কয়েক মাসের সীমিত টাইমলাইনে আগের দেয়া ‘শেষ বক্তৃতা’র সিডিউলটা রাখবেন, না পরিবারের সাথে শেষ কয়েকদিন কাটাবেন – দ্বিধায় পড়লেন রান্ডি পাউশ। তার অবর্তমানে স্ত্রী ‘জে’ আর তিন অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যতের ব্যবস্থাও তো করতে হবে এর মধ্যে। ছোট মেয়ে ‘ক্লয়ী’র বয়স মাত্র তখন বারো মাস। মৃত্যুর আগের কিছুটা ‘পার্সপেক্টিভ’ পেলাম বইটা থেকে।

০৫.

ওপরাহ উইনফ্রে’র ‘সুপার সৌল সানডে’ ব্যাপারটা মন্দ লাগে না আমার কাছে। এটা একটা ‘ডে টাইম সিরিজ’ হলেও নামকরা মানুষজন আসেন আলাপ করতে। একবার ডাকা হলো ‘ক্যারোলাইন মেইস’কে। মেইস অনেকগুলো বই লিখেছেন ‘স্পিরিচুয়ালিটি’র ওপর। একেকটা বই লেখেন, সব চলে যায় নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার লিস্টে। তার উত্তর হচ্ছে – যখন মনে হবে আমি নিজের সত্তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছি, প্রতিনিয়ত:। মানে আমরা সরে গেছি আমাদের ‘ট্রু কলিং’ থেকে। যখনই নিজেকে আপস করতে হবে ‘ইন্টার্নাল কোর ভ্যালু’র সাথে, হেরে যাওয়া শুরু করলেন তখন থেকে। তবে তার আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে একেবারে ভেতর থেকে। অ্যাম আই ডুইং জাস্টিস টু মাইসেল্ফ? টু মাই জব? আমার আশেপাশের মানুষের জন্য?

০৬.

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন জিনিসটা কি? প্রশ্ন করা হয়েছিল গ্রীক দার্শনিক ‘থেলস’কে। ‘টু নো দাইসেল্ফ।’ নিজেকে জানা। আর সবচেয়ে সহজ? অন্যকে উপদেশ দেয়া। দুহাজার পাঁচে স্টিভ জবসের ‘কানেক্টিং দ্য ডটস’ ব্যাপারটা শুনলেও মাথায় ঢোকাইনি গভীর ভাবে। পরে বুঝেছি ধীরে ধীরে। ওই ‘ডট’গুলো হচ্ছে আপনার আমার জীবনের অভিজ্ঞতা আর ‘দ্য চয়েসেস উই হ্যাভ মেড’। ইতিমধ্যে। আমরা যখন পেছনে তাকাবো জীবন নিয়ে, একটা প্যাটার্ন ফুটে উঠবে আমাদের কাজে। কি কি করেছি আমরা। এটা আমাদেরকে জীবনকে দেখতে শেখায় নতুন একটা ‘পার্সপেক্টিভ’ থেকে। জীবনের হাজারো ‘ইভেন্টে’র পেছনের একটা ট্রেন্ড, আমাদেরকে তৈরি করে দেয় – সামনে দেখতে।

০৭.

ধরে নিন, আমার বয়স চুয়াল্লিশ। আচ্ছা, ধরে নিতে হবে না, এটাই আসল। হলো তো! এই চুয়াল্লিশটা বছর ধরে আমার মাথাকে প্রসেস করতে হয়েছে কোটি কোটি ‘ইভেন্ট’। অনেক অনেক ঘটনা দেখেছি, জিনিস পড়েছি, শুনেছি অনেক কিছু, অনেক কিছু ধরেছি হাতে। পার করেছি অনেক আবেগঘন মুহূর্ত। গিয়েছি নতুন যায়গায়। মিশেছি হাজারো মানুষের সাথে। ‘ইন্টার্নাল ট্রান্সফর্মেশনে’র ভেতর দিয়েও যেতে হয়েছে কয়েকবার। ‘কোটি ইভেন্ট’ মাথায় ধারণ করলেও সেগুলোকে প্রসেস করার সময় কোথায়? ফুরিয়ে আসছেও সময়। ভুল জিনিস শিখে আবার সেটাকে ‘আনলার্ন’ করে নতুন করে শেখার সময় বের করতে হবে এরই মধ্যে।

০৮.

ওই ‘কোটি’ ইভেন্টে’র কতোগুলো নিয়ে চিন্তা করেছি গভীর ভাবে? বেশি নয়। বাদবাকি ‘ইভেন্ট’ পড়ে আছে মাথার স্মৃতিকোঠায়। এই চরম ব্যস্ততার যুগে প্রসেসের সময়ের অভাবে মুছে যাচ্ছে মাথা থেকে ওগুলো। একটা একটা করে। তবে যারা ব্যাপারগুলো নিয়ে চিন্তা করেন অথবা তাদের বিশ্রামের সময় প্রসেস হয় জিনিসগুলো। বিকালে একা বসে থাকলে, ‘ফোন আর বই ছাড়া’ হাজারো জিনিস যোগ হতে থাকে ওই ডটগুলোতে। ঘুমালে, হাটলে, জগিং করলে আমাদের অবচেতন মন এই কোটি তথ্যকে ছোট করতে থাকে ভেঙে ভেঙে।

০৯.

এভাবেই তৈরি হতে থাকে একেকটা ‘ফ্লো অফ আইডিয়া’। কয়েকটা ডট মিলে হয় একেকটা ওয়ার্কফ্লো। যুক্ত হতে থাকে ওই ‘ডটেড’ ইভেন্টগুলো। পাশাপাশি। তৈরি হয় ‘বিগ পিকচার’। ওই সময়ে মনে আসে ‘আহা’ মুহূর্তটা! সময় আর অভিজ্ঞতা থেকেই চলে আসে আরো অনেক ‘ডট’। দুটো ‘ডটে’র মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে নতুন নতুন ‘ডট’ প্রতিদিন। মানে নতুন নতুন প্রসেস করা তথ্য। পেছনের ওই গায়ে গায়ে লাগানো ডটগুলো প্রজ্ঞা দেয় আমাদের তৈরি করতে – সামনের ডট। ভবিষ্যত দেখার প্রজ্ঞা। কিছুটা বুঝতে পারি এখন – কি করতে চাই জীবনে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: