Feeds:
Posts
Comments

Archive for June, 2013

“If you tell the truth, you don’t have to remember anything.”
― Mark Twain

১০.

সবুজ রঙের এই জীবটাকে পছন্দ না করে যাব কোথায়? ছোটবেলা থেকে এর হাসিমুখের ছবিওলা বই দেখতে দেখতে ভালোবেশে ফেলেছি আমার বাচ্চাদের মতোই। বাবা, ব্যাঙের গল্পটা বলতো আরেকবার! গল্প শুরুতেই বাঁধা, ব্যাঙের নামটা কি ‘নাবিল’ বাবা? কার্টুনিস্টরাও এই ব্যাঙের ছবিগুলোও মনের মাধুরী মিশিয়ে চোখগুলো বড় বড় দিয়ে এমনভাবে আঁকেন – একে না ভালোবেসে যাবেন কোথায়। বাসায় সবগুলো ব্যাঙের খেলনা বাচ্চাদের পাশাপাশি আমারও বড় প্রিয়। তবে আমার ধারণা, হাসিমুখ এর সবচেয়ে বড় ফিচার! হাসিমুখ দেখতে ভালোবাসি আমরা সবাই। ‘জে লেনো’ শো দেখার সময় হাসতে হাসতে পেটে খিল বেঁধে গেলেও লেনোর মুখের একটা রেখার পরিবর্তন না হওয়াটা আর্টের মধ্যে পড়ে। মিরাক্কেলের রেটিংও বাড়ছে দিন দিন। কমেডি শোগুলো দেখার জন্য ষ্টারওয়ার্ল্ডের পাগল আমি আর স্বাতী। বিগ ব্যাং থিওরি! মডার্ন ফামিলি? টু এন্ড হাফ মেন?

১১.

তবে পৃথিবীকে হাস্যরস শিখিয়েছেন কিন্তু মার্ক টোয়েন। এমনই ব্যঙ্গকৌতুক করেছেন যে তার আসল নামই ভুলে গেছে মানুষ! মার্ক টোয়েন হচ্ছে তার ছদ্দনাম, আসল নামে আর নাই বা গেলাম। তার ছদ্দনামের পেছনে যে চমত্কার দুটো গল্প আছে – সে দিকে যাবো কি আজ? টোয়েনের কলাম লেখার উপরে চলতো পত্রিকার কাটতি। ভয়ে থাকতেন সবাই টোয়েনের কলম আক্রমনের ভয়ে। বক্তৃতা দিয়ে বেড়াতেন বিভিন্ন জায়গায়, পয়সার বিনিময়ে – তার ট্রান্সক্রিপ্ট মানুষ পড়েন এখনো। আমেরিকার সবচেয়ে বড় হাস্যরসের পুরস্কারটার নামও মার্ক টোয়েনের নামেই। দুহাজার নয়ে পুরস্কারটা পেয়েছিলেন বিল কসবি, চেনেন না মনে হচ্ছে? টিনা ফে, আরে ওই থার্ড রকের মেয়েটা, গালে কাটা দাগ – এই সর্বোচ্চ পুরস্কারটা পেয়েছেন দুহাজার দশে!

১২.

হেইলির ধুমকেতুর সাথে এসেছিলেন মানে জন্মেছিলেন টোয়েন। ফিরে না আসার দেশে যাবার ব্যাপারে তার ভবিষ্যত্দ্বানী মিলে গিয়েছিলো অদ্ভুতভাবে। পরের দশকে হেইলির ধুমকেতু যেদিন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছ ঘেষে যায়, তার পরের দিনই চলে যান টোয়েন। উনিশশো নয় সালের তার বক্তব্য থেকে শুনবেন নাকি একটু? বাংলা ভাবানুবাদে কিছু রস এদিক সেদিক হবার ভয়ে সরাসরি তুলে দিলাম কিন্তু! টোয়েনের কথা বলে কথা!

“I came in with Halley’s Comet in 1835. It is coming again next year, and I expect to go out with it. It will be the greatest disappointment of my life if I don’t go out with Halley’s Comet. The Almighty has said, no doubt: ‘Now here are these two unaccountable freaks; they came in together, they must go out together.”

১৩.

মার্ক টোয়েন ব্যাঙকে ভালবাসতেন কিনা বুঝতে পারছিনা – তবে ধারণা করছি ব্যাঙ খাদ্য হিসেবে সুস্বাদু বটে। তা না হলে সকালে ব্যাঙ খাওয়ার কথা উঠবে কেন তার লেখায়? সকালে প্রতিদিন বড় কোনো কিছু করার আগেই ব্যাঙ খেতে বলেছেন, তাও আবার একেবারে জ্যান্ত। পাগল নাকি? ব্যাঙের ভাজাভাজি চলবে কিনা জানি না – জ্যান্ত অসম্ভব! এর মধ্যে পয়দা হলেন ব্রায়ান ট্রেসি নামের আরেক ভদ্রলোক, আছেন এখনো জ্যান্ত! বই লিখেই কোটিপতি এই লোক। বইয়ের নাম ‘ইট দ্যাট ফ্রগ’, মানে খেয়ে ফেলতো বাবা ব্যাঙটাকে! ব্যাঙের পা রপ্তানি হয় শুনেছি – জ্যান্ত খাওয়ার কথা বলেনি তো কোথাও। কোথায় যেনো আবার বলেছে যে সকালে জ্যান্ত জিনিসটা খেলে নাকি সারাদিন কাটবে ভালো। ব্যাঙটা না হয় কোনো রকমে জিহবা পার করে চালান করে দিলাম গলায়, জ্যান্ত জিনিসটা যাবে কি আসলে? চিন্তার বিষয় বটে।

ওমা, বলছো কি? আমাকে খাবে তুমি?

ওমা, বলছো কি? আমাকে খাবে তুমি? চিন্তায় ফেলে দিলে। 

১৪.

বলুন, পৃথিবীর কোন জিনিসটা আপনার আর আমার জন্য সমান? ভ্রূ কুঁচকে তাকালেন। জি, ঠিক বলেছেন – সময়। আইনস্টাইনের সময়ও ছিলো এই চব্বিশ ঘন্টাই, তার বেশি নয়। আমার অফিসের যাকেই জিজ্ঞাসা করি ‘আছেন কেমন ভাই’ জবাবে দীর্ঘস্বাস, সময় পাচ্ছি না! বর্তমান সময়ের সবচেয়ে অনুযোগের বিষয় হচ্ছে সময় করতে না পারার কথা। ডাক্তারের কাছে যাবার কথা, সময় করতে পারছেন না সপ্তাহ ধরে। যাবার কথা বন্ধুর বাসায়, সময় কই? দরকারী কয়েকটা কাজ পড়ে রয়েছে অনেকদিন ধরে – যেতে পারছেন না সেই দোকানে। সময় বের করতে পারছেন না বলে পিএইচডি প্রোগ্রামে এনরোলমেন্টটাই হচ্ছে না বছর ধরে। সময় বের না করতে পারাটাই হচ্ছে এযুগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আসল কথা হচ্ছে সবকিছু করতে চেয়েই হচ্ছে না কিছু। দিব্ব্যি দিয়ে বলতে পারি বর্তমানের স্মার্ট মানুষেরা সবকিছু করতেও চান না কিন্তু। সময়কে ম্যানেজ করেন, প্রায়োরিটি করে আগান – সবকিছুতে। জি!

১৫.

সময়গুরু মার্ক টোয়েন কিন্তু সমস্যাটার টের পেয়েছিলেন তার সময়েই। ব্যাঙটা হচ্ছে আসলে সেদিনের সবচেয়ে বড় কাজটা। মানুষের সবচেয়ে বাজে অভ্যাস হচ্ছে বড় কাজ পাশ কাটিয়ে সহজ কাজ দিয়ে দিনের বউনি করা। উদাহরণে চলে যাই বরং। সকালে লিস্টি করলেন দশটা কাজের – সারাদিনের জন্য। আমি হলফ করে বলতে পারি সবগুলো মানে কাজ দশটা গুরুত্ব সহকারে প্রায়োরাটাইজড করলেই দেখা যাবে প্রথম দুটাই সবগুলোর আশিভাগ অংশ। এটা আমার জীবন থেকে নেয়া। নিশ্চিত করে বলতে পারি সারাদিনের জন্য রাখা কাজগুলো শেষ করতে পারবেন না সেদিনের মধ্যে – কখনোই না। আর এটাই স্বাভাবিক বলে ধরে নিতে হবে। আজকের যুগ হচ্ছে প্রায়োরাটাইজের স্বর্ণযুগ। প্রতিদিনের কাজের লিস্টি বানাবেন আগের রাতে। ধরে নিচ্ছি ঠিক করেছেন কাজ দশটা – কালকের জন্য। প্রথম থেকে ছয়টা করতে পারলেও আমাকে পায় কে! প্রায়োরিটি করলে দেখা যাবে শেষের চারটার গুরুত্ব সবগুলো কাজের মাত্র বিশ ভাগ। নিশ্চিন্তে ফেলে দেন ওই বিশ ভাগকে। প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারেবলসের মধ্যে আমাদের অর্জন আসে তখনি যখন পাশ কাটাতে পারি কম গুরুত্বের কাজগুলোকে।

১৬.

আগেই বলেছি জ্যান্ত ব্যাঙটা কিন্তু দিনের সবচেয়ে বড় ও ঝামেলার কাজ। আর ওটাকেই সকাল সকাল খেয়ে ফেলতে পারলে মানে ওই কাজটা করতে পারলে ওর মতো মানসিক তৃপ্তি আর পাওয়া যাবে না কখনো। ফলে অন্য কাজগুলো করার স্পৃহা যাবে আরো বেড়ে। গুরু টোয়েন বলেছেন যে জ্যান্ত ব্যাঙ সকালে খেলেই সারাদিন ওর চেয়ে খারাপ কিছু হবে না ভেবেই সারাদিন মন থাকবে ফুরফুরে। আর বড় কাজ শেষ করার যে তৃপ্তি পাওয়া যায় তা দেখতে আসতে হবে আমার অফিসে। চায়ের দাওয়াত রইলো কিন্তু। বিজ্ঞানীরাও বলেছেন বড় আর জটিল কাজ শেষ করার তৃপ্তিতে বেশি করে নিঃসৃত হয় ‘এন্ডরফিনস’| মন ভালো হয়ে যাওয়ার রাসায়নিক যৌগ এটা। এন্ডরফিনসের গল্প আরেকদিন।

১৭.

এযুগের সময়(জ্ঞান)গুরু ব্রায়ান ট্রেসি ব্যাঙ বাবাকে নিয়ে এগোলেন আরেক ধাপ। দেখছেন ব্যাঙয়ের গুরুত্ব গেছে কোথায়? “খেতেই যদি হয় দুটো ব্যাঙ তোমাকে, কুত্সিত মানে বিশ্রী চেহারারটা খাবে আগে।” বলে কি ব্যাটা! কিন্তু টোয়েনের ভাষায় ঠিক আছে কিন্তু। সকালে সবচেয়ে বড় ঝামেলাটা খাওয়ার মতো সাহস থাকলে সারাদিন আপনাকে টলাতে পারবে না কিছুই। ঝামেলা দেখলেই পিছুটান দেবার অভ্যাস থাকলে ওকাজ শুরু করতে পারবেন না কখনোই। বিশ্রীটা খেয়ে অভ্যাস করুন। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন সেই ঝামেলাটাকে। গত বছরগুলোতে সকালে কুত্সিতটা খেতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় আমার ডেলিভারেবলস নিয়ে কষ্ট নেই আর। বছরের কাজ নামিয়ে দেবো তিন মাসে, দিয়ে দেখুন না।

১৮.

কাজ শুরু করতে হবে তখনি কিন্তু। যেটা করতেই হবে সেটার জন্য সময়ক্ষেপন করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ট্রেসি শেষ চালটা মারলেন নিষ্ঠুরের মতো। “খেতেই যদি হয় জ্যান্ত ব্যাঙ বাবাজিকে, ওর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে মায়া বাড়ানোর মানে হয় না কোনো।” ব্যাটার মায়া দয়া মনে হচ্ছে কম। যাকে খাব তার জন্য চোখের পানি না ফেললে কেমন হয়? বাঙালির মায়াদয়া বুঝবে কি ওরা? বেকুব!

ব্যাঙ খাচ্ছেন তো সকালে? নিয়মিত?

Advertisements

Read Full Post »

“The future lies with those companies who see the poor as their customers” — C. K. Prahalad in his book The Fortune at the Bottom of the Pyramid

৪.

শব্দটা টেক্সটবুকে পড়লেও এর পর স্মৃতি থেকে সেটা মুছেই গিয়েছিলো প্রায়। ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হয়ে ইংরেজিতে ভর্তি হবার ভিমরতি ধরেছিলো আমার। আমাদের সময় এটাকে ভিমরতি হিসেবে ধরা যায় বৈকি। বাবা মা যেখানে ভর্তি হতে বলবেন সেখানেই সই! মিলিটারি একাডেমির রেজাল্ট আগে আগে হয়ে যাওয়াতে অন্য অপশনগুলো আসলো কমে। এক বন্দী জীবন থেকে আরেক বন্দী জীবনে যেতে মন দিচ্ছিলো না সায় – একেবারে। তবে স্বভাবতই ছাড় দিতে হয় বাড়ির বড় ছেলেকে। একাডেমিতে সামরিক বিষয়ের পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েশনের বিষয় বেছে নেবার সময় ভীষণ বকা খেলাম প্লাটুন কমান্ডারের কাছে। বিশটা কোমলমতি ছেলেকে কাঁদামাটি থেকে কষ্টসহিষ্ণু করে বানানোর পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে সহানুভূতি বাড়ানোর এই শিক্ষক ছেলেগুলোকে আগলে রাখেন প্রতিটা পদে। ভবিষ্যত নেতৃত্ব দেবার হাজারো কৌশল দিয়ে মানুষ তৈরী করার এই প্যাকেজে দুবছরের জন্য তাদের জীবন দেন সঁপে। মেট্রিক আর ইন্টার-মিডিয়েটের বিজ্ঞান থেকে সরাসরি অর্থনীতি, মানতে পারছিলেন না প্লাটুন কমান্ডার নিজেই। মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলাম। কি মনে করলেন তিনি, ছেড়ে দিলেন সে যাত্রা। সারা দিন হাজারো কষ্টের মধ্যে অর্থনীতিকে ভালো লাগতে লাগলো প্রথম থেকেই। সেখানেই শুনলাম শব্দটা, ‘বটম অফ দ্য পিরামিড’| মন খারাপ করে দেবার জন্য যথেষ্ট।

৫.

চার বছর আগে জাপানে একটা প্রেজেন্টেশন দেবার আগে পূর্বপরিচিত আইটিইউ’র এক সহকর্মীর কাছে মতামত চাইলাম কয়েকটা স্লাইডের উপর। আমার দেশের সাথে বাকি দেশগুলোর তথ্যের সামঞ্জস্যতা দেখার জন্য মতামত নেয়া।

চমত্কার স্লাইড বানিয়েছ বন্ধু। এর উপর মতামত দেবার কোনো যোগ্যতাই রাখি না আমি। আ(হ)ইকা(হ)র লাজুক স্বাভাবিক জাপানি উত্তর।

বন্ধু, জাপানি খোলস ছাড়োতো বাবা। কোন ডাটাটা বাদ পড়েছে সেটা বললেই হবে। দুপুরের লাঞ্চটা আমার উপর কিন্তু, আইকা।

তোমাকে দিয়ে হবে না, বুঝেছ হাসান। আইকা নয়, বলো ‘ভালবাসার গান’| দরজা থেকে লিয়ানির কথায় মাথা ঘোরাতেই হলো।

আইকা নামের ইংরেজি অর্থ আগেই জানিয়েছিলো আমাদের এই ইন্দোনেশিয়ান সহকর্মী। হাসলো চোখ নাচিয়ে আইকা, অসাধারণ ভুবনমোহিনী হাসি। গালে একটা টোলও ফেলে দিয়েছে সে। চোখ সরিয়ে নিলাম – কিছুটা জোর করেই। মরবো নাকি?

পাগল নাকি, আমি তোমার হোস্ট। লাঞ্চের টাকা বের করেছ তো মরেছ।

৬.

স্লাইড পর্যালোচনার একটা বড় দুর্বলতা পেয়ে গেলাম কিছুক্ষণের মধ্যে। বলতেই চাইছিলো না সে। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছে। এই তিনশো কোটি মানুষের মধ্যে বাংলাদেশে যারা আছে তাদের জন্য কিছু করা করা হয়েছে কিনা? চলে আসলো আবার ‘বটম অফ দ্য পিরামিডের’ কথা। পিরামিডের সবচেয়ে নিচের মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তনে কিছু করা হয়েছে কিনা? যাদের সামান্য মোবাইল ফোন কেনার সামর্থ্য হয়নি এখনো। সস্তা কল রেট বলে লাভ হচ্ছে না কারণ তার তো নেই ফোন। তার মানে হচ্ছে এক্সেস ইস্যু। যোগাযোগ করার যন্ত্রটাই নেই। পল্লীফোনে কিছুটা সমস্যা মিটলেও হাতের কাছে ফোন না থাকার কারণে ইকোনমিক একটিভিটি কমতে বাধ্য। ভিক্ষুক আমি, কাল হাট বসছে কোথায় – কোথায় জনবসতি বেশি, তার তথ্য আরেক ভিক্ষুক বন্ধুর কাছ থেকে পেলেই তো আয় বাড়বে আমার, আর একটু আয় বাড়লেই ভিক্ষা ব্যবস্যা বাদ, ভালো কিছু করবো আমি। আমার বিগ ডাটা এনালাইসিস বলে দারিদ্রসীমার নিচে থাকা কোনো মানুষের কাছে আঠারো মাস মোবাইল ফোন থাকলেই সে পিরামিডের নিচ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য।

৭.

আমাদের দেশে কেন, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষ লক্ষ মানুষকে দেয়া হয়েছে মোবাইল ফোন বিনামূল্যে – উনিশশো পঁচাশি সাল থেকে। ইউনিভার্সাল সার্ভিসের আওতায় গরীবমানুষগুলোর বাসায় ল্যান্ডলাইনের পাশাপাশি হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে মোবাইল ফোন – মাসে দুশো পঞ্চাশ মিনিটের টক্ টাইম সহ। ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন মানে এফসিসি, আমাদের বিটিআরসির মতো শুধুমাত্র গত বছরেই একশো ষাট কোটি ডলার খরচ করেছে ফোন কেনার পেছনে। এক কোটি পঁচিশ লক্ষ মোবাইল একাউন্ট ভরেছে টক্ টাইম দিয়ে। ঘুরে আসুন না এফসিসির লাইফলাইন প্রোগ্রামের সাইট থেকে। টেলিকমিউনিকেশনস রেগুলেটরি এজেন্সীগুলো দায়বদ্ধতা থেকে সরকারের ইউনিভার্সাল এক্সেস দেবার জন্য চেষ্টা করছে – ফলশ্রুতিতে তৈরী হয়েছে ইউনিভার্সাল সার্ভিসেস ফান্ড। প্রতিটা মানুষকে টেলিযোগাযোগ সুবিধা প্রদান করার দায়িত্ব সরকারের উপর পড়ে বলে ইউনিভার্সাল এক্সেস কথাটি এসেছে। যুক্ত করো সবাইকে। পয়সা আসবে কোথা থেকে? এর জন্য তৈরী করা হয় এই ফান্ড। সরকার, অপারেটর (যাদের বিজনেস কেস নেই সবাইকে যুক্ত করার) মিলে তাদের আয়ের কিছু অংশ চাঁদা দিয়ে (বাংলাদেশে এটা প্রায় এক শতাংশ) পিরামিডের নিচের মানুষকে যুক্ত করার চেষ্টা চালায়।

৮.

ধরে নিলাম নীলফামারীর ডোমার এলাকার কথা। পিরামিডের নিচের মানুষকে সনাক্ত করে যুক্ত করতে (হোক সেটা ল্যান্ডলাইন বা মোবাইল ফোন) গিয়ে পাওয়া গেলো আঠারো হাজার লোকের নাম। যোগ করা হলো দুবছরের সংযোগমুল্য এর সাথে। প্রতি মাস তিনশো মিনিট। এর মধ্যে হাসপাতাল বা সরকারী কাজে কল করা, চাকুরী খুঁজতে যে কলগুলো করা হবে – সেগুলো বাদ। ডাকা হলো সব অপারেটরদের (সরকারী বা বেসরকারী), যাদেরকে আমরা বলছি সরকারের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার। রিভার্স মানে উল্টা অকশনে [যার প্রতি ডাকে দাম কমে] এই আঠারো হাজার লোককে যুক্ত করতে অপারেটর ‘ক’ ডাক দিলেন পঞ্চাশ লক্ষ। অপারেটর ‘গ’ বললেন তিরিশ। আরেকজন বললেন পনেরো। স্মার্ট অপারেটর শেষে ডেকে বসলেন শূন্য টাকা। বলে কি? আপনার মাথা খারাপ! ডাকলেন তার বিজনেস কেস নিয়ে।

ক. তার ফোন তৈরী খরচ তিনশো টাকার নিচে। ডিসপ্লে ফেলে দিয়েই বাঁচালেন দুশো টাকা। খেলনা গাড়ির ভয়েস সিন্থেসাইজার, যা দিয়ে গাড়ি চললেই গান শুনি আমরা – লাগালেই কোন নম্বর থেকে কল আসছে তা বলে দেবে গড়গড় করে। সেভেন সেগমেন্ট এলইডি ডিসপ্লে তো মারা যায়নি এখনো।

খ. সিম ট্যাক্সএর তিনশো টাকা কমে আসবে যখন সিমের তথ্য এমবেড করে দেয়া হবে এর মেইনবোর্ডের সাথে। ছোটখাটো যন্ত্রে মেকানিকাল পার্টস যেমন সিম ঢোকানো আর বের করার অংশ ফেলে দিলে বাঁচবে একশো টাকার মতো। সারা জীবনের জন্য এক নম্বর, অসুবিধা কি? পিরামিডের নিচ থেকে বের হলেই মোবাইল নম্বর পোর্ট করে চলে যাবে অন্য অপারেটরে।

গ. তিনশো মিনিটের বেশি কল না করলে অপারেটরের রেভিনিউ কিছুটা কমবে। আবার প্রতিটা মিনিটের আঠারো পয়সা পাবে কিন্তু অপর অপারেটর। জরুরী নম্বর (পুলিশ স্টেশন বা হাসপাতাল) ছাড়া বাকি কলগুলো করার আগে শুনতে হবে পনেরো সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন, অসুবিধা আছে আপনার? এরপর আড়াই বা তিন মিনিটের কল ফ্রি! কলিং কার্ডের মতো শর্টকোডে ডায়াল করলেই ডেস্টিনেশন নম্বর দিতে বলবে সিস্টেম, ডায়াল করবেন নম্বর – পনেরো সেকেন্ড শুনবেন ‘স্বপ্নে’র বিজ্ঞাপন – এরপরেই হবে আপনার কাংখিত নম্বরে ডায়াল। দুহাজার সালে নিউ ইয়র্কে ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম বিনামূল্যে। আইএসপি ছিলো নেটজিরো, আর ছিলো কাস্টম ব্রাউজার, এক তৃতীয়াংশ জায়গায় বিজ্ঞাপন খাও আর বাকি দুতৃতীয়াংশে করো ব্রাউজ – বিনামূল্যে। মানে, বিজ্ঞাপনদাতাই দিয়ে দিচ্ছে আপনার ইন্টারনেটের বিল। খুশি সবাই।

ঘ. টেলিকম অপারেটরদের (দেশী বিদেশী সবাইকে) বানাতে হবে দেশের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার। এয়ারলাইন্স ইন্ডাস্ট্রির মতো অপারেটরদের তৈরী করতে হবে এলায়েন্স। একসময় এই ইন্ডাস্ট্রি বসেছিলো ডুবতে, পরে তারা নিজেদের মধ্যে এলায়েন্স করে হাতে হাত ধরে টেনে দাড়া করিয়েছে বাকি সবাইকে। কাস্টমার বিগডাটা, যা আসলেই অনেক খরচের ব্যাপার – নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে লাভের মুখ দেখছে তারা। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান কমিশনে অপারেটরদের খরচ কমাতে এধরনের পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। অস্ট্রেলিয়ার মতো একটা এনবিএন যা একটা ‘ভাগাভাগি’ মডেলের ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছে সব প্রোভাইডারদের মধ্যে – তাদের ক্যাপেক্স আর অপেক্স কমাতে বাধ্য। সবকিছু করতে হবে কেন একজনকেই? আউটসোর্সড মডেল কাজ করছে চমত্কার – অনেক জায়গায়।

ঙ. দুর্যোগের সময় ভিজিএফ (ভাল্নারাবল গ্রুপ ফিডিং) লিস্ট ধরে খাদ্যবস্ত্রের পাশাপাশি একটা ফোন যে কতো কাজের তা হাইতির বিগডাটা এনালাইসিস দেখলে যায় বোঝা।

৯.

একটা যোগাযোগের মাধ্যম মানুষকে কতটা সাহায্য করে তা বোঝানোর জন্য লিখতে বসিনি আমি। আমাদের মাল্টিসিম পরিবেশে মানে অনেকের কাছেই কয়েকটা করে সিম থাকার পর কানেকশন ছিয়াত্তর শতাংশ হলেও বিগ ডাটা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে মানুষ ভিত্তিক মোবাইল পেনিট্রেশন হচ্ছে বিয়াল্লিশ শতাংশ। মানে, আরো প্রায় ষাট শতাংশ জনগনের কাছে যোগাযোগের সরাসরি কোনো মাধ্যম নেই এখন।

ফিরে আসি আবার সেই বটম অফ দ্য পিরামিডের কাছে। টেলিডেনসিটি বাড়াতে হলে এই ষাট শতাংশের এক বিশাল অংশের হাতে তুলে দিতে হবে যোগাযোগের মাধ্যম, বিনামূল্যে। বাকিটা আসবে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্যা থেকে।

আছে নাকি নতুন কোনো বিজনেস প্ল্যান?

বিজনেস প্ল্যান নিয়ে কি আসব সামনে? নতুন কিছু?

Read Full Post »

“Excellence is not a skill. It is an attitude.”

– Ralph Marston

১.

কাডেট কলেজে পড়ার সময় বছর প্রতি ক্রস কান্ট্রি দৌড়ের কথা মনে পড়ে প্রায়ই। মধ্যম গ্রুপের যারা আমরা; প্রথম হবার বাসনা ছিলনা কখনোই যাদের, ক্রস কান্ট্রি রুট ব্রিফিং শুনতামও না ঠিক মতো। দাড়িয়ে থাকতাম পেছনে – দৌড় শুরু হবার অপেক্ষায়। ধারণা এমনটাই যে – প্রথম গ্রুপের যারা, তাদেরকে ফলো করলেই তো হলো ঠিক মতো। এ আর কি? যারা ‘ঘোড়া’ হিসেবে পরিচিত তাদেরকে নিয়েই এডজুটেন্টের যতো চিন্তা ভাবনা। রুট পরিচিতি বার বার হতো তাদেরই জন্য। তখন সমস্যা ছিলো না জীবন মরণের। আসতে পারলেই হলো। পেছনে আসার পর তিরস্কার – এতো আর নতুন কিছু নয়।

২.

মিলিটারি একাডেমীতে এসে এর আইডিয়া গেলো পাল্টে। দৌড় আর বন্ধুত্ব এগোলো সমান তালে। মানে সমান দূরত্বের জন্য প্রতিনিয়ত সময় কমতে থাকলো দ্রুত – বন্ধুত্ব পাল্লা দিলো তার সাথে। বিভিন্ন দুরত্বের মাইল টেস্ট দেবার সময় নতুন ঘোড়া বন্ধুরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল বন্ধুদের সাহায্য করার পদ্ধতি বের করে ফেললো এর মধ্যে। প্রত্যক্ষ সাহায্য, যেমন পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে নেয়া নিয়ম বহির্ভূত হবার কারণে ঘোড়া বন্ধুদের বিশেষ করে পরীক্ষাগুলোর [মাইল টেস্ট] সময় নিতে হতো অতিরিক্ত কষ্ট। কারণ পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ না হতে পারলে বন্ধুগুলোকে হারিয়ে ফেলবো একাডেমী থেকে। দৌড় শুরু হবার পর থেকে ঘোড়া বন্ধুরা জীবনবাজি নিয়ে এমনভাবে টান দিতো, সেখানে আমরা মধ্যম গ্রুপ, ঘোড়া বন্ধুদের অনুশীলনের সময়ের কাছাকাছি গতি তুলে ফেলতাম। অবাক হয়ে যেতাম নিজেদেরই পারফরমেন্স দেখে। যারা থাকতো পেছনে, মধ্যম গ্রুপের সাথে তাদের দুরত্ব বাড়তে থাকলে পাগলের মতো দিশেহারা হয়ে গালিগালাজ করতে করতে সময় শেষের আগেই পার হয়ে যেত সাদা দাগ। বমি করতে করতে আমরা ঘোড়া বন্ধুদের মুন্ডুপাত করলেও তাদের প্রশ্রয়মাখা হাসিমুখ মনে পড়ে এখনো। ‘ঘোড়া’ বন্ধুদের কয়েকজন চলে গেছে না ফেরার দেশে।

২.

উন্নত বিশ্বের সাথে তুলনা করে আমাদের কাজ হয়না বলে আমরা আশেপাশের, আফ্রিকা মহাদেশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে আমাদের বেঞ্চমার্ক করে মানসিক তৃপ্তি নিয়ে থাকি। তবে বিশ বা তিরিশ বছর আগের গল্প দিয়ে যে কাজ হবে না সেটা টিভি আর খবরের কাগজ পড়লে কিছুটা আঁচ করা যায়। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ড আমাদের অনেক নিচে থাকলেও তারা করে নিয়েছে ভাগ্যের পরিবর্তন। সবাই পরিবর্তন চায়, চাই না আমরা। ভয় পাই অবস্থান পরিবর্তনের। কিছু হলেই শুরু হয় ব্লেমগেম, দোষ দেই নীতি নির্ধারনী কর্তাব্যক্তিদের। চেয়ে থাকি তাদের দিকে। মনে হয় তারা খাইয়ে দেবেন আমাদের সবকিছু। আমাদের করার নেই কিছুই। অথচ যে কোনো পরিবর্তনের শুরু হয় নিজেকে পাল্টিয়ে। নিজের অভ্যাস পাল্টাতেও কষ্ট, ব্লেম ইট অন দ্য ওয়েদার! আফগানিস্তানের স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটর দেখলেও খাবেন ভিমড়ি। হুড়হুড় করে উঠে যাচ্ছে দেশটা ওপরে। তবে সরকারী বা ব্যবসার কাজে অথবা ভ্রমনে দেশের বাহিরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো অথবা আফ্রিকা গেলে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে বেশ ভালো আন্দাজ পাওয়া যায়। সৃষ্টিকর্তা সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করার জন্য দিয়েছেন জ্ঞান – যা হচ্ছে হালের ইন্টারনেট। উন্নতদেশগুলোর ঠেকে শেখার জ্ঞানগুলো [ওরা সময় নিয়েছে অনেক] রপ্ত করতে পারলে তার জন্য সময় বাঁচিয়ে বিভাজন কমিয়ে আনা সম্ভব। সেই ইন্টারনেটের গোড়া মানে সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে আফ্রিকার গল্প দেখলে উঠবে চোখ কপালে। আমরা আছি কোথায়? বেশি নয়, আমাদের সেই ঘোড়া বন্ধুদের মতো দশ বারোটা লোক পাল্টে দিচ্ছে আফ্রিকা। তাদের জীবন সঁপে দিয়েছেন উন্নত জীবনের সোপানে – বাকিদের জন্য। তারা ছিলেন না নীতিনির্ধারণীতে, কাজ করে দিচ্ছেন মানুষের তরে। নিচের ছবিটা তার প্রমান। আফ্রিকা এখন আলোকিত – অনেক অনেক বেশি!

কিছু ‘ঘোড়া বন্ধু’ প্রয়োজন – দেশের জন্য, হবেন নাকি একজন?

বন্ধু স্টিভ সংয়ের সাইট থেকে নেয়া। পুরোটা পাবেন http://manypossibilities.net/african-undersea-cables/ এখানে।

বন্ধু স্টিভ সংয়ের সাইট থেকে নেয়া। পুরোটা পাবেন http://manypossibilities.net/african-undersea-cables/ এখানে।

Read Full Post »

“A photograph is a secret about a secret. The more it tells you the less you know.”

— Diane Arbus

১৩.

ভবিষ্যত গ্রোথ দেখাতে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনকে দেখিয়ে দেয় সবাই। অন্যদের বাড়ার সুযোগ নেই বললে ভুল হবে, বরং আমাদের বাড়ার সম্ভাবনা অন্যদের থেকে অনেক অনেক বেশি। অন্যরা গ্রো করেছে আগেই ফলে আমাদের সুযোগ বেড়েছে। আগে গ্রো করিনি বলে আর্লি মুভার্স অ্যাডভান্টেজ না পেলেও অন্যের জ্ঞান নিয়ে আগানো সহজ। উন্নত দেশগুলো যে জিনিসগুলো ঠেকে শিখেছে বা সময় নিয়ে শিখেছে – সেতুলনায় আমাদের ভাগ্য ভালই বলতে হবে। অন্যদের ভুল আর সময় ক্ষেপণ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের বেড়ে ওঠার সময় কমিয়ে নিয়ে আশা সম্ভব। উন্নতদেশের মতো কাঠামোগত সুবিধা আমাদের না থাকলেও আমাদের বিভাজন কমছে দ্রুত। বিভাজন কমাবে তথ্য আর সে থেকে আহরিত জ্ঞান, নতুন ধরনের যুদ্ধ, যে আগে আহরণ করতে পারবে জ্ঞান তার মুঠোয় সবকিছু। সেই জ্ঞান দিচ্ছে ইন্টারনেট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসে ইন্টারনেটে যে তথ্য পাবেন তা পাওয়া যাচ্ছে আমাদের গ্রামেও। জ্ঞানের সমানাধিকারের নিয়ে চলছে কাজ। মাঝখানে ‘নেট নিউত্রালিটি’ নিয়ে কিছু বড় বড় টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লবি করছিলো এর বিপক্ষে। তাদের যুক্তি হচ্ছে – যতো ফেলবেন কড়ি ততো কনটেন্ট বা ওয়েবসাইট। মানে স্যাটেলাইট চ্যানেলের মতো। টাকা তিনশো, যেমন আমি – পাই চল্লিশ চ্যানেল। ভাগ্যবানরা পান দুশো, বেশি টাকা দেন বলে। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো মনে হচ্ছে। বর্তমান ইন্টারনেটে যতো কম টাকায় প্যাকেজ হোক না কেন সব সাইটে অধিকার রাখেন যাবার। ভবিষ্যত খুব একটা সুমধুর যে তাও বলা যাচ্ছে না এখুনি। কনটেন্ট কোম্পানি টাকা বানাচ্ছে মাথা খাটিয়ে, টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলোর নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর সময় নেই আর। ক্যারিয়ারগুলোর পাইপ বেচার সময় শেষ, টাকা সব কনটেন্টের ভেতর।

১৪.

বড় উড়ুক্কু যন্ত্রটা ভিজলো তো ভিজলোই – তা আবার বার্সেলোনাতে। এ-থ্রিএইটির মেইডেন ফ্লাইট নামছে এই এয়ারপোর্টে। মাফ করবেন আমার এ-থ্রিএইটির প্রীতি দেখে। ম্যানুয়াল যতো ঘাঁটি এর ততই অবাক হই এর স্বয়ংক্রিয় ন্যাভিগেশনের বিস্তৃতি দেথে। পাইলট না হলে কি এর ব্যাপারে জানতে নেই নাকি? তেইশটা ফ্লাইট চালায় এমিরেটস একাই – ঢাকায়। তাদের অপারেটিং কস্ট কমিয়ে নিয়ে আসা যাবে এক তৃতীয়াংশে, মাত্র আটটা এ-থ্রিএইটি দিয়ে। কম দূরুত্বে আসবে কি দানব পাখিটা? বলেন কি? চায়না সাদার্ন এ-থ্রিএইটি চালায় সাংহাই থেকে গুয়াংঝো, দু ঘন্টার ফ্লাইট। হংকং থেকে ব্যাংকক, থাই এয়ারওয়েজ আর এমিরেটস। সমস্যা অন্যখানে। আরেকদিন কথা বলা যাবে এটা নিয়ে। ফিরে যাই বার্সেলোনাতে। এমিরেটস এরুটে প্রতিদিন একটা এ-থ্রীথার্টির ফ্লাইট চালালেও মোবাইল ওয়ার্ল্ড কনগ্রেসে যাবার শেষ কানেক্টিং ফ্লাইটে বড়টা না দিয়ে যাবে কোথায়? ওকে ব্যবস্যা করে খেতে হবে না নাকি? ষাট থেকে আশি হাজার মানুষের মিলনস্থল হচ্ছে গিয়ে মোবাইল ওয়ার্ল্ড কনগ্রেস, জিএসএমএর মেগা অনুষ্ঠান। অনুমানের ভিত্তিতে টিকেট কাটলেও শেষ ফ্লাইটটা যে এ-থ্রিএইটি দিয়ে দেবে তার জন্য আলাদা প্রেডিকশন ক্ষমতা লাগে না। বিজনেস ডিসিশন। এ-থ্রিএইটিটা ট্যাক্সিওয়ে ছেড়ে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জের দিকে ঘুরতে ঘুরতেই দুটো বিশাল ওয়াটার ক্যানন শত গ্যালন পানি ছিটিয়ে বরণ করে নিলো পাখিটাকে। শাম্পেইনের বোতল খুলে আর বেলুন উড়িয়ে মেইডেন ফ্লাইটের পুরো অনুষ্ঠানটা দেখা গেলো এয়ারক্রাফটের ফ্রন্ট আর বেলি ক্যামেরা দিয়ে – এর ভেতরে বসেই। পাখিটার পেট থেকে বেরুতেই শেষ বিকেলের আলোয় সদ্যস্নাত জিনিসটা ঝিকমিক করে উঠলো। মানুষ বানায় কিভাবে এতবড় যন্ত্র? আমরা পারবো কবে? ল্যাপেল পিনটার ছবিটাও পোস্ট করতে হবে নাকি?

১৫.

মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে এবছরের সবসেরা মোবাইল এপ্লিকেশন ‘ওয়েজ’ নজর কেড়েছিল অনেকের মতো আমারো। হাজারো এপ্লিকেশনের মধ্যে ড্রপবক্স আর ফ্লিপবোর্ডকে পেছনে ফেলে প্রথম সারিতে আসার পেছনে কাজ করছে ক্রাউডসৌর্সিংএর মতো শক্তিশালী ‘বাজওয়ার্ড’| কোটি মানুষের প্রতি সেকেন্ড ইনপুটের উপর ভিত্তি করে ‘ওয়েজ’ এপ্লিকেশনটা একটা জীবন্ত সোশ্যাল জিপিএস নেটওয়ার্ক। রাস্তার মোড়ে মোড়ে নিখুত আর রিয়েলটাইম স্টেটাস আপডেট ইনপুটের উপরে ভিত্তি করে একজন চালক প্রায় চোখ বন্ধই করে চালাতে পারবেন গাড়ি। মানুষের আসল ফিডব্যাকের উপর নির্ভর করে এর বিগ ডাটা দামী হয়ে গেছে এতটাই যে গুগল একে কিনে নিয়েছে একশো তিরিশ কোটি ডলারে। ফেইসবুক ফেল! কোন রাস্তায় জ্যাম আর কোনটায় দুর্ঘটনা ঘটেছে সব আপডেট পাচ্ছেন সেকেন্ডের মধ্যে। সাধারণ জিপিএস এপ্লিকেশন থেকে এটা এতটাই চমত্কার যে চোদ্দটা দেশের পুরো বেজ ম্যাপ তাদের হাতের মুঠোয়। রোড ট্র্যাপ আর পুলিশ ওত পেতে রয়েছে কোথায় তাও পাবেন এখানে। সস্তায় পেট্রল পাম্প কোন মোড়ে তার আপডেট না পেলে মানুষ এটা ব্যবহার করবেই বা কেন? আপনার গাড়ির গতি আর তার অবস্থান তথ্য থেকে বের করে নেবে আপনার প্রয়োজন মাফিক আউটপুট। মানুষ সম্মিলিতভাবে এই ক্রাউডসৌর্সিং দিয়ে [আগের পোস্টগুলো পড়ুন] কতো দামী তথ্যভান্ডার তৈরী করতে পারে তা বোঝাতে আর কষ্ট করবো না আজ আর। আর ভবিষ্যত এখানেই। আমাদের বাংলাদেশেই রয়েছে তিন কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যা অনেক দেশের জনগনের মোট সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের গ্রোথ আসবে না তো আসবে কার? ক্রিটিক্যাল মাসের কাছাকাছি পৌছে গেছি আমরা, সত্যি! আমাদের ক্রাউডসৌর্সিং এপ্লিকেশন আসছে কবে? আর বিগ ডাটা, সেটা তো আছে আমাদেরই কাছে।

তৈরী করবেন নাকি কিছু? লাগবে সাহায্য?

Read Full Post »

“To change ones life: Start immediately. Do it flamboyantly.”

William James

৮২.

কোথায় যেনো পড়েছিলাম ‘স্টার্টিং ইজ হাফ দ্য ব্যাটেল, কিন্তু শুরু করতেই পারছিলাম না কিছুতেই। অফিস থেকে এসেছি রাত নয়টায়। ট্রেডমিলটা কয়েকবার করুণভাবে এদিকে তাকালেও পাত্তা দিলাম না। রাস্তায় ফোনের মধ্যে নয়টা ইমেইল জুলু জুলু চোখ মটকালেও ব্যাটারির সমস্যার জন্য জিপিআরএস রেখেছিলাম বন্ধ করে। জ্যান্ত রাখতে হবে তো ফোনটাকে। জামা পাল্টাবো না ইমেইল পাঠিয়ে ক্ষান্ত দেবো সেটা ভাবার আগে শুনলাম মা ডেকেছে উপরে। অগত্যা রওয়ানা দিলাম বাবার বাসায়। বাবা, মা আর বোনের সাথে দেখা হলো। বিকালের নাস্তার মতো কিছু ফল নিলাম। মাথায় স্টপওয়াচ চেষ্টা করলাম বন্ধ করার, বন্ধও হলো – মিনিট পনেরোর জন্য। ফোন আসলো একটা – উত্তর সংক্ষিপ্ত করার মহড়া দিলাম, হলো কিছুটা। অপর প্রান্ত বুঝতে পারলেন। ছেড়ে দিলেন। নেমে আসলাম বাসায়, বাচ্চাদের কাছে।

৮৩.

দেখা হলো মেয়ের সাথে। ক্লাস ফাইভের পড়ার চাপ কাবু করে ফেলেছে তাকে। মা’কে পড়া দেবার জন্য অপেক্ষা করছে সে। মা আসলেন পৌনে দশটায়। ছেলে আসলো দৌড়ে, ওয়ানের সিলেবাস দেখলে মাথা ঘোরে আমারই। গোসল না করলে খেতে হবে বকা, ভয়ে কাক গোছল! ল্যাপটপ বের করলাম মুহূর্তের মধ্যে। পিস্তল ড্রয়ের মতো করে। উইন্ডোজ আট রিজিউম হতে সময় না নিলেও এক্সচেঞ্জ কানেক্ট করতে সময় চাইল কিছুটা। পনেরো মিনিটের মাথায় খেতে বসলাম সবাই। মেয়ের দুটো প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করলাম। ছেলে আরেক কাঠি সরেস। গুনে গুনে প্রশ্ন করলো তিনটা। পারলাম না দিতে – একটা। চোখাচোখি হলো মেয়ের সাথে। সাহায্য চাইলাম ওর কাছে। মেয়ের মা ফিরলেন গোছল থেকে। মার জন্য প্রশ্নটা রেখে নতুন বইটা নিয়ে বসলাম। চালু করে দিলাম লরা পসিনি, হালের ক্রেজ। না হালের নয়, আমাদের ক্রেজ। বয়স উনচল্লিশ। ইতালিয়ান সেনসেশন৷ গাইছে ‘সেলেস্তে’| বইয়ে মনোযোগ দিলাম। চালু করলাম পমোডোরো টাইমারটা, লং ব্রেক। পমোডোরো মানে হচ্ছে টমেটো – কি হয়েছে আজকে। সব ইতালিয়ান শব্দ। লরা মাথা খেয়েছে আমার। পমোডোরো টাইমারটা হচ্ছে কিচেন টাইমার, বাইরে থাকার সময় রান্না করার সময় লাগতো তখন। এখন এটা ব্যবহার করে পুরো পৃথিবী। বিশ্বাস হচ্ছে না? গুগল করুন।

৮৪.

মেইল নোটিফিকেশন পেলাম – উইন্ডোজ আটের ডিফল্ট টোন, ভালই। এক্সচেঞ্জ সার্ভার পাওয়া গেছে তাহলে। সেথ গোডিংকে পাশ কাটালাম। তিনটার উত্তর দিলাম। পাশ কাটালাম মেইলকেও। উডি এলেনকে ধরে নিয়ে এলাম আবারও। মানে, মনে মনে। উডি বলেছিলেন সফলতার আশি শতাংশই নির্ভর করে কোনো রকমে [উপস্থিত] থাকার উপর। ইংরেজিতে, এইটি পার্সেন্ট অফ সাকসেস ইজ জাস্ট শোয়িং আপ। উডির মুখে পড়ুক ফুল চন্দন। খাঁটি কথা বলেছে সে। শোয়িং আপ মানে থাকতে পারাটা – ফিজিক্যালি। কোনো কাজ করতে মন না চাইলেও কোনো রকমে টেনে আনুন নিজেকে। দেখবেন হয়ে যাবে কাজ। জীমে কে যেতে চায় বলুন। কোনো রকমে হাজির করুন নিজেকে। দেখবেন নিজেই কখন সব এক্সারসাইজ করে বাসায় ফিরেছেন বলতেই পারবেন না আপনি। যেকোনো কজের সবচেয়ে কষ্টের জিনিস হচ্ছে মানসিকভাবে তৈরী হওয়া। মানে বিছানা থেকে নেমে কোনরকমে জুতোটা পরা। ওয়ার্ডপ্রসেসরটা ফায়ারআপ করলাম। তিনশ পঞ্চাশ শব্দ, প্রতিদিন। কাম হোয়াট মে! স্বাতী ডাকছে। কালকে অফিস যাবার কথা মনে করিয়ে দিলো সে।

লিখছেন তো কিছু, আজ?

Read Full Post »

“If you were born without wings, do nothing to prevent them from growing.”

― Coco Chanel

২১.

‘পুশিং দ্য এনভেলপ’ কথাটা শুনি ‘টপ গান’ [মুভিটা] দেখার সময় প্রথম। আহা, সোনার দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে এ মুহুর্তে। পড়তাম হয়তোবা ক্লাস নাইন বা টেনে। ক্যাডেট কলেজের ছুটিতে বাড়িতে আসলেই দৌড়াতাম বন্ধুদের বাসায়। পাশেই ছিলো ওর বাসা। বাবা-মা কাজ থেকে ফিরলেই বাসা থেকে হাওয়া। ওদের বাসায় ছিলো ভিসিআর আর রোজভ্যালীর একটা সাবস্ক্রিপশন। পায় কে আমাদের, আর ‘টপ গান’ দেখা হয় তখুনি – শখানেকবার। প্রতিটা লাইন মুখস্ত না হয়ে যাবে কোথায়? আর সে কারণে পরীক্ষা দিয়েছিলাম জিডি পাইলটে। এরোডিনামিক্সএর ভাষায় ‘এনভেলপ’ যেকোনো উড়ুক্কু যন্ত্রের সক্ষমতার কথা বলে থাকে। ধরে নেই, কোনো যন্ত্রের গতি সর্বোচ্চ দুই ম্যাক [শব্দের দ্বিগুন বেগে চলার ক্ষমতা] হলে তার বাইরে সেটা চালানো বিপদজনক হলেও এডভেঞ্চারের হাতছানিতে জীবনবাজি ধরেন অনেকে। আর টেস্ট পাইলট, যিনি চালাচ্ছেন সেই যন্ত্রটা প্রথম – পরীক্ষার খাতিরে তার ডিজাইন ক্যাপাসিটির বাইরে নিয়ে যেতে হয় তাকে – যন্ত্রের সক্ষমটা দেখার জন্য। অল্টিচুডেরও সীমানা থাকে না তখন। এসব অকুতোভয় পাইলটদের অনেকেই ফেরেন না আর। তবে এই সক্ষমতার বাইরে নিয়ে উড়ুক্কু যন্ত্র চালানোটাকেই ‘পুশিং দ্য এনভেলপ’ বলে থাকেন বিজ্ঞজনেরা।

২২.

গল্প কিন্তু অন্য জায়গায়। দুহাজার সালের আগের ঘটনা। মিউনিখে এক্সচেঞ্জের খুঁটিনাটি নিয়ে পড়ার সময় জার্মান ভাষা অসহ্য লাগতে শুরু করলো একসময়। বইয়ের দোকানগুলোও রাখে না কোনো ইংরেজি বই। ‘হুগেনদুবেল’ নামের চেইন বুকস্টোর রাখতো কিছু – তার সাথে আবার মেলে না আমার। কে যেনো বুদ্ধি দিলো একটা মুভি থিয়েটারের কথা – নিম্ফেনবার্গার স্ট্রিটে। আসল ইংলিশ মুভি, সাবটাইটেল ছাড়া – শুনতেই দৌড়ালাম ওদিকে। কয়েকটা মুভি দেখতেই কিছু পাগলের পাল্লায় পরলাম আবার, বড় পাগলি ইউলিয়া – ইংরেজি শিখতে চায় সে। আমার দুলাইনের ইংরেজির জ্ঞান দেখে গুরু মানলো ওরা। ইউলিয়া, ভালই জানে সে – ভান করে বেশি বেশি। ইউ নো গার্লস! একরাতে মুভি দেখার পর কি করবো জানতে চাইলে বললাম – হাঁটবো। হেঁটেই যাব এপার্টমেন্টে। সারাদিনের ফিরিস্থি চাইলে প্রতিদিন ভোর ছয়টার থেকে রাত বারোটার গল্প দেয়ায় ভারিক্কি চালে ব্যবহার করেছিলো এই ফ্রেজটাই। উর্রুক্কু যন্ত্রের গল্প আমার উপর দিয়ে চালানোর জন্য ইংরেজি জ্ঞান দেবার চেষ্টা করলাম ওকে। মেনে গেলো সে। দুদিন পর ডিকশনারি দেখে ভুল ভাঙ্গলো নিজেরই। বুঝলাম, নিতান্তই জার্মান ভদ্রতা করেছিলো আমার সাথে।

২৩.

মানুষের ডিজাইন ক্যাপাসিটি আর তার এনভেলপের সীমা পরিসীমার একটা হিসেব বের করার চেষ্টা করছিলাম বেশ কিছুদিন ধরে। যন্ত্রের না হয় এমটিবিএফ (মিন টাইম বিফোর ফেইলিউর) থাকে, মানুষের এরকম কিছু তো দেখিনি কখনো। এই অফিসেই পরিচয় হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের সাথে, আসেন সরকারের সাহায্য চাইতে। তারা চান নিজে গ্রো করতে। নিজে গ্রো করা মানে যে দেশ গ্রো করবে তা আমরা আবার ভুলে যাই প্রায়ই। ছোট কোম্পানিগুলো যখন প্রথম দিকে আসা শুরু করে, তাদের চোখের দ্যুতিতে ঝলসে যাই আমরা। সেই দ্যুতি কমতে থাকে সময়ের সাথে সাথে। সাহায্য করা, যা আমার কর্তব্য – পেরে উঠতে পারি না – অনেক কারণে। তবে, ঝড় ঝাপটা আর সরকারের সাহায্য ছাড়া বেশ কিছু কোম্পানি উঠে গিয়েছে নেহায়েত তার ‘এনভেলপে’র বাইরে কাজ করে। অভিমানও কাজ করেছে তাদের সাথে। মানুষ যে সব পারে তার উদাহরণ আমার কাছে তারাই। তাদের দেখেছি লেগে থাকতে বছরের পর বছর। এনভেলপের শেষ সীমায় যাবার পথ দেখিয়েছেন এই এরাই – আমাকে। চার বছর কাজ করেছি নাইন তো নাইন। কষ্ট হয়নি কখনো। মনে হয়েছে কাজ করছি তাদের সাথে – গ্রো করছি সবাই এক সাথে। যা করেছি, ভালোবেসে করেছি, টাকার জন্য নয়। এনভেলপের বাইরেই ছিলাম পুরো সময়। অনেকটা সময়!

২৪.

সেথ গোডিং, যার বই না পড়লে ঘুম হয় না ইদানিং – ভালই লিখেছেন শেষ বইটা। গ্রিক দ্বীপপুঞ্জের পাশে ইকারিয়ান সাগরের কথা মনে আছে তো আপনার? আর ইকারাসের ডানার গল্পটা? ইকারাসের বাবা ডিডেলাস বন্দীদশা থেকে মুক্তি পাবার জন্য তৈরী করেন দুজোড়া পাখা – ছেলেরটা সহ। পালকগুলোকে আটকেছিলেন মোম দিয়ে। ছেলেকে ওড়ার আগেই বেশি ওপরে ওঠার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছিলেন বাবা। বেশি ওপরে ওঠা মানে সুর্যের কাছাকাছি চলে যাওয়া। তার প্রথম ওড়াতেই বেশি সাহস দেখিয়েছিলেন ইকারাস। তারপরের ঘটনা তো সবার জানা। গলে গিয়েছিলো মোম, ঝরে গিয়েছিলো পালকগুলো। পাখা হারিয়ে পড়লেন সাগরে। মারা গেলেন ইকারাস। পৌরাণিক গল্পের শিক্ষনীয় বিষয় কিছুটা গুরুজনের অবাধ্য না হবার দিকে ঠেললেও নিজের সক্ষমতার উপর বিশ্বাস না রাখার কথাটাও চলে আসে কিন্তু। কি পারবো আর পারবোনা এটার উপর বিশ্বাস করলে কিছুই হতো না আজকের পৃথিবীতে। পারবো সব কিছু – চেষ্টা করতে হবে সব কিছু – তাহলেই মিলবে গতি। গল্পের বাকি অংশটা ভুলে গেছে সবাই, ইচ্ছা করেই হয়তোবা। বাবা ডিডেলাস খুব নিচ দিয়েও মানা করেছিলেন উড়তে। সাগরের পানি নষ্ট করে দেবে পালকগুলোকে। আর আমরা সেটাকে পাল্টে বানিয়ে নিয়েছি নিজেদের মতো করে। অতি উচ্চতা থেকে নিচে ওড়ার অভিজ্ঞতা নিরাপদ ভাবার ফলে হয়েছে আরেক বিপদ। নিরাপদ বৃত্ত থেকে বের হতে যতো ভয়। আছিই তো ভালো, দরকার কি আর? আর এটাই আমাদেরকে ফেলেছে মেরে – মনের ভেতরে। মন হয়ে গেছে ছোট, উচ্চতা ভয় পাই বড্ড, কি জানি হয়ে যায় আবার! নিরাপদ ব্যাপারটা আমাদেরকে শুধু নয়, আশেপাশের সবাইকে করেছে সংক্রামিত। নতুন কিছু করার ব্যাপারে ভয় ধরে থাকে আস্টেপিষ্টে। নিজে কিছু করার চেয়ে চাকুরী খুঁজি সবার আগে। সরকারী চাকুরীতে কেনো? জিজ্ঞাসা করেছিলাম ইন্টারভিউতে। নিরাপত্তা, সবার উত্তর। ভাঙ্গতে হবে নিজের নিরাপত্তা বলয়, তৈরী করুন অন্যদের জন্য!

উদ্ধার করতে পারে এই একমাত্র ‘পুশিং দ্য এনভেলপ’ ব্যাপারটা – সবাইকে আজকের দিনগুলোতে।

Read Full Post »

%d bloggers like this: