Feeds:
Posts
Comments

Archive for January, 2016

Again, you can’t connect the dots looking forward; you can only connect them looking backward. So you have to trust that the dots will somehow connect in your future. You have to trust in something — your gut, destiny, life, karma, whatever. This approach has never let me down, and it has made all the difference in my life.

– Steve Jobs

২০.

এই ব্যাপারটাই হচ্ছে ‘কানেক্ট দ্য ডট’। আর সেটা বুঝেছি চল্লিশের পর এসে। অথচ, সেটা বিশ বছর আগে বুঝলে হয়তোবা যেতাম অন্যদিকে। তার মানে এই নয় যে আমি যেখানে আছি সেখানে সাফল্য পাইনি। তবে, এখন বুঝি, মনের টান থেকে যা যা করেছি সেগুলোর শুরুটা অথবা মাঝপথে হাজারটা বিপদে পড়লেও উতরে গিয়েছি মনের টানে। আসলে সেটা মনের টান নয় বরং ওই জ্ঞানগুলো ‘কানেক্ট’ করে আমাকে নিয়ে গেছে নিয়ে গেছে সাফল্যের কাছে।

২১.

এটা ঠিক যে বিশ বছর আগে গিয়ে কিন্তু যুক্ত করা যেতো না কাজগুলোকে। কোন কাজগুলো আপনাকে সাফল্য দিয়েছে সেটা বোঝা যাবে পরে এসে – পেছনে ফিরে। আর সেকারণে আজ আমার বয়স বিশ হলে আমার মন যেটা টানতো সেটা নিয়েই পড়ে থাকতাম বছরের পর বছর। আজ বুঝি, যেটা ভালোবেসে ছিলাম সেটাই পেরেছি করতে। অনেক ঝামেলার পরও। হয়তোবা বিপদে পড়েছিলাম – কিন্তু সেটা একটা সময়ের জন্য। সাফল্য পাওয়া মানুষগুলোকে ‘অ্যানালাইসিস’ করেও দেখা গেছে একই গল্প। আমার সাফল্য তাদের তুলনায় নগণ্য হলেও ট্রেন্ড বুঝতে অসুবিধা হয়নি কিন্তু।

২২.

আমার একটা নিজস্ব থিওরি আছে এ ব্যপারে। জীবনটাকে ধরে নিয়েছি একটা ক্যানভাস হিসেবে। জন্মেই ক্লীন স্লেট। কথা বলা, হাটতে শেখা হচ্ছে এক একটা বিন্দু। যতো নতুন নতুন জিনিস শিখবো ততো নতুন বিন্দু যোগ হবে ওই ক্যানভাসে। যতো বেশি জিনিস শিখবো ততো বিন্দুগুলো চলে আসবে একে অপরের কাছাকাছি। নিজে থেকে ‘কানেক্ট দ্য ডট’ করার প্রয়োজন হবে না তখন। আবার, একেকটা বিন্দু অন্য বিন্দুর যতো কাছাকাছি হবে ততো সেগুলোর কনটেক্সচুয়াল ইনফ্লুয়েন্স বাড়বে। আর সেকারণে আশেপাশের কয়েকটা বিন্দুর জ্ঞান থেকে তৈরি প্রজ্ঞা সমাধান দেবে বাকি ‘আন-রিজল্ভড’ সমস্যার। মনে আছে ওই রিসার্চটার কথা?

২৩.

বড় বড় দুরূহ, অসম্ভব জটিল আর লম্বা প্রজেক্টগুলোকে চালানোর কৌশল শুরু হয়েছে এই বিন্দু থেকে। প্রথমে প্রজেক্টটাকে ছোট ছোট ভাগে (মাইলস্টোন) ভাগ করে ডিপেন্ডেন্সি দেখে নেয়া হয়। ধরা যাক, বিন্দু ‘ক’ থেকে ‘খ’, ‘গ’ থেকে ‘ঘ’ আর ‘ঘ’ থেকে ‘ঙ’ করতে যে প্রযুক্তি প্রয়োজন তা বর্তমানে উপস্থিত অথবা, সময়ের মধ্যে তৈরী করে নেয়া যাবে। কিন্ত, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তার সমন্ধে কারো কোনো ধারণাই নেই। প্রজেক্ট শুরু হয়ে যাবে, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তা বাকি প্রজেক্ট এর গতি কমাবে না। সবসময়ে দেখা যায় (পরীক্ষিত বটে), বাকি অংশগুলো হবার সময় যেহেতু প্রজেক্টটা বের করে নিতেই হবে, অন্য অংশের উপলব্ধিগুলো জড়ো হয়ে অজানা অংশটুকুও বের করে নিয়ে আসে।

আমি কি চাই, তা ঠিক মতো পিনপয়েন্ট করে – বিশ্বাস করে লেগে থাকলে তা পাওয়া যাবেই। বিশ্বাস করলেই করা যাবে সবকিছু। ‘কানেক্ট দ্য ডট’ থেকে এটা না শিখলে পরে পস্তাবেন অনেকেই।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

১৫.

মনে আছে পত্রিকাগুলোর কথা? মানে, আমাদের ছোটবেলার ওই শিশুতোষ পত্রিকাগুলো? যেগুলো পাল্টে দিয়েছিল আমাদের এখনকার চিন্তা ভাবনা। শিশু? নবারুণ? কৈশোরে এসে পেলাম কিশোর পত্রিকা! যারা লিখতেন তারা জানতেনও কিভাবে জানি – কি চাই আমরা। ‘সুমন আর মিঠুর গল্প’, ‘কুশল আর মৃত্যু বুড়ো’? পরের দিকে – ‘দীপু নাম্বার টু’? মনে নেই তবে কোন যেন একটা পত্রিকার শেষ পাতায় থাকতো কিছু বিন্দু আঁকা। পেন্সিল দিয়ে টানতে হবে এক থেকে দুই, এর পর তিন – চার। নিরানব্বই পর্যন্ত! ধরতেই পারতাম না প্রথমে – কি দাড়াবে জিনিসটা? ওমা, কি সুন্দর পাখি! রং করবো নাকি একটু?

পয়তাল্লিশে এসে ফিরে তাকালাম একবার। পেছনে। জিরাবো কিছুক্ষণ। হিসেবপাতিও করবো কিছু। কি করতে পেরেছি আর কি আছে বাকি?

১৬.

এখন বুঝি, মনের অনেক টান অগ্রাহ্য করেছি সারাজীবন। ভয় পেয়েছি, আশেপাশের মানুষ কি বলে। এটা ওটা করতে চেয়েছি – পিছিয়ে এসেছি পরমূহুর্তে। যেতে চেয়েছি এখানে ওখানে। ‘পয়সা না থাকা’র খোঁড়া যুক্তিতে আটকে ছিলাম ওই সময়গুলোতে। দুহাজার সাতে এসে শুনলাম নামকরা ইউনিভার্সিটির একটা কমেন্সমেন্ট অ্যাড্রেস। ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে বের হবার দিন এক একজন বিখ্যাত মানুষকে ডাকা হয় তার অভিজ্ঞতা বলতে। দুহাজার পাঁচে দেয়া ওই বক্তৃতার সময় মানুষটাকে পছন্দ করতাম না তেমন একটা। ছোট্ট ছোট্ট তিনটা গল্প বলেছিল মানুষটা। গল্পগুলো দাগ কাটলো তার প্রায় ছয় বছর পর। বলতে পারেন চল্লিশে এসে বুঝতে পারলাম প্রতিটা লাইনের অর্থ।

১৭.

মানুষটা কেন জানি ‘সনাতন’ জিনিস মানেনি। আমরা কি পারতাম কলেজে না পড়ে ইচ্ছামতো জিনিস নিয়ে কাজ করতে? মন যা চায় সেটা করার মতো সাহস এখনো আসেনি আমার। অথচ, মনের টানে কলেজ ছেড়ে ইচ্ছেমতো জিনিস শিখে পৃথিবী পাল্টে দিয়েছে ওই মানুষটা। সে যখন ওই কাজগুলো শিখেছে তখন সে নিজেও জানতো না যে জিনিসগুলো তার কাজে লাগবে পৃথিবী পাল্টাতে। মানে ‘ডেলিবারেটলি’ জেনে কোন কিছু করেন নি উনি।

১৯.

মন চেয়েছে তাই করেছেন। বিশ্বাস ছিল যে জিনিসটা পাল্টে দেবে মানুষের অভিজ্ঞতার ব্যাপারগুলোকে। সেটা করতে গিয়ে অনেক সমস্যাতেও পড়েছিলেন উনি। সেটার ভয়ে কাজগুলো ফেলে পালায়নি মানুষটা। তখনও বোঝেননি কি করতে চলেছেন উনি। পৃথিবী জয় করলেন একসময়। অনেক কাজ করেলেন নিজের মতো করে। আর সেগুলোকে বিন্দু হিসেবে কানেক্ট করতে গিয়ে শেষ বয়সে এসে বুঝতে পারলেন আসল জিনিসটা।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: