Feeds:
Posts
Comments

The best time to plant a tree was 20 years ago. The second best time is now.

– Chinese Proverb

ক॰

সমস্যাটার শুরু প্রায় এক দশক আগে। ছুটাছুটির চাকরি। আজ এখানে তো কাল ওখানে। শেষমেষ ‘পীস কীপার’ হিসেবে পোস্টিং হলো কঙ্গোতে। ঘুরাঘুরিই বেশি। ঘুমের সময় ছাড়া বাকিটা হিসেব করলে – পুরোটাই রাস্তায়। নিজ দ্বায়িত্বের এলাকা, যাকে বলে ‘এরিয়া অফ রেস্পন্সিবিলিটি’ – ইঞ্চি ইঞ্চি করে না জানলে বিপদ। মানুষের জীবন বলে কথা। পুরো এলাকা থাকতে হবে নিজের নখদর্পণে। কন্সট্যান্ট ভিজিল্যান্স। পায়ে হাটা অথবা গাড়ি – পায়ের মাইলোমিটারে লাখ মাইল পার হয়েছে নিশ্চিত।

খ॰

রাস্তায় নামলেই হাজার চিন্তা কিলবিল করে মাথায়। একটা এদিকে হলে আরেকটা ওদিকে। মাথা মুন্ডু ছাড়া চিন্তাভাবনা। দিন কয়েক পর বেস ক্যাম্পে ফিরলে বসতাম ইউএন এর কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট নিয়ে। সভ্যতার সাথে একমাত্র ‘ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ’ – ওই স্যাটেলাইট লিংক। একসময়, প্লট করতে শুরু করলাম চিন্তাগুলোকে। ‘চ্যানেলাইজ’ করতে তো হবে কোথাও। একেকটা চিন্তা একেকটা ডট। কানেক্টিং দ্য ডট’স ব্যাপারটা বুঝলাম অনেক পরে। চল্লিশের আগে নাকি ব্যাপারটা আসে না মাথায়?

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

গ॰

আগের ঘটনা আরো চমত্‍প্রদ। কঙ্গোতে যাবার ঠিক আগ মূহুর্তে ফিরেছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিগন্যাল স্কুল থেকে। থাকতে হয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য। প্রায় নব্বই বর্গ মাইলের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেলিকম্যুনিকেশন ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। যায়গাটাও জর্জিয়ার একটা অজ পাঁড়া গাঁয়ে। সন্ধার পর কুপি জ্বলার মতো অবস্থা। স্কূল থেকে ফিরে কাজ না পেয়ে হাত দিলাম রান্নায়। কাঁহাতক আর খাওয়া যায় ফাস্ট ফুড! পিএক্স থেকে এটা কিনি, ওটা কিনি। বাসায় এসে ভয়াবহ ধরনের ‘টেস্ট এণ্ড ট্রায়াল’। অসুবিধা কি? গিনীপিগ তো নিজে। ক্ষান্ত দিলাম স্মোক ডিটেক্টরের পানির ঝাপটা খেয়ে। বার কয়েক। তবে, একেবারে ক্ষান্ত নয়, কমিয়ে দিলাম গতি। মনোযোগ সরালাম নতুন দিকে।

ঘ॰

বিশাল লাইব্রেরী। এটা ওটা ইস্যু করি, টাইম লিমিটও অসহনীয় লম্বা। পুরনো পত্রিকা, দুস্প্রাপ্য বই সব মাইক্রোফিশেএকদম নতুন বই লাইব্রেরীতে না থাকলেও সেটা কিনে এনে চেকআউট করিয়ে রাখতেন লাইব্রেরিয়ান। আমাজনের বেস্টসেলার লিস্ট দেখা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেলো ওই সময়ে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ‘বেস্টসেলার’গুলো লিখছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ। মানে, পেশাদার লেখক নন তারা। সাহস পেলাম। যাই লিখি, পাঠক পেতেই হবে বলেছে কে? মনের খোরাক মেটানোর জন্য লেখা। ওই বিরানব্বই থেকে। সেথ গোডিংয়ের গলা শুনি প্রায়ই। শিপ, বাডি! শিপ!

ঙ॰

দেখা গেলো ওই ‘বেস্টসেলার’দের কেউ ছিলেন স্টক এক্সচেঞ্জের হর্তাকর্তা, কেউ সিআইয়ের চীফ। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। সরকারী কর্মকর্তা। নেভী সীল। ফুটবল কোচ। জিমন্যাষ্ট। তারা লিখছেন পেছনের অনেকগুলো বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে। ব্যর্থতা থেকে সফলতার গল্প। যা আসলে সাহায্য করছে ওই পড়ুয়া মানুষদের। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। বিতর্কিত জিনিস নিয়ে যে লেখা হয়নি তা নয়। লিখেছেন রেচেল মোরানের মতো পেশাজীবীরা। মানে – লেখা হয়েছে প্রায় সব বিষয় নিয়ে। বের হয়ে এসেছে অনেক সমস্যার কথা। সেই ভুল থেকেও শিখছে দেশ। সমালোচনা নিতে পারার মানসিকতার দেশগুলো ওপরে উঠছে দ্রুত। আবার লিখছেন জাতির পিতারা। আজকের ‘আধুনিক’ সিঙ্গাপুরের পেছনে যিনি ছিলেন তারো বই আছে কয়েকটা। নেলসন ম্যানডেলা’র বইটা পড়েছেন নিশ্চয়। সাতাশ বছরের অবিচারের ঘৃণাটা মূহুর্তে গিলে ফেলার ঘটনাটা অজানাই থাকতো বইটা না পড়লে। পড়ছি সবই, বুঝতে পারছি ভালো মন্দ। মন্দটা ফেলে ভালো নিয়ে এগুচ্ছি সবাই আমরা, সময়ের বিবর্তনে। অন্যের কাছ থেকে শিখে। পেছনে লেগে নয়।

চ॰

জ্ঞান কিন্তু রি-ইউজেবল। ব্রিটেনের লেগেছে দুশো বছর প্রায়। শুধু শিখতেই। শিল্পবিপ্লব থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিখেছে ব্রিটেন থেকে। তাদের লোক পাঠিয়ে। নোটবই ভরে নিয়ে আসতো তাদের অভিজ্ঞতার কথা। জাহাজে করে। সেটা কাজে লাগিয়ে ওই ব্রিটেনের সাথে টক্কর দিয়েছে অনেক কম সময়ে। ‘লীড টাইম’ কমিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় একশো বছর। এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই শেখার চর্চাটা ধরে রেখেছে বলে তারা এখনো শীর্ষে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শত বিপত্তির মধ্যে উদ্ভাবনা দিয়ে আছে টিকে। নিজেদের দেশে মানুষ কম বলে বাইরের বাজার দখলে ব্যস্ত তারা। এখন বোকারাই বলে যুদ্ধের কথা, বাজার দখলে কে কাকে বাজার বানাতে পারে সেটাই হচ্ছে বড় যুদ্ধ। রক্তপাত ছাড়াই ‘আউটবাউন্ড’ ক্যাশফ্লো!

ছ॰

এশিয়ান দেশগুলো আরো বুদ্ধিমান। ইউরোপ আর অ্যামেরিকা থেকে শিখে সেটা কাজে লাগিয়েছে গত তিরিশ বছরে। এখন টক্কর দিচ্ছে সবার সাথে। হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অন্যের ‘ঠেকে শেখা’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়েছে বেশি। পাশ্চাত্যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা করেনি সেটা জানলেই তো হলো! তার সাথে মেশাও ‘লোকাল কন্ডিশন’। আমি এটাকে বলি, ‘ঘুটা’, মানে জ্ঞানের ডিফিউশন। মেলাও হাজারো জ্ঞানের অভিজ্ঞতা। গরীব দেশ হলেও কোন সরকারী কর্মকর্তাকে তো মানা করা হয়না বৈদেশিক ভ্রমনে না যেতে। অথচ কর্পোরেট হাউসে কৃচ্ছতা সাধনে প্রায় সবই চলছে ভিডিও কনফেরেন্সে। দেশের একটাই চাওয়া, শিখে আসা জ্ঞানটা কাজে লাগবে দেশের উন্নতিতে। প্রাথমিক জ্ঞানটা পাবার পর বাকিটা শেখার বাহন হচ্ছে ইন্টারনেট। আর সেকারণে ইন্টারনেট নিয়ে লাগা। জ্ঞান ছড়িয়ে আছে সব যায়গায়, দরকার তার প্রয়োগ।

ঝ॰

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেলেন জ্ঞান ‘ক’। এদিকে সিংগাপুর দিলো ‘খ’ জ্ঞান, ভিয়েতনাম থেকে নিয়ে এলেন ‘গ’। এখন – আমাদের স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্ডিকেটরের সাথে মিলিয়ে যেটা যখন কাজে লাগে সেটাই ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অনেকে এটাকে বলে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। মানে, যেটা কাজ করেছে অনেক যায়গায়। ‘ওয়েল টেস্টেড’। টেস্ট পেপার সলিউশনের মতো কিছুটা। দেখা গেছে – ওভাবে কাজটা করলে জিনিসটা মার যাবার সম্ভাবনা কম। টেস্ট এণ্ড ট্রায়ালের পর ফুলপ্রুফ হয়েই নাম হয়েছে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। দেশের ‘লোকাল কন্ডিশন’কে বেস্ট প্র্যাকটিসে ঘুঁটানোতেই রয়েছে মুন্সিয়ানা। ইন্টারনেটকে ছড়িয়ে দেবার ওই ধরনের ‘টেম্পলেট’ নিয়ে কাজ করেছি গত সাত সাতটা বছর।

ঞ॰

মনে আছে বৈজ্ঞানিক নিউটনের কথা? ‘আমি যদি আজ বেশি দেখে থাকি অন্যদের চেয়ে, সেটা পেরেছি পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের ভিত্তিতে’। উন্নতবিশ্বের আজকের যা উন্নতি তার সবটাই এসেছে ওই ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস’ কথাটার ওপর ভিত্তি করে। আজ জানি আমরা ট্রানজিস্টর কি – আর কিভাবে কোটি ট্রানজিস্টর থাকে একটা চিপসেটে। নতুন করে ওই ট্রাংজিস্টর উদ্ভাবন না করে বরং কোটি ট্রাংজিস্টরের চিপসেট দিয়ে আর কি কি করা যায় সেটাই ভাববার বিষয়। আর তাই আগের জ্ঞানের ‘ডিফিউশন’ দিয়ে নতুন উদ্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ওপরে উঠছে নতুন ইমার্জিং দেশগুলো। এটাকে বলা হয় লিপ-ফ্রগিং।

য॰

সামরিক বাহিনীর স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার বিটিআরসিতে আসা। টেকনোলজি নিয়ে একসময় লিখতাম কিছু পত্রপত্রিকায়। শুরুতেই ঝামেলা। ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট – নতুন যাই লিখি সেটা নিয়ে মাথা নাড়াচ্ছিলেন অনেকেই।

“ভালো, তবে সমস্যা অন্যখানে। এটা সম্ভব নয় এদেশে।”

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

বলেন কি? অবাক হয়ে তাকাই উনাদের দিকে। নীতিমালায় আটকানো আছে জিনিসগুলো। মানে আমরা আটকে আছি আমাদের জালে। জিনিসপত্র না জানার ফলে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। যুক্ত থাকার হাজার সুবিধার মূলে হচ্ছে মানুষের মুক্তি। সেটা প্রথমে আসবে অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে, জ্ঞান দেবে আমাদের প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা। সোশ্যাল মিডিয়ার বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করেছিলাম একটা এজেন্সিতে বসে। যুক্ত থাকার ফলে আজ যা দেখছেন, এটা আইসবার্গের ছোট্ট একটা টিপ। আরব বসন্ত, একটা উপসর্গ মাত্র। পালটাচ্ছে পৃথিবী, পাল্টাবো আমরাও। ভালোর দিকে। দরকার ইন্টারনেটের মতো কিছু টুলস।


The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

― Mark Twain

র॰

বইগুলো লিখছি কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে। বিটিআরসির সাত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে ঘোরার অন্তর্জালা থেকে মুক্তি পেতে এ ব্যবস্থা। নোটবই সেনাবাহিনীতে পোশাকের অঙ্গ হবার ফলে মিস করিনি খুব একটা। জিম রনের অমোঘ ‘নেভার ট্রাস্ট ইয়োর মেমরী’ বাণীটা খুব একটা বিচ্যুতি আনতে পারেনি ‘নোট টেকিং’য়ে। এখন যুগ হচ্ছে ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোটে’র। হাতির স্মৃতি বলে কথা – মাটিতে পড়ে না কিছুই। দেশ বিদেশের ফোরাম, যেখানে গিয়েছি বা যাইনি – হাজির করেছি তথ্য। টুকেছি সময় পেলেই। ভরে যাচ্ছিলো নোটবই। ‘এভারনোট’ আর ‘কীপের’ ভয়েস মেমোতে। পয়েন্ট আকারে। প্রোগ্রামিংয়ের মতো পয়েন্টারগুলো লিংক করা ছিলো মাথায়। ভুলে যাবার আগেই বইগুলোর ব্যবস্থা।

ল॰

আরেকটা সমস্যা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে – ওই ছোটবেলা থেকে। কোন জিনিস ধরলে সেটার শেষ না দেখলে ঘুম আসে না আমার। বিশাল বিপদ। আগে ভাবতাম সমস্যাটা আমার একার। ভুল ভাঙ্গলো দুনিয়া দেখতে দেখতে। ইনডাস্ট্রিতে একই অবস্থা। একেকটা রিসার্চ, সফল না হওয়া পর্যন্ত পড়ে আছে মাটি কামড়ে। মনে আছে, হেনরী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার তৈরির কথা? এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো। বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারটাও তৈরি হয়েছে কয়েকটা জেদি মানুষের জন্য। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে উজাড় করে দিয়েছেন তার জ্ঞানকে। বাকিটা আমাদের পালা।

শ॰

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজার বারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজারবারের ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজারটা স্টেপ।

ষ॰

টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় ভাসা ভাসা কাজের উপযোগিতা কম। রেগুলেশনেও একই অবস্থা। দরকার স্পেশালাইজেশন – বাজার বুঝতে। ঢুকতে হবে ভেতরে, অনেক ভেতরে। পুরোটাই অর্থনীতিবিদদের কাজ। ভবিষ্যত না দেখতে পারলে এ ব্যবস্যায় টিকে থাকা কঠিন। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর জাহাবাজ লোকেরাও মাঝে মধ্যে অত ভেতরে ঢুকতে পারেন না। স্পেশালাইজেশন বলে কথা। সেখানেই আসে টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং কোম্পানিগুলো। ওদের কাজ একটাই, আর এন্ড ডি, সারাবছর ধরে। আবার সেই কনসাল্টিং ফার্ম একই ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছে সব টেলিযোগাযোগ কোম্পানির জন্য। স্পেশালাইজড না হয়ে যাবেই বা কোথায় তারা? আর সেই সল্যুশনের জন্য মিলিয়ন ডলারের নিচে কথা বলেন না কেউই। আর বলবেন নাই বা কেন? এধরনের আর এন্ড ডির জন্য কম কষ্ট করতে হয়না তাদেরকে। প্রচুর রিপোর্ট পড়েছি এই কনসাল্টিং ফার্মগুলোর। রিপোর্টতো নয় যেনো হাতের রেখা পড়ছেন। ভবিষ্যত দেখা যায় রীতিমত। মিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং বলে কথা। টার্গেট দিন এক কোটি কর্মসংস্থানের। তৈরি করে দেবো প্রায়োগিক ফর্মুলা। হতে বাধ্য। জানতে হয় ভবিষ্যত দেখতে। বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি খানিকটা।

ট॰

তাই বলে সব কনসাল্টিং ফার্ম এক নয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, কনসাল্টিং ফার্মের দোষ না দেখে যিনি কাজ দিয়ে বুঝে নেবার কথা – তার কম্পিটেন্সিতে ঘাটতি থাকলে রিপোর্ট খারাপ হতেই পারে। আমি কিনছি রিপোর্ট, না বুঝে কিনলে কনসাল্টিং ফার্মের দোষ দিয়ে লাভ কি? গরীবদেশগুলোতে প্রচুর কনসালটেন্সি হয় বটে, তবে সে দেশগুলো সেগুলো ঠিক মতো বুঝে নেবার সামর্থ বা জ্ঞান থাকে না বলেই ঝামেলা হয়। ডোনারদের টাকায় কনসাল্টেন্সি হলে সেটার অবস্থা হয় অন্য রকম। রিপোর্ট নিজের মনে করে বুঝে নিতে পারলে সেটার দাম মিলিয়ন ডলারের বেশি। সে ধরনের রিপোর্ট বুঝে নিয়েছিলাম বেশ কয়েকটা। পোস্ট-ডক করা যাবে কয়েকটা।

ঠ॰

কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হলো বিশ্বখ্যাত অনেকগুলো টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং ফার্মের সাথে। এর সাথে যোগ হলো ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আর কমনওয়েলথ টেলিকম্যুনিকেশন অর্গানাইজেশনের (সিটিও) আরো অনেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্ট। ধারণা পেলাম তাদের কাজের। পড়তে থাকলাম আরো হাজারো রিপোর্ট। দামী সব রিপোর্ট, তবে তার দাম কোনো কোনো দেশ বা এজেন্সি দিয়ে দিয়েছে আগেই। পরিচয় হলো ওভাম, অ্যাকসেন্চার, কেপিএমজি, পিডাব্লিউসি, নেরা আর এনালাইসিস ম্যাসনের মতো তুখোড় তুখোড় ফার্মের সাথে। আবার নিজের প্রতিষ্ঠানেরই কাজ করতে পরিচয় হলো মার্কিন ফার্ম টেলিকমিউনিকেশনস ম্যানেজমেন্ট গ্রূপ, ইনকর্পোরেশন (টিএমজি)র সাথে। তাদের ধরনটাই বুঝতে সময় লেগেছিলো বেশ। তলই পাচ্ছিলাম না প্রথমে। বিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং কোম্পানি বলে কথা। পরিচয় হলো অনেকের সাথে। বন্ধুত্ব হলো অনেকের সাথে। হাতে ধরে দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ‘ফল্ট-লাইন’গুলো।

ড॰

একসময় তল পেলাম এই ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ফার্মগুলোর কাজের ধারার। পৃথিবী জুড়ে কাজ করার ফলে কোথায় কি সমস্যা সেটা তারা জানে ভালো। আর সেটা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেয়া ওদের একমাত্র কাজ বলে ওটাও সে জানে ‘অসম্ভব’ ভালো। গরীব দেশগুলোতে হাজার কোটি টাকার ম্যানেজমেন্ট কন্সাল্টেনসি করে টাকা বানালেও সেটার ব্যর্থতার দায় দেয়া যাবে না তাদের ওপর। ওই দেশের – যাদের ‘কন্সাল্টেনসি’টা বুঝে নেবার কথা তারা ‘ছাড়’ দিলে কাজ হবে কিভাবে? উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাড়াতাড়ি ওপরে উঠতে হলে লাগবে কন্সাল্টেনসি, তবে সেটা ‘পাই’ ‘পাই’ করে বুঝে নেবার মতো থাকতে হবে মানুষ। দু চারটা বৈদেশিক ভ্রমণে ব্যাপারটা উপেক্ষিত হলে জ্ঞান আর প্রজ্ঞাটা হারায় দেশ।

ঢ॰

ব্যাপারটা অনেকটা বিজনেস প্ল্যান কেনার মতো। ও আমাকে বানিয়ে দিলো একটা। না বুঝে দিয়ে দেবো পয়সা? সমস্যা হয় যখন সেটা হয় ‘সরকারী’ মানে জনগণের পয়সা। একারণে উন্নতদেশগুলো ছোট করে নিয়ে আসছে সরকারগুলোকে। যাই হয় সব পার্টনারশীপে। যারাই থাইল্যান্ড গিয়েছেন মুগ্ধ হয়েছেন তারা – বিশাল বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার দেখে। বেশিরভাগ ইনফ্রাস্ট্রাকচারই কিন্তু পিপিপি’র মডেলে করা। সরকারের অতো পয়সা থাকে না কোথাও। পিপিপি হচ্ছে গিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ। পয়সা যোগান দেবে বেসরকারী কোম্পানি – কাগজ দেবে সরকার, আইনগত ভিত্তি সহ। ‘উইন’ ‘উইন’ ব্যাপার। পয়সা লাগলো না সরকারের। কর্মসংস্থানও হলো। আমাদের পিপিপি নীতিমালা তৈরী হয়নি এখনো।


There is no ‘poor’ country, they are ‘poorly’ managed.

― Slightly modified

ণ॰

উন্নত দেশগুলোতে অনেক বড় বড় কাজে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না জনগণ। কারণ এই পিপিপি। যেকোনো দেশের উন্নতির ইনডিকেটর বোঝা যায় ওদেশের পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেম দেখে। মানে জনগন কতো সহজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারছেন – নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। ঢাকা শহরে সেটার অবস্থা আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেও খারাপ। অথচ ব্যবস্যা বান্ধব পিপিপি নীতিমালা থাকলে প্রাইভেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিতে পারতো সরকারের কাছে। তৈরী করতো ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’। ভাগ করে ফেলতো পুরো শহর – চার পাঁচ ভাগে। একেকটা ভাগের রুট নিয়ে দেন-দরবার করতো কনসেশন পিরিয়ডটা নিয়ে। এই রুটটা দাও আমাকে পঞ্চাশ বছরের জন্য। তৈরী করবো স্কাই ট্রেন। ইনফ্লেশন হিসেব ধরে ভাড়ার একটা চার্ট জমা দিতো সরকারকে।

স॰

সফটওয়্যারের মানুষ হিসেবে শূন্য ভার্সন থেকে শুরুতে বিশ্বাসী আমি। শুরু করতে হবে কোথাও। নিউটনের কথায় ফিরে আসবো আবার। ষ্টান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস। আমাদেরও এগুতে হবে পূর্বসূরীর অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে। গাছ রোপণ করার কথা ছিল বিশ বছর আগে। সেটা না হলে কি থাকবো বসে? বরং – লাগাবো আজই। বাংলাদেশের ‘যুক্ত’ হবার এজেন্সিতে চাকরি করার সুবাদে গরীব দেশ আমার ওপর যা ইনভেস্ট করেছে সেটা ফিরিয়ে দেবার জন্য নিয়েছি নগণ্য একটা প্রয়াস। নাম দিয়েছি প্রজেক্ট ‘গিভিং ব্যাক’। ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার ‘চিটকোড’ হিসেবে ধরুন ব্যাপারটাকে। ব্রডব্যান্ডে সফল দেশগুলোর ধারণা নিয়ে ‘আমাদের আঙ্গিকে’ কোডটাকে ‘ক্র্যাক’ করতে চেষ্টা করেছি মাত্র। আর, পয়সার জন্য ওর সাথে থাকবে ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ফান্ড। আর এসপিভিলাগবে এটাও

দরকার আপনার সুচিন্তিত মতামত। ওই মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাঠামোগত পরিবর্তন আনবো বইগুলোতে।

প্রি-প্রোডাকশন স্টেজ: কাজ চলছে এখনো

প্রথম বই: ইন্টারনেটের মুল্যঃ যে কারনে এখনো ধরাছোয়ার বাইরে

দ্বিতীয় বই: বাতাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দক্ষ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা পাল্টে দিতে পারে বাংলাদেশকে

তৃতীয় বই: রেগুলেট অর নট টু রেগুলেট? চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেটর ও বাংলাদেশ

* লিংকগুলো যুক্ত করা হয়েছে কয়েকটা ব্লগপোস্টের সাথে। পুরো বইগুলো আসবে আস্তে আস্তে – প্রিন্টে।


০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সাশান্দ্রা, আইভরি কোস্ট

The European Commission has recommended that digital switchover should be completed by 1 January 2012.

- Commission Recommendation 2009/848/EC, of 28.10.2009

৬৪১.

মনে আছে বিটিভি’র যুগের কথা? নতুন জেনারেশনের কাছে ‘প্রস্তর’ যুগের গল্প মনে হতে পারে পুরো ব্যপারটাই। চ্যানেল ‘নয়ে’ সলিড গোল্ড আর সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান নিয়ে সময় কাটছিল ভালোই। ঢাকায় থাকার সুবাদে হাতে পেলাম বাড়তি আরেকটা চ্যানেল। চ্যানেল সিক্স। বিকাল ছয়টার কার্টুন না দেখলে ভাত হজম হতো না আমাদের। স্পাইডার ম্যান, ফ্যানটাস্টিক ফোর, রিচি রিচ, অ্যাকোয়া ম্যান – বলতে হবে আর? মনে আছে ‘গ্রীন হর্নেটে’র কথা? আর সবচেয়ে মজা হতো ভোটের সময় ম্যারাথন প্রোগ্রামে। গুড ওল্ড ডেজ!

৬৪২.

এই বিটিভি হচ্ছে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং। যাকে ব্যবহার করতে হয় মোবাইলের মতো কিছু ফ্রিকোয়েন্সী। ফলে, আপনার টিভি অনুষ্ঠান ধরতে পারে সাধারণ অ্যান্টেনা দিয়ে। রেডিও’র মতো অ্যান্টেনা। ওই হাড়ি পাতিল দরকার ছিলো অন্যদেশের চ্যানেল দেখার জন্য। ওইদিকে আর নাই বা গেলাম। অ্যানালগ ব্রডকাস্টিংয়ে স্পেকট্রাম লাগে প্রচুর। একেকটা চ্যানেল নিয়ে নেয় ৬ থেকে ৮ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইডথ। আর একই ব্যান্ডউইডথে ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং পাঠাবে বিশটার মতো চ্যানেল – সমান মানের। চিন্তা করেছেন কতো লাভ এখানে? আবার, ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং ব্যবহার করে ‘সিংগেল ফ্রিকোয়েন্সী নেটওয়ার্কস’, ফলে ওই এক ফ্রিকোয়েন্সী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা যাবে পুরো দেশজুড়ে। অ্যানালগেও সম্ভব, চেষ্টা করলে।

৬৪৩.

পৃথিবী জুড়ে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং ব্যবহার করছে ‘ইউএইচএফ’ আর ‘ভিএইচএফ’ ব্যান্ড। আল্ট্রা হাই ফ্রিকোয়েন্সীতে এর জন্য দেয়া আছে ৪৭০ থেকে ৮৭২ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। হাসছেন আপনি। তাইতো! ৭০০ মেগাহার্টজের গন্ধ পেয়ে গেছেন এর মধ্যে। সোনার খনি। সত্যিই তাই। আমাদের মতো জনবহুল দেশও ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ভাসিয়ে দেয়ার হিসেব নিয়ে আসবো সামনে। এজন্য এটার নাম হচ্ছে ডিজিটাল ডিভিডেন্ড। মানে ডিজিটাল ট্রান্সমিশনে গেলে কতো শত ফ্রিকোয়েন্সী খালি হয়, সেটা না দেখলে বিশ্বাস হবে না আপনার। গুগল করবেন নাকি একবার ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’ শব্দ জোড়া দিয়ে?

৬৪৪.

ভেরী হাই ফ্রিকোয়েন্সীতে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং চলছে ১৭৩ থেকে ২৩০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। বাংলাদেশে পুরোটাই ব্যবহার করছে বিটিভি। চ্যানেল একটা, কিন্তু রীলেগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে অন্য ফ্রিকোয়েন্সী। এখানে ‘অপটিমাইজ’ করা যেতো অনেক। নীতিমালায় বলা আছে এই পুরো ব্যান্ডটা ব্যবহার করবে বিটিভি। অথচ এই অ্যানালগ টেরেস্ট্রিয়ালের বাকি ব্যান্ডটা ভাড়া দিয়ে সরকার আয় করতে পারতো শত কোটি টাকা। আর বাঁচাতে পারতো একই পরিমাণ টাকা – স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ। আমাদের বেসরকারী টিভি চ্যানেল চলছে বাইরের দেশের ‘খরুচে’ স্যাটেলাইট দিয়ে। আর জনগণও দেখতো বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলো – বিনামূল্যে। ওই অ্যান্টেনা দিয়েই। স্পেকট্রামটা খালি পড়ে আছে দেশের জন্মকাল থেকে।

৬৪৫.

তবে, আমাদের ‘ন্যাশন্যাল ফ্রিকোয়েন্সী অ্যালোকেশন প্ল্যান’ টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিংয়ে বরাদ্দ দিয়েছে ৫২২ থেকে ৬৯৮ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী অ্যানালগ ট্রান্সমিশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ২০১৫তে। ১১৯টা দেশ মেনে নিয়েছে ১৭ জুন ২০১৫ তারিখটা। তবে উন্নত দেশগুলো ‘অ্যানালগ টু ডিজিটাল সুইচওভার’ করে নিয়েছে ওই ‘কাট-অফ’ তারিখের আগেই। সবাই নিজের ভালো বোঝে! আর সুবিধাও হাজার খানেক! আপনার বাড়ির পাশের পানের দোকানও ‘অ্যাড’ দিতে পারবে ওখানে।

৬৪৬.

আমার বইয়ের কাহিনী অন্যখানে। এই ‘ডিজিটাল ট্রানজিশনে’ সবচেয়ে লাভ দেশের মোবাইল ব্রডব্যান্ডের। অ্যানালগ থেকে বেঁচে যাওয়া ফ্রিকোয়েন্সী দিয়ে দেয়া যাবে দেশের ব্রডব্যান্ড গল্পে। এইজন্যই এটার নাম ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’। পাঁচ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ‘থ্রীজি’ সার্ভিস? হয় নাকি কখনো। আমাদের মতো শত কোটি মানুষের দেশে? আর ডিজিটাল টেলিভিশন মানুষের জীবন কি সহজ করে দেবে সেটা নিয়ে অপেক্ষা রাখে না বলার। এর ভ্যালু চেইন উচ্চমার্গের।

৬৪৭.

ফিরে আসি আমার গল্পে। স্পেকট্রাম। ইউরোপিয়ান কমিশন তাদের স্পেকট্রামের ওপর দিয়ে দেয়া সার্ভিসগুলোর দাম যোগ করতে গিয়ে পেল ২৫০ বিলিয়ন ইউরোর ওপরে। এটা পুরো ইউরোপের বাত্‍সরিক জিডিপির ২.২ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭০০ মেগাহার্টজ বিক্রি করে পেল ১৯.১ বিলিয়ন ডলার। সেই দুহাজার আটে। বিক্রি করেছিলো মাত্র ৫৬ মেগাহার্টজ। জার্মানী বিক্রি করলো ৬০ মেগাহার্টজ ওই দুহাজার দশে। ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে। পেয়েছিলো ৩.৫৭ বিলিয়ন ইউরো। ফ্রান্স ওই ৬০ মেগাহার্টজ বিক্রি করে আয় করেছিলো ২.৬ বিলিয়ন ইউরো।

৬৪৮.

দাম নিয়ে সবার বক্তব্য কি হবে সেটা না জানলেও একটা জিনিস বুঝি ভালোভাবে। এর দাম হওয়া উচিত্‍ ‘অপুরচুনিটি কস্ট’এর ভিত্তিতে। গ্রাহকদের ‘নাভিশ্বাস’ তুলে নয়। আমার দেশের ‘পারচেজিং প্যারিটি’ মানে কেনার ক্ষমতা আর জিডিপিকে তুলনা করা যাবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। লিখেছি আগে এব্যাপারটা নিয়ে। ভালো কথা, স্পেকট্রাম তুমি কার?

মজা জানেন কোথায়? কেন দাম উঠছে এতো? ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে (আমাদের ওয়াইম্যাক্স ব্যান্ড) দশ গুণ বেশি বেজস্টেশন লাগবে যদি একই জায়গা ‘কাভার’ করতে হয় ওই ৮০০ মেগাহার্টজ দিয়ে। মজা আছে আরো।

[ক্রমশ:]

It is truly rare for people to outmaneuver Big Telecom’s army of lobbyists, but together Canadians did it. Now that we’ve prevented big phone and cable companies from taking full control, it’s time to fix our broken telecom market for good. A first step is for Canadians to move to independent providers, then we need to shift policy so everyone has affordable choices for Internet access. Our future depends on it.

Steve Anderson, Executive Director, OpenMedia.ca

৬৩৬.

দেশগুলোর রেগুলেটরী এজেন্সি তৈরির পেছনে ‘গ্রাহকস্বার্থ’ দেখার ব্যাপারটা কাজ করে বেশি। গ্রাহক ঠিকমতো তার সার্ভিসটা পাচ্ছে কিনা বা যে টাকা দিয়ে কিনছে সেটা যথোপযুক্ত কিনা, এধরনের ‘নজরদারি’ করে থাকে রেগুলেটরী এজেন্সি। দেশের মানুষের ভালো দেখবে তারা, সেটাই থাকে মুখ্য। আর রেগুলেটরী এজেন্সি বাইরের সব ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে সেটাও আশা করে জনগণ। তবে বড় বড় ইনডাস্ট্রির জন্য রেগুলেশন সরকারের মাথা ব্যাথা হয়ে দাড়ায় অনেক সময়। অর্থনৈতিকভাবে এ ব্যাপারটা আরো প্রকট হয় যখন বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোর কাছে প্রচুর পয়সা থাকে। ফলে, তাদের কাছে চলে যায় সেরা মেধাগুলো, সেরা আইনজীবী, হাজারে হাজারে। সরকারও ধরে রাখতে পারে না তাদের ‘সেরা মেধাগুলো’ – তাদের বেতন স্ট্রাকচারের কারণে। ফলে রেগুলেটর জনগণের না হয়ে – হয়ে যায় ইনডাস্ট্রি’র ‘হস্তগত’। ‘রেগুলেটরী ক্যাপচার’ হচ্ছে এর আইনগত সংজ্ঞা। দাম বেড়ে যায় পণ্যের।

৬৩৭.

দেখা গেছে কোম্পানীগুলোর স্যাটেলাইট অফিস থাকে সরকারী অফিসের কাছাকাছি। লবিষ্টদের কথা আর নাই বা বললাম। ছোট কোম্পানী আর সাধারণ জনগণের দিকটা দেখা অনিবার্য হয়ে পড়ে ওই রেগুলেটরী এজেন্সি’র ওপর। তবে সেটা হয়ে ওঠে না সবসময়। দেখা যায় সরকারের নীতিনির্ধারণীতে থাকা মানুষগুলো পরিবেষ্টিত থাকে ওই বড় বড় কোম্পানীর ‘মেধাবী’ মানুষদের দিয়ে। ছোট কোম্পানীগুলো বা সাধারণ জনগণ তো তাদের নিজেদের ‘দিনকে দিনের’ সমস্যা মেটাতেই ব্যস্ত, তার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কিনা সেটার পেছনে দৌড়ানো হয় কমই। আপনি করবেন? আপনার পেটের দায় আগে – না আপনার ‘গ্রাহকস্বার্থ’? আর সেকারণে দেশগুলো তৈরি করে থাকে আলাদা ‘গ্রাহকস্বার্থ’ কমিশন।

৬৩৮.

প্রতিটা ইনডাস্ট্রির কিছু স্বার্থ থাকে যেটার জন্য সেই কোম্পানীটা যে কোন দৌড়ে যেতে আগ্রহী। এভিয়েশন ইনডাস্ট্রির দিকে তাকাই একবার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওই সেক্টরের রেগুলেটর হচ্ছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন, যাকে আমরা বলি ‘এফএএ’। তাদের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন’ মানে মন্ত্রণালয়ের একটা ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টে দেখা গেলো একটা নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সের ৪৬টা প্লেন আকাশে উড়ছিলো ‘সেফটি ইন্সপেকশন’ ছাড়াই। সাধারণ গাড়ির মতো প্রতিটা প্লেনের ‘ফিটনেস’ সার্টিফিকেট নিতে হয় একটা সময় পর পর। ওই এয়ারলাইন্সটাকে দুবছর ধরে এই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো তাদের রেগুলেটর। যাত্রীদের জানের ওপর বাজী রেখে ওই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো এফএএ’র অফিসাররা। এদিয়ে বাকি এয়ারলাইন্সগুলোর অডিট রিপোর্ট ঠিকমতো যাবার ফলে ‘গ্রাউন্ডেড’ হয়ে গেল শত শত প্লেন। শুরু হয়ে গেল ফ্লাইট ক্যান্সেলেশন। তাও আবার হাজার খানেক ফ্লাইট। ঘটনা প্রকাশ পেল যখন ওই এয়ারলাইন্সের একটা প্লেনকে ‘গ্রাউন্ডেড’ করতে যেয়ে। প্লেনের ‘ফিউজলাজে’ কয়েকটা ফাটল পাওয়াতে ইন্সপেকটর ‘ক’কে বলা হলো ‘রেগুলেটরের ভালো সম্পর্ক’ আছে ওই এয়ারলাইন্সের সাথে।

৬৩৯.

মার্কিন টেলিযোগাযোগ রেগুলেটর এফসিসি’কে কম কথা হয়নি। ‘এফসিসি’ বিশাল মিডিয়া ইনডাস্ট্রির ‘হস্তগত’ হয়ে আছে এধরনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিলো অনেকদিন থেকে। যাই রেগুলেশন করা হয় সেগুলো সাপোর্ট করছিলো ওই বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোকে। কর্পোরেট ‘কার্টেলাইজেশন’ আর কি। বড় বড় মিডিয়া ইনডাস্ট্রির যোগসাজসে ক্রমশ: খরচ বাড়ছিলো গ্রাহকদের। ছোট ফার্মগুলো টিকতে না পেরে গুটিয়ে ফেলছিলো তাদের ব্যবসা। নতুন কোম্পানীও আসতে পারছিলো না বাজারে। ফলে উদ্ভাবনা যাচ্ছিলো কমে। দিনের শেষে গ্রাহকের পছন্দের ‘বিকল্প পন্য’ আসছিলো কমে। মানে সোজা। ধরুন, আগে ছয়টা কোম্পানী দিতো মোবাইল সেবা, ‘মার্জার অ্যাকুইজিশন’ হয়ে কোম্পানী হয়ে গেলো তিনটা। পছন্দের সংখ্যা গেলো কমে। এদিকে রেডিও টেলিভিশন লাইসেন্স পাবার ক্ষেত্রে পাত্তাই পেল না ছোট কোম্পানীগুলো।

৬৪০.

ঘুরে আসবো নাকি কানাডা একবার? কানাডিয়ান রেডিও-টেলিভিশন এণ্ড টেলিকম্যুনিকেশনস কমিশন হচ্ছে ‘কনভার্জড’ রেগুলেটর। ব্রডকাস্টিং, মিডিয়া, টেলিযোগাযোগ – সবই তার আওতায়। এক কথায় আধুনিক রেগুলেটর। বেল কানাডা, সবচেয়ে বড় অপারেটর – একবার কিভাবে যেন হোলসেল ইন্টারনেট বিক্রির ওপর ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ সিষ্টেমটা নিয়েছিল পাস করে। খোদ রেগুলেটর থেকে। মানে বেল কানাডা থেকে হোলসেল ইন্টারনেট কিনতে গেলে পয়সা গুনতে হবে ব্যবহারের ওপর। কিনতে হবে গিগাবাইট ধরে। আইএসপিদের যদি এভাবে কিনতে হয়, তাহলে গ্রাহকদের অবস্থা বারোটা। মোবাইলের ব্যপারটা কিছুটা আলাদা। তাদের সীমিত রিসোর্স হচ্ছে স্পেকট্রাম। ফলে ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ দিয়ে গ্রাহকদের চাপটা কমিয়ে নিয়ে আসে নেটওয়ার্কের ওপর থেকে। রাগান্বিত গ্রাহক আর আইএসপিরা শুরু করলো অনলাইন পিটিশন। পাঁচ লাখ লোকের পিটিশন। রেগুলেটর আর ‘বেল কানাডা’র মিল-মিলাপের গল্প শুরু হলো মিডিয়াতে। চাপ তৈরি হলো পার্লামেন্টারী স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর। ডাক পড়লো কমিশনের চেয়ারম্যানের। পিছু হটলো রেগুলেটর

এতে দাম বাড়ে বৈকি। এখন উপায় কি? আবার, মেধাগুলোকেও রাখা যাচ্ছে না সরকারে। উপায় না থাকলে শুরুই বা কেন করলাম গল্পটা?

[ক্রমশ:]

Formal education will make you a living; self-education will make you a fortune.

― Jim Rohn

০১.

লিঙ্কডইন নেটওয়ার্কে ফেসবুকের মতো ‘পোকিং’ ফীচার না থাকলেও মাঝে মধ্যে বাজিয়ে দেখে হেড-হান্টাররা। ধরুন, এই অধমকেই। মানে আপনার সিভি’র কাছে যে নস্যি! আসল আফ্রিকান ‘হেড-হানটিং’ হলে পালিয়ে বেড়াতাম এর মধ্যেই। এটা সেধরনের নয় বলে রক্ষা। পৃথিবী পাল্টে গেছে অনেক। পাঁচ বছর আগের গল্প দিয়ে চাকরি পাওয়া কঠিন এখন। আর যারা দেবে চাকরি, তারাও পাল্টেছেন তাদের পজিশন। পুরোপুরি – রিপজিশন! তারা এখন অনেক ফোকাসড, তারা জানেন – আসলে কি চায় কোম্পানী। তিন বছর আগে যেভাবে চাকরি পেয়েছেন – সেটা কিন্তু নেই আর। সত্যি বলছি। গতানুগতিক চাকরি দিতে চান না তারা, কথা হয় নির্দিষ্ট কাজ ওঠানো নিয়ে। তাহলে ‘হেড-হানটিং’ নিয়ে কথা বলি দু একটা, কি বলেন?

০২.

‘হেড-হানটিং’য়ের গল্পটা তখনই আসে যখন কোম্পানীটা একটা ‘নির্দিষ্ট’ কাজের জন্য মানুষ চায়। ‘প্রিটি মাচ স্পেসিফিক।’ সাধারণত: এই প্রসেসটা শুরু হয় ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের মাথাদের ‘হায়ার’ করার জন্য। সোজা কথায়, পিরামিডের ওপরের দিকের মানুষ খুঁজতেই এই ‘মাথা’ নিয়ে টানাটানি। সে কি ধরনের হবে সেটার একটা ‘ম্যাপিং’ তৈরি করে নেয় কোম্পানীটা। আরেকটা ব্যাপার বলে রাখি আগেভাগে, পেপারে বা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে কাজগুলো করা হয় না – বেশির ভাগ সময়ে। আবার, অনেক সময় ওই কোম্পানীর ‘এইচআর’ও জানে না কি হচ্ছে কোথায়? হতে পারে – প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানী থেকে নিয়ে আসতে হবে একজনকে, অথবা যার কাজের প্রোফাইল সাধারণের মতো নয়। রিক্রুটিং এজেন্সির কাজের বাইরের কাজ এটা। কোম্পানী তখন খোঁজে হেড-হান্টারদের। যাদের ব্যবসা মানুষের নাড়িনক্ষত্র নিয়ে। হেড-হান্টাররা সাধারণত: লূকোছাপা করেন কম, তাদের কথাবার্তা আর যোগাযোগ অনেকটাই ‘পার্সোনালাইজড’ আর সরাসরি ধরনের।

০৩.

কেন হেডহানটিং? কোম্পানী চায় কি? মানে ম্যানেজাররা চান কি? যেকোন কাজকে ‘আইডেন্টিফাই’ করে ওই সমস্যার সমাধান। ওই সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে যতো কম ‘রিসোর্সে’র ব্যবহার আর সেটা তাদের বটমলাইনে পজিটিভ ইমপ্যাক্ট আনছে কি না। এগুলোই দেখার বিষয়। সোজা কথায় ম্যানেজারদের কাজ মাপার ‘ইয়ার্ডস্টিক’ হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে তারা কতটুকু সফলতা পাচ্ছে ক। কোম্পানীর খরচ কমাতে, খ। দিনের শেষে কতো লাভ হলো। ওর সাথে সাথে ‘হেড-কাউন্ট’ চলে আসে। যেখানে এই কাজটা করতে চারজন লাগে, সেটাকে খরচ কমাতে গিয়ে হাত পড়ে হেড-কাউন্টে। ফলে কমে যায় মানুষ। আর কোম্পানী খোঁজে ওই লোক যে ওই বাড়তি কাজটাও পারে। আগে যেটা তার ‘টার্মস অফ রেফারেন্সে অমুক জিনিস থাকলে ‘অ্যাডেড’ অ্যাডভাণ্টেজ – সেটা যোগ হয়ে যায় মূল কাজে। মানে পুরানো কাজের ‘চোথা’ দিয়ে এগুতে পারছে না কোম্পানীগুলো। হেড-হান্টারদের লাগছে ওই ‘কাস্টোমাইজড’ কাজের গল্প বানিয়ে ওই লোকটাকে খুঁজে বের করতে।

০৪.

কোম্পানীর বড় লেভেলের এগজিকিউটিভ খুঁজতে বড় ধরনের ‘ক্যাম্পেন’ করতে হয় না হেড-হান্টারদের। যারা ওই কোম্পানীটার জন্য এগজিকিউটিভকে খুঁজছেন তাদের অনেকেরই নিজস্ব ফার্ম থাকে। রিক্রুটমেন্ট কন্সাল্ট্যান্টদের মতো তুলনা করা যাবে না তাদের। আপনি চাকরি পেলেন নাকি পেলেন না সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না ওই ফার্ম। আপনাকে বলে দেবে কিভাবে চাকরি খুঁজতে হয় অথবা ওই কোম্পানীতে চাকরি করতে হলে এই এই কাজ করতে হবে। তার ফী নির্ধারিত। হেড-হান্টারদের গল্প কিন্তু আলাদা। তারা ওই কোম্পানীর মানুষটাকে খুঁজে দিতে পারলেই পায় পয়সা। মানে খেটে – রেজাল্ট দেখিয়ে আয় করতে হয় তাদের। ব্যাপারটা কিছুটা কমিশন ভিত্তিক হয়। তাদের ফী – সেটা ‘কন্টিজেন্সী’ অথবা ‘রিটেইনড’ মানে কাজ ভিত্তিক বা বড় ধরনের রিক্রুটমেন্ট ভিত্তিক যাই হোক না কেন সেটা বেতনের ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত দেখা যায়। কোম্পানীর ওই এগজিকিউটিভের রোল কি হবে, তার ব্যাকগ্রাউণ্ড নিয়ে গবেষণা থেকে শুরু করে কোন কোন কোম্পানী থেকে মানুষ টানা যায় সেটার লিস্ট তৈরি করতে সাহায্য করে হেড-হান্টাররা।

০৫.

আচ্ছা, হেড-হান্টাররা তাদের লিস্ট বানায় কি করে? আমার ধারনা, গ্লোবাল নেটওয়ার্কিং। ‘ক্যারিয়ার মীট’ কোনটাই মিস করে না তারা। রিসার্চেও তুখোড় তারা। বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোশিয়েশন থেকে ‘ইনহাউস’ তথ্য পায় তারা। আর তো রয়েছে ইন্টারনেট। চাকরির বাজার নিয়ে বেশ কিছু ডিরেক্টরি বের হয় প্রতি বছর। সবশেষে তো আছে লিংকডইন! মানুষ নিয়েই তাদের কাজ। কোন কোম্পানীতে কোন মানুষটা আছে – সে কি রকম ভাবে আছে – সব জানতে হয় তাদের। এদিকে কোন কোম্পানী কি চাইবে সেটাও ধারনা করতে হয় আগে থেকে। ইদানিং কোম্পানীগুলো পড়া বাদ দিয়েছে মানুষের ‘রেজিউমে’। ওই ‘হিব্রু’ থেকে কি পাওয়া যাবে সেটা নিয়ে সন্দিহান তারা। এখন ফোকাস হচ্ছে নির্দিষ্ট কাজগুলোকে তুলে দেয়া – একটা সময়ের মধ্যে। বলতে হবে আর ‘কেপিআই’এর গল্প? আপনারা আরো ভালো জানেন আমার থেকে।

০৬.

প্রথম কলটা পাই প্রায় পাঁচ বছর আগে। ইউরোপের একটা ফার্ম। পরপরই চলে এলো পুরোপুরি ‘পার্সোনালাইজড’ একটা ইমেইল। বোঝা গেলো আমাকে অনেক ভালোভাবেই চেনে সে। কবে কোথায় ছিলাম সেটা জানে ‘ইন ডেপ্থ’! তবে, কি কি কাজ করেছি সেটা নিয়ে কথা বলতে চায় সে। কিভাবে আমাকে চেনে বলতেই হাসলো মেয়েটা। বোঝা গেল – বলতে চাইছে না সে। তবে, পরের দিকে জানিয়েছিল – একটা নামকরা টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি কোম্পানী থেকে পেয়েছিল আমার কনট্যাক্ট ডিটেলস। একটা রেগুলেটরের পক্ষ হয়ে কাজ করছে সে। কোন রেগুলেটর? এখন নয়, শর্টলিস্টিং হলে জানাবে সে। এটা চায় তো ওটা চায়। কণফারেন্স কল তো পানিভাত। আমি আগ বাড়িনি আর। এধরনের অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে এর পরে। বাজার ‘যাচাই’ করতে কে না চায় বলুন? মানে, আপনার দাম উঠলো কতো? মনে কিছু করবেন না, নিজেকে বিক্রি করতে পারাটা আর্টের পর্যায়ে চলে গেছে ইদানিং। ঘণ্টায় দশ টাকা আয় করার মানুষ থেকে শুরু করে লক্ষ টাকার মানুষ আছে এই আমাদের দেশেই। মানে সেই মানুষটা ওই মূল্যটা পাচ্ছে বাজার থেকে। আপনার কাজ থেকে কোম্পানী ঘণ্টায় বিশ লাখ টাকা আয় করলে আপনাকে লাখ টাকা দিতে বাধা কোথায়? মনে নেই জিম রনের সেই কথা?

We get paid for bringing value to the marketplace. It takes time to bring value to the marketplace, but we get paid for the value, not the time.

– Jim Rohn

০৭.

আইডিয়া হলো কিছু। পরের দিকে ‘নক’ করলেই বলতাম – চাকরি খুঁজছি না এ মূহুর্তে। তবে ছোট বড় কিছু কাজ নিয়ে কথা বলতো হেড-হান্টাররা। ‘তোমার একটা প্রেজেন্টেশন দেখলাম এই নীতিমালাটা নিয়ে। ওই সাইটে। ওই দেশকে নীতিমালাটা তৈরি করে দিচ্ছি আমরা, কেয়ার টু জয়েন?’

বলুনতো কোথায় কাটাবেন সময়? ফেসবুক না লিংকডইন? প্রায়োরিটি কোথায়? টাকা কিন্তু উড়ছেই। ধরতে পারাটাই কায়দা।

[ক্রমশ:]

৪০.

আটকে ছিলাম দু সপ্তাহ – গানটা নিয়ে। গানটা নিয়ে নয়, ওটা নিয়ে লেখার ব্যাপারটায়। লেখবো – নাকি লেখবো না? কি মনে করে সবাই? আবার ওটার জন্য আটকে আছে বাকি লেখাগুলো। গা ঝাড়া দিলাম কয়েকবার। লিখে দেখি না, মিলে যেতে পারে বোদ্ধাদের সাথে। আর সহৃদয় পাঠকেরা তো আছেনই।

৪১.

রেডিওতে শোনার আগে এমটিভিতে দেখি গানটা। চ্যানেলটা পাল্টে ফেলি প্রথমবার দেখার আগেই। আর ‘না পাল্টানোর’ উপায় রাখে নি সে। সে মানে গায়িকার কথা বলছি আর কি। এক রত্তি সুতা ছাড়াই গায়িকা হেঁটে বেড়াচ্ছে সব পাবলিক প্লেসে। সুপারমার্কেট, সাবওয়ে – ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, বাদ পড়েনি কিছুই। ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় আর কি – যখনই টিউন করছি এমটিভি, চলছে গানটা। ওমা! বলতে বলতে চলেও এলো এমটিভি টপ টোয়েন্টিতে। ইউএস, ইউরোপিয়ান কাউন্টডাউন শেষ করে ফুড়ুত্‍ করে আবার ঢুকেও গেলো এশিয়ান কাউন্টডাউনে। কি আছে জিনিসটায়? পুরো গানটা দেখার পাশাপাশি কান খাড়া করলাম কৌতুহল থেকেই। আটকে গেলাম গ্লুয়ের মতো। চমত্কার পিয়ানোর কাজ দিয়ে শুরু হয়েছে গানটা। ‘অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ছেড়ে দিলে কেমন হয় বলো না?’ কেমন ধরনের প্রশ্ন এটা? অথচ এই কথা দিয়ে শুরু গানটা। মনে পড়লো ‘কমফোর্টেবল নাম্ব’য়ের কথা। মাথায় ঢুকে গেল ওই ছোটবেলার জ্বরের কথা। যখন হাত ভেসে যেত বেলুনের মতো। আটকে গেলাম একটা ভার্সে।

How ’bout me not blaming you for everything
How ’bout me enjoying the moment for once
How ’bout how good it feels to finally forgive you
How ’bout grieving it all one at a time …

৪২.

মনে আছে ‘জ্যাগ্গড লিটল পিল’ অ্যালবামটার কথা? আকাশ ছোয়া খ্যাতি পেয়েছিলো অ্যালানিস মরিসেট গানগুলো দিয়ে। সেটাও সেই পচানব্বইয়ের কথা। তিন বছর আর কিছু বের হয়নি বলে সবার দৃষ্টি ছিলো পরের ম্যাটেরিয়ালগুলোর দিকে। তখনই এলো পরের অ্যালবাম – যার মধ্যমনি হিসেবে ছিলো এই গানটা। থ্যাংক ইউ, ‘ধন্যবাদ সবাইকে’র মধ্যে একটা ব্যতিক্রমধর্মী অল্টারনেটিভ ‘নোশন’ কাজ করেছে শুরু থেকেই। ভিএইচওয়ান চ্যানেলে ‘স্টোরিটেলার্স’য়ের একটা পর্বে এসেছিলো অ্যালানিস। গানটা লেখার ব্যপারে প্রশ্ন আসলে তার ধারনাটা পরিষ্কার হয় আমাদের কাছে। ‘আমরা এমন একটা সমাজ ব্যবস্থায় আছি যেখানে আমাদের বাইরের চেহারাটাই সব। সেটাতেই ডুবে আছি আমরা। মনে করছি ওখানেই আমাদের শান্তি। মানুষ বলছে আমি যা পাবার সেটা পেয়ে গিয়েছি এই বয়সেই। আসলে কি তাই? শান্তি পাচ্ছিলাম না মনে মনে। প্রশ্ন করা শুরু করি নিজেকে। বুঝি তখন, যা পেয়েছি সবই ‘ইল্যুশন’ মানে ভ্রমের মধ্যে আছি আমি। আমার সামনের সবকিছু যখন উবে যাওয়া শুরু করলো কর্পুরের মতো, সত্যিকারের ভয় পেতে শুরু করলাম তখন। মৃত্যুর ব্যাপারটাও ভাবিয়েছে আমাকে। সবকিছু নিয়ে থামলাম একসময়।’

৪৩.

ওই সময় সব বাদ দিয়ে দেড় বছরের ছুটি নিলো অ্যালানিস – নিজের কাছ থেকে। চলে এলো ভারতের দিকে। নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করলো সে। শুধু নিজেকে নয়, আশেপাশের সবাইকে নিয়ে। সমাজটা সবাইকে নিয়ে, ধারনাটা ‘সবাই আমরা সবার তরে’র মতো। তার আশেপাশের সবার কারণে আজ সে এখানে। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই গানটা লেখা তার।

How ’bout no longer being masochistic
How ’bout remembering your divinity
How ’bout unabashedly bawling your eyes out
How ’bout not equating death with stopping …

৪৪.

তবে তার অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিওটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় না বলে আমি নিজেও দেখিনি প্রথম দিকে। এমটিভি, ইন্ডিয়া আর এশিয়ার অনেক দেশেই ওটাকে কিছুটা পাল্টে চালিয়েছিলো প্রথমদিকে। গানতো শোনার জন্য, দেখার ব্যাপারটাকে রেখে দেই আলাদা করে। গ্র্যামি পেয়েছিলো গানটা। দুহাজার এক সালে ভিএইচওয়ানের সেরা একশো ভিডিও’র মধ্যে তার জায়গা হয়েছিল ৬৬তে। বাংলাভাষাবাসী ব্লগে অফিসিয়ালটা না দিয়ে অডিওটা দিলাম শুধু!

[ক্রমশ:]

And you may hear the same old story
In ev’ry town, on ev’ry street
The story of ‘Sunset’, and the
Heartbreak Kid

- Icehouse, Man of Colours

৩৫.

গানের নায়িকার প্রেমে পড়ে যাব – সেটা ভাবিনি কখনো। বইয়ের নায়িকা? ঠিক আছে, বই তো ‘গ্রো’ করতে থাকে আমাদের মনের ওপর – পড়ার শুরু থেকে। প্রথমেই না পছন্দ – নায়িকাকে। হবে না কেন? সেই তো ঝামেলা তৈরি করতে থাকে নায়কের। শুরু থেকে। বাস্তবেও তাই। আগেই ‘ক্লিয়ার’ করে রাখি, স্বাতী ব্যতিক্রম। নো মোর ডিসট্র্যাকশন। ফিরে আসি বইয়ে। একেকটা অধ্যায় পার হয়, মায়া বাড়তে থাকে নিজের অজান্তে। মানে নায়িকার ওপর। নায়ক হয়তো পাত্তা দিচ্ছে না মেয়েটাকে। তখন নিজেই উতযোগ নেই – মেলানোর ব্যপারে। আমরা তো আর মিলাই না, ওত্‍ পেতে থাকি গল্পের ‘টুইস্টে’র জন্য। কখন নায়িকা এমন কিছু করে ফেলবে যাতে নায়ক জিভ কেটে নায়িকার কাছে ক্ষমা চাইবে। মুভিতে মিল হলেও বইতে আবার মিলনান্তক ঘটনা কম।

‘ঠিক বলেন নি আপনি।’ আপনার জবাব। তবে তর্কে কখনোই পারিনি মানুষের সাথে।

৩৬.

বন্ধুর বাসায় গিয়ে চোখে পড়লো ক্যাসেটের খাপ একটা। বোঝাই যাচ্ছিলো বাইরে থেকে এনেছে কেউ। ইএমআই, অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ডিং। উনিশশো অষ্টাশির কথা। খুব গান শুনতাম তখন। হয়তোবা, এখনো। কাভারটা পুরোটাই সাদা, একটা মানুষের আউটলাইন আঁকা। একেছে তাও কয়েক টানে। মানুষটার হাতে ফুল তিনটা। তিনটাই তিন রঙের। অ্যালবামের কাভার হিসেবে একেবারে ব্যতিক্রমধর্মী। আকর্ষণ করলো আমাকে। খোঁজ নিয়ে জানলাম, বন্ধুর খালাতো বোন এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। বরাবরের মতো ধার নিলাম ক্যাসেটটা। দিন কয়েকের জন্য। অস্ট্রেলীয় গায়কদের গান তো কম শোনা হয়নি ওই সময়ে। থ্যাংকস টু এবিসি, অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কার্পোরেশন। আর শর্টওয়েভ রেডিও।

৩৭.

আটকে গেলাম পাঁচ নম্বর গানটাতে। কোনো রিওয়াইন্ড বাটন ছিলো না আমার ওয়াকম্যানে – ওই সময়ের জিনিস। প্লে, ফরওয়ার্ড আর স্টপ। রিওয়াইন্ড করতে হলে ক্যাসেটটাকে উল্টিয়ে ফরওয়ার্ড – আবার উল্টিয়ে প্লে। সেম ড্রিল, ওভার এণ্ড ওভার এগেন। বুঝতেই পারছেন অবস্থাটা। আমার অভ্যাস হচ্ছে গান ভালো লাগলে শুনি – হাজারবার। রিপিট – আনলিমিটেড মোড। বাসার সবাই জানে ব্যাপারটা। অভ্যস্ত হয়ে গেছে সবাই। বিয়ের পর স্বাতীও। এখন আমার বাচ্চারা। আমার ধারনা, ইউটিউব আমাকে চেনে বলে ‘রিপিট’ ফিচারটা দেয়নি ইচ্ছে করে। আর সে কারণে চলে এসেছে রিপিট করার আলাদা সাইট। টেকনোলজি, ব্রাদার।

৩৮.

তখন তো ওয়েস্টার্ন বইয়ের যুগ। ঘটনাটা আঁচ করে নিলাম লিরিকস দেখে। বাকিটা তৈরি হলো মাথায় আমার। প্রেমে পড়ে গেলাম ‘সানসেট’ নামের মেয়েটার। বারমেইড। সমস্যাটা শুরু হলো অন্যখানে। আগন্তুক বন্ধুকধারীকে গুলি না করলে কি হতো না? আর বোকাটাই বা কেন চলে যেতে চাইলো? হৃদয় ভাঙার খেসারত যে এভাবে দিতে হবে এটা কে জানতো? গল্পটা অবশ্য জানে সবাই, পুরো জনপদ। রোমিও জূলিয়েটের ধাঁচে। ওয়েস্টার্ন বইয়ের ভেতরের সাব-প্লটের মতো। সবই ঘোরাঘুরি করছে মাথার ভেতরে। বের হয় না আর।

৩৯.

এটা ঠিক, ইভা ডেভিস গানটাও লিখেছিল দরদ দিয়ে। চমত্কার ‘স্টোরিটেলিং’ রয়েছে গানটাতে। সেটিং, প্রেমিস – সবই অসাধারণ। অ্যালবাম কাভারটার স্কেচেও হাত রয়েছে তার। আর শুরুটা না শুনলে মিস করবে সবাই। আরেকটা কথা না বললেই নয়, অ্যালবামটার নামটাও অসাধারণ বটে।

পুনশ্চ: এর মিউজিক ভিডিওটা পাইনি খুঁজে। গানটার জন্য লিংকটা দেয়া।

[ক্রমশ:]

What you do has far greater impact than what you say.

— Stephen Covey

৬৩১.

ইকনোমিস্টের একটা রিপোর্ট পড়ছিলাম দিন কয়েক আগে। ওদের ‘ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট’ থেকে প্রতিনিয়ত ‘স্পেশাল রিপোর্ট’ বের করে – বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যাকে নিয়ে। এটা ছিলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্রডব্যান্ডের ভবিষ্যতের ওপর। মোবাইল ব্রডব্যান্ড নিয়ে অনেক আশা থাকলেও সেটার কিছু সমস্যা পিছিয়ে দিচ্ছে দেশগুলোকে। অপারেটররা চাচ্ছে নেক্সট জেনারেশন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে – তবে সেটার কাঁচামাল হচ্ছে এই স্পেকট্রাম। আর সেটার ‘অ্যালোকেশন’ নিয়ে যতো সমস্যা। আগে ঠিকমতো ‘অ্যালোকেশন’ না দেয়াতে নতুন করে পাওয়া যাচ্ছে না স্পেকট্রাম। অথবা নতুন স্পেকট্রাম কিভাবে দেবে সেটার ‘মোডালিটি’ কি হবে সেটা জ্ঞান না থাকার কারণে সময় ক্ষেপণ হচ্ছে অনেক অনেক বেশি। স্পেকট্রামের দামটা কি হবে সেটা নিয়ে কালক্ষেপণ করছে অনেক দেশ। অথচ, এটার ব্যপারে ‘অপুরচুনিটি কস্ট’ বলে একটা হিসেব চলছে উন্নত দেশগুলোতে – অনেকদিন ধরে।

৬৩২.

অর্থনীতির সংজ্ঞাতে গেলে কিন্তু বিপদ। উদাহরণ টানি বরং – এই স্পেকট্রাম দিয়েই। স্পেকট্রামের ‘অপুরচুনিটি কস্ট’ বের করতে পারি দুভাবে। প্রথম প্রশ্ন, মোবাইল অপারেটর ‘ক’কে ওই স্পেকট্রামটা ছাড়া পুরোনো স্পেকট্রাম দিয়ে একই ভূখণ্ড আর গ্রাহকদের সার্ভিস দিতে গেলে তার বাড়তি খরচ করতে হবে কতো? মানে, তাকে বার বার ব্যবহার করতে হবে ওই পুরনো স্পেকট্রাম, কমিয়ে দিতে হবে ট্রান্সমিশন পাওয়ার, কিনতে হবে অনেক বেশি বেজস্টেশন। আরেকটা প্রশ্ন হতে পারে এধরনের – আমরা স্পেকট্রামটা যদি অন্য কোন সার্ভিসে দিতাম, তাহলে ওই নতুন মোবাইল কোম্পানীটা কতো টাকার সুবিধা পেত ওই সার্ভিসটা তৈরি করতে গিয়ে? এটাই ‘অপুরচুনিটি কস্ট’, যেখানে অপারেটরও খুশি আর গ্রাহককেও দিতে হচ্ছে না অকশনের উচ্চমূল্যের খেসারত। ‘থ্রীজি’ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয়া হলো এশিয়ার প্রথম দিকের দেশগুলোর প্রায় বারো বছর পর। সিংগাপুরের রেগুলেটর অপারেটরদের পুরোনো ‘টুজি’ স্পেকট্রামের ওপর সব টেকনোলজি চালাতে দিয়ে এগিয়ে গেলো সবার – অনেক অনেক আগে। বলছিলেন সেখানকার ডেপুটি চীফ এগজিকিউটিভ, লেয়ং কেঙ্গ থাই। এক ধাক্কায় তাদের অপারেটরগুলো চলে গেলো ‘টুজি’ থেকে ‘ফোরজি’তে। দিতে শুরু করলো সত্যিকারের মোবাইল ব্রডব্যান্ড।

৬৩৩.

রেগুলেটরের ভাষায় এটাকে বলে ‘টেকনোলজি নিউট্রালিটি’ – মানে স্পেকট্রাম কিনে নাও কোন ধরনের ‘ইফ’ আর ‘বাট’ ছাড়াই। ‘নো স্ট্রিংস অ্যাটাচড’। যে সময়ের জন্য কিনছো, ব্যবহার করো নিজের পছন্দমতো টেকনোলজি, বাজার যা চায়। বাজার ‘টুজি’, না ‘থ্রীজি’, না ‘ফাইভজি’, যা চাইবে সেটা দিতে পারবে ওই স্পেকট্রাম দিয়ে। এক কথায় অপারেটরকে স্বাধীনতা দেয়া স্পেকট্রামের ‘এফিশিয়েণ্ট’ ব্যবহারের ওপর। দুশো হার্টজ নাকি দশ মেগাহার্টজের চ্যানেল প্ল্যান, স্বাধীনতা অপারেটরদের। গ্রাহক বুঝে। আরেকটা উদাহরণ নিয়ে আসি আপনার সুবিধার জন্য। বাজার থেকে কিনলেন ফুলপ্যান্ট একটা। প্যান্টের পকেট চারটা, তার তিনটাই সেলাই করা। বলা হলো, ব্যবহার করতে পারবেন একটা, বাকিগুলো খুলতে লাগবে – পঞ্চাশ টাকা করে – প্রতিটা। পুরো প্যান্টের ‘এফিশিয়েণ্ট’ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হলো আপনাকে।

৬৩৪.

রেগুলেটরের কাছে এটা একটা কলমের খোঁচা হলেও, অপারেটরের কাছে এটা একটা বিশাল জিনিস। এটা একটা নতুন ধরনের ‘সিগন্যাল’ দেয় বাজারে। সেটা চলে যায় পুরো বিনিয়োগ দুনিয়ায়। আনকোরা নতুন মেসেজ। ‘নিশ্চয়তা’, রেগুলেটরী সার্টেনিটি। আর সেকারণে ‘ব্রডব্যান্ড ওয়ারলেস অ্যাক্সেস’ লাইসেন্সে ব্যাপারটা ঢোকাতে না পারলেও থ্রীজি লাইসেন্সের প্রথম ড্রাফটেই দেয়া হয়েছিল এই ‘নিউট্রালিটি’র ব্যাপারটা। অনেক রেগুলেটর এটাকে ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ বলে থাকেন। নীতিমালার নিশ্চয়তা চায় সবাই। অপারেটর, গ্রাহক, সবাই। জিএসএম অপারেটরদের অ্যাসোশিয়েশন, জিএসএমএ’র একটা স্টাডি বলে শুধুমাত্র এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিয়নের জিডিপি বাড়বে এক ট্রিলিয়ন ডলারে। ২০১৪ থেকে ২০২০য়ের মধ্যে। একটাই শর্ত, ‘এফিশিয়েণ্ট ইউজ অফ স্পেকট্রাম’। বেশি মনে হতে পারে, তবে, আমার ধারণায় এটা ছাড়িয়ে যাবে তাদের হিসেবকে। সেটা দেখাবো কাগজে কলমে। সামনে।

৬৩৫.

তবে মোবাইল ব্রডব্যান্ড সব সমস্যার ‘জীয়ন কাঠি’ – এটা ভাবা ভুল হবে। এমনটাই বলেছেন আরেকজন আইটিইউ কন্সাল্ট্যান্ট। মোবাইল ব্রডব্যান্ড ততোক্ষণ পর্যন্ত ভালো সার্ভিস দেবে যখন তার পাশাপাশি ভালো ‘ফিক্সড’ নেটওয়ার্ক থাকবে। ‘ফিক্সড লাইন অ্যাক্সেস’ আর ‘ওয়াই-ফাই’ না হলে এতো ডাটা ‘অফলোড’ একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার – তাও আবার শহরগুলোতে। স্মার্টফোন কিন্তু বাড়ছে হু হু করে। ফেমটোসেল আর ওয়াই-ফাই কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে অপারেটরদের। সিংগাপুরের রেগুলেটর সবার সাথে বসে তৈরি করছে ‘হেটনেট’। এই ‘হেটারোজেনাস নেটওয়ার্কে’ থাকছে ফিক্সড লাইন, মোবাইল অপারেটরের ডাটা, ওয়াইফাই আর ছোট ছোট সেলুলার নেটওয়ার্ক। গ্রাহকরা বুঝবেনই না কিভাবে ‘সিমলেস ট্রানজিশন’ হচ্ছে নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে। ওটা তো জানার দরকার নেই জনসাধারণের। এটা ছাড়া, এই বিশাল ডাটা ডিমান্ড মেটানো সম্ভব নয়, কারো একার পক্ষে। আর ঢাকা শহরের জন্য আমার প্রস্তাবনা কিছুটা ভিন্ন। সেটা প্রাসঙ্গিক নয় বলে এখানে আলাপ করছি না। কীওয়ার্ড, নেটকো মডেল।

[ক্রমশ:]

When I give a minister an order, I leave it to him to find the means to carry it out.

— Napoleon Bonaparte

৬২৫.

দরকার কি এইসব ইন্টারনেট ‘ইকোসিষ্টেমে’র? একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই দেখতে পারবেন এগুলো একটা আরেকটার ওপর – পুরোপুরি ‘ইন্টার-ডিপেণডেণ্ট’। একটা ছাড়া আরেকটা অচল। অথচ, এই ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা জিনিষ নিয়ে কাজ করে সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট। সত্যিই তাই। কার সাথে কোনটার কি সম্পর্ক সেটা না জানলেই বিপদ। ইন্টারনেটের ট্রান্সমিশন মানে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। সার্ভিসগুলো কার? সেটা তো আসলে সবার। অনলাইন ক্লাস নিয়ে মাথাব্যথা হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ‘জেনারেল পারপাজ টেকনোলজি’ হিসেবে সবকিছুই দরকার সব মন্ত্রণালয়ের। ‘হেল্থকেয়ার’ নিয়ে ইন্টারনেটের সুবিধা নিচ্ছে পাশের দেশ ভারত। হাজার মানুষ প্লেন ভরে আসছে ওই দেশে ‘হেল্থকেয়ার’ ট্রিপে। প্রাথমিক ‘ডায়াগনস্টিকস’ হচ্ছে ইন্টারনেটের ওপর দিয়ে। থাইল্যান্ড আর সিংগাপুর তো শুরু করেছে অনেক আগেই।

৬২৬.

স্বাস্থ্য আর চিকিত্‍সা নিয়ে কাজ করবে সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়। ‘অ্যাপ্লিকেশন’ নিয়ে কাজ করছে আইসিটি মন্ত্রণালয় অনেক আগে থেকে। তবে কেউ জানে না কার করতে হবে – কতোটুকু অংশ। নাকি আবার ‘ডুপ্লিকেশন অফ ইফোর্ট’ হচ্ছে বার বার? বিটিআরসিতে থাকার সময় দেখেছি এধরনের কাজ – করছে সবাই। সবার দরকার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক, পয়সা ঢালছে কিন্তু সবাই। গরীব দেশে এটা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। এমনিতেই ফান্ডিংয়ের সমস্যা, সেখানে পয়সা যাচ্ছে নতুন নতুন জায়গায় – না জানার কারণে। ডোনার এজেন্সিরা সরকারের এই ‘সমন্বয়হীনতা’ ব্যাপারটা জেনেও দেনার ধার বাড়াচ্ছেন দিনে দিনে।

৬২৭.

ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড যাই বলেন সেটা যে শুধু হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নয় – সেটা থেকে বের হতে এই ‘ইকোসিষ্টেম’ ব্যবস্থা। সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার আগে কথা বলে নিতে হবে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে – জিনিসগুলো তাদের নেটওয়ার্ক নিতে পারবে কি না? টিএণ্ডটি’র যুগে ‘টেলিফোন মডেল’ থেকে বের হয়ে আসতে হবে আগে। একটা ফোনের জন্য একটা লাইন। আরেকটা ফোন লাগাতে চাইলে আরেকটা লাইন – আর ফ্যাক্স চাইলে আরেকটা। ওইটা ছিলো পুরনো টেলিযোগাযোগের ‘ওয়ালড গার্ডেন’ সমস্যা, সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা রিসোর্স। এখনকার যুগে লাইন আসবে একটা, ওইটার ওপর যা চাইবেন তাই করবেন। আবার সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন কিন্তু শুধুমাত্র আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি নয়, এটা সবার। শিক্ষা আর হেল্থকেয়ার অ্যাপ্লিকেশন কেন তৈরি করবেন তারা? ব্যবহারকারী মন্ত্রণালয় জানেন না – কিন্তু তার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছেন আরেকজন। ‘ইন-কম্পাটিবিলিটি’র শুরু ওখানেই। সনাতন ‘পুশ’ মানে ‘খাইয়ে দেয়া’র মডেল থেকে বের হয়ে আসতে হবে আমাদের। পয়সা ঢালো ‘সাপ্লাই সাইডে’, মানে দাম কমাও ইন্টারনেটের – ওতেই হবে সব – সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে হবে আমাদের।

৬২৮.

মানি, পুরনো শেখাটাকে ‘আন-লার্ন’ করা কষ্টের। সেটাকে মেনেই চিন্তা করতে হবে নতুন ‘কনসেপ্চুয়াল ফ্রেমওয়ার্ক’, বড় আকারে – সবাইকে নিয়ে। ব্যবহারকারীদের নিয়ে। টাকা দেয় তো তারাই। তাদের জন্যই তো সবকিছু। চারটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে মাইলস্টোনে ভাগ করলেই ‘ফোকাস’ এরিয়াগুলো বোঝা যাবে সরকারের দিক থেকে। ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে সেটার জন্য সরকারের কোন কোন এজেন্সি কাজ করবে সেটা বের করতে হবে আগে। সেটার ‘ফীডব্যাক’ লুপ যাবে সরকারী বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলোতে। সেটাকে ঘিরে ঘোরাতে হবে সরকারের সম্পর্কিত পলিসিগুলোকে। শুধুমাত্র ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়ে কাজ করতে গেলে পয়সা, সময় আর ‘ফোকাস’ নষ্ট হবে আরো বেশি। আমাদের মতো গরীব দেশের জন্য সেটা হয়ে যাবে বড় ধরনের বিলাসিতা। এখনকার ‘ব্রডব্যান্ড প্লান’ আগের মতো নেই আর। এটা শুরু হয় দেশের ‘দর্শন’ নিয়ে। দেশ কি চায়, সেটা বের করতে হয় আগে। টেকনোলজি বাদ, দেশের ‘প্রায়োরিটি’ বের করতে হয় খুটে খুটে। উদাহরণ দেখবেন নাকি একটা? ‘কানেক্টিং আমেরিকা’ বলে ওদের ন্যাশন্যাল ব্রডব্যান্ড প্ল্যানটা দেখলে পরিষ্কার হবে সবার। দেখুন তাদের দর্শনগুলো – প্রথম কয়েক লাইনে। সবকিছু আছে ওতে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, চিকিত্‍সা ব্যবস্থা, সরকারের কাজের জবাবদিহিতা, এনার্জি খাত, মানুষের নিরাপত্তা, আরো অনেক কিছু – কোন কিছু বাদ রাখে নি তারা। এক্সিকিউটিভ সামারিটা না পড়লে ব্যাপারটা না ধরতে পারার সম্ভাবনা বেশি। একটা দেশ কি চায়, সেটাই এনেছে এই প্ল্যানে। বিশাল ক্যানভাস।

৬২৯.

‘বিল্ডিং ব্রডব্যান্ড’ বইটাতে আমাদের মতো দেশগুলো কি ধরনের ভুল করতে পারে সেগুলোর বেশ কিছু ধারনা দিয়েছেন আগেভাগেই। ব্রডব্যান্ড মানে ইন্টারনেটের মতো প্রোডাক্টের ডিমান্ড তৈরি করার মতো ‘ব্যাপারটা’র ধারনা না থাকাতে পুরো ইনভেস্টমেন্ট চলে যায় ‘সাপ্লাই’ সাইডে। মানে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরি হলেই খুশি। কিভাবে বাড়াতে হবে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা, তৈরি করতে হবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন গ্রাহকবান্ধব অ্যাপ্লিকেশন – সেটা পলিসিতে না থাকাতে পুরো কাজটাই যায় ভেস্তে। ‘ইকোনোমি অফ স্কেল’ – ব্যবহারকারী বাড়লে কমবে দাম, আর দাম কমলে আসবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন ইনভেস্টমেন্ট। ইকোসিষ্টেমের তুখোড় সাইকেল হচ্ছে জিনিসটা। কম্পোনেণ্টগুলোর মধ্যে ‘ইন্টার-ডিপেনডেন্সি’ থাকাতে পুরো জিনিসটাকে ফেলতে হবে বড় ক্যানভাসে। ইংরেজিতে যাকে আমরা বলি ‘হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’, তাহলেই কাজ করবে পুরো ইকোসিষ্টেম। কম্পোনেণ্টগুলোর একটার ওপর আরেকটার নির্ভরশীলতা কাজ করে অনেকদিক থেকে। হাই-স্পীড ট্রান্সমিশনে ইনভেস্টমেন্ট আসা মানে ‘কোয়ালিটি অফ সার্ভিস’ বাড়বে আমাদের দরকারী সব সার্ভিসগুলোতে। আর সেটা বাড়িয়ে দেবে ‘ব্যান্ডউইডধ ইন্টেসিভ’ অ্যাপ্লিকেশন তৈরির মাত্রা। যতো বেশি অ্যাপ্লিকেশন, ততো বেশি টানবে নতুন নতুন গ্রাহকদের। নতুন গ্রাহকেরা চাপ তৈরি করবে নেটওয়ার্ক এক্সপ্যানশনের কাজে। ফলে বাড়বে ইন্টারনেট আর ব্রডব্যান্ডের ওপর নতুন ইনভেস্টমেন্ট। পুরো পৃথিবী বসে আছে পয়সা নিয়ে। ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার জন্য বসে আছে কোম্পানীগুলো।

৬৩০.

নতুন সার্ভিস আসা মানে নতুন কনটেন্ট তৈরির হিড়িক। কনটেন্ট তৈরি করছেন ব্যবহারকারীরা নিজেই। ইন্টারনেটের শুরুতে ডাউনলোডই ছিলো বেশি। আজ – পাল্টে গেছে দাবার গুটি। অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে গুগল আর ফেসবুকের মতো কোম্পানীগুলো। হাজার হাজার গিগাবাইটের ‘ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট’ আসছে আপনার আমার দিক থেকে। আমার আপনার ভিডিও, ছবি, ব্লগ পোস্ট দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট। ষাট হাজার ছবি আছে আমারই, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। আগে কনটেন্ট তৈরি করতো মিডিয়া কোম্পানীগুলো। এখন সেটা চলে এসেছে গ্রাহকদের হাতে। ফলে, দরকার হচ্ছে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক – ব্যবহারকারীর দোরগোড়ায়।

[ক্রমশ:]

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 351 other followers

%d bloggers like this: