Feeds:
Posts
Comments

Archive for the ‘Napoleon Hill’ Category

But the real way to get happiness is by giving out happiness to other people. Try and leave this world a little better than you found it, and when your turn comes to die you can die happy in feeling that at any rate you have not wasted your time but have done your best.

– Last message to scouts, Robert Baden-Powell

৩৮৬.

স্বপ্ন দেখানোর কোম্পানির ব্লু-প্রিন্ট করতে গিয়ে পড়লাম বিপদে। ভালো কথা, স্বপ্ন দেখাবো – কিন্তু কি ধরনের স্বপ্ন? চিন্তা করতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে উঠলাম। আমার স্বপ্নটা কি সেটা বুঝতে বুঝতে বয়স চল্লিশ পার হয়ে গেল। আমার ধারণা, যারা উদ্যোগতা তাদের স্বপ্ন পূরণ হয় তাড়াতাড়ি। নিজের বস নিজে হলে স্বপ্ন পূরণ সময়ের ব্যাপার মাত্র। ফিরে আসি নিজের কথায়। স্বপ্ন দেখানোর পাগলামিটা কোথায় পেলাম থেকে সেটা নিয়ে কম প্রশ্নের সন্মুখীন হইনি আমি। ভালো কথা, পাল্টা প্রশ্ন করি আপনাকে? আপনি কি চেয়েছেন জীবনে? আপনার স্বপ্নটা পূরণ করতে পেরেছেন কি? আবারো প্রশ্ন করছি আপনার চূড়ান্ত স্বপ্নের ব্যাপারে। মানুষের অনেকগুলো মধ্যম পর্যায়ের স্বপ্ন থাকতে পারে, তবে আপনি কি হতে চেয়েছিলেন শেষ অবধি? উত্তরটার জন্য আপনাকে কিছু ইনপুট দেই বরং।

৩৮৭.

দিনের শেষে কি হতে চান আপনি? একজন ভালো মানুষ, একজন ভালো ছেলে/মেয়ে, নিজের বাচ্চাদের জন্য ভালো বাবা/মা? অথবা সহৃদয়বান সহকর্মী যিনি অন্যদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করেন? অথবা এমন মানুষ যিনি অন্যদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিলিয়ে দেন সারাটি জীবন? কি হতে চেয়েছিলেন জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত? আরো একটা ইনপুট নিয়ে আসি এখানে। মনে করুন তো শেষ কবে গিয়েছিলেন আপনার প্রিয় কারো জানাজাতে? অথবা তার বাসায় উনার মৃত্যুর পর? কি হয়েছিলো ওখানে? সবার মুখে কি দেখতে পেয়েছিলেন? সবাই কি কথা বলছিলেন উনাকে নিয়ে? কেমন মানুষ এসেছিলেন ওনার মৃত্যুর পর? পত্রিকায় উনার ব্যাপারে কি লেখা হয়েছিলো?

৩৮৮.

যুদ্ধ ঠিক যেদিন শুরু হবে অর্থাৎ আক্রমনের ওই দিনটাকে আমরা বলি ‘ডি’ ডে। ওই ‘ডি’ডে টাকে শূন্য ধরে ডি-২ বা ডি-৫ দিন ধরে থাকি প্রস্তুতির সুবিধার্থে। মানে, ডি-৩ দিবসে কি করবেন সেটারও প্ল্যান করতে হয় আগেভাগে। এটা এক ধরনের ব্যাক ক্যালকুলেশন। প্রিয়জনের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে যেয়ে চিন্তা করুন ওখানে নিজের মুখটাকে। ধরে নিন এটা আমার আপনার মৃত্যুর পরের ঘটনা। ফাস্ট ফরওয়ার্ড করে নিলাম আমার আপনার জীবনটাকে। ডি ডে, মানে ডি শূন্য দিবস। যেদিন মারা গেলাম আমরা। চিন্তা করুন ডি+১ আর তার পরবর্তী দিনগুলোকে। আপনার জানাজার সময় কেমন মানুষ এসেছিলো? তারা সবাই কতটুকু ‘ইমপ্যাক্টেড’? আপনার কথা স্বরণ করতে যেয়ে কি বলছিলেন তারা? ওখানে বসে চিন্তা করুন আপনার আত্মীয়দের কথা? কি করছিলেন তারা? আপনার স্বামী/স্ত্রীর কি অবস্থা? আপনার ছেলেমেয়েগুলোর? আপনার বন্ধুদের আলোচনা? কেমন ছিলেন উনাদের চোখে আপনি? আমার ধারনায় ওটাই হচ্ছে সত্যিকারের ইভালুয়েশন। সৃষ্টিকর্তাও জানতে চান আপনি আমি কেমন ছিলাম? বিশেষ করে অন্যের চোখে। ওরকম একটা প্রশ্ন করা হয় জানাজাতে।

৩৮৯.

এখন আসি ব্যাক ক্যালকুলেশনে। বাংলাদেশের লাইফ এক্সপেকটেন্সীতে বাঁচি আমরা পঁচিশ-তিরিশ হাজার দিন। হিসেবের সুবিধার্থে ডি-১৫০০০ দিবস ধরে নিলাম আজ। স্বপ্ন পূরণের ব্লু-প্রিন্ট করেছি কি আমরা? আপনি যা হতে চান অথবা যা করতে চান তার ব্যাপারে কি করেছেন আপনি? হাজারো বই পড়ছি বলে অনেকগুলো ধারণাই মিলে যাচ্ছে একে অপরের সাথে। মনে আছে তো – স্টিভেন কোভি’র দ্বিতীয় অভ্যাসটার কথা? শুরু করতে হবে শেষের চিন্তাটা মাথায় নিয়ে। যাই শুরু করছেন না কেন আজ, শেষটা থাকে যেনো মাথায়। তাহলেই কিন্তু পৌছাতে পারবো আমাদের স্বপ্নে। নেপোলিয়ান হিলের কথাটাতে আসি ফিরে। মানুষ যা চিন্তা করতে পারে, চাইলে সে সেটা পেতে পারে। মানে আমি আজ যা হতে চাই বা পেতে চাই সেটা মস্তিস্কে ‘পারসিভ’ করলে সেটা পাওয়া সম্ভব। রন্ডা বার্নের ‘সিক্রেট’ ভিডিওটা দেখেছেন কি? আপনি যা চাইবেন পুরো পৃথিবীর সমস্ত শক্তি জড়ো হয়ে আপনাকে দিতে চাইবে, কিন্তু আপনাকে চাইতে হবে আগে। আমি আপনি কি চাই সেটা নিয়ে বসেছি কখনো? নিভৃতে। কথা বলেছি কি মনের মন্দিরে? লিখেছি কোথাও? লিখি তো বাজারের লিস্টিও!

৩৯০.

অভিজ্ঞতা বলে, প্রতিটা জিনিস তৈরী হয় দুবার। হ্যা, পৃথিবীর প্রতিটা জিনিস। মাথায় তৈরী হয় আগে, বাস্তবে তৈরী হয় ঠিকমতো চাইলে। আমাদের অফিসটার কথাই ধরুন। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট বিল্ডিংয়ে এর অবস্থান। চমত্কার বিল্ডিং। আজ এ বিল্ডিংটা দাঁড়িয়ে আছে বাস্তবে, কারণ কেউ না কেউ ওই খালি জায়গাটার পাশে দাঁড়িয়ে পুরো বিল্ডিংটা দেখেছিলেন আগে। মাথা উচু করে পনেরো তলা পর্যন্তও গুনেছিলেন উনি! এই বাতাসেই! ফ্লোর বাই ফ্লোর। এতো নিঁখুতভাবে যে বিল্ডিংটার কাঁচের প্রতিফলিত আলোর জন্য মাথা নুইয়ে নিয়েছিলেন উনি। স্বপ্নচারী মানুষ বলে কথা। অবিশ্বাসী মানুষেরও অভাব নেই। স্বপ্নে দেখেছেন নাকি প্রশ্ন করেছিলেন কেউ কেউ। তাদের জন্য আঁকা হয়েছিলো পুরো বিল্ডিংটা। বিল্ডিংটা তো আর হঠাত্‍ করে বানানো হয়নি। আবার হঠাত্‍ করে কেউ তো ইট সুরকি নিয়ে হাজির হননি খালি জায়গাটায়। বাস্তবে আসার আগেই স্বপ্ন দেখেছেন বছরের পর বছর ওই বিল্ডিংটা নিয়ে। বুঝতে চেয়েছেন কি চান তারা। আর আমাদের জীবন নিয়ে কি চাই সেটা নিয়ে চিন্তা করেছি কখনো? কতটুকু সময় দিয়েছি ভাবার জন্য – সত্যিকারের কি চাই আমরা?

৩৯১.

নিয়তির পরিহাসের মতো শোনালেও অফিসের কাজ বা একটা প্রজেক্টের পেছনে যতটা সময় দেই সে তুলনায় নিজের জীবনের প্রজেক্টে সময় দেয়া হয় না কখনো। আমি কি করতে ভালবাসি মানে সত্যিকারের ভালবাসার জিনিসটা উপেক্ষিত হয়ে থাকে সারাজীবন। অফিসের প্রজেক্টের কাজে প্রতিটা মাইলস্টোন লিখে রাখলেও নিজে কি চাই এ জীবন থেকে তা কি লিখে রাখিনি কখনো। সর্বোচ্চ চাওয়া। আমিও লিখিনি চল্লিশ বছরের আগ পর্যন্ত। আরো ভয়ংকর একটা কথা বলি? আমাদের অনেকেই বছর ধরে ভ্যাকেশনে কোথায় কোথায় যাবেন আর কি কি করবেন প্ল্যান করেন সেটার। সাময়িক মুক্তি পাবার জন্য, এই দুঃসহ জীবন থেকে। অথচঃ বর্তমান জীবনটাকে সুন্দর করার ব্যাপারে একটা প্ল্যান করতে আমাদের অনীহা অনেক। বিদেশে যেয়ে তাদের স্কাই ট্রেন দেখে আন্দোলিত হলেও দেশে এসে তাকিয়ে থাকি সরকারের দিকে। স্বপ্ন দেখতেও ভয় পাই ওটা নিয়ে। থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশের মানুষেরা নিজেরাই টাকা তুলে বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী করছেন সরকারের দিকে না তাকিয়ে থেকে। মনে চাইলো তো নতুন একটা মোবাইল কোম্পানিই খুলে ফেললো সবাই মিলে। ওটার গল্প মানে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড নিয়ে আসবো সামনে। তবে নিজের মতো করে কিসে আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করা যাবে সেটার একটা ব্লু-প্রিন্ট তৈরী করা গেলে দেশটাকে নিয়ে যেতে পারবো অন্য মাত্রায়। তার জন্য জানতে হবে নিজেদের সত্যিকারের চাওয়াটাকে। তাহলে পালানোর ব্লু-প্রিন্ট করতে হতো না বছর ধরে।

৩৯২.

স্টিভ চ্যান্ডলারের একটা বেস্টসেলার পড়ছিলাম কয়েকদিন ধরে। সাধারণ নাম, তবে বিভ্রান্তকর টাইটেল, না জানলে কিনতাম না কখনই। আমাজনে রিভিউ পড়ে হুঁশ হলো আমার। চাইই আমার বইটা। থাকি ঢাকায়। একদিন স্বপ্নেও দেখলাম বইয়ের কভারটা। আমার কোলে। চাওয়ার মাত্রাটা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাবার আগেই চলে এলো বইটা। একেবারে আমার টেবিলে। চোরাই বই চেষ্টা করি না পড়ার জন্য। পড়লেও পরে বইটা কিনে নেই নিজের জন্য। আমি চুরি করলে আমার বই কিনবে কে? চ্যান্ডলারের কথা একটাই। দুনিয়া থেকে যাবার আগে একটা প্রশ্ন আসবে কিন্তু বারে বারে। কি পরিবর্তন করেছি সবার জন্য? কি ভালো হয়েছে আমার এই দুনিয়াতে আসাতে? উত্তরটা কিন্তু ছোট, কতটুকু দিতে পেরেছি দুনিয়াকে।

৩৯৩.

স্কাউটের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট বেইডেন পাওয়েলের কথা ওই একই সুরে বাধা। স্কাউটদের জন্য লেখা শেষ চিঠিটা মুগ্ধ করবে সবাইকে। কতোটুকু ‘এনলাইটেনড’ হলে একজন মানুষ তার ভ্রমণের সময় সাথে রাখতেন চিঠি কয়েকটা। তার একটা ছিলো মার্ক করা – ‘আমার মৃত্যুর পর’। স্ট্যানফোর্ডে দেয়া স্টিভ জবসের তিন নম্বর গল্পটা ছিলো মৃত্যুর ওপর। আমার মতে, সেরা অংশ। মাসলো’র তত্ত্ব অনুযায়ী এরা পৌঁছে গেছে ‘সেলফ অ্যাকচুয়ালাইজেশন’ পর্বে, তা না হলে মেলিন্ডা এন্ড গেটস ফাউন্ডেশন বিলিয়ন ডলার ঢালছে কেন মানব কল্যানে? সেরা অংশের ভাবটা তুলে আনলে ‘কনটেক্সট’টা বাদ যেতো চলে। সেকারণেই – সেরা অংশের আমার সেরা অংশটা হুবহু তুলে দিচ্ছি এখানে।

Your time is limited, so don’t waste it living someone else’s life. Don’t be trapped by dogma — which is living with the results of other people’s thinking. Don’t let the noise of others’ opinions drown out your own inner voice. And most important, have the courage to follow your heart and intuition. They somehow already know what you truly want to become. Everything else is secondary.

৩৯৪.

আমাদের সমস্যাটা কোথায়? স্বপ্ন দেখতে ভয় পাই কেন আমরা? কেন জানি না – আমরা কি চাই জীবনে? স্বপ্ন দেখানোর কোম্পানির বিজনেস কেস না থাকলেও সাহস পাচ্ছি কোথা থেকে? নিজের ভয় কাটানোর গল্প নিয়ে আসছি সামনে।

বিদায় নেবো একটা মিউজিক ভিডিও দিয়ে। কেনী চেজনী’র এই গানটা মনে করিয়ে দেয় ক্যাডেট কলেজের এথলেটিক প্রতিযোগিতাগুলোর কথা। পুরো গানটা না শুনতে পারলেও পাঁচ মিনিট পঞ্চাশ সেকেন্ড থেকে মিস করবেন না, অনুগ্রহ করে। স্বপ্ন দেখবোই আমরা! থাকুন সাথে।

[ক্রমশঃ]

Advertisements

Read Full Post »

“Life begins at the end of your comfort zone.” – Neale Donald Walsch
“Everything you want is just outside your comfort zone.” — Robert Allen, The One Minute Millionaire.

১৭.

বেতন পাচ্ছি, দুটো পাচটা খেতে পাচ্ছি, চলে তো যাচ্ছে। এই অবস্থার উন্নতির প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে বেশিরভাগ মানুষ না বলবেন। মানুষ মাত্রই কমফোর্ট জোনের বাইরে যেতে ভয় পান। আবার, পৃথিবীর সব ভালো জিনিস আমাদের কমফোর্ট জোনের ঠিক বাইরে। ভালই তো আছি, আর কি দরকার? জীবন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় নেই বাপু, পরে আম ছালা দুটোই যাবে।

১৮.

আমাদের নিজেদের জীবন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মানসিকতা না থাকার পেছনে মাসলোর তত্ত্ব আবার খাটানো যায়। মৌলিক চাহিদা, ভাত, কাপড় বা মাথা গোজার জায়গা না থাকলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার আবেদন না থাকারই কথা। তবে, সবকিছুতে মরিয়া বা বেপরোয়া হবার মানসিকতা অনেকসময় ভাগ্য বদলে দেয়। মানুষ কোনঠাসা হয়ে গেলে অনেক চমত্কার চমত্কার ফলাফল নিয়ে আসে। একারণে অভিবাসীরা, যারা ভাগ্যের অন্নেষণে বিদেশ বিভুইয়ে পাড়ি দেন, তারা সবার সাথে প্রতিযোগিতায় তাদের সেরা কাজ দিয়ে নিজের সাথে দেশটাকেও উপরে নিয়ে চলে। এখানে, আমেরিকা, দ্য ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি এসেছে ল্যান্ড অফ মাইগ্রান্ট থেকে। মরিয়া না হলে এটা সম্ভব নয়। তবে, ল্যান্ড অফ মাইগ্রান্ট ব্যাপারটি আসলে আমেরিকার মিত্র দেশটির জন্য বেশী প্রযোজ্য। পৃথিবীর সত্তুর ভাগ উদ্ভাবনী জিনিস আসে সেই দেশ থেকে। ‘ডেসপারেশন’ সেই দেশকে নিয়ে গেছে অন্য পর্যায়।

১৯.

মনে আছে সেই অকুতোভয় সেনাপতির কথা? অন্য দেশের পানিসীমায় প্রবেশ করে আবিষ্কার করলেন যে তার সৈন্য সামন্তের সংখ্যা তার শত্রুদেশের তুলনায় ভয়ংকরভাবে কম। ঘন্টা খানেকও টেকা যাবে কিনা তা নিয়ে আছে সন্দেহ। তীরে নেমেই পুড়িয়ে দিলেন সব জাহাজগুলো। সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমরা না জিতলে এই তীর ছাড়তে পারবো না। হয় জিতবো আমরা, না হয় আমরা শেষ সবাই!

তারা জিতেছিলো।

২০.
আমেরিকার “গ্রেট শিকাগো ফায়ার” এর কথা সবার মনে থাকবে অনেকদিন। বাংলাদেশের জন্মের ঠিক একশো বছর আগে এক বিশাল অগ্নিকান্ডে প্রায় নয় বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পুড়ে গিয়েছিলো। সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছিলো মানুষ। ব্যবসায়ীদের সব দোকান ছারখার হয়ে গিয়েছিল। পরদিন ভোরে ব্যবসায়ীরা এসে অগ্নিকান্ডের ভয়াভয়তায় নতুন জায়গায় চলে যাবে নাকি নতুন করে দোকান চালু করবে সেটা নিয়ে অনেক শলাপরামর্শ করলেন। সবাই শিকাগো ছেড়ে চলে গেলেন পরে। থেকে গেলেন একজন। ঠিক ধরেছেন। ধারণা করা যায়, কমফোর্ট জোনের বাইরের লোক, পাগল কিসিমের।

২১.

শূন্য থেকে আবার দোকানটা তৈরী করা হলো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আজ সেটা। মরিয়া হয়ে গেলে মানুষ কি করতে পারে তার সর্বতক্রিসঠ উদাহরণ হিসাবে দাড়িয়ে আছে মার্শাল ফিল্ড ডিপার্টমেন্ট স্টোর। দুহাজার ছয় সালে একে কিনে নেয় বিশ্বখ্যাত আরেক ব্র্যান্ড ‘মেসি’।

পৃথিবীর ভালো সব যা হয়েছে, তার সবকিছুই সেই অকুতোভয় মানুষগুলোর কমফোর্ট জোনের বাইরে ছিলো।

আপনার?

Read Full Post »

“Desire is the starting point of all achievement, not a hope, not a wish, but a keen pulsating desire which transcends everything.” – Napoleon Hill

১৫.

‘সবার হবে গাড়ি’, ন্যানোকে নিয়ে টাটার উচ্ছাসের শেষ নেই। আর হবে না কেন? এই দামে কে দেয় গাড়ি!

হেনরি ফোর্ডের  ‘সাধারণের জন্য গাড়ি”র স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল উনিশশো বিশ থেকে। গাড়ির দাম সাধারণের হাতের নাগালে আনার জন্য অসম্ভব পাগলামি তাকে ধরে বসলো। গাড়ির ‘ইঞ্জিন’ এই গাড়ির জন্য একটা বড় কস্ট কম্পোনেন্ট। সব জায়গায় খরচ নামিয়ে আনা সম্ভব হলেও ইঞ্জিনকে আর সস্তা করা যাচ্ছিলো না। ফোর্ড তার প্রকৌশলীদের প্রচন্ড চাপে রাখলেন। সেসময় সেভ্রলেট ছয় সিলিন্ডারের ইঞ্জিন বাজারে নিয়ে আসল। তখনকার সময় দুই তিনটা সিলিন্ডারের এক একটা লোহার ছাচ তৈরী করে তা নাট বল্টু দিয়ে জোড়া লাগাতে হতো। একারণে দাম কমানো যাচ্ছিলো না। আর ক্র্যাংকশ্যাফট ভেঙ্গে যাচ্ছিল। ফোর্ডের দাবি, তৈরী করো -এক ছাচে আটটা সিলিন্ডার! দাম কম, স্থায়িত্ব বেশি।

প্রকৌশলীদের উত্তর, অসম্ভব। মরে গেলেও সম্ভব নয়। আটটা সিলিন্ডার, তাও আবার এক ছাচে!

ফোর্ড জোর করে অনেকগুলো বিকল্প ব্লু-প্রিন্ট তৈরী করলেন কাগজের ওপরে। তা কাগজের উপরেই থাকলো প্রথম কয়েক মাস।

ফোর্ড বললেন, “পয়দা করো , টাকা পয়সা সমস্যা না।”

“কিন্ত”, প্রকোশলীদের তারস্বরে জবাব, “অসম্ভব!”

“লেগে থাকো”, ফোর্ডের স্বভাবচরিত জবাব, “শেষ না হওয়া পর্যন্ত। সময়ও ব্যাপার না।”

প্রকৌশলীরা নাওয়া খাওয়া ভুলে নেমে পড়লেন। ছয়মাস গড়ালো। না। আরো ছয়মাস, ছাচ ভেঙ্গে যাচ্ছে আগের মত। প্রকৌশলীরা তাদের জ্ঞানের সবকিছু চেষ্টা করলেন, কোনো কিছুতেই সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।

আরো এক বছর চলে গেল। ফোর্ড আবার খোজ নিলেন। প্রকৌশলী ক্যাম্পের একই উত্তর। “আমার চাইই – চাই”, ফোর্ডের একই গো।

প্রকৌশলীদেরও রোখ চেপে গেল। তাদেরও ফোর্ডের পাগলামিতে পেয়ে বসলো। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই যাদুমন্ত্রের মত সমাধান পেয়ে গেল। এক লোহার ছাচে আট সিলিন্ডারই হলো! ক্র্যাংকশ্যাফট ছোট হয়ে আসলো, এর ভেঙ্গে যাবার সমস্যা আর থাকলোনা। তৈরী হলো যুগান্তকারী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার।

ফোর্ডের জেদের সুফল পেল আবার সাধারণ জনগণ। তার সাফল্যগাথার পেছনে কয়েকটা নীতি কাজ করেছে। কোনো কিছুর জন্য অদম্য ‘আকাঙ্ক্ষা’ কাউকে আটকে রাখতে পারেনি। আপনাকে স্পষ্ট করে জানতে হবে – আপনি কি চান। নিজেকে সেটা দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে হবে। আপনি যা চাইবেন তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করলে তা পেতে বাধ্য।

১৬.

বর্তমান বিশ্বে ফোর্ডের এই আচরণ অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো।

বড় বড় দুরূহ, অসম্ভব জটিল আর লম্বা প্রজেক্টগুলোকে চালানোর জন্য এ কৌশল ছাড়া গতি নেই। প্রথমে প্রজেক্টটাকে ছোট ছোট ভাগে (মাইলস্টোন) ভাগ করে ডিপেন্ডেন্সি দেখে নেয়া হয়। ধরা যাক, বিন্দু ‘ক’ থেকে ‘খ’, ‘গ’ থেকে ‘ঘ’ আর ‘ঘ’ থেকে ‘ঙ’ করতে যে প্রযুক্তি প্রয়োজন তা বর্তমানে উপস্থিত অথবা, সময়ের মধ্যে তৈরী করে নেয়া যাবে। কিন্ত, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তার সমন্ধে কারো কোনো ধারণাই নেই। প্রজেক্ট শুরু হয়ে যাবে, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তা বাকি প্রজেক্ট এর গতি কমাবে না। সবসময়ে দেখা যায় (পরীক্ষিত বটে), বাকি অংশগুলো হবার সময় যেহেতু প্রজেক্টটা বের করে নিতেই হবে, অন্য অংশের উপলব্ধিগুলো জড়ো হয়ে অজানা অংশটুকুও বের করে নিয়ে আসে। আমি কি চাই, তা ঠিক মতো পিনপয়েন্ট করে – বিশ্বাস করে লেগে থাকলে তা পাওয়া যাবেই।

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজার বার ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজার স্টেপ। 

আপনার ভয় কি? সত্যি করে বলুনতো, আপনি এমন কিছু চেয়েছিলেন – বিশ্বাস করে লেগেও ছিলেন, কিন্ত পাননি?

সত্যি করে বলবেন কিন্তু।

Read Full Post »

“I have won hundreds of chess games, and lost thousands. You have to have the courage to fail.” – Garry Kasparov

১৩.

হাল ছেড়ে দিতে দেখি অনেককেই। আমাদের পারিপার্শিক অবস্থান এর জন্য কিছুটা দায়ী হতে পারে। অফিসে প্রতিদিনই অনেক মানুষের সাথে দেখা হয়। এর মধ্যে প্রায় বেশ বড় শতাংশ আবার ফিরে আসেন নতুন কিছু নিয়ে। যে উত্সাহ নিয়ে একেকটা বিজনেস কেস উপস্থাপন করেন, কল্পনায় তাদের জায়গায় নিজেকে বসানোর চেষ্টা করতে থাকি সে সময়ের জন্য। তারা প্রতিনিয়ত যে বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যান, তা অনুধাবন করার চেষ্টা করতে থাকি। চোখের সামনেই যে অল্পসংখ্যক কোম্পানিগুলো দেশ থেকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যাচ্ছে, হাল ছাড়তে দেখিনি কাউকে।

মেকানাস গোল্ড, প্রথম ক্লু। আর গোল্ড রাশের কথা মনে আছে আপনাদের অনেকেরই। নাপোলীয়ন হিলের বন্ধুর চাচাকে এইগোল্ড রাশে ধরেছিলো। বন্ধু ডার্বির চাচা ভাগ্গান্নেষে কলোরাডো পার হয়ে সোনার খোজে গেলেন অন্য সবার মতো। অনেক বুঝেশুনে জায়গা বেছে বেলচা শাবল নিয়ে খুড়তে শুরু করলেন তিনি। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুরতে ভাগ্যদেবী কিছুটা প্রসন্ন হলেন। পায়ের নিচে চকচকে আকরিকখন্ড পেতে শুরু করলেন। কিন্তু এটাকে তুলবে কে? চুপিসারি আবার গর্তগুলো বন্ধ করে রওয়ানা দিলেন দেশের বাড়ি মেরিল্যান্ডে।

দেশের কিছু আত্বীয়স্বজন আর এলাকার লোকজন মিলে টাকা তুলে যন্ত্রপাতি কিনে আবার রওয়ানা দিলেন আগের জায়গায়। এবার ডার্বি তার চাচার সঙ্গ নিলেন। আকরিক তুলে প্রথম গাড়ি পাঠানো হলো গলানোর কারখানায়। দেখা গেল এরকম ভালো আকরিক এ এলাকায় অন্যান্য খনিতেও পাওয়া যায়নি। আর কয়েকটা গাড়ি হলেই পুরো টাকা উঠে আসবে।

নুতন উদ্যমে শুরু হলো আবার খোড়াখুড়ি। ধারণা, এর পরের স্তরে  সোনার আকরিক পাওয়া যাবেই।

অবিশ্বাস্য ঘটনাটা ঘটল তখনই। আকরিক স্তরের সেই উল্টা রংধনুর তলানিতে স্বর্ণের যে স্তর থাকার কথা ছিল তা একবারে হাওয়া। স্বর্ণের খনির ভেতরে আকরিকের পরের স্তর না থাকাটাই অবিশ্বাস্য ঘটনা।

খোড়াখুড়ি চলতে থাকলো আরো অনেকদিন। আগের স্তরের লাইন ধরে এগোলো তারা। সপ্তাহ ঘুরতে শুরু করলো। সব চেষ্টাই বিফলে গেল।

হাল ছেড়ে দিল তারা।

কয়েকশো ডলারের বিনিময়ে তাদের সব যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দিয়ে ট্রেন ধরল নিজ বাড়ির দিকে। সবার মন অসম্ভব খারাপ। যিনি কিনলেন তিনি ততো উচ্চভিলাসী ছিলেন না। নিতান্তই সাধারণ গোছের মানুষ। তবে কি মনে করে কিছু প্রকৌশলীকে ডেকে খনিটা দেখালেন। প্রকৌশলীরা এই অবিশ্বাস্য ঘটনার কারণ বের করতে কিছু হিসেব করলেন। দেখা গেল আগের দল আকরিকের আস্তরের ‘ফল্টলাইন’ এর ব্যাপারে জানতেন না। ভূমিকম্প বা অন্য আস্তরের চাপে এই ‘ফল্টলাইন’ সরে যেতে পারে। হিসেব করে দেখা গেল আর তিন ফুট দুরেই ছিল সোনার স্তর। খুড়ে ঠিক তাই পাওয়া গেল। কোটি টাকা তুলে নিলেন সেই খনি থেকে।

১৪.

প্রশ্ন, এই অবস্থায় আমি ডার্বির জায়গায় হলে কি করতাম? ধারণা করছি, অনুশোচনায় বাকি জীবন পার করতাম। পাগলগারদে জীবন পার করাও  অস্বাভাবিক কিছু নয়।

বহু বছর পর জনাব ডার্বির খবর পাওয়া গেল। না, পাগল হন নি তিনি। স্বর্ণ খনি থেকে যত টাকা হারিয়েছিলেন তার অনেকগুন টাকা আয় করেছেন তার জীবনবীমা ব্যবসা থেকে। ভুলতে পারেননি এক মুহূর্তও – কি হারিয়েছিলেন মাত্র তিন ফুট দুরে থেকে। “আমি হয়তোবা সোনা থেকে তিন ফুট দুরে আটকে গিয়েছিলাম, ‘না বলা’ মানুষকে বীমা করাতে তো আমাকে আটকাতে পারবে না”, নাছরবান্দার চরম পরকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন তিনি। ডার্বি বছরেই কোটি টাকার বীমা করতেন, যাকে ধরতেন তাকে বীমা করিয়েই ছাড়তেন। বীমা কোম্পানীর উত্পত্তি হলো।

উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নতুন শিক্ষানবিশদের বুদ্ধিমত্তার সাথে অকৃতকার্য হবার পন্থা শেখায়। ফলে, বার বার, বিভিন্নভাবে অকৃতকার্য হবার ফলে কৃতকার্য হবার রাস্তা একসময় পেয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে সাফল্যের হার বাড়তে থাকে।

একটা সাফল্য আনতে অনেক ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। অনেক ব্যর্থতা যেকোনো জিনিস থেকে বের হয়ে যাবার জন্য যথেস্ট যৌত্তিকতা তৈরী করে বলে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়।

হাল ছাড়ছেন নাকি, আবার?

Read Full Post »

“A man who cannot reach a decision promptly, once he has all the necessary facts, cannot be depended upon to carry through any decision he may make.”

– Andrew Carnegie

 ৯.

গবেষণা ছাড়া কিছু করা যায়? আমার ধারণা, একেবারেই না৷ অনেক সময় শর্টকাট করে বেঞ্চমার্ক পদ্ধতি বেছে নিলেও তা আমাদের জন্য ঠিক মতো মেলে কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে৷ বেঞ্চমার্ক পদ্ধতি হচ্ছে অন্যদেরটা (পাশাপাশি জিডিপি) দেখে কপি করা, বিদেশী পরামর্শক আমাদের দেশকে ভালো ভাবে না বুঝে যখন অন্য দেশের টেমপ্লেটে ফেলে দেন৷ বিদেশী পরামর্শকের খুব একটা দোষ দেয়া যায় না, যেখানে আমরা জনবলের অভাবে রিপোর্টগুলো ঠিকমতো বুঝে নিতে পারি না৷ বিদেশী পরামর্শককে আমাদের স্টাটিসটিকাল পার্টিকুলারগুলো বোঝানোর মতো লোক নেই৷ বাংলাদেশ অনেক দেশ থেকেই অনেক আলাদা৷ আমাদের প্যারামিটারগুলো অন্য কারো সাথে মেলে না৷ যে কোনো ভালো পদ্ধতি বের করতে হলে গবেষণা প্রয়োজন৷ যত বেশী তথ্য ততো বেশী বিশ্লেষণ – সিদ্ধান্ত ততো ভালো না হয়ে যাবে কোথায়৷

১০.

কার্নেগী নিজেই গবেষনায় বিশ্বাসী ছিলেন৷ তিনি হিলকে দিয়ে সেই তত্ত্ব গবেষণা করাতে চাইলেন যার ব্যাপ্তি হবে বিশ বছরের মতো৷ কার্নেগী কিভাবে এত বড় হলেন তার ধারণা হিলকে দিলেও ওই সময়ের দুশোরও বেশী কোটিপতিদের সাক্ষাতকারের আয়োজনের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে ধারণা দিলেন৷ হেনরী ফোর্ড, প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট, রাইট ভাতৃদয়, গ্রাহাম বেল থেকে থমাস আলফা এডিসন কেউ সেই সাক্ষাতকার লিস্ট থেকে বাদ পড়েননি৷  কার্ণেগীর ধারণা, সব মানুষ বড় হবার পেছনে কিছু প্যাটার্নের মিল থাকবে যা তাদেরকে অন্য সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করে রেখেছে৷ আর এই প্যাটার্ন বের করতে পুরো যুক্তরাষ্ট্র চষে বেড়াতে হবে হিলকে৷ বিশ বছরের সেই সব তথ্যের সংকলনের গবেষণালব্ধ তত্ত্ব প্রকাশের যাবতীয় খরচসহ প্রস্তাবনা দিলেন কার্নেগী৷ কার্নেগী তার প্রগ্জ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে এই গবেষণা করাতে হিলকে পছন্দ করেছিলেন৷

১১.

হিলের লেখা “থিংক এন্ড গ্রো রিচ” এ বর্ণিত বড় বা বড়লোক হবার সুত্র কার্ণেগীর পৃষ্ঠপোষকতায় তার তত্ত্বকে আজকেও অম্লান রেখেছে৷ বইটা তখনকার সময়েরই হাজার কোটিপতি লোকের উপর পরীক্ষার ফলাফল যা পরবর্তীতেও আরো লাখো লোকের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে৷ কার্নেগী চাচ্ছিলেন এই সুত্রগুলো সবাই জানুক৷ এই ম্যাজিক তত্ত্ব যা কার্নেগীসহ অনেককে নিস্বঃ থেকে কোটিপতিতে রূপান্তর করেছে৷ কার্নেগী মূলতঃ এই জ্ঞানটা তাদেরই জন্য উন্মুক্ত করতে চাচ্ছিলেন যাদের সেই সময়ে জ্ঞান আহরণ করার সামর্থ্য ছিলনা৷ তখন এখনকার মতো ইন্টারনেট বা শিক্ষা ব্যবস্থা ছিলনা বললেই চলে৷ কার্নেগী বিশ্বাস করতেন এই তত্ত্ব ঠিক ভাবে স্কুল কলেজে পড়ানো হলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা পাল্টে যাবে৷ আর স্কুলের সময় অর্ধেকের চেয়ে কমে আসবে যার প্রতিফলন কার্নেগিমেলন উনিভার্সিটিতে পড়েছে৷

 ১২.

আমি হলে কার্ণেগীর মুখের কথা পড়ার আগেই প্রস্তাবটা লুফে নিতাম৷ তবে আমি তা আমার বর্তমান প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে বলছি৷ তবে আমার ধারণা, সেই উনিশশো আট সালে আমাকে বলা হলে আমি হয়তোবা সিদ্ধান্তহীনতায় পড়তাম৷ যুক্তরাষ্ট্র মহাদেশ চষে বেড়াতে হতো বিশ বছর ধরে৷ মোবাইল ফোন তো দুরের কথা, টেলিফোনও ঠিকমতো কাজ শুরু করেনি৷ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ভরসা করতে হতো বাস্পীয় ইঞ্জিনের উপর৷ মজার কথা, পরবর্তীতে জানা গিয়েছিলো যে হিল উনত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় তার মতামত দিয়েছিলেন৷ কার্ণেগীর জীবনী থেকে জানা গেছে যে সেটা এক মিনিটের বেশী হলেই কার্নেগী তার প্রস্তাবটি ফিরিয়ে নিতেন৷ তার মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও যে লোক সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে, তার কোনো সিদ্ধান্তের উপর ভরসা করা যায়না৷

Read Full Post »

“The starting point of all achievement is DESIRE. Keep this constantly in mind. Weak desire brings weak results, just as a small fire makes a small amount of heat.”

Napoleon Hill, Think and Grow Rich

৫.

“থিংক এন্ড গ্রো রিচ” বইটার নাম এ শতাব্দীতে কিছুটা বিভ্রান্তিকর হলেও এটা এযাবতকালের সবচেয়ে বেশী পঠিত – সার্বজনীন “সেল্ফ হেল্প” টেক্সট৷ তা না হলে, আজও পচাত্তর বছর পর এটা কিভাবে আমাজনের বেস্ট সেলারের এক নম্বর পদ ধরে আছে, সেটা একটা বিশ্বয়৷ বইয়ের টাইটেল থেকে ধনী হবার ফর্মুলা বাতলানোর ধারণা আসলেও নেপোলিয়ন হিলের ভাষ্যমতে এই নীতি ব্যবহার করে যে কোনো মানুষ যে কোনো কাজে সাফল্য বা সে যা চায় তা সে পেতে পারে৷ তার প্রমান সেই সময়কার দুইশো কোটিপতির জীবন বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন তিনি৷ পরে, আরো হাজার মানুষ কিভাবে এই ফর্মুলা দিয়ে কোটিপতি বা যা হতে চেয়েছেন তা হতে পেরেছেন, একুশ শতকের এডিশনে তা বিশদভাবে এসেছে৷

৬.

বইটার লেখক হিসেবে নেপোলিয়ন হিলের নামটা চলে আসলেও বইটা লেখার জন্য যার অবদান সবেচেয়ে বেশী, তিনি হচ্ছেন এন্ড্রু কার্নেগী৷ এন্ড্রু কার্নেগীর দর্শনশাস্ত্র বা ফিলোসফি যাই বলেন না কেনো, তার জীবন থেকে নেয়া শিক্ষাগুলো বইটাতে উঠে এসেছে৷ ইংরেজিতে “ব্যাগ (rag) টু রিচেস”  বা অতি দারিদ্র্য থেকে কোটিপতি হবার গল্প এর ব্যাক স্টোরি হিসেবে আনবো আপনাদের সামনে৷ আমেরিকান সেরা দ্বিতীয় ধনী (রকফেলার ছিলেন প্রথম) হলেও সেরা জনহিতৈষী বা ফিলানথ্রপিস্ট হিসেবে ইতিহাসের খাতায় উনার নাম এক নম্বরে৷ আমেরিকার সবচেয়ে বড় স্টিল ইন্ডাস্ট্রীজের মালিক হয়েও উনার প্রায় সমস্ত সম্পত্তি বিলিয়ে দিয়েছিলেন আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও আরো কয়েকটা দেশের স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরী আর ইউনিভার্সিটির পেছনে৷ কার্নেগী পরে তার ইস্পাত সাম্রাজ্য বিক্রি করে দেন জেপি মর্গানের কাছে যারা পরে সেটাকে “ইউএস স্টিল” হিসেবে নাম দেন৷ মৃত্যুর পরে হিসেব করে দেখা যায় প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার উনি বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে গেছেন৷ বইটার একটা বড় অংশ লেখক এই কার্নেগী সাহেবের জীবন থেকে নিয়েছেন৷

৭.

উনিশ শতকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে মন্দা অর্থনীতির মাঝে নেপোলিয়ন হিল একটা পত্রিকা অফিসে কাজ নিয়েছিলেন৷ যদিও একাজ থেকে ওরকম পয়সাপাতি না পেলেও তার কাজের ধারাটা ছিলো একেবারেই অন্য রকমের৷ অল্প বেতনের চাকুরী হলেও এটা যেকোনো বুদ্ধিমান মানুষের না বলাটা বোকামি হতো৷ একটা হিসাবে দেখা গেছে, আপনি যাদের সাথে সবসময় ওঠাবসা করেন তাদের কাছাকাছি আয় করবেন আপনি৷ কারণ, আপনার আশেপাশের মানুষের চিন্তাধারা প্রতিনিয়ত আপনার মানসিকতাকে পাল্টাতে থাকে৷ আপনার আশেপাশের লোকজন যেকোনো পেশার হলেও আপনার আয় তাদের থেকে কম হবার কথা নয়৷ বিশ্বাস না করলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন৷ মানুষের সাফল্যগাথা জীবন নিয়ে লিখতে লিখতে সেসময়ের প্রায় সব শিল্পপতিদের সাথে কথাবলার যোগসূত্র করে দিয়েছিলো তার এই কাজটি৷ এর ফলে যুক্তরাষ্টের ইস্পাত সাম্রাজ্যের নির্মাতার সাথে দেখা হতে সময় লাগেনি হিলের৷ সেইসময়কার এই কোটিপতি এন্ড্রু কার্নেগী পরবর্তীতে হিলের মেন্টর হয়েছিলেন৷

 ৮.

 হিলের সাথে কার্ণেগীর যোগসূত্র পত্রিকার সেই আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতকারের পর থেকে৷ হিলের যেকোনো বিষয়ের ভেতরে যেয়ে উপলব্ধি করার ক্ষমতা কার্নেগীকে হিলকে তার সাম্রাজ্যে নিমন্ত্রণ করতে বাধ্য করেছিলো৷ পরের দুদিন হিলের জীবন পাল্টে দিয়ে ছিলো৷ কার্নেগী হিলকে বোঝাতে পেরেছিলেন যে সাধারণ যে কোনো মানুষ বড় হতে পারে, মানুষের চিন্তা করার সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষকে আটকে রাখে বড় হওয়া থেকে৷ বড় হবার নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি ঠিকমতো আয়ত্তে আনতে পারলে মানুষ যেকোনো জিনিস করতে পারে, সবচেয়ে বড় ধনী হবার পদ্ধতি এর বাহিরে কিছু নয়৷ “লজ্জার কথা” কার্নেগী বলছিলেন, “বড় হবার পদ্ধতিগুলো অনেক সুস্পষ্ট হলেও প্রতিটি নতুন প্রজন্মকে – প্রতিবার অনেক ভুল শুদ্ধ পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়৷”

Read Full Post »

There are no limitations to the mind except those we acknowledge.

১.

আমিও তাই চিন্তা করেছিলাম৷

এই বই পড়ে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না৷ পচাত্তর(ভুল নয়!) বছর আগের লেখা বইয়ের আবেদন এসময়ে না থাকাটাই স্বাভাবিক৷ আবার, ধনী হবার ফর্মুলা নিয়ে বইয়ের গল্পগুলো ওই দেশের আর্থসামাজিক ভিত্তিতে কাজ করলেও সেগুলোর সাথে বাংলাদেশের সমীকরণ বেশ আলাদা৷

রাস্তা ঘাট, ফুটপাথ আর ট্রাফিক সিগনালে প্রচুর বই দেখছি প্রতিদিন৷ “ধনী হবার একশো-এক উপায়” ধরনের বইয়ের ছড়াছড়ি ছিলো একসময়৷ বর্তমানে এটা যে খুব পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না৷ তবে এই ধরনের বই অভিজাত বইয়ের দোকান থেকে হারিয়ে যাচ্ছে৷ আর হারাবেই না কেন? খোদ বইয়ের দোকানই হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে৷

২.

বইয়ের নাম নিয়ে বিভ্রাট এই প্রথম নয়, তবে এবার কানের কাছ থেকে বাঁচিয়ে দিলেন ওয়াজেদ “রজার” সালাম৷ তার সেমিনারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের ক্যাডেট কলেজের সিনিয়র ভাই৷ অনলাইনে বুকিং দেবার পর জানলাম ছুটির দিনে সেই ভোর সকাল থেকেই উনার সেমিনার৷ সেই ভোরে যাবার পর বুঝলাম, এই ভোরে যাবার ব্যাপারটাও উনার বক্তৃতার অংশ ছিলো৷ ছুটির দিনে অত সকালে তারাই আসবেন যারা নিজেদের জীবনকে পাল্টে দিতে চাইবেন৷ অন্তত, আমারটা পাল্টে গিয়েছে৷

আমাদের দেশে পার্সোনাল মোটিভেশন সেমিনারের অত চল এখনো শুরু না হলেও, উন্নত দেশগুলোতে কোম্পানিগুলো নিজের গাটের পয়সা খরচ করে তাদের ওয়ার্কফোর্সকে তৈরী করে নেয়৷ এছাড়া, নিজেদের প্রয়োজনে অনেকে এধরনের সেমিনারে যেয়ে নিজেদের জীবন পাল্টে নিয়ে আসেন৷ আপনি চাইলে আপনিও পারবেন৷ মানুষ মাত্রই পারেন৷

৩.

আমার টুইটার বন্ধুরা অনেকবারই জিজ্ঞাসা করেছেন এই বইটার ব্যাপারে৷ সময় পেলেই এই বইটার “কোট” টুইট করতাম৷ “মানুষ যা কল্পনা বা বিশ্বাস করতে পারে, তা মানুষ করতে বা পেতে পারে” এই মূলমন্ত্রের উপরে বইটা এগিয়েছে৷ উনিশশো-সাইত্রিশ সালে লেখা৷

বিশ্বাস বা কল্পনাশক্তি সেই জিনিসটাকে আগে থেকে দেখাতে পারে যা বাস্তবে এখনো অনুপস্থিত৷ যে জিনিসটা আজকে নেই সেটাই আগে থেকে দেখা সম্ভব৷ মানুষ চাদে যাবার কল্পনা করেছিলো বলেই চাদে যেতে পেরেছে৷ আজকে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স এখানে দাড়িয়ে আছে কারণ দশ বছর আগে কেউ সেই মাটিতে দাড়িয়ে পুরো কমপ্লেক্সটি কল্পনা করেছিলেন৷ সৃষ্টিকর্তা শুধুমাত্র মানুষকেই কোনো জিনিসকে আগে থেকে দেখার ক্ষমতা দিয়েছেন৷ একমাত্র মানুষই পারে সেটা তৈরী করতে বা পেতে, যা তার কল্পনায় নিয়ে এসেছে৷ আজকে আপনি যদি নতুন একটা ফ্লাটের সামনে দাড়িয়ে চিন্তা করেন যে, পাচ বছর পর এটা আপনার হবে, তাহলে সেটা আপনারই হবে৷ সেটার সমীকরণ নিয়ে আরেকদিন আসবো৷

মানুষ যেটা করতে পারছে না, সেটার সীমাবদ্ধতাটা তার নিজের মনের মধ্যে তৈরী করে রেখেছে সে৷ সে সেটা পারছে না কারণ সে নিজেই না করতে পারার ধারণা নিয়ে বসে আছে৷ আমার জীবনেও আমি যা করতে চেয়েছি, তার প্রায় সবটাই করতে পেরেছি৷ সেটার জন্য এই বইটা পড়তে হয়নি, তবে, বইটা পড়ে ধারনাটা আরো স্ট্রাকচারড হয়েছে৷ একটা জিনিস পরীক্ষা হয়ে যাক৷ আপনার কয়েক বন্ধু নিয়ে নতুন কেনা জমিতে আপনার বাসাটা কিভাবে বানাবেন তা দেখাতে নিয়ে গেলেন৷ আমি নিশ্চিত যে, আপনার দেখানোর এক পর্যায়ে আপনার বন্ধু দরজায় হোচট খেয়ে সরি বলবেন৷ মানুষই পারে কল্পনার জিনিসকে আসলের মতো করে দেখতে৷ আর, মানুষের পক্ষেই কোনো একটা জিনিস শুরু করার আগেই শেষ করা সম্ভব৷

৪.

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বই সরবরাহকারীর বেস্টসেলিং ক্যাটালগ দেখলে নিত্য নতুন সব বইয়ের খবর পাওয়া যায়৷ কিন্ডল স্যাম্পল দিয়ে বেশ কয়েক চ্যাপ্টার বই না কিনেই পড়া যায়৷ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যতবারই এসেছি ততবারই ব্যাগের সবকিছু ফেলে বই ভর্তি করে নিয়ে এসেছি৷ এখন কিন্ডলের যুগে ওই দেশে যাবারও দরকার পরছে না৷ বোনের দেয়া কিন্ডলে ভাই কানাডা খেকে পয়সা ভরে দিলে বাসায় বসে যেকোনো বই পড়া যায়৷ কিন্ডলের সুবাদে আজকে এই লেখার অবতারণা৷ আমি খুব একটা অবাক হইনি, তবে পচাত্তর বছর আগের বই কোনভাবেই বেস্ট সেলারের এক নম্বর জায়গাটা ধরে রাখার কথা নয়৷

এই বইটার সাথে আমার একটা সিরিজ লেখার আশা করছি৷

amazon স্ক্রীন শট

আমাজনের বেস্ট সেলিং লিস্টে আজকের টপ চার্টার, আর এই বইটা পাশ কাটিয়েছে আপনার? পচাত্তর বছরে আগে লেখা এই বই৷

Read Full Post »

%d bloggers like this: